আল কুরআন মাজীদ কেবল একটি নির্দেশিকা বা আইনের কিতাব নয়, বরং এটি মুমিনের হৃদয়ের প্রশান্তি ও আনন্দের এক অবিরাম উৎস। এই কিতাব লাভ করা এবং এর সান্নিধ্য পাওয়া যে কোনো পার্থিব অর্জনের চেয়ে বড় পাওয়া। আল্লাহ রব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে এই আনন্দকে ‘ফারায’ (Joy/Rejoicing) হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং এই আনন্দ কাদের লাভ হয়, সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন।
১. ঐশী অনুগ্রহ ও রহমতে আনন্দিত হওয়ার নির্দেশ:
আল্লাহ সু.তা. আল কুরআন মাজীদে মুমিনদের আনন্দিত হওয়ার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন-
বলুন! আল্লাহর অনুগ্রহে (ফাদ্বলিল্লাহ) এবং তাঁর রহমতে; সুতরাং এ নিয়েই যেন তারা আনন্দিত হয় (ফাল-ইয়াফরাহূ)। এটি তারা যা সঞ্চয় করে তার চেয়ে অনেক উত্তম। (১০:৫৮)
এখানে ‘ফাদ্বল’ বা অনুগ্রহ এবং ‘রহমত’ বলতে আল কুরআনকেই নির্দেশ করা হয়েছে। আল কুরআনের শব্দবিন্যাস বা ‘নজম’ লক্ষ্য করলে দেখা যায়, আল্লাহ এখানে ‘ফারায’ বা আনন্দ প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন এমন একটি বিষয়ের ওপর যা অবিনশ্বর। এর ‘ইমপ্লাইড এভিডেন্স’ বা অন্তর্নিহিত ইঙ্গিত হলো—পার্থিব সম্পদ (যা মানুষ সঞ্চয় করে) ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আল কুরআনের শিক্ষা ও সান্নিধ্য চিরস্থায়ী। তাই প্রকৃত আনন্দ কেবল সেই জিনিসের ওপর হওয়া উচিত যা মানুষকে রবের সাথে সংযুক্ত করে।
২. আনন্দিত হওয়ার সৌভাগ্য যাদের হয়:
আল কুরআন অনুযায়ী, এই কিতাবের অবতরণ ও প্রসারে সবাই আনন্দিত হয় না; কেবল তারাই হয় যারা এর মূল্য অনুধাবন করতে পারে। সূরা আর-রা’দ-এ আল্লাহ রব্বুল আলামিন তাদের পরিচয় দিয়েছেন এভাবে-
“যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি, তারা আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা নিয়ে আনন্দিত হয় (ইয়াফরাহূনা)।” (১৩:৩৬)
এখানে ‘আল্লাযীনা আতাইনাহুমুল কিতাব’ বা যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে—তারা হলো সেই সত্যসন্ধানী দল যারা আসমানী বার্তার গুরুত্ব বোঝে। তাদের আনন্দিত হওয়ার কারণ হলো—তারা এই কিতাবের মধ্যে সত্যের প্রতিফলন দেখতে পায়। এই ‘অনুধাবন’ ভিত্তিক বিশ্লেষণ থেকে বোঝা যায় যে, কিতাব নিয়ে আনন্দিত হওয়া হলো এক প্রকার আধ্যাত্মিক স্বীকৃতি। এটি প্রমাণ করে যে, তাদের অন্তরের সাথে আল্লাহর বাণীর একটি ‘লিঙ্ক’ বা সংযোগ স্থাপিত হয়েছে।
৩. ঈমান বৃদ্ধি ও সুসংবাদের হিল্লোল (ইস্তিবশার):
যখনই আল কুরআনের কোনো নতুন আয়াত বা সূরা অবতীর্ণ হয়, তখন মুমিনদের হৃদয়ে এক বিশেষ অবস্থার সৃষ্টি হয়। সূরা আত-তাওবায় এর একটি নিখুঁত চিত্র অঙ্কিত হয়েছে—
“যখনই কোনো সূরা অবতীর্ণ হয়, তখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে— এটি তোমাদের কার ঈমান বৃদ্ধি করল? সুতরাং যারা ঈমান এনেছে, এটি তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে এবং তারা আনন্দিত হয় (ইয়াস্তাবশিরূন)।” (৯:১২৪)
এখানে ‘ইয়াস্তাবশিরূন’ শব্দটি অত্যন্ত গভীর। এটি ‘বশর’ বা চামড়া/ত্বক থেকে এসেছে। এর অর্থ হলো এমন আনন্দ যা মানুষের চেহারায় ফুটে ওঠে এবং তাকে উদ্দীপ্ত করে। এই আনন্দ কেবল মানসিক নয়, বরং এটি একটি ‘মেটাফিজিক্যাল’ বা আধ্যাত্মিক প্রতিক্রিয়া যা মানুষের ঈমানী শক্তিকে সুসংহত করে।
৪. বিপরীতমুখী চিত্র: অন্তরের ব্যাধি ও বিমুখতা:
আল কুরআন মাজীদে মুমিনদের এই আনন্দের বিপরীতে একদল মানুষের কথা বলা হয়েছে, যাদের কাছে কুরআনের বাণী কোনো আনন্দ আনে না, বরং কষ্ট বা বিরক্তির কারণ হয়। আল্লাহ বলেন—
পক্ষান্তরে যাদের অন্তরে ব্যাধি (মারাদ্ব) রয়েছে, এটি তাদের অপবিত্রতার সাথে আরও অপবিত্রতা বৃদ্ধি করে এবং তাদের মৃত্যু ঘটে কাফের অবস্থায়। (৯:১২৫)
এই কন্ট্রাস্টিং আয়াত বা বিপরীতমুখী চিত্রের মাধ্যমে আল্লাহ সু.তা. বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, আল কুরআন নিয়ে আনন্দিত হওয়া হলো অন্তরের সুস্থতার লক্ষণ। যার অন্তরে কুফর বা নিফাক (ব্যাধি) আছে, সে এই আলোর স্পর্শে আরও বিচলিত হয়ে পড়ে। এটি আধ্যাত্মিক সামঞ্জস্যতার এক অনন্য উদাহরণ—একই বৃষ্টি যেমন উর্বর জমিতে ফুল ফোটায়, তেমনি লোনা জমিতে কেবল আগাছাই জন্মায়।
৫. আনন্দিত হওয়ার কারণ: এটি আরোগ্য ও হেদায়েত:
মুমিনরা কেন আল কুরআন নিয়ে আনন্দিত হবে, তার কারণও আল্লাহ রব্বুল আলামিন সূরা ইউনুসে ব্যাখ্যা করেছেন—
“হে মানুষ! তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে এসেছে নসিহত এবং অন্তরের ব্যাধির আরোগ্য (শিফাউন লিমা ফিস সুদূর), আর মুমিনদের জন্য হেদায়েত ও রহমত।” (১০:৫৭)
একজন অসুস্থ ব্যক্তি যেমন সুস্থতার সংবাদে আনন্দিত হয়, একজন পথহারা ব্যক্তি যেমন পথের দিশা পেয়ে আনন্দিত হয়—মুমিনের আনন্দ ঠিক তেমনই। যেহেতু আল কুরআন মানুষের অন্তরের জটিলতা দূর করে এবং স্রষ্টার নৈকট্য নিশ্চিত করে, তাই এর প্রতিটি শব্দই মুমিনের জন্য পরম উৎসবের বার্তা।
অনুধ্যান:
জাগতিক সম্পদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ সম্পদ আল কুরআনের আলোকে এটি স্পষ্ট যে, আল কুরআন নিয়ে আনন্দিত হওয়া (ফারায) কেবল আবেগ নয়,বরং এটি একটি ঈমানী দায়িত্ব। যারা দুনিয়াবী ধন-সম্পদ, ক্ষমতা বা বিলাসিতা নিয়ে মগ্ন, তাদের আনন্দ ক্ষণস্থায়ী এবং অসার। কিন্তু যারা আল কুরআনকে নিজেদের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ হিসেবে গ্রহণ করেছে, তাদের আনন্দ চিরস্থায়ী এবং আধ্যাত্মিকভাবে গভীর। আল্লাহ রব্বুল আলামিন এই আনন্দকেই মানুষের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার হিসেবে ঘোষণা করেছেন (১০:৫৮)।
আলোর বিপরীতে অন্ধকার: আল কুরআন কাদের কাছে নিরানন্দ ও বিরক্তির কারণ?
আল কুরআন মাজীদ যেমন মুমিনদের জন্য আনন্দ ও প্রশান্তির ঝরনাধারা, তেমনি একদল মানুষের জন্য এটি চরম বিরক্তি, নিরানন্দ এবং অস্থিরতার কারণ। এই বৈপরীত্য কেন? আল কুরআন কি কেবল একদলকে পথ দেখায় আর অন্যদলকে পথভ্রষ্ট করে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের আল কুরআনের সেই শব্দবিন্যাস ও গভীরতর কাঠামোর দিকে তাকাতে হবে, যেখানে ‘হেদায়েত’ ও ‘বিমুখতা’-র এক মনস্তাত্ত্বিক ও আধ্যাত্মিক বিশ্লেষণ দেওয়া হয়েছে।
১. অন্তরের ব্যাধি ও অপবিত্রতার বৃদ্ধি (রিজস):
যাদের অন্তরে অহংকার বা কপটতার ব্যাধি রয়েছে, আল কুরআনের বাণী তাদের কাছে কোনো সুসংবাদ হয়ে আসে না। সূরা আত-তাওবায় এই সত্যটি অত্যন্ত কঠোরভাবে বর্ণিত হয়েছে:
“পক্ষান্তরে যাদের অন্তরে ব্যাধি (মারাদ্ব) রয়েছে, এটি (আল কুরআনের সূরা) তাদের অপবিত্রতার (রিজস) সাথে আরও অপবিত্রতা বৃদ্ধি করে এবং তাদের মৃত্যু ঘটে কাফের অবস্থায়।” (৯:১২৫)
এখানে ‘রিজস’ (رِجْس) শব্দটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি কেবল বাহ্যিক ময়লা নয়, বরং একটি আধ্যাত্মিক পচন। আল কুরআনের পবিত্র বাণী যখন এই অসুস্থ অন্তরে প্রবেশ করতে চায়, তখন সেই অন্তরের ব্যাধি আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এটি একটি ‘মেটাফিজিক্যাল’ সামঞ্জস্য—পবিত্র জিনিসের স্পর্শে অপবিত্রতা আরও বেশি ছটফট করতে থাকে। ফলে তারা আল কুরআন নিয়ে আনন্দিত হওয়ার বদলে নিরানন্দ ও বিমর্ষ হয়ে পড়ে।
২. জালেমদের জন্য কেবল ক্ষতি ও লোকসান (খাসার):
আল কুরআন নিজেকে ‘শিফা’ বা আরোগ্য হিসেবে দাবি করলেও, এটি সবার জন্য আরোগ্য নয়। আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন:
“আমি অবতীর্ণ করি আল কুরআন, যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত; কিন্তু তা জালেমদের জন্য কেবল ক্ষতিই (খাসারা) বৃদ্ধি করে।” (১৭:৮২)
এখানে ‘শিফা’ (আরোগ্য) এবং ‘খাসারা’ (ক্ষতি/লোকসান)-এর মধ্যে একটি চমৎকার বিপরীতমুখী চিত্র (Contrast) দেওয়া হয়েছে। আল কুরআনের বিধান যখন একজন জালেমের (সীমালঙ্ঘনকারী) সামনে আসে, তখন সে তার অন্যায় সুবিধাগুলো হারানোর ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ফলে এই ঐশী বাণী তার কাছে আনন্দের পরিবর্তে এক ভারী বোঝা ও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
৩. সত্যের প্রতি চরম বিমুখতা (নুফূর):
একদল মানুষ যখন সত্যের মুখোমুখি হয়, তখন তারা তা নিয়ে চিন্তা করার পরিবর্তে আরও দূরে সরে যায়। আল কুরআন বলছে:
“আমি এই কুরআনে বিভিন্নভাবে (সত্য) বর্ণনা করেছি যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে, কিন্তু এটি কেবল তাদের বিমুখতাকেই (নুফূর) বৃদ্ধি করে।” (১৭:৪১)
এই ‘নুফূর’ (نُفُور) শব্দটি এমন এক পলায়নপর প্রবৃত্তিকে বোঝায়, যা মানুষ কোনো ভয়ংকর বা অপ্রীতিকর বস্তু দেখলে করে থাকে। সত্যের আলো তাদের মিথ্যার আবরণে আঘাত করে বলেই তারা নিরানন্দ অনুভব করে এবং পলায়ন করতে চায়।
৪. কর্ণে বধিরতা ও অন্তরে পর্দা (আকিন্নাহ ও ওয়াক্বরা):
যারা অহংকারের কারণে সত্য শুনতে চায় না, আল্লাহ সু.তা. তাদের আধ্যাত্মিক ইন্দ্রিয়গুলোর ওপর এক ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে দেন। ফলে কুরআনের বাণী তাদের কানে এক অসহ্য শব্দ হিসেবে ধরা দেয়।
“যখন আপনি আল কুরআন পাঠ করেন, তখন আপনার ও যারা পরকালে বিশ্বাস করে না তাদের মধ্যে আমি এক প্রচ্ছন্ন পর্দা (হিজাবাম মাসতূরা) টেনে দেই। এবং আমি তাদের অন্তরের ওপর আবরণ (আকিন্নাহ) দিয়েছি যাতে তারা তা বুঝতে না পারে এবং তাদের কানে দিয়েছি বধিরতা (ওয়াক্বরা)।” (১৭:৪৫-৪৬)
এখানে ‘হিজাব’ বা পর্দার বিষয়টি কোনো স্থূল বাধা নয়, বরং এটি একটি আধ্যাত্মিক বিচ্ছিন্নতা। যারা নিজেদের স্রষ্টা থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিয়েছে, আল কুরআনের প্রতিটি আয়াত তাদের কাছে এক একটি রহস্যময় ও বিরক্তিকর ধাঁধা মনে হয়। যখন কুরআনে এক আল্লাহর নাম নেওয়া হয়, তখন তাদের বিমুখতা আরও বেড়ে যায় (১৭:৪৬)।
৫. অহংকারের আড়ালে অন্ধত্ব (ইস্তাকবারা):
দাম্ভিকতা মানুষকে সত্যের সৌন্দর্য দেখা থেকে বঞ্চিত করে। আল কুরআন মাজীদে এমন চরিত্রের বর্ণনা দিয়ে বলা হয়েছে:
“যখন তার কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন সে অহংকারের সাথে মুখ ফিরিয়ে নেয়, যেন সে তা শুনতেই পায়নি; যেন তার দুই কানে বধিরতা রয়েছে।” (৩১:৭)
এই ‘ইস্তাকবারা’ (অহংকার) হলো সেই দেয়াল যা ঐশী আনন্দের প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেয়। তারা কুরআনকে কেবল ‘আসাতিরুল আওয়ালীন’ বা প্রাচীনদের উপকথা (৬৮:১৫) বলে উড়িয়ে দিতে চায় যাতে তাদের বিবেক দংশিত না হয়।
উপসংহার: আয়নার মতো এক কিতাব সারসংগতভাবে বলা যায়, আল কুরআন মাজীদ মূলত একটি আয়নার মতো। যার অন্তর স্বচ্ছ, সে তাতে পরম সত্যের সৌন্দর্য দেখে আনন্দিত হয়। কিন্তু যার অন্তরে ব্যাধি, কুফর ও অহংকারের ধুলো জমে আছে, সে আল কুরআনের পাতায় পাতায় নিজের কদর্যতা দেখে আতঙ্কিত ও নিরানন্দ বোধ করে। এই কিতাব নিজেই একটি কষ্টিপাথর (ফুরকান), যা মানুষকে দুই ভাগে ভাগ করে দেয়—একদল যারা এর আলোতে নেচে ওঠে, আর অন্যদল যারা এই আলো থেকে বাঁচার জন্য অন্ধকারের গুহায় আশ্রয় খোঁজে।
প্রাসঙ্গিক কুরআনি দুআ-তাসবিহ:
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنزَلَ عَلَىٰ عَبْدِهِ الْكِتَابَ وَلَمْ يَجْعَل لَّهُ عِوَجًا
উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লা হিল্লাযী আনযালা ‘আলা ‘আবদিহিল কিতাবা অলাম ইয়াজ‘আল লাহূ ‘ইওয়াজা।
অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি। (১৮:১)
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً ۚ إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ
উচ্চারণ: রব্বানা লা তুযিগ ক্বুলুবানা বা’দা ইয হাদাইতানা অয়াহাব লানা মিল্লাদুনকা রহমাহ; ইন্নাকা আনতাল অয়াহহাব।
অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদের পথপ্রদর্শনের পর আমাদের হৃদয়গুলোকে সত্যলঙ্ঘনকারী করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের করুণা দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি পরম দাতা। (৩:৮)
سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ
উচ্চারণ: সুবহা-না রব্বিকা রব্বিল ‘ইযযাতি ‘আম্মা- ইয়াসিফূন। অর্থ: আপনার রব, যিনি সকল সম্মানের অধিকারী, তিনি তারা যা আরোপ করে তা থেকে পবিত্র। (৩৭:১৮০)
উচ্চারণ: রব্বানা-তাক্বাব্বাল্ মিন্না; ইন্নাকা আনতাস্ সামী‘উল্ ‘আলীম্ অতুব্ ‘আলাইনা-ইন্নাকা আন্তাত্ তাওয়্যা-বুর রাহীম্।
অর্থ: হে আমাদের রব! আপনি আমাদের পক্ষ থেকে ক্ববূল করুন। নিশ্চয়ই আপনি, আপনিই সর্বস্পন্দনগ্রাহী, বিস্তৃত জ্ঞানসম্পন্ন। এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি, আপনিইতো ক্ষমাশীল, দয়ালু। (আল কুরআন ২:১২৭, ২:১২৮)
سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ وَسَلَامٌ عَلَىالْمُرْسَلِينَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
উচ্চারণ: সুবহা-না রব্বিকা রব্বিল ‘ইযযাতি ‘আম্মা- ইয়াসিফূন। অসালা-মুন ‘আলাল মুরসালীন। অলহামদু লিল্লা-হি রব্বিল ‘আ-লামীন!
অর্থ: আপনার রব, যিনি সকল সম্মানের অধিকারী, তিনি তারা যা আরোপ করে তা থেকে পবিত্র। এবং রাসুলগণের প্রতি শান্তি (সালাম)। আর সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। (আয়াত ৩৭:১৮০-১৮২)