➥ মিনেস্ট্রেশন পিরিয়ড বা ঋতুচক্র ও মহাজাগতিক টাইমিং: সালাত বা হজ্জের সংযোগে কি ‘তাকদীর’ স্থগিত করার এখতিয়ার মানুষের আছে?
➥ হজ্জের প্রয়োজনে কি ঋতুচক্র বন্ধ করা বৈধ? নারী ও পুরুষের ভিন্নধর্মী জৈবিক ছন্দ রক্ষায় আল-কুরআনের অকাট্য সমাধান।
➥ আল্লাহর ‘ফিতরাত’ ও ঋতুচক্র: হজ্জের সময় প্রাকৃতিক নিয়ম পরিবর্তন ও নারী-পুরুষের অভ্যন্তরীণ ছন্দের কুরআনভিত্তিক বিশ্লেষণ-
➥ জৈবিক ঘড়ি ও ঋতুচক্র: এটি কি কেবলই নারীদের? পুরুষের অভ্যন্তরীণ ফর্ম ও ইবাদতে ‘ফিতরাত’ সুরক্ষায় আল-কুরআনের নির্দেশনা।
➥ ইবাদতের সংযোগে কি ‘তাকদীর’ স্থগিত করা যায়?
এইমর্মে প্রশ্ন হচ্ছে- এসব জটিল প্রশ্নের ফতোয়া কে দিবে?
আমাদের রব বলেন-
কুরআন—সবকিছুর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা (তিবইয়ান):
দলিল (সূরা আন-নাহল ১৬:৮৯): “...আমি আপনার নিকট কিতাবটি নাযিল করেছি যা প্রতিটি জিনিসের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা (তিবইয়ান)...” (আরও দ্র: আয়াত ৭৫:১৯, ৬:৩৮)
আল্লাহ নিজেই ফতোয়া দেন:
কুরআনের শব্দগত নিপুণতা লক্ষ্য করলে দেখা যায়, যখনই কোনো বিষয়ে আইনি সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হয়েছে, আল্লাহ সরাসরি নিজের দিকে সেই দায়িত্ব আরোপ করেছেন। কুরআনে সরাসরি আল্লাহ নিজেকে ফতোয়া প্রদানকারী হিসেবে ঘোষণা করেছেন। যখনই মানুষ কোনো জটিলতায় পড়েছে, আল্লাহ সেই ফতোয়া বা সমাধান নিজের পক্ষ থেকে পাঠিয়েছেন।
দলিল (সূরা আন-নিসা ৪:১২৭):
“লোকেরা আপনার কাছে নারীদের বিষয়ে ফতোয়া (বিধান) জানতে চায়। বলুন: আল্লাহ নিজেই তোমাদেরকে তাদের বিষয়ে ফতোয়া (يُفْتِيكُمْ - বিধান) দিচ্ছেন...”
এখানে ‘ইউফতিকুম’ শব্দটি সরাসরি ‘ফতোয়া’ থেকে উদ্ভূত। যখন রাসূল ‘সালামুন আলা’ মুহাম্মাদ (সা:)-এর কাছে কোনো বিধান জানতে চাওয়া হতো, তখন আল্লাহ বলতেন না যে ‘আপনি ফতোয়া দিন’, বরং আল্লাহ বলতেন— ‘বলুন! আল্লাহ তোমাদের ফতোয়া দিচ্ছেন’। এটি প্রমাণ করে যে, বিধান বা সমাধান দেওয়ার একচ্ছত্র মালিকানা আল্লাহর।
তাহলে দ্বীনের মধ্যে ফতোয়ায় আমি কে আর আপনি কে?
▓▒এবারে মূল আলোচনা▒▓
নিম্নে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলের অনুসরনে আয়াতসমূহ অনুধাবনে ‘তাকদীর’, ‘ফিতরাত’ এবং ‘যিকর’-এর আলোকে বিষয়টি বিস্তারিত জানা ও বোঝার চেষ্টা করছি- বিঈযনিল্লাহ!
১. ফিতরাত ও সৃষ্টির পরিবর্তন: একটি ঐশী সতর্কবাণী:
আল্লাহ রব্বুল আলামিন নির্দেশ দিয়েছেন সেই ফিতরাতের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে যা তিনি স্বয়ং নির্ধারণ করেছেন:
“তুমি তোমার চেহারাকে একনিষ্ঠভাবে দ্বীনের (জীবনবিধান) দিকে প্রতিষ্ঠিত রাখো; আল্লাহর সেই ফিতরাত (প্রকৃতি/স্বভাব), যার ওপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টিতে কোনো পরিবর্তন নেই (لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ)।” (৩০:৩০)
গভীর অনুধাবন: নারীর ঋতুচক্র (Menstruation) এই ফিতরাতেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি কোনো রোগ নয়, বরং এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ির একটি নিয়মিত স্পন্দন। আল-কুরআনে ইবলিসের একটি প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে যা অত্যন্ত ভয়ানক:
“...এবং আমি অবশ্যই তাদের নির্দেশ দেব, ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করবে (ফা-লাইয়ুগাইয়িরুন্না খালক্বাল্লাহ)।” (৪:১১৯)
কৃত্রিম উপায়ে হরমোন পরিবর্তন করে ঋতুচক্র বন্ধ রাখা বা পিছিয়ে দেওয়া মূলত ‘আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করা’ বা প্রাকৃতিক ছন্দের বিরুদ্ধে লড়াই করার নামান্তর।
অপ্রয়োজনে এই জৈবিক ঘড়ি স্থগিত করার কোনো এখতিয়ার আল-কুরআন মানুষকে প্রদান করেনি।
২.‘আযা’ এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে সহজতা: আয়াত ২:২২২ ও ২:১৮৫-এর সমন্বয় আল্লাহ রব্বুল আলামিন ঋতুচক্রকে ‘আযা’ (أَذًى) বা শারীরিক কষ্ট/ক্লান্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন:
“লোকেরা আপনাকে ঋতুস্রাব (الْمَحِيضِ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে; বলুন, এটি একটি কষ্ট (أَذًى); অতএব তোমরা ঋতুস্রাবকালে স্ত্রীদের থেকে পৃথক থাকো এবং তারা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হয়ো না...” -আয়াত ২:২২২
যৌক্তিক বিশ্লেষণ: এই আয়াতে আল্লাহ কেবল ‘মেলামেশার’ (sexual intimacy) ক্ষেত্রে একটি সাময়িক বিরতির কথা বলেছেন (সেটাও নির্দেশায় সতর্ক করা হয়েছে স্বামীকে)। গভীর অনুধাবনে দেখা যায়, পুরো আয়াতে কোথাও সালাত, তাসবিহ, আল-কুরআন তিলাওয়াত বা স্টাডি নিষেধ করার মতো কোনো নির্দেশনা আল্লাহ প্রদান করেননি। হজ্জের সময় যদি কোনো নারীর ঋতুচক্র শুরু হয়, তবে তা আল্লাহর দেওয়া ‘তাকদীর’ বা টাইমিং। আল্লাহ মানুষের জন্য দ্বীনকে সহজ করেছেন:
“আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান এবং তোমাদের জন্য কঠিন করতে চান না (يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ)।” (২:১৮৫)
প্রাকৃতিক নিয়মকে জোরপূর্বক থামিয়ে দিয়ে কৃত্রিমভাবে ইবাদত সম্পন্ন করার চেয়ে আল্লাহর দেওয়া অবস্থাকে মেনে নেওয়াই হলো প্রকৃত ‘তাকওয়া’। কারণ, শরীরের ভারসাম্য বা ‘মিযান’ নষ্ট করা আল্লাহর ভাষায় সীমার লঙ্ঘন (৫৫:৮)।
৩. যিকর থেকে বিমুখতার ভয়াবহতা: ৪৩:৩৬-এর অকাট্য যুক্তি:
আল-কুরআন মাজীদের মূলনীতি হলো আল্লাহর স্মরণ বা যিকর হবে নিরবচ্ছিন্ন। আল্লাহ সু.তা. এক কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন:
আর যে দয়াময়ের উপদেশ (যিকরুর রহমান) থেকে বিরত থাকে (নিজকে আবডাল বা আড়াল/অস্পষ্ট করে রাখে) আমরা তার জন্য শয়তান নিযুক্ত করে দিই। তখন সে তার জন্য দোসর/সহচর (কারীন) -আয়াত ৪৩:৩৬ (আরও দেখুন আয়াত ৭:১৭৫)
গভীরতর অনুধ্যান: যদি ঋতুচক্রের কারণে কোনো নারীকে সালাত, যিকর বা আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমগুলো থেকে দূরে রাখা হয়, তবে সেই সময়টিতে সে আল্লাহর ‘যিকর’ থেকে বিমুখ অবস্থায় থাকে। ৪৩:৩৬ আয়াতের অকাট্য যুক্তি অনুযায়ী, আল্লাহর স্মরণ থেকে এক মুহূর্তের বিচ্যুতি মানেই শয়তানকে সঙ্গী হিসেবে সুযোগ করে দেওয়া। আল্লাহ কি এমন বিধান দিতে পারেন যা নারীকে প্রতি মাসে কয়েক দিনের জন্য শয়তানের কবলে পড়ার ঝুঁকিতে ফেলবে? কখনোই না। সুতরাং, ঋতুচক্র কোনোভাবেই আল্লাহর যিকর (সালাত, তিলাওয়াত, তাসবিহ) থেকে বিরত থাকার অজুহাত হতে পারে না। এটি কেবল শরীরের একটি জৈবিক ‘আযা’ যা রূহানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কারণ নয়।
৪. নারী ও পুরুষ: ভিন্ন ভিন্ন রূপে একই ছন্দের প্রকাশ অনেকে মনে করেন কেবল নারীদেরই এমন চক্র আছে। কিন্তু আল-কুরআনের দর্শন অনুযায়ী, নারী ও পুরুষ উভয়েই জোড়ায় সৃষ্টি এবং উভয়ের জন্যই পর্যায়ক্রমিক রূপান্তর নির্ধারিত।
“পবিত্র সেই সত্তা যিনি জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন সব কিছু—পৃথিবী যা উৎপন্ন করে তা থেকে, তাদের নিজেদের মধ্য থেকে এবং এমন সব সৃষ্টি থেকেও যা তারা জানে না।” (৩৬:৩৬)
ঋতুচক্র: নারী-পুরুষ: অভ্যন্তরীণ ফর্মের বিশ্লেষণ:
- নারীর চক্র: এটি দৃশ্যমান (ঋতুচক্র) এবং প্রজনন ক্ষমতার সাথে সরাসরি যুক্ত। এটি চন্দ্র মাসের আবর্তনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- পুরুষের চক্র: পুরুষের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম হরমোন (যেমন টেস্টোস্টেরন) এবং শক্তির মাত্রাকে একটি সুনির্দিষ্ট চক্রে নিয়ন্ত্রণ করে। যদিও এটি ঋতুচক্রের মতো দৃশ্যমান রক্তস্রাব নয়, কিন্তু পুরুষের মেজাজ ও কোষীয় পুনর্গঠনও একটি পর্যায়ক্রমিক (cyclical) ছন্দে বাধা। আল্লাহ সু.তা.বলেন:
“অথচ তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন পর্যায়ক্রমে (أَطْواراً - আত্বওয়ারা)।” (৭১:১৪)
উভয় ক্ষেত্রে আল্লাহ কাউকেই তাঁর যিকর বা স্মরণ থেকে এক মুহূর্তের জন্য বিচ্যুত হওয়ার অনুমতি দেননি। ঋতুস্রাব কেবল মেলামেশার জন্য একটি ‘সাময়িক বিরতি’, কিন্তু স্রষ্টার সাথে আধ্যাত্মিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো দেয়াল নয়।
৫. হজ্জ-সালাত সংযোগ ও প্রাকৃতিক সমর্পণ: বিবাদহীন আত্মসমর্পণ:
হজ্জ হলো আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের নাম। যদি হজ্জের দিনগুলোতে আল্লাহর দেওয়া ‘তাকদীর’ অনুযায়ী কোনো নারীর ঋতুচক্র শুরু হয়, তবে তার শরীরের প্রতিটি কোষ তখন আল্লাহর হুকুম (প্রাকৃতিক আইন) পালন করছে। কৃত্রিম ওষুধ খেয়ে সেই প্রাকৃতিক হুকুমকে অস্বীকার করা মূলত প্রকৃতির সাথে ‘বিবাদ’ (dispute with Nature) করা। অথচ আল্লাহ বলেন:
“হজ্জের নির্দিষ্ট মাসসমূহ রয়েছে... আর হজ্জের মধ্যে কোনো অশ্লীলতা, মন্দ কাজ বা ঝগড়া-বিবাদ নেই।” (২:১৯৭)
প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করাও এক প্রকার বিবাদ। সুতরাং, আল্লাহর নির্ধারিত ফিতরাতকে মেনে নিয়ে সেই অবস্থায় ইবাদতের যে বিধান আল্লাহ দিয়েছেন, তার ওপর সন্তুষ্ট থাকাই হলো ‘উলুল আলবাব’ বা বোধসম্পন্নদের কাজ।
যৌক্তিক পূর্ণতা ও উপসংহার:
আল-কুরআন মাজীদের নির্যাস হলো—মানুষের শরীর স্রষ্টার একটি পবিত্র আমানত, যা একটি নিখুঁত গাণিতিক শৃঙ্খলায় (তাকদীর) চলছে। ওষুধ দিয়ে ঋতুচক্র স্থগিত করা মূলত আল্লাহর দেওয়া ‘মিযান’ বা ভারসাম্য নষ্ট করার শামিল। ২:২২২ আয়াত কেবল শারীরিক সম্পর্কের সীমাবদ্ধতা বর্ণনা করে, কিন্তু ৪৩:৩৬ আয়াত সর্বাবস্থায় আল্লাহর স্মরণে থাকার অপরিহার্যতা প্রমাণ করে।
একজন মুমিন নারী ঋতুচক্র অবস্থায়ও সালাত, তাসবিহ এবং আল-কুরআন স্টাডির মাধ্যমে আল্লাহর যিকরে নিমগ্ন থাকবে, যাতে শয়তান তার সঙ্গী হতে না পারে। এটিই হলো আল-কুরআনের সেই সুশৃঙ্খল ও ভারসাম্যপূর্ণ পথ।
আল কুরআনে ফতোয়া:
মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা এবং আল্লাহর ফতোয়া তালাশ:
কুরআন শিখিয়েছে যে, মানুষ কোনো রহস্যময় বা গায়েবি বিষয়ে নিজেরা ফতোয়া দিতে পারে না। আসহাবে কাহাফ-এর সংখ্যা নিয়ে বিতর্কের সময় আল্লাহ এই নির্দেশ দেন। দলিল (সূরা আল-কাহাফ ১৮:২২):
নবীগণের মাধ্যমে আল্লাহর ফতোয়া ও ‘কাযা’ (মীমাংসা):
ইউসুফ ‘সালামুন আলা’ এবং অন্যান্য নবীগণের জীবনে ‘ফতোয়া’ শব্দটির প্রয়োগ দেখা যায় যা মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা অকাট্য সমাধান। -দলিল (সূরা ইউসুফ ১২:৪১, ১২:৪৩, ১২:৪৬):
চ্যালেঞ্জ হিসেবে ফতোয়ার প্রয়োগ (রহিতকরণ বা অসারতা প্রমাণ):
মক্কার কাফেররা যখন আজেবাজে দাবি করত, তখন আল্লাহ তাদের জ্ঞান ও যুক্তিকে চ্যালেঞ্জ করতে ‘ফাসতাফতিহিম’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন-দলিল (সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১১ ও ৩৭:১৪৯):
অন্য কাউকে ‘বিচারক’ বা ‘হাকাম’ মানার নিষেধাজ্ঞা:
ফতোয়া হলো একটি ‘হুকুম’ বা সিদ্ধান্ত। আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সিদ্ধান্তদাতা হিসেবে গ্রহণ করাকে কুরআন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। -দলিল (সূরা আল-আনআম ৬:১১৪):
নিজ মুখে ‘হালাল-হারাম’ ঘোষণা করার সতর্কতা:
মানুষ যখন নিজের খেয়ালখুশি মতো ফতোয়া দেয় (এটা জায়েয, ওটা নাজায়েয), তখন কুরআন তাকে ‘আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ’ হিসেবে গণ্য করে।-দলিল (সূরা আন-নাহল ১৬:১১৬): “তোমাদের জিহ্বা থেকে বানানো মিথ্যা বলো না যে— ‘এটি হালাল এবং এটি হারাম’, যাতে আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করা হয়...”
দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করার মাধ্যমে মানুষের নিজস্ব-মনগড়া ফতোয়ার প্রয়োজনীয়তা বিলোপ:
যদি মানুষের নিজস্ব ফতোয়া বা আইনের প্রয়োজন হতো, তবে দ্বীন অসম্পূর্ণ থাকত। কিন্তু আল্লাহ তা পূর্ণ করে দিয়েছেন। দলিল (সূরা আল-মায়েদাহ ৫:৩):
“...আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম...”
রাসূলের সীমাবদ্ধতা: তিনিও ওহীর অধীন:
‘সালামুন আলা’ মুহাম্মাদ নিজেও আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো ফতোয়া বা বিধান দেওয়ার অধিকার রাখতেন না। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, দ্বীনের প্রতিটি সমাধান বা ফতোয়া সরাসরি তাঁর পক্ষ থেকেই অবতীর্ণ। যদি কেউ আল্লাহর নামে নিজের পক্ষ থেকে কোনো বিধান তৈরি করে, তবে তার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ।
দলিল (সূরা ইউনুস ১০:১৫):
“...বলুন! নিজের পক্ষ থেকে এটি পরিবর্তন করার কোনো অধিকার আমার নেই। আমার প্রতি যে ওহী নাযিল হয়, আমি কেবল তারই অনুসরণ করি...” (আরও দ্র: আয়াত ৬৯:৪৩-৪৮)
ফতোয়া বিষয়ক আরও দলিল আয়াতসমূহ: ৪:১৭৬, ৮:১৯, ৪:২৫, ২৪:৩৩, ৪২:১০, ৫:৪৪, ১৬:৮৯
░ ▓▒░ দুআ-তাসবিহ░▒▓ ░
আল্লাহর ফিতরাত ও নিরবচ্ছিন্ন স্মরণের তাওফিক চেয়ে এই দুআগুলো পাঠযোগ্য:
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ مِنلَّنكَ رَحْمَةً ۚ إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ
(রাব্বানা লা তুযিগ ক্বুলুবানা বা’দা ইয হাদাইতানা ওয়া হাব লানা মিল্লাদুনকা রাহমাতান, ইন্নাকা আনতাল ওয়াহহাব)
অর্থ: হে আমাদের রব! হিদায়াত দান করার পর আমাদের অন্তরকে সত্যলঙ্ঘনকারী করবেন না এবং আপনার নিকট থেকে আমাদের রহমত দান করুন; নিশ্চয়ই আপনি পরম দাতা। (৩:৮)
رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِن ذُرِّيَّتِي ۚ رَبَّنَا وَتَقَبَّلْدُعَاءِ
(রাব্বিজআলনি মুক্বিমাস সালাতি ওয়া মিন যুররিয়্যাতি; রাব্বানা ওয়া তাক্বাব্বাল দু’আ)
অর্থ: হে আমার রব! আমাকে সালাত কায়েমকারী করুন এবং আমার সন্তানদের মধ্য থেকেও। হে আমাদের রব! আমার প্রার্থনা কবুল করুন। (১৪:৪০)
سُبْحَانَ اللَّهِ حِينَ تُمْسُونَ وَحِينَ تُصْبِحُونَ وَلَهُ الْحَمْدُ فِي
السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَعَشِيًّا وَحِينَ تُظْهِرُونَ
(ফাসুবহানাল্লাহি হীনাতুমসূনা ওয়া হীনা তুসবিহুন; ওয়া লাহুল হামদু ফিস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ওয়া আশিয়্যাও ওয়া হীনা তুযহিরুন)
অর্থ: অতএব আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করো যখন তোমরা সন্ধ্যায় উপনীত হও এবং যখন ভোরে উপনীত হও। আর নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলে তাঁরই প্রশংসা;এবং অপরাহ্ণে ও মধ্যাহ্নেও। (৩০:১৭-১৮)
■ রাব্বানা মাখালাকতা হাযা বাতিলা, সুবহানাকা ফাক্বিনা আযাবান নার
অর্থ: হে আমাদের রব! আপনি এসব নিরর্থক সৃষ্টি করেননি; আপনি পবিত্র; অতএব আমাদের আগুনের আজাব থেকে রক্ষা করুন। (৩:১৯১)
الَّذِي خَلَقَ فَسَوَّىٰ وَالَّذِي قَدَّرَ فَهَدَىٰ
(আল্লাযি খালাকা ফাসাওওয়া; ওয়াল্লাযি ক্বাদ্দারা ফাহাদা) অর্থ: যিনি সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর ভারসাম্য রক্ষা করেছেন; এবং যিনি সুনির্ধারিত পরিমাপ (তাকদীর) করেছেন, অতঃপর পথ প্রদর্শন করেছেন। (৮৭:২-৩)
رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا ۖ إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ وَتُبْ عَلَيْنَاۖ إِنَّكَ أَنتَ التَّوَّ الرَّحِيمُ
রাব্বানা-তাক্বাব্বাল্ মিন্না; ইন্নাকা আনতাস্ সামী‘উল্ ‘আলীম্ অতুব্ ‘আলাইনা-ইন্নাকা আন্তাত্ তাওয়্যা-বুর রাহীম্।
অর্থ: হে আমাদের রব! আপনি আমাদের পক্ষ থেকে ক্ববূল করুন। নিশ্চয়ই আপনি, আপনিই
সর্বস্পন্দনগ্রাহী, বিস্তৃত জ্ঞানসম্পন্ন। এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি, আপনিইতো ক্ষমাশীল, দয়ালু। (আল কুরআন ২:১২৭, ২:১২৮)
سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ وَسَلَامٌ عَلَىالْمُرْسَلِينَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
সুবহা-না রব্বিকা রব্বিল ‘ইযযাতি ‘আম্মা- ইয়াসিফূন। অসালা-মুন ‘আলাল মুরসালীন। অলহামদু লিল্লা-হি রব্বিল ‘আ-লামীন!
অর্থ: আপনার রব, যিনি সকল সম্মানের অধিকারী, তিনি তারা যা আরোপ করে তা থেকে পবিত্র।
এবং রাসুলগণের প্রতি শান্তি (সালাম)। আর সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। (আয়াত ৩৭:১৮০-১৮২)
