যানবাহনে কুরআনি দুআ: জল, স্থল কিংবা অন্তরীক্ষ—গাড়ি, বাইক, প্লেন থেকে মহাকাশযান কিংবা লিফট; সব বাহনেই কি আমাদের রবের কথা মনে পড়ে? (vehicles dua 43:13)

আপনার গাড়ি বা বাইকটি কি কেবলই আপনার কেনা সম্পদ? 🚗🏍️

আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি—আমাদের যাতায়াতের আরামদায়ক বাহন এবং এর জ্বালানি (তেল-গ্যাস), এগুলো কি শুধুই আমাদের টাকায় কেনা জড় পদার্থ? না, এগুলো মহান রবের দেওয়া এক বিশেষ নেয়ামত।

দুআখানির অডিও-ভিডিও নিচের দিকে দেখুন:

গাড়ি বা বাইক চালানোর আগে আমাদের একটু থমকে দাঁড়ানো উচিত। কারণ এই নেয়ামত সম্পর্কে আমাদের রব আমাদের বিশেষভাবে সচেতন করেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন:

"...এরপর তোমরা তোমাদের রবের অনুগ্রহ (নেয়ামত) স্মরণ করো যখন তোমরা তার ওপর স্থির হয়ে বসবে..." (সূরা যুখরুফ, ৪৩:১৩)

আমরা যেন ভুলে না যাই, এই আরাম এবং সামর্থ্য চিরস্থায়ী নয়। আমাদের প্রতিটি নেয়ামত সম্পর্কে কিয়ামতের দিন জবাবদিহি করতে হবে। আল্লাহ স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন:

"অতঃপর অবশ্যই সেদিন তোমাদেরকে নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।" (সূরা তাকাসুর, ১০২:৮)

আপনার সফরের আরাম, আপনার বাহনের সক্ষমতা, এমনকি এর প্রতিটি ফোঁটা জ্বালানি—সবকিছুর হিসাব দিতে হবে। তাই বাহনে চড়ে বসার পর গর্ব বা অহংকার নয়, বরং রবের প্রতি কৃতজ্ঞতায় মাথা নত করা আমাদের কর্তব্য।

░ ▓▒░বাহনে চড়ার দোয়া░▒▓ ░

এটা বলা আমাদের রবের নির্দেশ: (যা আমি নিয়মিত পড়ার চেষ্টা করি): 

যখনই বাহনে স্থির হয়ে বসব, তখনই এই দোয়াটি পাঠ করি:

আয়াত ৪৩:১৩: যেন তোমরা তার পিঠের ওপরে স্থির থাকতে পারো। এরপর তোমরা তোমাদের রবের অনুগ্রহ স্মরণ করো যখন তোমরা সেটার উপর স্থির থাক এবং বলো!

سُبۡحٰنَ الَّذِیۡ سَخَّرَ لَنَا ہٰذَا وَمَا کُنَّا لَہٗ مُقۡرِنِیۡنَ ﴿۱۳﴾  وَاِنَّاۤ اِلٰی رَبِّنَا لَمُنۡقَلِبُوۡنَ 

"সুবহানাল্লাজি সাখখারা লানা হাজা ওয়া মা কুন্না লাহু মুকরিনিন, ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনকালিবুন।"

সরল অর্থ:
পবিত্রতা তাঁরই, যিনি আমাদের জন্য এটাকে (বাহনকে) অধীন করে দিয়েছেন, অথচ আমরা এটাকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখতাম না। আর নিশ্চয় আমরা আমাদের রবের দিকেই অবশ্যই প্রত্যাবর্তনকারী। (সূরা যুখরুফ, ৪৩:১৩-১৪)

একটি জরুরি প্রশ্ন:
এখন প্রশ্ন হচ্ছে—একজন বিশ্বাসী হিসেবে আমরা কতজন এই যানবাহন ব্যবহারের সময় কুরআনের এই নির্দেশগুলো উপলব্ধি করার চেষ্টা করেছি? আমরা কি কখনও ভেবেছি, আমাদের এই উদাসীনতা নিয়েও প্রশ্ন করা হবে?

আল্লাহ বলেন-

"...তোমরা কি আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলেছিলে (unfunctional করে রেখে ছিলে) অথচ তোমরা সেগুলো জ্ঞানে আয়ত্ত করতে পারোনি? না কি তোমরা অন্য কিছু করছিলে?" (সূরা আন-নামল, ২৭:৮৪)

অর্থাৎ, কেন আমরা আল্লাহর নিদর্শন ও আয়াতগুলোর জ্ঞান অর্জন করিনি বা তা নিয়ে চিন্তা করিনি—সেদিন সেই জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি কি আমাদের আছে?

এর এই বিশেষ নেয়ামতটি যিনি চালাতে জানেন (এর ড্রাইভার) তিনিও যে বিশেষ ব্যক্তি সেকথা আমাদের রব বলেন এভাবে- 

আর অবশ্যই আমরা আদম সন্তানদেরকে সম্মানিত করেছি এবং তাদেরকে স্থলের ও জলের মধ্যে বাহন দিয়েছি এবং তাদেরকে উপযোগী বস্তুসমূহ থেকে রিযিক দিয়েছি এবং আমরা যা সৃষ্টি করেছি, তার মধ্য থেকে অনেকের উপর তাদেরকে বিশেষত্ব দিয়েছি, যথাযথ বিশেষত্বায়-আল কুরআন, আয়াত ১৭:৭০

দুআখানির অডিও-ভিডিও:


Post a Comment (0)
Previous Post Next Post