বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম!
সেবার বিনিময়ে মূল্য গ্রহণ সম্পর্কে আল-কুরআনের বার্তা কী?
জনৈক মোমেনা বোনের প্রশ্ন:
“কেবল পাত্র-পাত্রীর ঘটকালীর জন্য নয়, যেকোনো সেবামূলক কাজের বিনিময়ে মানুষের কাছ থেকে আর্থিক বা অন্য কোনো সুবিধা নেওয়া কি ইসলামে বৈধ?”
উত্তর:
সংক্ষেপে বললে, হ্যাঁ—বৈধ ও সৎ উপায়ে প্রদান করা সেবার বিনিময়ে পারিশ্রমিক বা ফি নেওয়া ইসলামে মূলত বৈধ (হালাল)।
এ নীতি পাত্র-পাত্রীর পরিচয় করিয়ে দেওয়ার (ম্যারেজ মিডিয়া বা ঘটকালি) ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সততা ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে এই সেবা প্রদান করে এবং তার বিনিময়ে নির্ধারিত ফি গ্রহণ করে, তবে তা অবৈধ বলে অনুধ্যানে আসে না।
তবে এর জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে:
➥ সেবাটি অবশ্যই বৈধ (হালাল) হতে হবে। (আয়াত ৫:২, ২:১৬৮)
➥ প্রতারণা, মিথ্যা তথ্য বা তথ্য গোপন করা যাবে না। (আয়াত ৮৩:১–৩, ২:৪২)
➥ উভয় পক্ষের সম্মতি ও স্বচ্ছতা থাকতে হবে। (আয়াত ৪:২৯)
➥ মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে অন্যায় বা অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না। (আয়াত ৪:২৯, ২:১৮৮)
➥ হারাম বা অনৈতিক কোনো কাজে সহযোগিতা করা যাবে না। (আয়াত ৫:২)
কুরআনের দিকনির্দেশনা:
আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা বলেন:
“তোমরা নেকি ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো।”
-সূরা আল-মায়িদাহ, ৫:২
আরও বলেন:
“তোমরা পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করো না।”
-সূরা আন-নিসা, ৪:২৯
এই আয়াতগুলো থেকে বোঝা যায়, বৈধ সেবা প্রদান করে ন্যায্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করা অন্যায় উপার্জনের অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং ইসলামে শ্রম, দক্ষতা ও সময়ের যথাযথ মূল্য দেওয়ার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
উপসংহার:
ইসলামে সেবার বিনিময়ে ফি নেওয়া নিজেই হারাম নয়। বরং সেবাটি যদি বৈধ, সৎ, স্বচ্ছ এবং ন্যায়সংগত হয়, তাহলে তার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা অবৈধ বলে অনুধাবনে আসে না।
