বিশ্বজগতের জন্য আল কোরআন এবং সালামুন আলা মুহাম্মদ (সা:) সমগ্র বিশ্ববাসীর রাসূল:
আল কুরআন মাজীদ কোনো নির্দিষ্ট ভৌগলিক সীমানা, গোত্র বা নির্দিষ্ট কালের জন্য অবতীর্ণ হয়নি; বরং এটি আল্লাহ রব্বুল আলামিন-এর পক্ষ থেকে সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরিত এক শাশ্বত ও পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। একইভাবে, এই ঐশী গ্রন্থ যাঁর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে, সেই সালামুন আলা মুহাম্মদ কোনো নির্দিষ্ট কওম বা জাতির জন্য নয়, বরং সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রাসূল হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন।
আল কোরআনের আয়াতগুলোকে একত্রিত করলে একটি চমৎকার আধ্যাত্মিক ও যৌক্তিক ত্রিভুজ তৈরি হয়:
5. বিশ্ব (জগৎসমূহের) সবার জন্য আল-কোরআন যা ফুরকান -২:১৮৫, ২৫:১ (14:1)
♢ ‘নবী’ ও ‘রাসূল’ এর পার্থক্য:
♢ বিশ্ব বা সমগ্র মানবজাতির সাথে আল কুরআনের সংযোগ:
যখনই আল কুরআন মাজীদে সালামুন আলা মুহাম্মদ (সা:)-এর কর্মক্ষেত্র বা তাঁকে যাদের কাছে পাঠানো হয়েছে (অডিয়েন্স) তাদের প্রসঙ্গ এসেছে, আল্লাহ রব্বুল আলামিন অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ‘প্রেরণ করা’ (আরসালা) ক্রিয়াপদ এবং এর সাথে সম্পৃক্ত শব্দ ব্যবহার করেছেন।
আমি তো আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য (কাফফাতাল লিন-নাস) সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি (আরসালনাকা); কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না। (৩৪:২৮)
➥ বলুন! ‘হে মানবজাতি! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহর রাসূল (রসূ্লুল্লাহি ইলাইকুম জামিআ)...’। (৭:১৫৮)
লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, উপরের আয়াতগুলোতে সমগ্র বিশ্ব বা মানবজাতির (আলামিন/ নাস) কথা যখন এসেছে, তখন আল্লাহ সু.তা. ‘প্রেরণ করা’ বা ‘রাসূল’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। কারণ, মানুষের কাছে বাণী পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বটি ‘রিসালাত’-এর অংশ। তাই আল কুরআনের ব্যাকরণ ও নজম অনুযায়ী সমগ্র বিশ্বের প্রেক্ষাপটে তাঁর পরিচয় হলো ‘রাসূল’।
♢‘নবী’ শব্দের প্রয়োগ ও আধ্যাত্মিক (metaphysical) সামঞ্জস্য:
“মুহাম্মদ তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং
বিশ্বনবী নাকি বিশ্বরাসূল : কোনটি অধিকতর সঠিক?
সালামুন আলা মুহাম্মদ: সমগ্র বিশ্ববাসীর রাসূল:
➥ আমি তো আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য (কাফফাতাল লিন-নাস) সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না। (৩৪:২৮)
➥ বলুন, ‘হে মানবজাতি (ইয়া আইয়্যুহান নাস)! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহর রাসূল হিসেবে প্রেরিত হয়েছি...’। (৭:১৫৮)
➥ আমি তো আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমতরূপেই (রহমাতাল লিল আলামিন) প্রেরণ করেছি।” (২১:১০৭)
রাসূলের প্রতি ঈমান ও সাক্ষ্য প্রদানের দুআ: (তবে লক্ষ্যনীয়, ‘নবী’ শব্দটি এখানে ব্যবহ্নত হয়নি হয়েছে ‘রাসুল’ শব্দটি):
রব্বানা- আ-মান্না- বিমা- আংযালতা ওয়াত্তাবা‘নার রসূ-লা ফাকতুবনা- মা‘আশ শা-হিদী-ন।
অর্থ: হে আমাদের রব! আপনি যা অবতীর্ণ করেছেন আমরা তার ওপর ঈমান এনেছি এবং আমরা রাসূলের অনুসরণ করেছি। সুতরাং আপনি আমাদেরকে সাক্ষ্যদানকারীদের তালিকাভুক্ত করে নিন। (৩:৫৩)
(অতএব, তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর ও তাঁর রসূলের প্রতি; উম্মি নবী, যে আল্লাহর ও তাঁর বাণীসমূহের প্রতি ঈমান রাখে। আর তোমরা তার অনুসরণ করো, যেন তোমরা হিদায়েতপ্রাপ্ত হও-আয়াত ৭:১৫৮)
আরও সংশ্লিষ্ট দুআ-তাসবিহসমূহ:
১. হেদায়েত বা সরল পথের ওপর অটল থাকার দুআ:
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً ۚ إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ
রব্বানা- লা-তুযিগ কুলূবানা- বা‘দা ইয হাদাইতানা- ওয়া হাব লানা- মিল্লাদুনকা রহমাহ, ইন্নাকা আংতাল ওয়াহহা-ব।
অর্থ: হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে হেদায়াত দান করার পর আমাদের অন্তরসমূহকে বক্র করে দেবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি মহাদাতা। (৩:৮)
২. আল্লাহর রহমত ও সঠিক পথ পাওয়ার দুআ:
رَبَّنَا آتِنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً وَهَيِّئْ لَنَا مِنْ أَمْرِنَا رَشَدًا
রব্বানা- আ-তিনা- মিল্লাদুনকা রহমাতাওঁ ওয়া হাইয়্যি’ লানা- মিন আমরিনা- রশাদা-।
অর্থ: “হে আমাদের রব! আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান করুন এবং আমাদের জন্য আমাদের কাজ সঠিকভাবে পূর্ণ করার ব্যবস্থা করে দিন।” (১৮:১০)
৩. জ্ঞান বৃদ্ধির ঐশী দুআ (কুরআনের গভীর অনুধ্যানের জন্য):
رَّبِّ زِدْنِي عِلْمًا
উচ্চারণ: রব্বি যিদনী ‘ইলমা-। অর্থ: হে আমার রব! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন। (২০:১১৪)
আল্লাহর বাণী ও রাসূলের আনুগত্যের ঘোষণামূলক দুআ:
سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۖ غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ
উচ্চারণ: সামি‘না- ওয়া আত্বা‘না- গুফরা-নাকা রব্বানা- ওয়া ইলাইকাল মাসী-র।
অর্থ: আমরা শুনলাম এবং আনুগত্য করলাম। হে আমাদের রব! আমরা আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর আপনার দিকেই চূড়ান্ত প্রত্যাবর্তন। (২:২৮৫)
৩. সত্যকে গ্রহণ করার পর অন্তরকে স্থির রাখার তাসবিহ-দুআ:
