ঈদ মোবারক! ঈদ শুভেচ্ছা! আনন্দ! -আল কুরআন কী বলে? একটি অনুধ্যান #Eid Greetings #Eid Mubarak #joy

কুরআনে ঈদ সম্পর্কে কি বলা হয়েছে? কি পেয়ে আমাদের আনন্দ করার কথা বলা হয়েছে?

প্রচলিত ঈদ শুভেচ্ছা বনাম আল কুরআনের ‘ঈদান’: রমাদান শেষে মুমিনের প্রকৃত করনীয় ও আনন্দের প্রকৃত উৎস কী?  

আল কুরআন মাজীদ মানুষকে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী মানদণ্ড (ফুরকান) হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে। প্রচলিত ইতিহাসে বা লোকমুখে প্রচলিত অনেক সংজ্ঞাই আল কুরআনের মূল বাণীর সাথে সাংঘর্ষিক। বিশেষ করে ‘ঈদ’ এবং ‘আনন্দ’ শব্দ দুটিকে যেভাবে কেবল আনুষ্ঠানিক উৎসবে রূপান্তর করা হয়েছে, তার সাথে আল কুরআনের আধ্যাত্মিক ও যৌক্তিক কাঠামোর বিস্তর ব্যবধান রয়েছে।

নিম্নে কেবলমাত্র আল কুরআন মাজীদের আয়াতসমূহের পারস্পরিক সামঞ্জস্যতা ও শব্দগত বিশ্লেষণ -পদ্ধতি অনুসরণ করে বিষয়টির প্রকৃত রূপ উপস্থাপন করার চেষ্টা করছি, বিঈযনিল্লাহ!

নিচের দিকে একটি ভিডিও-

সূরা আল বাকারা, আয়াত ২:১৮৫
রমাদান মাস সেটাই, যার মধ্যে নাযিল করা হয়েছে কুরআন, মানুষের জন্য হিদায়েত এবং সঠিক পথের ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীর সুস্পষ্ট বর্ণনা স্বরূপ। অতএব, যে তোমাদের মধ্যে মাসটিতে উপস্থিত হবে সে যেন তাতে সওম পালন করে-(২:১৮৫)

এখানে লক্ষণীয় যে, সওম  পালনের নির্দেশটি দেয়া হয়েছে আল কুরআন নাযিলের সম্মানে এবং হিদায়াত প্রাপ্তির শুকরিয়া হিসেবে। অর্থাৎ, এই মাসের প্রতিটি ইবাদত সরাসরি আল কুরআনের সাথে সম্পৃক্ত।

রমাদান শেষে করনীয়: তাকবির ও শুকরিয়া (কৃতজ্ঞতা):

প্রচলিত ঐতিহ্যে রমাদান শেষে এক বিশেষ উৎসবের আয়োজন করা হয়, যা ‘ঈদ’ নামে পরিচিত। কিন্তু আল কুরআন মাজীদের ২:১৮৫ নম্বর আয়াতের শেষাংশে রমাদানের সওম পূর্ণ করার পর অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট দুটি কাজের নির্দেশ দেয়া হয়েছে:

"...যাতে তোমরা সংখ্যা পূর্ণ করো এবং তোমরা যেন আল্লাহর বড়ত্ব প্রকাশ করো (লি-তুকাব্বিরুল্লাহা) এজন্য যে, তিনি তোমাদের হিদায়েত করেছেন। আর যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো (তাত্তাকুন/তাশকুরুন)।" (২:১৮৫)

এই আয়াতটি গভীর অনুধাবন করলে কয়েকটি বিষয় পরিষ্কার হয়:

তাকবির (বড়ত্ব প্রকাশ): সওম শেষে মুমিনের কাজ হলো আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করা। কিসের জন্য? "এজন্য যে, তিনি তোমাদের হিদায়েত করেছেন।" অর্থাৎ, আল কুরআন নাযিলের মাধ্যমে যে হিদায়াত পাওয়া গেছে, তার জন্য আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করাই হলো প্রকৃত প্রাপ্তি।

শুকরিয়া (কৃতজ্ঞতা): এই হিদায়াত প্রাপ্তি এবং তা পালনের তৌফিক পাওয়ার জন্য অন্তরের গভীর থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।


১. ‘ঈদ’ শব্দের প্রকৃত ব্যুৎপত্তি ও কুরআনি বিশ্লেষণ:

আরবী ‘ঈদ’ (عيد) শব্দটি ‘আওদ’ (عود) মূলধাতু থেকে আগত, যার অর্থ ‘পুনরাবর্তন’ বা বারবার ফিরে আসা। আল কুরআন মাজীদে এই শব্দটি কেবল একবারই এসেছে সালামুন আলা ঈসা -এর একটি দোয়ার প্রেক্ষিতে:

"ঈসা ইবনে মারইয়াম (সালামুন আলাইহে) বললেন: হে আল্লাহ! আমাদের রব! আমাদের জন্য আসমান থেকে একটি খাদ্যপূর্ণ দস্তরখান (মা-ইদাহ) নাজিল করুন, যা আমাদের জন্য অর্থাৎ আমাদের প্রথম ও শেষ সকলের জন্য একটি পুনরাবর্তনশীল নিদর্শন (ঈদান) হবে এবং আপনার পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন (আয়াত) হবে।" (৫:১১৪)

এখানে ‘ঈদ’ মানে কোনো প্রচলিত উৎসব নয়, বরং এমন এক রব্বানি নিদর্শন (আয়াত) যা মানুষের কাছে বারবার ফিরে আসে এবং তাদের সত্যের পথে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত একটি চিরস্থায়ী তাত্ত্বিক ও আধ্যাত্মিক প্রাপ্তি।


২. ‘মা-আদ’ ও ‘ঈদ’: ফিরে আসার চূড়ান্ত গন্তব্য:

আল কুরআন মাজীদে ‘আওদ’ বা ফিরে আসার এই ধারণাকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে ‘মা-আদ’ (معاد) শব্দের মাধ্যমে। আল্লাহ রব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন:

"নিশ্চয়ই যিনি আপনার ওপর আল কুরআনকে অপরিহার্য করেছেন (ফারাদা-ফরজ), তিনি আপনাকে অবশ্যই আপনার ফিরে যাওয়ার স্থানে (মা-আদিন) পৌঁছে দেবেন।" (২৮:৮৫)

এখানে ‘মা-আদ’ হলো সেই গন্তব্য বা কেন্দ্রবিন্দু যেখানে মানুষকে ফিরে যেতে হবে। ‘ঈদ’ যদি হয় নিদর্শনের বারবার ফিরে আসা, তবে ‘মা-আদ’ হলো সেই নিদর্শনের মূল উৎস। সুতরাং, কুরআনের আলোকে ‘ঈদ’ কেবল একটি ক্যালেন্ডারের দিন নয়, বরং এটি হলো আল কুরআনের সত্যে বারবার ফিরে আসা এবং সেই পরম গন্তব্যের (মা-আদ) কথা স্মরণ করা।


৩. প্রকৃত আনন্দের উৎস: আল কুরআন নাযিল হওয়া-কিতাব প্রাপ্তিতে:

প্রচলিত ধারণায় রমাদান মাস শেষে একটি নির্দিষ্ট দিনে উৎসব করাকে ‘ঈদ’ বলা হয়। কিন্তু আল কুরআন অনুযায়ী, রমাদান মাসের প্রকৃত মর্যাদা হলো ‘আল কুরআন নাযিল হওয়া’র কারণে (২:১৮৫)। 

আল্লাহ রব্বুল আলামিন স্পষ্ট করেছেন যে, মুমিনের আনন্দের একমাত্র মাপকাঠি হলো আল কুরআন যার মধ্যে আছে মুমিনের জন্য শিফা/প্রতিষেধক ও রহমত (আয়াত ১৭:৮২)

■ বলুন! এটি আল্লাহর অনুগ্রহে ও তাঁর দয়ায় (আল কুরআন); সুতরাং এতেই তাদের আনন্দিত হওয়া উচিত। এটি তারা যা সঞ্চয় করে তার চেয়ে উত্তম। (১০:৫৮)

যারা আল কুরআন লাভ করে এবং এর জ্ঞানে ঋদ্ধ হয়, তাদের আনন্দই হলো প্রকৃত আনন্দ:

➢ যাদের আমি কিতাব দিয়েছি, তারা আপনার প্রতি যা নাযিল হয়েছে তাতে আনন্দিত হয় (ইয়াফরাহূনা)। (১৩:৩৬)

 আর যখনই কোনো সূরা নাযিল করা হয়, তখন তাদের মধ্য থেকে কেউ বলে, তোমাদের মধ্যে কে সে, এটা যার ঈমানকে বৃদ্ধি করেছে? অনন্তর যারা ঈমান এনেছে, তখন এটা তাদের ঈমানকে বৃদ্ধি করেছে আর তারা আনন্দিত হয়-আয়াত ৯:১২৪


৪. আল কুরআনে আনন্দের বিভিন্ন পর্যায় ও পরিভাষা:

আল কুরআন মাজীদের শব্দবিন্যাস ও নজম (বিন্যাস) বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রচলিত ‘ঈদ’ নামক উৎসবের চেয়ে অনেক বেশি গভীর ও স্থায়ী আনন্দের কথা সেখানে বলা হয়েছে:

 ফারাহ (فَرح): এটি আল্লাহর রহমত ও কিতাব প্রাপ্তির আনন্দ (১০:৫৮)। তবে পার্থিব মোহে মত্ত হওয়াকে আল্লাহ নেতিবাচক আনন্দ হিসেবে উল্লেখ করেছেন: "তোমরা যা লাভ করেছ তাতে আনন্দিত (তাফরাহূ) না হও।" (৫৭:২৩)

 সুরূর (سرور): এটি হলো অন্তরের গভীর প্রশান্তি যা জান্নাতবাসীরা লাভ করবে: "আল্লাহ তাদের দান করবেন সজীবতা ও আনন্দ (সুরূরা)।" (৭৬:১১)

 হুবুর ও তুহবারূন (حبر): এটি হলো পরম সম্মানের সাথে প্রাপ্ত প্রফুল্লতা: "তোমরা এবং তোমাদের স্ত্রীগণ সানন্দে (তুহবারূন) জান্নাতে প্রবেশ করো।" (৪৩:৭০)

 বাশার (بشرى): সুসংবাদ প্রাপ্তির ফলে সৃষ্ট আনন্দ।

 সফলতার আনন্দ: আল্লাহর সাহায্যে যখন সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন মুমিনরা আনন্দিত হয়: "সেদিন মুমিনগণ আল্লাহর সাহায্যে আনন্দিত হবে (ইয়াফরাহুল মুমিনূন)।" (৩০:৪-৫)


৫. আনন্দ ও প্রশান্তির মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তি:

আল কুরআনে বর্ণিত আনন্দের আরেকটি শক্তিশালী স্তর হলো ‘শারহুস সাদর’ বা বক্ষ প্রশস্ত হওয়া। এটি ছাড়া প্রকৃত আনন্দ অনুভব করা অসম্ভব।

"যাকে আল্লাহ হিদায়াত দিতে চান, তার বক্ষকে ইসলামের জন্য প্রশস্ত (ইয়াশরাহ সাদরাহু) করে দেন।" (৬:১২৫)

এই প্রশস্ততার বহিঃপ্রকাশ ঘটে চেহারার উজ্জ্বলতার মাধ্যমে, যাকে কুরআন বলেছে ‘নাযরাহ’ (نضرة):

"তুমি তাদের মুখমণ্ডলে আনন্দের উজ্জ্বলতা (নাযরাতান না’ঈম) দেখতে পাবে।" (৮৩:২৪)

আর এই আনন্দের স্থায়ী ভিত্তি হলো ‘ইতমি’নানে কলব’:

"জেনে রেখো, আল্লাহর জিকির (স্মরণ/কুরআন) দ্বারাই অন্তরসমূহ প্রশান্ত (তাত্বমাইন্নুল কুলূব) হয়।" (১৩:২৮)


৬. প্রচলিত ‘ঈদ’ বনাম কুরআনের প্রকৃত আনন্দ: একটি সতর্কবাণী/ প্রকৃত আনন্দ: হিদায়াত প্রাপ্তি বনাম লৌকিক প্রথা:

আল কুরআন মাজীদের কোথাও শাহরু রমাদান (রমজান মাস) শেষে প্রচলিত অর্থে আনন্দ-উৎসব, 
আমোদ-প্রমোদ  বা মেলা করার কথা বলা হয়নি, কিংবা নিছক লৌকিক উৎসবের কথা বলা হয়নি।  বরং আনন্দের মূল উৎস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে আল্লাহর ফজল ও রহমতকে (যা আল কুরআনেরই নামান্তর)।  রমাদান হলো কুরআনের সাথে সংযোগ স্থাপন এবং আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণার (তাকবির) মাস (২:১৮৫)।

পরিতাপের বিষয় হলো, ‘লাহওয়াল হাদীস’ (ব্যর্থ ও বিভ্রান্তিকর কথা)-এর প্রবক্তাগণ আল কুরআনের এই সুগভীর আধ্যাত্মিক আনন্দ ও ‘আওদ’ (বারবার সত্যে ফিরে আসা)-এর মাহাত্ম্যকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য মানুষের বানানো ‘ঈদ’ নামক উৎসব চালু করেছে। সালামুন আলা মুহাম্মাদ (সালামুন আলাইহে) এর নামে মিথ্যারোপ করে এই উৎসবকে ধর্মের অবিচ্ছেদ্য অংশ করা হয়েছে, যা আসলে মানুষকে কুরআন নাযিলের মূল আনন্দ থেকে বিচ্যুত করে ব্যবসায়িক ও লৌকিক আমোদ-প্রমোদে ব্যস্ত রাখে।

আল কুরআন স্পষ্ট বলে:

সেদিন মুমিনগণ কাফিরদের (পার্থিব আমোদ-প্রমোদে মত্তদের) দেখে হাসবে (ইয়াদহাকূন)। (৮৩:৩৪)


সুন্নাতিল্লাহ অনুযায়ী কুরআনি সম্ভাষণ ও জিকির:

একজন আয়াতে বিশ্বাসী মুসলিম যখন আল কুরআনের প্রাপ্তিতে আনন্দিত হয়, তখন সুন্নাতিল্লাহ অনুযায়ী (এবং যে শব্দমালা আল্লাহর রাসূল নিজ মুখেও উচ্চারণ ও ব্যবহার করেছেন)  একে অপরের সাথে শুভেচ্ছায় বলতে পারে:

 ঈদাল্লি আওয়ালিনা ওয়া আখিরিনা ওয়া আয়াত!

(অর্থ: আমাদের প্রথম ও শেষ সকলের জন্য এটি একটি পুনরাবর্তনশীল নিদর্শন ও আয়াত!—৫:১১৪)

এটি কেবল একটি শুভেচ্ছা নয়, বরং এটি আল্লাহর সেই নিদর্শনের স্বীকৃতি যা যুগে যুগে মানুষের কাছে ফিরে এসে সত্যের পথ দেখায়। আর এই আল কুরআনই হলো সেই বরকতময় উপদেশ বা জিকির:

 “যিকরুম মুবারাক

আর এটি এক বরকতময় উপদেশ (যিকরুম মুবারাক), যা আমি নাযিল করেছি। (আয়াত ২১:৫০)

উপসংহার:

আল কুরআনের চূড়ান্ত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ‘ঈদ’ মানে প্রচলিত আনন্দ-উৎসব নয়, বরং ঈদ মানে হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা নিদর্শনের বারবার ফিরে আসা (৫:১১৪) এবং আল কুরআনের সত্যের দিকে মানুষের বারবার প্রত্যাবর্তন। মুমিনের আনন্দের উৎস হলো আল্লাহর কিতাব প্রাপ্তি (১০:৫৮), যা তাকে দুনিয়াতে ‘হায়াতান তায়্যিবাহ’ বা পবিত্র জীবন দান করে এবং পরকালে চিরস্থায়ী খুশিতে (৮৪:৯) সিক্ত করে।

আজ সময় এসেছে এই বিষয়টি নিয়ে অনুধ্যান করার—আমরা কি আল্লাহর নাযিলকৃত কুরআনের হিদায়াত পেয়ে আনন্দিত হবো, নাকি মানুষের বানানো প্রচলিত প্রথার মোহে পড়ে প্রকৃত আনন্দকে বিসর্জন দেব? আল কুরআনই আমাদের শ্রেষ্ঠ আনন্দের উৎস, এবং এর কাছে ফিরে আসাই (মা-আদ) আমাদের চূড়ান্ত বিজয়।


প্রাসঙ্গিক তাসবিহ ও প্রার্থনা (আল কুরআন হতে):

1. তাকবীর:
ٱللَّٰهُ أَكْبَرُ 
আল্লাহু আকবার!
অর্থ: আল্লাহ একমাত্র সর্বোচ্চ- আয়াত ৬:১৯, ২৯:৪৫ (আরও জানতে আয়াত দ্র:-১৭:১১১, ২:১৮৫, ২২:৩৭, ৭৪:৩)।

2. মুমিনের হৃদয়ের প্রশান্তি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য কুরআনি তাসবিহসমূহ:

رَبَّنَا أَنزِلْ عَلَيْنَا مَائِدَةً مِّنَ السَّمَاءِ تَكُونُ لَنَا عِيدًا لِّأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا وَآيَةً مِّنكَ ۖ وَارْزُقْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ

রব্বানা আনযিল ‘আলাইনা মা-ইদাতাম মিনাস সামা-ই তাকূনু লানা ‘ঈদান লি-আওয়ালিনা ওয়া আখিরিনা ওয়া আয়তাম মিনকা, ওয়ারযুক্বনা ওয়া আনতা খাইরুর রাযিকীন। 

হে আল্লাহ! আমাদের রব! আমাদের জন্য আসমান থেকে একটি খাদ্যপূর্ণ দস্তরখান (মা-ইদাহ) নাজিল করুন, যা আমাদের জন্য অর্থাৎ আমাদের প্রথম ও শেষ সকলের জন্য একটি পুনরাবর্তনশীল নিদর্শন (ঈদান) হবে এবং আপনার পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন (আয়াত) হবে।" (৫:১১৪)

3. আল কুরআন নাযিলের জন্য কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা:

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنزَلَ عَلَىٰ عَبْدِهِ الْكِتَابَ وَلَمْ يَجْعَل لَّهُ عِوَجًا

আলহামদুলিল্লাহিল্লাযী আনযালা ‘আলা আবদিহিল কিতাবা ওয়া লাম ইয়াজ’আল লাহূ ‘ইওয়াজা। (১৮:১)

(আলহামদুলিল্লাহ! যিনি তাঁর বান্দার ওপর কিতাব নাযিল করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি।)

4. হিদায়াত প্রাপ্তির শুকরিয়া:

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَٰذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلَا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ

আলহামদুলিল্লাহিল্লাযী হাদানা লি-হাযা ওয়া মা কুন্না লিনাহতাদিয়া লাওলা আন হাদাল্লাহ। (৭:৪৩)

সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের এর হিদায়াত দিয়েছেন। আল্লাহ হিদায়াত না দিলে আমরা কখনোই পথ পেতাম না। (৭:৪৩)

5. নূরের পূর্ণতা ও ক্ষমা প্রার্থনা:

رَبَّنَا أَتْمِمْ لَنَا نُورَنَا وَاغْفِرْ لَنَا ۖ إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

রব্বানা আতমাম লানা নূরানা ওয়াগফির লানা, ইন্নাকা ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর। (৬৬:৮)

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য আমাদের নূরকে পূর্ণ করে দিন এবং আমাদের ক্ষমা করুন; নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। (৬৬:৮)

6. হিদায়াত ও রহমত প্রাপ্তির রব্বানি দোয়া:

رَبَّنَا آتِنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً وَهَيِّئْ لَنَا مِنْ أَمْرِنَا رَشَدًا

রব্বানা আতিনা মিল্লাদুনকা রহমাতাও ওয়া হাইয়্যি’ লানা মিন আমরিনা রশাদা।

হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার পক্ষ থেকে আমাদের রহমত (দয়া) দান করুন এবং আমাদের জন্য আমাদের কাজসমূহ সঠিকভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা (হিদায়াত/সঠিক পথ) করে দিন। (১৮:১০)

سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ * وَسَلَامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ * وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

7. তাসবিহ ও রাসূলগণের প্রতি সালাম:

সুবহানা রব্বিকা রব্বিল ইযযাতি ‘আম্মা ইয়াসিফূন, ওয়া সালামুন ‘আলাল মুরসালীন, ওয়াল হামদুলিল্লাহি রব্বিল ‘আলামিন। (৩৭:১৮০-১৮২)

পবিত্র আপনার প্রতিপালক, ইজ্জতের অধিপতি; তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে তিনি পবিত্র! এবং সালাম প্রেরিত রাসূলগণের প্রতি। আর সকল প্রশংসা আল্লাহ রব্বুল আলামিনের জন্য। (৩৭:১৮০-১৮২)


Post a Comment (0)
Previous Post Next Post