কুরআনের সূরা মারইয়াম-এর শেষ আয়াত (আয়াত নম্বর ৯৮):
আল্লাহ রব্বুল আলামিন অতীত শক্তিশালী ও অহংকারী জাতিসমূহের ধ্বংসের পর তাদের অস্তিত্বহীনতা সম্পর্কে এই আয়াতে অত্যন্ত অলঙ্কারিক ও গম্ভীর ভাষায় বর্ননা করে আমাদেরকে সতর্ক করে অদৃশ্যের ব্রেকিং নিউজ দিয়েছেন এভাবে-
তাদের আগে আমি কত মানবগোষ্ঠীকে (প্রজন্মকে) ধ্বংস করেছি! তুমি কি তাদের কারো অস্তিত্ব অনুভব কর অথবা তাদের কোনো ক্ষীণতম শব্দ (রিকজ) শুনতে পাও? (আয়াত ১৯:৯৮)
১টি অডিও নিচের দিকে:
শব্দগত ও ভাবার্থগত বিশ্লেষণ:
১. রিকজ (رِكْزًا): এই শব্দটির অর্থ হলো অত্যন্ত ধীর বা ক্ষীণ শব্দ, গুনগুন শব্দ বা পায়ের মৃদু আওয়াজ। আল্লাহ সু.তা. এখানে বোঝাচ্ছেন যে, অতীতে এমন সব শক্তিশালী জাতি ছিল যারা পৃথিবীতে দাপিয়ে বেড়াত, কিন্তু আল্লাহর অবাধ্যতার কারণে তাদের এমনভাবে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে যে, আজ তাদের কোনো চিৎকার তো দূরের কথা, কোনো ক্ষীণতম শব্দ বা ফিসফিসানিও আর শোনা যায় না।
২. হল তুহিসসু (هَلْ تُحِسُّ): এর অর্থ ‘তুমি কি অনুভব করো বা টের পাও?’ অর্থাৎ তাদের কোনো চিহ্নও আর অবশিষ্ট নেই।
৩. অনুধাবন: সূরা মারইয়ামের এই শেষ আয়াতে আল্লাহ রব্বুল আলামিন আল্লাহর আয়াত অস্বীকারকারী (কাফের) ও অহংকারীদের সতর্ক করছেন যে, তারা যেন তাদের শক্তি নিয়ে বড়াই না করে। কারণ তাদের চেয়েও শক্তিশালী জাতিদের আল্লাহ এমনভাবে মিটিয়ে দিয়েছেন যে তারা এখন চিরস্থায়ী নীরবতায় নিমজ্জিত।
এই আয়াতটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, পৃথিবীর ক্ষমতা ও দাপট ক্ষণস্থায়ী। যারা সত্যকে (অহীর কিতাব) অস্বীকার করে এবং কিতাবের বিধান লঙ্ঘন করে, এক সময় তারা ইতিহাসের পাতায় কেবল নিথর নিরবতা ছাড়া আর কিছুই রেখে যায় না।
আল্লাহ সু.তা.শুরুতেই জানিয়ে দিয়েছেন সবাইকে—
অতঃপর যখন আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে হিদায়াত আসবে (আল কুরআন), তখন যারা আমার হিদায়াত অনুসরণ করবে, তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না। (২:৩৮)
░ ▓▒দুআ:আশ্রয়▒▓ ░
প্রত্যেক অহংকারী, অবাধ্য ব্যক্তির অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চেয়ে দুআ:
رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِّلْقَوْمِ الظَّالِمِينَ وَنَجِّنَا بِرَحْمَتِكَ مِنَ الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
রব্বানা লা তাজ‘আলনা ফিতনাতাল-লিল-কওমিজ-জালিমীন। ওয়া নাজ্জিনা বিরাহমাতিকাল-মিনাল-কওমিল-কাফিরীন।
অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদেরকে জালিম সম্প্রদায়ের জন্য পরীক্ষার পাত্র বানাবেন না। আর আপনার রহমতের মাধ্যমে আমাদেরকে কাফির সম্প্রদায় থেকে রক্ষা করুন।” -সূরা ইউনুস, ১০:৮৫–৮৬
إِنِّي عُذْتُ بِرَبِّي وَرَبِّكُم مِّن كُلِّ مُتَكَبِّرٍ لَّا يُؤْمِنُ بِيَوْمِ الْحِسَابِ
ইন্নী ‘উযতু বিরাব্বী ওয়া রব্বিকুম মিন কুল্লি মুতাকাব্বিরিল-লা ইউ’মিনু বিয়াওমিল-হিসাব।
অর্থ: আমি আমার ও তোমাদের রবের আশ্রয় গ্রহণ করেছি প্রত্যেক অহংকারীর (অনিষ্ট) থেকে, যে হিসাবের দিনে বিশ্বাস করে না। -সূরা গাফির, ৪০:২৭
সাদাকাল্লাহু ওয়া রাসূলুহ (৩৩:২২)
সুবহা-না রব্বিকা রব্বিল ‘ইযযাতি ‘আম্মা- ইয়াসিফূন। অসালা-মুন ‘আলাল মুরসালীন। অলহামদু লিল্লা-হি রব্বিল ‘আ-লামীন!
অর্থ: আপনার রব, যিনি সকল সম্মানের অধিকারী, তিনি তারা যা আরোপ করে তা থেকে পবিত্র। এবং রাসুলগণের প্রতি শান্তি (সালাম)। আর সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। (৩৭:১৮০-১৮২)