এ প্রেক্ষাপটে অনেকের মনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উদ্ভব হয়। যেহেতু আল্লাহর রাসূল নবী সালামুন আলা মুহাম্মদ (সা.)-এর ইন্তেকাল হয়েছে (৩:১৪৪, 7:158), তাই কি তাঁর সতর্কীকরণ (ইনযার) ও পথনির্দেশের কার্যক্রমও সমাপ্ত হয়েছে? নাকি তাঁর সাহাবীগণ, তাবেঈন, তাবে-তাবেঈন এবং পরবর্তীকালে সংকলিত তাঁর কথা, কর্ম ও অনুমোদনের বর্ণনাসমূহ—যেমন বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী প্রভৃতি হাদিসগ্রন্থ, ফিকহি কিতাব এবং বিভিন্ন মাজহাবের অনুসরণ—বর্তমান যুগে রাসূলের আনুগত্য ও অনুসরণের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হবে? বর্তমান যুগে আল্লাহর সতর্কীকরণ কীভাবে কার্যকর?
অন্যদিকে কিয়ামতের দিন জাহান্নামবাসীদের উদ্দেশে প্রশ্ন করা হবে, "তোমাদের কাছে কি তোমাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ আসেননি? তারা উত্তর দেবে, "হ্যাঁ, অবশ্যই এসেছিলেন।"
এই আয়াতের আলোকে আরেকটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়—বর্তমান যুগের মানুষ, যারা রাসূলকে প্রত্যক্ষভাবে দেখেনি, তাদের নিকট সেই রাসূলের আগমন ও সুস্পষ্ট প্রমাণ কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানই পরবর্তী আলোচনার মূল বিষয়।
বলো! ওহে মানুষ! নিশ্চয় আমি তোমাদের সবার জন্য সেই আল্লাহর রসূল, যার জন্য রয়েছে আকাশসমূহ ও পৃথিবীর রাজত্ব। তিনি ছাড়া ইলাহ নেই। তিনিই জীবন দেন এবং মৃত্যু দেন। অতএব, তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর ও তাঁর রসূলের প্রতি; উম্মি নবী, যে আল্লাহর ও তাঁর বাণীসমূহের প্রতি ঈমান রাখে। আর তোমরা তার অনুসরণ করো, যেন তোমরা হিদায়েতপ্রাপ্ত হও। ৭:১৫৮
গভীর অনুধ্যান: এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে, রাসূলের শরীরী উপস্থিতি গৌণ, তাঁর আনীত ‘রিসালাত’ বা বার্তাই হলো মুখ্য। রাসূল (সালামুন আলাইহে) চলে গেলেও তাঁর আনীত রিসালাত বা কুরআন বর্তমান আছে। অতএব, রাসূলের কাজ (সতর্ক করা ও সুসংবাদ দেওয়া) এই কিতাবের মাধ্যমেই কিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবে। এই আয়াতটি কিতাবকে ‘চিরঞ্জীব রাসূল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার অন্যতম শক্তিশালী দলিল। আয়াত প্রমাণ-
আল্লাহ বলেন—
আর আমরা কুরআন থেকে যা নাযিল করি, তা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত; আর তা জালিমদের ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করে না। -সূরা আল-ইসরা ১৭:৮২ (১০:৫৭-৫৮)
উপরোক্ত আয়াতের ভাষাগত বিশ্লেষণে দেখা যায়, এখানে ব্যবহৃত আরবি ক্রিয়াপদ "নুনাযযিলু" (نُنَزِّلُ) বর্তমান/চলমান ক্রিয়ার রূপে এসেছে, যার অর্থ—"আমরা নাযিল করি" বা "আমরা অবতীর্ণ করতে থাকি"। এর অনুধ্যান অনুযায়ী- "নাযিল করি" শব্দের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, আল্লাহর কুরআনিক বাণী কেবল অতীতে অবতীর্ণ একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়; বরং তা প্রতিটি যুগের মানুষের জন্য জীবন্ত নির্দেশনা, আরোগ্য (শিফা) ও রহমতের উৎস হিসেবে কার্যকর রয়েছে।
নবী সালামুন আলা মুহাম্মদ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর মানুষের জন্য আল্লাহর অব্যাহত হিদায়াত, সতর্কবাণী (ইনযার), উপদেশ (যিকির) এবং সত্য-মিথ্যার মাপকাঠি হিসেবে আল-কুরআনই কার্যকর রয়েছে।
আল কুরআন নিজেকে যিকির, হুদা, ফুরকান, বাইয়্যিনাহ, শিফা এবং নযীর (সতর্কবাণী/সতর্ককারী) হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আল-কুরআনই প্রতিটি যুগে মানুষের কাছে আল্লাহর জীবন্ত, কার্যকর ও চলমান বার্তা হিসেবে সতর্ক, উপদেশ ও পথনির্দেশের দায়িত্ব পালন করে চলেছে। অর্থাৎ, যখন আমরা আল কুরআনকে গভীর অনুধ্যানের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করি, তখন এটি স্পষ্ট হয় যে, বর্তমান যুগে এই কিতাবটিই স্বয়ং ‘রাসূল’ বা বার্তাবাহক, সুসংবাদদাতা (বাশীর) এবং সতর্ককারী (নাযীর)-এর ভূমিকা পালন করছে।
রাসূলের মূল দায়িত্ব: আল্লাহর আয়াত পৌঁছে দেওয়া:
আল কুরআন অনুযায়ী, একজন রাসূলের প্রধান ও একমাত্র আবশ্যিক কাজ হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ‘আয়াত’ বা নির্দেশনাবলী কোনো প্রকার পরিবর্তন ছাড়াই মানুষের কাছে নিখুঁতভাবে পৌঁছে দেওয়া।
আল্লাহ রব্বুল আলামিন এরশাদ করেন: “রাসূলের দায়িত্ব তো কেবল সুস্পষ্টভাবে (বার্তা) পৌঁছে দেওয়া (বালাগ)।” (৫:৯২, ২৪:৫৪)
এই ‘বালাগ’ বা পৌঁছে দেওয়ার মূল বিষয়বস্তু হলো আল্লাহর ‘আয়াত’। কুরআন মাজীদের বহু আয়াতে রাসূলগণের পরিচয় দেওয়া হয়েছে এভাবে যে, তাঁরা আল্লাহর আয়াত পাঠ করে শোনান।
হে জিন ও মানব জাতি! তোমাদের মধ্য থেকে কি তোমাদের কাছে রাসূলগণ আসেনি, যারা তোমাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ বর্ণনা করত? (৬:১৩০)
মুহাম্মদ একজন রাসূল ছাড়া আর কিছু নন; তাঁর আগেও বহু রাসূল অতিবাহিত হয়েছেন। সুতরাং তিনি যদি ইন্তেকাল করেন বা নিহত হন, তবে কি তোমরা তোমাদের হিল বা পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে? (৩:১৪৪)
গভীর অনুধ্যান: এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে, রাসূলের শরীরী উপস্থিতি গৌণ, তাঁর আনীত ‘রিসালাত’ বা বার্তাই হলো মুখ্য। রাসূল (সালামুন আলাইহে) চলে গেলেও তাঁর আনীত রিসালাত বা কুরআন বর্তমান আছে। অতএব, রাসূলের কাজ (সতর্ক করা ও সুসংবাদ দেওয়া) এই কিতাবের মাধ্যমেই কিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবে। এই আয়াতটি কিতাবকে ‘চিরঞ্জীব রাসূল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার অন্যতম শক্তিশালী দলিল।
আল কুরআন: জীবন্ত সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা:
সাধারণত কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী নবী-রাসূলগণ (সালামুন আলাল মুরসালীন) মানবজাতির জন্য বাশীর (সুসংবাদদাতা) ও নযীর (সতর্ককারী) হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। বিশেষত নবী সালামুন আলা মুহাম্মদ (সা.), যিনি খাতামুন নবিয়্যীন (নবীগণের সমাপ্তি/শেষ নবী) হিসেবে উল্লেখিত, তাঁকে সমগ্র বিশ্বের মানুষের জন্য বাশীর (সুসংবাদদাতা) ও নযীর (সতর্ককারী) হিসেবে প্রেরণের কথা কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। (দ্রষ্টব্য: ১১:২, ২:১১৯, ২:২১৩, ৩৪:২৮, ৫:১৯)।
জাহান্নামবাসীদের প্রশ্ন করা হবে-
➥ তোমাদের কাছে কি অহীর বার্তা হিসাবে আল্লাহর আয়াতসমূহ আসেনি (৬:১৩০)?
➥ তোমাদের কাছে কি কোনো সতর্ককারী (নাযীর) আসেনি (৬৭:৮, ৩৯:৭১)?
➥ তোমাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ আসেননি? তারা বলবে অবশ্যই! (৪০:৫০)
তাহলে এভাবে স্বীকারোক্তির কারন কী? কারন হলো- আল কুরআন সবার কাছেই সর্ব সময়ে বর্তমান। আল-কুরআন নিজেও বিভিন্ন আয়াতে তার নিজস্ব পরিচয়ের ক্ষেত্রে অনুরূপ বৈশিষ্ট্য সরাসরি উল্লেখ করেছে। আল কুরআন নিজেকে মানুষের জন্য—
■ হিদায়াত (হুদা) — পথনির্দেশ ও সঠিক পথের দিশা হিসেবে উপস্থাপন করেছে (২:২, ২:১৮৫; ৩:১৩৮; ১০:৫৭)।
■ উপদেশ ও স্মরণিকা (যিকির) — মানুষের জন্য স্মরণ, উপদেশ ও শিক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেছে (১৫:৯; ২১:১০; ৩৮:১, ৩৮:২৯)।
■ পথনির্দেশের উৎস — মুত্তাকীদের জন্য পথনির্দেশ এবং মানুষের কল্যাণের জন্য নাযিলকৃত কিতাব হিসেবে বর্ণনা করেছে (২:২, ২:১৮৫; ১৭:৯)।
■ সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী (ফুরকান) — সত্য ও অসত্যের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়ের মানদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছে (২:১৮৫; ২৫:১; ৩:৪)।
■ সুস্পষ্ট প্রমাণ (বাইয়্যিনাহ) — মানুষের জন্য সুস্পষ্ট নিদর্শন ও প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছে (২:১৮৫; ৪:১৭৪; ৬৫:১০-১১)।
■ আরোগ্য (শিফা) — মুমিনদের জন্য অন্তরের রোগের আরোগ্য ও রহমত হিসেবে উল্লেখ করেছে (১৭:৮২; ১০:৫৭; ৪১:৪৪)।
■ সুসংবাদদাতা (বাশীর) — ঈমানদারদের জন্য সুসংবাদ প্রদানকারী হিসেবে উল্লেখ করেছে (২:৯৭; ৪১:৪; ১৬:১০২)।
■ সতর্কবাণী/সতর্ককারী (নযীর) — মানুষকে সতর্ক করার মাধ্যম হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছে (১৪:৫২; ২৫:১; ৬:১৯)।
এসব বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে আল-কুরআন মানবজাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে হিদায়াত, সতর্কীকরণ, উপদেশ ও পথনির্দেশের বার্তা হিসেবে নিজের ভূমিকা তুলে ধরেছে।
আল্লাহ সু.তা. বলেন:
এটি এমন এক কিতাব, যার আয়াতসমূহ বিস্তারিতভাবে বিবৃত, আরবি কুরআনরূপে এমন কওমের জন্য যারা জানে; সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী (বাশীরাও ওয়া নাযীরা) হিসেবে। (৪১:৩-৪)
শব্দগত সামঞ্জস্যতা: লক্ষ্যণীয় যে, ৪১:৪ আয়াতে কিতাবকে সরাসরি ‘বাশীর’ ও ‘নাযীর’ বলা হয়েছে। আবার অন্য আয়াতে সালামুন আলা মুহাম্মদ-কে বলা হয়েছে—
“নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে।” (২:১১৯)।
এই শব্দগত অভিন্নতা প্রমাণ করে যে, কিতাব এবং রাসূলের লক্ষ্য ও পরিচয় অভিন্ন। রাসূলের অনুপস্থিতিতে কিতাবটিই এখন সেই জীবন্ত সত্তা, যা পাঠকারীকে জান্নাতের সুসংবাদ দেয় এবং জাহান্নামের ব্যাপারে সতর্ক করে। ১৭:৯ আয়াতে আল্লাহ রব্বুল আলামিন একে ‘হুদা’ বা গাইড হিসেবে ঘোষণা করেছেন: “নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন পথ প্রদর্শন করে যা সবচাইতে সরল ও সঠিক।” (১৭:৯)
ওহীর বার্তার সত্যতা ও সতর্ককারী আগমন সংক্রান্ত প্রশ্ন:
জাহান্নামীদের যখন সেখানে প্রবেশ করানো হবে, তখন তাদের প্রতি প্রথম প্রশ্নটি হবে অত্যন্ত মর্মস্পর্শী। আল্লাহ সু.তা. সেই প্রশ্নটি ফেরেশতাদের মাধ্যমে করাবেন:
তোমাদের কাছে কি কোনো সতর্ককারী (নাযীর) আসেনি? (৬৭:৮, ৩৯:৭১)
হে জিন ও মানব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্য থেকে কি তোমাদের কাছে রসূলগণ আসেনি, যারা তোমাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ বর্ণনা করতো এবং তোমাদের এই দিনের মুখোমুখি হওয়া সম্পর্কে সতর্ক করতো? (৬:১৩০)
জাহান্নামের দায়িত্বে নিয়োজিত মালাইকাগণের সাথে জাহান্নামীদের যে সংলাপ হয়:
তোমাদের কাছে কি তোমাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ আসেননি? তারা বলবে অবশ্যই! (৪০:৫০)
এই প্রশ্নগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ রব্বুল আলামিন এটিই প্রমাণ করবেন যে, তিনি কাউকে পথপ্রদর্শন না করে বা ওহীর মাধ্যমে সতর্ক না করে শাস্তি দেন না (১৭:১৫)।
এখন প্রশ্ন হলো, এই সতর্ককারী কে? এর উত্তর পাওয়া যায় অন্য আয়াতে:
যারা কাফির, তাদেরকে দলে দলে জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নেওয়া হবে। যখন তারা তার কাছে পৌঁছাবে, তার দ্বারসমূহ খুলে দেওয়া হবে এবং তার রক্ষীরা বলবে— তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য থেকে রাসূলগণ আসেনি, যারা তোমাদের কাছে তোমাদের রবের আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করত? (৩৯:৭১)
যৌক্তিক সংযোগ: এখানে ‘রাসূল’ আসার অর্থই হলো ‘আয়াত’ আসা। যারা বর্তমান যুগে বাস করছে, তাদের কাছে শরীরী কোনো রাসূল না আসলেও ‘আয়াত’ বা ‘কুরআন’ পৌঁছেছে। সুতরাং, আল কুরআনই তাদের জন্য সেই ‘নাযীর’ বা সতর্ককারী। যারা কুরআনকে অস্বীকার করছে, তারা পরোক্ষভাবে রাসূলকেই অস্বীকার করছে, কারণ রাসূলের পরিচয় তাঁর আনীত বাণীর (আয়াতের)
মাঝেই নিহিত।
আল কুরআন: এক ‘কথাবলা’ সাক্ষী (Natiq Witness):
রাসূলগণের একটি কাজ ছিল কিয়ামতের দিন নিজ উম্মতের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া। আল কুরআন মাজীদ নিজের ক্ষেত্রেও এই ‘সাক্ষী’ বা ‘শহীদ’ হওয়ার গুণটি উল্লেখ করেছে। এটি কেবল একটি নীরব কিতাব নয়, বরং এটি মানুষের কর্মের বিপরীতে ‘কথা বলে’।
“আর আমার কাছে রয়েছে একটি কিতাব যা সত্য কথা বলে (ইয়ান্তিকু বিল হাক্ক) এবং তাদের ওপর কোনো যুলম করা হবে না।” (২৩:৬২)
অন্য আয়াতে আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন:
“এই যে আমাদের কিতাব, যা তোমাদের বিরুদ্ধে সত্য সাক্ষ্য দেয় (ইয়ান্তিকু আলাইকুম বিল হাক্ক)।” (৪৫:২৯)
যৌক্তিক সংযোগ: এখানে ‘নাতিক’ (কথা বলা) শব্দটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি নির্দেশ করে যে, কুরআন কেবল অক্ষরের সমষ্টি নয়, বরং এটি একটি সক্রিয় সত্তা যা মানুষের কৃতকর্মের বিচার ও সতর্কীকরণের মানদণ্ড হিসেবে কথা বলে। অর্থাৎ, রাসূল যেমন জীবদ্দশায় মানুষের ভুল ধরে দিতেন, কুরআনও ঠিক সেভাবেই মানুষের ভুল ধরিয়ে দেয়।
বিশ্বজনীন রিসালাতের প্রেক্ষাপটে: সালামুন আলা মুহাম্মদ (সা.)-এর শারীরিক অনুপস্থিতি সত্ত্বেও আল-কুরআনের চিরন্তন স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা:
সালামুন আলা মুহাম্মদ সারা বিশ্বের জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন (৩৪:২৮)। কিন্তু তাঁর পার্থিব জীবনের সময়কাল ছিল সীমিত। তবে তাঁর ‘রিসালাত’ কিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবে আল কুরআনের মাধ্যমে।
আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন: “কত মহান তিনি, যিনি তাঁর বান্দার ওপর ফুরকান (কুরআন) নাযিল করেছেন, যাতে সে বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী (নাযীর) হতে পারে।” (২৫:১)
ইমপ্লাইড এভিডেন্স বা অন্তর্নিহিত ইঙ্গিত: এই আয়াতে ‘ফুরকান’ নাযিল করার উদ্দেশ্যই
হলো ‘সতর্ককারী’ হওয়া। রাসূল (সা.)-এর ওফাতের পর এই সতর্কীকরণের কাজটি কুরআন নিজেই আঞ্জাম দিচ্ছে। অর্থাৎ কুরআন পাঠ করা মানেই হলো আল্লাহর সতর্কবাণী সরাসরি শ্রবণ করা। এটি একটি মেটাফিজিক্যাল সংযোগ—যেখানে কিতাবটি কেবল লিখিত পাঠ্য নয়, বরং একটি পথপ্রদর্শক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়।
কুরআনের মাধ্যমেই সতর্ক করার চূড়ান্ত নির্দেশ (৫০:৪৫)
আল্লাহ সু.তা. নবী কারীম (সা.)-কে একটি বিশেষ কৌশল শিখিয়ে দিয়েছেন, যা প্রমাণ করে যে সতর্কীকরণের মূল শক্তি আসলে কুরআনের ভেতরেই নিহিত:
“সুতরাং যে আমার শাস্তিকে ভয় করে, তাকে কুরআনের মাধ্যমে উপদেশ দিন (বা সতর্ক করুন)।” (৫০:৪৫)
লিঙ্ক বিশ্লেষণ: এখানে ‘উপদেশ দেওয়া’ বা সতর্ক করার জন্য একমাত্র টুল বা মাধ্যম হিসেবে ‘কুরআন’কে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। অর্থাৎ রাসূল (সা.)-এর শরীরী উপস্থিতি থাকলেও তাঁর সতর্কীকরণের প্রাণশক্তি ছিল ‘আল কুরআন’। আজ রাসূল (সা.) নেই, কিন্তু সেই প্রাণশক্তি (কুরআন) আমাদের মাঝে অবিকল বিদ্যমান। অতএব, সতর্কীকরণের সেই কার্যকারিতা আজও বিন্দুমাত্র কমেনি।
৫. প্রত্যেক জাতির জন্য সাক্ষী ও কুরআনের কেন্দ্রীয় ভূমিকা:
কিয়ামতের দিন প্রত্যেক জাতির ওপর একজন সাক্ষী (রাসূল) দাঁড় করানো হবে। আর সালামুন আলা মুহাম্মদ-কে এই কিতাবসহ সবার ওপর সাক্ষী করা হবে।
সেদিন আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে তাদের মধ্য থেকে একজন সাক্ষী দাঁড় করাবো এবং আপনাকে (মুহাম্মদ সালামুন আলাইহে) তাদের ওপর সাক্ষী হিসেবে আনবো; আর আমি আপনার ওপর কিতাব নাযিল করেছি প্রতিটি বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যা (তিবিয়ানান লি কুল্লি শাই), হিদায়াত, রহমত ও মুসলিমদের জন্য সুসংবাদ স্বরূপ। (১৬:৮৯)
আধ্যাত্মিক পূর্ণতা: ১৬:৮৯ আয়াতে ‘সাক্ষী’র আলোচনার সাথে সাথেই ‘কিতাব’ নাযিল হওয়ার এবং সেটি ‘সব বিষয়ের ব্যাখ্যা’ হওয়ার প্রসঙ্গটি আসা কাকতালীয় নয়। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, রাসূলের সাক্ষ্য মূলত এই কিতাবের সত্যতার ভিত্তিতেই হবে। যারা এই কিতাব থেকে বিমুখ হবে, কিতাবই তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হয়ে দাঁড়াবে।
মানবজাতির জন্য কুরআনের সরাসরি ঘোষণা:
অনেক সময় মনে করা হয় কুরআন কেবল ঈমানদারদের জন্য। কিন্তু কুরআন নিজেই ঘোষণা করছে যে এটি পুরো মানবজাতির জন্য একটি সরাসরি বার্তা বা ‘বায়ান’।
এটি (কুরআন) মানবজাতির জন্য এক স্পষ্ট ঘোষণা (বায়ানুন লিন্-নাস) এবং মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত ও উপদেশ।” (৩:১৩৮)
শব্দগত গাঁথুনি: ‘বায়ান’ অর্থ এমন বর্ণনা যা সত্য-মিথ্যাকে আলাদা করে দেয়। একজন রাসূলের কাজই হলো ‘বায়ান’ করা বা স্পষ্ট করে দেওয়া। কুরআন নিজেকে ‘বায়ান’ বলে এটিই সাব্যস্ত করছে যে, এটিই এখন মানুষের সাথে আল্লাহর পক্ষ থেকে সরাসরি কথা বলছে এবং সত্যের মানদণ্ড স্থির করে দিচ্ছে।
যাকেই এই কুরআন পৌঁছাবে, তার জন্যই এটি সতর্ককারী:
আল কুরআন মাজীদের এই আয়াতটি আপনার বিষয়ের সবচেয়ে অকাট্য ও সরাসরি (Direct) দলিল। এটি প্রমাণ করে যে, মুহাম্মদ (সালামুন আলাইহে)-এর সরাসরি উপস্থিতির প্রয়োজন নেই, বরং কুরআনের পৌঁছানোটাই সতর্ককারী আসার বিকল্প। আল কুরআন নিজেকে কেবল একটি পাঠ্যবই বলেনি, বরং এটি যে কিয়ামত পর্যন্ত আসা সকল মানুষের জন্য সরাসরি ‘সতর্ককারী’ বা ‘রাসূল’-এর ভূমিকা পালন করবে, তার অকাট্য দলিল হলো ৬:১৯ আয়াত:
"...এই কুরআন আমার কাছে নাযিল করা হয়েছে, যাতে আমি এর মাধ্যমে তোমাদেরকে এবং যার কাছেই এটি পৌঁছাবে (مَنْ بَلَغَ – মান বালাগা), তাদের সবাইকে সতর্ক করি।" (৬:১৯)
এ প্রসঙ্গে আরও উল্লেখযোগ্য—
"তিনি উম্মীদের মধ্যে তাদের থেকেই একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন... এবং তাদের মধ্য থেকে পরবর্তীদের জন্যও, যারা এখনও তাদের সঙ্গে মিলিত হয়নি। আর তিনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" (৬২:২–৩)
গভীর অনুধ্যান:
উপরোক্ত ৬:১৯ নং আয়াতে ব্যবহৃত "মান বালাগা" (যার কাছেই এটি পৌঁছাবে) বাক্যাংশটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই অনুধ্যান অনুযায়ী, কিয়ামত পর্যন্ত পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে, যে কোনো যুগে, যে কোনো মানুষের নিকট যখনই আল-কুরআন পৌঁছাবে, তখনই আল্লাহর পক্ষ থেকে সতর্কবাণী তার নিকট পৌঁছে যাবে এবং তার ওপর আল্লাহর দলিল প্রতিষ্ঠিত হবে। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, কুরআনই প্রতিটি যুগে আল্লাহর সতর্কবাণীকে অব্যাহতভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে কার্যকর রয়েছে এবং এভাবেই সর্বশেষ রিসালাতের বার্তা নিরবচ্ছিন্নভাবে মানবজাতির কাছে পৌঁছাতে থাকে।
‘জীবন্ত’ মানুষকে সতর্ক করার জন্য কিতাবের সক্রিয়তা:
সাধারণত সতর্ককারী মানুষের সাথে কথা বলেন। আল্লাহ সু.তা. কুরআনের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া উল্লেখ করেছেন:
“এটি তো কেবল একটি উপদেশ এবং স্পষ্ট কুরআন; যাতে সে সতর্ক করতে পারে তাকে, যে জীবিত (লি ইয়ুনযিরা মান কানা হাইয়্যান)।” (৩৬:৬৯-৭০)
যৌক্তিক সংযোগ: এখানে ‘জীবিত’ (হাইয়্যান) শব্দটি লক্ষ্যণীয়। এটি প্রমাণ করে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত পৃথিবীতে মানুষ জীবিত থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই কুরআন তার জন্য ‘সতর্ককারী’ (নাযীর) হিসেবে সক্রিয় থাকবে। এটি কোনো মৃত ইতিহাস নয়, বরং জীবন্ত মানুষের জন্য এক জীবন্ত ও জাগ্রত পথপ্রদর্শক। রাসূল (সালামুন আলাইহে) যেমন জীবিতদের সতর্ক করতেন, কুরআনও আজ ঠিক সেই একই কাজ করছে।
জাহান্নামীদের আরজি ও ‘সতর্ককারী’র স্বরূপ:
জাহান্নামীদের যখন প্রশ্ন করা হবে— “তোমাদের কাছে কি কোনো সতর্ককারী (নাযীর) আসেনি?” (৬৭:৮), তখন তারা স্বীকার করবে— “হ্যাঁ, অবশ্যই এসেছিল।” (৬৭:৯)
এখানে ‘সতর্ককারী’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? এর ব্যাখ্যা পাওয়া যায় ৩৯:৭১ আয়াতে:
“তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য থেকে রাসূলগণ আসেনি, যারা তোমাদের কাছে তোমাদের রবের আয়াতসমূহ পাঠ করত?” (৩৯:৭১)
পারস্পরিক সংযোগ: কিয়ামতের মাঠে কেউ এই ওজর দেখাতে পারবে না যে, ‘আমি মুহাম্মদ (সালামুন আলাইহে)-কে দেখিনি’। কারণ, রাসূলের কাজ ছিল ‘আয়াত পাঠ করা’। যেহেতু ‘আয়াত’ আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে এবং আমরা তা পাঠ করছি, সেহেতু ‘সতর্ককারী’ আমাদের কাছে এসেছে বলেই সাব্যস্ত হবে। যারা এই সংরক্ষিত আয়াত (কুরআন) পাওয়ার পর অন্য কোনো অনাযিলকৃত কিতাবের (তথাকথিত হাদীস বা মানুষের লেখা বই) পিছে ছুটবে, তাদের জন্য এই আয়াতগুলো একটি চূড়ান্ত হুশিয়ারি।
আল কুরআন বনাম মানুষের রচিত ‘হাদীস’:
আল কুরআন মাজীদ নিজেই প্রশ্ন তুলেছে যে, আল্লাহর আয়াতের বাইরে মানুষ অন্য কোনো ‘হাদীস’ (বাণী/গল্প) অনুসরণ করবে কি না:
এগুলো আল্লাহর আয়াত, যা আমি আপনার কাছে যথাযথভাবে তিলাওয়াত করছি। সুতরাং আল্লাহ ও তাঁর আয়াতের পর তারা আর কোন ‘হাদীসে’ (বাণীতে) ঈমান আনবে? (৪৫:৬)
আবার অন্যত্র বলা হয়েছে:
অতএব, তারা এই কুরআনের পর আর কোন ‘হাদীসে’ (কথায়) ঈমান আনবে? (৭৭:৫০)
বিপরীতমুখী চিত্র (Contrast): এখানে আল্লাহ সু.তা. তাঁর নিজের নাযিলকৃত কিতাবকে ‘আয়াত’ বা ‘হক’ বলছেন এবং এর বাইরে অন্য সব বর্ণনাকে সতর্কতার সাথে এড়িয়ে যেতে বলছেন। যারা মনে করেন বুখারী, মুসলিম বা অন্যান্য মাজহাবের কিতাব অনুসরণ করা মানেই রাসূলকে অনুসরণ করা, তাদের জন্য কুরআন এক কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে: আল্লাহ কি তাঁর কিতাবকে অসম্পূর্ণ রেখেছেন? (৬:৩৮ আয়াতে বলা হয়েছে— “আমি কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দিইনি”)। সুতরাং, কুরআনই একমাত্র পূর্ণাঙ্গ, সংরক্ষিত ও চূড়ান্ত ‘হাদীস’ যা রাসূলের শিক্ষা হিসেবে বর্তমান।
উপসংহার
আল কুরআন মাজীদের অকাট্য দলিলসমূহ এটিই প্রমাণ করে যে, রিসালাত বা সতর্কীকরণের চেইনটি ‘আয়াত’ বা ‘বার্তার’ সাথে যুক্ত, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির শারীরিক স্থায়িত্বের সাথে নয়। মুহাম্মদ (সালামুন আলাইহে) আল্লাহর সর্বশেষ নবী হিসেবে তাঁর দায়িত্ব নিখুঁতভাবে পালন করে গেছেন এবং তাঁর রেখে যাওয়া ‘আমানত’ বা ‘কুরআন’ আজও আমাদের মধ্যে ‘বাশীর’ (সুসংবাদদাতা) এবং ‘নাযীর’ (সতর্ককারী) হিসেবে জীবন্ত।
যারা কুরআনকে বাদ দিয়ে অনাযিলকৃত মানুষের লেখা কিতাব বা বর্ণনার (হাদীস) ভিত্তিতে দ্বীন পালন করে, তারা মূলত আল্লাহর সেই অকাট্য দলিলকে (বুরহান) উপেক্ষা করছে। কিয়ামতের দিন যখন জাহান্নামবাসীদের জিজ্ঞাসা করা হবে কেন তারা সতর্ক হয়নি, তখন তারা আল কুরআনকেই তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে পাবে। সুতরাং, আল কুরআনই বর্তমান যুগের একমাত্র বৈধ, সংরক্ষিত এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে সরাসরি পথপ্রদর্শক বা ‘রাসূল’।
সংশ্লিষ্ট কুরআনি দুআ ও তাসবিহ: আল্লাহর আয়াত ও হিদায়াতের ওপর অবিচল থাকার জন্য কুরআনে বর্ণিত প্রার্থনাগুলো নিম্নরূপ:
رَّبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي لِلْإِيمَانِ أَنْ آمِنُوا بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا
উচ্চারণ: রব্বানা- ইন্নানা- সামি‘না- মুনা-দিয়াঁই ইউনা-দী লিল্ ঈমা-নি আন আ-মিনূ বিরব্বিকুম ফাআ-মান্না-।
অর্থ: হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আমরা একজন আহ্বানকারীকে ঈমানের দিকে আহ্বান করতে শুনেছি যে— ‘তোমরা তোমাদের রবের ওপর ঈমান আনো’; তাই আমরা ঈমান এনেছি। (৩:১৯৩)
رَبَّنَا آمَنَّا بِمَا أَنزَلْتَ وَاتَّبَعْنَا الرَّسُولَ فَاكْتُبْنَا مَعَالشَّاهِدِينَ
উচ্চারণ: রব্বানা- আ-মান্না- বিমা- আনঝালতা ওয়াত্তাবা‘নার রসূলা ফাক্তুবনা- মা‘আশ শা-হিদীন্।
অর্থ: হে আমাদের রব! আপনি যা নাযিল করেছেন তার ওপর আমরা ঈমান এনেছি এবং আমরা রাসূলের আনুগত্য করেছি; অতএব আপনি আমাদের সাক্ষ্যদানকারীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন। (৩:৫৩)
رَبَّنَا إِنَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ: রব্বানা- ইন্নানা- আ-মান্না- ফাগ্ফির লানা- যুনূবানা- অ ক্বিনা- ‘আযা-বান না-র।
অর্থ: হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আমরা ঈমান এনেছি, অতএব আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন এবং আমাদের আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। (৩:১৬)
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنلَّدُنكَ رَحْمَةً ۚ إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ
উচ্চারণ: রব্বানা- লা- তুঝিঘ কুলূবানা- বা‘দা ইয হাদাইতানা- ওয়াহাব লানা- মিল্লাদুনকা রহমাতান ইন্নাকা আন্তাল ওয়াহ্হা-ব।
অর্থ: হে আমাদের রব! আপনি আমাদের হিদায়াত দান করার পর আমাদের হৃদয়গুলোকে
সত্যচ্যুত করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দান করুন; নিশ্চয়ই আপনিই
মহাদাতা। (৩:৮)
رَّبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي لِلْإِيمَانِ أَنْ آمِنُوابِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا
উচ্চারণ: রব্বানা- ইন্নানা- সামি‘না- মুনা-দিয়াঁই ইউনা-দী লিল্ ঈমা-নি আন আ-মিনূ বিরব্বিকুম ফাআ-মান্না-।
অর্থ: হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আমরা একজন আহ্বানকারীকে ঈমানের দিকে আহ্বান করতে শুনেছি যে— ‘তোমরা তোমাদের রবের ওপর ঈমান আনো’; তাই আমরা ঈমান এনেছি। (৩:১৯৩)
رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ
উচ্চারণ: রব্বানা- ফাগ্ফির্ লানা- যুনূবানা- অকাফ্ফির্ ‘আন্না সাইয়্যিআ-তিনা- অতাওয়াফ্ফানা- মা‘আল আব্রা-র।
অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন, আমাদের মন্দ কাজগুলো মোচন করে দিন এবং আমাদের নেককারদের সাথে মৃত্যু দান করুন। (৩:১৯৩)
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنزَلَ عَلَىٰ عَبْدِهِ الْكِتَابَ وَلَمْ يَجْعَل لَّهُ عِوَجًا
উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী- আনঝালা ‘আলা- ‘আবদিহিল কিতা-বা ওলাম ইয়াজ‘আল লাহু ‘ইওয়াজা-।
অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দার ওপর কিতাব নাযিল করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি। (১৮:১)
উচ্চারণ: রব্বানা-তাক্বাব্বাল্ মিন্না; ইন্নাকা আনতাস্ সামী‘উল্ ‘আলীম্ অতুব্ ‘আলাইনা-ইন্নাকা আন্তাত্ তাওয়্যা-বুর রাহীম্।
অর্থ: হে আমাদের রব! আপনি আমাদের পক্ষ থেকে ক্ববূল করুন। নিশ্চয়ই আপনি, আপনিই
সর্বস্পন্দনগ্রাহী, বিস্তৃত জ্ঞানসম্পন্ন। এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি, আপনিইতো ক্ষমাশীল, দয়ালু-আল কুরআন ২:১২৭, ২:১২৮
وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ রব্বুল আলামিনের।