➤ বিয়ের প্রকৃত উদ্দেশ্য:
➤ আয়াতে বিশ্বাসী একজন মুমিন-মুসলিম কতটি বিয়ে করতে পারে?
➤ বিয়ের যোগ্যতা (শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক):
➤ বিয়ের বয়স নির্ধারণের মানদণ্ড:
➤ বিবাহপূর্ব প্রস্তুতি:
➤ দুআ:
░ ▓▒░বিস্তারিত░▒▓ ░
◈ বিয়ের উদ্দেশ্য: প্রশান্তি, ভালোবাসা ও দয়া (কিন্তু উদ্দেশ্য হাসিল না হলে?)
বিয়ের প্রকৃত উদ্দেশ্য:
◆ সূরা আর-রূম (৩০:২১): "আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্য জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি (সুকুন سكون) পাও এবং তিনি তোমাদের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন ভালোবাসা (মাওয়াদ্দাহ مودة) ও দয়া (রাহমাহ رحمة)। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।"
◆ 2.পরস্পর ‘লিবাস’ বা আবরক হওয়া (The Protective Goal):
যৌনতাকে কুরআন কেবল একটি শারীরিক কাজ হিসেবে দেখেনি, বরং একে একটি পারস্পরিক সুরক্ষার আবরণ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
সূরা আল-বাক্বারাহ (২:১৮৭): "...তারা (স্ত্রীরা) তোমাদের পোশাক (লিবাস) এবং তোমরা তাদের পোশাক।"
➔ বিয়ের উদ্দেশ্য হলো স্বামী-স্ত্রী একে অপরের দোষ ঢেকে রাখা, একে অপরের মর্যাদা বৃদ্ধি করা এবং পাপাচার থেকে একে অপরকে সুরক্ষা দেওয়া।
◆ সূরা আন-নিসা (৪:২৪): "...তোমরা তাদেরকে তোমাদের অর্থের বিনিময়ে বিয়ে করতে চাও, বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে (محصنين - মুহসিনীন), ব্যভিচারের উদ্দেশ্যে নয়..."
‘মুহসান’ শব্দটি এসেছে ‘হিসন’ (Fortress) বা দুর্গ থেকে। বিয়ের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো নিজের চারিত্রিক পবিত্রতাকে একটি দুর্গের মধ্যে সুরক্ষিত করা। কেবল কামভাব চরিতার্থ করা এর উদ্দেশ্য নয়, বরং একটি সুশৃঙ্খল নৈতিক জীবন যাপন করা।
◈ ৪. ‘হারছ’ বা পরবর্তী প্রজন্মের আবাদ (The Generational Goal):
বিয়ের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো একটি পবিত্র ও নেককার বংশধর রেখে যাওয়া।
◆ সূরা আল-বাক্বারাহ (২:২২৩): "তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র (حرث - হারছ)..."
শস্যক্ষেত্র যেমন কেবল আনন্দের জন্য নয়, বরং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ফসল উৎপাদনের জন্য, বিবাহিত জীবনও তেমনি কেবল উপভোগের জন্য নয়; এটি একটি পবিত্র প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্র। সালামুন আলা যাকারিয়া এবং সালামুন আলা ইব্রাহিম উভয়েই বিয়ের এই উচ্চতর উদ্দেশ্য অর্থাৎ ‘নেককার সন্তান’ (যুররিয়্যাতান ত্বাইয়্যিবাহ)-এর জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন।
◈ ভালোবাসা ও দয়ার অনুশীলন (The Emotional Goal):
আবেগ বা ইনষ্টিঙ্কট মানুষকে কেবল আকর্ষণ করে, কিন্তু ‘মাওয়াদ্দাহ’ (ভালোবাসা) ও ‘রাহমাহ’ (দয়া) সম্পর্ককে গভীরতা দেয়।
◆ সূরা আর-রূম (৩০:২১): "...এবং তিনি তোমাদের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন ভালোবাসা (مودة) ও দয়া (رحمة)।"
যৌবন ও সৌন্দর্য চলে যাওয়ার পর যখন শারীরিক আবেগ স্তিমিত হয়ে আসে, তখন আল্লাহর দেওয়া এই ‘রাহমাহ’ বা দয়াই স্বামী-স্ত্রীকে আমৃত্যু আবদ্ধ রাখে। একে অপরের প্রতি এই সহমর্মিতা অর্জনই বিয়ের অন্যতম বড় সার্থকতা।
══════ • ❖ • ══════
◈ ’উকদাতুন নিকাহ’ (বিয়ের গিঁট বা বন্ধন): কেন এটি সহজ নয়?
উল্লেখিত ‘উকদাহ’ শব্দটি কুরআনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি কেবল একটি চুক্তি নয়, এটি একটি ‘বন্ধন’ যা ছিন্ন করা অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার বিষয়।
◆ সূরা আল-বাক্বারাহ (২:২৩৫): "...আর বিয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (عُقْدَةُ النِّكَاحِ - উকদাতুন নিকাহ) গ্রহণ করো না যতক্ষণ না নির্ধারিত সময় পূর্ণ হয়..."
◆ সূরা আল-বাক্বারাহ (২:২৩৭): "...অথবা যার হাতে বিয়ের বন্ধন (عُقْدَةُ النِّكَاحِ) রয়েছে সে যদি মাফ করে দেয়..."
কুরআনের পরিভাষায় একে ‘উকদাহ’ বা গিঁট বলা হয়েছে। একজন মানুষ যখন এই গিঁট বা বন্ধনে আবদ্ধ হয়, তখন সে কেবল এক ব্যক্তিকে নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া একটি বিধান ও আমানতকে গ্রহণ করে। এই ‘উকদাহ’ বা বন্ধন সম্পর্কে কিয়ামতের দিন জিজ্ঞাসা করা হবে, কারণ এটি একটি সুদৃঢ় চুক্তি।
◈ বিয়ের সংখ্যা:
ইনসাফের বাস্তবতা: মানুষের সীমাবদ্ধতা: কুরআনের অন্য আয়াতে আল্লাহ মানুষের এই ইনসাফ করার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যা একাধিক বিয়ের বিষয়টিকে কতটা সংবেদনশীল তা বুঝিয়ে দেয়।
◆
এখানে তাদাব্বুর (Understanding -এ আনার বিষয়):
◈ ’উকদাতুন নিকাহ’ ও ‘মিছাক্বান গালীযা’: আল্লাহর দেয়া আমানত:
◈ একটি বন্ধনও সহজ নয়: আচরণের ব্যাত্যয় ও কঠোর কাফফারা:
◈ বিবাহপূর্ব প্রস্তুতি: কুরআনিক বিধান জানা অপরিহার্য:
═══════ • ❖ • ═══════
আর্থিক সামর্থ্যহীনতা ও বিয়ে:
◈ পুরুষের দায়িত্ব ও আর্থিক সক্ষমতা (ক্বাওয়াম):
◈ বিয়ে কি দারিদ্র্য দূর করে? (আল্লাহর প্রতিশ্রুতি ও শর্ত):
◈ বিকল্প ব্যবস্থা ও নমনীয়তা:
◈ কেন সামর্থ্য ছাড়া বিয়ে ‘অতো সহজ বিষয় নয়’?
══════ • ❖ • ══════
বিয়ের জন্য উপযুক্ত শারীরিক-মানসিক-বয়সের যোগ্যতা:
◈ বিয়ের যোগ্যতার মূল ভিত্তি: ‘আল-ক্বাউয়ীয়ু’ ও ‘আল-আমীনু’:
❖ ২. মানসিক ও চারিত্রিক যোগ্যতা (আল-আমীনু):
বিশ্বস্ততা ও মানসিক দৃঢ়তা। বিবাহের মতো ‘মিছাক্বান গালীযা’ বা সুদৃঢ় অঙ্গীকার পালনের জন্য আমানতদারিতা অপরিহার্য। যার চারিত্রিক শুদ্ধতা বা মানসিক স্থিরতা নেই, সে বিয়ের ‘উকদাহ’ বা গিঁট রক্ষা করতে পারে না।
◈ মানসিক সংহতি ও শ্রমের অঙ্গীকার (সালামুন আলা মুছা-এর শিক্ষা)
◈ বয়সের মাপকাঠি: সক্ষমতা ও দায়িত্ব:
◈ বিবাহ অতো সহজ বিষয় কেন নয়?
🔗 বিয়ের এসকল বিষয় কুরআনি ইতিহাস/মেছাল থেকে নেব কেন? দ্র: আয়াত ১২:১১১
দুআ: আয়াত (২৫:৭৪):
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
রব্বানা হাবলানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যা-তিনা ক্বুররতা আ’ইয়ুনিঁও ওয়াজ’আলনা লিল মুত্তাক্বীনা ইমা-মা।
হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের জীবনসঙ্গিনী ও সন্তানদের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য চোখের শীতলতা দান করো এবং আমাদের মুত্তাকীদের জন্য আদর্শ (নেতা) করো -সূরা আল-ফুরক্বান, ২৫:৭
