দুআ: আশ্রয় চেয়ে-প্রোটেকশন চেয়ে দুআ-তাসবিহ-যিকির! -ইবলিস শয়তানের ক্ষতি থেকে বাঁচার উপায় কি? (Auzubillah protection-Mukhlis: Iblish-Shaitan)

রাগ, ক্ষোভ সৃষ্টি এবং মানুষের মধ্যে বিরোধ বা ফাটল ধরানো ইবলিস বা শয়তানের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।

আল-কুরআনের মতে- রাগ, ক্ষোভ এবং মানুষের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টির পেছনে অবশ্যই অদৃশ্য শক্তির হাত রয়েছে। এই অদৃশ্য শক্তি হলো শয়তান (ইবলিস ও তার অনুসারী জ্বিন শয়তান) এবং মানুষের নিজের নফস (কুপ্রবৃত্তি)।

কুরআন মাজিদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, মানুষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করা এবং রাগ বা ক্ষোভ উস্কে দেওয়ার পেছনে মূল অদৃশ্য কারিগর হলো ইবলিস বা শয়তান।

দুআ-ভিডিও নিচের দিকে


১. রাগ, ক্ষোভ ও বিরোধ সৃষ্টিতে অদৃশ্য শক্তি (শয়তান)-কিভাবে সে ভুমিকা রাখে?

আল্লাহর সাবধানবাণী (সতর্কতা): অশ্লীলতা ও মন্দ কাজের নির্দেশ-পদাঙ্ক অনুসরণ না করা: 

আল্লাহ বলেন- 

ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক বা পদক্ষেপসমূহ (footsteps-ধাপে ধাপে পাপ) অনুসরণ কোরো না। আর যে শয়তানের পদক্ষেপসমূহ অনুসরণ করে, তাহলে নিশ্চিতভাবেই সে অশ্লীলতা ও অনৈতিক কাজের (মুনকার)  নির্দেশনা দিবে। আর যদি তোমাদের প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ (ফজল)  ও তাঁর দয়া (রহমত) না থাকত, তোমাদের মধ্য থেকে কেউই কখনও পরিশুদ্ধ হতো না। কিন্তু যে চায় আল্লাহ তাকে পরিশুদ্ধ করেন। আর আল্লাহ সর্বস্পন্দনগ্রাহী, বিস্তৃত জ্ঞানসম্পন্ন- (সূরা আন-নূর, আয়াত: 24:২১)।


2. শয়তানের প্ররোচনা বা কুমন্ত্রণা থেকে রাগ আসে:

রাগ বা হঠাৎ করে মেজাজ হারিয়ে ফেলা শয়তানের একটি কুমন্ত্রণা। যখনই কারও মনে রাগ বা ক্ষোভের উদ্রেক হয়, কুরআনে তখন আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে বলা হয়েছে।

“আর যদি শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো প্ররোচনা (নাজগা-উস্কানি) তোমাকে প্রলুব্ধ করে, তবে আল্লাহর আশ্রয় চাও। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।” (আয়াত: 41:৩৬ এবং 7:২০০)

অনুধাবন: রাগ বা উত্তেজনা শয়তানের পক্ষ থেকে আসা একটি ‘খোঁচা’। এটি মানুষকে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য করে দেয়।

কুরআন অনুযায়ী শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু এবং তার প্রধান কাজই হলো মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কে ফাটল ধরানো।

◆ শয়তান ওয়াসওয়াসা (কুমন্ত্রণা ) দেয়:

আয়াত: ৫০:১৬, ৭:২০, ২০:১২০, ১১৪:৪

শয়তান অশ্লীল ও মন্দ কাজের (মুনকার) নির্দেশ দেয়-২:২৬৮, ২৪:২, (৭:২৮)

 শয়তান লজ্জাস্থান উন্মুক্ত বা প্রকাশ করতে চায়-৭:২৭, ৭:২০, ৭:২২

 শয়তান হতিাকাঙ্ক্ষী সেেজ মথ্যিা পরার্মশ দয়ে-৭:২১

 শয়তান মানুষকে (বিশেষ করে সালামুন আলা আদম-কে) ধোঁকা দেওয়ার সময় ‘অমরত্ব’ বা ‘চিরস্থায়ী রাজত্ব’-এর প্রলোভন দেখিয়েছিল: শয়তানের অন্যতম বড় ফাঁদ হলো মানুষকে এই দুনিয়ায় চিরকাল বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখানো এবং ক্ষমতা বা রাজত্ব আঁকড়ে ধরার লোভ দেখানো-২০:১২০, ৭:২০

 শয়তান যন্ত্রণার স্পর্শ করে: আয়াত ৩৮:৪১

ক. কথার মারপ্যাঁচে বিরোধ সৃষ্টি করা (উস্কানি-নাজগা) -কথাবার্তার মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টি করা:

কথার মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি বিরোধ তৈরি হয়। শয়তান মানুষের কথার মধ্যে বিষ ঢেলে দেয়। মানুষ যখন রেগে কথা বলে বা কটু কথা বলে, তখন শয়তান সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সম্পর্কে ফাটল ধরিয়ে দেয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন:

আমার বান্দাদেরকে বলে দিন, তারা যেন যা উত্তম এমন কথাই বলে। শয়তান তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উস্কানি দেয় [শয়তানের উস্কানি (নাজগা)]। নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু -(আয়াত: 17:৫৩) 

অনুধাবন: এখানে 'নাজগা' শব্দটি ব্যবহার হয়েছে, যার অর্থ খোঁচা দেওয়া বা উস্কানি দেওয়া। আমরা যখন কথা বলি, শয়তান সেখানে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করে রাগ সৃষ্টি করতে চায়। 

খ. শয়তান মানুষের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ জাগিয়ে তোলা:

শয়তান চায় মানুষের মনে একে অপরের প্রতি ঘৃণা (বিদ্বেষ) এবং শত্রুতা তৈরি হোক, যাতে সমাজ নষ্ট হয়।

“শয়তান তো চায়, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে তোমাদের বাধা দিতে...” (সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ৯১)

অনুধাবন: শয়তানের মূল টার্গেট হলো 'শত্রুতা' (আদাওয়াহ) এবং 'বিদ্বেষ' (বাগণদা) সৃষ্টি করা। 

ক্রোধ ও হত্যার পেছনে শয়তানের প্ররোচনা/কর্ম/ শয়তান মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ও খুনের পরিস্থিতি তৈরি করে:

কুরআনে সরাসরি একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে যেখানে একজন মানুষকে হত্যা করার পর একে ‘শয়তানের কাজ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এই ঘটনাটি নবী মুসা (সা:)-এর জীবনের। নবুওয়াত প্রাপ্তির আগে তিনি অনিচ্ছাকৃতভাবে এক ব্যক্তিকে ঘুষি মেরে হত্যা করে ফেলেছিলেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পেরেছিলেন যে এই ক্রোধ ও হত্যার পেছনে শয়তানের প্ররোচনা ছিল।

সে (মুসা) বলল, ‘এটা শয়তানের কাজ (আমল)। নিশ্চয় সে প্রকাশ্য শত্রু, বিভ্রান্তকারী’-আয়াত ২৮:১৫

আর কুরআনের মতে, মানুষের মনে এই শত্রুতা ও বিদ্বেষের আগুন উসকে দেয় শয়তান।

গ. সম্পর্কের মধ্যে ফাটল ধরানো  (ভাই ও আত্মীয়দের সম্পর্ক নষ্ট করা):

শয়তান এমনকি রক্ত সম্পর্কীয় ভাইদের মধ্যেও ক্ষোভ ও হিংসা তৈরি করে বিচ্ছেদ ঘটায়। ইউসুফ (আ.) এর ঘটনায় আল্লাহ তা তুলে ধরেছেন: 

“...শয়তান আমার ও আমার ভাইদের মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট করে (নাজগা-কুমন্ত্রনা)  দেয়ার পর তিনি (আল্লাহ) আমাকে জেলখানা থেকে বের করেছেন...” (সূরা ইউসুফ, আয়াত: ১০০)

ঘ. গোপন পরামর্শ বা কানাকানি দ্বারা কষ্ট দেওয়া:

মানুষ যখন গোপনে কানাকানি করে, তখন অন্যের মনে সন্দেহ ও ক্ষোভ জন্মায়। আল্লাহ বলেন, এটিও শয়তানের কাজ।

“গোপন পরামর্শ (যা মানুষকে সন্দেহ ও রাগের দিকে ঠেলে দেয়) তো শয়তানের প্ররোচনা, যাতে মুমিনরা দুঃখ পায়...” (সূরা মুজাদালা, আয়াত: 58:10)


৫. স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো:

শয়তানের অন্যতম প্রিয় কাজ হলো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে রাগ ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করে সংসার ভেঙে দেওয়া। যদিও এটি জাদুর প্রসঙ্গে এসেছে, তবুও এর মূল শিক্ষা হলো শয়তানি শক্তির কাজই হলো বিচ্ছেদ ঘটানো।

“আর সুলাইমানের রাজত্বকালে শয়তানরা যা পাঠ করেছিল তারা তা অনুসরণ করেছিল। আর সুলাইমান কুফর করেনি, বরং শয়তানরাই কুফর করেছে। ...তারা তাদের (ফেরেশতাদের) কাছ থেকে এমন জাদু শিখতো, যা দ্বারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে...” (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: 2:102)

6. আল্লাহর সাথে সংযোগ স্থাপনে বাধা দেয়: 

বস্তুত শয়তান চায়, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চার করতে এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ হতে ও সলাত হতে বাধা দিতে। তবুও কি তোমরা নির্লিপ্ত?-আল-মায়িদাহ 5:91

কুরআন গবেষণা ত্যাগ করার ভয়াবহ পরিণাম—শয়তানি বিভ্রম (সাওলাত):

বিষয়টি কুরআনের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের (Psychological Analysis) সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। —যখন মানুষ ‘তাদাব্বুরে কুরআন’ (কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা) ছেড়ে দেয়, তখন তার মস্তিষ্কে ও হৃদয়ে এক ধরণের শূন্যতা তৈরি হয় (তালা পড়ে যায়)। আর সেই শূন্যস্থানে শয়তান এবং মানুষের প্রবৃত্তি (নফস) ‘সাওলাত’ বা মনগড়া রঙিন সব ধারণা সাজিয়ে দেয়। (আর এই সুযোগে শয়তান সত্যের বিপরীতে তাদের সামনে মিথ্যাকে সুশোভিত ও যৌক্তিক করে তোলে)।

তবে কি তারা কুরআন গবেষণা করে না? নাকি হৃদয়সমূহের ওপর তার কতগুলো তালা রয়েছে? -47:24

নিশ্চয় যাদের কাছে সঠিক পথ স্পষ্ট হওয়ার পরেও তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে (দ্বীন থেকে ফিরে যায়), শয়তান তাদের জন্য তাদের কাজগুলোকে শোভন/মনগড়া করে সাজিয়ে দিয়েছে (সাওলাত) এবং তাদেরকে দীর্ঘ আশা দিয়েছে- (আয়াত ৪৭:২৫)

 আপসের মানসিকতা/আপসকামিতা ও দীর্ঘ আশা (Tul al-Amal):

এটা এ জন্যে যে, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা যারা অপছন্দ করে, এরা তাদের বলে—‘অচিরেই আমরা কিছু বিষয়ে তোমাদের আনুগত্য করব।’ আর আল্লাহ তাদের গোপন অভিসন্ধি জানেন (আয়াত ৪৭:২৬)

🔍 গভীর অনুধাবন: ‘সাওলাত’ (সাজানো মিথ্যা) এর ফাঁদ:
আয়াত ২৫-এ ‘সাওওয়ালা’ (سَوَّلَ) শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। কুরআনের পরিভাষায় এর অর্থ হলো—কোনো খারাপ কাজ বা মিথ্যা ধারণা নিজের কাছে এমনভাবে সাজিয়ে উপস্থাপন করা, যাতে মনে হয় এটাই সঠিক বা এটাই উত্তম। (‘সাওওয়ালা’ (سَوَّلَ) বা মনগড়া যৌক্তিকতা

(Rationalization): মনস্তত্ত্বে একে বলা হয় Rationalization)
রেফারেন্স হিসেবে আয়াতগুলো (২০:৯৬, ১২:১৮, ১২:৮৩) বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—যখনই মানুষের কাছে ওহীর জ্ঞান (Guidance) থাকে না, তখন তার ‘নফস’ বা শয়তান তাকে একটি ‘মনগড়া লজিক’ বা ‘কাল্পনিক জাস্টিফিকেশন’ ধরিয়ে দেয়।

উদাহরণ ও প্রমাণ:
সামেরীর গোবৎস পূজা (২০:৯৬): সালামুন আলা মুসা-এর অনুপস্থিতিতে সামেরী যখন বনী ইসরাঈলকে বিভ্রান্ত করল, তখন সে সাফাই গাইল— “এভাবেই আমার মন আমাকে প্ররোচিত করল (সাওওয়ালাত লি নাফসি)।” অর্থাৎ, সে নিজের মনগড়া ভাবনাকেই ধর্ম বানিয়ে নিয়েছিল। (অর্থাৎ সে এটাকে এক ধরণের 'শিল্প' বা 'নতুনত্ব' হিসেবে দেখেছিল)।

সালামুন  আলা ইউসুফ-এর ভাইদের ষড়যন্ত্র (১২:১৮ ও ১২:৮৩): 

সালামুন আলা ইউসুফ-কে কূপে ফেলে এসে ভাইয়েরা যখন মিথ্যা রক্তমাখা জামা দেখাল, তখন সালামুন আলা ইয়াকুব বলেছিলেন— “বরং তোমাদের মন তোমাদের জন্য একটি কাহিনী সাজিয়ে দিয়েছে (সাওওয়ালাত লাকুম আনফুসুকুম)।”

শিক্ষা:
ক্বলবে তালা লাগলে কী হয়? ঘরের ভেতর যেমন আলো না ঢুকলে পোকামাকড় বাসা বাঁধে, তেমনি ওহীর আলোহীন হৃদয়ে ‘সাওলাত’ বা মিথ্যার রাজত্ব কায়েম হয়। তখন মানুষ ‘সত্য’কে ‘মিথ্যা’ এবং ‘মিথ্যা’কে ‘যৌক্তিক’ মনে করে।

আধুনিক ‘সাওলাত’ (Modern Manifestation):

যারা কুরআন বোঝে না, শয়তান তাদের বোঝায়—দ্বীন পালন না করলেও কিংবা কুরআন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা ও অনুশীলন না পালন না করলেও কোন অসুবিধা নাই, তুমি ভালো মানুষ।

এটি বর্তমান যুগের সবচেয়ে বড় ‘হিউম্যানিস্টিক ধোঁকা’। শয়তান মানুষকে বোঝায় যে, প্রচলিত অলীক বিশ^াসে- বুঝে-নাবুঝে রোজা, নামাজ-হজ্জ্ব-যাকাত ইত্যাদি আনুষ্ঠানিকতা নির্ভর আমল করলেই জান্নাত আল্লাহর সু. তা. এর নাযিলকৃত অহীর হুকুম-আহকাম মানার অতবেশী দরকার নেই, শুধু ‘কারো ক্ষতি না করলেই’ জান্নাত পাওয়া যাবে। অথচ কুরআনের (মিজান) মানদণ্ড ছাড়া ‘ভালো’ বা ‘মন্দ’ নির্ধারণ করা মানুষের পক্ষে অসম্ভব।

তারা আল্লাহর বিধান অপছন্দকারীদের সাথে আপস করে চলে, কারণ তাদের নিজস্ব বিচার-বুদ্ধি (যা শয়তান সাজিয়ে দিয়েছে) তাদের সেটাই করতে বলে।

ওহীর মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চাওয়া-শয়তানের প্রচেষ্টা: 

আর তোমার পূর্বে আমরা কোনো রসূল পাঠাই নাই আর না কোনো নবী, কিন্তু যখনই সে আকাঙ্ক্ষা করেছে, শয়তান তার আকাঙ্ক্ষার মধ্যে (নিজের পক্ষ থেকে কিছু) নিক্ষেপ করেছে বা মিশ্রণ ঘটাতে চেয়েছে। এরপর শয়তান যা মিশ্রিত করে আল্লাহ তা দূর করেন/ শয়তান যা নিক্ষেপ করে, আল্লাহ তা মুছে দেন (বা বাতিল করে দেন)। তারপর আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহকে প্রজ্ঞাপূর্ণ করেন। আর আল্লাহ বিস্তৃত জ্ঞানসম্পন্ন, প্রজ্ঞাময় (সূরা আল-হজ্জ: 22:52)

7. ভালো কর্মে ভুলিয়ে দেয়া শয়তানের কাজ:

কুরআন মজিদের বিভিন্ন ঘটনায় ও নির্দেশনায় এটি স্পষ্ট যে, শয়তান মানুষের স্মৃতিশক্তি বা মনযোগের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বা আল্লাহর জিকির ভুলিয়ে দিতে পারে। শয়তানের এই কৌশলটি মানুষকে বিপদগ্রস্ত করা, ভালো কাজ থেকে বিরত রাখা বা আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।

কেবলমাত্র কুরআনের আয়াতের আলোকে ‘শয়তান মানুষকে ভুলিয়ে দেয়’—এই বিষয়টি ৪টি প্রেক্ষাপটে অনুধাবন করা যায়:

১. উপকার বা মুক্তির মাধ্যম ভুলিয়ে দেওয়া:

শয়তান চায় না মুমিন ব্যক্তি বিপদ থেকে মুক্তি পাক বা ভালো অবস্থানে যাক। তাই সে মানুষের মনে বিস্মৃতি সৃষ্টি করে।

আয়াত: আর তাদের দুইজনের মধ্যে যাকে তিনি (ইউসুফ) মুক্তি পাওয়ার যোগ্য মনে করলেন, তাকে বললেন, ‘তোমার প্রভুর (রাজার) কাছে আমার কথা আলোচনা করো’।  কিন্তু শয়তান তাকে তার প্রভুর কাছে এ বিষয়টি আলোচনার কথা ভুলিয়ে দিল। ফলে তাকে (ইউসুফকে) কয়েক বছর কারাগারে থাকতে হলো-(আয়াত: 12:42)

অনুধাবন: এখানে সালামুন আলা ইউসুফ  জেলসঙ্গীকে বলেছিলেন রাজার কাছে তার নির্দোষিতার কথা বলতে। কিন্তু শয়তান কৌশলে ওই জেলসঙ্গীর মন থেকে বিষয়টি ভুলিয়ে দেয়, যেন ইউসুফ (সা.আ.) জেল থেকে বের হতে না পারেন। অর্থাৎ, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সঠিক কাজ করতে না পারার পেছনে শয়তানের হাত থাকে।

২. জ্ঞান অর্জনের পথে বা সফরের লক্ষ্যে ভুলিয়ে দেওয়া:

ভালো কাজের সফরে বা ইলম অর্জনের পথে শয়তান বাধা সৃষ্টি করতে মানুষকে ভুলিয়ে দেয়।

আয়াত: “সে (যুবক সঙ্গীটি) বলল, ‘আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, যখন আমরা শিলাখন্ডে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম? আর শয়তানই আমাকে এর কথা স্মরণ রাখতে ভুলিয়ে দিয়েছে...’” (আয়াত: 18:63)

অনুধাবন: সালামুন আলা মুসা ও বিশেষ জ্ঞানপ্রাপ্ত এক বান্দা-এর সাথে সাক্ষাতের জন্য সফর করছিলেন। তাদের সাক্ষাতের চিহ্ন ছিল মাছটি হারিয়ে যাওয়া। কিন্তু সঠিক সময়ে সঙ্গীটি তা বলতে ভুলে যান। সঙ্গীটি স্বীকার করেন যে, এই বিস্মৃতি শয়তানের কাজ ছিল। অর্থাৎ, আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট বা সুযোগগুলো শয়তান ভুলিয়ে দিতে চায়।

৩. আল্লাহর জিকির বা স্মরণ ভুলিয়ে দেওয়া (সবচেয়ে ভয়াবহ):

শয়তানের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো মানুষকে দুনিয়ার মোহে ডুবিয়ে আল্লাহকে ভুলিয়ে দেওয়া। এটি মুনাফিক ও কাফিরদের বৈশিষ্ট্য।

আয়াত: “শয়তান তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে, ফলে তাদেরকে আল্লাহর জিকির (স্মরণ) ভুলিয়ে দিয়েছে। তারা শয়তানের দল। সাবধান! নিশ্চয় শয়তানের দলই ক্ষতিগ্রস্ত।” (আয়াত: 58:19)

ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমাদেরকে যেন তোমাদের সম্পদ আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন না করে (অন্যমনস্ক রাখে/ভুলিয়ে রাখে), আর না তোমাদের সন্তানসন্ততিও। আর যারা সেটা করে, তাহলে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত-63:9

অনুধাবন: মানুষ যখন পাপাচারে লিপ্ত হয়, তখন শয়তান তাদের মন ও মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ফলে তারা আল্লাহকে ভুলে যায়। এটি সাধারণ ভুল নয়, এটি হলো গাফিলতি বা উদাসীনতা, যা শয়তানের প্রভাবে ঘটে।

ইবলিশ শয়তান ধন-সম্পদ ও সন্তানে অংশীদার হওয়ার ব্যাপারে ক্ষমতাপ্রাপ্ত: সুতরাং সাবধান!!

(আল্লাহ শয়তানকে বললেন) তোর আওয়াজ দিয়ে তাদের মধ্যে যাকে পারিস প্ররোচিত কর, তোর অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে তাদের ওপর আক্রমণ চালা, তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে অংশীদার হয়ে যা এবং তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দে। আর শয়তান তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেয়, তা প্রতারণা ছাড়া অন্য কিছু নয়- সূরা আল-ইসরা (বনী ইসরাঈল), আয়াত ১৭:৬৪ (৭:১৭)

৪. পাপের পরিবেশ থেকে সরে আসার কথা ভুলিয়ে দেওয়া:

আল্লাহর আয়াত নিয়ে যেখানে উপহাস করা হয়, সেখানে থাকতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু শয়তান মানুষকে তা ভুলিয়ে দিয়ে সেখানে বসিয়ে রাখতে পারে।

আয়াত: “আপনি যখন দেখেন তারা আমার আয়াতসমূহ নিয়ে উপহাসমূলক আলোচনায় মগ্ন আছে, তখন আপনি তাদের থেকে সরে যাবেন, যে পর্যন্ত না তারা অন্য প্রসঙ্গে লিপ্ত হয়। আর যদি শয়তান আপনাকে ভুলিয়ে দেয়, তবে স্মরণ হওয়ার পর আর জালেম সম্প্রদায়ের সাথে বসে থাকবেন না।” (আয়াত: 6:68)

অনুধাবন: কখনও কখনও শয়তান মানুষকে ভুলিয়ে পাপের মজলিসে বা খারাপ পরিবেশে আটকে রাখে। আল্লাহর নির্দেশ হলো—ভুল হওয়াটা স্বাভাবিক (শয়তানের কারণে), কিন্তু মনে পড়ার সাথে সাথেই সেই পরিবেশ ত্যাগ করতে হবে।

সারসংক্ষেপ:

কুরআনের আয়াতগুলো বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, শয়তান মানুষকে তিনটি প্রধান ক্ষেত্রে ভুলিয়ে দেয়:

১. কর্তব্য কাজে: যাতে মানুষের ক্ষতি হয় (যেমন সালামুন আলা ইউসুফ-এর ঘটনা)।

২. সৎকাজে: যাতে মানুষ গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারে (যেমন সালামুন আলা মুসা -এর ঘটনা)।

৩. আল্লাহর স্মরণে: যাতে মানুষ পথভ্রষ্ট হয় (সূরা মুজাদালা)।

তাই ভুলে যাওয়া বা অমনোযোগী হওয়া অনেক ক্ষেত্রে নিছক কাকতালীয় নয়, বরং এটি শয়তানের একটি সূক্ষ্ম চক্রান্ত।

আল্লাহর সৃষ্টি বিকৃতি করা শয়তানের আদেশ:

আর অবশ্যই আমি তাদের ভ্রষ্ট করব এবং অবশ্যই তাদের আশ্বাস দিব এবং অবশ্যই তাদের আদেশ দিব, ফলে অবশ্যই তারা পশুর কান ছিদ্র করবে। আর আমি অবশ্যই তাদেরকে নির্দেশ করব, ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টি বিকৃত করবে। আর যে আল্লাহর পরিবর্তে শয়তানকে ঘনিষ্ঠজনরূপে গ্রহণ করে, তাহলে অবশ্যই সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, স্পষ্ট ক্ষতি-আয়াত ৪:১১৯ (৩০:৩০)

🚫যার ওপর ইবলিশ-শয়তানে কর্তৃত্ব থাকবে না/ শয়তানের সীমাবদ্ধতা: 

কুরআন মাজিদে একাধিক জায়গায় ইবলিস (শয়তান) আল্লাহর সামনে শপথ করে বলেছে যে, সে সব মানুষকে বিভ্রান্ত করবে, কিন্তু সে নিজেই স্বীকার করেছে যে ‘মুখলিস’ বা ‘একনিষ্ঠ’ বান্দাদের ওপর তার কোনো ক্ষমতা নেই।

১. এখানে ইবলিস আল্লাহর কাছে চ্যালেঞ্জ করার সময় এই ব্যতিক্রমের কথা উল্লেখ করে।

সে (ইবলিস) বলল: হে আমার রব! যে কারণে আপনি আমাকে পথচ্যুত করলেন, আমি অবশ্যই তাদের জন্য পৃথিবীর মধ্যে শোভা সৃষ্টি করব এবং অবশ্যই আমি তাদের সবাইকে পথচ্যুত করব; তবে তাদের মধ্যে আপনার একনিষ্ঠ (মুখলিস/মনোনীত) বান্দারা ছাড়া-সূরা আল-হিজর, আয়াত: 15:40  (3:14)

২. এখানে ইবলিস আল্লাহর ক্ষমতার বা ইজ্জতের শপথ করে একই কথা বলে।

সে (ইবলিস) বলল: ‘আপনার ক্ষমতার (ইজ্জতের) শপথ! আমি তাদের সকলকেই পথভ্রষ্ট করব। তবে তাদের মধ্যে আপনার একনিষ্ঠ (মুখলিস) বান্দারা ছাড়া-(আয়াত: 38:৮২-৮৩)

৩. শয়তানের এই দাবির প্রেক্ষিতে আল্লাহ তায়ালা নিজেও নিশ্চিত করেছেন যে, তাঁর খাঁটি বান্দাদের ওপর শয়তানের জোর খাটবে না।

(আল্লাহ বললেন) নিশ্চয় আমার বান্দাদের ওপর তোমার কোনো ক্ষমতা নেই। আর কর্মবিধায়ক হিসেবে আপনার রবই যথেষ্ট- (আয়াত: 17:64-64)

4. ইবলিশ শয়তান ধন-সম্পদ ও সন্তানে অংশীদার হওয়ার ব্যাপারে ক্ষমতাপ্রাপ্ত (১৭:৬৪, ৭:১৭): তবে তার কর্তৃত্ব নেই যদি-

নিশ্চয় আমার বান্দারা, তাদের ওপর তোমার কোনো কর্তৃত্ব (সুলতান) নেই। আর মধ্যস্থতাকারী (ওয়াকিল) হিসাবে তোমার রবই যথেষ্ট হয়েছেন-১৭:৬৫

 প্রতিকার ও প্রোটেকশন: আল্লাহর নির্দেশিত অ্যাকশন প্ল্যান:

আল্লাহ তায়ালা শয়তানের এই অদৃশ্য আক্রমণের মোকাবিলায় কুরআনে স্পষ্ট কিছু ‘প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা’ (Protection) এবং ‘করণীয়’ ঠিক করে দিয়েছেন।

ধাপ ১: তাৎক্ষণিক প্রোটেকশন: উত্তেজিত হওয়ামাত্র আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া (ইস্তিআজা-আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া)-

যখনই রাগ আসবে বা মনের ভিতর কোনো কুবুদ্ধি বা উত্তেজনা অনুভব হবে, কুরআনের নির্দেশ হলো—দেরি না করে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া। এটিই ফার্স্ট এইড।

“আর যদি শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো প্ররোচনা (কুমন্ত্রণা/উস্কানি) তোমাকে প্রলুব্ধ করে, তবে আল্লাহর আশ্রয় চাও। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।” (আয়াত: 7:200; 41:৩৬)

🔗 শয়তান ভুলিয়ে দিলে কী করতে হবে, তার সমাধানও কুরআনে দেওয়া হয়েছে: 

আয়াত: “...আর যখন ভুলে যাবে, তখন তোমার রবকে স্মরণ করবে...” (আয়াত: 18:24)

ধাপ ২: রাগ হজম করা-সংবরণ করা ও ক্ষমা করা (মানসিক নিয়ন্ত্রণ): ও ক্ষমা করা

আল্লাহ তায়ালা তাদের জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন যারা রাগের মুহূর্তে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এটি শয়তানের বিরুদ্ধে বড় বিজয়।

(মুত্তাকি তারা) যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় দান করে, যারা রাগ সংবরণ (হজম) করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে; আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।  (আয়াত: 3:১৩৪)

ধাপ ৩: মন্দের জবাব ভালো দিয়ে দেওয়া (কৌশলগত প্রতিরোধ): খারাপ ব্যবহারের জবাবে ভালো ব্যবহার করা-

কেউ যদি আপনার সাথে খারাপ আচরণ করে বা রেগে কথা বলে (যা শয়তানের উস্কানি), তবে আপনি যদি পাল্টা খারাপ আচরণ করেন তবে শয়তান জিতে যাবে। কুরআনের ফর্মুলা হলো—বিপরীত আচরণ করা।

ভালো এবং মন্দ কখনো সমান হতে পারে না। (মন্দকে) প্রতিহত করো তা দিয়ে যা উৎকৃষ্ট (ভালো ব্যবহার); ফলে তোমার সাথে যার শত্রুতা রয়েছে, সেও অন্তরঙ্গ বন্ধু হয়ে যাবে। (সূরা ফুসসিলাত, আয়াত: ৩৪)

ধাপ ৪: মুমিনদের মধ্যে সন্ধি স্থাপন করা: বিরোধ দেখা দিলে তা মীমাংসা করে নেওয়া-

যদি দুই পক্ষের মধ্যে শয়তান বিরোধ বাধিয়ে দেয়, তবে তৃতীয় পক্ষের দায়িত্ব হলো তাদের মিলিয়ে দেওয়া।

মুমিনরা তো পরস্পর ভাই-ভাই। অতএব, তোমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করে দাও এবং আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১০)

ধাপ ৫: শয়তানকে শত্রু হিসেবে গ্রহণ করা (সতর্কতা):

আল্লাহ বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, শয়তান আমাদের বন্ধু নয়, সে চায় আমরা যেন রাগের বশবর্তী হয়ে জাহান্নামী হই। এই সচেতনতা থাকাই একটা বড় প্রোটেকশন।

নিশ্চয় শয়তান তোমাদের শত্রু, তাই তাকে শত্রু হিসেবেই গ্রহণ করো। সে তো তার দলবলকে কেবল এজন্যই ডাকে যাতে তারা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসী হয়-(আয়াত: 35:6)

[তবে যারা আল্লাহর নষ্ঠিাবান বান্দা, তারা গ্রফেতার হয়ে আসবে না-আয়াত: ৩৭:১৫৯-১৬০ (৩৭:৪০, ৩৭:৭৪, ৩৭:১৬৯, ৩৭:১৬০), মুখলেছ-গঁশযষবং-খালেছ-এখলাস-৩৯:২-৩, ৪:১৪৬, ৩৯:১১-১২, ৯৮:৫, ৩৮:৪৫-৪৬ 

মোখলেস বান্দা সমুদ্রের মধ্যে (রহ ঃযব ংবধ-ড়পবধহ) কেমন করে ডাকে জানতে- আয়াত: ৯৮:৫, ৪০:৬৫-৬৬, ১৫:৩৯-৪২, ৩৮:৮২-৮৩, ২৯:৬৫-৬৬, ৩১:৩২, ২২:১১, ৩৯:৪৯, ২৯:১০, ৩০:৩৬, ১২:৮৬, ৬:৬৩-৬৪, ১৭:৬৭-৬৮, ১০:১২, ৭:২৯, ১০:২১-২২, ৩৯:৮ (আরও জানতে-২:১৫৬, ৯:৫০, ৪২:৩০, ৫৭:২২, ৬৪:১১, ৭:৩৪-৩৫, ৪৩:৪৯-৫০, ১৬:৫৩-৫৫, ৪২:৩৪, ৪১:৫০-৫১)] 

 প্রোটেকশন: ইখলাস (একনিষ্ঠতা) হলো শয়তানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় বর্ম। যার অন্তরে ইখলাস আছে, শয়তান তাকে ধোঁকা দিতে ব্যর্থ হয়।

আশ্রয় চেয়ে ঐশি ফোনে যোগাযোগ করার আদেশ:

আল-কোরআনে শয়তান বা ইবলিসের ধোঁকা ও প্ররোচনা থেকে আল্লাহ সুবহানাহু তালার কাছে আশ্রয় চাওয়ার জন্য একাধিক আয়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিচে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আয়াত উল্লেখ করা হলো:

মুত্তাকীরা শয়তানের প্ররোচনা (নাযাগ) থেকে আশ্রয় চায় (আল্লাহর আদেশ মোতাবেক): 
আর যদি শয়তানের পক্ষ হতে কোন প্ররোচনা তোমাকে প্ররোচিত করে, তাহলে তুমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। নিশ্চয় তিনি সর্বস্পন্দনগ্রাহী, বিস্তৃত জ্ঞানসম্পন্ন। নিশ্চয় যারা তাকওয়া অবলম্বন করে যখন শয়তানের কাছ থেকে কোনো কুমন্ত্রণা তাদেরকে স্পর্শ করে, তারা স্মরণ করে এরপর তৎক্ষণাৎ তারা দৃষ্টিবান-আয়াত ৭:২00

আর যদি শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো প্ররোচনা তোমাকে প্ররোচিত করে, তাহলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করো। নিশ্চয় তিনি, তিনিই সর্বস্পন্দনগ্রাহী, বিস্তৃত জ্ঞানসম্পন্ন-আয়াত 41:36

নিশ্চয় তাদের কাছে এসেছে এমন কোনো প্রমাণ ব্যতীত যারা আল্লাহর আয়াতসমূহের মধ্যে বিতর্ক করে। তাদের অন্তরসমূহের মধ্যে অহংকার ছাড়া নেই। তারা সেটার অর্জনকারী নয়। সুতরাং আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। নিশ্চয় তিনি, তিনিই সর্বস্পন্দনগ্রাহী, অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন-আয়াত 40:56

অতএব, যখন আপনি কোরআন পাঠ করেন তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চান-আয়াত ১৬:৯৮

আশ্রয় চেয়ে ঐশি ফোন সবার আগে (Defensive measures:):

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-1 〕❖ ──┓

رَّبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ  وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَن يَحْضُرُونِ

 

রব্বী- আঊ’যুবিকা মিন হামাঝা-তিশ্ শাইয়া-তীন, অ-আঊ’-যুবিকা রব্বী- আইঁ-ইয়াহ্দ্বুরূন। 

অর্থ: হে আমার রব-সর্বমহাব্যবস্থাপক! আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি-করব শুধুমাত্র আপনার কাছে শয়তানদের  ষড়যন্ত্রসমূহ সমূহ থেকে, এবং আমি আরও আশ্রয় প্রার্থনা করছি-করব।

হে আমার রব-সর্বমহাব্যবস্থাপক! শুধুমাত্র আপনার কাছে সেসব শয়তান তথা খারাপ কাজের প্রধানদের-নেতাদের থেকে যারা আমার কাছে উপস্থিত হয়-হবে- আল কুরআন ২৩:৯৭-৯৮ 

وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيم

অল্লা-হু সামী‘ঊন্ ‘আলীম্।   

অর্থ: এবং আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ-আল কুরআন ২৪:২১ (৪১:৩৬, ৭:২০০, ২:২২৪) 

اِنَّهٗ هُوَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ

ইন্নাহু হুওওয়াসসামী‘ঊল ‘আলীম্।  

অর্থ: নিশ্চয়ই তিনি, তিনিই সবস্পন্দনগ্রাহী, বিস্তৃত জ্ঞানসম্পন্ন -আল কুরআন ৪১:৩৬ (৭:২০০, ২:২২৪, ১০:৬৫, ৪৪:৬)  

إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِير

ইন্নাহূ হুওয়াস্ সামী‘উল্ বাছীর। 

অর্থ: নিশ্চয়ই তিনি, তিনিই সর্বস্পন্দনগ্রাহী, অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন-আল কুরআন ৪০:৫৬  

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-2 〕❖ ──┓

 أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ◌ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ◌ وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ◌وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ◌ وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ 

আ‘ঊযু বিরব্বিল্ ফালাক্ব। মিন্ শাররি মা-খলাক্ব। অমিন্ শাররি গ-সিক্বিন্ ইযা-অক্বাব্। অমিন্ শাররি ন্নাফ্ফা-ছা-তি ফিল্ ‘উক্বদ্। অমিন্ শাররি হা-সিদিন্ ইযা-হাসাদ্।  

অর্থ: আমি আশ্রয় চাচ্ছি প্রভাতের ররের কাছে। যা তিনি সৃষ্টি করেছেন সেসবের অনিষ্ট থেকে। এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন রাতের অনিষ্ট থেকে, যখন তা গভীর হয়। এবং গিরার মধ্যে ফুঁৎকারকারিণীদের অনিষ্ট থেকে এবং হিংসুকের (ঈর্ষাপরায়ণতার) অনিষ্ঠ থেকে এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে- আল কুরআন ১১৩:১-৫ (১৭:৬৪, ৬:৯৫-৯৬)। 

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-3 〕❖ ──┓

أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ◌ مَلِكِ النَّاسِ◌ إِلَـٰهِ النَّاسِ◌مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ◌ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ◌  مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ 

আ‘ঊযু বিরব্বিন্না-স্।  মালিকিন্না-স্। ইলা-হি ন্না-স্। মিন্ শাররিল ওয়াস্ ওয়া-সিল্ খান্না-সি। আল্লাযী ইউওয়াস্ওয়িসু ফী ছুদূরিন্না-স্। মিনাল্ জ্বিন্নাতি অন্না-স্। 

অর্থ: আমি আশ্রয় চাচ্ছি মানুষের ররের কাছে। মানুষের মালিক। মানুষের ইলাহ। প্ররোচনাদানকারী খন্নাসের অনিষ্ট থেকে।  যে মানুষের অন্তরসমূহের মধ্যে প্ররোচনা দেয়। জ্বীন ও মানুষের মধ্য থেকে।- আল কুরআন ১১৪:১-৬ 

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-4 〕❖ ──┓

 أَنِّي مَسَّنِيَ الشَّيْطَانُ بِنُصْبٍ وَعَذَابٍ

আন্নী মাস্ সানিয়াশ্ শাইত্বোয়া-নু বিনুছ্বিঁও অ‘আযা-ব্। 

অর্থ: (স্মরণ করো আমার বান্দা আইয়ুবের কথা! যখন সে তার রবকে ডেকেছিল-) যে আমি, আমাকে কষ্ট ও যন্ত্রণা দিয়ে শয়তান স্পর্শ করেছে! -আল কুরআন ৩৮:৪১  

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-5 〕❖ ──┓

 আল্লাহর আয়াত তথা হুকুম নিয়ে ঠাট্রা-বিদ্রæপ করলে যা পাঠ করতে হবে- জাহিলিয়াত থেকে মুক্তি চেয়ে: তুমি কখনও মুর্খ /অজ্ঞ/ জাহেল লোকদের দলে শামিল হয়োনা- AvqvZ ৬:৩৫ (১১:৪৬, ১০:৮৯):

 أَعُوذُ بِٱللَّهِ أَنْ أَكُونَ مِنَ ٱلْجَـهِلِينَ

আ‘ঊযুবিল্লা-হি আন্ আকূনা মিনাল্ জ্বা-হিলীন্ ।  

অর্থ: আল্লাহর নিকট আশ্রয় নিচ্ছি যাতে আমি অজ্ঞ/ অপরিনামদর্শী/ নির্বোধদের  অর্ন্তভুক্ত না হই- আল কুরআন ২:৬৭ 

 ┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-6 〕❖ ──┓

  رَبِّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أَسْأَلَكَ مَا لَيْسَ لِي بِهِ عِلْمٌ ۖ وَإِلَّا تَغْفِرْ لِي وَتَرْحَمْنِي أَكُن مِّنَ الْخَاسِرِينَ 

রব্বি ইন্নী- আ‘ঊযুবিকা আন্ আস্য়ালাকা মা-লাইসা লী বিহী ‘ইল্ম্; অ ইল্লা-তাগফিরলী অতামহামনী- আকুম্মিনাল্ খা-সিরীন্।  

অর্থ: হে আমার রব! আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি আপনার কাছে এমন বিষয় চাওয়া থেকে, যে বিষয়ে আমার কোন জ্ঞান নেই। আর যদি না আপনি আমাকে ক্ষমা করেন এবং দয়া করেন, আমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব- আল কুরআন ১১:৪৭  

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-7 〕❖ ──┓

 dv‡nkv Kg©KvÛ: R¦xb kqZvb I gvbyl kqZv‡bi G‡nb dvu` †_‡K wbR‡K iÿvq Av‡e`b

 

رَبِّ السِّجْنُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِمَّا يَدْعُونَنِي إِلَيْهِ ۖ وَإِلَّا تَصْرِفْ عَنِّي كَيْدَهُنَّ أَصْبُ إِلَيْهِنَّ وَأَكُن مِّنَ الْجَاهِلِينَ  فَاسْتَجَابَ لَهُ رَبُّهُ فَصَرَفَ عَنْهُ كَيْدَهُنَّ ۚ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

রব্বিস্ সিজ্বনু আহাব্বু ইলাইয়্যা মিম্মা- ইয়াদ্‘ঊনানী- ইলাইহি অইল্লা-তাছ্রিফ্ ‘আন্নী কাইদাহুন্না আছ্বু ইলাইহিন্না অআকুম্মিনাল্ জ্বা-হিলীন্। 

অর্থ: হে আমার রব! তারা আমাকে যার দিকে আহবান করছে সেটার চেয়ে কারাগারই আমার কাছে অধিক প্রিয়। আর যদি আপনি আমার ক্ষেত্রে তাদের চক্রান্ত  প্রতিহত না করেন, আমি তাদের দিকে ঝুঁকে পড়ব এবং আমি হয়ে যাব অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত। নিশ্চয়ই তিনিই সর্বস্পন্দনগ্রাহী, বিস্তৃত জ্ঞানসম্পন্ন- আল কুরআন ১২:৩৩-৩৪ 

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-8 〕❖ ──┓

 খারাপ ও অশ্লীল কাজ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া:

مَعَاذَ اللَّهِ

মা‘আ-যাল্লাহ!

অর্থ: আল্লাহর আশ্রয় চাই- আল কুরআন ১২:২৩ 

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-9 〕❖ ──┓

 নফসের ওপর বিশ্বাস না করে আল্লাহর রহমতের স্বীকৃতি: মূলত বিনয় এবং নফসের কুপ্রবৃত্তি থেকে আল্লাহর রহমত কামনার স্বীকারোক্তি: 

وَمَاۤ اُبَرِّیُٔ نَفۡسِیۡ ۚ اِنَّ النَّفۡسَ لَاَمَّارَۃٌۢ بِالسُّوۡٓءِ اِلَّا مَا رَحِمَ رَبِّیۡ ۚ اِنَّ رَبِّیۡ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ 

 

ওয়া মা উবাররিউ নাফসী, ইন্না নাফসা লা-আম্মারাতুম বিস-সায়ি ইল্লা মা রহিমা রাব্বী; ইন্না রাব্বী গাফুরুর রাহীম। 

অর্থ: আমি নিজেকে নির্দোষ মনে করি না (বা নিজেকে সম্পূর্ণ পবিত্র দাবি করি না)। নিশ্চয়ই মানুষের মন (নফস) মন্দ কর্মপ্রবণ, কিন্তু আমার রব যার প্রতি দয়া করেন (সে ব্যতীত)। নিশ্চয়ই আমার রব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। -আয়াত: ১২:৫৩  

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-10 〕❖ ──┓

لَّا مَلۡجَأَ مِنَ ٱللَّهِ إِلَّآ إِلَيۡهِ ثُمَّ تَابَ عَلَيۡهِمۡ لِيَتُوبُوٓاْۚ إِنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلتَّوَّابُ ٱلرَّحِيمُ

লা-মাল্জ্বায়া মিনাল্লা-হ্ ইল্লা- ইলাইহ্; ইন্নাল্লা-হা হুঅত তাওয়্যা-র্বু রহীম   

অর্থ: আল্লাহর থেকে কোনো আশ্রয়স্থল নেই তাঁর কাছে ছাড়া। নিশ্চয়ই আল্লাহ, তিনিই তওবা কবুলকারী, দয়ালু- আল কুরআন ৯:১১৮। 

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-11 〕❖ ──┓

অপ্রত্যাশিত খারাপ কোন কিছু হওয়া রোধে আশ্রয় লাভ: 

(বলুন!) ’রহমান’  থেকে কে তোমাদেরকে হেফাজত করবে রাতে ও দিনে-২১:৪২।

إِنِّىٓ أَعُوذُ بِٱلرَّحْمَٰنِ مِنكَ إِن كُنتَ تَقِيًّا

ইন্নী- আ‘ঊযু বিররহমা-নি মিন্কা ইন্ কুন্তা তাক্বিয়্যা। 

অর্থ: নিশ্চয়ই আমি তোমার থেকে দয়াময়ের কাছে আশ্রয় চাই যদি তুমি সাবধান হও- আল কুরআন ১৯:১৮ 

 

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-12 〕❖ ──┓

মুশরিক ও অহংকারীদের ও সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের থেকে আশ্রয়ের দুআ: 

إِنِّى عُذْتُ بِرَبِّى وَرَبِّكُم مِّن كُلِّ مُتَكَبِّرٍ لَّا يُؤْمِنُ بِيَوْمِ ٱلْحِسَابِ

 ইন্নি উ’যতু বিরব্বী- ওয়ারব্বিাকুম মিন্ কুল্লী মুতাকাব্বিরিল্লা- ইয়ু’মিনু বিইয়াওমিল্ হিছা-ব। 

অর্থ: নিশ্চয়ই আমি আমার রবের ও তোমাদের রবের কাছে প্রত্যেক অহংকারী থেকে আশ্রয় চাচ্ছি, যে হিসাবের দিনের প্রতি বিশ^াস রাখে না- আল কুরআন ৪০:২৭ (২৬:১১৩)। 

〔মূশরিকদের থেকে আশ্রয় লাভের বিশেষ দরখাস্ত-13 〕

رَبَّنَا آتِنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً وَهَيِّئْ لَنَا مِنْ أَمْرِنَا رَشَدًا

iveŸvbv- AvwZbv- wgjøv`ybKv ivngvZvIu Iqv nvBwq¨Õjvbv- wgb Avgwibv- ivkv`v-| 

A_©: †n Avgv‡`i ie! Avgv‡`i‡K Avcbvi c¶ ‡_‡K ingZ `vb Kiæb Ges Avgv‡`i Rb¨ Avgv‡`i KvRK©g mwVKfv‡e m¤úbœ Kivi e¨e¯’v K‡i w`b!-AvqvZ 18:10| 

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-14 〕❖ ──┓

আল্লাহর নাযিলকৃত আয়াত অপছন্দকারী, কাফিরদের আক্রমনের বিরুদ্ধে আশ্রয়ে যা বলতে হবে: 

(তারা বলল, অবশ্যই যদি তুমি বিরত না হও, হে নূহ! তুমি নিশ্চয়ই পাথরের আঘাতে নিহতদের অর্ন্তভুক্ত হবে-২৬:১১৬)  

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-15 〕❖ ──┓

 وَإِنِّي عُذْتُ بِرَبِّي وَرَبِّكُمْ أَن تَرْجُمُونِ

ইন্নী ‘উয্তু বিরব্বী অরব্বিকুম্ আন্ তার্জুমূন্।  

অর্থ: নিশ্চয়ই আমি আমার রবের এবং তোমাদের রবের কাছে আশ্রয় গ্রহন করেছি, পাছে তোমরা আমাকে রজম করো-৪৪:২০ (২৬:১১৬)।  

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-16 〕❖ ──┓

নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা ও মুসলিম (সমর্পিত) একজন হিসাবে মৃত্যুর দোয়া : 

فَاطِرَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ اَنۡتَ وَلِیّٖ فِی الدُّنۡیَا وَالۡاٰخِرَۃِ ۖ تَوَفَّنِیۡ مُسۡلِمًا وَّ اَلۡحِقۡنِیۡ بِالصّٰلِحِیۡنَ

ফাতিরাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি আনতা ওলিয়্যী ফিদ্দুনিয়া   ওয়াল আখিরাতি, তাওয়াফ্ফানী মুসলিমীওঁ ওয়া আলহিকনী বিস-সালিহীন। 

অর্থ: হে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা! আপনিই ইহকাল ও পরকালে আমার অভিভাবক। আপনি আমাকে মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দান করুন এবং নেককারদের সাথে আমাকে মিলিত করুন। (সূরা ইউসুফ, আয়াত: 12:101) 

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-17 〕❖ ──┓

অন্তর (সাদর) -এর সংকীর্ণতা দূরীকরণে তাসবিহ:

رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي - وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي

 উচ্চারণ: রাব্বিশ রাহলী সাদরী; অ-ইয়াসসির লী আমরী।

অর্থ: হে আমার রব! আমার বক্ষ (সদর) আমার জন্য প্রশস্ত করে দিন এবং আমার কাজ আমার জন্য সহজ করে দিন। (সূরা ত্বহা ২০:২৫-২৬) 

(সংকীর্ণতা দূরীকরণে তাসবিহ: যখন বিদ্রূপকারীরা আজেবাজে কথা বা কটাক্ষ করে, তখন মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই কষ্টের সৃষ্টি হয়। আল্লাহ রব্বুল আলামিন এর আধ্যাত্মিক (Metaphysical) সমাধান দিয়েছেন সূরা আল-হিজরে: আমি তো জানি যে, তারা যা বলে তাতে আপনার অন্তর (সাদর)  সংকুচিত হয়। সুতরাং আপনি আপনার রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা (তাসবিহ) করুন এবং সাজদাহকারীদের অন্তর্ভুক্ত হোন-(১৫:৯৭-৯৮)। 

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-18 〕❖ ──┓

জালিম ও সত্য বিমুখদের অনিষ্ট থেকে আশ্রয়ের দুআ:

رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِّلْقَوْمِ الظَّالِمِينَ - وَنَجِّنَا بِرَحْمَتِكَ مِنَ الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ

 উচ্চারণ: রাব্বানা লা তাজআলনা ফিতনাতাল লিলক্বাউমিয যালে মীন; অ-নাজ্জিনা বিরাহমাতিকা মিনাল ক্বাউমিল কাফিরীন। 

অর্থ: হে আমাদের রব! আপনি আমাদের এই জালিম কওমের পরীক্ষার পাত্র বানাবেন না। এবং আপনার অনুগ্রহে আমাদের এই কাফির কওম হতে নাজাত (মুক্তি) দিন।  (সূরা ইউনুস ১০:৮৫-৮৬) 

নোট: সবচেয়ে বড় জালিমের পরিচয়: আর কে তার চেয়ে বড় জালিম, যাকে তার রবের আয়াতসমূহ দিয়ে উপদেশ দেয়া হয়, এরপরও সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়-আয়াত ১৮:৫৭ (৬:২১, ৬:৯৩) 

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-19 〕❖ ──┓

আল্লাহর আয়াত থেকে বিমুখ ও দ্বীন নিয়ে বিদ্রূপকারীদের বিষয়ে আল্লাহর ঘোষণা (তাকওয়া ও ধৈর্যের তাসবিহ):

 حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ ۖ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ ۖ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ 

উচ্চারণ: হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া; আলাইহি তাওয়াক্কালতু অ-হুয়া রাব্বুল আরশিল আযীম। 

অর্থ: আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি এবং তিনি মহান আরশের রব। (সূরা আত-তাওবাহ ৯:১২৯) 

┏─ ❖〔মুখলিস বান্দার সারাক্ষণের দুআ-তাসবিহ-20 〕❖ ─┓

لَّآ اِلٰهَ اِلَّآ اَنْتَ سُبْحٰنَكَ اِنِّيْ كُنْتُ مِنَ الظّٰلِمِيْنَ

jv-nv Bjøv-AvsZv myenv-bvKv Bbœx Kyš‘ wgbvR ‡Rvqv-wjgxb&| 

অর্থ: আপনি ছাড়া ইলাহ নেই, আপনি অপবিত্রতামুক্ত! নিশ্চয়ই আমি, আমিই হলাম জালিমদের অর্ন্তভুক্ত- আল কুরআন ২১:৮৭   

┏─ ❖〔মুখলিস বান্দার সারাক্ষণের দুআ-তাসবিহ-21 〕❖ ─┓ 

هُوَ الْحَيُّ لَا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ

الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

 হুওয়াল হাইয়্যু লা-ইলাহা ইল্লা হওয়া

আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন! 

তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ব্যতীত কোন  উপাস্য নেই।

 অতএব, তাঁকে ডাক তাঁর খাঁটি (মুখলিছিন) এবাদতের মাধ্যমে।

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহর-40:65 

নোট: কারন, কেবলমাত্র মুখলিস বান্দাদেরকে ইবলিশ শয়তান পদচ্যুত করতে পারে না। (দ্র: আয়াত ১৫:৩৯-৪০)


Post a Comment (0)
Previous Post Next Post