দান-সাদাকার কবুলযোগ্য খাত: মানুষ কেন খুঁজে পায় না? দান-সাদাকার খাতগুলো কী কী—আল-কুরআন কী বলে, আর আমরা কী করছি? #dan-sadaqa #zaqat

আল্লাহ ও তাঁর রাসুল আল-কুরআনের মাধ্যমে দান-সাদাকার সুনির্দিষ্ট খাতগুলো স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দেওয়ার পরও কেন তারা নিজেরাই তাঁদের নিজেদের প্রচেষ্টার (দান-সাদাকা) বিষয়গুলো ব্যর্থতায় পর্যবেশিত করে দিচ্ছেন?

এর কারণটিও আল্লাহর রাসুল -এর একটি নালিশের মাধ্যমে আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন আল্লাহ তাআলা এভাবে:

“আর রাসুল বলবেন, ‘হে আমার রব! নিশ্চয়ই আমার কওম এই কুরআনকে পরিত্যাজ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে।’”

—আল-কুরআন, সূরা আল-ফুরকান, ২৫:৩০

নিউজটি পড়তে -এখানে ক্লিক করুন:  অসহায় ১৩০/১০০ বছরের দুই অসহায় নারী চট্রগ্রামে

⁺˚*•̩̩͙✩•̩̩͙*˚⁺‧͙⁺˚*•̩̩͙✩•̩̩͙*˚⁺‧

দান-সাদাকার ব্যয়ের খাতসমূহ: দান-সাদাকার খাতগুলো কী কী?

আল্লাহর কাছে গ্রহনযোগ্য করতে হলে নিজ ইচ্ছেমত নয়, কারন বলা হয়েছে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলের বাতলে দেয়া নাযিলকৃত বিধান একমাত্র আল কুরআন ভিত্তিক হতে হবে।

আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তা'আলা আল কোরআনে আমাদের সম্পদ কোথায় এবং কাদের জন্য ব্যয় করতে হবে, তার একটি সুস্পষ্ট এবং ভারসাম্যপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন।  আসুন, কেবলমাত্র কোরআনের আয়াত থেকে জেনে নিই সেই খাতগুলো।

ব্যয়ের অগ্রাধিকার তালিকা:

১. নিজের ও পরিবারের জন্য ব্যয়:

স্ত্রী, সন্তান ও নিজের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ করা পুরুষের অন্যতম দায়িত্ব -সূরা আল-বাকারাহ, ২:২৩৩

২. পিতা-মাতা: 

তাদের ভরণ-পোষণ ও সেবা করা সন্তানের অবশ্যকর্তব্য।  (সূরা আল-বাকারাহ, ২:২১৫; সূরা আন-নিসা, ৪:৩৬)

৩. নিকটাত্মীয়:

রক্ত-সম্পর্কীয় আত্মীয়-স্বজনদের প্রয়োজনে তাদের পাশে দাঁড়ানো-আয়াত ২:২১৫, ৪:৩৬,  ২:১৭৭, ৩০:৩৮, ৪:৮, ১৭:২৬

৪. এতিম:  (সাদাকা খাত):

পিতৃহীন শিশুদের প্রতিপালন ও তাদের অধিকার রক্ষা করা-আয়াত ২:১৭৭, ৭৬:৮, ২:২১৫, ৪:৮

৫. মিসকিন ও ফকির: (সাদাকা খাত):

সমাজের অভাবগ্রস্ত, নিঃস্ব ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন মেটানো-২:২৭৩, ৯:৬০, ২:২১৫, ২:১৭৭, ৩০:৩৮, ৪:৮, ১৭:২৬

ফকির ও মিসকীনের মধ্যে পার্থক্য কী? আল কুরআন অনুধাবনে (Faqir-Misken)

5.1. এমন ফকির (দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত): 

যারা আল্লাহর দ্বীনের কাজে (ফি সাবিলিল্লাহ) নিজেদের উৎসর্গ করার কারণে অভাব অনাটনে মানুষের কাছে মিনতি করে চায় না- আয়াত ২:২৭৩

7. প্রতিবেশী:

নিকট ও দূর-প্রতিবেশীর বিপদে-আপদে খোঁজখবর রাখা ও সাহায্য করা। (সূরা আন-নিসা, ৪:৩৬)

8. মুসাফির (ইবনুস সাবিল):

সফররত অবস্থায় কোনো ব্যক্তি বিপদগ্রস্ত বা নিঃস্ব হয়ে পড়লে তাকে সাহায্য করা- আয়াত ৯:৬০; ২:১৭৭, ১৭:২৬

9. সাহায্যপ্রার্থী: 

যারা সরাসরি নিজেদের প্রয়োজনের কথা জানিয়ে সাহায্য চায়, তাদের ফিরিয়ে না দেওয়া।  (সূরা আল-বাকারাহ, ২:১৭৭, সূরা আয-যারিয়াত, ৫১:১৯, 70:24-25)

10. বঞ্চিত:

যারা অভাবী হওয়া সত্ত্বেও আত্মসম্মানের কারণে চাইতে পারে না, তাদের খুঁজে বের করে সাহায্য করা- আয়াত ৫১:১৯, ৭০:২৪-২৫, ২:২৭৩

11. দাস বা বন্দিমুক্তি : 

কোনো ব্যক্তিকে দাসত্ব, বন্দিদশা বা অন্যায্য আটক থেকে মুক্ত করা-আয়াত ৯:৬০, ২:১৭৭, ৯০:১৩

(এমন অবস্থা নাযিলকৃত একমাত্র আল্লাহর বিধান জানারও ফুরসত পায় না যারা)

12. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি:

ঋণের বোঝায় জর্জরিত ব্যক্তিকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করা (সূরা আত-তাওবাহ, ৯:৬০) ।  

13. সাবিল-পথিক/ "ফি সাবিলিল্লাহ" (আল্লাহর পথে): 

আল্লাহর দ্বীনকে সমুন্নত করতে যেকোনো সৎ ও জনকল্যাণমূলক কাজে (যেমন: আল্লাহর দ্বীনের জ্ঞানার্জন, প্রচার (আয়াত ৯৬:১, ৩৯:৯), সামাজিক উন্নয়ন- "আল্লাহর পথে" কাজের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে ) ব্যয় করা- আয়াত ৯:৬০, ৩০:৩৮, ২:২৬১

14. সাদাকা আদায়ে নিযুক্ত কর্মচারী:  

(সূরা আত-তাওবাহ, ৯:৬০)

15. যাদের অন্তর আকর্ষণ করা প্রয়োজন:  

(সূরা আত-তাওবাহ, ৯:৬০)

16. বিধবা বা তালাপ্রাপ্তদের ভরন-পোষন: দ্র: আয়াত ২:২৪১

17. অভাবের দিনে খাদ্য খাওয়ানো/ খাদ্যদান করার খাতসমূহ:

1. মিসকিন (দারিদ্র্যক্লিষ্ট বা দুর্দশাগ্রস্ত)

(আল-ইনসান-76:৮-৯, (সূরা আল বালাদ 90:14) [দ্র: ১০৭:১-৭]

2.  এতিম (পিতৃহীন/অভিভাবকহীন অবুঝ শিশু):

(আল-ইনসান-76:৮) [দ্র: ১০৭:১-৭]

3. ইয়াতিমকে [কোনো নিকটাত্মীয়]   

(সূরা আল বালাদ 90:14) 

4. বন্দী (যুদ্ধবন্দী বা যে কোনো কারণে আটক ব্যক্তি):

(আল-ইনসান-76:৮)

আর নিজের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় হক আদায় না করে অন্যত্র নফল দান করা—এ বিষয়টিও আলাদা করে দেখা দরকার। কারণ কুরআন ১৭:২৬-এ নিকটাত্মীয়ের হক দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করতে পারেন:

টাকা-পয়সা ও সম্পদ ব্যয়ের খাতসমূহ: আল-কোরআনের আলোকে (যাকাত ও সদকা)

⁺˚*•̩̩͙✩•̩̩͙*˚⁺‧͙⁺˚*•̩̩͙✩•̩̩͙*˚⁺‧
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post