উত্তর: না! কেবলমাত্র আল-কুরআন পাঠ করলেই সলাত কায়িম হয় না, আবার শুধু আনুষ্ঠানিকতা নির্ভরতাও সালাত কায়েমের জন্য যথেষ্ট নয়। আল-কুরআনে যেমন বারবার বুঝে বুঝে ধীরে ধীরে পাঠ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তেমনি সলাতের মাধ্যমে এর অনুশীলনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক উভয় প্রকার চর্চা অত্যাবশ্যক। যদি এই অনুশীলন অনুপস্থিত থাকে, তবে আপনি জীবনের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সেই আয়োজন থেকে বঞ্চিত হবেন, যার মাধ্যমে আপনার রবের সাথে একটি অবস্তুগত (ইমমেটেরিয়াল) এবং অজানা শক্তি ক্ষেত্রের সরাসরি সংযোগ স্থাপন হয়।
সলাতের আনুষ্ঠানিকতা ও এর গুরুত্ব:
সলাতের আনুুষ্ঠানিকতা (রিচুয়াল) কিংবা অনানুষ্ঠানিক অনুশীলন এবং এর সকল বিধি-বিধান ও অনুধাবন একমাত্র আল-কুরআন থেকেই গ্রহণ করতে হবে:
♦️ ১. সলাতের আনুষ্ঠানিকতা ও সুনির্দিষ্ট সময়ের নির্দেশ:
অনুধাবন: 'দিনের দু’প্রান্ত' এবং 'রাতের কিছু অংশ' দ্বারা সলাতের নির্দিষ্ট সময়সমূহ (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, ইশা) নির্দেশ করা হয়েছে, যা সলাতের সময়ভিত্তিক কাঠামোকে শক্তিশালী করে।
অনুধাবন: এখানে দিনের বিভিন্ন অংশে সলাত কায়েমের কথা বলা হয়েছে, যা সলাতের সময়গুলোকে আরও স্পষ্ট করে।
♦️ ২. রুকু, সিজদা এবং দাঁড়ানোর নির্দেশ:
সূরা আল-বাক্বারাহ ২:৪৩: "আর তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত দাও এবং
অনুধাবন: 'রুকুকারীদের সাথে রুকু করো' (ওয়ারকাউ মা‘আর র-কি‘ঈন) এই নির্দেশটি স্পষ্ট প্রমাণ যে রুকু সলাতের একটি অবিচ্ছেদ্য শারীরিক অংশ।
অনুধাবন: রুকু ও সিজদাকে সরাসরি ইবাদতের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে এটি সলাতের শারীরিক আনুষ্ঠানিকতাকে প্রতিষ্ঠিত করে।
সূরা আল-বাক্বারাহ ২:২৩৮: "তোমরা সালাতসমূহ এবং মধ্যবর্তী সালাতের প্রতি যত্নবান হও। আর আল্লাহর জন্য
অনুধাবন: 'বিনীতভাবে দাঁড়াও' (কূমূ লিল্লা-হি ক্বনিতীন) নির্দেশ করে সলাতের মধ্যে কিয়াম বা দাঁড়ানো আবশ্যক।
অনুধাবন: রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং তাঁর সাহাবীদের সলাতে রুকু ও সিজদার অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে, যা সলাতের একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতির প্রমাণ।
♦️ ৩. সলাতের উদ্দেশ্য: আল্লাহর স্মরণ, আত্মশুদ্ধি ও চরিত্র গঠন:
সূরা ত্বহা ২০:১৪: "নিশ্চয় আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। সুতরাং আমার ইবাদত কর এবং
অনুধাবন: এই আয়াতটি সলাতের মূল লক্ষ্যকে পরিষ্কার করে – তা হলো 'আল্লাহকে স্মরণ করা' (লি-যিকরী)। এটি প্রমাণ করে যে সলাত আল্লাহর প্রতি একান্ত নিবেদিত একটি পূর্ণাঙ্গ ইবাদত, শুধু কুরআন পাঠ নয়।
সূরা আনকাবূত ২৯:৪৫: "আপনি আপনার প্রতি প্রত্যাদিষ্ট কিতাব পাঠ করুন এবং সালাত কায়েম করুন । নিশ্চয়সালাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে । আর আল্লাহর স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ। আর তোমরা যা করো আল্লাহ তা জানেন।"অনুধাবন: এই আয়াতটি স্পষ্ট করে যে সলাত একটি সক্রিয় প্রক্রিয়া যা মানুষকে অন্যায় ও অশ্লীলতা থেকে রক্ষা করে। এটি সলাতের আত্মিক ও নৈতিক প্রভাবকে নির্দেশ করে।
সূরা আল-আ'লা ৮৭:১৪-১৫: "নিশ্চয় সেই সফলকাম হয়েছে, যে পবিত্র হয়েছে। আর তার রবের নাম স্মরণ করে সালাত আদায় করে ।"অনুধাবন: এখানে আল্লাহর নাম স্মরণ করে সলাত আদায় করাকে আত্মিক পবিত্রতা এবং সফলতার সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে।
♦️ ৪. কুরআন পাঠ ও সলাতের মধ্যে পার্থক্য ও সম্পর্ক:
মুসলিমের ইবাদত একমাত্র কোরআন কেন্দ্রিক:
প্রকৃতপক্ষে আমি আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি যে, আমি এই নগরীর রবের ইবাদত করব, যেটিকে তিনি সম্মানিত করেছেন। আর সবকিছু তাঁরই জন্য। আর আমি আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি যে, আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হব। আর এও যে, আমি কুরআন পাঠ করব। অতএব যে হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়, তাহলে সে মূলত তার নিজের জন্যই হিদায়েতপ্রাপ্ত হয়। আর যে পথভ্রষ্ট হয়, তাহলে বলো, প্রকৃতপক্ষে আমি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত-২৭:৯১-৯২ (৬:১৯, ১৭:৯, ৩৮:২৯)
সূরা আল-মুযযাম্মিল ৭৩:২০: "...সুতরাং কুরআনের যতটুকু সহজ হয় পাঠ কর এবং সালাত কায়েম কর , যাকাত দাও আর আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও..."অনুধাবন: এখানে 'কুরআনের যতটুকু সহজ হয় পাঠ কর' এবং 'সালাত কায়েম কর' দুটি পৃথক নির্দেশ। যদি সলাত কেবল কুরআন পাঠই হতো, তাহলে আলাদাভাবে 'সালাত কায়েম কর' বলার প্রয়োজন ছিল না। এটি প্রমাণ করে যে কুরআন তেলাওয়াত সলাতের একটি অংশ হলেও সলাত নিজেই একটি স্বতন্ত্র, ব্যাপক ইবাদত।
সূরা ফাতির ৩৫:২৯: "যারা আল্লাহর কিতাব তেলাওয়াত করে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি, তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারাই এমন ব্যবসার আশা রাখে, যাতে কখনও লোকসান হয় না।"অনুধাবন: কুরআন তেলাওয়াত এবং সলাত কায়েম করাকে একইসাথে সফলতার মানদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা তাদের পৃথক সত্তাকে প্রমাণ করে।
♦️ ৫. মুমিনদের সফলতার ভিত্তি এবং সলাতের প্রতি যত্নবান হওয়া:
সূরা আল-মুমিনুন ২৩:১-১১: "নিশ্চয়ই মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে, যারা তাদের সালাতে বিনয়ী... আর যারা তাদের লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করে... আর যারা তাদের আমানত ও অঙ্গীকার রক্ষা করে। আর যারা তাদের সালাতের প্রতি যত্নবান । তারাই ওয়ারিছ হবে, যারা ফিরদাউসের ওয়ারিছ হবে। তারা তাতে স্থায়ী হবে।"অনুধাবন: এই আয়াতগুলোতে সফল মুমিনদের গুণাবলীর মধ্যে 'সালাতে বিনয়ী' হওয়া এবং 'সালাতের প্রতি যত্নবান' হওয়াকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সলাতের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উভয় দিকের গুরুত্বকে তুলে ধরে।
সূরা আল-মা'আরিজ ৭০:২২-৩৫: "...তবে সালাত আদায়কারীরা ছাড়া। যারা তাদের সালাতে সর্বদা লেগে থাকে । আর যাদের ধন-সম্পদে নির্দিষ্ট অধিকার রয়েছে যাঞ্চাকারী ও বঞ্চিতের... আর যারা তাদের আমানত ও ওয়াদা রক্ষা করে। আর যারা তাদের সাক্ষ্যদানে অটল থাকে।আর যারা তাদের সালাতের প্রতি যত্নবান । তারাই জান্নাতসমূহে সম্মানিত হবে।"অনুধাবন: এই আয়াতগুলোতে সলাতের প্রতি ধারাবাহিকতা এবং যত্নের কথা বিশেষভাবে বলা হয়েছে, যা সলাত কায়েমের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
সূরা আল-বাক্বারাহ ২:৪৫: "আর তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো । নিশ্চয়ই তা বিনয়ীগণ ছাড়া অন্যদের জন্য বড়ই কঠিন।"অনুধাবন: এই আয়াতটি সলাতকে আল্লাহর সাহায্য চাওয়ার একটি মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছে, যা এর গভীর তাৎপর্যকে নির্দেশ করে।
সূরা আল-বাক্বারাহ ২:১৫৩: "হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো । নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।"অনুধাবন: পূর্ববর্তী আয়াতের মতো এটিও ধৈর্য ও সলাতের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়ার গুরুত্বকে তুলে ধরে।
♦️ ৭. সৎকর্ম, তাকওয়া ও সলাত:
সূরা আল-বাক্বারাহ ২:১৭৭: "সৎকাজ শুধু এই নয় যে, তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল পূর্ব ও পশ্চিম দিকে ফিরাবে; বরং সৎকাজ হলো যে ব্যক্তি আল্লাহ, শেষ দিবস, ফেরেশতাগণ, কিতাব এবং নবীগণের প্রতি ঈমান আনল এবং আল্লাহর ভালোবাসায় আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম, মিসকীন, মুসাফির, সাহায্যপ্রার্থী ও দাসমুক্তির জন্য অর্থ ব্যয় করল, আর সালাত কায়েম করল, যাকাত আদায় করল ; এবং যারা অঙ্গীকার করে তা পূর্ণ করে, আর অভাবে, রোগে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য ধারণ করে – তারাই সত্যবাদী এবং তারাই মুত্তাকী।"অনুধাবন: এই আয়াতে সৎকর্মের একটি বিস্তৃত তালিকা দেওয়া হয়েছে, যেখানে সলাত কায়েম করাকে ঈমান, দান-সদকা, অঙ্গীকার পূরণ এবং ধৈর্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পাশাপাশি উল্লেখ করা হয়েছে। এটি সলাতের ব্যাপক গুরুত্বকে প্রমাণ করে।
সূরা তাওবাহ ৯:১১: "অতএব, যদি তারা তাওবা করে, সালাত কায়েম করে এবং যাকাত দেয়, তবে তারা তোমাদের দ্বীনি ভাই । আর আমি জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য আয়াতসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করি।"অনুধাবন: সলাত কায়েম করা এবং যাকাত আদায় করাকে মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সলাতের মৌলিকত্বকে তুলে ধরে।
♦️ ৮. সলাতের আনুষ্ঠানিকতাকে অস্বীকারকারীদের জ্ঞাতার্থে জবাব:
সূরা আল-ফুরকান ২৫:৬০: "আর যখন তাদেরকে বলা হয়, 'তোমরা রহমান-এর জন্য সিজদা করো', তারা বলে, 'রহমান কী? তুমি আমাদের যা দ্বারা আদেশ করো আমরা কি তার জন্য সিজদা করব?' আর এটি তাদের ঘৃণা আরও বাড়িয়ে দেয়।" অনুধাবন: যারা সিজদা করতে অস্বীকার করে, তাদের মানসিকতাকে এই আয়াতে তুলে ধরা হয়েছে, যা সলাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা।
সূরা আল-ফুরকান ২৫:৬৪: "আর যারা তাদের রবের জন্য সিজদা ও দাঁড়িয়ে রাত্রি যাপন করে ।"অনুধাবন: এটি মুমিনদের গুণাবলীর বর্ণনা, যেখানে রাতে সিজদা করা ও দাঁড়িয়ে ইবাদত করাকে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সলাতের আনুষ্ঠানিকতার প্রমাণ।
সূরা আয-যুমার ৩৯:৯: "নাকি সে ব্যক্তি, যে রাতের প্রহরে সিজদাবনত ও দণ্ডায়মান অবস্থায় ইবাদত করে ..."অনুধাবন: এই আয়াতেও সিজদা ও দাঁড়ানো অবস্থায় ইবাদতের কথা বলা হয়েছে, যা সলাতের আনুষ্ঠানিক রূপকে নির্দেশ করে।
সূরা আল-হিজর ১৫:৯৮: "সুতরাং তুমি তোমার রবের প্রশংসায় তাসবীহ পাঠ করো এবং সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হও ।"অনুধাবন: আল্লাহর প্রশংসা ও তাসবীহ পাঠের পাশাপাশি সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার নির্দেশ সলাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
সূরা হুদ ১১:৮৭: "তারা বলল, 'হে শুআইব! তোমার সালাত কি তোমাকে নির্দেশ দেয় যে, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষরা যার ইবাদত করত, তা ত্যাগ করি?'" অনুধাবন: এই আয়াতে সলাতকে একটি নির্দেশিকা হিসেবে দেখানো হয়েছে যা পূর্বপুরুষদের ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে, যদিও তৎকালীন লোকেরা এটি নিয়ে উপহাস করত।
সলাতের সকল পাঠ, বিধি-বিধান, ভাষা এবং অনুধাবন একমাত্র আল-কুরআন থেকেই অনুশীলন করতে হবে – এর কারণ:
♦️ ১. কুরআনই সকল বিধানের উৎস এবং পূর্ণাঙ্গ কিতাব:
সূরা আন'আম ৬:১১৪: "আমি কি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো বিচারক সন্ধান করব, অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি বিশদভাবে কিতাব নাযিল করেছেন?" অনুধাবন: এই আয়াতটি স্পষ্ট করে যে, আল্লাহই একমাত্র বিধানদাতা এবং তাঁর নাযিলকৃত কিতাব (কুরআন) সকল বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদানকারী। সলাতের বিধান সহ সকল বিধি-বিধানের জন্য অন্য কোনো উৎসের প্রয়োজন নেই।
সূরা আন'আম ৬:৩৮: "আমি কিতাবে কোনো কিছু বাদ দেইনি।" অনুধাবন: এই আয়াতটি কুরআনের পূর্ণতাকে নিশ্চিত করে। যখন বলা হয় যে 'কিতাবে কোনো কিছু বাদ দেইনি', তখন এর অর্থ হলো সলাতের মতো মৌলিক ইবাদতের জন্য প্রয়োজনীয় সকল নির্দেশনা এর মধ্যেই রয়েছে, যা অন্য কোনো গ্রন্থের উপর নির্ভরশীলতাকে অস্বীকার করে।
সূরা নাহল ১৬:৮৯: "আর আমি তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি প্রত্যেক বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ এবং মুসলিমদের জন্য পথনির্দেশ, রহমত ও সুসংবাদস্বরূপ।" অনুধাবন: কুরআন নিজেকে 'প্রত্যেক বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ' (তিবইয়ানাল লিকুল্লি শাইইন) ঘোষণা করেছে। সলাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের বিধি-বিধান যদি কুরআনে স্পষ্ট না থাকত, তাহলে এটি 'প্রত্যেক বিষয়ের ব্যাখ্যাস্বরূপ' হতে পারত না।
সূরা ইউনুস ১০:৩৭: "আর এই কুরআন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো রচিত নয়; বরং এটি পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং কিতাবের (বিধানের) বিস্তারিত বিবরণ , এতে কোনো সন্দেহ নেই, বিশ্বজগতের রবের নিকট হতে।"অনুধাবন: এই আয়াতটি কুরআনকে 'কিতাবের বিস্তারিত বিবরণ' হিসেবে উপস্থাপন করে, যা নির্দেশ করে যে সকল ধর্মীয় ও ব্যবহারিক বিধানের বিস্তারিত ব্যাখ্যা কুরআনেই নিহিত।
সূরা আন'আম ৬:১০৬: "তোমার রবের নিকট থেকে তোমার প্রতি যা অহী করা হয়েছে, তুমি তারই অনুসরণ করো। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আর মুশরিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও।" (6:19, 46:9) অনুধাবন: এই আয়াতটি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে মুসলিমদেরকে কেবল আল্লাহর অহী (অর্থাৎ কুরআন) অনুসরণ করতে হবে। সলাতের বিধান যদি অন্য কোনো উৎস থেকে আসত, তবে এই আয়াতের নির্দেশ লঙ্ঘিত হতো।
সূরা আ'রাফ ৭:৩: "তোমাদের রবের নিকট থেকে যা তোমাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে, তোমরা তারই অনুসরণ করো এবং তাকে ছাড়া অন্য কোনো অভিভাবকের অনুসরণ করো না। তোমরা খুব কমই উপদেশ গ্রহণ করো।" অনুধাবন: এই আয়াতটি অহীর প্রতি একনিষ্ঠ অনুসরণ এবং অহী বহির্ভূত সকল উৎসের বর্জন করার নির্দেশ দেয়। সলাতের মতো মৌলিক ইবাদতের জন্য এই নির্দেশ আরও বেশি প্রযোজ্য।
♦️ ৩. কুরআনই মীমাংসাকারী এবং চূড়ান্ত ফায়সালাকারী:
সূরা আন-নিসা ৪:১০৫: "নিশ্চয়ই আমি তোমার প্রতি সত্যসহ কিতাব নাযিল করেছি, যাতে তুমি মানুষের মাঝে বিচার ফায়সালা করো আল্লাহ তোমাকে যা দেখিয়েছেন তা দ্বারা। আর খিয়ানতকারীদের পক্ষে তুমি বিতর্ককারী হয়ো না।" অনুধাবন: যদিও এই আয়াতটি বিচার-ফায়সালার প্রসঙ্গে এসেছে, তবে এর মূল বার্তা হলো আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাবই চূড়ান্ত ফয়সালাকারী। সলাতের বিধান নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দিলে, তার মীমাংসাও কুরআনের মাধ্যমেই করতে হবে।
সূরা আন-নূর ২৪:১: "এটি একটি সূরা, যা আমি নাযিল করেছি এবং একে ফরয করেছি; আর আমি এতে সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করেছি, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো।" অনুধাবন: এই আয়াতটি কুরআনের আয়াতসমূহকে 'সুস্পষ্ট' (বাইয়িনাত) হিসেবে বর্ণনা করে, যা প্রমাণ করে যে এতে সলাতসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে।
♦️ ৪. বিভ্রান্তি এড়িয়ে চলার জন্য সতর্কবাণী:
সূরা আল-আ'রাফ ৭:২: "তোমার প্রতি একটি কিতাব নাযিল হয়েছে। সুতরাং তোমার অন্তরে তা নিয়ে কোনো সংকোচ যেন না থাকে, যাতে তুমি এর দ্বারা সতর্ক করতে পারো এবং এটি মুমিনদের জন্য উপদেশ।" অনুধাবন: এই আয়াতটি ইঙ্গিত দেয় যে কুরআনই যথেষ্ট এবং এতে কোনো দ্বিধা বা সংকোচ থাকার কথা নয়। সলাতের বিধানের জন্য অন্য কোনো উৎসের দিকে তাকানো এই আয়াতের চেতনার পরিপন্থী।
সূরা আল-জাসিয়া ৪৫:৬: "এগুলো আল্লাহর আয়াত যা আমি তোমার কাছে সত্য সহকারে পাঠ করছি। সুতরাং আল্লাহ ও তাঁর আয়াতসমূহের পর তারা আর কোন হাদীসে (কথায়) বিশ্বাস স্থাপন করবে?" অনুধাবন: এই আয়াতটি অত্যন্ত জোরালোভাবে প্রশ্ন করে যে, আল্লাহর আয়াতসমূহের পর আর কোন কথা বা উৎসের উপর বিশ্বাস স্থাপন করা হবে। এটি সলাতসহ সকল ধর্মীয় বিধানের জন্য কুরআনকে একমাত্র উৎস হিসেবে তুলে ধরে।
চূড়ান্ত অনুধাবন:
সালাতের আনুষ্ঠানিকতার স্থান
গ্রহন:
"তোমরা সালাত কায়েম করো এবং যাকাত দাও।" (২:৪৩) "আর তোমরা সালাত কায়েম করো এবং রুকুকারীদের সাথে রুকু করো" (২:৪৩) "আর সালাত আদায় করো দিনে দুই প্রান্তভাগে ও রাতের প্রথম অংশে" (১১:১১৪)
'সালামুন আলা ইব্রাহীম' এবং 'সালামুন আলা মুহাম্মদ (সা:)' এর ধারাবাহিকতা:
"তোমাদের পিতা ইবরাহীমের আদর্শ। সে তোমাদের নাম দিয়েছে মুসলিম, আগেও আর এখনও। যেন রসূল তোমাদের ব্যাপারে সাক্ষী হয় আর তোমরা সাক্ষী হও মানুষের ব্যাপারে। অতএব, তোমরা সালাত প্রতিষ্ঠা করো এবং যাকাত আদায় করো এবং আল্লাহকে আঁকড়ে ধরো। তিনিই তোমাদের অভিভাবক। সুতরাং তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক এবং তিনি কতই না উত্তম সাহায্যকারী!" (২২:৭৮)
"আর সে তার পরিবারকে সালাত ও যাকাতের নির্দেশ দিত এবং সে ছিল তার রবের কাছে সন্তুষ্ট।" (১৯:৫৫)
