দাঁড়ি রাখা বা না রাখা কিংবা কতটুটু পরিমান রাখতে হবে এমন কোন বিধান বা নিয়মনীতি কি আল-কুরআনে উল্লেখিত আছে? (beard)

আমরা কিতাবের মধ্যে কোনো কিছু বাদ রাখি নাই-আয়াত ৬:৩৮

এবং আল-কুরআন একটি 'তিল্ইয়ানা লিকুল্লি শাই' বা প্রত্যেক বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যা (সূরা আন-নাহল ১৬:৮৯)। তবে এই 'ব্যাখ্যা' বা 'বিধান' প্রদানের ক্ষেত্রে কুরআন কখনো নির্দিষ্ট গাণিতিক বা পরিমাপগত নির্দেশ দেয়, আবার কখনো মূলনীতি (Principle) প্রদান করে। দাঁড়ির দৈর্ঘ্য বা সুনির্দিষ্ট সীমারেখা নিয়ে কুরআনের অবস্থান নিম্নরূপ:

দাঁড়ি সুনির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের অনুপস্থিতি:

আল-কুরআনে 'লিহ্ইয়াহ' (দাঁড়ি) শব্দটি একবার ব্যবহার করা হলেও (সূরা ত্বহা ২০:৯৪), সেখানে দাঁড়ি কতটুকু লম্বা হতে হবে, এক মুষ্টি হতে হবে কি না, বা ছাঁটতে হবে কি না—এ বিষয়ে কোনো পরিমাণগত নির্দেশনা পাওয়া যায়না।

বিশ্লেষণ: কুরআনে ওজু, সালাত বা হজ্জের ক্ষেত্রে যেমন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সীমানা বা সময়ের সুনির্দিষ্ট উল্লেখ আছে (যেমন: ওজুতে কনুই পর্যন্ত ধোয়া বা হজ্জের নির্দিষ্ট মাস), দাঁড়ির ক্ষেত্রে এমন কোনো 'হুদুদ' বা সীমা নির্ধারিত হয়নি। ভাষাতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে, যখন কোনো বিষয়ে কুরআন মৌন থাকে, তখন তা 'মাবাহ' বা মানুষের রুচি ও স্থানীয় 'মারুফ' (ন্যায়সঙ্গত প্রথা)-এর ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে গণ্য হয়।

সূরা ত্বহা (২০:৯৪) এর অভ্যন্তরীণ সাক্ষ্য ও  দাঁড়ির দৈর্ঘ্য সম্পর্কিত ইঙ্গিত:

আয়াতে বর্ণিত সালামুন আলা  হারুন-এর উক্তি: "আমার দাঁড়ি ও মাথা ধরবেন না", এখান থেকে দুটি ভাষাতাত্ত্বিক বিষয় অনুধাবন করা যায়:

দাঁড়ির অস্তিত্ব: সালামুন আলা হারুন-এর দাঁড়ি দৃশ্যমান এবং ধরার মতো অবস্থায় ছিল। অর্থাৎ তা একেবারে কামানো (Shaved) ছিল না।

দৈর্ঘ্য: 'ধরা' বা 'মুঠো করা'র (Grab) জন্য ন্যূনতম যে দৈর্ঘ্য প্রয়োজন, সালামুন আলা হারুন-এর দাঁড়ি অন্তত সেই পরিমাণ ছিল। তবে এটি একটি ঘটনার বিবরণ (narrative), যা থেকে একটি শারীরিক অবস্থার প্রমাণ পাওয়া যায়, কিন্তু তা উম্মাহর জন্য কোনো 'লিগ্যাল লিমিট' বা আইনি সীমা হিসেবে জারি করা হয়নি।

'ফিতরাত' ও সৃষ্টির ভারসাম্য:

কুরআন জোর দেয় 'আহসানি তাকউয়িম' বা সুন্দরতম অবয়বের ওপর (৯৫:৪)। দাঁড়ি রাখা যদি ফিতরাত বা প্রকৃতির অংশ হয়, তবে তার 'স্বাভাবিক বৃদ্ধি'ই হলো কুরআনিক মূলনীতি।

যৌক্তিক বিশ্লেষণ: আল কুরআন 'পরিবর্তন' (Taghyir)- কে শয়তানের কাজ বলেছে (৪:১১৯)। যদি কেউ দাঁড়িকে পুরোপুরি বিলুপ্ত করে ফেলে, তবে তা ফিতরাত পরিবর্তনের সংজ্ঞায় পড়তে পারে। কিন্তু দাঁড়ি ছাঁটা বা পরিপাটি করার ক্ষেত্রে কুরআনে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। বরং কুরআন 'জীনাত' বা সৌন্দর্য গ্রহণের উৎসাহ দেয় (সূরা আল-আরাফ ৭:৩১)। যদি দাঁড়ি রাখা বা ছোট করা সৌন্দর্যের (decoration) অংশ হয়, তবে তা কুরআনের 'জীনাত' নীতির অন্তর্ভুক্ত।

হজ্জের বিধানের সাথে তুলনামূলক বিশ্লেষণ:

কুরআনে চুলের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ বিধান পাওয়া যায়:

"তোমরা অবশ্যই মসজিদে হারামে প্রবেশ করবে... তোমাদের কেউ কেউ মাথা মুণ্ডন করবে এবং কেউ কেউ চুল ছোট করবে (Muqassirin)।" (সূরা আল-ফাতহ ৪৮:২৭)

পর্যবেক্ষণ: এখানে আল্লাহ চুলের ক্ষেত্রে 'মুণ্ডন' (কামানো) এবং 'তাকসির' (ছোট করা)—উভয়টিকেই বৈধতা দিয়েছেন। লক্ষণীয় যে, চুলের ক্ষেত্রে এই স্বাধীনতা থাকলেও দাঁড়ির ক্ষেত্রে কুরআন 'মুণ্ডন' বা 'ছোট করা'র কোনো পরিভাষা ব্যবহার করেনি। এর অর্থ দাঁড়ায়, দাঁড়ি কাটা বা রাখা নিয়ে কোনো ধর্মীয় 'লিগ্যাল কোড' বা আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করা কুরআনের মূল উদ্দেশ্য নয়, বরং এটি মানুষের স্বাভাবিক শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

আরও একটু অনুধাবন: 

দাঁড়ি রাখা ও এর পরিমাপ: ওহীর নীরবতা এবং 'হারাম-হালাল' মানদণ্ডের তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ:

আল-কুরআনের আইনতাত্ত্বিক কাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যে বিষয়গুলো মানুষের পরকালীন মুক্তি বা ইহকালীন শৃঙ্খলার জন্য 'অনিবার্য' (Obligatory), আল্লাহ তা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে 'হালাল' বা 'হারাম' শব্দের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। দাঁড়ি রাখা বা এর দৈর্ঘ্যের বিষয়ে এমন কোনো কঠোর শব্দের অনুপস্থিতি একটি গভীর বার্তার ইঙ্গিত দেয়।

আল-কুরআন একটি 'মুফাসসাল' বা বিস্তারিত কিতাব হওয়া সত্ত্বেও দাঁড়ি রাখার মতো একটি দৃশ্যমান বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট 'রুলস' বা 'সীমারেখা' কেন দেয়নি, তার ওপর একটি গভীর বিশ্লেষণ নিচে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছি, বিঈযনিল্লাহ!

সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার অনুপস্থিতি এবং 'আসলুল ইবাহাত' (মৌলিক বৈধতা):

কুরআনিক আইনতত্ত্বের একটি মূলনীতি হলো—যে বিষয়ে আল্লাহ কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা (Haram) আরোপ করেননি, তা মূলত মানুষের জন্য একটি সুযোগ বা 'মাবাহ' (বৈধ) বিষয়।

আল-কুরআনে শুকরের মাংস, ,এতিমের সম্পদ, রিবা (সুদ) বা ফাহিশা-ব্যভিচারের মতো বিষয়গুলোকে সরাসরি 'হারাম' বা 'লা-তাকরাবু' (নিকটবর্তী হয়ো না) বলে বর্জন করতে বলা হয়েছে। কিন্তু দাঁড়ি মুণ্ডন করা বা ছোট করাকে আল্লাহ কোথাও 'হারাম' বা 'কবিরা গুনাহ' হিসেবে ঘোষণা করেননি।

সিদ্ধান্ত: যেহেতু এটি সরাসরি 'হারাম' বা 'নাজায়েয' এর তালিকায় নেই, তাই এটি আইনগত বাধ্যবাধকতার চেয়ে বরং ব্যক্তিগত রুচি, নবিদের অনুসরণ এবং 'ফিতরাত' বা প্রকৃতির সৌন্দর্যের ওপর বেশি নির্ভরশীল।

ওহীর নীরবতা: একটি ঐশ্বরিক অবকাশ:

কুরআনের ভাষাশৈলী ও বার্তার যৌক্তিক ক্রমবিকাশ (Evolution of the Message) পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, আল্লাহ কেবল সেই বিষয়গুলোতেই কঠোর নিয়ম দেন যা মানুষের মৌলিক চরিত্রের সাথে সরাসরি যুক্ত।

মূলনীতি: কুরআন বলে, "তোমরা এমন বিষয়ে প্রশ্ন করো না যা তোমাদের সামনে প্রকাশ করা হলে তোমাদের কষ্ট হবে..." (সূরা আল-মায়িদাহ ৫:১০১)।

দাঁড়ি রাখা বা না রাখার বিষয়টি যেহেতু মানুষের জৈবিক পরিবর্তনের সাথে সম্পৃক্ত এবং ভৌগোলিক বা ব্যক্তিগত কারণে এর ঘনত্ব ও দৈর্ঘ্য ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে, তাই হয়তো আল্লাহ এর কোনো 'গাণিতিক সীমা' দেননি। এই 'নীরবতা' মূলত মুমিনদের জন্য একটি প্রশস্ততা (Flexibility) বা অবকাশ।

বাহ্যিক অবয়ব বনাম অভ্যন্তরীণ তাকওয়া (Character vs. Appearance):

আল-কুরআন সর্বদা বাহ্যিক 'আকৃতি' (Shape) এর চেয়ে মানুষের 'প্রকৃতি' বা Nature ও 'তাকওয়া'র (Piety) ওপর বেশি গুরুত্বারোপ করেছে।

লিবাসুত তাকওয়া' বা তাকওয়ার পোশাক: 

সূরা আল-আরাফের ৭:২৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ 'লিবাসুত তাকওয়া' বা তাকওয়ার পোশাককে সর্বোত্তম বলেছেন। এখানে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, একজন মুমিনের প্রধান পরিচয় তার শারীরিক অঙ্গের দৈর্ঘ্যে নয়, বরং তার চারিত্রিক বিশুদ্ধতায়।

যৌক্তিক ক্রম: যদি দাঁড়ি রাখা বা এর দৈর্ঘ্য একটি বাধ্যতামূলক ইবাদত হতো, তবে হজ্জ বা সালাতের মতো এর বর্ণনাও কুরআনের আয়াত দ্বারা সংরক্ষিত হতো। যেহেতু এর কোনো আইনি সংজ্ঞা (legal definition) কুরআনে নেই, সেহেতু এটি 'হারাম-হালাল' এর গণ্ডির চেয়ে 'উত্তম বা অনুত্তম' এর গণ্ডিতে বেশি প্রাসঙ্গিক।

'মারুফ' এবং সামাজিক নান্দনিকতা:

কুরআন সমাজকে 'মারুফ' বা স্বীকৃত ভালো রীতি অনুসরণের নির্দেশ দেয়।

প্রাচীন আরবে বা নবিগণের ঐতিহ্যে দাঁড়ি ছিল সম্মানের প্রতীক। সালামুন আলা হারুন-এর বর্ণনায় (২০:৯৪) আমরা সেই ঐতিহ্যের ছোঁয়া পাই। কিন্তু কুরআন একে একটি কঠোর 'ইউনিফর্ম' বা ধর্মীয় পোশাক হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেনি।

সারসংক্ষেপ

ওহীর অভ্যন্তরীণ সাক্ষ্য থেকে এটি স্পষ্ট যে:

হারাম-হালাল নয়: দাঁড়ি রাখা বা কাটার বিষয়টি যদি ঈমান বা আমলের কোনো মৌলিক স্তম্ভ হতো, তবে কুরআন তা অবশ্যই স্পষ্ট করত।

ফিতরাত ও জীনাত: এটিকে আল্লাহর সৃষ্টির (ফিতরাত) একটি নিদর্শন এবং পুরুষের সৌন্দর্য (জীনাত) হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

পরিমাণ ও সীমা: এর কোনো দৈর্ঘ্য বা পরিমাণ নির্ধারণ না করা প্রমাণ করে যে, এটি স্থান-কাল-পাত্রভেদে এবং ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে পরিবর্তনের অবকাশ রাখে।

সুনির্দিষ্ট পরিমাণ: দাঁড়ি এক মুষ্টি হতে হবে, বা অর্ধেক হতে হবে—এমন কোনো গাণিতিক বা জ্যামিতিক বিধান কুরআনে নেই।

বিধানের ধরণ: দাঁড়ি নিয়ে কোনো সরাসরি আদেশ (command) বা নিষেধ (prohibition) না থাকায় এটি 'আদাব' বা নবিগণের অনুসৃত সুন্দর ঐতিহ্যের পর্যায়ভুক্ত, যা বাধ্যতামূলক আইনি বিধানের (Mandatory Law) চেয়ে বরং মানুষের আধ্যাত্মিক ও প্রকৃতিগত পছন্দের বিষয়।

পরিশেষে, দাঁড়ি রাখার বিষয়টিকে কুরআন 'ফিতরাত' বা প্রাকৃতিক সুন্দরের অংশ হিসেবে দেখেছে। যেহেতু এটি কোনো অপরাধ বা নৈতিক স্খলনের বিষয় নয়, তাই কুরআন একে 'হারাম-হালাল' এর আইনি বিতর্কে না জড়িয়ে মানুষের প্রজ্ঞা ও নবিদের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উন্মুক্ত রেখেছে।

অতএব, আল-কুরআনের আয়াতসমূহ অনুযায়ী—দাঁড়ি রাখা নবিগণের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য অনুধাবন হলেও এর দৈর্ঘ্য বা কাটার পদ্ধতি নিয়ে কোনো কঠোর আইনি বাধ্যবাধকতা কুরআন দেয়নি। এটি তাকওয়া এবং 'মারুফ' বা সুন্দর প্রথার ওপর নির্ভরশীল।

░ ▓▒░এইমর্মে প্রশ্ন░▒▓ ░

যেহেতু-
➢ আল কুরআন মাজীদ: পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত কিতাব-দ্র: আয়াত ৬:১১৪, ১৬:৮৯।
➢ একমাত্র  নাযিলকৃত অহীর কিতাব আল-কুরআনকেই অনুসরণ করতে বলা হয়েছে পক্ষান্তরে অনাযিলকৃত উৎসের বর্জন করতে বলা হয়েছে - দ্র: আয়াত ৭:৩, ৫:৪৪, ৫:৪৫ ও ৫:৪৭।
➢ বিধান বা 'হুকুম' প্রদানে একমাত্র আল্লাহর এককত্ব  (Shirk in Legislation) (নবী-রাসুলগণ বিধানদাতা নন এবং নাযিলকৃত অহীর সাথে কোনো কিছুই যুক্ত করতে পারবেন না) দ্র: আয়াত ১৮:২৬, ৩৯:৬৫, ৬৯:৪৪, ৬:৮৮।
➢ একমাত্র হক (নাযিলকৃত কালাম বা অহী) অন্যসব 'আহওয়া' এবং বাতিল  ঘোসণা  (ঞৎঁঃয াং. উবংরৎবং) দ্র: আয়াত ৫:৪৮, ১০:৩৬, ২৫:১, ১৭:৮১, ২:১৮৫, ৪৭:২-৩।

সেহেতু এর বাইরে কি যাওয়ার কোন সুযোগ আল্লাহ রেখেছেন? তাইতো আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুল প্রশ্ন রেখেছেন-
 আল্লাহর সেই আয়াতসমূহ, যা আমরা তোমার উদ্দেশে সত্যতার সাথে পাঠ করি। অতএব, আল্লাহর ও তাঁর আয়াতসমুহের পরে তারা কোন হাদিসে বিশ্বাস করবে?-আয়াত ৪৫:৬

আল্লাহ প্রশ্নের ভঙ্গিতে বলেছেন—মানুষের জন্য কি এটাই যথেষ্ট নয় যে তাদের কাছে আল-কুরআন নাযিল করা হয়েছে, যা তাদের সামনে পাঠ করা হয়? এতে ঈমানদারদের জন্য রহমত ও উপদেশ রয়েছে।

■ “তাদের জন্য কি এটা যথেষ্ট নয় যে, আমি তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি, যা তাদের কাছে পাঠ করা হয়? নিশ্চয়ই এতে রহমত ও উপদেশ রয়েছে সেই সব লোকদের জন্য যারা ঈমান আনে”-আয়াত ২৯:৫১
🔗দেহ পরিস্কার-কাঁটছাট বিষয়ে আরও একটু জেনে নিন এখানে ক্লিক করে:

নখ, লোম ও দেহের ময়লা পরিষ্কার: শারীরিক পরিচ্ছন্নতা -আল-কোরআন কী বলে?

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post