বাংলাদেশ সেনা-নৌ-বিমান বাহিনী-বিজিবি: প্রতিরক্ষা নীতি উন্নয়ন -কী বলে আল-কুরআন? (Defense policy)

সত্যিকারের আয়াতে বিশ্বাসী মুসলিম দেশের সেনাবাহিনীতে—আল-কোরআন জানা, বোঝা ও অনুসরণ করা কতটা জরুরি—দেখুন!

সম্প্রতি একটি মুসলিম দেশের সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ কর্মকর্তার কিছু বক্তব্য আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। তাদের দেশের সেনাবাহিনী ২০২৫ সালের গোড়ার দিকে প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্রের সাথে আকস্মিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত এক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধটির ন্যায্যতা নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও, তাদের সামরিক অপারেশনের নামটি আমাকে গভীরভাবে ভাবিয়েছে।

🔶 অপারেশনের নাম: “بُنْيَانٌ مَرْصُوص” (বুনইয়ানুন মারসুস)

এর অর্থ—
“দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত লৌহদৃঢ় দেয়ালের মতো ঐক্যবদ্ধ শক্ত কাঠামো।”

শব্দটি সরাসরি কুরআনের একটি আয়াত—সূরা আস-সাফ (৬১:৪)—থেকে নেওয়া।
যা বোঝায়:

-শক্ত ঐক্য

-শৃঙ্খলা
-সমন্বিত প্রতিরক্ষা
-এবং আল্লাহর পথে দৃঢ়তা

এটি দেখে মনে হয়েছে, ওই দেশের সামরিক নেতৃত্ব সত্যিই কুরআনিক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে নিজেদের সামরিক চেতনা মিলিয়ে দেখেন।


🔶 সেই দেশের সেনাপ্রধানের বক্তব্য—যা দেখায় তাঁর কুরআন-চেতনা:

এক সাম্প্রতিক অনুষ্ঠানে তিনি এমন কিছু মন্তব্য করেন (স্থানীয় পত্রিকা সূত্র):

“আমি বিজয়ী করিনি, আল্লাহই তা করেছেন।”
“এ সংঘর্ষে শত্রুর পরাজয় ছিল আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ।”
“আমাদের সেনাবাহিনী আল্লাহর সেনাবাহিনী; তারা আল্লাহর নামে লড়াই করে।”

সাধারণত সামরিক নেতারা বিজয়ের কৃতিত্ব নিজেদের কৌশল, শক্তি বা সিদ্ধান্তে দেখান।
কিন্তু তাঁর বাক্যগুলো ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন—
সেখানে ছিল তাওহীদ, আল্লাহর উপর নির্ভরতা, এবং কুরআনিক দৃষ্টিভঙ্গির স্পষ্ট প্রতিফলন।

এতে বোঝা যায়—
কুরআন-চর্চা একজন সেনানেতাকে কেবল কৌশলগত দৃঢ়তাই দেয় না; বরং তাঁকে বিনয়, জবাবদিহিতা ও আল্লাহর উপর নির্ভরতার শক্ত ভিত্তি প্রদান করে।


📖 আল-কুরআন, সূরা আস-সাফ (৬১:৪)

“নিশ্চয়ই আল্লাহ ভালবাসেন তাদেরকে যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধভাবে যুদ্ধ করে, যেন তারা একটি সুদৃঢ় প্রাচীর— বুনইয়ানান মারসুস —একের পর এক সংযুক্ত গঠনের ন্যায়।”

এই আয়াত শুধু যুদ্ধের কথা বলে না—
এটি বলে ঐক্য, শৃঙ্খলা, আধ্যাত্মিক শক্তি, এবং কল্যাণের পথে দৃঢ়তার কথা।


🔶 কেন মুসলিম সেনাবাহিনীর জন্য আল-কুরআন জানা জরুরি?

✅ দৃষ্টিভঙ্গি দৃঢ় করে

✅ দায়িত্ববোধ বাড়ায়
✅ অহংকার কমায়
✅ আল্লাহর উপর নির্ভরতা সৃষ্টি করে
✅ যুদ্ধকে ধ্বংস নয়, ন্যায় প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে দেখতে শেখায়
✅বাহিনীতে ঐক্য ও শৃঙ্খলা জন্মায়


https://www.jugantor.com/international/1029956

রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা ও প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করা-আল-কুরআন এ বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরা হলো—


১. রাষ্ট্রকে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়তে কুরআনের নির্দেশ

📌 “রিবাতুল খাইল”— প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি গ্রহণ

আল-কুরআন বলে:

তোমরা তাদের মোকাবিলায় যতটুকু সক্ষম প্রস্তুতি গ্রহণ কর— ঘোড়া-দৌড়ানো বাহিনীসহ। এর মাধ্যমে তোমরা আল্লাহর শত্রু, তোমাদের শত্রু এবং তাদের ছাড়াও আরও অনেকের মনে ভীতি সঞ্চার করবে যাদের তোমরা চেন না, আল্লাহ চেনেন…সূরা আনফাল 8:60

 

এই আয়াতের মূল শিক্ষা:

✅ শত্রুর আক্রমণ ঠেকাতে রাষ্ট্রকে সামরিক প্রস্তুতি নিতে হবে।

✅ এর মধ্যে অর্থ ব্যয়, অস্ত্র-সরঞ্জাম, বাহিনী প্রশিক্ষণ—সবই অন্তর্ভুক্ত।
✅ উদ্দেশ্য যুদ্ধ শুরু করা নয়, বরং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা


গাজওয়াতুল হিন্দ—ঐতিহাসিক বা সহীহ সূত্রে ভিত্তিহীন; অথচ চিরসত্য নির্দেশনা কুরআনেই স্পষ্ট:

গাজওয়াতুল হিন্দ নিয়ে বিভিন্ন মত, গল্প বা ভবিষ্যদ্বাণী প্রচলিত থাকলেও—

প্রামাণিক হাদীসের মানদণ্ডে এগুলোর অধিকাংশই দুর্বল বা অপ্রমাণিত

তাই এই ধরনের ঘোষণা বা উত্তেজনাকর গল্পকে ইসলামের নির্ভরযোগ্য শিক্ষা হিসেবে মানার ভিত্তি নেই।

কিন্তু এর বিপরীতে—
আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাব আল-কুরআনের বক্তব্য চির-অম্লান, স্পষ্ট এবং অবিনশ্বর।

বিশেষ করে যখন কথা আসে
ন্যায় প্রতিষ্ঠা,
দৃঢ়তা,
ঐক্য,
— এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ প্রতিরোধের,

তখন কুরআন আমাদেরকে যে নির্দেশনা দেয়, তা কখনো পরিবর্তিত হয় না এবং কখনো বিতর্কিতও হয় না।


📖 আল-কুরআনের চিরসত্য নির্দেশনা

সারিবদ্ধভাবে যুদ্ধ করে:

📖 সূরা আস-সাফ ৬১:৪

নিশ্চয়ই আল্লাহ ভালবাসেন তাদেরকে যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধভাবে যুদ্ধ করে, যেন তারা একটি সুদৃঢ় প্রাচীর— বুনইয়ানান মারসুস —একের পর এক সংযুক্ত গঠনের ন্যায়। সূরা আস-সাফ ৬১:৪
🔍 এই আয়াত যেসব মূল শিক্ষা দেয়—

- যুদ্ধ উস্কানি নয়, ঐক্যবদ্ধ ন্যায়সংগত প্রতিরোধ

- ব্যক্তিগত আবেগ নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দৃঢ়তা
- বিশৃঙ্খলা নয়, সংগঠিত, শৃঙ্খলাবদ্ধ অবস্থান
- অতিরঞ্জিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়, কুরআনের নির্দেশিত বাস্তবতা

২. নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অন্যতম লক্ষ্য:

কুরআনে বলা হয়েছে:

“আর আল্লাহ তোমাদের ভয় হতে নিরাপত্তায় রূপান্তরিত করলেন…” সূরা কুরাইশ 106:4

রাষ্ট্র যদি শক্তিশালী না হয়, তাহলে নাগরিকেরা নিরাপত্তা পাবে না। তাই নিরাপত্তা বজায় রাখা একটি ধর্মীয় দায়িত্ব।



৩. দুর্বল রাষ্ট্র হলে মানুষ নিপীড়নের শিকার হয়:

কুরআন মজলুমদের আর্তনাদ উল্লেখ করেছে:

“আমরা কেন আল্লাহর পথে এবং তাদের উদ্ধারের জন্য যুদ্ধ করবো না— যারা অত্যাচারিত: পুরুষ, নারী ও শিশু?” সূরা নিসা 4:75

- দুর্বল হলে রাষ্ট্র নিজে নিপীড়িত হবে, নাগরিকরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে।

- তাই প্রতিরক্ষা ব্যয় করা ন্যায় ও ইনসাফ রক্ষার অংশ।

📖 সূরা আল-বাকারা ২:২৭৯ (বাকারা 279)

তোমরা জুলুম করবে না এবং তোমরাও জুলুমের শিকার হবে না।”

এ আয়াত মূলত রিবা নিষিদ্ধকরণ প্রসঙ্গে নাযিল হয়েছিল, কিন্তু নীতিগতভাবে এর বাক্যটি—
“লা তাজলিমূনা ওয়া লা তুযলামূন”
(তোমরা জুলুম করবে না, তোমরাও জুলুমের শিকার হবে না)
—ইসলামী ন্যায়নীতির সর্বজনীন নিয়ম হিসেবে বিবেচিত।


৪. সীমান্ত রক্ষা (রিবাত) ইসলামে বিশেষ ইবাদত:

হাদীস ও কুরআ     নে সীমান্ত রক্ষা-কারীদের জন্য বিশেষ সওয়াবের কথা বলা হয়েছে: 

“হে ঈমানদারগণ! ধৈর্য ধর, একে অপরকে দৃঢ় কর, সীমান্ত রক্ষায় প্রস্তুত থাক, এবং আল্লাহকে ভয় কর— যাতে তোমরা সফল হও।” সূরা আলে ইমরান 3:200

এখানে মুরাবাতা অর্থ সীমান্ত রক্ষা ও সামরিক প্রস্তুতি।



৫. রাষ্ট্রে শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা সামরিক সুরক্ষার মাধ্যমেই সম্ভব:

কুরআন বারবার বলে,

- ফিতনা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ করতে হবে।

- রাষ্ট্রে শান্তি ও ন্যায় বিচার বজায় রাখতে হলে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা প্রয়োজন।

 রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যয়ে:

“আর তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় কর, এবং নিজেদেরকে নিজেদের হাতেই ধ্বংসের মুখে নিক্ষেপ কোরো না, এবং সৎকর্ম কর; নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন” সূরা আল-বাকারা ২:১৯৫ 

সারাংশ

প্রশ্ন

কুরআনের উত্তর

রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব কেন রক্ষা করবো?

নিরাপত্তা, ন্যায়, স্বাধীনতা ও মজলুমদের রক্ষা করা ইসলামী আদেশ।

প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় কেন?

শত্রুর আক্রমণ প্রতিরোধ, রাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখা, শান্তি বজায় রাখা এবং কুরআনের নির্দেশ পালন।

কুরআন কী বলে?

"প্রস্তুতি গ্রহণ কর" (8:60), "মজলুমদের সাহায্য কর" (4:75), "সীমান্তে সতর্ক থাক" (3:200) ইত্যাদি।

 

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post