আল-কুরআনের সূরা নূর (২৪:৪০) আয়াতে গভীর সমুদ্রের অন্ধকারের উপমা এবং আলোর প্রসঙ্গে বলা হয়েছে:
"অথবা গভীর সমুদ্রের মধ্যে অন্ধকারসমূহের মতো, এমন ঢেউ তাকে আচ্ছন্ন করে রাখে, তার উপরে রয়েছে আরেক ঢেউ, সেটার উপর মেঘমালা। এমন অন্ধকারসমূহ, যেগুলোর একটা আরেকটার উপর। যখন সে তার হাত বের করে, সে কোনোক্রমেই তা দেখতে পায় না। আর সে, আল্লাহ যার জন্য আলো দেন না তাহলে তার জন্য কোনো আলো নেই-সূরা আয়াত ২৪:৪০
video: see the below
এই আয়াতে মূলত আধ্যাত্মিক অন্ধকারের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, যেখানে সত্যের আলো থেকে বঞ্চিত ব্যক্তির অবস্থা বোঝানো হয়েছে। বৈজ্ঞানিকভাবে গভীর সমুদ্রে সূর্যালোক পৌঁছায় না, তাই সেখানে প্রাকৃতিক অন্ধকার বিরাজ করে। সমুদ্রের গভীরে আলোক-সংশ্লেষণকারী জীবের অস্তিত্ব নেই।
কিন্তু আমার জানতে ইচ্ছে করছে- "আর সে, আল্লাহ যার জন্য আলো দেন না তাহলে তার জন্য কোনো আলো নেই।"—এর মানে কি সেখানে আল্লাহ তায়ালা কাউকে না কাউকে আলো দেন বা দিয়ে রেখেছেন? যদি দিয়ে থাকেন, সেই আলো কাকে দেওয়া হয়েছে? কোনো সামুদ্রিক মাছ বা অন্য কোনো প্রাণীকে?
এই আয়াতটির মূল বার্তা আধ্যাত্মিক হলেও, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে গভীর সমুদ্রের অন্ধকার এবং আলোর ব্যাপারটি অনুধাবন করা যায়।
১. বায়োলুমিনেসেন্স (জৈব-আলোক): গভীর সমুদ্রে যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছায় না, সেখানে অনেক প্রাণী তাদের নিজস্ব আলো তৈরি করে। এই প্রক্রিয়াকে বায়োলুমিনেসেন্স বলা হয়।
এটি একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া যা লুসিফেরিন নামক একটি প্রোটিনের জারণের মাধ্যমে আলো উৎপন্ন করে। এই আলো প্রাণীদের বিভিন্ন কাজে লাগে:
২. আল-কুরআন এবং 'নূর' (আলো) হিসেবে: আল-কুরআনকে 'নূর' বা আলো বলা হয়েছে কারণ এটি মানুষকে অজ্ঞতা, বিভ্রান্তি এবং আধ্যাত্মিক অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসে। গভীর সমুদ্রের অন্ধকারে বায়োলুমিনেসেন্স যেমন প্রাণীদের জন্য একটি গাইড হিসেবে কাজ করে, তেমনি আল-কুরআনও মানুষের জন্য নৈতিক ও আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশনা দেয়।
উপসংহার:
সূরা নূরের এই আয়াতটি মূলত আধ্যাত্মিক অন্ধকার এবং আলোর রূপক বর্ণনা হলেও, আপনি যে প্রশ্নটি উত্থাপন করেছেন তার একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা গভীর সমুদ্রের কিছু প্রাণীকে (যেমন অ্যাঙ্গলারফিশ, জেলিফিশ, স্কুইড) বায়োলুমিনেসেন্সের মাধ্যমে নিজস্ব আলো তৈরি করার ক্ষমতা দিয়েছেন, যা তাদের টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য। এই ক্ষমতা যাদের নেই, তাদের জন্য সেই গভীর সমুদ্রে কোনো আলো নেই। এটি আল্লাহর অসীম কুদরত এবং সৃষ্টির রহস্যের এক জ্বলন্ত উদাহরণ।
এই আলো (নূর) আধ্যাত্মিক দিক থেকে আল-কুরআনকেও বোঝায়, যা মানুষের জন্য হেদায়েত ও আলোর পথ প্রদর্শন করে। যাদের কাছে এই কিতাবের জ্ঞান পৌঁছায় এবং যারা তা গ্রহণ করে, তারাই জীবনের অন্ধকারে আলো খুঁজে পায়।