➡️ ‘মন্দের ভালো’ বা কম খারাপ: বড় ক্ষতি ঠেকাতে ছোট ক্ষতি গ্রহণ -আল-কোরআনের ‘ওজর’ ও ‘প্রয়োজনের’ অকাট্য মূলনীতি:
➡️ আদর্শ নেতৃত্বের অভাবে ‘মন্দের ভালো’ কি গ্রহণযোগ্য? কখন এবং কেন এটি বেছে নেওয়া কুরআনি দায়িত্ব?
➡️ বৃহত্তর ফাসাদ বনাম ‘মন্দের ভালো’: আল-কোরআনের আলোকে সংকটকালীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানদণ্ড:
যেকোন নির্বাচন- ইলেকশন- সিলেকশন বিষয়ের প্রেক্ষাপটে একজন সচেতন নাযিলকৃত অহীর অনুশীলনকারী তথা আল কোরআন অনুসারী হিসেবে এই জিজ্ঞাসা অত্যন্ত সময়োপযোগী। যখন রাজনৈতিক ময়দানে শতভাগ 'মুত্তাকি' বা 'কোরআনিক মানদণ্ডের' নেতা খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে, তখন আল-কোরআন আমাদের 'নিষ্ক্রিয়' থাকতে বলেনি। বরং ওহীর অভ্যন্তরীণ সাক্ষ্য (Internal Evidence) এবং ভাষাতাত্ত্বিক কাঠামোর আলোকে 'ক্ষতি লাঘব' (Harm Reduction) ও 'মন্দের ভালো'কে বেছে নেওয়ার সুষ্পষ্ট দিক-নির্দেশনা দিয়েছে।
১. ভোট বা সমর্থন একটি ‘সাক্ষ্য’ (Shahadat): নীরবতা কি সমাধান?
যদি আপনি ভোটদান থেকে বিরত থাকেন, তবে আপনার নীরবতার সুযোগে একজন চরম জালেম বা ফাসাদ সৃষ্টিকারী ক্ষমতায় আসতে পারে। এমতাবস্থায় ২:২৮৩ আয়াত অনুযায়ী, সত্যের বা তুলনামূলক কল্যাণের পক্ষে সাক্ষ্য না দেওয়া আপনার অন্তরকে পাপে কলুষিত করতে পারে। সুতরাং, বিদ্যমান বিকল্পগুলোর মধ্যে 'আহসান' বা উত্তমকে খুঁজে নেওয়া একটি আমানত।
2. নিরবতার পরিণাম: লানত ও অভিশাপের অকাট্য দলিল:
আল্লাহ তায়ালা বনী ইসরাঈলকে পরীক্ষার জন্য শনিবার মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু তারা কৌশল করে আইন লঙ্ঘন করতে শুরু করে। এই পরিস্থিতিতে পুরো সমাজ তিনটি স্পষ্ট গ্রুপে বা শ্রেণীতে বিভক্ত হয়ে যায়।
বনী ইসরাঈল কেন আল্লাহর অভিশপ্ত হয়েছিল? আল-কোরআনের শব্দশৈলী স্পষ্টভাবে বলছে যে, তাদের লানত পাওয়ার অন্যতম কারণ ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাদের এই 'নিরবতা'।
৪. বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘নিষ্ক্রিয় নীরবতা’র ভয়াবহতা:
❒ আয়াত ৭:১৬৫: মুক্তি কেবল তাদের জন্য যারা মন্দের প্রতিবাদ করে।
5. ‘মন্দের ভালো’ চয়নের অকাট্য দলিল: ‘নিকটতম’ (Akrab) আদর্শ:
আল-কুরআনের সূরা আর-রুমের ৭ ও ৮ নম্বর আয়াতে রোমানদের প্রতিপক্ষকে যেভাবে চিত্রায়িত করা হয়েছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আল্লাহ বলেন: “তারা দুনিয়ার জীবনের বাহ্যিক দিকটা জানে এবং পরকাল সম্পর্কে তারা গাফেল।” (৩০:৭-৮)।
✧ অনুধাবন: এখানে প্রতিপক্ষকে ‘গাফেল’ (Heedless) এবং কেবল ‘বস্তুবাদী’ (Life of this world) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর বিপরীতে ‘রুম’ যেহেতু আহলুল কিতাব ছিল, তাদের কাছে অন্তত ওহীর অবশিষ্টাংশ এবং পরকালের ধারণা বিদ্যমান ছিল।
✧ আদল বা ভারসাম্য: যদিও রোমানরা পূর্ণাঙ্গ ‘মুসলিম’ (সালামুন আলা মুহাম্মদ-এর ওপর নাযিলকৃত শরীয়ত অনুযায়ী) ছিল না, তবুও তারা ওহীর ঐতিহ্যের সাথে যুক্ত ছিল। আয়াতে ব্যবহৃত ‘বি আদনাল আরদ’ (في أدنى الأرض) শব্দটির ভৌগোলিক অর্থের পাশাপাশি একটি সূক্ষ্ম ইঙ্গিত রয়েছে যে, তারা সত্যের পরিমণ্ডলের ‘নিকটবর্তী’ (Adna) ছিল। ফলে, চরম সত্যপ্রত্যাখ্যানকারী বা বস্তুবাদী শক্তির তুলনায় ওহীর আলোধারী (তা সামান্য হলেও) কোনো জাতির বিজয়কে আল্লাহ ‘নাসরুল্লাহ’ বা ‘আল্লাহর সাহায্য’ (৩০:৫) হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, ওহীর ন্যূনতম উপস্থিতিও চরম জাহেলিয়াতের চেয়ে আল্লাহর কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্য।
ঈমানি প্রজ্ঞা (Systematic Insight):
এই ঐতিহাসিক ঘটনার কুরআনিক বর্ণনা থেকে মুমিনের জন্য একটি স্থায়ী নীতি (Principle) উদ্ভূত হয়। চরম বাতিল বা জালেম শক্তির বিপরীতে তুলনামূলক কম খারাপ, সত্যের নিকটবর্তী কিংবা মানবিক ও ইনসাফপূর্ণ শক্তির পক্ষ নেওয়া বা তাদের বিজয়ে আনন্দিত হওয়া মুমিনের ঈমানি প্রজ্ঞারই অংশ।
✧ কুরআনি দলিল: আল্লাহ বলেন— “যারা মনোযোগ দিয়ে কথা শোনে এবং তার মধ্যে যা উত্তম (Ahsanah), তা অনুসরণ করে। আল্লাহ তাদেরকেই হেদায়েত দান করেছেন এবং তারাই বুদ্ধিমান।” (সূরা আজ-জুমার ৩৯:১৮)।
✧ সিদ্ধান্ত: এখান থেকে প্রমাণিত হয় যে—মুশরিক, নাস্তিক বা নিরঙ্কুশ বস্তুবাদী শক্তির দাপটের চেয়ে যারা অন্তত আস্তিকতায় বিশ্বাসী, ইনসাফ ও মানবাধিকারের কথা বলে এবং ওহীর কোনো না কোনো স্তরের সাথে সম্পর্কিত, তাদের সমর্থন করা কুরআনিক চেতনার পরিপন্থী নয়। বরং এটি সত্যের চূড়ান্ত বিজয়ের পথে একটি কৌশলগত ধাপ, ঠিক যেমনটি মুহাম্মদ সালামুন আলা-এর যুগে রুমের বিজয় ছিল মুমিনদের জন্য একটি ‘আনন্দের সংবাদ’।
6. বৃহত্তর ক্ষতি রোধে ‘সামান্য ক্ষতি’ মেনে নেওয়া (The principle of harm reduction):
7. ভারসাম্য রক্ষা ও বিপর্যয় রোধে ‘দাফ’ (Check and Balance):
8. সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব নেই (La Yukallifullah):
সালামুন আলা ইউসুফ: কৌশলগত অংশগ্রহণের মডেল:
সালামুন আলা ইউসুফ-এর ঘটনাটি প্রচলিত রাজনীতির বাইরে এক অনন্য ওহী ভিত্তিক সাক্ষ্য। তিনি একটি রাজতান্ত্রিক ও পৌত্তলিক ব্যবস্থার অধীনে দায়িত্ব চেয়েছিলেন (১২:৫৫)।
1. সাধ্য অনুযায়ী তাকওয়া অবলম্বনের মূলনীতি (The Rule of Capability):
যখন আদর্শ বা শতভাগ নিখুঁত পরিবেশ থাকে না, তখন একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো তার সাধ্যের মধ্যে থাকা সর্বোত্তম পথটি বেছে নেওয়া।
প্রমাণিক আয়াত: "অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো তোমাদের সাধ্য অনুযায়ী (মাস্তাত্বা’তুম); আর শোনো, আনুগত্য করো এবং ব্যয় করো; এটিই তোমাদের জন্য কল্যাণকর।" (সূরা আত-তাগাবুন, ৬৪:১৬)
❑ তাদাব্বুর (বিশ্লেষণ): এই আয়াতটি 'মন্দের ভালো' বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি মৌলিক প্রশাসনিক ও ইবাদতগত নীতি। যদি আপনার সামনে শতভাগ কোরআনিক নেতা না থাকে, তবে আপনার সাধ্যের মধ্যে (Mastata'tum) যিনি তুলনামূলক ভালো, তাকে সমর্থন করাই হলো এই আয়াতের দাবি। হাত গুটিয়ে বসে থাকা নয়, বরং সাধ্যমতো ইনসাফের পক্ষে কাজ করাই প্রকৃত তাকওয়া।
প্রমাণিক আয়াত: "অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো তোমাদের সাধ্য অনুযায়ী (মাস্তাত্বা’তুম); আর শোনো, আনুগত্য করো এবং ব্যয় করো; এটিই তোমাদের জন্য কল্যাণকর।" (সূরা আত-তাগাবুন, ৬৪:১৬)
❑ তাদাব্বুর (বিশ্লেষণ): এই আয়াতটি 'মন্দের ভালো' বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি মৌলিক প্রশাসনিক ও ইবাদতগত নীতি। যদি আপনার সামনে শতভাগ কোরআনিক নেতা না থাকে, তবে আপনার সাধ্যের মধ্যে (Mastata'tum) যিনি তুলনামূলক ভালো, তাকে সমর্থন করাই হলো এই আয়াতের দাবি। হাত গুটিয়ে বসে থাকা নয়, বরং সাধ্যমতো ইনসাফের পক্ষে কাজ করাই প্রকৃত তাকওয়া।
২. দ্বীনের মধ্যে কোনো সংকীর্ণতা বা কঠোরতা না রাখা: আল্লাহ সহজ করতে চান, কঠিন নয়:
আল্লাহ তায়ালা দ্বীনের বিধানকে মানুষের জন্য দুঃসহ করতে চান না। প্রতিকূল পরিবেশে সহজ পথ বা বিকল্প পথ গ্রহণ করা একটি ঐশী অনুমোদন।প্রমাণিক আয়াত: "...তিনি (আল্লাহ) তোমাদেরকে মনোনীত করেছেন এবং দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো কঠোরতা/সংকীর্ণতা (হারাজ) রাখেননি..." (সূরা আল-হাজ্ব, ২২:৭৮)
রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এই আয়াতটি একটি 'ইউনিভার্সাল গাইডলাইন'।
প্রমাণিক আয়াত: "...আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ (ইউসর) করতে চান এবং তিনি তোমাদের জন্য কঠিন (উসর) করতে চান না..." (সূরা আল-বাকারা, ২:১৮৫)
❑ বিশ্লেষণ: যখন সামনে কোনো পারফেক্ট বিকল্প থাকে না, তখন ভোটদান থেকে বিরত থাকা সমাজের জন্য 'উসর' বা কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি করে (যেমন—দাঙ্গা, দুর্ভিক্ষ বা চরম জুলুম)। অন্যদিকে, 'মন্দের ভালো'কে বেছে নিয়ে জুলুমের মাত্রা কমানো হলো 'ইউসর' বা সহজতার পথ।
❑ সমন্বয়: যদি এমন হতো যে— 'নিখুঁত নেতা না পেলে ভোট দেওয়া যাবে না', তবে এটি জাতির জন্য এক ভয়াবহ সংকীর্ণতা বা 'হারাজ' তৈরি করত। কারণ এর ফলে চরম জালেম শাসক বিনা বাধায় ক্ষমতায় আসার সুযোগ পেত। এই আয়াতটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে, বৃহত্তর কল্যাণার্থে ওজর বা বিকল্প পথ অবলম্বন করা দ্বীনেরই অংশ।
❑
৩. বাধ্য হওয়া ও অনিচ্ছাকৃত বিচ্যুতি (Doctrine of Necessity):
১৬:১০৬ আয়াতে আল্লাহ একটি চরম দৃষ্টান্ত দিয়েছেন— যদি কারো জীবন বিপন্ন হয়, তবে সে অন্তরে ইমান রেখে মুখে কুফরি প্রকাশ করলেও আল্লাহ তাকে অপরাধী করবেন না।প্রমাণিক আয়াত: "যে ব্যক্তি তার ইমানের পর আল্লাহর সাথে কুফরি করে— তবে সে নয় যাকে বাধ্য (উকরিহা) করা হয়েছে কিন্তু তার অন্তর ইমানে অটল..." (সূরা আন-নাহল, ১৬:১০৬)
❑ তাদাব্বুর ও উচ্চতর দর্শন (Symmetry): চিন্তা করুন, জীবনের প্রয়োজনে যদি বাহ্যিক কুফরি করার অনুমতি থাকে, তবে একটি সমাজ ও রাষ্ট্রকে চরম জালেম ও ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য 'মন্দের ভালো' পক্ষকে ভোট দেওয়া কেন জায়েজ হবে না? এটি একটি 'শক্তিশালী কিয়াস' বা তুলনামূলক দলিল। অর্থাৎ, বৃহত্তর অনিষ্ট রোধে ছোট বিচ্যুতি বা অপূর্ণাঙ্গ পথ গ্রহণ করা ওজরের অন্তর্ভুক্ত।
৫. প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছু করা নিষিদ্ধ কিন্তু প্রয়োজনে বৈধ:
আল্লাহ যা হারাম করেছেন, প্রয়োজনে তার সীমার মধ্যে থেকে সুবিধা গ্রহণ করার অনুমোদন দিয়েছেন।প্রমাণিক আয়াত: "...অথচ তিনি তোমাদের কাছে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন যা তোমাদের ওপর হারাম করেছেন— তবে তা ছাড়া যার জন্য তোমরা নিরুপায় (উদ্বুতুররিত্তুম) হয়ে পড়ো..." (সূরা আল-আনআম, ৬:১১৯)
❑ সমন্বয়: যদি পূর্ণাঙ্গ ইসলামিক ব্যবস্থা না থাকাটা একটি 'অযোগ্য পরিবেশ' হয়, তবে সেই পরিবেশে সমাজ পরিচালনার জন্য তুলনামূলক ইনসাফকামী ব্যক্তিকে চয়ন করা এই 'নিরুপায়' (Idtirar) অবস্থার অনুমোদনের আওতায় পড়ে।
▣ তবে- ভোট বা সুপারিশ: 'শাফায়াত' ও এর দায়বদ্ধতা:
যে ব্যক্তি কোনো
▣ ভোট একটি ‘শাহাদাহ’ (شهادة): সত্য সাক্ষ্য ও এর রেকর্ড:
🔗 তাদের এই সাক্ষ্য (শাহাদাতুহুম) লিখে রাখা হবে এবং এ বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ (ইউসআলুন) করা হবে (সূরা আজ-জুখরূফ, ৪৩:১৯)
▣ সাক্ষ্য গোপন করার ভয়াবহতা (সূরা আল-বাকারা): আর তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না; যে ব্যক্তি তা গোপন করে, তার অন্তর অবশ্যই পাপী । আর তোমরা যা করো আল্লাহ সে বিষয়ে সবিশেষ পরিজ্ঞাত।" (সূরা আল-বাকারা, ২:২৮৩)
▣ ইন্দ্রিয় ও অন্তরের জবাবদিহিতা (Accountability of Senses):
আল-কোরআনের অভ্যন্তরীণ সাক্ষ্যসমূহ বিশ্লেষণ করলে একটি মজবুত (Strong) কাঠামো ফুটে ওঠে:
আল-কোরআনের অভ্যন্তরীণ সাক্ষ্যসমূহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
১. কোরআনে সরাসরি “ভোট” বা আধুনিক নির্বাচন নেই—তবে নীতিমালা আছে-
কোরআনে আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা বা নির্বাচন পদ্ধতির নাম নেই, কিন্তু শাসন, নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও দায়িত্ব অর্পণের নীতিমালা স্পষ্টভাবে আছে।
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দেন যে, তোমরা আমানতসমূহ তার উপযুক্ত লোকদেরকে প্রদান কর।”(সূরা নিসা ৪:৫৮)
🔹 ভোট = আমানত
কারণ আপনার ভোটের মাধ্যমে কাউকে ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব দেওয়া হয়।
2. কুরআনে কি “আদর্শ শাসক সবসময় পাওয়া যাবে”—এমন শর্ত আছে? আদর্শ মু’মিন প্রার্থী না থাকলে কী করবেন?
না। কুরআন বাস্তবতাকে স্বীকার করে।
আয়াত: “আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।” (সূরা আল-বাকারা ২:২৮৬)
➡️ অর্থাৎ, যেখানে সম্পূর্ণ কুরআন-অনুসারী প্রার্থী নেই, সেখানে বাস্তবসম্মত বিকল্পের মধ্যেই দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
না। কুরআন বাস্তবতাকে স্বীকার করে।
আয়াত: “আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।” (সূরা আল-বাকারা ২:২৮৬)
➡️ অর্থাৎ, যেখানে সম্পূর্ণ কুরআন-অনুসারী প্রার্থী নেই, সেখানে বাস্তবসম্মত বিকল্পের মধ্যেই দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
3. “কম খারাপ” নীতির কুরআনিক ভিত্তি (أخف الضررين)
(ক) বড় ক্ষতি এড়াতে ছোট ক্ষতি গ্রহণ:
“ফিতনা (অরাজকতা/অত্যাচার) হত্যার চেয়েও ভয়াবহ।” (সূরা আল-বাকারা ২:১৯১)
➡️ যদি ভোট না দেওয়ার ফলে:
🔹অধিক জুলুম,
🔹রাষ্ট্রীয় অরাজকতা,
🔹মানুষের জীবন–সম্পদ আরও অনিরাপদ হয়
তবে কম ক্ষতিকর বিকল্প বেছে নেওয়া কুরআনিকভাবে যুক্তিসংগত।
“ফিতনা (অরাজকতা/অত্যাচার) হত্যার চেয়েও ভয়াবহ।” (সূরা আল-বাকারা ২:১৯১)
➡️ যদি ভোট না দেওয়ার ফলে:
🔹অধিক জুলুম,🔹রাষ্ট্রীয় অরাজকতা,
🔹মানুষের জীবন–সম্পদ আরও অনিরাপদ হয়
তবে কম ক্ষতিকর বিকল্প বেছে নেওয়া কুরআনিকভাবে যুক্তিসংগত।
(খ) দুই অনিষ্টের মুখোমুখি হলে—যেটি কম জুলুমপূর্ণ সেটি গ্রহণ:
“অন্যায়ের দিকে সহযোগিতা করো না।” (সূরা আল-মায়িদা ৫:২)
➡️ এখানে নীরব থাকাও কখনো কখনো অন্যায়কে শক্তিশালী করে।
তাই:
➡️ সরাসরি অন্যায় সমর্থন নয়, বরং বড় অন্যায় প্রতিরোধ।
4. “মন্দের ভালো” বা “কম খারাপ” নীতি কোরআনে আছে কি?
✔️ হ্যাঁ, নীতিগতভাবে আছে
(ক) দুই অনিষ্টের মধ্যে ছোট অনিষ্ট বেছে নেওয়া
তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলো: এতে বড় পাপ আছে এবং মানুষের জন্য কিছু উপকারও আছে; কিন্তু তাদের পাপ উপকারের চেয়ে বড়। (সূরা বাকারা ২:২১৯)
এখানে আল্লাহ তুলনামূলক মূল্যায়ন শেখাচ্ছেন—
পাপ বনাম উপকার → যেটার ক্ষতি বেশি, সেটি বর্জন।
➡️ অর্থাৎ ক্ষতির মাত্রা তুলনা করা কোরআনসম্মত।
5. কুরআনের আলোকে “কম খারাপ” প্রার্থী বাছাইয়ের মানদণ্ড:
আপনি কাকে ভোট দেবেন, সেটা নির্ধারণে নিচের কোরআনিক ফিল্টার ব্যবহার করতে পারেন:
(১) কে তুলনামূলকভাবে বেশি ন্যায়বিচার করবে?
“ন্যায়বিচার করো, তা তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী।” (সূরা আল-মায়িদা ৫:৮)
➡️ প্রশ্ন করুন:
❖ কে বিচারব্যবস্থাকে কম বিকৃত করবে?
সঠিক সাক্ষ্য ও আমানত রক্ষার জন্য কুরআনি দুআ:
রাব্বানা আতিনা মিল্লাদুনকা রাহমাতাওঁ ওয়া হাইয়্যি’ লানা মিন আমরিনা রাশাদা।
রাব্বানা লা তাজ'আলনা মা'আল ক্বাওমিজ জলিমিন।
অন্যায়ের মুখে যেন আমরা হক কথা বলতে পারি এবং সঠিক পক্ষ অবলম্বন করতে পারি, সেজন্য এই দুআগুলো পড়া জরুরি:
রাব্বানাফতাহ বাইনানা ওয়া বাইনা ক্বাওমিনা বিল হাক্কি ওয়া আন্তা খাইরুল ফাতিহিন।
সঠিক সিদ্ধান্ত ও হিকমাহ প্রাপ্তির কুরআনি দুআ:
আসা আইঁ ইয়াহদিয়ানি রাব্বি লি-আক্বরাবা মিন হাজা রাশাদা।
রাব্বি বিমা আন’আমতা ‘আলাইয়্যা ফালান আকুনা জোয়হিরান লিল মুজরিমিন।
শহর-দেশের নিরাপত্তার জন্য প্রধান দুআ:
رَبِّ اجْعَلْ هَٰذَا بَلَدًا آمِنًا وَارْزُقْ أَهْلَهُ مِنَ الثَّمَرَاتِ
শহরকে শান্তিময় করার দুআ:
رَبِّ اجْعَلْ هَٰذَا الْبَلَدَ آمِنًا وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَن نَّعْبُدَ الْأَصْنَامَ
কোনো জনপদে বা স্থানে নিরাপদে বসবাসের দুআ:
رَّبِّ أَنزِلْنِي مُنزَلًا مُّبَارَكًا وَأَنتَ خَيْرُ الْمُنزِلِينَ
শহর বা জনপদকে ধ্বংস ও বিপর্যয় থেকে রক্ষার জন্য সাধারণ দুআ:
উচ্চারণ: আলা-ল্লাহি তাওয়াক্কালনা। রব্বানা লা- তাজ‘আলনা ফিতনাতাল্ লিল্ ক্বওমিয্ যালিমীন। ওয়া নাজ্জিনা বিরাহমাতিকা মিনাল্ ক্বওমিল্ কাফিরীন
অর্থ: আমরা আল্লাহ্র উপরই নির্ভর করলাম। হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে জালিম জনগোষ্ঠীর জন্য পরীক্ষার বস্তু বানাবেন না। আর আমাদেরকে আপনার রহমতের মাধ্যমে কাফির জনগোষ্ঠী থেকে মুক্তি দিন- আল-কুরআন: ইউনুস, আয়াত ১০:৮৫-৮৬
দেশ ও দুনিয়ার সার্বিক কল্যাণের দুআ:
এটি কুরআনের সবচেয়ে ব্যাপক দুআ। একটি দেশের শান্তি, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি—সবই এই 'কল্যাণ' বা 'হাসানাহ' শব্দের অন্তর্ভুক্ত।
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
রব্বানা- আ-তিনা- ফিদ্দুনইয়া- হাসানাতাঁও ওয়া ফিল আ-খিরতি হাসানাতাঁও ওয়াক্বিনা- ‘আযা-বান না-র।
অর্থ: “হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান করুন আর আমাদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।”
(সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২০১)
কনটেন্টের উদ্দেশ্য:
এই আর্টিকেলটির কোথাও কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে তার পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট চাওয়া হয়নি।
এটি কেবলমাত্র ঈমানি দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে, সমগ্র মানবজাতির কল্যাণে ভালো পথের দিকে আহ্বান জানাতে, ওহি-বাণীর আলোকে প্রস্তুত করা হয়েছে।
বিশেষ সতর্কতা: এই আলোচনা বিশ্বাসীদের জন্য প্রযোজ্য।
হে আমাদের রব! আমরা ভুল করলে আমাদের ক্ষমা করে দিন। (সূরা আল-বাকারা, ২:২৮৬)
