খুতবার সূচনা অংশ:
سَلَامٌ عَلَيْكُمْ
رَّبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَنْ يَحْضُرُونِ
উচ্চারণ: রব্বি আ‘উযু বিকা মিন হামাযাতিশ শাইয়াতীন। ওয়া আ‘উযু বিকা রব্বি আন ইয়াহদুরূন।
হে আমার রব! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে এবং এ থেকেও আশ্রয় চাই যে তারা আমার নিকট উপস্থিত হয়। ২৩:৯৭-৯৮
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
وَسَلَـٰمٌ عَلَى ٱلْمُرْسَلِينَ وَٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَالَمِينَ
উচ্চারণ: ওয়া সালামুন ‘আলাল মুরসালীন। ওয়ালহামদু লিল্লাহি রব্বিল ‘আলামীন।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত বান্দাদের ওপর।
ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ وَسَلَامٌ عَلَىٰ عِبَادِهِ ٱلَّذِينَ ٱصْطَفَىٰ
উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহি ওয়া সালামুন ‘আলা ‘ইবাদিহিল্লাযীনাসতাফা। ২৭:৫৯
رَبِّ ٱشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَٱحْلُلْ عُقْدَةً مِّن لِّسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي
উচ্চারণ: রব্বিশরহ লী সদরি। ওয়া ইয়াসসির লী আমরি। ওয়াহলুল ‘উকদাতাম মিল লিসানী। ইয়াফকাহু কাওলী।
হে আমার রব! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন, আমার কাজ সহজ করে দিন, আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন, যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে। ২০:২৫-২৮
ইন্না সালাতি ওয়া নুসুকি ওয়া মাহয়াইয়া ওয়া মামাতী লিল্লাহি রব্বিল আলামীন। লা শারীকা লাহু। ওয়া বিযালিকা উমিরতু ওয়া আনা আউওয়ালুল মুসলিমীন। ৬:১৬২-১৬৩
সম্মানিত উপস্থিতি! আমাদের আজকের খুৎবার সিলেকটিভ বিষয়:
দ্বীনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে কে বা কারা? কী করলে দ্বীনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হয়?
কুরআনে "দ্বীনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা" (يُكَذِّبُ بِالدِّينِ / ইউকাজ্জিবু বিদদ্বীন) বলতে শুধু মুখে আল্লাহ, আখিরাত বা বিচার দিবসকে অস্বীকার করাকেই বোঝানো হয়নি; বরং দ্বীনের মৌলিক শিক্ষা ও দাবিকে অস্বীকার করে এমন আচরণ করাকেও বোঝানো হয়েছে। বিশেষ করে মানুষের অধিকার, এতিম-মিসকিনের প্রতি দায়িত্ব ও সামাজিক ন্যায়বিচার অস্বীকার করাকে কুরআন অত্যন্ত কঠোরভাবে নিন্দা করেছে।
১. দ্বীনকে মিথ্যা প্রতিপন্নকারী কে?
আল্লাহ তাআলা বলেন:
"তুমি কি তাকে দেখেছ, যে প্রতিদান দিবসকে মিথ্যা বলে?"
"সে-ই তো এতিমকে ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।"
"এবং অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দিতে উৎসাহিত করে না।" -সূরা আল-মাউন (১০৭:১–৩)
এই আয়াতে আল্লাহ "দ্বীনকে মিথ্যা প্রতিপন্নকারী" ব্যক্তির দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন:
১. এতিমের প্রতি কঠোরতা ও অবহেলা করা।
২. অভাবী ও দরিদ্রকে সাহায্য করতে উৎসাহিত না করা।
অর্থাৎ যে ব্যক্তি আখিরাতের জবাবদিহিতায় বিশ্বাসের দাবি করে, কিন্তু বাস্তবে মানুষের প্রতি দয়া, সহমর্মিতা ও দায়িত্ব পালন করে না—তার আচরণ দ্বীনের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
২. শুধু সালাত (নামাজ) পড়লেই কি দ্বীনের সত্যায়ন হয়?
কুরআন দেখিয়েছে, বাহ্যিক ইবাদতের সঙ্গে মানুষের অধিকার রক্ষা না থাকলে তা দ্বীনের পূর্ণতা নয়।
আল্লাহ বলেন:
"অতএব দুর্ভোগ সেই সব নামাজির জন্য, যারা তাদের নামাজ সম্পর্কে উদাসীন। যারা লোক দেখানো কাজ করে এবং সামান্য সাহায্য করতেও বিরত থাকে।"
সূরা আল-মাউন (১০৭:৪–৭)
এখানে বোঝানো হয়েছে—যারা ইবাদতের দাবি করে কিন্তু মানুষের উপকার থেকে বিরত থাকে, তাদের ইবাদতের মধ্যে ত্রুটি রয়েছে।
৩. জাহান্নামীরা কী স্বীকার করবে?
আল্লাহ বলেন:
"তোমাদেরকে কী সাকারে (জাহান্নামে) নিক্ষেপ করেছে?"
তারা বলবে:
"আমরা মুসল্লিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না।"
"এবং আমরা অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দিতাম না।"
"এবং আমরা মিথ্যা আলোচনাকারীদের সঙ্গে মিথ্যা আলোচনায় লিপ্ত থাকতাম।"
"এবং আমরা প্রতিদান দিবসকে অস্বীকার করতাম।"সূরা আল-মুদ্দাসসির (৭৪:৪২–৪৬)
এই আয়াতে জাহান্নামের কারণগুলোর মধ্যে দুটি বিষয় বিশেষভাবে এসেছে:
আল্লাহর ইবাদতে অবহেলা করা।মানুষের প্রতি দায়িত্ব পালন না করা।
৪. এতিম ও দরিদ্রের অধিকার অস্বীকার করা দ্বীনের বিরুদ্ধে কেন?
কারণ দ্বীন শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের নাম নয়; দ্বীন মানুষের মধ্যে ন্যায়, দয়া ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেয়।
আল্লাহ বলেন:
"না, বরং তোমরা এতিমকে সম্মান করো না। আর তোমরা মিসকিনকে খাদ্য দেওয়ার জন্য একে অপরকে উৎসাহিত করো না।"
সূরা আল-ফাজর (৮৯:১৭–১৮)
৫. সম্পদ থাকা সত্ত্বেও সাহায্য না করা
আল্লাহ বলেন:
"সে কখনো কঠিন পথ অতিক্রম করেনি। আর তুমি কি জানো কঠিন পথ কী? তা হলো—দাসমুক্ত করা, অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে খাদ্য দান করা, নিকটাত্মীয় এতিমকে অথবা ধূলিধূসর অভাবীকে।"
সূরা আল-বালাদ (৯০:১১–১৬)
৬. দ্বীনকে সত্য প্রমাণ করার পথ কী?
কুরআনের নির্দেশ অনুযায়ী:
আল্লাহর ইবাদত করা।
মানুষের অধিকার আদায় করা।
এতিম, মিসকিন ও অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো।
সম্পদ থেকে প্রয়োজনমতো ব্যয় করা।
আল্লাহ বলেন:
"নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচরণ এবং আত্মীয়কে দান করার নির্দেশ দেন..."
সূরা আন-নাহল (১৬:৯০)
কুরআনের আলোকে দ্বীনকে মিথ্যা প্রতিপন্নকারী শুধু সে নয়, যে মুখে আখিরাত অস্বীকার করে; বরং সে ব্যক্তিও দ্বীনের দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করে, যে আল্লাহর বিধান জেনেও এতিমকে অবহেলা করে, অভাবীকে সাহায্য করে না, মানুষের কষ্টে উদাসীন থাকে এবং সামাজিক দায়িত্ব পালন করে না।
সূরা আল-মাউন আমাদের শেখায়—যে দ্বীন মানুষকে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের পাশাপাশি মানুষের প্রতি দয়া ও দায়িত্বশীল হতে শেখায়। তাই মানুষের দুঃখ-কষ্টে পাশে দাঁড়ানো দ্বীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তব প্রকাশ।
رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا ۖ إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
উচ্চারণ: রব্বানা তাকাব্বাল মিন্না, ইন্নাকা আনতাস সামী‘উল ‘আলীম।
অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পক্ষ থেকে (আমাদের কাজ) কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (সূরা আল-বাকারাহ ২:১২৭)
সমাপ্তির তাসবিহ ও হামদ:
সুবহানা রব্বিকা রব্বিল ‘ইজ্জাতি ‘আম্মা ইয়াসিফূন।
ওয়া সালামুন ‘আলাল মুরসালীন।
ওয়ালহামদু লিল্লাহি রব্বিল ‘আলামীন।
অর্থ: “পবিত্র আপনার প্রতিপালক, যিনি সকল সম্মানের অধিকারী, তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে তিনি পবিত্র। আর রাসূলগণের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। এবং সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।” (সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১৮০–১৮২)
সত্যায়নের বাক্য:
صَدَقَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ
উচ্চারণ: সাদাকাল্লাহু ওয়া রাসূলুহু। অর্থ: সাদাকাল্লাহু ওয়া রাসূলুহ (৩৩:২২)
