ভূমিকম্প: দুর্যোগে নাযিলকৃত অহীর চর্চায় নিরাপত্তা (দুআ-তাসবিহ) #earthquake!

আর আল্লাহ তাদের শাস্তিদাতা নন, যখন তারা ক্ষমাপ্রার্থনা করে- 

১. তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ দুআ:

رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
রব্বানা জোলামনা- আন্ফুসানা- অইিল্ল্লাম্ তাগ্ফির্ লানা- অতারহাম্না- লানাকূনান্না মিনাল্ খা-সিরীন্।

অর্থ: হে আমাদের রব! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি। এখন আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে নিশ্চয়ই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।" (সূরা আল-আরাফ, ৭:২৩)

২. দুআ: ...এরপর যখন ভূমিকম্প তাদেরকে আক্রান্ত করল, সে (সালামুন আলা মুসা) বলল! 

 رَبِّ لَوۡ شِئۡتَ اَہۡلَکۡتَہُمۡ مِّنۡ قَبۡلُ وَ اِیَّایَ ؕ اَتُہۡلِکُنَا بِمَا فَعَلَ السُّفَہَآءُ مِنَّا ۚ اِنۡ ہِیَ اِلَّا فِتۡنَتُکَ ؕ تُضِلُّ بِہَا مَنۡ تَشَآءُ وَ تَہۡدِیۡ مَنۡ تَشَآءُ ؕ اَنۡتَ وَلِیُّنَا فَاغۡفِرۡ لَنَا وَ ارۡحَمۡنَا وَ اَنۡتَ خَیۡرُ الۡغٰفِرِیۡنَ وَ اکۡتُبۡ لَنَا فِیۡ ہٰذِہِ الدُّنۡیَا حَسَنَۃً وَّ فِی الۡاٰخِرَۃِ اِنَّا ہُدۡنَاۤ اِلَیۡکَ

উচ্চারণ: রব্বি লাও শি’তা আহ্লাক্তাহুম্ মিন্ ক্বব্লু-অ ইয়্যা-ইয়া; আতুহ্লিকুনা- বিমা-ফা‘আলাস্ সুফাহা-য়ু মিন্না-; ইন্ হিয়া ইল্লা- ফিত্নাতুক্; তুদ্ধিল্লু বিহা- মান্ তাশা-য়ু অ তাহ্দী মান্ তাশা-য়ু; আংতা অলিয়্যুনা- ফাগ্ফির লানা- অরহাম্না- অ আংতা খাইরুল্ গ-ফিরীন্। অক্তুব্ লানা- ফী হা-যিহিদ্ দুন্ইয়া- হাসানাতাঁও অফিল্ আ-খিরাতি ইন্না- হুদ্না- ইলাইক্।

অর্থ: হে আমার রব! আপনি যদি চাইতেন, তবে পূর্বেই তাদেরকে ও আমাকে ধ্বংস করতে পারতেন। আমাদের মধ্য থেকে নির্বোধরা যা করেছে সে কারণে কি আপনি আমাদেরকে ধ্বংস করবেন? নিশ্চয়ই সেটা কেবল আপনার পরীক্ষা। সেটা দিয়ে যাকে চান আপনি পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে চান আপনি হেদায়েত করেন। আপনিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন। আর আপনিই তো সর্বোত্তম ক্ষমাকারী। আর পৃথিবীতে এবং আখেরাতে আমাদের জন্য কল্যাণ লিখে দিন। নিশ্চয়ই আমরা আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তন করেছি। (সূরা আল-আরাফ, ৭:১৫৫-১৫৬)

তবে আল্লাহর রহমত পাওয়ার ৩টি শর্ত:

পাশাপাশে সূরা আরাফের ১৫৬ নম্বর আয়াতের শেষাংশে আল্লাহ তাআলা তাঁর রহমত লাভের জন্য ৩টি বিশেষ শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন:

১. তাকওয়া অবলম্বন করা: (তাকওয়া অবলম্বন কিভাবে হয় বা মুত্তাকির সংজ্ঞা দেখুন আয়াত ২:১৭৭)।

২. নিজেকে পরিশুদ্ধ করা (যাকাত ও দান-সদকা): আর্থিক ও চারিত্রিক পবিত্রতা অর্জন করা।

৩. আল্লাহর আয়াতসমুহে ঈমান আনা: আল্লাহর আয়াতসমুহের প্রতি ঈমান আনা। (অন্য কিছুতে নয়)

৩.  দুআ (ইস্তিরজা):

 إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ

ইন্না-লিল্লা-হি অইন্না- ইলাইহি রা-জ্বি‘ঊন্।

অর্থ: নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহরই জন্য আর নিশ্চয়ই আমরা তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী।" (সূরা আল-বাকারাহ, ২:১৫৬)


৪. নিজের ও পরিবারকে অনিষ্ট থেকে রক্ষার দুআ:
رَبِّ نَجِّنِي وَأَهْلِي مِمَّا يَعْمَلُونَ

রব্বি নাজজিনী অ আহ্লী মিম্মা- ইয়া’মালূন।

অর্থ: হে আমার রব! আমাকে এবং আমার পরিবারকে তারা যা করে (তার পরিণাম) থেকে রক্ষা করুন।" (সূরা আশ-শুআরা, ২৬:১৬৯)

৫. রহমত ও ক্ষমা প্রার্থনার অন্যান্য দুআ:

 رَّبِّ اغۡفِرۡ وَارۡحَمۡ وَاَنۡتَ خَیۡرُ الرّٰحِمِیۡنَ
রব্বিগ্ফির ওয়ারহাম ওয়া আংতা খাইরুর রহি-মীন।
অর্থ: হে আমার পালনকর্তা! ক্ষমা করুন ও রহম করুন; রহমকারীদের মধ্যে আপনিই শ্রেষ্ঠ রহমকারী।" -সূরা মুমিনুন (২৩:১১৮)

رَبِّ اغۡفِرۡ لِیۡ وَلِوَالِدَیَّ وَلِمَنۡ دَخَلَ بَیۡتِیَ مُؤۡمِنًا وَّلِلۡمُؤۡمِنِیۡنَ وَالۡمُؤۡمِنٰتِ ۖ وَلَا تَزِدِ الظّٰلِمِیۡنَاِلَّا تَبَارًا 

রব্বিগ্ফির লী ওয়ালি ওয়ালিদাইয়্যা ওয়া লিমান দাখালা বাইতিয়া মু’মিনাঁও ওয়া লিল মু’মিনীনা ওয়াল মু’মিনা-ত।

অর্থ: হে আমার রব! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে, যারা ঈমানদার হয়ে আমার ঘরে প্রবেশ করে তাদের এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের ক্ষমা করুন। 
সূরা নূহ (৭১:২৮):

দুর্যোগের সময় জরুরি নির্দেশিকা:

১. আতঙ্কিত না হয়ে শান্তভাবে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া।
২. বেশি বেশি  ইস্তিগফার ও দুআসমূহ পাঠ করা।
৩. সাধ্যমতো দান-সদকা করা (সদকা বিপদ দূর করে)।
৪. আন্তরিকভাবে নিজের গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে তওবা করা।

➥ আর হে আমার কওম! তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও তারপর তাঁর কাছে ফিরে এস, তিনি তোমাদের ওপর আকাশকে পাঠাবেন প্রচুর বর্ষণধারী রূপে এবং তিনি তোমাদেরকে শক্তির দিক থেকে বাড়িয়ে দিবেন তোমাদের শক্তির সাথে। আর তোমরা অপরাধী হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না- সূরা হুদ ১১:৫২

সবচেয়ে স্পষ্ট আয়াত হলো:

তাদের তওবা গ্রহণযোগ্য নয়, যারা মন্দ কাজ করতে থাকে; অবশেষে যখন তাদের কারও কাছে মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন বলে, ‘এখন আমি তওবা করলাম।’ ...” — সূরা আন-নিসা ৪:১৮

আরেকটি উদাহরণ হলো Firawn's drowning-এর ঘটনা। যখন সে ডুবে যাওয়ার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল, তখন ঈমান আনার ঘোষণা দিল। কিন্তু আল্লাহ বললেন:

এখন? অথচ এর আগে তুমি অবাধ্যতা করেছিলে...” — সূরা ইউনুস ১০:৯১

এছাড়া যারা আল্লাহর শাস্তি চোখের সামনে দেখে ফেলে, তখন তাদের ঈমান বা অনুতাপ আর উপকারে আসে না—এ কথাও কুরআনে উল্লেখ আছে (যেমন সূরা গাফির ৪০:৮৪-৮৫)।

তবে এর অর্থ এই নয় যে কোনো গুনাহ করার পর তওবার সুযোগ নেই। বরং কুরআনের বহু আয়াতে বলা হয়েছে, মানুষ জীবিত থাকা অবস্থায়, শাস্তি বা মৃত্যুর চূড়ান্ত মুহূর্ত আসার আগে আন্তরিকভাবে তওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করেন।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post