আল কোরআনের আলোকে মসজিদ স্থাপন ও গ্রহণের শর্তাবলী:
মসজিদে শুধুমাত্র আল্লাহর কিতাবের (আল কুরআনিল হাকীম) আয়াতসমূহ পঠন-পাঠন ও অনুশীলন:
দুআ ভিডিও (২:১২৬-১২৯) নিচের দিকে দ্র:
মসজিদের উদ্দেশ্য ও ভিত্তি: তাকওয়া এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি:
ক্ষতিকারক মসজিদ (মসজিদে দিরার) এবং তাকওয়ার ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত মসজিদ:
আর যারা মসজিদকে গ্রহণ করেছে, ক্ষতির উদ্দেশে ও কুফরের উদ্দেশে এবং মুমিনদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশে এবং তার জন্য ঘাঁটি হিসাবে, যে আল্লাহর ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে যুদ্ধ করেছে। আর অবশ্যই তারা শপথ করবে, আমরা কল্যাণ ছাড়া চাই না। আর আল্লাহ সাক্ষ্য দেন, নিশ্চয় তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী- তাকওয়ার ভিত্তির তুলনা বনাম পতনোম্মুখ খাদের কিনারার তুলনা:
তার ঘরের ভিত্তি স্থাপন করেছে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকওয়ার এবং সন্তুষ্টির ওপর - তাহলে কি সে উত্তম, নাকি যে তার ঘরের ভিত্তি স্থাপন করেছে পতনোম্মুখ খাদের কিনারার ওপর, এরপর তা তাকে নিয়ে ভেঙ্গে পড়েছে জাহান্নামের আগুনের মধ্যে সে? আর আল্লাহ জালিম জনগোষ্ঠীকে হিদায়েত করেন না। (সূরা আত-তাওবা ৯:১০৯)মুত্তাকী ছাড়া অন্য কেউ মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক হতে পারে না:
আল্লাহর মসজিদ পরিচালনাকারীদের গুণাবলী: বিশ্বাস ও যোগ্যতা: অর্থাৎ রক্ষণাবেক্ষণকারী/ কমিটির সদস্য, নির্মাণকারী, পরিচালক/ সভাপতি/মোতাওয়াল্লী/ খাদেম/ইমাম ইত্যাদি (যে নামেই হোক না কেন):
📖 সূরা আত-তাওবা ৯:১৮
◆ প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর মসজিদসমূহ তারাই রক্ষণাবেক্ষণ করবে, যারা আল্লাহর ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান আনে এবং সলাত প্রতিষ্ঠা করে ও যাকাত আদায় করে আর আল্লাহকে ছাড়া ভয় করে না। ফলে আশা করা যায় যে ওরাই, তারা হবে হিদায়েতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত-৯:১৮ (2:126)৪. পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা:
একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কাউকে ডাকা যাবে না -নাযিলকৃত অহীর বাইরে কোনো কিছুই যুক্ত করে ইবাদত করা যাবে না:
খুৎবা বা বক্তব্য: মসজিদে শুধুমাত্র আল্লাহর কিতাবের খুৎবা (আল কুরআনিল হাকীম) -আয়াতসমূহ পঠন-পাঠন ও অনুশীলন করতে হবে (অন্য কোন কিতাবের অনুসরন-অনুশীলন নয়):
আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসূল প্রেরণ ও তাঁর ডিউটি:
মসজিদে শুধুমাত্র আল্লাহর কিতাব (আল কুরআনিল হাকীম) কেন্দ্রিকতার সমর্থন:
এই দুটি আয়াতের সম্মিলিত বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট: মসজিদ বা সিজদাস্থান হলো আল্লাহর কিতাব কেন্দ্রিক একটি পবিত্র স্থান, যেখানে আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হবে, কিতাব ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেওয়া হবে এবং এর মাধ্যমে আত্মিক পরিশুদ্ধি অর্জন করা হবে। রাসূল (সাঃ)-এর যে দায়িত্ব আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন, তার প্রতিফলন মসজিদের সকল কার্যক্রমে থাকা উচিত। আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহ ব্যতিরেকে অন্য কোনো মতাদর্শ, দলগত এজেন্ডা বা পার্থিব বিষয়কে মসজিদে যুক্ত করা হলে তা এর পবিত্রতা, উদ্দেশ্য এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের পরিপন্থী হবে। তাই, মসজিদে ইবাদত, জ্ঞানচর্চা ও আত্মিক পরিশুদ্ধি - এই সবই হতে হবে আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের প্রজ্ঞাকে (নাযিলকৃত প্রজ্ঞা-৪:১১৩, ১০:১, ৩১:২, ৫:১১০) কেন্দ্র করে।
৫. আল্লাহর নাম উচ্চকিত করার জন্য:
🕌 মুশরিকদের মসজিদ পরিচালনা ও সম্পৃক্ততা — কোরআনের নির্দেশনায়: (মুশরিক মানে কী?)👇
মুশরিক বলা হয় সেই ব্যক্তিকে, যে আল্লাহ ও আল্লাহর বিধানের (আল-কুরআন) পাশাপাশি অন্য কোনো বিধান, অনাযিলকৃত বহু কিতাব, মতামত এর সংগে যুক্ত করে অনুশীলন করে। অর্থাৎ আল্লাহর একত্বে বিশ্বাসের সঙ্গে অন্য কোনো উপাস্য, রীতি বা নিয়ম মিশিয়ে দিলে তা শিরক হিসেবে গণ্য হয়।
📖 আল্লাহর স্পষ্ট ঘোষণা:
👉 ওহে যারা ঈমান এনেছ! মূলত মুশরিকরা অপবিত্র। এরপর তাদের এই বছরের পরে তারা যেন মসজিদুল হারামের কাছে না আসে। আর যদি তোমরা দারিদ্রের ভয় করো, তবে শীঘ্রই আল্লাহ তাঁর বিশেষ অনুগ্রহ দিয়ে তোমাদেরকে অভাবমুক্ত করবেন তবে যদি তিনি চান। নিশ্চয় আল্লাহ বিস্তৃত জ্ঞানসম্পন্ন, প্রজ্ঞাময়। (সূরা আত-তাওবা, আয়াত ২৮)
🕋 মুশরিকদের মসজিদ পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে নিষেধ:
মুশরিকদের জন্য এটা শোভন নয় যে, তারা নিজেদের ব্যাপারে কুফরের সাক্ষ্যদানকারী অবস্থায় আল্লাহর মসজিদসমূহ রক্ষণাবেক্ষণ করবে। তাদের কর্মসমূহ নিশ্চয়ই ব্যর্থ হয়েছে, আর আগুনেই তারা স্থায়ী হবে। (সূরা আত-তাওবা, আয়াত ১৭)
🔹 এখানে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন—
যারা কুফর ও শিরকে লিপ্ত, তাদের পক্ষে আল্লাহর মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ, খাদিম বা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করা বৈধ নয়।
🔹 কারণ, মসজিদ কেবল আল্লাহর একত্বে বিশ্বাসী ও ঈমানদারদের জন্য পবিত্র কেন্দ্র।
🔹 এখানে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন—
যারা কুফর ও শিরকে লিপ্ত, তাদের পক্ষে আল্লাহর মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ, খাদিম বা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করা বৈধ নয়।
🔹 কারণ, মসজিদ কেবল আল্লাহর একত্বে বিশ্বাসী ও ঈমানদারদের জন্য পবিত্র কেন্দ্র।
মুনাফেক ও দল-উপদল দ্বারা নির্মিত মসজিদের পরিণতি: অন্তরের সন্দেহ ও বিচ্ছিন্নতা
১. মুনাফেকদের নির্মিত মসজিদের পরিণতি:
২. দল-উপদল দ্বারা নির্মিত মসজিদের পরিণতি:
সূরা আত-তাওবার ১১০ নং আয়াতটি একটি গভীর বার্তা দেয়: একটি উপাসনালয়ের বাহ্যিক কাঠামো যত সুন্দরই হোক না কেন, এর ভেতরের উদ্দেশ্য যদি অসৎ, মুনাফেকি পূর্ণ অথবা বিভেদ সৃষ্টিকারী হয়, তবে তা কেবল দুনিয়াতেই সংশ্লিষ্টদের অন্তরে সন্দেহ ও অস্থিরতা তৈরি করে না, বরং আখেরাতেও তাদের জন্য ধ্বংস ডেকে আনে। আল্লাহ কেবল এমন কাজই কবুল করেন যা ইখলাস, তাকওয়া এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও কল্যাণের উদ্দেশ্যে করা হয়।
যেখানে
বসাও বারন: অনর্থক বিষয় থেকে বিমুখ বা মিথ্যা আলোচনা
বর্জন করার উপর জোর:
🔹আর মানুষের মধ্য থেকে কোনো জ্ঞান ছাড়াই, আল্লাহর পথ হতে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে যে লাহওয়াল হাদিসের লেনদেন করে এবং সে সেটা ঠাট্টা হিসাবে গ্রহণ করে, ওরাই, যাদের জন্য রয়েছে অপমানজনক শাস্তি-সূরা লুকমান ৩১:৬
🔹আর যখন তুমি তাদের দেখবে, যারা আমাদের আয়াতসমূহের ব্যাপারে সমালোচনা করে, তখন তুমি তাদের থেকে এড়িয়ে চলো, যতক্ষণ না তারা সেটা ছেড়ে অন্য আলোচনায় লিপ্ত হয়। আর যদি শয়তান তোমাকে ভুলিয়ে দেয় তাহলে তুমি স্মরণ হওয়ার পরে জালিম জনগোষ্ঠীর সাথে বসবে না-আন'আম, আয়াত ৬৮
🔹আর অবশ্যই তিনি তোমাদের ওপর কিতাবের মধ্যে নাযিল করেছেন যে, যখন তোমরা আল্লাহর আয়াতসমূহের ব্যাপারে শুনতে পাবে, সেগুলো অস্বীকার করা হচ্ছে এবং সেগুলো নিয়ে বিদ্রুপ করা হচ্ছে, তখন তোমরা তাদের সাথে বসবে না, যতক্ষণ না, তারা সেটা বাদ দিয়ে কোনো আলোচনার মধ্যে লিপ্ত হয়। নিশ্চয় তোমরা তাহলে তাদের মতোই। নিশ্চয় আল্লাহ মুনাফিকদের ও কাফিরদের একত্রে জাহান্নামে একত্রকারী-আন-নিসা 4:140
কাবা নির্মাণের সময় যে দু'আ:
কাবা নির্মাণের সময় সালামুন আলা ইব্রাহিম এবং সালামুন আলা ইসমাইল যে দু'আ করেছিলেন, তা আল- কুরআনের সূরা বাকারার ১২৭ থেকে ১২৯ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি মূলত আল্লাহর কাছে তাদের কাজ কবুল করার এবং তাদের বংশধরদের মধ্য থেকে মুসলিম উম্মাহ ও একজন রাসূল প্রেরণের জন্য প্রার্থনা ছিল:
নিরাপত্তা ও অধিবাসীদের জন্য রিযিকের দু'আ:
আর যখন ইবরাহীম বলল-
رَبِّ اجْعَلْ هَذَا بَلَدًا آمِنًا وَارْزُقْ أَهْلَهُ مِنَ الثَّمَرَاتِ مَنْ آمَنَ مِنْهُمْ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ
রব্বিজ ‘আল্ হা-যা- বালাদান্ আ-মিনাওঁ র্অযুক্ব আহ্লাহূ মিনাছ্ ছামারা-তি মান্ আ-মানা মিন্হুম্ বিল্লা-হি অল্ইয়াওমিল্ আ-খির।
হে আমার রব! এই স্থানকে আপনি নিরাপদ/শান্তির স্থান বানান এবং এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান এনেছে তাদেরকে ফল-মূলের রিযিক দান করুন-সূরা বাকারা ২:১২৬
কাজ কবুল হওয়া ও তওবা কবুল হওয়ার দু'আ (কাবা নির্মাণের সময়):
আর যখন ইবরাহীম ও ইসমাঈল ঘরটির ভিতগুলো উঁচু করছিল-
رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا ۖ إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ وَتُبْ عَلَيْنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
রব্বানা-তাক্বাব্বাল্ মিন্না; ইন্নাকা আনতাস্ সামী‘উল্ ‘আলীম্। অতুব্ ‘আলাইনা-ইন্নাকা আন্তাত্ তাওয়্যা-র্বু রাহীম্।
হে আমাদের রব! আপনি আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি, আপনিই সর্বস্পন্দনগ্রাহী, বিস্তৃত জ্ঞানসম্পন্ন-2:127
رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِّنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ ۚ إِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
রব্বানা-অব্‘আছ্ ফীহিম রাসূলাম্ মিন্হুম্ ইয়াত্লূ ‘আলাইহিম্ আ-ইয়া-তিকা অইয়ূ‘আল্লিমুহুমুল্ কিতা-বা অল্ হিক্মাতা অইয়ুযাক্কী হিম্; ইন্নাকা আংতাল্ ‘আযীযুল্ হাকীম্-
হে আমাদের রব! আর আমাদের উভয়কে আপনার জন্য মুসলিম এবং আমাদের বংশধারা থেকে আপনার জন্য একটি মুসলিম উম্মত বানান। আর আমাদেরকে আমাদের ইবাদতের কার্যক্রম দেখিয়ে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয় আপনি, আপনিই ক্ষমাশীল, দয়ালু-2:128
رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِّنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ ۚ إِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
রব্বানা-অব্‘আছ্ ফীহিম রাসূলাম্ মিন্হুম্ ইয়াত্লূ ‘আলাইহিম্ আ-ইয়া-তিকা অইয়ূ‘আল্লিমুহুমুল্ কিতা-বা অল্ হিক্মাতা অইয়ুযাক্কী হিম্; ইন্নাকা আংতাল্ ‘আযীযুল্ হাকীম্-
হে আমাদের রব! আর আপনি তাদের মাঝে তাদের মধ্য থেকে এমন একজন রসূল প্রেরণ করুন, যে তাদের কাছে আপনার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করবে এবং তাদেরকে কিতাব ও প্রজ্ঞা শেখাবে আর তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবে। নিশ্চয় আপনি, আপনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়-2:129
মসজিদে দিরার (ক্ষতিকারক মসজিদ) VS তাকওয়ার ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত মসজিদ:
|
মসজিদে দিরার (ক্ষতিকারক মসজিদ) |
তাকওয়ার ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত মসজিদ |
|
🔹আর যারা মসজিদকে গ্রহণ করেছে, ক্ষতির উদ্দেশে ও কুফরের উদ্দেশে এবং মুমিনদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশে এবং তার জন্য ঘাঁটি হিসাবে, যে আল্লাহর ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে যুদ্ধ করেছে। আর অবশ্যই তারা শপথ করবে, আমরা কল্যাণ ছাড়া চাই না। আর আল্লাহ সাক্ষ্য দেন, নিশ্চয় তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী- তুমি সেখানে কখনও দাঁড়াবে না। -আয়াত ৯:১০৭ ও ৯:১০৮ (৯:১০৮ আয়াতের প্রথম অংশ) |
🔹অবশ্যই এমন মসজিদ যার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে তাকওয়ার ওপর, প্রথম দিন থেকেই, সেটা অধিক যোগ্য যে, তুমি সেখানে দাঁড়াবে। সেখানে রয়েছে এমন লোকজন, যারা উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করতে ভালবাসে। আর আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে ভালবাসেন-সূরা আত-তাওবা ৯:১০৭-১০৮ |
|
🔹যে তার ঘরের ভিত্তি স্থাপন করেছে পতনোম্মুখ খাদের কিনারার ওপর, এরপর তা তাকে নিয়ে ভেঙ্গে পড়েছে জাহান্নামের আগুনের মধ্যে সে? আর আল্লাহ জালিম জনগোষ্ঠীকে হিদায়েত করেন না। (সূরা আত-তাওবা ৯:১০৯) |
🔹তার ঘরের ভিত্তি স্থাপন করেছে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকওয়ার এবং সন্তুষ্টির ওপর - তাহলে কি সে উত্তম, নাকি যে তার ঘরের ভিত্তি স্থাপন করেছে পতনোম্মুখ খাদের কিনারার ওপর, এরপর তা তাকে নিয়ে ভেঙ্গে পড়েছে জাহান্নামের আগুনের মধ্যে সে? আর আল্লাহ জালিম জনগোষ্ঠীকে হিদায়েত করেন না। (সূরা আত-তাওবা ৯:১০৯) |
|
🔹তাদের ঘর যা তারা বানিয়েছে, তাদের অন্তরগুলো ছিন্নবিচ্ছিন্ন হওয়া ছাড়া তা তাদের অন্তরের মধ্যে সর্বদা সন্দেহ হয়ে থাকবে। আর আল্লাহ বিস্তৃত জ্ঞানসম্পন্ন, প্রজ্ঞাময়। (9:110) |
🔹মুত্তাকী ছাড়া অন্য কেউ মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক হতে পারে না: আর তাদের কী হয়েছে যে, আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দিবেন না? অথচ তারা মসজিদুল হারামের ক্ষেত্রে বাধা দেয় আর তারা সেটার তত্ত্বাবধায়ক হতে পারে না। মুত্তাকীরা ছাড়া সেটার তত্ত্বাবধায়ক নাই। কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না। (সূরা আল-আনফাল ৮:৩৪) 🔗 [মুত্তাকীর বৈশিষ্ট্য: 2:177,
50–31+32+33, 3–15+16+17, 3–133-135, 2–3+4+5] |
|
🔹মুশরিকদের মসজিদ পরিচালনা ও সম্পৃক্ততা — কোরআনের নির্দেশনায়: মুশরিক মানে কী? 👇 [মুশরিক বলা হয় সেই ব্যক্তিকে, যে আল্লাহ ও আল্লাহর বিধানের (আল-কুরআন) পাশাপাশি অন্য কোনো বিধান, অনাযিলকৃত বহু কিতাব, মতামত এর সংগে যুক্ত করে অনুশীলন করে। অর্থাৎ আল্লাহর একত্বে বিশ্বাসের সঙ্গে অন্য কোনো উপাস্য, রীতি বা নিয়ম মিশিয়ে দিলে তা শিরক হিসেবে গণ্য হয়] |
🔹আল্লাহর মসজিদ পরিচালনাকারীদের গুণাবলী: বিশ্বাস ও যোগ্যতা: অর্থাৎ রক্ষণাবেক্ষণকারী/ কমিটির সদস্য, নির্মাণকারী, পরিচালক/ সভাপতি/মোতাওয়াল্লী/ খাদেম/ইমাম ইত্যাদি (যে নামেই হোক না কেন): § যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, § সালাত কায়েম করে § পরিশুদ্ধ করে § আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করে না। আশা করা যায়, তারাই হবে হেদায়েতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত। 📖 সূরা আত-তাওবা ৯:১৮ (2:126) |
|
👉 ওহে যারা ঈমান এনেছ! মূলত মুশরিকরা অপবিত্র-9:28, আয়াত ৯:১৭ |
🔹মসজিদকে শারীরিক ও আধ্যাত্মিক উভয় দিক থেকে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে- (২:১২৫) |
|
|
🔹একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কাউকে ডাকা যাবে না -নাযিলকৃত অহীর বাইরে কোনো কিছুই যুক্ত করে ইবাদত করা যাবে না: ১৮:১১০, ৭২:১৮, 72:20, ৬:১১৪ |
|
|
🔹খুৎবা বা বক্তব্য: মসজিদে শুধুমাত্র আল্লাহর কিতাবের খুৎবা (আল কুরআনিল হাকীম) -আয়াতসমূহ পঠন-পাঠন ও অনুশীলন করতে হবে (অন্য কোন কিতাবের অনুসরন-অনুশীলন নয়):2:129, 62:3-4,
29:45, 35:29 |
|
|
🔹আল্লাহর নাম উচ্চকিত করার জন্য: ২৪:৩৬ |
|
|
🔹 যেখানে বসাও বারন: অনর্থক বিষয় থেকে বিমুখ বা মিথ্যা আলোচনা বর্জন করার উপর জোর: আয়াত: 31:6, 6:68,
4:140 |



