রাগ, ক্ষোভ সৃষ্টি এবং মানুষের মধ্যে বিরোধ বা ফাটল ধরানো ইবলিস বা শয়তানের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।
আল-কুরআনের মতে- রাগ, ক্ষোভ এবং মানুষের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টির পেছনে অবশ্যই অদৃশ্য শক্তির হাত রয়েছে। এই অদৃশ্য শক্তি হলো শয়তান (ইবলিস ও তার অনুসারী জ্বিন শয়তান) এবং মানুষের নিজের নফস (কুপ্রবৃত্তি)।
কুরআন মাজিদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, মানুষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করা এবং রাগ বা ক্ষোভ উস্কে দেওয়ার পেছনে মূল অদৃশ্য কারিগর হলো ইবলিস বা শয়তান।
দুআ-ভিডিও নিচের দিকে
১. রাগ, ক্ষোভ ও বিরোধ সৃষ্টিতে অদৃশ্য শক্তি (শয়তান)-কিভাবে সে ভুমিকা রাখে?
2. শয়তানের প্ররোচনা বা কুমন্ত্রণা থেকে রাগ আসে:
রাগ বা হঠাৎ করে মেজাজ হারিয়ে ফেলা শয়তানের একটি কুমন্ত্রণা। যখনই কারও মনে রাগ বা ক্ষোভের উদ্রেক হয়, কুরআনে তখন আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে বলা হয়েছে।
“আর যদি শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো প্ররোচনা (নাজগা-উস্কানি) তোমাকে প্রলুব্ধ করে, তবে আল্লাহর আশ্রয় চাও। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।” (আয়াত: 41:৩৬ এবং 7:২০০)
অনুধাবন: রাগ বা উত্তেজনা শয়তানের পক্ষ থেকে আসা একটি ‘খোঁচা’। এটি মানুষকে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য করে দেয়।
◆ শয়তান ওয়াসওয়াসা (কুমন্ত্রণা ) দেয়:
আয়াত: ৫০:১৬, ৭:২০, ২০:১২০, ১১৪:৪
ক. কথার মারপ্যাঁচে বিরোধ সৃষ্টি করা (উস্কানি- নাজগা) -কথাবার্তার মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টি করা:
খ. শয়তান মানুষের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ জাগিয়ে তোলা:
ক্রোধ ও হত্যার পেছনে শয়তানের প্ররোচনা/কর্ম/ শয়তান মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ও খুনের পরিস্থিতি তৈরি করে:
গ. সম্পর্কের মধ্যে ফাটল ধরানো (ভাই ও আত্মীয়দের সম্পর্ক নষ্ট করা):
ঘ. গোপন পরামর্শ বা কানাকানি দ্বারা কষ্ট দেওয়া:
৫. স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো:
শয়তানের অন্যতম প্রিয় কাজ হলো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে রাগ ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করে সংসার ভেঙে দেওয়া। যদিও এটি জাদুর প্রসঙ্গে এসেছে, তবুও এর মূল শিক্ষা হলো শয়তানি শক্তির কাজই হলো বিচ্ছেদ ঘটানো।
6. আল্লাহর সাথে সংযোগ স্থাপনে বাধা দেয়:
কুরআন গবেষণা ত্যাগ করার ভয়াবহ পরিণাম—শয়তানি বিভ্রম (সাওলাত):
আধুনিক ‘সাওলাত’ (Modern Manifestation):
যারা কুরআন বোঝে না, শয়তান তাদের বোঝায়—দ্বীন পালন না করলেও কিংবা কুরআন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা ও অনুশীলন না পালন না করলেও কোন অসুবিধা নাই, তুমি ভালো মানুষ।এটি বর্তমান যুগের সবচেয়ে বড় ‘হিউম্যানিস্টিক ধোঁকা’। শয়তান মানুষকে বোঝায় যে, প্রচলিত অলীক বিশ^াসে- বুঝে-নাবুঝে রোজা, নামাজ-হজ্জ্ব-যাকাত ইত্যাদি আনুষ্ঠানিকতা নির্ভর আমল করলেই জান্নাত আল্লাহর সু. তা. এর নাযিলকৃত অহীর হুকুম-আহকাম মানার অতবেশী দরকার নেই, শুধু ‘কারো ক্ষতি না করলেই’ জান্নাত পাওয়া যাবে। অথচ কুরআনের (মিজান) মানদণ্ড ছাড়া ‘ভালো’ বা ‘মন্দ’ নির্ধারণ করা মানুষের পক্ষে অসম্ভব।
ওহীর মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চাওয়া-শয়তানের প্রচেষ্টা:
7. ভালো কর্মে ভুলিয়ে দেয়া শয়তানের কাজ:
১. উপকার বা মুক্তির মাধ্যম ভুলিয়ে দেওয়া:
২. জ্ঞান অর্জনের পথে বা সফরের লক্ষ্যে ভুলিয়ে দেওয়া:
৩. আল্লাহর জিকির বা স্মরণ ভুলিয়ে দেওয়া (সবচেয়ে ভয়াবহ):
ইবলিশ শয়তান ধন-সম্পদ ও সন্তানে অংশীদার হওয়ার ব্যাপারে ক্ষমতাপ্রাপ্ত: সুতরাং সাবধান!!
৪. পাপের পরিবেশ থেকে সরে আসার কথা ভুলিয়ে দেওয়া:
সারসংক্ষেপ:
আল্লাহর সৃষ্টি বিকৃতি করা শয়তানের আদেশ:
আর অবশ্যই আমি তাদের ভ্রষ্ট করব এবং অবশ্যই তাদের আশ্বাস দিব এবং অবশ্যই তাদের আদেশ দিব, ফলে অবশ্যই তারা পশুর কান ছিদ্র করবে। আর আমি অবশ্যই তাদেরকে নির্দেশ করব, ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টি বিকৃত করবে। আর যে আল্লাহর পরিবর্তে শয়তানকে ঘনিষ্ঠজনরূপে গ্রহণ করে, তাহলে অবশ্যই সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, স্পষ্ট ক্ষতি-আয়াত ৪:১১৯ (৩০:৩০)
🚫যার ওপর ইবলিশ-শয়তানে কর্তৃত্ব থাকবে না/ শয়তানের সীমাবদ্ধতা:
কুরআন মাজিদে একাধিক জায়গায় ইবলিস (শয়তান) আল্লাহর সামনে শপথ করে বলেছে যে, সে সব মানুষকে বিভ্রান্ত করবে, কিন্তু সে নিজেই স্বীকার করেছে যে ‘মুখলিস’ বা ‘একনিষ্ঠ’ বান্দাদের ওপর তার কোনো ক্ষমতা নেই।
১. এখানে ইবলিস আল্লাহর কাছে চ্যালেঞ্জ করার সময় এই ব্যতিক্রমের কথা উল্লেখ করে।
সে (ইবলিস) বলল: হে আমার রব! যে কারণে আপনি আমাকে পথচ্যুত করলেন, আমি অবশ্যই তাদের জন্য পৃথিবীর মধ্যে শোভা সৃষ্টি করব এবং অবশ্যই আমি তাদের সবাইকে পথচ্যুত করব; তবে তাদের মধ্যে আপনার একনিষ্ঠ (মুখলিস/মনোনীত) বান্দারা ছাড়া- সূরা আল-হিজর, আয়াত: 15:40 (3:14)
২. এখানে ইবলিস আল্লাহর ক্ষমতার বা ইজ্জতের শপথ করে একই কথা বলে।
সে (ইবলিস) বলল: ‘আপনার ক্ষমতার (ইজ্জতের) শপথ! আমি তাদের সকলকেই পথভ্রষ্ট করব। তবে তাদের মধ্যে আপনার একনিষ্ঠ (মুখলিস) বান্দারা ছাড়া- (আয়াত: 38:৮২-৮৩)
৩. শয়তানের এই দাবির প্রেক্ষিতে আল্লাহ তায়ালা নিজেও নিশ্চিত করেছেন যে, তাঁর খাঁটি বান্দাদের ওপর শয়তানের জোর খাটবে না।
(আল্লাহ বললেন) নিশ্চয় আমার বান্দাদের ওপর তোমার কোনো ক্ষমতা নেই । আর কর্মবিধায়ক হিসেবে আপনার রবই যথেষ্ট- (আয়াত: 17:64-64)
4. ইবলিশ শয়তান ধন-সম্পদ ও সন্তানে অংশীদার হওয়ার ব্যাপারে ক্ষমতাপ্রাপ্ত (১৭:৬৪, ৭:১৭): তবে তার কর্তৃত্ব নেই যদি-
নিশ্চয় আমার বান্দারা, তাদের ওপর তোমার কোনো কর্তৃত্ব (সুলতান) নেই। আর মধ্যস্থতাকারী (ওয়াকিল) হিসাবে তোমার রবই যথেষ্ট হয়েছেন-১৭:৬৫
☂ প্রতিকার ও প্রোটেকশন: আল্লাহর নির্দেশিত অ্যাকশন প্ল্যান:
ধাপ ১: তাৎক্ষণিক প্রোটেকশন: উত্তেজিত হওয়ামাত্র আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া (ইস্তিআজা-আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া)-
🔗 শয়তান ভুলিয়ে দিলে কী করতে হবে, তার সমাধানও কুরআনে দেওয়া হয়েছে:
আয়াত: “...আর যখন ভুলে যাবে, তখন তোমার রবকে স্মরণ করবে...” (আয়াত: 18:24)
ধাপ ২: রাগ হজম করা- সংবরণ করা ও ক্ষমা করা (মানসিক নিয়ন্ত্রণ): ও ক্ষমা করা
ধাপ ৩: মন্দের জবাব ভালো দিয়ে দেওয়া (কৌশলগত প্রতিরোধ): খারাপ ব্যবহারের জবাবে ভালো ব্যবহার করা-
ধাপ ৪: মুমিনদের মধ্যে সন্ধি স্থাপন করা: বিরোধ দেখা দিলে তা মীমাংসা করে নেওয়া-
ধাপ ৫: শয়তানকে শত্রু হিসেবে গ্রহণ করা (সতর্কতা):
|
➥[তবে যারা আল্লাহর
নষ্ঠিাবান বান্দা, তারা গ্রফেতার হয়ে
আসবে না-আয়াত: ৩৭:১৫৯-১৬০ (৩৭:৪০, ৩৭:৭৪,
৩৭:১৬৯, ৩৭:১৬০),
মুখলেছ-গঁশযষবং-খালেছ-এখলাস-৩৯:২-৩,
৪:১৪৬, ৩৯:১১-১২, ৯৮:৫,
৩৮:৪৫-৪৬ ➥মোখলেস বান্দা সমুদ্রের মধ্যে (রহ ঃযব ংবধ-ড়পবধহ) কেমন করে ডাকে জানতে- আয়াত: ৯৮:৫, ৪০:৬৫-৬৬, ১৫:৩৯-৪২, ৩৮:৮২-৮৩, ২৯:৬৫-৬৬, ৩১:৩২, ২২:১১, ৩৯:৪৯, ২৯:১০, ৩০:৩৬, ১২:৮৬, ৬:৬৩-৬৪, ১৭:৬৭-৬৮, ১০:১২, ৭:২৯, ১০:২১-২২, ৩৯:৮ (আরও জানতে-২:১৫৬, ৯:৫০, ৪২:৩০, ৫৭:২২, ৬৪:১১, ৭:৩৪-৩৫, ৪৩:৪৯-৫০, ১৬:৫৩-৫৫, ৪২:৩৪, ৪১:৫০-৫১)] |
আশ্রয় চেয়ে ঐশি ফোনে যোগাযোগ করার আদেশ:
আশ্রয় চেয়ে ঐশি ফোন সবার আগে (Defensive measures:):
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-1 〕❖ ──┓
رَّبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ
هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَن يَحْضُرُونِ
রব্বী- আঊ’যুবিকা মিন হামাঝা-তিশ্ শাইয়া-তীন, অ-আঊ’-যুবিকা রব্বী- আইঁ-ইয়াহ্দ্বুরূন।
অর্থ:
হে আমার রব-সর্বমহাব্যবস্থাপক! আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি-করব শুধুমাত্র আপনার কাছে
শয়তানদের ষড়যন্ত্রসমূহ সমূহ থেকে, এবং আমি আরও আশ্রয় প্রার্থনা করছি-করব।
হে
আমার রব-সর্বমহাব্যবস্থাপক! শুধুমাত্র আপনার কাছে সেসব শয়তান তথা খারাপ কাজের প্রধানদের-নেতাদের
থেকে যারা আমার কাছে উপস্থিত হয়-হবে- আল কুরআন ২৩:৯৭-৯৮
وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيم
অল্লা-হু সামী‘ঊন্ ‘আলীম্।
অর্থ:
এবং আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ-আল কুরআন ২৪:২১ (৪১:৩৬, ৭:২০০, ২:২২৪)
اِنَّهٗ هُوَ السَّمِيْعُ
الْعَلِيْمُ
ইন্নাহু হুওওয়াসসামী‘ঊল ‘আলীম্।
অর্থ: নিশ্চয়ই তিনি, তিনিই সবস্পন্দনগ্রাহী, বিস্তৃত জ্ঞানসম্পন্ন -আল কুরআন ৪১:৩৬ (৭:২০০, ২:২২৪, ১০:৬৫, ৪৪:৬)
إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ
الْبَصِير
ইন্নাহূ হুওয়াস্ সামী‘উল্ বাছীর।
অর্থ:
নিশ্চয়ই তিনি, তিনিই সর্বস্পন্দনগ্রাহী, অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন-আল কুরআন ৪০:৫৬
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-2 〕❖ ──┓
أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ◌ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ◌ وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ◌وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ◌ وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ
আ‘ঊযু বিরব্বিল্ ফালাক্ব। মিন্ শাররি মা-খলাক্ব। অমিন্ শাররি গ-সিক্বিন্ ইযা-অক্বাব্। অমিন্ শাররি ন্নাফ্ফা-ছা-তি ফিল্ ‘উক্বদ্। অমিন্ শাররি হা-সিদিন্ ইযা-হাসাদ্।
অর্থ: আমি আশ্রয় চাচ্ছি প্রভাতের ররের কাছে। যা তিনি সৃষ্টি করেছেন সেসবের অনিষ্ট থেকে। এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন রাতের অনিষ্ট থেকে, যখন তা গভীর হয়। এবং গিরার মধ্যে ফুঁৎকারকারিণীদের অনিষ্ট থেকে এবং হিংসুকের (ঈর্ষাপরায়ণতার) অনিষ্ঠ থেকে এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে- আল কুরআন ১১৩:১-৫ (১৭:৬৪, ৬:৯৫-৯৬)।
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-3 〕❖ ──┓
أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ◌ مَلِكِ النَّاسِ◌ إِلَـٰهِ النَّاسِ◌مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ◌ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ◌ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ
আ‘ঊযু বিরব্বিন্না-স্। মালিকিন্না-স্। ইলা-হি ন্না-স্। মিন্ শাররিল ওয়াস্ ওয়া-সিল্ খান্না-সি। আল্লাযী ইউওয়াস্ওয়িসু ফী ছুদূরিন্না-স্। মিনাল্ জ্বিন্নাতি অন্না-স্।
অর্থ: আমি আশ্রয় চাচ্ছি মানুষের ররের কাছে। মানুষের মালিক। মানুষের ইলাহ। প্ররোচনাদানকারী খন্নাসের অনিষ্ট থেকে। যে মানুষের অন্তরসমূহের মধ্যে প্ররোচনা দেয়। জ্বীন ও মানুষের মধ্য থেকে।- আল কুরআন ১১৪:১-৬
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-4 〕❖ ──┓
أَنِّي مَسَّنِيَ الشَّيْطَانُ بِنُصْبٍ وَعَذَابٍ
আন্নী মাস্ সানিয়াশ্ শাইত্বোয়া-নু বিনুছ্বিঁও অ‘আযা-ব্।
অর্থ: (স্মরণ করো আমার বান্দা আইয়ুবের কথা! যখন সে তার রবকে ডেকেছিল-) যে আমি, আমাকে কষ্ট ও যন্ত্রণা দিয়ে শয়তান স্পর্শ করেছে! -আল কুরআন ৩৮:৪১
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-5 〕❖ ──┓
আল্লাহর আয়াত তথা হুকুম নিয়ে ঠাট্রা-বিদ্রæপ করলে যা পাঠ করতে হবে- জাহিলিয়াত থেকে মুক্তি চেয়ে: তুমি কখনও মুর্খ /অজ্ঞ/ জাহেল লোকদের দলে শামিল হয়োনা- AvqvZ ৬:৩৫ (১১:৪৬, ১০:৮৯):
أَعُوذُ بِٱللَّهِ أَنْ أَكُونَ مِنَ ٱلْجَـهِلِينَ
আ‘ঊযুবিল্লা-হি আন্ আকূনা মিনাল্ জ্বা-হিলীন্ ।
অর্থ: আল্লাহর নিকট আশ্রয় নিচ্ছি যাতে আমি অজ্ঞ/ অপরিনামদর্শী/ নির্বোধদের অর্ন্তভুক্ত না হই- আল কুরআন ২:৬৭
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-6 〕❖ ──┓
رَبِّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أَسْأَلَكَ مَا لَيْسَ لِي بِهِ عِلْمٌ ۖ وَإِلَّا تَغْفِرْ لِي وَتَرْحَمْنِي أَكُن مِّنَ الْخَاسِرِينَ
রব্বি ইন্নী- আ‘ঊযুবিকা আন্ আস্য়ালাকা মা-লাইসা লী বিহী ‘ইল্ম্; অ ইল্লা-তাগফিরলী অতামহামনী- আকুম্মিনাল্ খা-সিরীন্।
অর্থ: হে আমার রব! আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি আপনার কাছে এমন বিষয় চাওয়া থেকে, যে বিষয়ে আমার কোন জ্ঞান নেই। আর যদি না আপনি আমাকে ক্ষমা করেন এবং দয়া করেন, আমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব- আল কুরআন ১১:৪৭
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-7 〕❖ ──┓
dv‡nkv Kg©KvÛ: R¦xb kqZvb I gvbyl kqZv‡bi G‡nb dvu` †_‡K wbR‡K iÿvq Av‡e`b
رَبِّ السِّجْنُ أَحَبُّ
إِلَيَّ مِمَّا يَدْعُونَنِي إِلَيْهِ ۖ وَإِلَّا تَصْرِفْ عَنِّي كَيْدَهُنَّ أَصْبُ
إِلَيْهِنَّ وَأَكُن مِّنَ الْجَاهِلِينَ فَاسْتَجَابَ لَهُ رَبُّهُ فَصَرَفَ
عَنْهُ كَيْدَهُنَّ ۚ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
রব্বিস্ সিজ্বনু আহাব্বু ইলাইয়্যা মিম্মা- ইয়াদ্‘ঊনানী- ইলাইহি অইল্লা-তাছ্রিফ্ ‘আন্নী কাইদাহুন্না আছ্বু ইলাইহিন্না অআকুম্মিনাল্ জ্বা-হিলীন্।
অর্থ: হে আমার রব! তারা আমাকে যার দিকে আহবান করছে সেটার চেয়ে কারাগারই আমার কাছে অধিক প্রিয়। আর যদি আপনি আমার ক্ষেত্রে তাদের চক্রান্ত প্রতিহত না করেন, আমি তাদের দিকে ঝুঁকে পড়ব এবং আমি হয়ে যাব অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত। নিশ্চয়ই তিনিই সর্বস্পন্দনগ্রাহী, বিস্তৃত জ্ঞানসম্পন্ন- আল কুরআন ১২:৩৩-৩৪
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-8 〕❖ ──┓
খারাপ ও অশ্লীল কাজ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া:
مَعَاذَ
اللَّهِ
মা‘আ-যাল্লাহ!
অর্থ: আল্লাহর আশ্রয় চাই- আল কুরআন ১২:২৩
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-9 〕❖ ──┓
নফসের ওপর বিশ্বাস না করে আল্লাহর রহমতের স্বীকৃতি: মূলত বিনয় এবং নফসের কুপ্রবৃত্তি থেকে আল্লাহর রহমত কামনার স্বীকারোক্তি:
وَمَاۤ اُبَرِّیُٔ نَفۡسِیۡ ۚ اِنَّ النَّفۡسَ لَاَمَّارَۃٌۢ بِالسُّوۡٓءِ اِلَّا مَا رَحِمَ رَبِّیۡ ۚ اِنَّ رَبِّیۡ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ
ওয়া মা উবাররিউ নাফসী, ইন্না নাফসা লা-আম্মারাতুম বিস-সায়ি ইল্লা মা রহিমা রাব্বী; ইন্না রাব্বী গাফুরুর রাহীম।
অর্থ: আমি নিজেকে নির্দোষ মনে করি না (বা নিজেকে সম্পূর্ণ পবিত্র দাবি করি না)। নিশ্চয়ই মানুষের মন (নফস) মন্দ কর্মপ্রবণ, কিন্তু আমার রব যার প্রতি দয়া করেন (সে ব্যতীত)। নিশ্চয়ই আমার রব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। -আয়াত: ১২:৫৩
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-10 〕❖ ──┓
لَّا مَلۡجَأَ مِنَ ٱللَّهِ إِلَّآ
إِلَيۡهِ ثُمَّ تَابَ عَلَيۡهِمۡ لِيَتُوبُوٓاْۚ إِنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلتَّوَّابُ ٱلرَّحِيمُ
লা-মাল্জ্বায়া মিনাল্লা-হ্ ইল্লা- ইলাইহ্; ইন্নাল্লা-হা হুঅত তাওয়্যা-র্বু রহীম
অর্থ: আল্লাহর থেকে কোনো আশ্রয়স্থল নেই তাঁর কাছে ছাড়া। নিশ্চয়ই আল্লাহ, তিনিই তওবা কবুলকারী, দয়ালু- আল কুরআন ৯:১১৮।
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-11 〕❖ ──┓
অপ্রত্যাশিত খারাপ কোন কিছু হওয়া রোধে আশ্রয় লাভ:
(বলুন!) ’রহমান’ থেকে কে তোমাদেরকে হেফাজত করবে রাতে ও দিনে-২১:৪২।
إِنِّىٓ
أَعُوذُ بِٱلرَّحْمَٰنِ مِنكَ إِن كُنتَ تَقِيًّا
ইন্নী- আ‘ঊযু বিররহমা-নি মিন্কা ইন্ কুন্তা তাক্বিয়্যা।
অর্থ: নিশ্চয়ই আমি তোমার থেকে দয়াময়ের কাছে আশ্রয় চাই যদি তুমি সাবধান হও- আল
কুরআন ১৯:১৮
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-12 〕❖ ──┓
মুশরিক ও অহংকারীদের ও সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের থেকে আশ্রয়ের দুআ:
إِنِّى عُذْتُ بِرَبِّى وَرَبِّكُم
مِّن كُلِّ مُتَكَبِّرٍ لَّا يُؤْمِنُ بِيَوْمِ ٱلْحِسَابِ
ইন্নি উ’যতু বিরব্বী- ওয়ারব্বিাকুম মিন্ কুল্লী মুতাকাব্বিরিল্লা- ইয়ু’মিনু বিইয়াওমিল্ হিছা-ব।
অর্থ: নিশ্চয়ই আমি আমার রবের ও তোমাদের রবের কাছে প্রত্যেক অহংকারী থেকে আশ্রয় চাচ্ছি, যে হিসাবের দিনের প্রতি বিশ^াস রাখে না- আল কুরআন ৪০:২৭ (২৬:১১৩)।
〔মূশরিকদের থেকে আশ্রয় লাভের বিশেষ দরখাস্ত-13 〕رَبَّنَا آتِنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً
وَهَيِّئْ لَنَا مِنْ أَمْرِنَا رَشَدًا
iveŸvbv- AvwZbv- wgjøv`ybKv ivngvZvIu Iqv nvBwq¨Õjvbv- wgb Avgwibv- ivkv`v-|
A_©: †n Avgv‡`i ie! Avgv‡`i‡K Avcbvi c¶ ‡_‡K ingZ `vb Kiæb Ges Avgv‡`i Rb¨ Avgv‡`i KvRK©g mwVKfv‡e m¤úbœ Kivi e¨e¯’v K‡i w`b!-AvqvZ 18:10|
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-14 〕❖ ──┓
আল্লাহর নাযিলকৃত আয়াত অপছন্দকারী, কাফিরদের আক্রমনের বিরুদ্ধে আশ্রয়ে যা বলতে হবে:
(তারা বলল, অবশ্যই যদি তুমি বিরত না হও, হে নূহ! তুমি নিশ্চয়ই পাথরের আঘাতে নিহতদের অর্ন্তভুক্ত হবে-২৬:১১৬)
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-15 〕❖ ──┓
وَإِنِّي عُذْتُ بِرَبِّي وَرَبِّكُمْ أَن تَرْجُمُونِ
ইন্নী ‘উয্তু বিরব্বী অরব্বিকুম্ আন্ তার্জুমূন্।
অর্থ: নিশ্চয়ই আমি আমার রবের এবং তোমাদের রবের কাছে আশ্রয় গ্রহন করেছি, পাছে তোমরা আমাকে রজম করো-৪৪:২০ (২৬:১১৬)।
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-16 〕❖ ──┓
নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা ও মুসলিম (সমর্পিত) একজন হিসাবে মৃত্যুর দোয়া :
فَاطِرَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ اَنۡتَ وَلِیّٖ فِی الدُّنۡیَا وَالۡاٰخِرَۃِ ۖ تَوَفَّنِیۡ مُسۡلِمًا وَّ اَلۡحِقۡنِیۡ بِالصّٰلِحِیۡنَ
ফাতিরাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি আনতা ওলিয়্যী ফিদ্দুনিয়া ওয়াল আখিরাতি, তাওয়াফ্ফানী মুসলিমীওঁ ওয়া আলহিকনী বিস-সালিহীন।
অর্থ: হে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা! আপনিই ইহকাল ও পরকালে আমার অভিভাবক। আপনি আমাকে মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দান করুন এবং নেককারদের সাথে আমাকে মিলিত করুন। (সূরা ইউসুফ, আয়াত: 12:101)
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-17 〕❖ ──┓
অন্তর (সাদর) -এর সংকীর্ণতা
দূরীকরণে তাসবিহ:
رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي
- وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي
উচ্চারণ: রাব্বিশ রাহলী সাদরী; অ-ইয়াসসির লী আমরী।
অর্থ: হে আমার রব! আমার বক্ষ (সদর) আমার জন্য প্রশস্ত করে দিন এবং আমার কাজ আমার জন্য সহজ করে দিন। (সূরা ত্বহা ২০:২৫-২৬)
(সংকীর্ণতা দূরীকরণে তাসবিহ: যখন বিদ্রূপকারীরা আজেবাজে কথা বা কটাক্ষ করে, তখন মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই কষ্টের সৃষ্টি হয়। আল্লাহ রব্বুল আলামিন এর আধ্যাত্মিক (Metaphysical) সমাধান দিয়েছেন সূরা আল-হিজরে: আমি তো জানি যে, তারা যা বলে তাতে আপনার অন্তর (সাদর) সংকুচিত হয়। সুতরাং আপনি আপনার রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা (তাসবিহ) করুন এবং সাজদাহকারীদের অন্তর্ভুক্ত হোন-(১৫:৯৭-৯৮)।
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-18 〕❖ ──┓
জালিম ও সত্য বিমুখদের অনিষ্ট থেকে আশ্রয়ের
দুআ:
رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً
لِّلْقَوْمِ الظَّالِمِينَ - وَنَجِّنَا بِرَحْمَتِكَ مِنَ الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
উচ্চারণ: রাব্বানা লা তাজআলনা ফিতনাতাল লিলক্বাউমিয যালে মীন; অ-নাজ্জিনা বিরাহমাতিকা মিনাল ক্বাউমিল কাফিরীন।
অর্থ: হে আমাদের রব! আপনি আমাদের এই জালিম কওমের পরীক্ষার পাত্র বানাবেন না। এবং আপনার অনুগ্রহে আমাদের এই কাফির কওম হতে নাজাত (মুক্তি) দিন। (সূরা ইউনুস ১০:৮৫-৮৬)
নোট: সবচেয়ে বড় জালিমের পরিচয়: আর কে তার চেয়ে বড় জালিম, যাকে তার রবের আয়াতসমূহ দিয়ে উপদেশ দেয়া হয়, এরপরও সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়-আয়াত ১৮:৫৭ (৬:২১, ৬:৯৩)
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-19 〕❖ ──┓
আল্লাহর আয়াত থেকে বিমুখ ও দ্বীন নিয়ে বিদ্রূপকারীদের
বিষয়ে আল্লাহর ঘোষণা (তাকওয়া ও ধৈর্যের তাসবিহ):
حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ ۖ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ ۖ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ
উচ্চারণ: হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া; আলাইহি তাওয়াক্কালতু অ-হুয়া রাব্বুল আরশিল আযীম।
অর্থ: আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি এবং তিনি মহান আরশের রব। (সূরা আত-তাওবাহ ৯:১২৯)
┏─ ❖〔মুখলিস বান্দার
সারাক্ষণের দুআ-তাসবিহ-20 〕❖ ─┓
لَّآ اِلٰهَ اِلَّآ اَنْتَ
سُبْحٰنَكَ اِنِّيْ كُنْتُ مِنَ الظّٰلِمِيْنَ
jv-nv Bjøv-AvsZv myenv-bvKv Bbœx Kyš‘ wgbvR ‡Rvqv-wjgxb&|
অর্থ: আপনি ছাড়া ইলাহ নেই, আপনি অপবিত্রতামুক্ত! নিশ্চয়ই আমি, আমিই হলাম জালিমদের অর্ন্তভুক্ত- আল কুরআন ২১:৮৭
┏─ ❖〔মুখলিস বান্দার সারাক্ষণের দুআ-তাসবিহ-21 〕❖ ─┓هُوَ الْحَيُّ لَا إِلَـٰهَ
إِلَّا هُوَ
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ
الْعَالَمِينَ
হুওয়াল হাইয়্যু লা-ইলাহা ইল্লা হওয়া
আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন!
তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ব্যতীত
কোন উপাস্য নেই।
অতএব, তাঁকে ডাক তাঁর খাঁটি (মুখলিছিন) এবাদতের মাধ্যমে।
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহর-40:65
নোট: কারন, কেবলমাত্র মুখলিস বান্দাদেরকে
ইবলিশ শয়তান পদচ্যুত করতে পারে না। (দ্র: আয়াত ১৫:৩৯-৪০)
