মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে—মুসলিমের প্রকৃত সংজ্ঞা কী?
⚠️ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তাঁর প্রকৃত ভয়। আর তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ কোরো না-সূরা আল ইমরান 3:102 (2:132)
➤ তাহলে মুসলিম কাকে বলে?
❖ মুসলিম বা আত্মসমর্পণের সংজ্ঞা: যারা ঈমান এনেছে আয়াতসমূহের প্রতি তারাই মুসলিম-দ্র: আয়াত ৪৩:৬৯, ৩০:৫৩, ২৭:৮১
1. একজন আদর্শ মুসলিমের দৃষ্টান্ত: সালামুন আলা ইবরাহীম-এর আদর্শ:
মুসলিম হওয়ার মূল অর্থ যে 'আত্মসমর্পণ', তা এই আয়াতে স্পষ্ট:
"যখন তার রব তাকে বললেন: 'আত্মসমর্পণ করো (মুসলিম হও)', সে বলল:
أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ
আসলামতু লিরব্বিল আলামিন!
'আমি বিশ্বজগতের রবের কাছে আত্মসমর্পণ করলাম'-২:১৩১
মুসলিমের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে এমন আরও অনেক আয়াত রয়েছে। এই আয়াতগুলোর মূল কথা হলো— ঈমান (বিশ্বাস) এবং ইসলাম (আত্মসমর্পণ)।
2. মুসলিম নামের উৎস:
আল্লাহ তাআলা নিজেই আমাদের এই বিশেষ নামে ভূষিত করেছেন:
...هُوَ سَمَّاكُمُ الْمُسْلِمِينَ مِن قَبْلُ وَفِي هَٰذَا...
"...তিনি তোমাদের নামকরণ করেছেন 'মুসলিম' পূর্বেও এবং এই কিতাবেও; যাতে রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষী হন এবং তোমরা সাক্ষী হও মানবজাতির জন্য-আয়াত ২২:৭৮
3. পূর্ণ আনুগত্যের আহ্বান:
একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর জন্য হওয়াও মুসলিমের পরিচয়:
إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ. لَا شَرِيكَ لَهُ ۖ وَبِذَٰلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ
ইন্না সালাতি ওয়া নুসুকি ওয়া মাহইয়াইয়া ওয়া মামাতি লিল্লাহি রাব্বিল ‘আলামিন। লা শারীকা লাহু, ওয়া বিযালিকা উমির্তু ওয়া আনা আওয়ালুল মুসলিমিন।
(বলো!) 'নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ রব্বুল আলামিনেরই জন্য। জন্য। তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি এরই জন্য আদিষ্ট হয়েছি আর আমিই প্রথম মুসলিম'।" (সূরা আল-আন'আম, ৬:১৬২-১৬৩)
4. ঈমান ও কর্মের সমন্বয়:
৪৩:৬৯ আয়াতে যেমন ঈমান ও ইসলামের কথা এসেছে, এখানেও তেমনি সফলতার শর্ত হিসেবে দুটি বিষয়ের কথা বলা হয়েছে:
إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ...
"তবে তারা ছাড়া, যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে..." (সূরা আল-আসর, ১০৩:২-৩)
5. মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মুসলিম থাকা প্রসঙ্গ:
...وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ
"...এবং তোমরা মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না" -আয়াত ৩:১০২
━━━━ ✦ ✧ ✦ ━━━━━
আয়াতত্রয় (৪৩:৬৯, ৩০:৫৩, ২৭:৮১) মুসলিমের সংজ্ঞাকে একটি সুনির্দিষ্ট গাণিতিক ও যৌক্তিক কাঠামো দেয়। 'তাফসিরুল কুরআন বিল কুরআন' এবং ভাষাতাত্ত্বিক (Linguistic) ও আন্তঃসম্পর্কিত (Correlative) বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে এর গভীরতা নিচে অনুধাবনে পেশ করা হলো:
ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ (Linguistic Analysis):
আয়াতগুলোতে ব্যবহৃত মূল শব্দগুলোর গঠন বিশ্লেষণ করলে মুসলিমের সংজ্ঞার মূল নির্যাস পাওয়া যায়:
আমানূ (آمَنُوا): এটি ‘ঈমান’ শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ কেবল ‘বিশ্বাস’ নয়, বরং কোনো সত্যকে জানার পর তাতে ‘নিরাপত্তা ও প্রশান্তি’ খুঁজে পাওয়া। ভাষাতাত্ত্বিকভাবে, ঈমান হলো হৃদয়ের সেই স্বীকৃতি যা মানুষের সংশয় দূর করে।
বি-আয়াতিনা (بِآيَاتِنَا): ‘আয়াত’ মানে নিদর্শন, চিহ্ন বা প্রমাণ। এটি দুই প্রকার: (ক) আল-আয়াতুল কওলিয়াহ (কুরআনের বাণী) এবং (খ) আল-আয়াতুল কাওনিয়াহ (মহাবিশ্বের নিদর্শন)।
মুসলিমুন (مُسْلِمُونَ): এটি ‘ইসলম’ (الإسلام) শব্দ থেকে আসা ‘ইসমুল ফা-য়িল’ বা কর্তৃবাচক বিশেষ্য। এর অর্থ—যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় নিজেকে সঁপে দেয় এবং শান্তি (সালাম) স্থাপন করে।
সূত্র: যখন বলা হয় "যারা ঈমান এনেছে... তারাই মুসলিম", তখন ভাষাতাত্ত্বিক অর্থ দাঁড়ায়— যারা আল্লাহর নিদর্শন দেখে সত্যকে চিনে নিয়েছে (ঈমান), তার অনিবার্য ফলাফল হিসেবে তারা নিজেদের আল্লাহর ইচ্ছার কাছে সমর্পণ করেছে (ইসলাম)।
কুরআন নিজেই মুসলিমের এই সংজ্ঞাকে অন্যান্য আয়াতে আরও স্পষ্ট করে:
ঈমান ও ইসলামের সম্পর্ক: সূরা আল-হুজুরাত (৪৯:১৪) অনুযায়ী, ঈমান হলো অন্তরের বিষয় আর ইসলাম হলো বাহ্যিক আনুগত্য। কিন্তু যে আয়াতগুলো এখানে উল্লেখ করা হয়েছে (৪৩:৬৯, ৩০:৫৩, ২৭:৮১), সেখানে আল্লাহ ঈমানকে ইসলামের পূর্বশর্ত ও ভিত্তি হিসেবে দেখিয়েছেন। অর্থাৎ, প্রকৃত ইসলাম বা আত্মসমর্পণ তখনই অর্থবহ হয় যখন তা ‘আয়াত’ বা নিদর্শনের ওপর ভিত্তি করে আসা ‘ঈমান’ থেকে উৎসারিত হয়।
আয়াত শোনার যোগ্যতা: ৩০:৫৩ এবং ২৭:৮১ আয়াতে বলা হয়েছে, "আপনি কেবল তাদেরই শোনাতে পারবেন যারা আমাদের আয়াতসমূহে ঈমান আনে, সুতরাং তারাই মুসলিম।" এখানে ‘শোনা’ মানে কেবল কানে আসা নয়, বরং ‘উপলব্ধি করা’। কুরআন এখানে বোঝাচ্ছে যে, যার ভেতর আত্মসমর্পণের মানসিকতা (Islam) নেই, সে আল্লাহর নিদর্শন (Ayat) দেখেও তা থেকে শিক্ষা নিতে পারে না।
কো-রিলেটিভ অ্যানালাইসিস (Correlative Analysis) বা আন্তঃসম্পর্কিত বিশ্লেষণ:
এই তিনটি আয়াতের মধ্যে একটি চমৎকার যোগসূত্র রয়েছে যা মুসলিমের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় তুলে ধরে:
১. ৪৩:৬৯ (প্রেক্ষাপট: জান্নাত ও আখিরাত): এখানে আল্লাহ বলছেন, জান্নাতে তারাই যাবে যারা ঈমান এনেছিল এবং মুসলিম ছিল। এটি মুসলিমের পরিণতি ও পুরস্কার নির্দেশ করে।
২. ৩০:৫৩ ও ২৭:৮১ (প্রেক্ষাপট: দাওয়াত ও হেদায়াত): এই আয়াত দুটি হুবহু এক। এখানে আল্লাহ বলছেন, দাওয়াত কেবল তারাই গ্রহণ করবে যারা আয়াতসমূহে বিশ্বাসী এবং মুসলিম। এটি মুসলিমের মনস্তাত্ত্বিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে।
সমন্বিত বিশ্লেষণ:
কুরআনের এই যুক্তিধারাটি একটি সমীকরণ তৈরি করে:
আল্লাহর আয়াত (প্রমাণ) + ঈমান (উপলব্ধি/স্বীকৃতি) = ইসলাম (আত্মসমর্পণ/মুসলিম)।
এই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মুসলিম হওয়ার ধাপগুলো হলো:
প্রথমত: আল্লাহর আয়াত বা নিদর্শনসমূহকে পর্যবেক্ষণ করা।
দ্বিতীয়ত: সেই নিদর্শনের ভিত্তিতে অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস (ঈমান) স্থাপন করা।
তৃতীয়ত: সেই বিশ্বাসের দাবি অনুযায়ী নিজের জীবন ও ইচ্ছাকে আল্লাহর কাছে সঁপে দেওয়া (মুসলিম হওয়া)।
কুরআনের এই আয়াতগুলোর সমন্বিত বার্তা হলো: 'মুসলিম' কোনো বংশগত পদবী বা কেবল মৌখিক দাবি নয়। বরং 'মুসলিম' হলো একটি সচেতন অবস্থান (Conscious Position)।
✔ ২৭:৮১ ও ৩০:৫৩ অনুযায়ী, আপনি যদি আল্লাহর নিদর্শন বা আয়াতসমূহ দেখে সত্য গ্রহণ করতে পারেন, তবেই আপনি মুসলিম হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করলেন।
✔ ৪৩:৬৯ অনুযায়ী, এই যোগ্যতাই কিয়ামতের দিন আপনার ভীতি দূর করবে।
অতএব, কুরআনের ভাষায় মুসলিমের সংজ্ঞা হলো: "সেই ব্যক্তি, যার বুদ্ধিবৃত্তিক সিদ্ধান্ত হলো আল্লাহর আয়াতে বিশ্বাস করা এবং যার প্রায়োগিক সিদ্ধান্ত হলো সেই বিশ্বাসের ভিত্তিতে আত্মসমর্পণ করা।"
━━━ ✦ ✧ ✦ ━━━━
আয়াতগুলোর আলোকে মৃত্যুর বিভিন্ন পর্যায় ও অবস্থা সম্পর্কে একটি তাত্ত্বিক ও গভীর বিশ্লেষণ (তাদাব্বুর) নিচে তুলে ধরা হলো:
১. মুমিনের মৃত্যু: প্রশান্তি ও সম্মানের বিদায়
মুমিনের মৃত্যু সম্পর্কে কুরআন যে চিত্র আঁকে তা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ।
১৬:৩২ ও ৭৯:২: আল্লাহ বলছেন, ফেরেশতারা যখন মুমিনদের জান কবজ করেন, তখন তারা ‘পবিত্র’ অবস্থায় থাকে। ফেরেশতারা তাদের ‘সালাম’ দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। ৭৯:২ আয়াতে ‘নাশিতাত’ (نَاشِطَاتٍ) শব্দ দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, মুমিনের প্রাণ অত্যন্ত কোমলভাবে, যেন বাঁধন খুলে দেওয়ার মতো সহজে বের করে আনা হয়।
৮৯:২৭-৩০: এখানে মুমিনের আত্মাকে ‘নফসে মুতমায়িন্নাহ’ (প্রশান্ত আত্মা) বলা হয়েছে। তাকে বলা হয়, "তুমি তোমার রবের দিকে ফিরে এসো সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে।" এটি মৃত্যুর সময়ের এক পরম তৃপ্তি।
১৬:৭০ ও ২২:৫: এই আয়াতগুলো বার্ধক্য ও জীবনের চক্র নিয়ে। মুমিন যখন দীর্ঘায়ু পায় এবং দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন তার মৃত্যু হয় এক স্বাভাবিক বিবর্তন হিসেবে, যেখানে সে তার রবের ওপর পূর্ণ আস্থাশীল থাকে।
তাদাব্বুর (চিন্তা): মুমিনের মৃত্যু কেবল প্রাণ বিয়োগ নয়, বরং রবের সান্নিধ্যে যাওয়ার একটি 'প্রবেশদ্বার'। ঈমান ও নেক আমল মৃত্যুকে ভয়ের বদলে মিলনের আনন্দে রূপান্তর করে।
২. কাফিরের মৃত্যু: অপমান ও লাঞ্ছনা
বিপরীতভাবে, যারা সত্যকে অস্বীকার করে, তাদের মৃত্যু অত্যন্ত ভয়াবহ।
৮:৫০: ফেরেশতারা যখন কাফিরদের প্রাণ কবজ করেন, তখন তাদের মুখে এবং পিঠে আঘাত করতে থাকেন এবং বলেন, "দহন যন্ত্রণা ভোগ করো।"
৭:৩৭: মৃত্যুর সময় যখন ফেরেশতারা আসে, তখন তারা কাফিরদের জিজ্ঞেস করে, "তোমরা যাদের ডাকতে তারা এখন কোথায়?" তখন তারা স্বীকার করতে বাধ্য হয় যে তারা কাফির ছিল। অর্থাৎ, সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর তাদের আর পালানোর পথ থাকে না।
৩. আয়াত অপছন্দকারীদের চিত্র (৪৭:২৪-২৯)
যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অপছন্দ করে (মুনাফিক বা সত্যবিদ্বেষী), তাদের অন্তরে তালা লাগানো থাকে (৪৭:২৪)। মৃত্যুর সময় ফেরেশতারা যখন তাদের আঘাত করতে করতে প্রাণ হরণ করে, তখন তাদের গোপন বিদ্বেষ আল্লাহ প্রকাশ করে দেন। এটি অন্তরের রোগের জাগতিক ও পারলৌকিক পরিণতির মিলনস্থল।
৪. জালিমের মৃত্যু: এক অসহনীয় যন্ত্রণা
জালিমদের (অবিচারকারী) মৃত্যুর দৃশ্য কুরআনে সবচেয়ে কঠোরভাবে বর্ণিত হয়েছে।
৬:৯৩: এখানে ‘গামরাতিল মাওত’ বা মৃত্যুযন্ত্রণার কথা বলা হয়েছে। ফেরেশতারা হাত বাড়িয়ে বলে, "তোমাদের প্রাণ বের করো, আজ তোমাদের লাঞ্ছনাকর শাস্তি দেওয়া হবে।" এটি এক প্রকার জোরপূর্বক প্রাণ হরণ।
৭৯:১: ‘নাযিআত’ (نَازِعَاتٍ) শব্দ দ্বারা বোঝানো হয়েছে অত্যন্ত কর্কশভাবে বা ডুব দিয়ে টেনে হেঁচড়ে প্রাণ বের করা।
১৬:২৮ ও ৪:৯৭: জালিমরা মৃত্যুর মুখে পড়ে আত্মসমর্পণ করতে চায় এবং মিথ্যা ওজোর পেশ করে ("আমরা তো কোনো মন্দ কাজ করতাম না")। কিন্তু ফেরেশতারা তাদের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন কারণ তারা নিজেদের ওপর নিজেরা জুলুম করেছিল।
৫. মৃত্যুর সময় অতিরিক্ত সময়ের আবেদন (টাইম পিটিশন):
মৃত্যুর ফেরেশতাকে দেখার পর অপরাধীদের অনুশোচনা জাগে, যা কুরআনে বিভিন্ন আয়াতে এসেছে:
২৩:৯৯-১০০: "হে আমার রব! আমাকে আবার ফেরত পাঠান, যাতে আমি নেক আমল করতে পারি।" উত্তর আসে: "কখনোই নয়।" তাদের সামনে তখন 'বারযাখ' (পর্দা) এসে যায়।
৬৩:৯-১১: মুমিনদের সতর্ক করা হয়েছে যেন সম্পদ ও সন্তান তাদের গাফেল না করে। মৃত্যুর সময় মানুষ বলে, "আর একটু সময় দিলে আমি সাদাকা করতাম।" কিন্তু আল্লাহ নির্দিষ্ট সময় আসার পর কাউকে এক মুহূর্তও অবকাশ দেন না।
৩২:১২: অপরাধীরা মাথা নিচু করে বলবে, "আমরা দেখলাম ও শুনলাম, এখন আমাদের ফেরত পাঠান।" কিন্তু তখন আর ফেরার পথ থাকে না।
৬. মৃত্যুপূর্ব শারীরিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা (৫৬:৮৩-৮৭)
সূরা ওয়াকিয়ার এই আয়াতগুলো মৃত্যুর চূড়ান্ত মুহূর্তের এক জীবন্ত চিত্র:
যখন প্রাণ 'হুলকুম' বা কণ্ঠনালীতে এসে পৌঁছায় (৫৬:৮৩), তখন চারপাশের মানুষ কেবল তাকিয়ে থাকে কিন্তু কিছুই করার ক্ষমতা রাখে না।
আল্লাহ বলছেন, "তোমাদের চেয়ে আমি (আমার ফেরেশতাদের মাধ্যমে) তার বেশি নিকটে থাকি, কিন্তু তোমরা তা দেখতে পাও না।" (৫৬:৮৫)।
এটি মানুষের অসহায়ত্বের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ এবং পুনরুত্থান দিবসের একটি ছোট প্রমাণ।
তাদাব্বুরের সারসংক্ষেপ:
১. বৈপরীত্যের মাধ্যমে উপলব্ধি: কুরআন মুমিন ও কাফিরের মৃত্যুকে পাশাপাশি বর্ণনা করেছে (যেমন ৭৯:১ বনাম ৭৯:২)। এটি আমাদের দেখায় যে, জীবনের উদ্দেশ্যই মৃত্যুর ধরণ নির্ধারণ করে।
২. বিলম্ব না হওয়া: ৬৩:১১ এবং ২৩:১০০ আয়াত দুটি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, মৃত্যুর সময়টি একমুখী (One-way)। এখানে 'তওবা' বা 'সময় প্রার্থনা'র কোনো সুযোগ নেই।
৩. বারযাখ ও ফেরেশতাদের ভূমিকা: ১৬:৩২ এবং ৮:৫০ আয়াত দুটি প্রমাণ করে যে, মৃত্যুর পরপরই আখেরাতের জীবনের ভালো বা মন্দের সূচনা হয়ে যায় (পুরস্কার বা শাস্তি শুরু হয় ফেরেশতাদের আচরণের মাধ্যমে)।
আয়াতগুলো নিয়ে 'তাদাব্বুর' বা গভীর চিন্তা করলে দেখা যায়, মৃত্যু কেবল একটি শারীরিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি একটি 'সাফারি' বা যাত্রা। যারা আল্লাহর বিধানের অনুসারী, তাদের জন্য এটি শান্তির ঘরে ফেরা। আর যারা বিরোধী, তাদের জন্য এটি এক অনন্ত যন্ত্রণার শুরু। কুরআনের এই আয়াতগুলো আমাদের মৃত্যুপরবর্তী জীবনের জন্য প্রস্তুতি নিতে এবং বর্তমান জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে মূল্যবান করতে উদ্বুদ্ধ করে।
━━━ ✦ ✧ ✦ ━━━━
মৃত্যু সংক্রান্ত দুআ-দরখাস্তু-তাসবীহ:
আল-কুরআনে বিভিন্ন নবী-রাসূল ও সলেহীন মনোনিত বান্দাদের এমন কিছু দোয়া বর্ণিত হয়েছে, যেখানে তাঁরা আল্লাহর কাছে মুসলিম হিসেবে কবুল হওয়ার এবং মুসলিম হিসেবে মৃত্যু নসিব হওয়ার আকুতি জানিয়েছেন। নিচে সেই দোয়াগুলো দেওয়া হলো:
1. মৃত্যুকেও সরাসরি 'মুসীবাতুল মাউত' বা 'মৃত্যুর বিপদ' বলা হয়েছে:
إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ
ইন্না-লিল্লা-হি অইন্না- ইলাইহি রা-জ্বি‘ঊন্।
অর্থ: (তাদের, যখন বিপদ তাদের আক্রান্ত করে, তারা বলে-) নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহরই জন্য আর নিশ্চয়ই আমরা তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী-আল কুরআন ২:১৫৬
বিপদের সাধারণ সংজ্ঞা (২:১৫৫): আল্লাহ বলেছেন, তিনি আমাদের পরীক্ষা করবেন ভয়, ক্ষুধা এবং জান ও মালের ক্ষতি (وَنَقْصٍ مِّنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنفُسِ) দিয়ে। এখানে 'জান বা প্রাণের ক্ষতি' মানেই হলো মৃত্যু।
➤ বিপদের প্রতিক্রিয়া (২:১৫৬): ঠিক পরের আয়াতেই বলা হয়েছে, যখনই কোনো 'মুসিবত' (বিপদ) আসবে, ধৈর্যশীলরা বলবে— "ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন"।
মৃত্যুর বিশেষ নাম (৫:১০৬): সূরা মায়েদাহ-তে আল্লাহ মৃত্যুকে সরাসরি 'মুসীবাতুল মাউত' বা 'মৃত্যুর বিপদ' নাম দিয়েছেন। কারণ, মানুষের জন্য এটিই সবচেয়ে বড় পার্থিব বিচ্ছেদ এবং চূড়ান্ত পরীক্ষা।
➤ আর মৃত্যুযন্ত্রণা (ছাখরা) সত্যই আসবে। সেটা তা, যা থেকে তুমি অব্যাহতি চাইতে ছিলে-আয়াত ৫০:১৯
2. মুসলিম হিসেবে কবুল হওয়ার এবং বংশধরদের মুসলিম বানানোর দোয়া:
رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِن ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُّسْلِمَةً لَّكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
রব্বানা ওয়াজআ’লনা মুসলিমাইনি লাকা ওয়া মিন যুররিয়্যাতিনা উম্মাতাম মুসলিমা-তাল্লাক। অআরিনা-মানা-সিকানা-অতুব্ ‘আলাইনা-ইন্নাকা আন্তাত্ তাওয়্যা-র্বু রাহীম্।
অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদের উভয়কে আপনার জন্য মুসলিম এবং আমাদের বংশধারা থেকে আপনার জন্য একটি মুসলিম উম্মত বানান, আর আমাদেরকে আমাদের ইবাদতের নিয়মাবলী/পদ্ধতি জানিয়ে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করে গ্রহন করে নিন। নিশ্চয়ই আপনি, আপনিই তওবা কবুলকারী, একমাত্র দয়ালু-আল কুরআন ২:১২৮
3. মুসলিম হিসেবে মৃত্যু এবং সলেহীনদের (সংশোধনকারী) অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দোয়া:
فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ أَنتَ وَلِيِّي فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ۖ تَوَفَّنِي مُسْلِمًا وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ
ফাত্বিরাস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্বি আনতা অলিইয়্যী ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আ-খিরাতি, তাওয়াফফানী মুসলিমাঁও ওয়া আলহিক্বনী বিস-সা-লিহীন।
অর্থ: হে আসমান ও জমিনের স্রষ্টা! আপনিই ইহকাল ও পরকালে আমার অভিভাবক। আপনি আমাকে মুসলিম হিসেবে মৃত্যুদান করুন এবং আমাকে নেককারদের অন্তর্ভুক্ত করুন। (সূরা ইউসুফ, ১২:১০১-এর অংশ)
(সালামুন আলা তাঁর জীবনের সব নিয়ামত পাওয়ার পর আল্লাহর কাছে এই দোয়া করেছিলেন)
4. মুসলিম হিসেবে মৃত্যুর দোয়া:
ফেরাউনের জাদুকররা যখন ঈমান আনল এবং ফেরাউন তাদের হত্যার হুমকি দিল, তখন তারা এই দোয়া করেছিলেন:
إِنَّا إِلَى رَبِّنَا مُنقَلِبُونَ
آمَنَّا بِآيَاتِ رَبِّنَا لَمَّا جَاءَتْنَا ۚ رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ
ইন্না- ইলা-রব্বিনা- মুন্ক্বালিবূন্। আমান্না বি-আ-য়া-তি রব্বিনা -লাম্মা-জ্বা - য়াতœা-; রব্বানা আফরিগ আ’লাইনা সবরা-ওয়া তাওয়াফফানা মুসলিমীন
অর্থ: নিশ্চয়ই আমারা আমাদের ররের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। আমরা আমাদের রবের আয়াতগুলোর প্রতি ঈমান এনেছি। হে আমাদের রব! আপনি আমাদের ওপর ধৈর্য ঢেলে দিন এবং আমাদেরকে মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দান করুন- আল কুরআন ৭:১২৫-৭:১২৬
5. ভয়ংকর কষ্ট-নির্যাতনের আশংকায় মৃত্যুমুখে /কঠিন বৈরী পরিবেশ/সংকটময় পরিস্থিতিতে ক্ষমা পাওয়ার প্রত্যাশায়-
لَا ضَيْرَ ۖ إِنَّا إِلَى رَبِّنَا مُنقَلِبُونَ إِنَّا نَطْمَعُ أَن يَغْفِرَ لَنَا رَبُّنَا خَطَايَانَا أَن كُنَّا أَوَّلَ الْمُؤْمِنِينَ
লা-দ্বোয়াইর ইন্না- ইলা-রব্বিনা- মুন্ক্বালিবূন্। ইন্না-নাত্বমা‘ঊ আইঁ ইয়াগ্ফির লানা-রব্বুনা-খত্বোয়া-ইয়া-না আন্ কুন্না য় আউওয়ালাল্ মুমিনীন্।
অর্থ: কোনো সমস্যা নেই। নিশ্চয়ই আমরা আমাদের ররের দিকে ফিরে যাব। নিশ্চয়ই আমরা আশা করি যে, আমাদের রব আমাদের জন্য আমাদের ভুলগুলো ক্ষমা করবেন। এটাও যে, আমরা হলাম মুমিনদের মধ্যে অগ্রনী- আল কুরআন ২৬:৫০-৫১/৭:১২৫
'আয়াত’ মেনে নেয়ার সাথে 'মুসলিম' হওয়ার সম্পর্ক:
কুরআনের অন্য আয়াতে আল্লাহ 'আয়াত' গ্রহণ না করার পরিণাম বর্ণনা করেছেন, যা এই সংজ্ঞাকে আরও সুদৃঢ় করে:
"নিশ্চয়ই যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং তা থেকে অহংকার করেছে, তাদের জন্য আকাশের দ্বার উন্মুক্ত করা হবে না..." (সূরা আল-আ’রাফ, ৭:৪০)
এর বিপরীতে, ৭:১২৬ আয়াতে জাদুকররা 'অহংকার' না করে 'আয়াত' মেনে নিল এবং সাথে সাথেই তারা 'মুসলিম' হয়ে গেল। অর্থাৎ, আয়াত স্বীকার করা = মুসলিম হওয়া; আয়াত অস্বীকার করা = কাফির বা অহংকারী হওয়া।
বিশেষ পর্যবেক্ষণ: "লাম্মা জা-আতনা" (যখন তা আমাদের কাছে এল)
৭:১২৬ আয়াতে 'লাম্মা জা-আতনা' (لَمَّا جَاءَتْنَا) অংশটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এর অর্থ হলো— "যখনই সত্য নিদর্শন আমাদের সামনে স্পষ্ট হলো, আমরা দেরি না করে ঈমান আনলাম।"
6. গুনাহ মাফ ও আবরারদের সাথে মৃত্যুর দোয়া:
কুরআনে বর্ণিত বিবেকসম্পন্ন (উলুল আলবাব) বান্দাদের দোয়া:
رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ
রব্বানা ফাগফির লানা যুনূবানা ওয়া কাফফির আ’ন্না সাইয়্যিআ-তিনা ওয়া তাওয়াফফানা মাআ’ল আবরা-র।
অর্থ: হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন, আমাদের মন্দ কাজগুলো মিটিয়ে দিন এবং আমাদের মৃত্যু দিন নেককারদের সাথে (সূরা আলে-ইমরান, ৩:১৯৩)
7. পূর্ণ আনুগত্যের প্রকাশ: একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর জন্য হওয়াও মুসলিম হিসাবে মৃতুর প্রস্তুতিতে 24 hours-
إِنَّنِي هَدَانِي رَبِّي إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ دِينًا قِيَمًا مِّلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا ۚ وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ ۖ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ
ইন্নানী হাদা-নী রব্বী- ইলা-ছিরা-ত্বিম্ মুস্তাক্বীম্; দীনান্ ক্বিয়ামাম্ মিল্লাতা ইব্রা-হীমা হানীফান্ অমা-কা-না মিনাল্ মুশ্রিকীন। ইন্না ছলা-তী অনুসুকী অমাহ্ইয়া-ইয়া অমামা-তী লিল্লা-হি রব্বিল্‘আ-লামীন্। লা-শারীকা লাহূ অবিযা-লিকা উমিরতু অআনা আওয়্যালুল্ মু¯িøমীন্।
অর্থ: (বলো!) নিশ্চয়ই আমাকে, আমার রব আমাকে সুদৃঢ় পথের দিকে পথ নির্দেশ দিয়েছেন। একনিষ্ঠ ইবরাহীমের আদর্শই প্রতিষ্ঠিত দ্বীন। আর সে মোশরেকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। (বলো!) নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার আত্ত¥ত্যাগ এবং আমার জীবন ও আমার মরণ জগতসমূহের রব আল্লাহরই জন্য। তাঁর জন্য শরীক নেই। এবং আমি ওটারই নির্দেশপ্রাপ্ত হয়েছি আর আমিই মুসলিমদের মধ্যে অগ্রগামী- আল কুরআন ৬:১৬১-১৬৩
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
রব্বানা- আ-তিনা-ফিদ্ দুন্ইয়া-হাসানাতাওঁ অফিল্ আ-খিরাতি হাসানাতাওঁ অক্বিনা-‘আযা-বান্না-র।
অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদেরকে দুনিয়ার মধ্যে কল্যাণ ও আখিরাতের মধ্যে কল্যাণ দান করুন। এবং আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন- আল কুরআন ২:২০১
সলেহীনদের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত হওয়ার- ও জান্নাতীদের সাথে রাখার জন্য আবেদন-দু’আ:
رَبِّ هَبْ لِي حُكْمًا وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ وَاجْعَل لِّي لِسَانَ صِدْقٍ فِي الْآخِرِينَ وَاجْعَلْنِي مِن وَرَثَةِ جَنَّةِ النَّعِيمِ
রব্বি হাবøী হুক্মাঁও অআল্হিক্নী বিছ্ছা-লিহীন্। অজ্ব ‘আল্লী লিসা-না ছিদ্ক্বিন্ ফিল্ আ-খিরীন্। অজ‘আল্নী মিঁও অরছাতি জ্বান্নাতিন্ না‘ঈম্।
অর্থ: হে আমার রব! আপনি আমার জন্য প্রজ্ঞা দান করুন। এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের সাথে সম্পৃক্ত করুন। এবং আমাকে পরবর্তীদের মাঝে সত্যভাষী বানান। আর আপনি আমাকে জান্নাতুন নাঈমের উত্তরাধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন-আয়াত ২৬:৮৩-৮৫
الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ لَا إِلَـهَ إِلَّا هُوَ يُحْيِي وَيُمِيتُ
আল্লাযী লাহূ মুল্কুস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বি লা- ইলা-হা ইল্লা- হুঅ ইয়ুহ্য়ী অইয়ুমীতু।
অর্থ: (বলো! ওহে মানুষ! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সবার জন্য আল্লাহর রসূল) তাঁর জন্য রয়েছে আকাশসমূহ ও পৃথিবীর রাজত্ব। তিনি ছাড়া ইলাহ নেই। তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু দেন। (অতএব তোমরা ঈমান আন আল্লাহর ও তাঁর রসূলের প্রতি, উম্মি নবী, যে আল্লাহর ও তাঁর বানীসমূহের (কালিমাতিহি) প্রতি ঈমান রাখে। আর তোমরা তার অনুসরণ করো, যেন তোমরা হিদায়েতপ্রাপ্ত হও-আয়াত-৭:১৫৮
سَبَّحَ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ يُحْيِي وَيُمِيتُ ۖ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ ۖ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ ُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَىٰ عَلَى الْعَرْشِ ۚ يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا ۖ وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ ۚ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ لَّهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ وَإِلَى اللَّهِ تُرْجَعُ الْأُمُورُ يُولِجُ اللَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَيُولِجُ النَّهَارَ فِي اللَّيْلِ ۚ وَهُوَ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ۞
সাব্বাহা-লিল্লা-হি মা-ফিস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বি অহুওয়াল্ ‘আযীযুল্ হাকীম্। লাহু মুল্কুস্ সামা- ওয়া-তি অল্ র্আদ্বি ইয়ুহ্য়ী অ ইয়ুমীতু অ হুওয়া ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন্ ক্বর্দী। হুওয়াল্ আউয়্যালু অল্ আ-খিরু অজ্জোয়া-হিরু অল্বা-ত্বিনু অহুওয়া বিকুল্লি শাইয়িন্ ‘আলীম্। হুওয়া ল্লাযী খলাক্বস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বোয়া ফী সিত্তাতি আইয়্যা-মিন্ ছুম্মাস্ তাওয়া -‘আলাল্ ‘আরশ্; ইয়া’লামু মা ইয়ালিজুফিল্ র্আদ্বি অমা-ইয়াখ্রুজুমিন্হা-অমা-ইয়ান্যিলু মিনাস্ সামা-য়ি অমা-ইয়া’রুজু ফীহা-; অহুওয়া মা‘আকুম্ আইনা মা-কুন্তুম্; অল্লা-হু বিমা-তা’মালুনা বার্ছী। লাহূ মুল্কুস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্ব্; অ ইলাল্লা-হি র্তুজ্বাউ’ল্ উর্মূ। ইয়ূলিজুল্লাইলা ফিন্নাহা-রি অইয়ু লিজুন্ নাহা-রা ফিল্ লাইল্; অহুওয়া ‘আলীমুম্ বিযা-তিছ্ ছুদূর।
অর্থ: নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবাই আল্লাহর তাসবীহ করে। তিনি শক্তিধর; প্রজ্ঞাময়। আকাশসমূহের ও পৃথিবীল রাজত্ব তাঁরই। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান তিনিই প্রথম, তিনিই সর্বশেষ, তিনিই প্রকাশমান ও অপ্রকাশমান এবং তিনি সব বিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত -আয়াত ৫৭:১-৬
هُوَ الَّذِي يُحْيِي وَيُمِيتُ ۖ فَإِذَا قَضَىٰ أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُن فَيَكُونُ
হুওয়াল্ লাযী ইয়ুহ্য়ী অইয়ুমীতু ফাইযা-ক্বাদ্বোয়া- আম্রান্ ফাইন্নামা- ইয়াকুলু লাহূ কুন্ ফাইয়াকূন্।
অর্থ: তিনিই, যিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান। এরপর যখন কোনো বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন, তখন তার উদ্দেশ্যে শুধু বলেন, হও। ফলে তা হয়ে যায়-আয়াত ৪০:৬৮।
وَهُوَ ٱلَّذِي يُحۡيِۦ وَيُمِيتُ وَلَهُ ٱخۡتِلَٰفُ ٱلَّيۡلِ وَٱلنَّهَارِۚ
আর তিনিই, যিনি জীবন দেন এবং মৃত্যু দেন। আর রাত ও দিনের পরিবতন ক্ষমতা তাঁরই জন্য-আয়াত ২৩:৮০
رَبِّيَ الَّذِي يُحْيِي وَيُمِيتُ فَإِنَّ اللَّهَ يَأْتِي بِالشَّمْسِ مِنَ الْمَشْرِقِ
রব্বিয়াল্লাযী ইয়ুহ্য়ী অইয়ুমীতু; ফাইন্নাল্লা-হা ইয়াতী বিশ্শাম্সি মিনাল্ মাশ্রিক্বি।
অর্থ: তিনিই আমার রব যিনি জীবন দেন এবং মৃত্যু দেন। সুতরাং আল্লাহ নিশ্চয়ই উদায়াচল থেকে সূর্য উদিত করেন-আয়াত ২:২৫৮।
যিকির-দু’আ-এর প্রাসঙ্গিকতা: দ্র: আয়াত- ৩০:৪০
رَبَّ ٱلْعَـٰلَمِينَ الَّذِي خَلَقَنِي فَهُوَ يَهْدِينِ وَالَّذِي هُوَ يُطْعِمُنِي وَيَسْقِينِ وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ وَالَّذِي يُمِيتُنِي ثُمَّ يُحْيِينِ وَالَّذِي أَطْمَعُ أَن يَغْفِرَ لِي خَطِيئَتِي يَوْمَ الدِّينِ
রব্বাল আলামিনাআল্লাযী খলাক্বনী ফাহুওয়া ইয়াহ্দীন্। অল্লাযী হুওয়া ইয়ুত্ব‘ইমুনী অইয়াস্ক্বীন্। অ ইযা-মারিদ্ব্তু ফাহুওয়া ইয়াশ্ফীন্। অল্লাযী ইয়ুমীতুনী ছুম্মা ইয়ুহ্য়ীন্। অল্লাযী- আত্বমাউ’ আইঁ ইয়াগ্ফিরালী খাতী-আতী ইয়াওমাদ দীন্।
অর্থ: জগতসমূহের রব যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, সুতরাং তিনিই আমাকে পথ দেখাবেন। এবং তিনিই, যিনি আমাকে খাওয়ান এবং আমাকে পান করান। আর যখন আমি অসুস্থ হই, তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন; আর তিনিই আমাকে মৃত্যু দিবেন, তারপর আমাকে জীবিত করবেন। আর তিনিই, আমি আশা করি যে, বিচার দিবসে তিনি আমার জন্য আমার দ্রæটিগুলো ক্ষমা করে দিবেন-আয়াত ২৬:৭৭-৮২ (৩০:৪০, ৪১:৪৪, ১৫:২৩)।
وَاَنَّه هُوَ اَضحَكَ وَاَبكٰىۙ وَاَنَّه هُوَ اَمَاتَ وَ اَحيَا وَاَنَّه خَلَقَ الزَّوجَينِ الذَّكَرَ وَالاُنثٰىمِن نُّطفَةٍ اِذَا تُمنٰى وَاَنَّ عَلَيهِ النَّشاَةَ الاُخرٰى وَاَنَّه هُوَ اَغنٰى وَ اَقنٰىوَاَنَّه هُوَ رَبُّ الشِّعرٰىۙ
অআন্নাহূ হুওয়া আদ্ব্হাকা অআব্ক-। অআন্নাহূ হুওয়া আমা-তা অ আহ্ইয়া-। অআন্নাহূ খলাক্বায্ যাওজ্বাইনিয্ যাকারা অল্উন্ছামিন্ নুত্ব ফাতিন্ ইযা-তুম্না-। অআন্না ‘আলাইহিন্ নাশ্য়াতাল্ উখ্র-। অআন্নাহূ হুওয়া আগ্না-অআক্ব না-। অআন্নাহূ হুওয়া রব্বুশ্ শি’রা-।
অর্থ: আর যে তিনি, তিনিই হাসান এবং কাঁদান। আর যে তিনি, তিনিই মারেন এবং বাঁচান। আর যে তিনি, তিনিই পুরুষ ও নারীর জোড়া সৃষ্টি করেছেন। নুতফা থেকে যখন স্খালিত হয়। আর যে, তাঁর উপরই আরেকবার সৃষ্টির দায়িত্ব। আর যে তিনি, তিনিই অভাবমুক্ত করেন এবং সম্পদশালী করেন। আর যে তিনি, তিনিই শিরা-এর রব আয়াত ৫৩:৪৩-৪৯।
অন্যদের জন্য দুআ-সালাত (জানাযা):
رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِّلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ۞
রব্বানাগ্ ফিরলানা-অলিইখ্ওয়া-নিনাললাযীনা সাবাক্বুনা বিল্ ঈমা-নি অলা- তাজ্ব ‘আল্ ফী কুলূবিনা-গিল্লাল্লিল্লাযীনা আ-মানূ রব্বানা- ইন্নাকা রায়ূফুর রহীম্।
অর্র্থ: (এবং তাদের মধ্য হতে পরবর্তীতে যারা এসেছে তারা বলে-) হে আমাদের রব! আমাদেরকে ও আমাদের ভাইদেরকে ক্ষমা করে দিন, যারা ঈমানের সাথে আমাদের আগে চলে গিয়েছে। আর যারা ঈমান এনেছে, তাদের জন্য আমাদের অন্তরগুলোর মধ্যে কোন বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আপনি ¯েœহপরায়ণ, পরম দয়ালু- আল কুরআন ৫৯:১০
◆ যারা ঈমান এনেছে, তাওবাহ করে ও সৎকর্ম (সলেহ) করে তাদের জন্য দু’আ
رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَّحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ رَبَّنَا وَأَدْخِلْهُمْ جَنَّاتِ عَدْنٍ الَّتِي وَعَدتَّهُمْ وَمَن صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ ۚ إِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ وَقِهِمُ السَّيِّئَاتِ ۚ وَمَن تَقِ السَّيِّئَاتِ يَوْمَئِذٍ فَقَدْ رَحِمْتَهُ ۚ وَذَٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
রব্বানা-অসিতা কুল্লা শাইয়িন্ রহ্মাতাঁও অ‘ইল্মান্ ফার্গ্ফি লিল্লাযীনা তা-বূ অত্তাবা‘ঊ সাবীলাকা অক্বিহিম্ ‘আযা-বাল্ জ্বাহীম্। রব্বানা-অ‘আদ্খিল্হুম্ জ্বান্না-তি ‘আদ্নি নিল্লাতী অ‘আত্তাহুম্ অমান্ ছলাহা মিন্ আ-বা-য়িহিম্ অআয্ওয়া জ্বিহিম্ অর্যুরিয়্যা-তিহিম্; ইন্নাকা আন্তাল্ ‘আযীযুল্ হাকীম্। অ ক্বিহিমুস্ সাইয়িয়া-ত্; অমান্ তাক্বিস্ সাইয়িয়া-তি ইয়াওমায়িযিন্ ফাক্বদ্ রহিম্তাহ্ ; অ যা-লিকা হুওয়াল্ ফাওযুল্ ‘আজীম্।
অর্র্থ: (যারা আরশ বহন করে ও যারা তার চারপাশে, তারা তাদের রবের প্রশংসায় তাসবীহ করে এবং তারা তাঁর প্রতি বিশ^াস রাখে আর যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে-) হে আমাদের রব! আপনি অনুগ্রহে ও জ্ঞানে সবকিছুকে ব্যাপ্ত করেছেন। অতএব, যারা তাওবা করে ও আপনার পথ অনুসরণ করে আপনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিন। আর আপনি তাদেরকে রক্ষা করুন, জাহিমের শাস্তির। হে আমাদের রব! আপনি তাদেরকে জান্নাতু আদনে প্রবেশ করান, যার প্রতিশ্রæতি আপনি তাদেরকে দিয়েছেন, আর তাকেও যে তাদের পিতামাতা ও তাদের দাম্পত্যসাথী এবং তাদের বংশধর এর মধ্যে সৎকর্ম (সলেহ) করে। নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। এবং আপনি তাদেরকে ক্ষতি হতে রক্ষা করুন। আর সেদিন আপনি যাকে ক্ষতি হতে রক্ষা করবেন, তাহলে তো তাকে আপনি অনুগ্রহ করলেন। আর সেটাই মহাসাফল্য-আল কুরআন ৪০:৭-৯।
আরও কিছু কুরআনি দুআ/তাসবিহ/যিকির:
إِنَّ اللّهَ فَالِقُ الْحَبِّ وَالنَّوَى يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَمُخْرِجُ الْمَيِّتِ مِنَ الْحَيِّ ذَلِكُمُ اللّهُ
ইন্না ল্লা-হা ফা-লিকুল্ হাব্বি অন্নাওয়া-; ইয়ুখ্রিজুল্ হাইয়্যা মিনাল্ মাইয়্যিতি অমুখ্রিজুল্ মাইয়্যিতি মিনাল্ হাইয়্যি; যা-লিকুমুল্লা-হু।
অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ বীজ ও আঁটি বিদীর্ণকারী। তিনি নির্জীব থেকে জীবন্তকে বের করেন এবং তিনি জীবিত থেকে মৃত নির্গতকারী। তিনি আল্লাহ!- আয়াত ৬:৯৫।
يُحْيِيهَا الَّذِي أَنشَأَهَا أَوَّلَ مَرَّةٍ ۖ وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ
(বলো!) যিনি প্রথমবার সেগুলো সৃষ্টি করেছেন, তিনিই সেগুলো জীবিত করবেন আর তিনি সকল সৃষ্টির ব্যাপারে বিস্তৃত জ্ঞানসম্পন্ন (শযধষয়রহ ধষবস)-আয়াত ৩৬:৭৯।
الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًاۚ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْغَفُورُ
আল্লাযি খলাক্বল্ মাওতা অল্ হাইয়া-তা লিইয়াব্লুয়াকুম্ আইয়্যুকুম্ আহ্সানু ‘আমালা-; অহুওয়াল্ ‘আযীযুল্ গফূর।
অর্থ: যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন, তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য, তোমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য, তোমাদের মধ্যে কর্মে কে সর্বোত্তম। আর তিনি আযী যুল গাফু-র- আয়াত ৬৭:২।
يَا أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ. ارْجِعِي إِلَىٰ رَبِّكِ رَاضِيَةً مَرْضِيَّةً. فَادْخُلِي فِي عِبَادِي. وَادْخُلِي جَنَّتِي
ইয়া- আইইয়াতুহান্নাফ্সুল্ মুত্ব্ মায়িন্নাতু। ইর্জি‘ঈ য় ইলা-রব্বিকি র-দ্বিয়াতাম্ র্মাদ্বিয়্যাহ্। ফাদ্খুলী ফী ই’বা-দী। অদ্খুলী জ্বান্নাতী।
অর্থ: হে পরিতৃপ্ত আত্মা! ফিরে এসো তোমার রবের দিকে সন্তুষ্টচিত্তে, সন্তোষভাজন হয়ে। এরপর তুমি অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও আমার বান্দাদের মধ্যে এবং প্রবেশ করো আমার জান্নাতে- আয়াত ৮৯:২৭-৩০ (২৬:৮৩-৮৫)।
هُوَ ٱلْحَىُّ لَآ إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ فَٱدْعُوهُ مُخْلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ ۗ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ
হুওয়াল্ হাইয়্যু লা য় ইলা-হা ইল্লা-হুওয়া ফাদ্‘ঊহু মুখ্লিছিনা লাহুদ্দী ন্; আল্হাম্দু লিল্লা-হি রব্বিল্ ‘আ-লামীন্।
অর্থ: তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ছাড়া ইলাহ নেই। সুতরাং তোমরা দ্বীনকে তাঁর জন্য একনিষ্ঠ করে তাঁকে ডাক। সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহরই জন্য-আয়াত ৪০:৬৫।
وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَن تَمُوتَ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ كِتَابًا مُّؤَجَّلًا
অমা-কা-না লিনাফ্সিন্ আন্ তামূতা ইল্লা-বিইয্নিল্লা-হি কিতা-বাম্ মুওয়াজ্জ্বালা-
অর্থ: আর এটা কোনো প্রাণের জন্য হতে পারে না যে, সে আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত মৃত্যুবরণ করবে; ’সময় নির্ধারিত’ এক আদেশ- আয়াত ৩:১৪৫।
اللَّهُ لَا إِلَـهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ
আল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা-হুআল হাইয়্যুল্ ক্বাইয়্যূম্। অর্থ: আল্লাহ, তিনি ছাড়া ইলাহ নেই, চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী- আল কুরআন ২:২৫৫, ৩:২ (২৫:৫৮)।
■ আল্লাহর যেকোন ডাকে/ আমলে সাড়া দিতে প্রশংসার সহিত মুভমেন্ট হবে (সূত্র আল কুরআন ১৭:৫২, ১০:১০): প্রশংসা-যিকির অধ্যায় দ্র:
اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّهُ يُحْيِي الْمَوْتَى وَأَنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
আল্লা-হা হুওয়াল্ হাককু অআন্নাহূ ইয়ুহ্য়িল্ মাওতা অ আন্নাহূ ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন্ ক্কদীর।
অর্থ: আল্লাহ, তিনিই সত্য এবং এটাও যে তিনিই মৃতদেরকে জীবিত করেন আর এটাও যে তিনিই সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান- আয়াত ২২:৬ (২২:৫)।
আল্লাহ ভরসা ও তাওবা:
فَاللَّهُ هُوَ الْوَلِيُّ وَهُوَ يُحْيِي الْمَوْتَى وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
ফাল্লা-হু হুওয়াল্ অলিয়্যু অহুওয়া ইয়ুহ্য়িল মাওতা অ হুওয়া ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন্ ক্কদীর।
অর্থ: মূলত আল্লাহ, তিনিই অভিভাবক এবং তিনিই মৃতদেরকে জীবিত করেন। আর তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান- আল কুরআন ৪২:৯ (আরও জানতে- ৪২:৯, ৪১:৩১-৩২ )
ذَٰلِكُمُ اللَّهُ رَبِّي عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ
এমনই যে হলেন আল্লাহ, আমার রব। তাঁর ওপরই আমি ভরসা করি এবং তাঁর দিকেই আমি ফিরে আসি -আয়াত ৪২:১০ (৩৯:৫৪)
لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ يُحْيِي وَيُمِيتُ ۖ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
লাহু মুল্কুস্ সামা- ওয়া-তি অল্ আর্দ্বি ইয়ুহ্য়ী অ ইয়ুমীতু অ হুওয়া ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন্ ক্বদীর।
অর্থ: আকাশসমূহ ও পৃথিবীর রাজত্ব তাঁরই জন্য। তিনি জীবন দান করেন এবং তিনি মৃত্যু ঘটান। আর তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান- আয়াত-৫৭:২।
سُبْحَانَكَ تُبْتُ إِلَيْكَ وَأَنَاْ أَوَّلُ الْمُؤْمِنِينَ
সুবহা-নাকা তুবত ুইলাইকা ওয়াআনা- আওয়্যালুল মু’মিনী-ন।
অর্থ: আপনি পুত:পবিত্র আমি আপনারই কাছে ফিরে এলাম/ তাওবা করলাম আর আমিই মুমিনদের মধ্যে প্রথম-আয়াত ৭:১৪৩ (২০:৮২-৮৪)।
إِنَّا إِلَى رَبِّنَا مُنقَلِبُونَ
ইন্না- ইলা-রব্বিনা- মুন্ক্বালিবূন্। অর্থ: নিশ্চয়ই আমারা আমাদের ররের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী-৭:১২৫।
وَأَنَّ مَرَدَّنَآ إِلَى ٱللَّهِ
অআন্না মারাদ্দানা- ইলাল্লাহ। অর্থ: আর নিশ্চয়ই আল্লাহর দিকেই আমাদের প্রত্যাবর্তন-আল কুরআন ৪০:৪৩ (7:172-174)
সারসংক্ষেপ:
আপনি যদি নিয়মিত এই দোয়াগুলো পড়েন, তবে আপনি মূলত কুরআনের সেই আদর্শেরই প্রতিফলন ঘটাচ্ছেন যা আপনি ৪৩:৬৯, ৩০:৫৩ এবং ২৭:৮১ আয়াতে খুঁজে পেয়েছেন।
অর্থাৎ, আল্লাহর আয়াতসমূহকে অন্তরে ধারণ করে (ঈমান) বাস্তবে তাঁর কাছে আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) হওয়ার আর্তি এই দোয়াগুলোর মাধ্যমে পূর্ণতা পায়।
বিশেষ করে "তাওয়াফফানী মুসলিমা" (আমাকে মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দিন)—এটি একজন মুমিনের জীবনের শ্রেষ্ঠ চাওয়া।
মুনক্বালিবুন (مُنقَلِبُونَ - ৭:১২৫): এর মূল শব্দ 'ইনকিলাব'। এর অর্থ হলো আমূল পরিবর্তন বা পুরোপুরি উল্টে যাওয়া। জাদুকররা যখন এই শব্দ ব্যবহার করে, তখন তারা বোঝাচ্ছিল— "দুনিয়ায় তোমরা আমাদের যে শাস্তিই দাও না কেন, আমাদের জীবনের দিক এখন পুরোপুরি আল্লাহর দিকে ঘুরে গেছে।" এটি একটি বিপ্লবী প্রত্যাবর্তন।
মারাদ্দানা (مَرَدَّنَا - ৪০:৪৩): এর অর্থ হলো গন্তব্যস্থল বা যেখানে গিয়ে শেষ পর্যন্ত থামতে হয়। এটি মানুষের চূড়ান্ত গন্তব্য (Final Destination) নির্দেশ করে।