নো টেনশন-নো চিন্তুা! —তাঁরা কারা? এরা কারা? কুরআন কাদের কথা বলছে? #jews, christians (nasara), sabians #ahl al-kitab #ahli.#no tension

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম!

আমরা বললাম! তোমরা সবাই সেখান থেকে নেমে যাও। এরপর যখন তোমাদের কাছে আমার থেকে কোনো  (হুদা) আসবে, এরপর যারা আমার  (হুদা) অনুসরণ করবে, তখন তাদের ওপর কোনো ভয় নেই আর তারা দুঃখিত হবে না। -আয়াত ২:৩৮

তবে-

মানবজাতির মূল দ্বীনের পরিচয় ছিল আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ—অর্থাৎ “মুসলিম” হওয়া। এই নাম কোনো নির্দিষ্ট জাতি বা পরবর্তী পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সালামুন আলা ইবরাহীম -এর পথ ছিল একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের পথ। আল কুরআনে বলা হয়েছে:

“ইবরাহীম না ছিলেন ইহুদি, না ছিলেন খ্রিস্টান; বরং তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলিম (হানিফ) এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।” (আলে ইমরান ৩:৬৭)।

সালামুন আলা ইবরাহীম -এর প্রতি সালাম ও সম্মান জানিয়ে আল্লাহ বলেন:

“সালামুন ‘আলা ইবরাহীম” (৩৭:১০৯)। তাঁর অনুসারীদের পথই ছিল আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও আত্মসমর্পণের পথ। পরবর্তীকালে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পরিচয়—ইহুদি, নাসারা (খ্রিস্টান), সাবেঈন ও আহলে কিতাব—আলোচনায় এসেছে। তবে কুরআনের মৌলিক শিক্ষা হলো: আল্লাহর প্রতি ঈমান, আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস, সত্যের আনুগত্য এবং সৎকর্ম। এই মৌলিক নীতিগুলো একই সূত্রে গাঁথা।

আল্লাহ মানুষের জন্য বিষয়টি সহজ ও সুস্পষ্ট করেছেন—পরিচয়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রকৃত ঈমান ও আমল। তাই কুরআন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যেও তাদের সেই গুণাবলীর কথা উল্লেখ করেছে যাদের জন্য বলা হয়েছে: “তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।” (২:৬২; ৫:৬৯)।

১. সূরা আল-বাকারা ২:৬২

“নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, যারা ইহুদি হয়েছে, যারা খ্রিস্টান ও সাবেঈন হয়েছে—তাদের মধ্যে যারা আল্লাহর প্রতি ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, তাদের জন্য তাদের রবের কাছে পুরস্কার রয়েছে; তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।”

২. সূরা আল-মায়িদা ৫:৬৯

“নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, যারা ইহুদি, সাবেঈন ও খ্রিস্টান—তাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না।”

৩. সূরা আল-হজ ২২:১৭

“নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, যারা ইহুদি, সাবেঈন, খ্রিস্টান, অগ্নিপূজক এবং যারা শিরক করেছে—কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের মধ্যে ফয়সালা করবেন…”

৪. সূরা আলে ইমরান ৩:১৯৯

“আর নিশ্চয় আহলে কিতাবের মধ্যে এমন লোকও আছে যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে এবং তোমাদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে এবং তাদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে তার প্রতিও ঈমান আনে; তারা আল্লাহর সামনে বিনয়ী থাকে, আল্লাহর আয়াতকে স্বল্পমূল্যে বিক্রি করে না। তাদের জন্য তাদের রবের কাছে পুরস্কার রয়েছে। নিশ্চয় আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।”


উক্ত আয়াতগুলোতে ইহুদি, খ্রিস্টান (নাসারা), সাবেঈন ও আহলে কিতাবদের জন্য কী কী শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে?

আয়াতগুলো বিশ্লেষণ করলে মূল শর্তগুলো পাওয়া যায়:

মূলত ৬টি প্রধান ইতিবাচক শর্ত (২:৬২, ৫:৬৯, ৩:১৯৯) এবং ১টি নেতিবাচক শর্ত (শিরক পরিহার) (২২:১৭) পাওয়া যায়।

অর্থাৎ, আয়াতগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী যাদের জন্য বলা হয়েছে—

“তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না” (فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ)

তাঁদের বৈশিষ্ট্য হলো:

১. আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা (২:৬২, ৫:৬৯, ৩:১৯৯)

২. শেষ দিবস/আখিরাতের প্রতি ঈমান আনা (২:৬২, ৫:৬৯)

৩. সৎ আমল/সৎকর্ম (আমলে সালেহ; সংশোধিত হওয়া) করা (২:৬২, ৫:৬৯)

৪. আল্লাহর ওহির প্রতি ঈমান/ আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান রাখা (৩:১৯৯)

৫. আল্লাহর সামনে বিনয়ী ও অনুগত হওয়া (৩:১৯৯) 

৬. সত্যকে বিক্রি/গোপন না করা/ আল্লাহর আয়াতকে দুনিয়াবি স্বার্থে বিক্রি না করা (সত্য গোপন না করা): (৩:১৯৯)

৭. শিরক থেকে বেঁচে থাকা/ শিরক থেকে মুক্ত থাকা (২২:১৭-তে শিরককারীদের আলাদা উল্লেখ করা হয়েছে)

তবে কুরআনের সামগ্রিক শিক্ষায় পরবর্তী নবী সালামুন আলা মুহাম্মদ (সা:)-এর প্রতি ঈমান-এর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে এসেছে; বিশেষত আহলে কিতাবের প্রসঙ্গে ৩:১৯৯-এর পাশাপাশি ৪:১৫৯, ৫:১৫-১৬, ৭:১৫৭, ৬১:৬ ইত্যাদি আয়াতে এ বিষয়ে আলোচনা রয়েছে। 

প্রাসঙ্গিক আরও আয়াত:

♢ সূরা আল-বাকারা ২:১৩০-১৩২ — সালামুন আলা ইবরাহীম -এর আত্মসমর্পণ ও তাঁর সন্তানদের “মুসলিম” থাকার নির্দেশ।
♢ সূরা আল-বাকারা ২:১৩৬ — সব নবীর প্রতি ঈমানের ঐক্য।
♢ সূরা আলে ইমরান ৩:১৯, ৩:৬৭, ৩:৮৪ — দ্বীনের মূল একত্ব ও সালামুন আলা ইবরাহীম -এর পরিচয়।
♢ সূরা আল-হজ ২২:৭৮ -“তিনি তোমাদের নাম রেখেছেন মুসলিম” (هُوَ سَمَّاكُمُ الْمُسْلِمِينَ)।

 আর সালামুন আলা ইবরাহীম-এর পথকে “মুসলিম” বলা হয়েছে তাঁর আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের অর্থে।

নিচে আলোচ্য বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত কুরআনি দুআ:


১) আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) হওয়ার দুআ:

رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا ۖ إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ۝ رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِن ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُّسْلِمَةً لَّكَ

উচ্চারণ: রব্বানা তাকাব্বাল মিন্না, ইন্নাকা আনতাস সামী‘উল ‘আলীম। রব্বানা ওয়াজ‘আলনা মুসলিমাইনি লাকা, ওয়া মিন যুররিইয়্যাতিনা উম্মাতাম মুসলিমাতাল্লাকা।
অর্থ: “হে আমাদের রব! আমাদের পক্ষ থেকে (এই কাজ) কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

হে আমাদের রব! আমাদের উভয়কে আপনার অনুগত (মুসলিম) বানান এবং আমাদের বংশধরদের মধ্য থেকেও আপনার অনুগত একটি উম্মত সৃষ্টি করুন।”


২) হেদায়াতের পর অন্তর অটল রাখার দুআ:

(সূরা আলে ইমরান ৩:৮)

رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً ۚ إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ

উচ্চারণ: রব্বানা লা তুযিগ কুলুবানা বা‘দা ইয হাদাইতানা, ওয়া হাব লানা মিল্লাদুনকা রাহমাহ; ইন্নাকা আনতাল ওয়াহহাব।
অর্থ: “হে আমাদের রব! হেদায়াত দেওয়ার পর আমাদের অন্তরকে বক্র করে দেবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি মহাদাতা।”


৩) ঈমান ও ক্ষমার দুআ:

(সূরা আলে ইমরান ৩:১৬)

رَبَّنَا إِنَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ: রব্বানা ইন্নানা আমান্না, ফাগফির লানা যুনুবানা, ওয়া ক্বিনা ‘আযাবান নার। 
অর্থ: “হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আমরা ঈমান এনেছি। অতএব আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।”


৪) সালাত প্রতিষ্ঠার জন্য সালামুন আলা ইবরাহীম-এর দুআ:

(সূরা ইবরাহীম ১৪:৪০)

رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِن ذُرِّيَّتِي ۚ رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ

উচ্চারণ: রব্বিজ‘আলনী মুকীমাস সালাতি ওয়া মিন যুররিইয়্যাতী; রব্বানা ওয়া তাকাব্বাল দু‘আ।
অর্থ: “হে আমার রব! আমাকে সালাত প্রতিষ্ঠাকারী বানান এবং আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও। হে আমাদের রব! আমার দুআ কবুল করুন।”


৫) দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের দুআ:

(সূরা আল-বাকারা ২:২০১)

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ: রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাতাও, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও, ওয়া ক্বিনা ‘আযাবান নার।
অর্থ: “হে আমাদের রব! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দিন, আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।”


৬)  সালামুন ‘আলা ইবরাহীম-এর প্রতি শান্তির ঘোষণা:

(সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১০৯)

سَلَامٌ عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ

উচ্চারণ: সালামুন ‘আলা ইবরাহীম। অর্থ: “ইবরাহীমের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।”


৭) সকল নবীর প্রতি ঈমানের ঘোষণা:

(সূরা আল-বাকারা ২:১৩৬)

قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنزِلَ إِلَىٰ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ

উচ্চারণ: কুলু আমান্না বিল্লাহি, ওয়া মা উনযিলা ইলাইনা, ওয়া মা উনযিলা ইলা ইবরাহীমা ওয়া ইসমাঈলা ওয়া ইসহাকা ওয়া ইয়া‘কূবা ওয়াল আসবাত।
অর্থ: “তোমরা বলো: আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং যা আমাদের প্রতি নাযিল হয়েছে, আর যা ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁদের বংশধরদের প্রতি নাযিল হয়েছে…”


এগুলো একত্র করলে মূল সুরটি দাঁড়ায়: আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ, সকল নবীর প্রতি ঈমান, অন্তরের স্থিরতা, সৎ আমল এবং আল্লাহর রহমত কামনা।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post