সৎ চিন্তা, সত্য কথা ও সৎকর্ম: আমরা কী বুঝি, আর আল কুরআন কী বলে?

সৎকর্ম বলতে শুধুই কি নিজে সৎ থাকা না আরও কিছু?

জনৈক আয়াতে বিশ্বাসী মুসলিম ভাইয়ের ফেইজবুকে তাঁর পোষ্টে প্রদত্ত -এমন প্রশ্ন ছুড়ে দেয়ার উত্তরের ফলাফলে এই সমাজে আমিওযে সেই সংখ্যালঘুৃদের একজন অর্ন্তভুক্ত হতে চাওয়ার সংগ্রামে:

সৎ চিন্তা, সত্য কথা বলা ও সৎকর্ম করার গুরুত্ব আল-কুরআন-এ বারবার জোর দিয়ে বলা হয়েছে।  প্রাসঙ্গিক আয়াতসমূহ জানার চেষ্টা করছি, বিঈযনিল্লাহ!

একটি ভিডিও নিচের দিকে-

1. সৎ চিন্তা (শুদ্ধ ও কল্যাণকর ভাবনা):

■  ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা বেশি বেশি অনুমান করা থেকে বিরত থাক। নিশ্চয় কোনো কোনো অনুমান পাপ। আর দোষ খুঁজে বেড়াবে না এবং তোমাদের একজন অপরজনের পিছনে নিন্দা করবে না...” সূরা আল-হুজুরাত (49:12)

এই আয়াতে মানুষের মনে নেতিবাচক ও ভুল ধারণা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা সৎ চিন্তার ভিত্তি গড়ে।

■ “তাদেরকে এ ছাড়া কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহর ইবাদত করবে একনিষ্ঠভাবে (খাঁটি নিয়তে)...” -আয়াত৯৮:৫

কতটা সাবধান আমি?

মানুষের চিন্তারও হিসাব নেওয়া হবে?

তোমাদের অন্তরে যা আছে তা প্রকাশ করো বা গোপন রাখো—আল্লাহ তার হিসাব নেবেন...” -সূরা আল বাকারা ২:২৮৪

➥ আর যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তুমি সেটার পিছু নিও না। নিশ্চয় কান ও চোখ ও অন্তর (ফুয়াদা), সেগুলোর প্রত্যেকটি সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে-আয়াত ১৭:৩৬

➥ এবং অন্তরগুলোর (সুদুর) মধ্যে যা রয়েছে তা প্রকাশিত হবে-আয়াত  ১০০:১০

━━━━━༻❁༺━━━━

2. সত্য কথা বলা:

■ ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমরা সঠিক কথা বলো -

সূরা আল-আহযাব (33:70)

■ সূরা আল-বাকারা (2:42) : 

তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না এবং জেনে-শুনে সত্য গোপন করো না।

মিথ্যা বলার Punishment: 

তাদের অন্তরসমূহের মধ্যে রয়েছে ব্যাধি। ফলে আল্লাহ তাদের ব্যাধি বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি, এজন্য যে, তারা মিথ্যা বলত-আয়াত ২:১০
━━━━━༻❁༺━━━━

3. সৎকর্ম করা:

■ সূরা আল-বাকারা (2:177):  “...সৎকর্ম হলো—আল্লাহ, পরকাল, ফেরেশতা, কিতাব ও নবীদের প্রতি ঈমান আনা এবং সম্পদ ব্যয় করা আত্মীয়স্বজন, এতিম, মিসকিন...” 

■ সূরা আন-নাহল (16:90): 

“নিশ্চয়ই আল্লাহ নির্দেশ দিচ্ছেন আদল (ন্যায়বিচার), ইহসান (উত্তম আচরণ) ও আত্মীয়-স্বজনকে দানের; আর তিনি নিষেধ করছেন অশ্লীলতা, মন্দ কাজ ও সীমালঙ্ঘন থেকে।”

এই আয়াতগুলোতে সৎকর্মের বিস্তৃত দিক—দান, ন্যায় ও কল্যাণ—উল্লেখ করা হয়েছে।

➥ এছাড়াও আমলে সালেহ (সংশোধনমূলক কাজ/সৎকাজ) : দ্র: আয়াত: ৪৯:১০, ৪২:৪০, ৩৩:৭০-৭১, 

➥ আল কুরআনে ‘সালেহীন’-এর পরিচয়: দ্র: আয়াত: সূরা আল-ইমরান ৩:১১৩-১১৪, (৭:১৭০)

━━━━༻❁༺━━━━━

সারসংক্ষেপ:

সৎ চিন্তা, সত্য কথা ও সৎকর্ম—এই তিনটি গুণ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। আল-কুরআন অনুযায়ী—

  • মনে সৎ চিন্তা থাকলে,
  • মুখে সত্য কথা আসে,
  • এবং কাজে প্রকাশ পায় সৎকর্ম।

  ▓▒░ প্রাসঙ্গিক দুআ ░▒▓

رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَىٰ وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَصْلِحْ لِي فِي ذُرِّيَّتِي ۖ إِنِّي تُبْتُ إِلَيْكَ وَإِنِّي مِنَ الْمُسْلِمِينَ
রব্বি আওযি’নী- আন্ আশ্কুরা নি’মাতাকাল্লাতী- আন্‘আম্তা ‘আলাইয়্যা অ‘আলা-ওয়া-লিদাইয়্যা অআন্ ‘আমালা ছোয়া-লিহান র্তাদ্বোয়া-হু অআছ্লিহ্ লী ফী র্যুরিয়্যাতী; ইন্নী তুব্তু ইলাইকা অইন্নী মিনাল্ মুস্লি­মীন্।   

অর্থ:  হে আমার রব!  আপনি আমাকে আপনার সে নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের যোগ্যতা দিন, যে নিয়ামত আপনি আমার প্রতি ও আমার পিতামাতার প্রতি দিয়েছেন এবং আমলে সলেহ করার, যা আপনি পছন্দ করেন। আর আপনি আমার জন্য আমার প্রজ¤œকে পরিশুদ্ধ করুন। নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে তাওবা করলাম। আর নিশ্চয়ই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত। [ওরাই তারা, যাদের থেকে আমরা সেটার সর্বোত্তমটা (ধযংধহ) গ্রহণ করব, যা তারা করেছে আর তাদের দোষগুলোকে (ংধরুধঃ) জান্নাতের অধিবাসীদের মধ্যে আমরা আড়াল করব। তাদের যা প্রতিশ্রুতি দেয়া হতো তা সত্য প্রতিশ্রুতি]-আল কুরআন ৪৬:১৫-১৬
━━━━༻❁༺━━━━━


ℹ️ শ্রোতাদের অবগতির জন্য: এই চ্যানেলে প্রকাশিত অডিও ও ভিডিওসমূহ কেবল ধার করা বা সংগ্রহকৃত উপকরণ, যা আপনাদের সঙ্গে বিনামূল্যে শেয়ার করা হচ্ছে জ্ঞান ও আখেরাতের ব্যপারে সচেতনতার উদ্দেশ্যে মাত্র। 

 🎬 Video Credit: মূল নির্মাতা (Original Creator)।
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post