বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম।
আর আমরা কী করছি? প্রতিদিন এহেন ঘুম?
আল-কুরআন মাজীদ আমাদের জীবনকে এক সুশৃঙ্খল ও আধ্যাত্মিক ছাঁচে গড়ে তোলার নির্দেশ দেয়। সাহরী বা রাতের শেষ প্রহর এবং ফজরের সময়টি কেবল প্রাকৃতিক পরিবর্তনের সময় নয়, বরং এটি রব্বুল আলামিনের সাথে বান্দার এক নিবিড় সংযোগের মুহূর্ত। ওহীর জ্ঞান ছাড়া এই সময়ের মাহাত্ম্য অনুধাবন করা সম্ভব নয়।
নিম্নে আল-কুরআন মাজীদের আয়াতের আলোকে সাহরী ও ফজরের সময়ে একজন মুসলিমের করনীয় সম্পর্কে গভীর অনুধ্যান শেয়ার করছি- বিঈযনিল্লাহ!
সাহার (সাহরী): প্রতিরাতে এই সময়টি কেন এতো গুরত্বপূর্ন?
আল-কুরআন মাজীদে ‘সাহরী’ শব্দটি ‘সাহার’ (سحر) বা ‘আসহার’ (الأَسْحَارِ) হিসেবে একাধিকবার এসেছে। ওহীর নজম (বিন্যাস) অনুযায়ী এই সময়টি হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ রহমত ও নিরাপত্তার সময়।
১. নাজাত বা মুক্তির দলিল: আল্লাহ রব্বুল আলামিন সালামুন আলা লূত -এর পরিবারকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার বর্ণনায় এই সময়টিকে বেছে নিয়েছেন:
“নিশ্চয়ই আমি তাদের ওপর প্রস্তর বর্ষণকারী প্রচণ্ড ঝড় পাঠিয়েছিলাম, লূতের পরিবার ছাড়া; আমি তাদের শেষ রাতে (বি-সাহারিন) রক্ষা করেছিলাম।” (৫৪:৩৪)
অনুধ্যান: এখানে সাহারের সময়টিকে ‘নাজাত’ বা উদ্ধারের সময় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর অন্তর্নিহিত ইঙ্গিত হলো, রাতের এই শেষ প্রহরে যারা জেগে থাকে এবং ওহীর সাথে যুক্ত হয়, তারা আল্লাহর বিশেষ সুরক্ষাবলয়ে প্রবেশ করে।
আসহার (শেষ রাত): ইস্তিগফার ও আধ্যাত্মিক আরোহণের মুহূর্ত:
মুত্তাকী বা সচেতন মুমিনদের পরিচয় দিতে গিয়ে আল্লাহ সু.তা. সাহরীর সময়ের একটি প্রধান করনীয় নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
২. ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা: “আর তারা শেষ রাতে (বিল আসহার) ক্ষমা প্রার্থনা করতো (ইয়াসতাগফিরুন)।” (৫১:১৮) অন্যত্র আল-কুরআনে জান্নাতীদের গুণাবলীর তালিকায় এটিঅন্যতম: “ধৈর্যশীল, সত্যবাদী, অনুগত, ব্যয়কারী এবং শেষ রাতে ক্ষমা প্রার্থনাকারী।”(৩:১৭)
অনুধ্যান: এখানে ‘ইস্তিগফার’ শব্দটিকে সাহরীর সময়ের মূল কাজ হিসেবে দেখানো হয়েছে। দিনের কর্মতৎপরতা শুরু করার আগে রব্বুল আলামিনের কাছে নিজের ভুলত্রুটির জন্য মার্জনা চাওয়া হলো আত্মার আসল খোরাক। যারা কেবল আহারে মত্ত থাকে কিন্তু ইস্তিগফারে লিপ্ত হয় না, তারা ওহীর এই শ্রেষ্ঠত্ব থেকে বঞ্চিত হয়।
সাহরী ও ফজরের সময়:
ভোরের সাদা সুতা ও সাওমের সীমানা: সাহরীর সময় যখন শেষ হয়ে আসে, তখন আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদের জন্য প্রাকৃতিক সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন: “আর তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ রাতের কালো সুতা থেকে ভোরের সাদা সুতা তোমাদের কাছে স্পষ্ট না হয়।” (২:১৮৭)
এখানে ‘সাদা সুতা’ বলতে ফজরের প্রথম আলো বা ঊষালগ্নকে বোঝানো হয়েছে। এই সময়টি হলো পানাহার ত্যাগ করে আল্লাহর একনিষ্ঠ আনুগত্যে (সাওম) প্রবেশ করার মুহূর্ত। এটি কেবল খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন নয়, বরং প্রবৃত্তির ওপর ওহীর শাসনের বিজয় ঘোষণা।
(সেহরির শেষ সময় ≈ সূর্যোদয়ের প্রায় ৯০ মিনিট আগে)
ফজর: কুরআনাল ফজর! করনীয়?
কুরআনাল ফজর: সাক্ষ্য ও উপস্থিতির সময় (১৭:৭৮) সাহরী শেষ হওয়ার পরপরই ফজরের সময়টি শুরু হয়, যাকে আল্লাহ রব্বুল আলামিন শপথের মাধ্যমে মহিমান্বিত করেছেন (৮৯:১)। এই সময়ে প্রধান করনীয় হলো ‘ফজরের তেলাওয়াত’।
৩. ভোরের তেলাওয়াত ও এর বিশেষত্ব: “সালাত কায়েম করো... এবং ফজরের তেলাওয়াত (কুরআনাল ফজর) কায়েম করো; নিশ্চয়ই ফজরের তেলাওয়াত হয় উপস্থিতির (মাশহূদা) সময়।” (১৭:৭৮)
এখানে ‘মাশহূদা’ শব্দটি অত্যন্ত শক্তিশালী। এর অর্থ হলো যা সরাসরি পর্যবেক্ষণে থাকে। সাহরীর খাবার যেমন শরীরকে শক্তি দেয়, ফজরের তেলাওয়াত তেমনি রূহকে শক্তি দেয়। ১৭:৭৮ আয়াতের ইঙ্গিত হলো, দিনের শুরুতে আল-কুরআনের প্রতিটি আয়াত যখন পঠিত হয়, তখন তা আল্লাহর দরবারে সরাসরি একটি ‘ঈমানি সাক্ষ্য’ হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়।
সাহরী ও ফজরের সময়ে কেন ওহীর সাথে যুক্ত:
সাহরী (রাতের শেষ প্রহর) এবং ফজরের সময়টি রব্বুল আলামিনের সাথে মুমিনের সংযোগের এক অনন্য মাহেন্দ্রক্ষণ। ওহীর জ্ঞান অনুযায়ী, এই সময়ের করনীয়সমূহ বিশ্লেষণ করলে আমরা এর চূড়ান্ত আধ্যাত্মিক ও যৌক্তিক পূর্ণতা খুঁজে পাই।
সাহরী ও ফজরের সময়ে কেন ওহীর সাথে যুক্ত হওয়া জরুরি এবং সেখানে তেলাওয়াতের স্বরূপ কেমন হওয়া উচিত, তা ওহীর দুটি শক্তিশালী আয়াতের সমন্বয়ে স্পষ্ট হয়:
“নিশ্চয়ই আমি তোমার ওপর এক ভারী বাণী (ক্বওলান ছাক্বীলা) নাযিল করবো। নিশ্চয়ই রাতের জাগরণ আত্মসংযমের জন্য অধিকতর প্রবল এবং নির্ভুল কথা বলার জন্য (ক্বীলা) অধিকতর উপযোগী।” (৭৩:৫-৬)
গভীরতর অনুধ্যান:
আল্লাহ রব্বুল আলামিন আল-কুরআনকে ‘ভারী বাণী’ বলেছেন। দিনের ব্যস্ততা ও কোলাহলে এই ভারী বাণীর মর্ম গ্রহণ করা কঠিন। সাহরীর নিস্তব্ধ প্রহর হলো সেই সময় যখন মানুষের নফস শান্ত থাকে এবং এই ভারী বাণী গ্রহণের সক্ষমতা তৈরি হয়। এই সক্ষমতাকে চূড়ান্ত রূপ দেয় সূরা আল-বাকারার ১২১ নম্বর আয়াত:
“যাদের আমি কিতাব দান করেছি, তারা তা যথাযথভাবে তেলাওয়াত করে (হাক্ব-ক্বা তিলাওয়াতিহী); তারা ওটার প্রতি ঈমান রাখে। আর যারা ওটা অস্বীকার করে, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।” (২:১২১)
২:১২১ আয়াতে যে ‘হাক্ব-ক্বা তিলাওয়াতিহী’ বা ‘সত্যিকার তেলাওয়াত’-এর কথা বলা হয়েছে, তা অর্জন করার শ্রেষ্ঠ সময় হলো সাহরী ও ফজর। ওহীর গভীর অনুধ্যান আমাদের বলে—এভাবে মনোযোগ দিয়ে, বুঝে এবং ওহীর গভীরে ডুবে থেকে তেলাওয়াত করলেই কেবল আল্লাহর কিতাব এবং আল্লাহর রসূল (সালামুন আলাইহে)-এর আনীত বার্তার প্রতি প্রকৃত ঈমান আনা সম্ভব হয়। যারা কেবল যান্ত্রিকভাবে পাঠ করে কিন্তু ওহীর এই রূহের সাথে যুক্ত হয় না, তাদের ঈমান ওহীর মানদণ্ডে পূর্ণতা পায় না।
ওহীর সচেতনতা বনাম গাফিলতি (বিপরীতমুখী চিত্র):
আল-কুরআন মাজীদ যেখানে সাহরী ও ফজরের সময়কে ইবাদত ও সচেতনতার সময় হিসেবে ঘোষণা করেছে, সেখানে এর বিপরীত চিত্র হলো ‘বিস্মৃতি’।
ওহীর নির্দেশ: সাহরীর সময় ক্ষমা প্রার্থনা (৫১:১৮) এবং ফজরের তেলাওয়াত (১৭:৭৮)।
বিপরীত চিত্র: যারা সাহরীকে কেবল একটি ভোজের উৎসবে পরিণত করে এবং ভোরের সেই ‘সাক্ষ্য’ (মাশহূদা) চলাকালীন গভীর ঘুমে মগ্ন থাকে। ওহীর সংযোগ ছাড়া সাহরী কেবল একটি উদরপূর্তি, যা মানুষের রূহানি প্রবৃদ্ধিতে কোনো কাজে আসে না।
যৌক্তিক পূর্ণতা ও উপসংহার:
আল-কুরআনের এই সুগভীর দালিলিক পরম্পরা বিশ্লেষণ করলে এটি স্পষ্ট হয় যে:
১. সাহার বা সাহরীর সময়টি হলো ক্ষমা ও নাজাতের সময় (৫৪:৩৪, ৫১:১৮)।
২. ওহীর বিধান অনুযায়ী সাহরীর শারীরিক প্রস্তুতির (২:১৮৭) সাথে আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি বা ইস্তিগফার অবিচ্ছেদ্য।
৩. ফজরের তেলাওয়াত হলো সেই সময়ের চূড়ান্ত উপহার যা আল্লাহর দরবারে সাক্ষ্য হিসেবে গৃহীত হয় (১৭:৭৮)।
সুতরাং, ওহীর সংযোগে থাকা মানে হলো সাহরীর প্রতিটি মুহূর্তে ইস্তিগফারের নূরে নিজেকে ধুয়ে নেওয়া এবং ফজরের প্রথম আলোর সাথে আল-কুরআনের আয়াতসমূহকে হৃদয়ে ধারণ করা।
সাহরী ও ফজরের বরকত কামনায় আল-কুরআনের প্রাসঙ্গিক দুআসমূহ:
رَّبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ
(রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আন্তা খাইরুর রাহিমীন) — হে আমার রব! ক্ষমা করুন ও দয়া করুন, আপনিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। ২৩:১১৮:
৩:১৯৩: رَّبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَاوَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ
(রাব্বানা ফাগফির লানা যুনুবানা ওয়া কাফ্ফির আন্না সাইয়িআতিনা) — হে আমাদের রব! আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করুন, আমাদের মন্দ কাজগুলো মুছে দিন এবং নেককারদের সাথে আমাদের মৃত্যু দিন।
২:২৮৬: رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا
— হে আমাদের রব! যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না।”
১৭:৮০: رَّبِّ أَدْخِلْنِي مُدْخَلَ صِدْقٍ وَأَخْرِجْنِي مُخْرَجَ صِدْقٍ
— হে আমার রব! আমাকে সত্যের সাথে প্রবেশ করান এবং সত্যের সাথে বের করুন।”সুবহানা রব্বিকা রব্বিল ‘ইযযাতি ‘আম্মা ইয়াসিফুন। ওয়া সালামুন ‘আলাল মুরসালীন। ওয়াল হামদু লিল্লাহি রব্বিল ‘আলামীন। (৩৭:১৮০-১৮২)
৬৬:৮: رَبَّنَا أَتْمِمْ لَنَا نُورَنَا وَأَغْفِرْ لَنَا ۖ إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
(রাব্বানা আতমিম লানা নূরানা ওয়াগফির লানা, ইন্নাকা ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর) — “হে আমাদের রব! আমাদের জন্য আমাদের নূরকে পূর্ণ করে দিন এবং আমাদের ক্ষমা করুন; নিশ্চয় আপনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।”
৩:১৯৪: رَبَّنَا وَآتِنَا مَا وَعَدتَّنَا عَلَىٰ رُسُلِكَ وَلَا تُخْزِنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۗ إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ
(রাব্বানা ওয়া আতিনা মা ওয়া‘আদতানা ‘আলা রুসুলিকা ওয়া লা তুখযিনা ইয়াওমাল ক্বিয়ামা)— “হে আমাদের রব! আপনার রসূলগণের মাধ্যমে আমাদের যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা আমাদের দান করুন এবং কিয়ামতের দিন আমাদের অপদস্থ করবেন না।”
৩:১৯৩: رَّبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ
— হে আমাদের রব! আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করুন এবং নেককারদের সাথে আমাদের মৃত্যু দিন।”সাদাকাল্লাহু ওয়া রাসূলুহ (৩৩:২২)
সাহারের বিশেষ ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা):
(ধৈর্যশীলরা ও
সত্যবাদীরা এবং অনুগতরা ও ব্যয়কারীরা আর শেষরাতে ক্ষমাপ্রার্থনাকারীরা -আয়াত ৩:১৭)
যারা বলেন—‘আমরা ঈমান
এনেছি’, তাদের জন্য এই
দুআটি সাহারের সময় পাঠ করা
কুরআনের নির্দেশ।
অর্থ: হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আমরা ঈমান এনেছি, সুতরাং আপনি আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন এবং আমাদের আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। সূরা আলে-ইমরান (৩:১৬)
২. নিজের নফসের ওপর জুলুমের স্বীকৃতি (তাওবা-ইস্তেগফার:):
رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا
وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
অর্থ: হে আমাদের রব!
আমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছি। যদি আপনি
আমাদের ক্ষমা না করেন
এবং আমাদের প্রতি দয়া
না করেন, তবে আমরা
অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।” সূরা আল-আরাফ
(৭:২৩)
৩. সওমের নিয়তে দুআ-তাসবিহ:
ইন্নী নাযারতু লিরহমা-নি ছোয়াওমান্
অর্থ:
নিশ্চয়ই আমি দয়াময়ের জন্য
সওমের মানত করছি-আল
কুরআন ১৯:২৬
৩. সাহারের তাসবিহ: তারকা অস্ত যাওয়ার সময়: যখন তারকারা ডুবে যায় বা ম্লান হয়ে আসে (ফজরের আগে), তখন আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করতে বলা হয়েছে।
সূরা আত-তূর (৫২:৪৮-৪৯): “...এবং
আপনি আপনার রবের সপ্রশংস
পবিত্রতা ঘোষণা করুন... এবং
রাতের একাংশে তাঁর পবিত্রতা
ঘোষণা করুন এবং তারকা
অস্ত যাওয়ার সময়ও।”
আকাশে
চাঁদ বা নক্ষত্র দেখে
উলিল আলবাব (জ্ঞানীগণ) এই
দুআ করেন।
رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ
هَذا بَاطِلاً سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
রব্বানা মা খালাক্বতা হা-যা বা-ত্বিলান, সুবহানাকা ফাক্বিনা আযাবান নার
অর্থ: হে আমাদের রব! আপনি এসব (আসমান-জমিন/চন্দ্র) অনর্থক সৃষ্টি করেননি। আপনি পবিত্র! সুতরাং আপনি আমাদের আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। সূরা আলে-ইমরান (৩:১৯১)
سُبۡحٰنَ اللّٰہِ عَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ ۴۳
পবিত্রতা আল্লাহরই, যা তারা শিরক করে-52:43
سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ
الْعَالَمِينَ
সুব্হা-নাল্লা-হি রব্বিল্ ‘আ-লামীন্ । অর্থ: জগতসমূহের রব আল্লাহ অপবিত্রতামুক্ত-আল কুরআন ২৭:৮ (৮৭:১)।
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ
الْعَالَمِينَ
আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আ’-লামি-ন। অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য (কেননা তিনি) মহাবিশ^ সমূহের রব। দয়াময়, দয়ালু- কুরআনুল কারীম ৩৯:৭৫, ১:২, ৬:৪৫, ১০:১০, ৩৭:১৮২, ৪০:৬৫ (৩২:২, ৩৯:৬)।
تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ
তাবা-রাকাল্লা-হু রব্বুল্ ‘আ-লামীন্। অর্থ: আল্লাহ বরকতময়, জগতসমূহের রব-আল কুরআন ৭:৫৪, ৪০:৬৪. (২৭:৬১)।
أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ
আ¯øামতু লিরব্বিল্ আ-লামীন।
অর্থ: আমি জগতসমূহের ররেব কাছে আত্মসমর্পণ করলাম-আল কুরআন ২:১৩১ (২২:৩৪, ২১:১০৮, ৩৯:৫৪)।
