আলোচনার মূল বা ফোকাস আয়াত: সূরা আল আরাফ, আয়াত ৭:১৭২
✦ বিবাহ: একটি ‘মিছাকান গালীযা’ বা সুদৃঢ় অঙ্গীকার
প্রথমেই একটু জেনে নেই আয়াত সম্পর্কে:
‘মিছাক’ (مِيثَاق) শব্দটি আল-কুরআনের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং বিশেষ পরিভাষা। এটি কেবল একটি সাধারণ প্রতিশ্রুতি (Promise) নয়, বরং এটি একটি সুদৃঢ়, অলঙ্ঘনীয় এবং পবিত্র চুক্তি। কুরআনের আলোকে ‘মিছাক’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে, তা নিচে বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা হলো:
✦ ‘মিছাক’ শব্দের আভিধানিক ও গূঢ় অর্থ:
‘মিছাক’ শব্দটি এসেছে ‘ওয়াসাকা’ (وثق) মূলধাতু থেকে, যার অর্থ হলো— কোনো কিছুকে শক্তভাবে বাঁধা, মজবুত করা বা স্থায়ীভাবে সুদৃঢ় করা। সাধারণ প্রতিশ্রুতিকে কুরআনে ‘আহদ’ (عَهْد) বলা হয়, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি যখন অলঙ্ঘনীয় চুক্তিতে রূপ নেয় এবং যা ভঙ্গ করা মহাপাপ, তখন তাকে ‘মিছাক’ বলা হয়।
‘আয়াতুল মিছাক’ বা আদি অঙ্গীকারের বিষয়টি আল-কুরআনের এক অতি বিস্ময়কর ও গভীর রহস্য। এটি মানুষের রূহের এমন এক ‘সফটওয়্যার’ যা তাকে স্রষ্টার অস্তিত্ব ও সত্যের প্রতি সবসময় তাড়িত করে। আপনার জিজ্ঞাসানুসারে, মিছাক সম্পর্কে কী জিজ্ঞাসা করা হবে এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য জোরালো আয়াতসমূহ ‘তাফসিরুল কুরআন বিল কুরআন’ পদ্ধতিতে নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
✦ ১. মিছাক ( অঙ্গীকার) সম্পর্কে কী জিজ্ঞাসা করা হবে?
মিছাক: রূহের জগতের আদি ও বিশেষ অঙ্গীকার: আল-কুরআন অনুযায়ী, মিছাক একটি বিশেষ অঙ্গীকার যা প্রতিটি মানুষ জন্মের আগেই আল্লাহর সাথে করেছে। এটি মানুষের অস্তিত্বের মূল ভিত্তি।
❖ উজুহাত বা অজুহাত খণ্ডন: আল্লাহ বলেন, আমি এই অঙ্গীকারটি এজন্যই নিয়েছিলাম—
✦ আদি অঙ্গীকার (৭:১৭২) ও তার ধারাবাহিকতা:
❖ দৃঢ় অঙ্গীকার ও আমানত:
আর তোমরা যখন অঙ্গীকার করো, তখন আল্লাহর অঙ্গীকার (আহদ-আল্লাহ) পূর্ণ করো এবং শপথসমূহ দৃঢ় করার পর তা ভঙ্গ করো না; অথচ তোমরা আল্লাহকে তোমাদের ওপর জামিন করেছ। নিশ্চয়ই তোমরা যা করো আল্লাহ তা জানেন-সুরা আন-নাহল, ১৬:৯১)
তাদাব্বুর: ১৬:৯১ আয়াতটি ৭:১৭২ এর একটি প্রায়োগিক রূপ। রূহের জগতে আমরা আল্লাহকে রব হিসেবে মেনে যে ‘মিছাক’ দিয়েছিলাম, দুনিয়ার প্রতিটি কাজে সেই সত্যের ওপর অটল থাকাই হলো অঙ্গীকার পূর্ণ করা।
✦ ২. ‘মিছাকান গালীযা’ বা সুদৃঢ় অঙ্গীকার: নবীগণের কাছ থেকে নেওয়া বিশেষ মিছাক:
এখানে সালামুন আলা নূহ, সালামুন আলা ইবরাহীম, সালামুন আলা মূসা, সালামুন আলা ঈসা এবং সালামুন আলা মুহাম্মাদ রাসুলুল্লাহর ওপর অর্পিত বিশেষ দায়িত্বকেই ‘মিছাক’ বলা হয়েছে। এটি সাধারণ মানুষের মিছাকের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী ও দায়িত্বপূর্ণ।
✦ ২. মিছাক বা অঙ্গীকার সংশ্লিষ্ট আরও জোরালো ও প্রাসঙ্গিক আয়াতসমূহ:
❖ অঙ্গীকার রক্ষাকারীদের পরিচয় (সুরা আর-রা’দ, 13:19-21):
আল্লাহ বলেন—
❖ রসূলগণের আহ্বানের ভিত্তি এই মিছাক (সুরা আল-হাদীদ, ৫৭:৮):
✦ ৪.অনুধাবন (Internal Coherence):
আল-কুরআনের আয়াতসমূহ বিশ্লেষণ করলে ‘মিছাক’ সম্পর্কে একটি চমৎকার চেইন বা শৃঙ্খল পাওয়া যায়:
✦ বনী ইসরাঈলের মিছাক: অঙ্গীকারের ব্যবহারিক রূপ: নৈতিক ও সামাজিক অঙ্গীকার:
সুরা আল-বাকারাহ-তে আল্লাহ মিছাকের একটি বাস্তব উদাহরণ দিয়েছেন। এই মিছাক কেবল বিশ্বাসের ঘোষণা ছিল না, বরং তা ছিল কিছু সুনির্দিষ্ট নৈতিক কর্মের সমষ্টি।
আর স্মরণ করো, যখন আমি বনী ইসরাঈলের কাছ থেকে অঙ্গীকার (মিছাক) গ্রহণ করেছিলাম যে— তোমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত করবে না, বাবা-মায়ের সাথে সদ্ব্যবহার করবে, আর সদ্ব্যবহার করবে নিকটাত্মীয়, এতিম ও মিসকিনদের সাথে; মানুষের সাথে সুন্দর কথা বলবে, সালাত কায়েম করবে এবং জাকাত দেবে..." সুরা আল-বাকারাহ (২:৮৩-৮৪):
আল্লাহ বনী ইসরাঈলের কাছ থেকে যে মিছাক নিয়েছিলেন তার মধ্যে ছিল: মানবিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার:
আর যখন আমি তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার (মিছাক) নিয়েছিলাম যে— তোমরা একে অপরের রক্তপাত করবে না এবং একে অপরকে স্বদেশ থেকে বহিষ্কার করবে না; অতঃপর তোমরা তা স্বীকার করেছিলে এবং তোমরা নিজেরাই এর সাক্ষী-সুরা আল-বাকারাহ, ২:৮৪
✦ কেবল আল্লাহর ইবাদত করা।
✦ পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদ্ব্যবহার।
✦ এতিম ও মিসকিনদের সাহায্য করা।
✦ মানুষের সাথে সুন্দর কথা বলা।
✦ রক্তপাত ও জুলুম না করা।
তদাব্বুর: এই আয়াতগুলো প্রমাণ করে যে, আল্লাহর সাথে কৃত ‘মিছাক’ বা অঙ্গীকার পূর্ণ করার অর্থ হলো মানুষের অধিকার (হাক্কুল ইবাদ) রক্ষা করা। এটিই হলো মানুষের মধ্যকার ‘আয়াত’ বা নিদর্শনের ব্যবহারিক প্রতিফলন।
░ ▓▒░বিবাহ░▒▓ ░
░ ▓▒░বিবাহ░▒▓ ░
✦ বিবাহ: একটি ‘মিছাকান গালীযা’ বা সুদৃঢ় অঙ্গীকার:
আল্লাহ তাআলা বৈবাহিক সম্পর্ককে কেবল ‘নিকাহ’ বা ‘আহদ’ বলেননি, বরং একে ‘মিছাকান গালীযা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
❖ সরাসরি দলিল (সুরা আন-নিসা, ৪:২১):
স্বামী যখন স্ত্রীকে দেওয়া মোহরানা বা অধিকারের বিষয়ে টালবাহানা করে, তখন আল্লাহ অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন—
আর তোমরা তা (মোহরানা) কীভাবে গ্রহণ করবে, অথচ তোমরা একে অপরের সাথে সংগত হয়েছ এবং তারা (স্ত্রীরা) তোমাদের কাছ থেকে ‘সুদৃঢ় অঙ্গীকার’ (মিছাকান গালীযা) গ্রহণ করেছে?
তদাব্বুর ও বিশ্লেষণ:
এখানে বিবাহের চুক্তিকে ‘মিছাকান গালীযা’ বলা হয়েছে। ‘গালীযা’ শব্দের অর্থ হলো— যা অত্যন্ত পুরু, মজবুত, শক্ত এবং অলঙ্ঘনীয়। এর মাধ্যমে আল্লাহ বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, বিবাহের মাধ্যমে একজন পুরুষ ও নারী কেবল একে অপরের সঙ্গী হয় না, বরং তারা আল্লাহর নামে একটি ‘মহাচুক্তি’তে আবদ্ধ হয়।
✦ কেন বিবাহকে নবীগণের অঙ্গীকারের সমতুল্য বলা হয়েছে?
আল-কুরআনের ‘শব্দগত সামঞ্জস্যতা’ (Symmetry) লক্ষ্য করলে দেখা যায়, আল্লাহ ‘মিছাকান গালীযা’ শব্দটি নবীগণের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করেছেন।
❖ সুরা আল-আহজাব (৩৩:৭):
আর স্মরণ করো, যখন আমি নবীগণের কাছ থেকে অঙ্গীকার (মিছাক) গ্রহণ করেছিলাম... এবং আমি তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছিলাম ‘সুদৃঢ় অঙ্গীকার’ (মিছাকান গালীযা)।
এখানে সালামুন আলা নূহ, সালামুন আলা ইবরাহীম, সালামুন আলা মূসা ও সালামুন আলা মুহাম্মাদ রাসুলুল্লাহর ওপর অর্পিত নবুওয়াতের দায়িত্বকে যে শব্দ দিয়ে (মিছাকান গালীযা) গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, সুরা নিসার ২১ নম্বর আয়াতে বিবাহের চুক্তিকেও ঠিক একই শব্দ দিয়ে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষণীয় বিষয়:
নবীগণ যেমন আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার রক্ষা করতে জীবন বাজি রাখেন, তেমনি একজন স্বামী বা স্ত্রীর উচিত তাদের বৈবাহিক অঙ্গীকারকে ঠিক তেমনি গুরুত্বের সাথে রক্ষা করা। এটি কোনো সাধারণ চুক্তি নয় যে চাইলেই খেয়ালখুশি মতো ভেঙে ফেলা যায়।
✦ বিবাহ: আল্লাহর একটি বিশেষ ‘আয়াত’ বা নিদর্শন:
আগের আলোচনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বলা যায়, বিবাহ কেবল একটি আইনগত বিষয় নয়, এটি আল্লাহর এক বড় ‘আয়াত’ বা নিদর্শন।
সুরা আর-রূম (৩০:২১):
আর তাঁর নিদর্শনাবলীর (আয়াত) মধ্যে অন্যতম হলো— তিনি তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের জন্য জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করো এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা (মাওয়াদ্দাহ) ও দয়া (রাহমাহ) সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীলদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।
অনুধাবন: এই আয়াতে ভালোবাসাকে আল্লাহর ‘আয়াত’ বলা হয়েছে। আর এই আয়াত বা ভালোবাসাকে স্থায়িত্ব দেওয়ার আইনি ও রূহানি কাঠামোই হলো ‘মিছাকান গালীযা’ বা বিবাহ। সুতরাং বিবাহ হলো ‘আয়াতুল আনফুস’ (মানুষের ভেতরের নিদর্শন) এর একটি সামাজিক ও আত্মিক বহিঃপ্রকাশ।
✦ সারসংক্ষেপ: বিবাহের অঙ্গীকারনামার বিশেষত্ব:
১. এটি আল্লাহর নামে সম্পাদিত চুক্তি।
২. এটি নবীগণের অঙ্গীকারের সমমানের শব্দ (মিছাকান গালীযা) দ্বারা সংজ্ঞায়িত।
৩. এটি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কেবল শারীরিক সম্পর্ক নয়, বরং দুটি রূহের অঙ্গীকার ।
৪. এই অঙ্গীকার ভঙ্গ করা বা স্ত্রীর অধিকার খর্ব করা মূলত আল্লাহর সাথে কৃত মহাচুক্তি ভঙ্গ করার শামিল ।
❖ মিছাক (অঙ্গীকার) ভঙ্গের ভয়াবহতা/পরিণাম:
➥ তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে ঈমান রাখো আর কিছু অংশ অস্বীকার করো? তোমাদের মধ্যে যারা এমনটি করে, তাদের একমাত্র প্রতিফল হলো পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা এবং কিয়ামতের দিন তাদের কঠিনতম আজাবের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে..." সুরা আল-বাকারাহ, ২:৮৫
➥ আর যারা আল্লাহর সাথে অঙ্গীকারে (মিছাক) আবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে... তাদের জন্য রয়েছে লানত (অভিসম্পাত) এবং মন্দ আবাস- সুরা আর-রা’দ (১৩:২৫)
➥ যারা আল্লাহর অঙ্গীকারকে (আহদ-আল্লাহ) তা দৃঢ় করার পর ভঙ্গ করে এবং আল্লাহ যা জুড়ে দিতে আদেশ করেছেন তা ছিন্ন করে এবং জমিনে ফাসাদ (বিপর্যয়) সৃষ্টি করে; তারাই ক্ষতিগ্রস্ত- সুরা আল-বাকারাহ ২:২৭
✦ ফিতরাত: মানুষের রুহানি গঠনের অপরিবর্তনীয় নিয়ম:
ফিতরাত ও মিছাকের সম্পর্ক:
❖ সুরা আর-রূম (৩০:৩০):
তুমি একনিষ্ঠভাবে নিজেকে দীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখো। এটাই আল্লাহর সেই ফিতরাত (স্বভাবজাত ধর্ম), যার ওপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই। এটাই সরল দীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।
তদাব্বুর ও বিশ্লেষণ: এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে, মানুষের ভেতরের ‘আয়াত’ বা নিদর্শনটি কোনো আকস্মিক বিষয় নয়। বরং আল্লাহ মানুষকে এমন এক বিশেষ নকশায় (Design) তৈরি করেছেন, যা তাকে সবসময় এক আল্লাহর দিকে ডাকতে থাকে। এই ফিতরাত বা স্বভাবই হলো সেই ‘আয়াত’, যা মানুষের শরীরের প্রতিটি কোষে বিদ্যমান।
✦ আয়াত, মিছাক ও ফিতরাতের সমন্বিত রূপরেখা:
❖ ১. মূল বা রুট — আয়াতুল মিছাক (The Witness/সাক্ষ্য):
এটি হলো মানুষের রূহের আদি অঙ্গীকার যা মানুষের অস্তিত্বের কেন্দ্রবিন্দু।
❖ ২. মাধ্যম বা যন্ত্র — ফিতরাতাল্লাহ (The Nature/প্রকৃতি):
➤ সংশ্লিষ্ট আয়াত (৩০:৩০): "তুমি একনিষ্ঠভাবে নিজেকে দীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখো। এটাই আল্লাহর সেই ফিতরাত (স্বভাবজাত ধর্ম), যার ওপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই।"
অনুধাবন: এই ‘ফিতরাত’ হলো মানুষের ভেতরের সেই যন্ত্র বা ফ্যাকাল্টি যা তাকে সত্যের কিতাব বা বাইরের নিদর্শন দেখামাত্র চিনতে সাহায্য করে। এটিই মানুষের ভেতরের ‘আয়াত’ বা সিগন্যাল।
❖ ৩. শাখা বা কর্ম — মিছাকের ব্যবহারিক প্রয়োগ (The Application/বাস্তবায়ন):
➤ সংশ্লিষ্ট আয়াত (২:৮৩-৮৪): এখানে বনী ইসরাঈলের মাধ্যমে মানুষের অঙ্গীকারের কিছু মৌলিক দিক তুলে ধরা হয়েছে— "তোমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত করবে না, বাবা-মায়ের সাথে সদ্ব্যবহার করবে... মানুষের সাথে সুন্দর কথা বলবে, নামাজ কায়েম করবে এবং জাকাত দেবে..."
অনুধাবন: আদি অঙ্গীকার বা ‘আয়াত’ যখন মানুষের কর্মে প্রতিফলিত হয়, তখনই তা সার্থক হয়। অর্থাৎ, স্রষ্টাকে চেনা মানেই হলো তাঁর সৃষ্টিকেও সম্মান করা।
❖ ৪. ফলাফল ও পরীক্ষা — অঙ্গীকার পালন ও নিদর্শন শনাক্তকরণ (The Test/পরীক্ষা):
মানুষ তার ভেতরের সেই আদি নিদর্শন (মিছাক) অনুযায়ী চলছে কি না, তার চূড়ান্ত পরীক্ষা নেওয়া হয় পার্থিব অঙ্গীকার ও আনুগত্যের মাধ্যমে।➤ সংশ্লিষ্ট আয়াত (১৬:৯১, ৫:৭, ২:২৭, ৭:১০২): আল্লাহ বারবার সতর্ক করেছেন যে— "তোমরা আল্লাহর অঙ্গীকার (মিছাক) রক্ষা করো... যারা তা ভঙ্গ করে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।
অনুধাবন: যারা নিজেদের ভেতরের ‘আয়াত’ বা অঙ্গীকারকে ভুলে যায়, আল্লাহ তাদের ‘ফাসিক’ বা পথভ্রষ্ট হিসেবে চিহ্নিত করেছেন (৭:১০২)।
✦ সারকথা: আল-কুরআন নিজেকে একটি ‘যিকর’ বা ‘স্মারক’ হিসেবে উপস্থাপন করে। এর কারণ হলো:
সারকথা: মানুষের ভেতরে কুরআন বা নিদর্শন থাকা মানে হলো—আল্লাহর অস্তিত্বের এক জীবন্ত দলিল মানুষের রূহের মধ্যে 'ফিতরাত' হিসেবে গেঁথে দেওয়া আছে। যখনই একজন মানুষ সুস্থ বিবেক ও নিরপেক্ষ মন দিয়ে বাইরের মহাবিশ্ব বা কিতাবের লিখিত আয়াতের দিকে তাকায়, তখন তার ভেতরের ‘মিছাক’ বা অঙ্গীকার সেই সত্যকে তৎক্ষণাৎ চিনতে পারে (২৭:৯৩—‘তখন তোমরা সেগুলো চিনতে পারবে’)। এই অভ্যন্তরীণ সামঞ্জস্যতাই প্রমাণ করে যে, কুরআন এবং মানবসত্তা উভয়ই একই উৎস থেকে আগত।
