আল কুরআন মাজীদ মানবজাতির জন্য এক পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান, যেখানে ব্যক্তিগত থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় জীবনের সকল সংকট উত্তরণের নিখুঁত দিকনির্দেশনা রয়েছে। পৃথিবীতে যখনই কোনো পরাক্রমশালী শাসক বা ব্যক্তি সীমালঙ্ঘন করে জুলুমের পথ বেছে নিয়েছে, তখনই আল্লাহ রব্বুল আলামিন মজলুম বা নিপীড়িতদের সুরক্ষার জন্য তাঁর নিজস্ব কৌশল ও বাণী অবতীর্ণ করেছেন।
সুরক্ষার আধ্যাত্মিক (Metaphysical) সামঞ্জস্য ও অন্তর্নিহিত ইঙ্গিত:
উপর্যুক্ত বিশ্লেষণ থেকে এই যৌক্তিক পূর্ণতায় পৌঁছানো যায় যে, জালেম শাসক বা ব্যক্তির জুলুম কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নয়। আল কোরআনের ভাষ্যমতে, জুলুম হলো অন্ধকারের সমতুল্য, আর আল্লাহর সাহায্য হলো আলো। মজলুম ব্যক্তি যখন চরম অসহায়ত্বে সালাত, ধৈর্য ও নির্দিষ্ট কুরআনি দুআ-তাসবিহের মাধ্যমে আল্লাহ রব্বুল আলামিনের সাথে তার আত্মিক সংযোগ স্থাপন করে, তখন আল্লাহর ‘নূর’ সেই জুলুমের অন্ধকারকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়। এই সুরক্ষার জন্য প্রয়োজন নিষ্কলুষ ঈমান, তাওয়াক্কুল এবং তাসবিহের মাধ্যমে আল্লাহর মহত্ত্ব ঘোষণা।
নিজকে নিজ জুলম বা অন্ধকার (জুলুমাত) থেকে বের হয়ে আলোর (নূর) দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য রবের কাছে ধর্না দেয়া-আবেদন-দরখাস্ত পেশ- (দ্র: ২:২৫৭):
এবং
রব্বানা-জোয়ালাম্না- আন্ফুসানা- অইল্লাম্ তার্গ্ফিলানা-অর্তাহাম্না-লানাকূনান্না মিনাল্ খা-সিরীন্। ইন্নাহূ হুঅত তাওঅ-বুর রাহীম্।
অর্থ: হে আমাদের রব! আমরা আমাদের নিজেদের উপর জুলুম করেছি। আর যদি না আপনি আমাদের জন্য ক্ষমা করেন এবং আমাদের অনুগ্রহ করেন, নিশ্চয়ই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব-আল কুরআন ৭:২৩
إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
ইন্নাহূ হুঅত তাওঅ-বুর রাহীম্। অর্থ: নিশ্চয়ই তিনি, তিনিই তওবা কবুলকারী, দয়ালু- আল কুরআন ২:৩৭
4. অসৎ সঙ্গ ত্যাগ এবং জালিম ও জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার কুরআনি দোয়া:
জালিম জনগোষ্ঠীর সাথী না হওয়ার দোয়া: জান্নাতি ও জাহান্নামীদের কথোপকথনের এক পর্যায়ে এই দোয়াটির কথা কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২. নিজেকে জালিমদের দলভুক্ত না করার দোয়া: সালামুন আলা মূসা তাঁর রবের কাছে নিজের এবং তাঁর ভাইয়ের জন্য এই দোয়া করেছিলেন।
৩. জাহান্নামীদের সাথী না হওয়ার নিশ্চিত দোয়া
4. জালিমের আগ্রাসন ও ফিতনা থেকে মুক্তির দুআ: তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর চূড়ান্ত নির্ভরতার দুআ (জালেমদের ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য):
রব্বানা-‘আলাইকা তাওয়াক্কাল্না-অইলাইকা আনাব্না-অইলাইকাল্ মাছী-র। রব্বানা- লা- তাজ্ব ‘আল্না- ফিতœাতাল্ লিল্লাযীনা কাফারূ অর্গ্ফিলানা-রব্বানা -ইন্নাকা আংতাল ‘আযীযুল্ হাকীম্।
অর্থ: হে আমাদের রব! আমরা আপনার উপরই ভরসা করি এবং আপনার দিকে আমরা মুখ ফেরাই আর আপনার কাছেই প্রত্যাবর্তনস্থল। হে আমাদের রব! যারা কুফর করেছে আমাদেরকে তাদের জন্য ফিতনা বানাবেন না। আর আমাদেরকে ক্ষমা করুন। হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আপনি, আপনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়- আল কুরআন ৬০:৪, ৬০:৫
6. বাড়াবাড়ি ও ত্রুটি থেকে ক্ষমার দুআ (মস্তবড় বিপদেও স্থীর/দৃঢ় থাকার সাহায্য কামনায়):
رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِي أَمْرِنَا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَরব্বানাগফির লানা যুনূবানা ওয়া ইসরফানা ফী আমরিনা ওয়া ছাব্বিত আক্বদামানা ওয়ানসুরনা ‘আলাল ক্বাওমিল কাফিরীন।
হে আমাদের রব! আমাদের পাপসমূহ এবং আমাদের কাজের মধ্যকার বাড়াবাড়িগুলো (ইসরফ) ক্ষমা করে দিন, আমাদের পা সুদৃঢ় রাখুন এবং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন। (৩:১৪৭)
একইভাবে, ইউনুস (সালামুন আলাইহে) যখন সাময়িকভাবে অধৈর্য হয়ে তাঁর জাতির প্রতি রাগ করে চলে গিয়েছিলেন, তখন তিনি মাছের পেটে বসে উপলব্ধি করেন যে, এটি তাঁর নিজের ওপর একটি জুলুম বা বাড়াবাড়ি ছিল। এই অনুধাবন থেকে তিনি যে তাসবিহ পাঠ করেছিলেন, তা বিপদে পড়া যেকোনো মানুষের জন্য নিজের নফসের ওপর করা বাড়াবাড়ি থেকে মুক্তির এক শাশ্বত আশ্রয়।
কাফির জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সাহায্য কামনায়:
رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ ۖ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا ۚ أَنتَ مَوْلَانَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
রব্বানা- লা-তুআ-খিয্না- ইন্নাসী- না-আও আখ্ত্বোয়ানা-, রব্বানা- অলা-তাহ্মিল্ ‘আলাইনা- ইছরান কামা-হামাল্তাহূ ‘আলাল্লাযীনা মিন্ ক্বাব্লিনা-, রব্বানা- অলা-তুহাম্মিল্না- মা-লা-ত্বোয়া-ক্বাতা লানা-বিহ্; অ’ফু ‘আন্না-অর্গ্ফি লানা- র্অহাম্না- আংতা মাওলা-না- ফান্ছুরনা- ‘আলাল্ ক্বাওমিল্ কা-ফিরীন্।
অর্থ: হে আমাদের রব! আমরা যদি ভুলে যাই বা ভুল করি, আপনি আমাদের ধরবেন না। হে আমাদের রব! আর আপনি আমাদের ওপর তেমন ভার অর্পণ করবেন না, যেমন আমাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের ওপর তা অর্পণ করেছিলেন। হে আমাদের রব! আর আপনি আমাদেরকে এমনকিছু অর্পণ করবেন না, যেটার সামর্থ্য আমাদের নেই। আর আপনি আমাদের মাফ করুন এবং আপনি আমাদের ক্ষমা করুন আর আপনি আমাদের অনুগ্রহ করুন। আপনিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং আপনি আমাদেরকে কাফির জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সাহায্য করুন- আল কুরআন ২:২৮৬
بِإِذْنِ ٱللَّهِ ۗ وَٱللَّهُ مَعَ ٱلصَّـٰبِرِينَ
رَبَّنَآ أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَٱنصُرْنَا عَلَى ٱلْقَوْمِ ٱلْكَٰفِرِينَ
বিঈযনিল্লাহ্… ওয়াল্লাহু মা‘আস-সাবিরীন
রব্বানা- আফ্রিগ্ ‘আলাইনা-ছোয়াব্রাওঁ অছাব্বিত্ আক্ব-মানা-অর্ন্ছুনা-‘আলাল্ ক্বাওমিল্ কা-ফিরীন্।
অর্থ: আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।
হে আমাদের রব! আপনি আমাদের ওপর ধৈর্য্য প্রবাহিত করুন! এবং আমাদের পা দৃঢ় রাখুন! আর কাফির জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন!-আল কুরআন ২:২:২৪৯+২:২৫০
জালেমের জুলুম থেকে সুরক্ষায় /জালিমের কর্ম ও বাড়াবাড়ি থেকে ব্যক্তি-নিরাপত্তার দুআ:
ফিরাউনের স্ত্রীর (আসিয়া) দুআটি কুরআনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত, যেখানে তিনি কেবল জালিম ব্যক্তির থেকেই নয়, বরং তার ‘عمل’ (অপকর্ম ও বাড়াবাড়ি) থেকেও আল্লাহর কাছে বিচ্ছিন্নতা ও আশ্রয় চেয়েছেন।
رَبِّ ابْنِ لِي عِندَكَ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ وَنَجِّنِي مِن فِرْعَوْنَ وَعَمَلِهِ وَنَجِّنِي مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَরব্বিবনি লী ‘ইনদাকা বাইতান ফিল জান্নাতি ওয়া নাজ্জিনী মিন ফির‘আউনা ওয়া ‘আমালিহী ওয়া নাজ্জিনী মিনাল ক্বাওমিয যালিমীন।
হে আমার রব! আপনার কাছে জান্নাতে আমার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করুন এবং আমাকে ফিরাউন ও তার কর্ম (বাড়াবাড়ি) থেকে রক্ষা করুন, আর আমাকে জালিম সম্প্রদায় থেকে নাজাত দিন (৬৬:১১)
পরিবার পরিজনসহ আশ্রয় প্রার্থনা:
কাফির জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সাহায্য কামনায়:
رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ ۖ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا ۚ أَنتَ مَوْلَانَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
রব্বানা- লা-তুআ-খিয্না- ইন্নাসী- না-আও আখ্ত্বোয়ানা-, রব্বানা- অলা-তাহ্মিল্ ‘আলাইনা- ইছরান কামা-হামাল্তাহূ ‘আলাল্লাযীনা মিন্ ক্বাব্লিনা-, রব্বানা- অলা-তুহাম্মিল্না- মা-লা-ত্বোয়া-ক্বাতা লানা-বিহ্; অ’ফু ‘আন্না-অর্গ্ফি লানা- র্অহাম্না- আংতা মাওলা-না- ফান্ছুরনা- ‘আলাল্ ক্বাওমিল্ কা-ফিরীন্।
অর্থ: হে আমাদের রব! আমরা যদি ভুলে যাই বা ভুল করি, আপনি আমাদের ধরবেন না। হে আমাদের রব! আর আপনি আমাদের ওপর তেমন ভার অর্পণ করবেন না, যেমন আমাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের ওপর তা অর্পণ করেছিলেন। হে আমাদের রব! আর আপনি আমাদেরকে এমনকিছু অর্পণ করবেন না, যেটার সামর্থ্য আমাদের নেই। আর আপনি আমাদের মাফ করুন এবং আপনি আমাদের ক্ষমা করুন আর আপনি আমাদের অনুগ্রহ করুন। আপনিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং আপনি আমাদেরকে কাফির জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সাহায্য করুন- আল কুরআন ২:২৮৬
بِإِذْنِ ٱللَّهِ ۗ وَٱللَّهُ مَعَ ٱلصَّـٰبِرِينَ
رَبَّنَآ أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَٱنصُرْنَا عَلَى ٱلْقَوْمِ ٱلْكَٰفِرِينَ
বিঈযনিল্লাহ্… ওয়াল্লাহু মা‘আস-সাবিরীন
রব্বানা- আফ্রিগ্ ‘আলাইনা-ছোয়াব্রাওঁ অছাব্বিত্ আক্ব-মানা-অর্ন্ছুনা-‘আলাল্ ক্বাওমিল্ কা-ফিরীন্।
অর্থ: আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।
হে আমাদের রব! আপনি আমাদের ওপর ধৈর্য্য প্রবাহিত করুন! এবং আমাদের পা দৃঢ় রাখুন! আর কাফির জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন!-আল কুরআন ২:২:২৪৯+২:২৫০
জালেমের জুলুম থেকে সুরক্ষায় /
পরিবার পরিজনসহ আশ্রয় প্রার্থনা:
رَبِّ نَجِّنِى وَأَهْلِى مِمَّا يَعْمَلُونَ
রব্বি নাজ্জ্বিনী অআহ্লী মিম্মা-ইয়া’মালূন্ ।
অর্থ: হে আমার রব! তারা যা করছে তা থেকে আমাকে এবং আমার পরিবার-পরিজন/অনুসারীদের রক্ষা করুন- আল কুরআন ২৬:১৬৯
জালিমের চক্রান্ত ও বাড়াবাড়ি থেকে চূড়ান্ত সুরক্ষার ঐশী ঢাল (Tawfid /তাফউইদ):
وَأُفَوِّضُ أَمْرِي إِلَى اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ بَصِيرٌ بِالْعِبَادِ
নূর ও
হেদায়েত চাওয়ার দোয়া
رَبَّنَا أَتْمِمْ لَنَا نُورَنَا وَاغْفِرْ لَنَا ۖ إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণ: রব্বানা আতিম্ম লানা নূরানা ওয়াগফির লানা; ইন্নাকা আলা কুল্লি শাইয়্যিন ক্বাদী-র।
অর্থ: হে আমাদের রব! আপনি আমাদের জন্য আমাদের নূরকে পূর্ণ করুন। আর আমাদের ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।
আল-কুরআন: আত তাহরীম, আয়াত ৬৬:৮
رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا ۖ إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ وَتُبْ عَلَيْنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
ব্বানা-তাক্বাব্বাল্ মিন্না; ইন্নাকা আনতাস্ সামী‘উল্ ‘আলীম্ অতুব্ ‘আলাইনা-ইন্নাকা আন্তাত্ তাওয়্যা-বুর রাহীম্।
অর্থ: হে আমাদের রব! আপনি আমাদের পক্ষ থেকে ক্ববূল করুন। নিশ্চয়ই আপনি, আপনিই সর্বস্পন্দনগ্রাহী, বিস্তৃত জ্ঞানসম্পন্ন। এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি, আপনিইতো ক্ষমাশীল, দয়ালু-আল কুরআন ২:১২৭, ২:১২৮