সবচেয়ে বড় জালিম এবং সবচেয়ে বড় পথভ্রষ্ট কে বা কারা? -এদের থেকে বাঁচার উপায়? (আযলাম- أَظْلَمُ⛔আদ্বাল্ল- أَضَلُّ Zalim-Adallu)

■ সবচেয়ে বড় জালিম-কে বা কারা? 

■ সবচেয়ে বড় পথভ্রষ্ট-কে বা কারা? 

■ আশ্রয় চেয়ে দুআ-দরখাস্ত:

✨✨✨✨✨✨

আল্লাহ তায়ালা বেশ কিছু আয়াতে সুনির্দিষ্ট কিছু কাজ এবং মানুষকে ‘সবচেয়ে বড় জালিম’ (আযলাম- أَظْلَمُ) এবং ‘সবচেয়ে বড় পথভ্রষ্ট’ (আদ্বাল্ল- أَضَلُّ) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

নিচে বিষয়ভিত্তিক এবং আয়াতভিত্তিক আলোচনা সবিস্তারে তুলে ধরা হলো:

▓▒░সবচেয়ে বড় জালিম ░▒▓

কুরআনুল কারিমের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ‘সবচেয়ে বড় জালিম’ (আযলাম- أَظْلَمُ) হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু কাজের উল্লেখ করেছেন। নিচে তা সবিস্তারে দেওয়া হলো:

💠 যে আল্লাহর আয়াত বা উপদেশ শুনে মুখ ফিরিয়ে নেয়:

কাউকে যখন আল্লাহর হুকুম বা আয়াত স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, আর সে তাচ্ছিল্যভরে তা উপেক্ষা করে, সে সবচেয়ে বড় জালিম

আয়াত: “আর সেই ব্যক্তির চেয়ে অধিক জালিম কে, যাকে তার রবের আয়াতসমূহ দ্বারা উপদেশ দেওয়া হলে সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তার দুই হাত যা (পাপ) আগে পাঠিয়েছে তা ভুলে যায়?” (সূরা আল-কাহফ ১৮:৫৭)

আয়াত: “আর তার চেয়ে বড় জালিম কে, যাকে তার রবের আয়াতসমূহ দ্বারা উপদেশ দেওয়া হয়, অতঃপর সে তা থেকে বিমুখ হয়? আমি অবশ্যই অপরাধীদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণকারী।” (সূরা আস-সাজদাহ ৩২:২২)

অনুধাবন: সত্য জানার পরেও যে আমল করে না বরং অবজ্ঞা করে এবং নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয় না, সে চরম সীমালঙ্ঘনকারী।

💠 আল্লাহর আয়াত ছাড়া অন্য কিছুকে বিধান বানানোই জুলুম:

আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান (কুরআন) বাদ দিয়ে অন্য কোনো অনাযিলকৃত (হাদিস) কিতাব বা গ্রন্থের অনুসরনে বিচার ফয়সালা বা ‘আইন’ তৈরি করা বা মানাও সত্যকে প্রত্যাখ্যান করার শামিল:

আয়াত: “আর আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, সে অনুযায়ী যারা ফয়সালা করে না, তারাই জালিম।” (সূরা আল-মায়িদাহ ৫:৪৫)

💠 যে সত্যকে অস্বীকার করে (‘সত্য’ (আল-হক) বলতে মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত ওহী বা আল-কুরআনকে বোঝানো হয়েছে)

কুরআনের দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় জুলুম হলো শিরক, আল্লাহর নামে মিথ্যা রটনা করা এবং তাঁর আয়াতকে অস্বীকার করা।

আয়াত: “সে ব্যক্তির চেয়ে অধিক জালিম আর কে, যে আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ দেয় অথবা তার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলে? নিশ্চয়ই জালিমরা সফলকাম হবে না।” (সূরা আল-আনআম ৬:২১)

অনুধাবন: এখানে দুই ধরণের মানুষের কথা বলা হয়েছে— ১. যারা নিজেদের মনগড়া কথাকে আল্লাহর কথা বলে চালিয়ে দেয়। ২. যারা আল্লাহর পাঠানো সুস্পষ্ট সত্য (কুরআন) আসার পরেও তা প্রত্যাখ্যান করে।

💠 সত্য (আল-হক) আসার সাথে সাথেই যে প্রত্যাখ্যান করে:

সত্য নিয়ে চিন্তাভাবনা না করে, নিছক জিদের বশবর্তী হয়ে তাৎক্ষণিক অস্বীকার করা।

আয়াত: “আর তার চেয়ে অধিক জালিম কে, যে আল্লাহর ওপর মিথ্যা রটনা করে অথবা সত্য (আল-হক) তার কাছে আসার পর তাকে অস্বীকার করে? জাহান্নামেই কি কাফিরদের আবাসস্থল নয়?” (সূরা আল-আনকাবুত ২৯:৬৮)

💠 এবং যে আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ দেয়:

কাউকে যখন সত্য দ্বীনের দিকে বা নিজের ভালোর জন্য ডাকা হয়, তখন যে উল্টো আল্লাহর নামে মিথ্যা বলে, সে সবচেয়ে বড় জালিম।

আয়াত: “আর তার চেয়ে অধিক জালিম কে, যাকে ইসলামের (আত্মসমর্পণের) দিকে আহ্বান করা হয়, অথচ সে আল্লাহর ওপর মিথ্যা রটনা করে? আর আল্লাহ জালিম কওমকে হেদায়েত করেন না।” (সূরা আস-সাফ ৬১:৭)

💠 যে আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া সাক্ষ্য বা সত্য গোপন করে:

সত্য জানা সত্ত্বেও দুনিয়াবি স্বার্থে বা জিদের বশবর্তী হয়ে তা গোপন করা।

আয়াত: “তার চেয়ে বড় জালিম আর কে, যে তার কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে যে সাক্ষ্য (সত্য জ্ঞান) আছে তা গোপন করে?” (সূরা আল-বাকারা ২:১৪০)

💠 যে আল্লাহর ঘর বা মসজিদে (সিজদাস্থানে) বাধা দেয়:

ইবাদতের স্থানে বাধা দেওয়া এবং ধর্মীয় স্থান ধ্বংস করার চেষ্টাকারীরা কুরআনের দৃষ্টিতে মহা-জালিম।

“আর তার চেয়ে অধিক জালিম আর কে, যে আল্লাহর মাসজিদসমূহে তার নাম স্মরণ করতে (ইবাদত করতে) বাধা দেয় এবং ওগুলোর ধ্বংস সাধনে চেষ্টা করে?” [সূরা আল-বাকারা ২:১১৪ (96:9-11)]

💠 মৃত্যুর সময় এই জালিমদের অবস্থা:

যারা আয়াত অস্বীকার করে, মৃত্যুর সময় ফেরেশতারা তাদের এই জুলুমের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

“তার চেয়ে অধিক জালিম আর কে, যে আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ দেয় অথবা তার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলে? ...অবশেষে যখন তাদের কাছে আমার পাঠানো ফেরেশতারা জান কবজ করার জন্য আসবে, তখন তারা বলবে, ‘আল্লাহ ছাড়া যাদের তোমরা ডাকতে, তারা কোথায়?’...” (সূরা আল-আরাফ ৭:৩৭)


💠 সবচেয়ে বড় জালিম ও কুরআনের আয়াতের সম্পর্ক:

‘তাফসিরুল কুরআন বিল কুরআন’ অনুযায়ী—এখানে ‘সত্য’ (আল-হক) বলতে মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত ওহী বা আল-কুরআনকে বোঝানো হয়েছে। এই সত্যের সাথেই জালিমদের বিরোধ।

💠 সত্য সহকারে কুরআন নাযিল হওয়া:

কুরআন যে নিজেই সেই পরম সত্য, তার দলিল:

“আর আমি একে (কুরআন) সত্যসহ নাযিল করেছি এবং তা সত্যসহই নাযিল হয়েছে...” (সূরা বনী ইসরাঈল ১৭:১০৫)

💠 ‘সত্য’ (আল-হক) মানেই হলো আল্লাহর কিতাব (কুরআন):

আল্লাহ তায়ালা নিজেই কুরআনে ঘোষণা দিয়েছেন যে, তিনি যা নাযিল করেছেন সেটাই চূড়ান্ত সত্য।

আয়াত: “সত্য (আল-হক) তোমার রবের পক্ষ থেকে আগত। অতএব তুমি সন্দেহ পোষণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।” (সূরা আল-বাকারা ২:১৪৭)

আয়াত: “আর আমি তোমার প্রতি কিতাব (কুরআন) নাযিল করেছি ‘সত্য’ সহকারে, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যয়নকারী...” (সূরা আল-মায়িদাহ ৫:৪৮)

💠 সত্যকে ‘বিকৃত’ করা বা ‘গোপন’ করা বলতে কী বোঝায়?

কুরআনে ‘সত্য’ গোপন করা বা বিকৃত করার বিষয়টি সরাসরি কিতাবের (কুরআনের) নির্দেশের সাথে সম্পর্কিত।

“তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না এবং জেনেশুনে সত্যকে গোপন করো না।” (সূরা আল-বাকারা ২:৪২)

“নিশ্চয় যারা গোপন করে যা আল্লাহ কিতাব হতে নাযিল করেছেন এবং এর বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করে, তারা নিজেদের পেটে আগুন ছাড়া আর কিছু ভরছে না...” (সূরা আল-বাকারা ২:১৭৪)

অনুধাবন: ‘সত্য গোপন করা’ মানে হলো—আল্লাহর কিতাবে কোনো বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ (যেমন—সুদ, পর্দা বা তাওহীদ) থাকার পরেও দুনিয়াবি স্বার্থে তা প্রকাশ না করা।

💠 নিজ হাতে কিতাব লিখে আল্লাহর নামে চালিয়ে দেওয়া (বিকৃতি):

যারা নিজেদের স্বার্থে আল্লাহর বাণীর মতো করে নিজেরা কিছু লিখে বলে ‘এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে’—এটি সত্যকে বিকৃত করার চূড়ান্ত রূপ।

➤  “অতএব ধ্বংস (ওয়াইল) তাদের জন্য, যারা নিজ হাতে কিতাব রচনা করে এবং তুচ্ছ মূল্য প্রাপ্তির জন্য বলে, ‘এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে’। তাদের হাত যা রচনা করেছে, তার জন্য তাদের ধ্বংস এবং তারা যা উপার্জন করছে, তার জন্যও তাদের ধ্বংস।” (সূরা আল-বাকারা ২:৭৯)

💠 জিহ্বা দিয়ে বিকৃত করে সত্যকে ধোঁকা দেওয়া:

সত্য কিতাব বা আয়াত পড়ার সময় এমনভাবে পড়া বা ব্যাখ্যা করা, যাতে শ্রোতা মনে করে এটি আল্লাহর বিধান, অথচ তা নয়।

➤  “আর তাদের মধ্যে একদল রয়েছে, যারা কিতাব পাঠের সময় নিজেদের জিহ্বাকে এমনভাবে বাঁকা করে (বিকৃত করে), যাতে তোমরা মনে কর যে, তা কিতাবেরই অংশ; অথচ তা কিতাবের অংশ নয়... আর তারা জেনেশুনে আল্লাহর ওপর মিথ্যা বলে।” (সূরা আলে ইমরান ৩:৭৮)

💠 বিকৃতি বা প্রত্যাখ্যান:

বিকৃতি বা প্রত্যাখ্যান হলো, কুরআনের আয়াত স্পষ্ট হওয়ার পরেও যারা বলে “এটার অর্থ এমন না, ওমন” অথবা “এই যুগে এই আয়াত চলে না”।

💠 স্পষ্ট প্রমাণ আসার পর তা গোপন করা:

আল্লাহর আয়াত বা সত্য মানুষের হেদায়েতের জন্য নাযিল হয়েছে। যারা তা মানুষের কাছে প্রকাশ না করে লুকিয়ে রাখে।

“আমি যে সব স্পষ্ট নিদর্শন ও হেদায়েত নাযিল করেছি, মানুষের জন্য কিতাবে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার পরও যারা তা গোপন করে, আল্লাহ তাদের লানত (অভিশাপ) দেন...” (সূরা আল-বাকারা ২:১৫৯)

💠 সত্য (কুরআন) আসার পর যে একে মিথ্যা বলে:

সত্য যখন সামনে আসে (কুরআনের আয়াত), তখন যারা অহংকারবশত তা মেনে নেয় না।

“যে আল্লাহর ওপর মিথ্যা রটনা করে এবং সত্য (আস-সিদক) তার কাছে আসার পর তাকে অস্বীকার করে, তার চেয়ে বড় জালিম আর কে? কাফিরদের আবাসস্থল কি জাহান্নামে নয়?” (সূরা আয-যুমার ৩৯:৩২)

অনুধাবন: এখানে ‘আস-সিদক’ বা সত্য বলতে ওহী বা কুরআনকে বোঝানো হয়েছে। সত্য এসে যাওয়ার পর তা অস্বীকার করাই জুলুম।

💠 যে মিথ্যা ওহী বা প্রত্যাদেশের দাবি করে (নবুওয়তের মিথ্যা দাবিদার):

আল্লাহর ওপর মিথ্যা বলার সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ হলো—নিজের মনগড়া কথাকে ‘আল্লাহর ওহী’ বলে দাবি করা।

➤ “আর তার চেয়ে অধিক জালিম কে, যে আল্লাহর ওপর মিথ্যা রটনা করে অথবা বলে, ‘আমার কাছে ওহী (প্রত্যাদেশ) পাঠানো হয়েছে’, অথচ তার কাছে কিছুই পাঠানো হয়নি? এবং যে বলে, ‘আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, আমিও তার মতো নাযিল করব’?” (সূরা আল-আনআম ৬:৯৩)

➤ অনুধাবন: যারা কুরআনকে চ্যালেঞ্জ করে বা নিজেরাই শরীয়ত প্রণেতা সাজে, তাদের স্পর্ধা এখানে তুলে ধরা হয়েছে। এটি সত্যকে (কুরআন) তুচ্ছ করার নামান্তর।

💠 যারা আল্লাহর পথে ‘বক্রতা’ বা দোষ-ত্রুটি খুঁজে বেড়ায়:

যারা আল্লাহর দ্বীন বা কুরআনকে সহজভাবে মেনে না নিয়ে তাতে প্যাঁচ কষে বা ভুল প্রমাণ করতে চায়।

➤ “আর তার চেয়ে অধিক জালিম কে, যে আল্লাহর ওপর মিথ্যা রটনা করে? ...শোন! জালিমদের ওপর আল্লাহর লানত। যারা আল্লাহর পথে বাধা দেয় এবং তাতে বক্রতা (ত্যানা-প্যাঁচানো/কুটিলতা) অন্বেষণ করে; আর তারা আখিরাতকে অস্বীকারকারী।” (সূরা হুদ ১১:১৮-১৯) (18:1)

➤ অনুধাবন: সত্য স্পষ্ট হওয়ার পরেও যারা তর্কের খাতিরে তর্ক করে এবং সরল পথকে বাঁকা করতে চায়, তারা আল্লাহর লানতপ্রাপ্ত জালিম।

💠 আল্লাহর দলিল-প্রমাণ ছাড়া যারা অন্য উপাস্য গ্রহণ করে:

কোনো প্রমাণ ছাড়াই যারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত বা আনুগত্য করে।

➤ “আমাদের এই কওম আল্লাহ ছাড়া অনেক ইলাহ গ্রহণ করেছে। তারা কেন এদের (ইবাদতের) সপক্ষে স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থিত করে না? সুতরাং যে আল্লাহর ওপর মিথ্যা রটনা করে, তার চেয়ে অধিক জালিম আর কে?” (সূরা আল-কাহফ ১৮:১৫)

সত্যকে ‘বিকৃত’ করা বা ‘গোপন’ করা প্রসঙ্গ:

💠 শব্দের অর্থ বা স্থান পরিবর্তন করে বিকৃতি (তাহরিফ):

সত্য গোপন করার একটি কৌশল হলো, আয়াতের শব্দকে তার মূল জায়গা থেকে সরিয়ে ফেলা বা প্রসঙ্গের বাইরে গিয়ে অর্থ করা।

➤ “তারা কালামকে (আল্লাহর বাণীকে) তার যথাস্থান থেকে পরিবর্তন করে দেয় এবং তাদেরকে যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল, তার একাংশ তারা ভুলে গেছে...” (সূরা আল-মায়িদাহ ৫:১৩)

➤ অনুধাবন: আল্লাহর আয়াতের কন্টেক্সট বা প্রেক্ষাপট ইচ্ছা করে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করাও সত্য বিকৃতির শামিল।

💠 সত্য চেনার পরেও তা গোপন করা (সন্তান চেনার মতো করে চেনা)

সত্য এতটাই স্পষ্ট যে, তারা তা সন্তানের মতো চেনে, তবুও অস্বীকার করে।

➤ “আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছি, তারা তাকে (রাসূল বা সত্যকে) সেভাবেই চেনে, যেভাবে তারা নিজ সন্তানদের চেনে। আর নিশ্চয় তাদের একদল জেনেশুনে সত্যকে গোপন করে।” (সূরা আল-বাকারা ২:১৪৬)


▓▒░সবচেয়ে বেশি পথভ্রষ্ট (أَضَلُّ)░▒▓

কুরআনে ‘আদ্বাল্ল’ (أَضَلُّ) শব্দটি ব্যবহার করে আল্লাহ তায়ালা নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে চূড়ান্ত পথভ্রষ্ট হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

💠 যে আল্লাহর হেদায়েত বাদ দিয়ে নিজের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে:

নিজের নফস বা প্রবৃত্তি যা চায়, সেটাকেই যারা ধর্ম বা জীবনবিধান বানিয়ে নেয়।

“আর তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে, যে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো হেদায়েত ছাড়াই নিজের খেয়াল-খুশির (প্রবৃত্তির) অনুসরণ করে? নিশ্চয় আল্লাহ জালিম কওমকে হেদায়েত করেন না।” (সূরা আল-কাসাস ২৮:৫০)

অনুধাবন: যার কাছে আল্লাহর কিতাব এবং নবীর সুন্নাহর দলিল নেই, বরং সে নিজের মনগড়া যুক্তি বা আবেগকে প্রাধান্য দেয়, সে-ই সবচেয়ে বড় বিভ্রান্ত।

সম্পূরক আয়াত: “সেই কওমের খেয়াল-খুশির (প্রবৃত্তির) অনুসরণ করো না, যারা নিজেরা পূর্বে পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে। আর তারা সোজা পথ থেকে অনেক দূরে (আদ্বাল্লু) ছিটকে পড়েছে।” (সূরা আল-মায়িদাহ ৫:৭৭)

💠 যে আল্লাহ ছাড়া এমন সত্তাকে ডাকে, যে কিয়ামত পর্যন্ত সাড়া দেবে না:

মৃত ব্যক্তি, মূর্তি বা এমন কোনো সত্তার কাছে প্রার্থনা করা যে সত্তা নিজেই নিজের কোনো উপকার বা ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে না।

“আর তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে, যে আল্লাহ ছাড়া এমন কাউকে ডাকে, যে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তার ডাকে সাড়া দেবে না? বরং তারা এদের ডাক সম্পর্কে খবরও রাখে না।” (সূরা আল-আহকাফ ৪৬:৫)

অনুধাবন: মাজার পূজা, মূর্তি পূজা বা আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো সৃষ্টির কাছে গায়েবি সাহায্য চাওয়া হলো চূড়ান্ত পথভ্রষ্টতা।

💠 চতুষ্পদ জন্তুর চেয়েও নিকৃষ্ট ও পথভ্রষ্ট:

যারা সত্য শোনার বা বোঝার যোগ্যতা (বিবেক-বুদ্ধি) থাকা সত্ত্বেও তা কাজে লাগায় না।

আয়াত: “তুমি কি মনে কর যে, তাদের অধিকাংশ শোনে অথবা বোঝে? তারা তো চতুষ্পদ জন্তুর মতো; বরং তারা (জন্তুর চেয়েও) অধিক পথভ্রষ্ট (আদ্বাল্লু সাবিলা)।” (সূরা আল-ফুরকান ২৫:৪৪)

অনুধাবন: পশুদের হিতাহিত জ্ঞান নেই, তাই তারা মাজুর। কিন্তু মানুষের জ্ঞান ও কুরআন থাকার পরেও যখন তারা সত্যকে চেনে না, তখন তারা পশুর চেয়েও বেশি পথহারা।

💠 দুনিয়াতে সত্য (নাযিলকৃত ওহী বা আল-কুরআনকে) না দেখার পরিণাম:

যারা দুনিয়াতে সত্য (কুরআনের আলো) থেকে অন্ধ থাকল, পরকালে তাদের অবস্থা হবে ভয়াবহ।

“আর যে ব্যক্তি এই দুনিয়ায় অন্ধ (সত্য দেখা থেকে বিরত), সে আখেরাতেও অন্ধ এবং অধিক পথভ্রষ্ট (আদ্বাল্লু সাবিলা)।” (সূরা বনী ইসরাঈল ১৭:৭২)

অনুধাবন: এখানে অন্ধ বলতে ‘অন্তরের অন্ধত্ব’ বা সত্যকে দেখেও না দেখার ভান করাকে বোঝানো হয়েছে। আল্লাহর আয়াত বা সত্যকে অস্বীকার করাই হলো এই অন্ধত্ব।

💠 পরকালের কথা ভুলে শুধু দুনিয়া চাওয়া (আয়াতসমূহের প্রতি ঈমান না আনা)

যারা আল্লাহর জিকির (কুরআন) বাদ দিয়ে শুধুই দুনিয়াবি জীবন নিয়ে পড়ে থাকে।

আয়াত: “অতএব যে আমার জিকির (কুরআন) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং কেবল দুনিয়ার জীবনই কামনা করে, তুমি তাকে উপেক্ষা কর... নিশ্চয় তোমার রব ভালো জানেন কে তার পথ থেকে বিচ্যুত বা পথভ্রষ্ট (দাল্লা) হয়েছে...” (সূরা আন-নাজম ৫৩:২৯-৩০)

💠 যারা আল্লাহর পথে বাধা দেয় এবং সত্যের বিরোধিতায় বহুদূর চলে গেছে:

শুধুমাত্র নিজেরা পথভ্রষ্ট নয়, বরং যারা অন্যদেরও আল্লাহর পথ (কুরআন) থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।

➤ আয়াত: “নিশ্চয় যারা কুফরি করেছে এবং আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বাধা দিয়েছে, তারা সুদূর পথভ্রষ্টতায় (দলা-লাম বা‘ঈদা) নিপতিত হয়েছে।” (সূরা আন-নিসা ৪:১৬৭)

➤ অনুধাবন: এখানে ‘বা‘ঈদা’ বা ‘বহুদূর’ শব্দটি যুক্ত করে বোঝানো হয়েছে যে, এদের ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই কম।

💠 অন্ধভাবে নেতাদের অনুসরণ করে পথভ্রষ্ট হওয়া:

আল্লাহর কিতাব বাদ দিয়ে যারা সমাজপতি বা নেতাদের অন্ধ আনুগত্য করে।

➤ আয়াত: “তারা (কিয়ামতের দিন) আরও বলবে, ‘হে আমাদের রব! আমরা আমাদের নেতা ও বড়লোকদের আনুগত্য করেছিলাম, ফলে তারা আমাদের পথভ্রষ্ট (আদ্বাল্লু) করেছিল’।” (সূরা আল-আহzab ৩৩:৬৭)

➤ অনুধাবন: সত্য যাচাই না করে বড় ব্যক্তিত্বের অন্ধ ভক্তি মানুষকে সবচেয়ে বড় পথভ্রষ্টতার দিকে নিয়ে যায়।

💠 সত্য বিমুখ হয়ে যারা ধারণা ও অনুমান নির্ভর চলে:

কুরআনের অকাট্য দলিল ছেড়ে যারা ‘মনে হয়’, ‘শোনা যায়’—এমন ধারণার ওপর ধর্ম পালন করে।

➤ আয়াত: “আর যদি তুমি জমিনের অধিকাংশ লোকের কথামতো চল, তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত (পথভ্রষ্ট) করবে। তারা তো কেবল ধারণারই অনুসরণ করে এবং তারা শুধু অনুমানভিত্তিক কথা বলে।” (সূরা আল-আনআম ৬:১১৬)

➤ অনুধাবন: ওহীর জ্ঞান ছাড়া সংখ্যাগরিষ্ঠের দোহাই দিয়ে চলাও এক প্রকার পথভ্রষ্টতা।

💠 আল্লাহর আয়াতকে উপহাস বা খেল-তামাশা মনে করা:

সত্যকে হালকাভাবে নেওয়া বা আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা করে ঠাট্টা করাও এক ধরণের বিকৃতি ও পথভ্রষ্টতা।

আয়াত: “যখন সে আমার আয়াতসমূহের কোনোটি সম্পর্কে অবগত হয়, তখন সে তাকে ঠাট্টারূপে গ্রহণ করে। এদের জন্যই রয়েছে লাঞ্ছনাকর আজাব।” (সূরা আল-জাসিয়া ৪৫:৯)

▓▒░আশ্রয় চেয়ে দুআ-দরখাস্ত:░▒▓

কুরআনুল কারিমের আলোকে ‘সবচেয়ে বড় জালিম’ (আযলাম) এবং ‘সবচেয়ে বড় পথভ্রষ্ট’ (আদ্বাল্ল) হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এবং নিজেকে হেদায়েতের ওপর অটল রাখার জন্য বেশ কিছু শক্তিশালী দুআ রয়েছে:

১. পথভ্রষ্টতা (দালালাহ) থেকে বাঁচার এবং হেদায়েতের ওপর অটল থাকার দুআ

সত্য বা কুরআন পাওয়ার পর যেন অন্তর বাঁকা না হয়ে যায় এবং আমরা যেন পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত না হই, তার জন্য এই দুআটি সর্বশ্রেষ্ঠ।

رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً ۚ إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ
রব্বানা লা-তুযিগ কুলুবানা বা‘দা ইয হাদাইতানা, ওয়াহাব লানা মিল-লাদুনকা রাহমাহ; ইন্নাকা আনতাল ওয়াহ্হাব।

অর্থ: “হে আমাদের রব! আপনি আমাদের হেদায়েত দেওয়ার পর আমাদের অন্তরসমূহকে বক্র (সত্য থেকে বিচ্যুত) করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দান করুন। নিশ্চয় আপনিই মহাদাতা।” — (সূরা আলে ইমরান ৩:৮)

২. জালিমদের সঙ্গী হওয়া থেকে বাঁচার দুআ

দুনিয়া ও আখিরাতে যেন আল্লাহ আমাদের জালিম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত না করেন, তার জন্য এই দুআ।

رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
উচ্চারণ: রব্বানা লা-তাজ‘আলনা মা‘আল ক্বাওমিয যোয়ালিমীন।

অর্থ: “হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে জালিম কওমের অন্তর্ভুক্ত করবেন না (তাদের সঙ্গী বানাবেন না)।”
— (সূরা আল-আরাফ ৭:৪৭)

৩. নিজের নফস বা প্রবৃত্তি যেন আমাদের জালিমে পরিণত না করে

সবচেয়ে বড় জালিমরা নিজেদের ভুলের ওপর অহংকার করে। এর থেকে বাঁচার উপায় হলো নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া। হযরত আদম (আ.) এই দুআ করেছিলেন।

رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
উচ্চারণ: রব্বানা যলামনা আনফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফির লানা ওয়া তারহামনা লানাকুনান্না মিনাল খাসিরীন।

অর্থ: “হে আমাদের রব! আমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছি। আর যদি আপনি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।”
— (সূরা আল-আরাফ ৭:২৩)

৪. পথভ্রষ্টদের পথ এড়িয়ে সিরাতাল মুস্তাকিম চাওয়ার দুআ:

এটি সূরা ফাতিহার অংশ, যা আমরা প্রতি আনুষ্ঠানিক সালাতে পড়ি। এখানে সরাসরি ‘পথভ্রষ্ট’ (দাল্লিন) হওয়া থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে।


اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ - صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ
উচ্চারণ: ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকীম। সিরাতাল্লাযীনা আন‘আমতা আলাইহিম, গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ-দাল্লীন।

অর্থ: “আমাদেরকে সরল সঠিক পথ দেখান। তাদের পথ, যাদের আপনি নিয়ামত দিয়েছেন; তাদের পথ নয়, যারা আপনার গজবপ্রাপ্ত হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট (আদ্বাল্ল) হয়েছে।” — (সূরা আল-ফাতিহা ১:৬-৭)

৫. ফয়সালার ভার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়া এবং জালিমদের থেকে মুক্তির দুআ:

যখন চারপাশে সত্য গোপনকারী ও মিথ্যুকদের দাপট থাকে, তখন এই দুআটি পড়া জরুরি।

رَبَّنَا افْتَحْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ قَوْمِنَا بِالْحَقِّ وَأَنتَ خَيْرُ الْفَاتِحِينَ
উচ্চারণ: রব্বানাফতাহ বাইনানা ওয়া বাইনা ক্বাওমিনা বিল-হাক্কি, ওয়া আনতা খইরুল ফাতিহীন।

অর্থ: “হে আমাদের রব! আমাদের ও আমাদের কওমের মধ্যে ‘সত্য’ সহকারে ফয়সালা করে দিন। আর আপনিই তো শ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী।” — (সূরা আল-আরাফ ৭:৮৯)

৬. সঠিক জ্ঞান ও বিবেকের জন্য দুআ (সত্য চেনার জন্য):

যাতে আমরা সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে পারি এবং অন্ধ অনুসারী না হই।

رَبِّ هَبْ لِي حُكْمًا وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ
উচ্চারণ: রব্বি হাবলি হুকমাও ওয়া আলহিকনি বিস-সালিহীন।

অর্থ: “হে আমার রব! আমাকে প্রজ্ঞা (সত্য-মিথ্যার জ্ঞান) দান করুন এবং আমাকে সৎকর্মপরায়ণদের সাথে শামিল করুন।”— (সূরা আশ-শুআরা ২৬:৮৩)

পরামর্শ:
বিশেষ করে সূরা আলে ইমরানের ৮ নম্বর আয়াতটি (রব্বানা লা-তুযিগ কুলুবানা...) বেশি বেশি পাঠ করবেন। কারণ সত্য পাওয়ার পর অন্তর যেন বেঁকে না যায় বা সত্যকে অস্বীকার করার মতো ঔদ্ধত্য যেন তৈরি না হয়—তার জন্য এটিই কুরআনের সবচেয়ে কার্যকর দুআ।

কুরআনুল কারিমে ‘জালিম’ ও ‘পথভ্রষ্ট’ হওয়া থেকে বাঁচার জন্য এবং সত্যের ওপর অবিচল থাকার জন্য আরও কিছু অত্যন্ত শক্তিশালী ও অর্থবহ দুআ রয়েছে।

নিচে বিষয়ভিত্তিক আরও ৫টি দুআ ও তাদের তাৎপর্য তুলে ধরা হলো:

7. শয়তানের প্ররোচনা (যা পথভ্রষ্টতার মূল কারণ) থেকে বাঁচার দুআ:

‘সবচেয়ে বড় পথভ্রষ্ট’ (আদ্বাল্ল) হওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা রাখে শয়তানের ওসওয়াসা বা কুমন্ত্রণা। এর থেকে বাঁচতে আল্লাহ এই দুআ শিক্ষা দিয়েছেন।

رَّبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ - وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَن يَحْضُرُونِ
উচ্চারণ: রব্বি আ‘উযুবিকা মিন হামাযাতিশ শায়াত্বীন। ওয়া আ‘উযুবিকা রব্বি আইঁ-ইয়াহদুরুন।

অর্থ: “হে আমার রব! আমি শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এবং হে আমার রব! আমি আপনার আশ্রয় চাই যেন তারা (শয়তানরা) আমার কাছে উপস্থিত না হয়।” 
— (সূরা আল-মুমিনুন ২৩:৯৭-৯৮)

8. সঠিক সিদ্ধান্ত ও সত্য পথে পরিচালিত হওয়ার দুআ (আসহাবে কাহফের দুআ):

যখন চারপাশ পথভ্রষ্টতায় ছেয়ে যায়, তখন নিজের ঈমান ও সঠিক সিদ্ধান্ত (রুশদ) ঠিক রাখার জন্য এই দুআটি জাদুর মতো কাজ করে।

رَبَّنَا آتِنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً وَهَيِّئْ لَنَا مِنْ أَمْرِنَا رَشَدًا
উচ্চারণ: রব্বানা আ-তিনা মিল-লাদুনকা রাহমাহ, ওয়া হাইয়্যিই লানা মিন আমরি-না রাশাদা।

অর্থ: “হে আমাদের রব! আপনি নিজের পক্ষ থেকে আমাদের অনুগ্রহ দান করুন এবং আমাদের কাজ-কর্ম সঠিকভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা করে দিন।” — (সূরা আল-কাহফ ১৮:১০)

9. জালিমদের ফেতনা (পরীক্ষা) থেকে বাঁচার দুআ

জালিমদের সংস্পর্শে থাকলে নিজের অজান্তেই তাদের রঙে রঙিন হওয়ার ভয় থাকে। এই দুআটি তা থেকে হেফাজত করে।

رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِّلْقَوْمِ الظَّالِمِينَ - وَنَجِّنَا بِرَحْمَتِكَ مِنَ الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
উচ্চারণ: রব্বানা লা-তাজ‘আলনা ফিতনাতাল-লিল ক্বাওমিয যোয়ালিমীন। ওয়া নাজ্জিনা বিরাহমাতিকা মিনাল ক্বাওমিল কাফিরীন।

অর্থ: “হে আমাদের রব! আপনি আমাদের জালিম কওমের পরীক্ষার পাত্র বানাবেন না। এবং আপনার অনুগ্রহে আমাদের কাফির সম্প্রদায় থেকে রক্ষা করুন।”— (সূরা ইউনুস ১০:৮৫-৮৬)

10. সত্য জ্ঞান বৃদ্ধির দুআ (অজ্ঞতা থেকে বাঁচার জন্য):

মানুষ অনেক সময় না জেনে বা ভুল ব্যাখ্যার কারণে পথভ্রষ্ট হয়। সত্য জ্ঞান বা কুরআনের সঠিক বুঝ পাওয়ার জন্য এই দুআটি অপরিহার্য।

رَّبِّ زِدْنِي عِلْمًا
উচ্চারণ: রব্বি যিদনি ‘ইলমা। অর্থ: “হে আমার রব! আমার জ্ঞান (সঠিক বুঝ) বাড়িয়ে দিন।”
— (সূরা ত্বহা ২০:১১৪)

11. সত্যের ওপর প্রবেশ ও বের হওয়ার দুআ

দ্বিমুখী নীতি বা মুনাফিকি (যা বড় জুলুম) থেকে বাঁচতে এবং জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সত্যবাদী থাকার জন্য এই দুআ।

رَّبِّ أَدْخِلْنِي مُدْخَلَ صِدْقٍ وَأَخْرِجْنِي مُخْرَجَ صِدْقٍ وَاجْعَل لِّي مِن لَّدُنكَ سُلْطَانًا نَّصِيرًا
উচ্চারণ: রব্বি আদখিলনি মুদখালা সিদকিঁও ওয়া আখরিজনি মুখরাজা সিদকিঁও ওয়াজ‘আল-লি মিল-লাদুনকা সুলত্বানান নাসীরা।

অর্থ: “হে আমার রব! আমাকে (যেকোনো কাজে) সত্যের সাথে প্রবেশ করান এবং সত্যের সাথে বের করান। আর আপনার পক্ষ থেকে আমাকে সাহায্যকারী শক্তি দান করুন।” — (সূরা বনী ইসরাঈল ১৭:৮০)

বিশেষ পরামর্শ:

উপরোক্ত দুআগুলোর মধ্যে সূরা আল-কাহফের ১০ নম্বর আয়াতটি (রব্বানা আ-তিনা... আমরি-না রাশাদা) এবং সূরা মুমিনুনের ৯৭-৯৮ নম্বর আয়াতটি (রব্বি আ‘উযুবিকা...) নিয়মিত পাঠ করা উচিত। কারণ এগুলো মানুষকে বিভ্রান্তির সময়েও সঠিক পথে (সিরাতাল মুস্তাকিম) অবিচল থাকতে সাহায্য করে।


Post a Comment (0)
Previous Post Next Post