“তোমরা তাদের অনুসরণ করো যারা তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চায় না (مَن لَّا يَسْأَلُكُمْ أَجْرًا) এবং যারা নিজেরাও হিদায়েতপ্রাপ্ত।”-আয়াত ৩৬:২১
~*~*~* ~*~*~*~
আল-কুরআন মাজীদ আল্লাহ রব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত এক পূর্ণাঙ্গ ও ত্রুটিমুক্ত জীবনবিধান। আল্লাহ সু.তা. স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন যে তাঁর দ্বীন সম্পূর্ণ এবং এর মধ্যে কোনো সংযোজন বা বিয়োজনের অবকাশ নেই (৫:৩)। এরপরও যুগে যুগে এমন এক শ্রেণী তৈরি হয়েছে যারা আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাবের সমান্তরালে নিজ হাতে কিতাব রচনা করে, ওহীর বাণীর বিকৃতি ঘটায় এবং দ্বীন প্রচারের বিনিময়ে পার্থিব প্রতিদান বা সামান্য মূল্য গ্রহণ করে। আল-কুরআন মাজীদ এই ব্যক্তিদের স্বরূপ উন্মোচন করেছে এবং তাদের জন্য এক ভয়াবহ পরিণামের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
◼ আল্লাহর দ্বীনের পূর্ণাঙ্গতা ও ওহীর চ্যালেঞ্জ:
আল্লাহ রব্বুল আলামিন তাঁর দ্বীনকে (জীবনব্যবস্থা) পূর্ণতা দান করেছেন:
➥ আমরা কিতাবের মধ্যে কোনো কিছু বাদ রাখি নাই। -আয়াত ৬:৩৮
“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম (أَكْمَلْتُ لَكُمْدِينَكُمْ) এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম...” (৫:৩)
গভীর অনুধাবন: এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে, আল-কুরআন নাযিলের পর দ্বীনের ক্ষেত্রে আর কোনো সংযোজন বা বিয়োজনের প্রয়োজন নেই। এরপরও যারা ওহীর সমান্তরালে অন্য কোনো বিধান বা কিতাব তৈরি করে, তারা মূলত আল্লাহর এই ঘোষণাকে চ্যালেঞ্জ করে। আল্লাহ সু.তা. আরও বলেন:
“তবে কি তারা কুরআন নিয়ে অনুধ্যান করে না? যদি এটি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অবশ্যই অনেক অসঙ্গতি বা বৈপরীত্য (اخْتِلَافًا كَثِيرًا) দেখতে পেত।” (৪:৮২)
এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহর কিতাবের মতো ত্রুটিমুক্ত ও অসঙ্গতিহীন কিছু মানুষের পক্ষে রচনা করা অসম্ভব।
একটি ভিডিও নিচের দিকে দেখুন:
◼ নিজ হাতে কিতাব রচয়িতা ও বিনিময় গ্রহণকারীদের স্বরূপ:
আল-কুরআন মাজীদ স্পষ্টভাবে সেই সব শ্রেণীর পরিচয় তুলে ধরেছে যারা আল্লাহর কিতাবের বিকৃতি ঘটায় এবং এর বিনিময়ে পার্থিব স্বার্থ হাসিল করে।
◼ মিথ্যা আরোপকারী ও ধ্বংসের শিকার:
“ধ্বংস (وَيْلٌ - ওয়াইলুন) তাদের জন্য যারা নিজ হাতে কিতাব লেখে এবং সামান্য মূল্যের বিনিময়ে (ثَمَنًا قَلِيلًا - ছামানান ক্বালীলা) বলে—এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে (هَذَا مِنْ عِندِ اللَّهِ - হাযা মিন ইনদিল্লাহ)। তাদের জন্য ধ্বংস, যা তাদের হাত লিখেছে; এবং তাদের জন্য ধ্বংস, যা তারা উপার্জন করে।” (২:৭৯)
এই আয়াতটি তিনটি বিষয়কে স্পষ্ট করে:
- নিজ হাতে রচনা: আল্লাহর নামে এমন কিছু লেখা যা ওহী নয়।
- সামান্য মূল্য: দ্বীন প্রচার বা মিথ্যা বিধানের বিনিময়ে পার্থিব স্বার্থ (ক্ষমতা, খ্যাতি বা অর্থ) গ্রহণ করা।
- আল্লাহর নামে দাবি: নিজেদের রচিত বিষয়কে ‘মিন ইনদিল্লাহ’ (আল্লাহর পক্ষ থেকে) বলে চালিয়ে দেওয়া। এই শ্রেণীর ব্যক্তিরা ‘ফাজির’ (পাপাচারী) এবং ‘আযলাম’ (নিকৃষ্টতম যালিম) হিসেবে চিহ্নিত হয়।
➢ আল-কুরআনের পরিভাষায় সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে বড় যালিম, যে আল্লাহর নামে মিথ্যা রচনা করে অথবা আল্লাহর আয়াত প্রচারের পরিবর্তে মানুষের মনগড়া কথা প্রচার করে। (সূরা আল-আন’আম ৬:২১, ৬:৯৩, ৬:১৪৪; সূরা আল-আ’রাফ ৭:৩৭; সূরা ইউনুস ১০:১৭; সূরা আল-কাহাফ ১৮:১৫)
➢ ‘ফাজির’ (فَاجِر) বা পাপাচারী: যারা ওহীর নূরকে আড়াল করে মানুষকে বিভ্রান্তির দিকে ঠেলে দেয় এবং পাপাচারের পথ উন্মুক্ত করে, তাদের ‘ফাজির’ বা পাপাচারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। (সূরা নূহ ৭১:২৭, সূরা আবাসা ৮০:৪২, সূরা আল-ইনফিতার ৮২:১৪)
◼ আল্লাহর আয়াত বিকৃতকারী ও গোপনকারী:
“নিশ্চয়ই যারা গোপন করে যা আল্লাহ কিতাবে নাযিল করেছেন এবং এর বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করে (ثَمَنًا قَلِيلًا), তারা নিজেদের পেটে আগুন ছাড়া আর কিছুই ভক্ষণ করে না...” (২:১৭৪)
অনুধাবন: এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহর নাযিলকৃত সত্যকে গোপন করা এবং তার বিনিময়ে পার্থিব স্বার্থ হাসিল করা—উভয়ই ‘ইছমুন কাবীর’ বা গুরুতর পাপ।
দ্বীন প্রচারের বিনিময় বনাম নবীগণের আদর্শ:
আল-কুরআন মাজীদের বর্ণনায় দ্বীন প্রচার কোনো পেশা বা ব্যবসায়িক মাধ্যম নয়, বরং এটি রবের পক্ষ থেকে অর্পিত এক মহান আধ্যাত্মিক আমানত। বর্তমানে দ্বীন প্রচার, খুৎবা দান, ওয়াজ-মাহফিল, সালাতে ইমামতি কিংবা পীরগিরির বিনিময়ে অর্থ বা প্রতিদান গ্রহণের যে সংস্কৃতি লক্ষ্য করা যায়, তা আল-কুরআনে বর্ণিত নবী ও রাসূলগণের (সালামুন আলাল মুরসালিন) আদর্শের সম্পূর্ণ বিপরীত। ওহীর বাণী প্রচারের ক্ষেত্রে প্রতিটি রাসূল একটি শাশ্বত ও অটল মূলনীতি অনুসরণ করেছেন—তা হলো নিঃস্বার্থ সেবা এবং কেবল আল্লাহর নিকট প্রতিদানের আশা রাখা।
তবে কি তুমি তাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাচ্ছ? তাই তারা জরিমানার কারণে ভারগ্রস্ত হয়ে আছে-আয়াত ৫২:৪০
তাইতো নবীগণের শাশ্বত ঘোষণা: “আমি কোনো প্রতিদান চাই না”
আল-কুরআন মাজীদ সকল নবী-রাসূলের একটি অভিন্ন গুণের কথা উল্লেখ করেছে—তাঁরা সমাজ সংস্কার ও ওহী প্রচারের বিনিময়ে মানুষের কাছ থেকে কিছুই গ্রহণ করতেন না। তাঁদের শাশ্বত ঘোষণা ছিল:
“বলুন! আমি এর (ওহীর প্রচার) জন্য তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক (أَجْرًا - আজরান) চাই না।”
এই অটল অবস্থানের দালিলিক প্রমাণসমূহ নিম্নরূপ:
সালামুন আলা নূহ (১১:২৯): হে আমার কওম! আমি এর বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোনো ধন-সম্পদ (مَالًا - মালান) চাই না; আমার প্রতিদান কেবল আল্লাহর কাছে।”
সালামুন আলা হুদ (১১:৫১): হে আমার কওম! আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক (أَجْرًا - আজরান) চাই না; আমার পারিশ্রমিক কেবল তাঁরই কাছে যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন।”
সালামুন আলা মুহাম্মদ (৬:৯০): বলুন! আমি এর (কুরআনের প্রচার) জন্য তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান (أَجْرًا) চাই না; এটি তো কেবল বিশ্ববাসীর জন্য একটি উপদেশ। (অনুরূপ নির্দেশনার জন্য আরও দেখুন: ২৫:৫৭, ৫২:৪০)
সালামুন আলাল মুরসালীন (সালেহ, লূত ও শু'আইব): সালামুন আলা সালেহ (২৬:১৪৫), সালামুন আলা লূত (২৬:১৬৪) এবং সালামুন আলা শু'আইব (২৬:১৮০)—তাঁরা প্রত্যেকেই দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন:
“আর আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না; আমার প্রতিদান তো কেবল বিশ্বজাহানের রবের কাছে।”
২. ওহীর সংস্কৃতির সাথে বিনিময়ের সংঘাত:
নবীগণের এই নিরবচ্ছিন্ন ঘোষণা প্রমাণ করে যে, দ্বীন প্রচারের বিনিময়ে কোনো প্রকার জাগতিক মূল্য দাবি করা ওহীর সংস্কৃতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। যখনই ওহীর জ্ঞানকে অর্থ বা সম্মানের মানদণ্ডে মাপা হয়, তখন তা আর ‘হিদায়াত’ থাকে না, বরং তা ‘বাণিজ্যে’ রূপান্তরিত হয়।
অনুধাবন: রাসূলগণ (সালামুন আলাল মুরসালিন) কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দ্বীন প্রচার করতেন। যারা দ্বীন প্রচারের নামে অর্থ বা প্রতিদান দাবি করে, তারা মূলত রাসূলদের প্রদর্শিত পথ থেকে বিচ্যুত। তারা নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য আল্লাহর পবিত্র আয়াতসমূহকে ব্যবহার করে।
৩. ‘ইছম’ (إِثْم) এবং ‘আকলুল মাল বিল বাতিল’-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়া:
আল-কুরআনের গভীর বিশ্লেষণে দেখা যায়, দ্বীনকে পুঁজি করে যারা অর্থ উপার্জন করে, তাদের এই কাজ দুটি মারাত্মক অপরাধের পর্যায়ে পড়ে:
◼ ইছম (পাপের বোঝা): আল্লাহর আয়াত প্রচারের বিনিময়ে প্রতিদান নেওয়া এক প্রকার ‘ইছম’ বা গুরুতর পাপ। আল্লাহ সেই সব ধর্মীয় নেতাদের নিন্দা করেছেন যারা পার্থিব লাভের জন্য ওহীর জ্ঞানকে ব্যবহার করে।
“আপনি তাদের অনেককে দেখবেন তারা পাপে (الإِثْمِ - আল-ইছম) ও সীমালঙ্ঘনে দ্রুত ধাবিত হয়... তারা যা করে তা কতই না নিকৃষ্ট!” (৫:৬২-৬৩)
◼ আকলুল মাল বিল বাতিল (অন্যায়ভাবে সম্পদ ভক্ষণ): ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব বা পীর-মাশায়েখ:
হয়ে মানুষের সম্পদ গ্রহণ করাকে আল-কুরআন ‘বাতিল’ পন্থায় সম্পদ গ্রাস হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
“হে মুমিনগণ! নিশ্চয়ই অনেক পণ্ডিত ও সংসারবিরাগী (আলেম ও পীর) মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে (لَيَأْكُلُونَ أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ) এবং আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে নিবৃত্ত রাখে...” (৯:৩৪)
◼ জিহ্বা কুঞ্চিত করে বিকৃতি (যেমনটি আমাদের উপমহাদেশে সূর মিশ্রিত কন্ঠে বক্তারা করে থাকেন):
“আর তাদের মধ্যে একদল রয়েছে যারা কিতাব পাঠের সময় নিজেদের জিহ্বাকে কুঞ্চিত করে (لَيًّا بِأَلْسِنَتِهِمْ), যেন তোমরা মনে করো তা কিতাবের অংশ, অথচ তা কিতাবের অংশ নয়; এবং তারা বলে—এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে, অথচ তা আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়।” (৩:৭৮)
অনুধাবন: এই ‘তাহরীফ’ (বিকৃতি) কেবল লেখার মাধ্যমে নয়, বরং উচ্চারণের মাধ্যমেও করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো—মানুষকে আল্লাহর নাযিলকৃত ওহী থেকে দূরে সরিয়ে নিজেদের মনগড়া মতবাদের দিকে ধাবিত করা।
◼ উপরন্ত তাদের অধিকাংশ লাহওয়াল হাদীস -এর প্রচারক এবং অনুসরন করতে উদ্ধুদ্ধ করে থাকেন:
আর মানুষের মধ্য থেকে কোনো জ্ঞান ছাড়াই, আল্লাহর পথ হতে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে যে লেনদেন করে লাহওয়াল হাদীস এবং সে সেটা ঠাট্টা হিসাবে গ্রহণ করে, ওরাই, যাদের জন্য রয়েছে অপমানজনক শাস্তি। আর যখন তার কাছে আমাদের আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, সে অহংকারবশত মুখ ফিরিয়ে নেয়, কেমন যেন সে তা শুনতে পায়নি, যেন তার দুই কানের মধ্যে রয়েছে বধিরতা। অতএব, তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দাও-আয়াত ৩১:৬-৭
◼ শাস্তির ভয়াবহতা: আগুন ও লাঞ্ছনা:
যারা আল্লাহর নামে মিথ্যা বলে, কিতাবের বিকৃতি ঘটায় এবং বিনিময় গ্রহণ করে, তাদের জন্য আল-কুরআনে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
- পেটে আগুন ভর্তি করা: ২:৭৯ এবং ২:১৭৪ আয়াত অনুযায়ী তাদের পেটে আগুন ছাড়া আর কিছু প্রবেশ করে না।
- যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি: ৯:৩৪-৩৫ আয়াতে যারা সম্পদ পুঞ্জীভূত করে এবং আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদের জন্য শারীরিক শাস্তির কথা বলা হয়েছে।
- অপমানজনক আজাব: ৬:৯৩ আয়াতে যারা আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করে, তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক আজাবের কথা বলা হয়েছে।
◼ মুসলিমের দায়িত্ব:
আল-কুরআন মাজীদের অকাট্য সিদ্ধান্ত হলো—আল্লাহর হুকুমে বা কতৃত্বে কাউকে শরীক করা যাবে না (১৮:২৬)। এর সমাধানের পথ হলো:
➥ এবং তোমার রবের কিতাব থেকে যা তোমার প্রতি ওহী করা হয়েছে তা তিলাওয়াত করো; তাঁর বাণী পরিবর্তন করার কেউ নেই। (১৮:২৭)
➥ তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে, তোমরা সেটার অনুসরণ করো এবং তাঁর পরিবর্তে বহু অভিভাবকের অনুসরণ কোরো না। তোমরা যা উপদেশ গ্রহণ করো তা খুবই অল্প। (7:3)
যৌক্তিক পূর্ণতা: একজন মুসলিমের জন্য কেবল আল্লাহর নাযিলকৃত ওহীই অনুসরণীয়। যারা ৪২:২১ আয়াতের নির্দেশনা অমান্য করে নিজেদের জন্য আল্লাহর অনুমোদনের বাইরে অন্য বিধান (শরীক) তৈরি করে, তারা মূলত আল্লাহর সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করে।
তাইতো যাদেরকে অনুসরন করতে বলা হয়েছে:
আল-কুরআন মাজীদের অকাট্য দালিলিক পরম্পরা বিশ্লেষণ করলে এটিই প্রমাণিত হয় যে, দ্বীন প্রচারের বিনিময়ে কোনো প্রকার জাগতিক প্রতিদান বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা নবীগণের আদর্শের সরাসরি লঙ্ঘন। যারা ওহীর আয়াতকে পণ্য বানিয়ে কিংবা ভুলভাবে উপস্থাপন করে অথবা নাযিলকৃত অহীর আয়াত বাদ দিয়ে কিংবা এর আংশিক প্রচার করে ও মনুষ্য সৃষ্ট লাহওয়াল হাদিস প্রচার-প্রসারে ব্যস্ত থেকে উপরোন্ত বিনিময় গ্রহন করে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করে, তারা ২:৭৯ আয়াতের সেই ‘ওয়াইল’ বা ধ্বংসের সম্মুখীন। সফলকাম তারাই, যারা ওহীর বাণীর বিনিময়ে পার্থিব কোনো মূল্য তালাশ করে না এবং ৩৬:২১ আয়াতের নির্দেশ অনুযায়ী সেই সব ব্যক্তিদের অনুসরণ করে— “তোমরা তাদের অনুসরণ করো যারা তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চায় না (مَن لَّا يَسْأَلُكُمْ أَجْرًا) এবং যারা নিজেরাও সুপথপ্রাপ্ত।”
--- ✨
---
প্রাসঙ্গিক কুরআনি দুআ-তাসবিহ:
আল্লাহর কিতাবের ওপর অবিচল থাকতে এবং মিথ্যার প্রভাব থেকে দূরে থাকতে এই দুআগুলো নিয়মিত পাঠযোগ্য:
ওহীর আনুগত্য ও ঈমানের স্বীকৃতি:
رَبَّنَا آمَنَّا بِمَا أَنزَلْتَوَاتَّبَعْنَا الرَّسُولَ فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ
(রাব্বানা আমান্না বিমা আনযালতা ওয়াত্তাবায়নাল রাসূল ফাকতুবনা মা’আশ শাহীদিন) অর্থ: হে আমাদের রব! আপনি যা নাযিল করেছেন তার ওপর আমরা ঈমান এনেছি এবং আমরা রাসূলের অনুসরণ করেছি; অতএব আমাদের সাক্ষ্যদাতাদের তালিকাভুক্ত করুন। (৩:৫৩)
মিথ্যা ও বক্রতা থেকে হৃদয়ের সুরক্ষায়:
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَابَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً ۚ إِنَّكَ أَنتَالْوَهَّابُ
(রাব্বানা লা তুযিগ ক্ববানা বা’দা ইয হাদাইতানা ওয়া হাব লানা মিল্লাদুনকা রাহমাতান, ইন্নাকা আনতাল ওয়াহহাব) অর্থ: হে আমাদের রব! হিদায়াত দান
করার পর আমাদের অন্তরকে সত্যলঙ্ঘনকারী (বিচ্যুত) করবেন না এবং আপনার নিকট থেকে আমাদের রহমত দান করুন। (৩:৮)
সত্যবাদিতা ও প্রমাণ পেশ করার সামর্থ্য কামনায়:
وَقُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِسَيُرِيكُمْ آيَاتِهِ فَتَعْرِفُونَهَا
(ওয়া ক্বুলিল হামদু লিল্লাহি সাইয়ুরীকুম আয়াতিহি ফাতা’রিফূনাহা)
অর্থ: আর বলুন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর; শীঘ্রই তিনি তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলি দেখাবেন এবং তোমরা তা চিনতে পারবে। (২৭:৯৩)
سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ עَمَّا يَصِفُونَ وَسَلَامٌ عَلَىالْمُرْسَلِينَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
সুবহা-না রব্বিকা রব্বিল ‘ইযযাতি ‘আম্মা- ইয়াসিফূন। অসালা-মুন ‘আলাল মুরসালীন। অলহামদু লিল্লা-হি রব্বিল ‘আ-লামীন!
অর্থ: আপনার রব, যিনি সকল সম্মানের অধিকারী, তিনি তারা যা আরোপ করে তা থেকে পবিত্র। এবং রাসুলগণের প্রতি শান্তি (সালাম)। আর সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। (আয়াত ৩৭:১৮০-১৮২)
এই চ্যানেলে প্রকাশিত অডিও ও ভিডিওসমূহ মূলত ইউটিউব কিংবা অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহকৃত বা ধার করা উপকরণ। এগুলো সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই কন্টেন্টের মাধ্যমে আপনাদের মাঝে শেয়ার করা হচ্ছে।
