জনৈক-এর প্রশ্ন: আমি কেন কখনও কখনও মিউজিক শুনি?
━━━━━━ ۞ ━━━━━━
আল-কুরআন “যা ভালো লাগে, তাই উপভোগ করা” -কে নিজেই তা সরাসরি হারাম বলেনি; বরং মানুষ কী শুনছে, কী দেখছে, কী অন্তরে গ্রহণ করছে এবং তা তাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে—এসবের ব্যাপারে জবাবদিহির কথা বলেছে।
যা দেখতে ও শুনতে ভালো লাগে, তা-ই কি উপভোগ করা যাবে?
নিশ্চয়ই কান, চোখ ও অন্তর—এসবের প্রত্যেকটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
— সূরা আল-ইসরা, ১৭:৩৬
অতএব, “আমি তো শুধু বিনোদনের জন্য দেখেছি/শুনেছি”—এই উদ্দেশ্যটি নিজে থেকেই সবকিছুকে বৈধ করে দেয় না। কী দেখলাম, কী শুনলাম এবং তা আমার অন্তরে কী প্রভাব ফেলল—এসব গুরুত্বপূর্ণ।
২. প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে সতর্ক করা হয়েছে:
আর যে তার প্রতিপালকের সামনে দাঁড়ানোর ভয় করেছে এবং নিজেকে প্রবৃত্তি থেকে বিরত রেখেছে, নিশ্চয়ই জান্নাতই হবে তার আশ্রয়।
— সূরা আন-নাযিআত, ৭৯:৪০–৪১
অর্থাৎ, “আমার ভালো লাগে”, “আমার ইচ্ছা করছে”, “আমি উপভোগ করি”—এগুলো কোনো কাজ সঠিক হওয়ার চূড়ান্ত মাপকাঠি নয়। মুমিনের মাপকাঠি হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি।
৩. সব ধরনের কথা শোনা সমান নয়:
কুরআন মুমিনদের প্রশংসা করেছে এভাবে:
যারা কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং তার মধ্যে যা উত্তম, তা অনুসরণ করে। -সূরা আয-যুমার, ৩৯:১৮
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা আছে—শোনা নিজেই উদ্দেশ্য নয়; কী শুনছি এবং তার মধ্যে কোনটি অনুসরণ করছি সেটিও বিবেচ্য।
৪. অশোভন ও মন্দ কথার প্রচার আল্লাহ পছন্দ করেন না:
আল্লাহ প্রকাশ্যে মন্দ কথা বলা পছন্দ করেন না; তবে যার ওপর জুলুম করা হয়েছে, সে ব্যতিক্রম।
— সূরা আন-নিসা, ৪:১৪৮
তাই এমন বিনোদন বা বক্তব্য, যার মূল বিষয় অশ্লীলতা, মন্দ কথা, পাপকে আকর্ষণীয় করে তোলা বা মানুষের মধ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া—সেটিকে শুধু “বিনোদন” নাম দিলেই বিষয়টি বৈধ হয়ে যায় না।
তাহলে কুরআনের আলোকে মূল নীতি কী?
নিজেকে কয়েকটি প্রশ্ন করা যায়:
▸ অথবা আমি কী দেখছি?
▸ আমি কী শুনছি?
▸ কেন দেখছি বা শুনছি—প্রয়োজন, উপকার, নাকি শুধু প্রবৃত্তির তাড়না?
▸ এটি আমার অন্তরে কী সৃষ্টি করছে?
▸ এটি কি আমাকে আল্লাহর স্মরণ ও ভালো কাজের দিকে নেয়, নাকি গাফেল করে?
▸ কিয়ামতের দিন এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আমি কী উত্তর দেব?তবে কুরআনের আয়াত দিয়ে এমন একটি সর্বজনীন দাবি করা ঠিক হবে না যে “নিছক বিনোদনের জন্য যেকোনো ভিডিও বা বক্তব্য দেখা-শোনা হারাম।” কুরআন বিষয়বস্তু, উদ্দেশ্য, প্রভাব এবং আল্লাহর সীমারেখার প্রতি সতর্ক করে। কোনো নির্দিষ্ট গান, ভিডিও বা বক্তব্যের হুকুম নির্ধারণ করতে হলে তার বিষয়বস্তু ও সংশ্লিষ্ট আয়াত ভিত্তিক দলিলও বিবেচনা করতে হবে।
এক কথায়:
“ভালো লাগে”—এটাই মুমিনের মাপকাঠি নয়; বরং “আল্লাহ পছন্দ করেন কি না”—সেটিই আসল প্রশ্ন।
... তুমি তাদেরকে দেখবে, তারা রুকুকারী, সিজদাকারী অবস্থায় আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি সন্ধান করছে-৪৮:২৯
