অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করতে নিষেধ করা হয়েছে, কিন্তু কেন? Not to ask unnecessary questions, but why?

আল-কুরআনের সূরা আল-মায়েদার ১০১ নম্বর আয়াতে ওহী নাযিল হওয়ার সময়ে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ, কোনো বিষয়ে অতিরিক্ত প্রশ্ন করার কারণে যদি নতুন কোনো কঠিন বিধান বা দায় চলে আসে, তবে তা মানুষের জন্যই পালন করা কষ্টকর হয়ে যাবে।

আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা বলেন:

"...আর কুরআন নাযিল হওয়ার সময়ে যদি তোমরা সেসব বিষয়ে প্রশ্ন করো, তবে তা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হবে (যা তোমাদের জন্য কষ্টকর হবে)..." -সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৫:১০১

কিন্তু কেন এই নিষেধাজ্ঞা?

এর গভীর অনুধাবন লুকিয়ে আছে সূরা বনী ইসরাঈলের ১৭:৮২ নম্বর আয়াতে। আল্লাহ বলেন:

"আর আমরা কুরআন থেকে যা নাযিল করি, তা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত। আর তা জালিমদের ক্ষতি ছাড়া কিছুই বৃদ্ধি করে না।"-সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত: ১৭:৮২

একটি গভীর চিন্তার খোরাক: 'নাযিল করি' (Present Tense) এর মানে কী?

খেয়াল করুন, আয়াতে বলা হয়েছে— "আর আমরা কুরআন থেকে যা নাযিল করি..."। এখানে অতীতকাল ব্যবহার না করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎকাল (Present/ Future Tense) ব্যবহার করা হয়েছে।

আল-কুরআন তো শত শত বছর বছর আগেই অবতীর্ণ শেষ হয়েছে, তাহলে আজ কেন বলা হচ্ছে "নাযিল করি"? এর গভীর তাৎপর্য কী হতে পারে!

১. হৃদয়ে কুরআনের জীবন্ত অবতরণ: কুরআন শুধু একটি ঐতিহাসিক গ্রন্থ নয়। যখনই একজন মুমিন ঈমান ও খোলা মন নিয়ে কুরআন পড়ে, তখন এর হেদায়েত, নূর ও প্রভাব তার হৃদয়ে নতুনভাবে 'নাযিল' বা অবতীর্ণ হওয়ার মতো শান্তি ও আরোগ্য তৈরি করে।

২. সর্বকালীন রহমত: কুরআনের আরোগ্য ও রহমত দেওয়ার ক্ষমতা কোনো নির্দিষ্ট যুগের জন্য শেষ হয়ে যায়নি। এটি কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের জন্য প্রতিনিয়ত রহমত হিসেবে বর্ষিত হতেই থাকবে।

৩. অপ্রয়োজনীয় প্রশ্নের ক্ষতি: মানুষ যখন কুরআনের মূল শিক্ষা বাদ দিয়ে অপ্রয়োজনীয় তর্কে লিপ্ত হয় বা অনাবশ্যক খুঁটিনাটি প্রশ্ন করে (দ্র: আয়াত ৩:৭-৮) , তখন কুরআনের সেই জ্যান্ত 'রহমত' ও 'আরোগ্য' থেকে সে বঞ্চিত হয়। ফলে তার অন্তরের অহংকার ও জটিলতা (যা জুলুম) আরও বৃদ্ধি পায়।

তাই আসুন, অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক ও প্রশ্ন পরিহার করে কুরআনের মূল হিদায়াতকে হৃদয়ে ধারণ করি  যেমনটি বলা হয়েছে আয়াত ৩:৭-৮-এ। যা কিছু লাগবে আমাদের রবের ক্ষমা ও রহমত পেতে পরিনামে জান্নাত ! (দ্র: আয়াাত/দুআ ২৩:১১৮)। 

তাইতো আমি বলি-

 وَقَالُوۡا سَمِعۡنَا وَاَطَعۡنَا ۖ غُفۡرَانَکَ رَبَّنَا وَاِلَیۡکَ الۡمَصِیۡرُ ﴿۲۸۵﴾

সামি‘না ওয়া আতা‘না, গুফরানাকা রাব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাসীর!

আমরা শুনলাম এবং মানলাম। হে আমাদের রব! ক্ষমা আপনারই আর প্রত্যাবর্তন আপনারই কাছে (২:২৮৫) 

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post