কুরআনের আলোকে
১. আল্লাহর হক বা নাযিলকৃত বিধানের ওপর জুলুম (সবচেয়ে বড় জুলুম): [দ্র: আয়াত- ৩২:২২, ১৮:৫৭]
২. অন্যের ওপর বা সৃষ্টির ওপর জুলুম (বান্দার হক নষ্ট করা) [দ্র: আয়াত- ৪২:৪২]
৩. নিজের নফসের (সত্তার) ওপর জুলুম [দ্র: আয়াত- ৭:২৩]
৪. বিচারিক বা শাসনতান্ত্রিক জুলুম (Judicial Injustice): [দ্র: আয়াত- ৫:৪৫]
৫. অর্থনৈতিক জুলুম (Economic Injustice): [দ্র: আয়াত- ৪:১০]
৬. সামাজিক ও পারিবারিক জুলুম (Social & Family Oppression): [দ্র: আয়াত- ২:২২৯]
৭. ক্ষমতার অহংকারে জুলুম (Tyranny of Power) [দ্র: আয়াত- ২৮:৪]
ক্ষমা চাওয়া ও আশ্রয় প্রার্থনা:
১. আল্লাহর হক বা নাযিলকৃত বিধানের ওপর জুলুম (সবচেয়ে বড় জুলুম):
কুরআনের প্রমাণ:
এবং তারা বিদ্রুপ হিসাবে গ্রহণ করেছে আমার আয়াতসমূহকে এবং সেগুলোকে, যা তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে। আর কে তার চেয়ে বড় জালিম, যাকে তার রবের আয়াতসমূহ দিয়ে উপদেশ দেয়া হয়, এরপরও সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং যা তার দুহাত আগে পাঠিয়েছে তা ভুলে গিয়েছে। তা অনুধাবন করার ক্ষেত্রে নিশ্চয় আমরা তাদের অন্তরসমূহের ওপর আবরণ তৈরি করে দিয়েছি এবং তাদের কর্ণসমূহের মধ্যে বধিরতা। আর তুমি যদি তাদেরকে হিদায়েতের দিকে আহ্বান করো তাহলে তখন তারা কখনও কোনোদিন হিদায়েতপ্রাপ্ত হবেনা-আয়াত-১৮:৫৬-৫৭
সালামুন আলা লোকমান তাঁর সন্তানকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছিলেন,
২. অন্যের ওপর বা সৃষ্টির ওপর জুলুম (বান্দার হক নষ্ট করা):
৩. নিজের নফসের (সত্তার) ওপর জুলুম:
জুলুম বা বাড়াবাড়ি
▓▒░আশ্রয় প্রার্থনা░▒▓
নিজকে নিজ জুলম বা অন্ধকার (জুলুমাত) থেকে বের হয়ে আলোর (নূর) দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য রবের কাছে ধর্না দেয়া-আবেদন-দরখাস্ত পেশ- (দ্র: ২:২৫৭): এবং জালেমের জুলুম থেকে সুরক্ষায় আশ্রয় প্রার্থনা:
নিম্নে আল কুরআন মাজীদে বর্ণিত এমন কিছু সুনির্দিষ্ট দুআ ও তাসবিহ, আশ্রয় প্রার্থনার ফরমেটসহ দরখাস্তের আদর্শ নমুনা পেশ করেছেন সেসব নবী-রাসূলগণ এবং মুমিনগণ জালেমের হাত থেকে মুক্তির জন্য ব্যবহার করেছেন:
নিজ জুলুমের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা: (Dua No. 1-4)
1. রব্বানা-জোয়ালাম্না- আন্ফুসানা- অইল্লাম্ তার্গ্ফিলানা-অর্তাহাম্না-লানাকূনান্না মিনাল্ খা-সিরীন্। ইন্নাহূ হুঅত তাওঅ-বুর রাহীম্।
অর্থ: হে আমাদের রব! আমরা আমাদের নিজেদের উপর জুলুম করেছি। আর যদি না আপনি আমাদের জন্য ক্ষমা করেন এবং আমাদের অনুগ্রহ করেন, নিশ্চয়ই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব-আল কুরআন ৭:২৩
إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
1.1
ইন্নাহূ হুঅত তাওঅ-বুর রাহীম্। অর্থ: নিশ্চয়ই তিনি, তিনিই তওবা কবুলকারী, দয়ালু- আল কুরআন ২:৩৭
رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِيۚ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
2. রব্বি ইন্নি যালামতু নাফসি ফাগফরি ল;ি ইন্নাহু হুয়াল গাফুরুর রাহীম
অর্থ: হে আমার রব! নিশ্চয়ই আমি আমার নিজের প্রতি জুলুম করেছি। অতএব, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, নিশ্চয়ই তিনি, তিনিই ক্ষমাশীল, দয়ালু- আল কুরআন ২৮:১৬
رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي وَأَسْلَمْتُ مَعَ سُلَيْمَانَ
لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
3. রব্বি ইন্নী জ্বোয়ালাম্তু নাফ্সী অআস্লাম্তু মা‘আ
সুলাইমা-না লিল্লা-হি রব্বিল্ ‘আ-লামীন্।
অর্থ: হে আমার রব! নিশ্চয়ই আমি আমার নিজের প্রতি আমি জুলুম করেছি আর আমি সুলাইমানের সাথে জগতসমূহের রব আল্লাহর কাছে আত্ত¥সমর্পণ করলাম-আল কুরআন ২৭:৪৪
4.বিপত্তি ও অন্ধকার থেকে মুক্তির জন্য:
لَّا إِلَٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ
الظَّالِمِينَ
লা-ইলা-হা ইল্লা- আংতা সুবহা-নাকা ইন্নী কুংতু মিনাজ-জ্বলিমীন।
অর্থ: আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আপনি পবিত্র মহান। নিশ্চয়ই আমি ছিলাম জালেমদের (সীম লঙ্ঘনকারীদের) অন্তর্ভুক্ত। (২১:৮৭)
وَمَا أُبَرِّئُ نَفْسِيۚ إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ
إِلَّا مَا رَحِمَ رَبِّي ۚ إِنَّ رَبِّي غَفُورٌ رَّحِيمٌ
4. অমা- উবার্রিয়ু নাফ্সী ইন্নান্ নাফ্সা লাআম্মা-রতুম্ বিস্সূ-য়ি ইল্লা-মা-রহিমা রব্বী; ইন্না রব্বী গফূর্রু রহীম্-
অর্থ: আর আমি আমার নিজেকে নির্দোষ মনে করি না। নিশ্চয়ই মন্দের বিষয়ে মন অবশ্যই প্ররোচিত করে, আমার রব যতটুকু দয়া করেন তা ব্যতিত। নিশ্চয়ই আমার রব ক্ষমাশীল, দয়ালু- আল কুরআন ১২:৫৩
✧ ✧ ✧
নূর ও হেদায়েত চাওয়ার দোয়া (Dua no. 5-6):
[যারা
ঈমান আনে আল্লাহ তাদের অভিভাবক। তিনি তাদেরকে অন্ধকারসমূহ (জুলুমাত) থেকে আলোর দিকে
(নূরের দিকে) বের করে আনেন-২:২৫৭ (৩৩:৪৩)]
চাইতে-
رَبَّنَا أَتْمِمْ لَنَا نُورَنَا وَاغْفِرْ لَنَا ۖ إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ
شَيْءٍ قَدِيرٌ
5. উচ্চারণ: রব্বানা আতিম্ম লানা নূরানা ওয়াগফির লানা; ইন্নাকা আলা কুল্লি শাইয়্যিন ক্বাদী-র।
অর্থ: হে আমাদের রব! আপনি আমাদের জন্য আমাদের নূরকে পূর্ণ করুন। আর আমাদের ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আল-কুরআন: আত তাহরীম, আয়াত ৬৬:৮
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن
لَّدُنكَ رَحْمَةً ۚ إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ
6. রব্বানা-লা-তুযিগ্ কুলূবানা- বা’দা
ইয্ হাদাইতানা-অহাবলানা-মিল্ লাদুন্কা রহ্মাতান্, ইন্নাকা আন্তাল্ অহ্হা-ব্।
অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদেরকে হিদায়েত দানের পরে আমাদের অন্তরসমূহকে বক্র করবেন না, আর আমাদেরকে দান করুন আপনার পক্ষ থেকে দয়া, নিশ্চয়ই আপনি, আপনিই মহান দাতা-আল কুরআন ৩:৮
অন্যের জুলুম থেকে নিজেদেরকে বাঁচানোর জন্য আশ্রয় প্রার্থনা: (DUA no. 7-21)
7. সালামুন আলা মূসা-এর পলায়নকালীন দুআ (জালেমদের থেকে মুক্তির জন্য):
رَبِّ نَجِّنِي مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
রব্বি নাজ্জিনী মিনাল ক্বাওমিজ-জ্বলিমীন।
অর্থ: হে আমার রব, আমাকে জালেম সম্প্রদায়ের হাত থেকে রক্ষা করুন -28:21
8. দুর্বল ও
মজলুমদের আর্তনাদের দুআ (জালেমদের জনপদ থেকে উদ্ধার ও অভিভাবকত্ব লাভের জন্য)/ বাড়াবাড়িকারী সমাজ থেকে হিজরত বা মুক্তির দুআ:
সূরা নিসায় আল্লাহ সেই সব দুর্বল নারী, পুরুষ ও শিশুদের চিত্র তুলে ধরেছেন, যাদের ওপর সমাজ চরম বাড়াবাড়ি করছিল। তাদের আর্তনাদ আল্লাহ দুআ হিসেবে কুরআনে গেঁথে দিয়েছেন:
رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْ هَٰذِهِ الْقَرْيَةِ الظَّالِمِ أَهْلُهَا
وَاجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ وَلِيًّا وَاجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ نَصِيرًا
রব্বানা আখরিজনা মিন হাযিহিল ক্বারইয়াতিয যালিমি আহলুহা, ওয়াজ‘আল লানা মিল লাদুনকা ওয়ালিয়্যাও ওয়াজ‘আল লানা মিল লাদুনকা নাসীরা।
হে আমাদের রব! আমাদেরকে এই জনপদ থেকে বের করুন, যার অধিবাসীরা জালিম। আর আপনার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য একজন অভিভাবক নির্ধারণ করে দিন এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য একজন সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দিন। (৪:৭৫)
9. জালিম জনগোষ্ঠীর সাথী না হওয়ার দোয়া: অসৎ সঙ্গ ত্যাগ এবং জালিম ও জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত না
হওয়ার কুরআনি দোয়া:
কুরআনের সতর্কতা: আর সেই জনপদসমূহ, আমরা তাদের ধ্বংস করেছি, যখন তারা জুলুম করেছিল-18:59 (18:56-59, 32:22
অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করতে, জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে বাঁচতে এবং নিজেকে জাহান্নামীদের সাথী হওয়া থেকে রক্ষা করতে আল-কুরআনে বর্ণিত ৩টি অত্যন্ত কার্যকরী দোয়া নিচে দেওয়া হলো:
رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
রব্বানা- লা- তাজ‘আলনা- মা‘আল ক্বাওমিয যলিমীন।
অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদেরকে জালিম (অত্যাচারী) সম্প্রদায়ের সাথী করবেন না। (সূরা আল-আরাফ, আয়াত: 7:47)
10.
নিজেকে জালিমদের দলভুক্ত না করার দোয়া: সালামুন আলা মূসা তাঁর রবের কাছে নিজের এবং তাঁর ভাইয়ের জন্য এই দোয়া করেছিলেন:
وَلَا تَجۡعَلۡنِي مَعَ ٱلۡقَوۡمِ ٱلظَّـٰلِمِينَ
ওয়া লা- তাজ‘আলনী মা‘আল ক্বাওমিয যলিমীন। অর্থ: এবং আমাকে জালিম (অত্যাচারী) সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করবেন না। (সূরা আল-আরাফ, আয়াত: 7:150)
11. জাহান্নামীদের সাথী না হওয়ার নিশ্চিত দোয়া:
পৃথিবীতে যখন আল্লাহর আযাব বা শাস্তি নেমে আসে, তখন সেই শাস্তির হাত থেকে রক্ষা পেতে এবং জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার জন্য আল্লাহ তায়ালার শেখানো দুআ:
رَّبِّ إِمَّا تُرِيَنِّي مَا يُوعَدُونَ ۚ رَبِّ فَلَا تَجْعَلْنِي
فِي الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
রব্বি ইম্মা- তুরিয়ান্নী মা- ইয়ূ‘আদূন। রব্বি ফালা- তাজ‘আলনী ফিল ক্বাওমিয যলিমীন।
অর্থ: হে আমার রব! তাদেরকে যে শাস্তির ভয় দেখানো হচ্ছে, তা যদি আপনি আমাকে দেখানই; তবে হে আমার রব! আপনি আমাকে জালিম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করবেন না। (সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত: 23:93-94)
12. জালিমের আগ্রাসন ও ফিতনা থেকে মুক্তির দুআ: তাওয়াক্কুল বা
আল্লাহর ওপর চূড়ান্ত নির্ভরতার দুআ (জালেমদের ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য):
رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِّلْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
وَنَجِّنَا بِرَحْمَتِكَ مِنَ الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
রব্বানা- লা- তাজ‘আলনা- ফিতনাতাল লিলক্বাওমিজ-জ্বলিমীন। ওয়া নাজ্জিনা- বিরহমতিকা মিনাল ক্বাওমিল কা-ফিরীন।
অর্থ: হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে জালেম সম্প্রদায়ের জন্য ফিতনার (নির্যাতনের) পাত্র বানাবেন না। এবং আপনার অনুগ্রহে আমাদেরকে কাফির সম্প্রদায়ের হাত থেকে রক্ষা করুন (১০:৮৫-৮৬)
رَّبَّنَا عَلَيْكَ تَوَكَّلْنَا
وَإِلَيْكَ أَنَبْنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً
لِّلَّذِينَ كَفَرُوا وَاغْفِرْ لَنَا رَبَّنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
13. রব্বানা-‘আলাইকা তাওয়াক্কাল্না-অইলাইকা আনাব্না-অইলাইকাল্ মাছী-র। রব্বানা- লা- তাজ্ব ‘আল্না- ফিতনাতাল্ লিল্লাযীনা কাফারূ অর্গ্ফিলানা-রব্বানা -ইন্নাকা আংতাল ‘আযীযুল্ হাকীম্।
অর্থ: হে আমাদের রব! আমরা আপনার উপরই ভরসা করি এবং আপনার দিকে আমরা মুখ ফেরাই আর আপনার কাছেই প্রত্যাবর্তনস্থল। হে আমাদের রব! যারা কুফর করেছে আমাদেরকে তাদের জন্য ফিতনা বানাবেন না। আর আমাদেরকে ক্ষমা করুন। হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আপনি, আপনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়- আল কুরআন ৬০:৪, ৬০:৫
14. বাড়াবাড়ি ও
ত্রুটি থেকে ক্ষমার দুআ (মস্তবড় বিপদেও স্থীর/দৃঢ় থাকার সাহায্য কামনায়):
رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِي أَمْرِنَا وَثَبِّتْ
أَقْدَامَنَا وَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
রব্বানাগফির লানা যুনূবানা ওয়া ইসরফানা ফী আমরিনা ওয়া ছাব্বিত আক্বদামানা ওয়ানসুরনা ‘আলাল ক্বাওমিল কাফিরীন।
হে আমাদের রব! আমাদের পাপসমূহ এবং আমাদের কাজের মধ্যকার বাড়াবাড়িগুলো (ইসরফ) ক্ষমা করে দিন, আমাদের পা সুদৃঢ় রাখুন এবং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন। (৩:১৪৭)
একইভাবে, ইউনুস (সালামুন আলাইহে) যখন সাময়িকভাবে অধৈর্য হয়ে তাঁর জাতির প্রতি রাগ করে চলে গিয়েছিলেন, তখন তিনি মাছের পেটে বসে উপলব্ধি করেন যে, এটি তাঁর নিজের ওপর একটি জুলুম বা বাড়াবাড়ি ছিল। এই অনুধাবন থেকে তিনি যে তাসবিহ পাঠ করেছিলেন, তা বিপদে পড়া যেকোনো মানুষের জন্য নিজের নফসের ওপর করা বাড়াবাড়ি থেকে মুক্তির এক শাশ্বত আশ্রয়।
رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِّلَّذِينَ كَفَرُوا وَاغْفِرْ لَنَا رَبَّنَا
ۖ إِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
15.
রব্বানা লা
তাজ‘আলনা ফিতনাতাল লিল্লাযীনা কাফারূ ওয়াগফির লানা রব্বানা, ইন্নাকা আনতাল ‘আযীযুল হাকীম।
অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদেরকে কাফিরদের জন্য ফিতনার (পরীক্ষা বা নির্যাতনের) পাত্র বানাবেন না। হে আমাদের রব! আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (সূরা আল-মুমতাহানাহ: 60:5)
16.
কাফির জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সাহায্য কামনায়:
رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا
تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا
وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ ۖ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا
ۚ أَنتَ مَوْلَانَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
রব্বানা- লা-তুআ-খিয্না- ইন্নাসী- না-আও আখ্ত্বোয়ানা-, রব্বানা- অলা-তাহ্মিল্ ‘আলাইনা- ইছরান কামা-হামাল্তাহূ ‘আলাল্লাযীনা মিন্ ক্বাব্লিনা-, রব্বানা- অলা-তুহাম্মিল্না- মা-লা-ত্বোয়া-ক্বাতা লানা-বিহ্; অ’ফু ‘আন্না-অর্গ্ফি লানা- র্অহাম্না- আংতা মাওলা-না- ফান্ছুরনা- ‘আলাল্ ক্বাওমিল্ কা-ফিরীন্।
অর্থ: হে আমাদের রব! আমরা যদি ভুলে যাই বা ভুল করি, আপনি আমাদের ধরবেন না। হে আমাদের রব! আর আপনি আমাদের ওপর তেমন ভার অর্পণ করবেন না, যেমন আমাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের ওপর তা অর্পণ করেছিলেন। হে আমাদের রব! আর আপনি আমাদেরকে এমনকিছু অর্পণ করবেন না, যেটার সামর্থ্য আমাদের নেই। আর আপনি আমাদের মাফ করুন এবং আপনি আমাদের ক্ষমা করুন আর আপনি আমাদের অনুগ্রহ করুন। আপনিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং আপনি আমাদেরকে কাফির জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সাহায্য করুন- আল কুরআন ২:২৮৬
17.
বিঈযনিল্লাহ্… ওয়াল্লাহু মা‘আস-সাবিরীন
রব্বানা- আফ্রিগ্ ‘আলাইনা-ছোয়াব্রাওঁ অছাব্বিত্ আক্ব-মানা-অর্ন্ছুনা-‘আলাল্ ক্বাওমিল্ কা-ফিরীন্।
অর্থ: আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। হে আমাদের রব! আপনি আমাদের ওপর ধৈর্য্য প্রবাহিত করুন! এবং আমাদের পা দৃঢ় রাখুন! আর কাফির জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন!-আল কুরআন ২:২:২৪৯+২:২৫০
18.
জালেমের জুলুম থেকে সুরক্ষায় /জালিমের কর্ম ও বাড়াবাড়ি থেকে ব্যক্তি-নিরাপত্তার দুআ:
ফিরাউনের স্ত্রীর দুআটি কুরআনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত, যেখানে তিনি কেবল জালিম ব্যক্তির থেকেই নয়, বরং তার ‘عمل’ (অপকর্ম ও বাড়াবাড়ি) থেকেও আল্লাহর কাছে বিচ্ছিন্নতা ও আশ্রয় চেয়েছেন।
رَبِّ ابْنِ لِي عِندَكَ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ وَنَجِّنِي
مِن فِرْعَوْنَ وَعَمَلِهِ وَنَجِّنِي مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
রব্বিবনি লী ‘ইনদাকা বাইতান ফিল জান্নাতি ওয়া নাজ্জিনী মিন ফির‘আউনা ওয়া ‘আমালিহী ওয়া নাজ্জিনী মিনাল ক্বাওমিয যালিমীন।
হে আমার রব! আপনার কাছে জান্নাতে আমার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করুন এবং আমাকে ফিরাউন ও তার কর্ম (বাড়াবাড়ি) থেকে রক্ষা করুন, আর আমাকে জালিম সম্প্রদায় থেকে নাজাত দিন (৬৬:১১)
19.
পরিবার পরিজনসহ আশ্রয় প্রার্থনা:
رَبِّ نَجِّنِى وَأَهْلِى مِمَّا يَعْمَلُونَ
রব্বি নাজ্জ্বিনী অআহ্লী মিম্মা-ইয়া’মালূন্ ।
অর্থ: হে আমার রব! তারা যা করছে তা থেকে আমাকে এবং আমার পরিবার-পরিজন/অনুসারীদের রক্ষা করুন- আল কুরআন ২৬:১৬৯
20.
জালিমের চক্রান্ত ও
বাড়াবাড়ি থেকে চূড়ান্ত সুরক্ষার ঐশী ঢাল (Tawfid /তাফউইদ):
যখন জালিমের ‘তুগইয়ান’ চরম আকার ধারণ করে এবং চারদিক থেকে ষড়যন্ত্র (মকর / مكر) ঘিরে ধরে, তখন মুমিনের চূড়ান্ত হাতিয়ার হলো নিজের সমস্ত বিষয় আল্লাহর কাছে সমর্পণ (তাফউইদ) করা। ফিরাউনের দরবারে একজন ঈমানদার ব্যক্তি (যিনি ঈমান গোপন রেখেছিলেন) ঠিক এই কাজটিই করেছিলেন। এটি সূরা মুমিনের (গাফির) এক অবিস্মরণীয় আয়াত:
وَأُفَوِّضُ أَمْرِي إِلَى اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ
بَصِيرٌ بِالْعِبَادِ
অউফাও ওয়িদ্বু আ¤্রীয় ইলা ইল্লালাহু; ইন্নাল্লাহা বাছীরুম বিল ইবাদ।
আমি আমার সকল বিষয় আল্লাহর কাছে সমর্পণ (তাফউইদ) করছি। নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের
প্রতি সম্যক দৃষ্টি রাখেন। (সূরা গাফির: ৪০:৪৪)
অনুধ্যান: যখন মুমিন তার নিজের পক্ষের সমস্ত বাড়াবাড়ি ত্যাগ করে শূন্য হাতে নিজেকে রবের ফয়সালার ওপর ছেড়ে দেয় (তাফউইদ), তখন রব নিজেই জালিমের ষড়যন্ত্র ও সীমালঙ্ঘন থেকে তাকে রক্ষা করার দায়িত্ব নেন।
21.
সালামুন আলা নূহ-এর দুআ (জালেমদের থেকে মুক্তির পর
আল্লাহর শুকরিয়া ও সুরক্ষা):
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي نَجَّانَا مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী নাজ্জা-না- মিনাল ক্বাওমিজ-জ্বলিমীন।
অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে জালেম সম্প্রদায়ের কবল থেকে উদ্ধার করেছেন। (২৩:২৮)
✧ ✧ ✧ ✧
আবেদনপত্র কবুলের আবেদন:
رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا ۖ إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
وَتُبْ عَلَيْنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
22.
ব্বানা-তাক্বাব্বাল্ মিন্না; ইন্নাকা আনতাস্ সামী‘উল্ ‘আলীম্ অতুব্
‘আলাইনা-ইন্নাকা আন্তাত্ তাওয়্যা-বুর রাহীম্।
অর্থ: হে আমাদের রব! আপনি আমাদের পক্ষ থেকে ক্ববূল করুন। নিশ্চয়ই আপনি, আপনিই সর্বস্পন্দনগ্রাহী, বিস্তৃত জ্ঞানসম্পন্ন। এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি, আপনিইতো ক্ষমাশীল, দয়ালু-আল কুরআন ২:১২৭, ২:১২৮
سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ وَسَلَامٌ
عَلَى الْمُرْسَلِينَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
23.
সুবহানা রব্বিকা রব্বিল ইজ্জতি ‘আম্মা ইয়াসিফূন ওয়া সালামুন আলাল মুরসালীন ওয়াল হামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন।
অর্থ: আপনার রব মহিমাময়; তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে তিনি পবিত্র। রাসূলগণের উপর সালামুন আলা। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ রব্বুল আলামিনের। (৩৭:১৮০–১৮২)
