মানুষ-ইনসান, নাস, বাশার, বনী আদম ও ইমরু এর মধ্যে পার্থক্য কী? -আবার এর মধ্যে সৃষ্টির সেরা কে বা কারা? -আল কুরআনের আলোকে আমাদের রবের কাছ থেকেই জেনে নেই insān, nās, bashar, banī Ādam “the best of creation”?

 বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

আল কুরআন মাজীদ কেবল একটি ধর্মগ্রন্থ নয়, এটি শব্দতাত্ত্বিক অলঙ্কার ও অর্থের এক মহাবিস্ময়। মানুষের পরিচয় ফুটিয়ে তুলতে আল কুরআন বিভিন্ন শব্দ ব্যবহার করেছে। আপাতদৃষ্টিতে ‘ইনসান’, ‘নাস’ এবং ‘বাশার’ শব্দগুলো সমার্থক মনে হলেও এদের প্রত্যেকটির একটি সুনির্দিষ্ট চারিত্রিক ও গূঢ় (Metaphysical) মাত্রা রয়েছে। আল কুরআনের অভ্যন্তরীণ বিন্যাস ও আয়াতসমূহের পারস্পরিক সংযোগ বিশ্লেষণ করলে এই শব্দগুলোর মধ্যকার সূক্ষ্ম কিন্তু গভীর পার্থক্যগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।


১. ‘বাশার’ (بشر): মানুষের জৈবিক ও বাহ্যিক অবয়ব:

আল কুরআনে ‘বাশার’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে প্রধানত মানুষের দৈহিক গঠন, জৈবিক প্রয়োজন এবং নশ্বরতাকে বোঝাতে। এটি মানুষের সেই রূপ যা পশু বা অন্যান্য সৃষ্টি থেকে তার বাহ্যিক অবয়বকে আলাদা করে।

আল্লাহ রব্বুল আলামিন যখন মানুষের সৃষ্টিতত্ত্ব বর্ণনা করেন, তখন ‘বাশার’ শব্দটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন:

“স্মরণ করো, যখন তোমার রব ফেরেশতাদের বলেছিলেন, আমি কাদা থেকে এক ‘বাশার’ (মানুষ) সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।” (৩৮:৭১)

বিশ্লেষণ ও অনুধাবন:

জৈবিক সামঞ্জস্য: নবী বা রাসূলগণ যখন নিজেদের মানুষের মতো আহারকারী ও মরণশীল হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, তখন তাঁরা ‘বাশার’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। যেমন: রাসূল (সালামুন আলাইহে)-কে বলতে বলা হয়েছে— “আমি তো তোমাদের মতোই একজন ‘বাশার’ (মানুষ) মাত্র, আমার কাছে ওহী আসে...” (১৮:১১০)।

বাহ্যিক দৃষ্টি: কাফিররা যখন নবীদের অস্বীকার করত, তারা কেবল তাঁদের বাহ্যিক অবয়ব দেখত, তাই তারা বলত— “সে তো আমাদের মতোই একজন ‘বাশার’।” (২৩:৩৩)।

সারকথা: ‘বাশার’ হলো মানুষের ‘Physical’ বা দৃশ্যমান রূপ, যার চামড়া (Bishrah), ক্ষুধা ও মৃত্যু আছে।

২. ‘ইনসান’ (إنسان): বুদ্ধিবৃত্তিক ও আধ্যাত্মিক সত্তা:

‘বাশার’ যখন মানুষের দেহকে বোঝায়, ‘ইনসান’ তখন তার বুদ্ধি, চেতনা, দায়িত্ববোধ এবং বিস্মৃতিপ্রবণ মনস্তাত্ত্বিক রূপকে তুলে ধরে। ‘ইনসান’ শব্দটি এসেছে ‘উন্স’ (বন্ধুত্ব/সখ্যতা) অথবা ‘নিসইয়ান’ (বিস্মৃতি) থেকে।

আল্লাহ সু.তা. ইরশাদ করেন:

“পরম দয়াময়... শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন, সৃষ্টি করেছেন ‘ইনসান’ (মানুষ), তাকে শিখিয়েছেন ভাব প্রকাশ করতে (বায়ান)।” (৫৫:১-৪)

বিশ্লেষণ ও অনুধাবন:

শিক্ষণযোগ্যতা: লক্ষ্যণীয় যে, ‘বাশার’ সৃষ্টি করা হয়েছে মাটি থেকে, কিন্তু ‘ইনসান’-কে শেখানো হয়েছে ‘বায়ান’ বা ভাষা। অর্থাৎ মানুষের জ্ঞানতাত্ত্বিক ও আধ্যাত্মিক উত্তরণ ঘটলে সে ‘ইনসান’ পদে উন্নীত হয়।

পরীক্ষা ও দায়িত্ব: আমানত বা গুরুভার বহনের ক্ষেত্রে আল্লাহ ‘ইনসান’ শব্দ ব্যবহার করেছেন (৩৩:৭২)। এছাড়া মানুষের সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতা বোঝাতেও এটি ব্যবহৃত হয়: “নিশ্চয়ই ইনসান-কে সৃষ্টি করা হয়েছে ধৈর্যহীন করে।” (৭০:১৯)।

সারকথা: ‘ইনসান’ হলো মানুষের ‘Psychological’ ও ‘Intellectual’ রূপ, যা তাকে জ্ঞান ও নৈতিকতার দায়ভার দেয়।

৩. ‘আন-নাস’ (الناس): সামাজিক ও সামষ্টিক পরিচয়:

‘আন-নাস’ শব্দটি দ্বারা মানুষের সামাজিক সত্তা বা সমষ্টিগত পরিচয় প্রকাশ পায়। আল কুরআনে যখন মানবজাতিকে কোনো সাধারণ বিধান বা সামাজিক প্রেক্ষাপটে সম্বোধন করা হয়, তখন ‘নাস’ শব্দ ব্যবহৃত হয়।

আল্লাহ রব্বুল আলামিন ডাক দেন: 

“হে ‘নাস’ (মানবকুল)! তোমরা তোমাদের সেই রবের ইবাদত করো যিনি তোমাদের ও তোমাদের পূর্ববর্তীদের সৃষ্টি করেছেন।” (২:২১)

➥ মানুষের জম্ম¥ প্রক্রিয়ায় পিতামাতা-সন্তান-সন্তুতি থাকে- যেমন দ্র: আয়াত ৩১:১৪, ৪৬:১৫।

বিশ্লেষণ ও অনুধাবন:

সামাজিক মনোবিজ্ঞান: সূরা আন-নাস (১১৪ নম্বর সূরা)-এ মানুষের মনের কুমন্ত্রণা ও সামাজিক প্রভাবের কথা বলা হয়েছে। সেখানে ‘নাস’ শব্দটির বারবার ব্যবহার মানুষের পারস্পরিক প্রভাব ও সমাজতাত্ত্বিক দিকটি ফুটিয়ে তোলে।

সারকথা: ‘নাস’ হলো মানুষের ‘Sociological’ রূপ। এটি কোনো একক ব্যক্তিকে নয়, বরং মানুষের ভিড় বা জনসমষ্টিকে নির্দেশ করে।

৪. সমজাতীয় শব্দ: ‘বনী আদম’ (بني آدم) ও ‘ইমরু’ (امرؤ):

আল কুরআনে মানুষের আরও কিছু পরিচয় আছে যা প্রেক্ষিত অনুযায়ী ভিন্ন মাত্রা যোগ করে:

■ বনী আদম (আদম সন্তান): এটি মানুষের আভিজাত্য ও বংশীয় মর্যাদা প্রকাশ করে। “আমি বনী আদম-কে মর্যাদা দান করেছি।” (১৭:৭০)। যখন আল্লাহ মানুষকে শয়তানের ষড়যন্ত্র থেকে সতর্ক করেন বা পোশাকের মর্যাদা শেখান, তখন ‘বনী আদম’ বলে ডাকেন (৭:২৬-২৭)। এটি মানুষের ‘Dignified’ বা ঐতিহ্যের পরিচয়।

■ ইমরু (ব্যক্তি): এটি একক ব্যক্তি ও তার ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা বোঝাতে আসে। “সেদিন মানুষ (আল-মার’উ) তার ভাই থেকে পালাবে।” (৮০:৩৪)। এটি মানুষের ‘Individual’ বা একাকী সত্তার রূপ।


শব্দগুলোর পারস্পরিক সংযোগ ও বৈপরীত্য:

আল কুরআনের শব্দ বিন্যাস অত্যন্ত গাণিতিক। যখন আল্লাহ সৃষ্টির উপাদান বা দৃশ্যমান আকৃতি নিয়ে কথা বলেন, তখন তিনি বলেন ‘বাশার’। যখন তিনি মানুষের বিবেক, বুদ্ধি, আমানত বা তাকে দেওয়া বিশেষ মেধা নিয়ে কথা বলেন, তখন তিনি বলেন ‘ইনসান’। আর যখন তিনি গোটা মানবজাতিকে কোনো সাধারণ নিয়ম বা সামাজিক সম্পর্কের জালে ডাক দেন, তখন বলেন ‘নাস’

বিপরীতার্থক ব্যঞ্জনা: ‘বাশার’-এর বিপরীত হলো ফেরেশতা বা জীন (সৃষ্টির ভিন্নতা)। ‘ইনসান’-এর বিপরীত হতে পারে ‘জাহেল’ বা জ্ঞানহীন (জ্ঞানের অভাব)। ‘নাস’-এর বিপরীত হলো নির্জনতা বা বিচ্ছিন্নতা।

আল কুরআনের শব্দতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে মানুষ একটি বহুমাত্রিক সত্তা। ‘বাশার’ হিসেবে সে মাটির তৈরি নশ্বর জীব, ‘ইনসান’ হিসেবে সে জ্ঞানের অধিকারী দায়িত্বশীল আত্মা, আর ‘নাস’ হিসেবে সে একটি বৃহত্তর সমাজের অংশ। এই শব্দগুলোর সূক্ষ্ম পার্থক্য আমাদের শেখায় যে, মানুষ কেবল একটি প্রাণী নয়, বরং তার দৈহিক কাঠামোর ভেতরে এক বিশাল আধ্যাত্মিক ও সামাজিক জগত বিদ্যমান। আল কুরআন আমাদের কেবল ‘বাশার’ হয়ে থেমে থাকতে বলেনি, বরং ‘সালেহ’ বা সংশোধনমূলক কর্মের মাধ্যমে প্রকৃত ‘ইনসান’ ও ‘বনী আদম’-এর মর্যাদা রক্ষা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে।


এর মধ্যে সৃষ্টির সেরাটি কে বা কারা?

মানুষ জন্মগতভাবে একটি ‘সেরা ছাঁচে’ তৈরি, কিন্তু মর্যাদাগতভাবে সে ‘সৃষ্টির সেরা’ হয় তার কর্মের (আমলে সালেহ) মাধ্যমে।

১. সৃষ্টির সেরা অবয়ব: ‘আহসানি তাকউইম’ (৯৫:৪)

আপনি জানতে চেয়েছেন কে সবচেয়ে ‘হ্যান্ডসাম’ বা সুন্দর। আল কুরআন মানুষের দৈহিক ও আত্মিক গঠনকে ‘আহসান’ (সর্বোত্তম/সবচেয়ে সুন্দর) শব্দ দিয়ে সংজ্ঞায়িত করেছে। আল্লাহ সু.তা. বলেন:

“নিশ্চয়ই আমি ‘ইনসান’ (মানুষ)-কে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম অবয়বে বা কাঠামোতে (আহসানি তাকউইম )।” (৯৫:৪)

বিশ্লেষণ: এখানে ‘ইনসান’ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। এর অর্থ হলো, মানুষের বুদ্ধি, বিবেক এবং অবয়বের যে ভারসাম্য আল্লাহ দিয়েছেন, তা অন্য কোনো সৃষ্টির (বাশার) মধ্যে নেই। তবে এই সৌন্দর্য টিকে থাকার জন্য একটি শর্ত আছে। পরের আয়াতেই বলা হয়েছে, যদি সে তার মর্যাদাকে হেয় করে, তবে তাকে ‘সর্বনিম্ন স্তরে’ (আসফালা সাফিলিন) নামিয়ে দেওয়া হয় (৯৫:৫)।

২. মর্যাদাগতভাবে সৃষ্টির সেরা: ‘খাইরুল বারিয়্যাহ’ (৯৮:৭)

জন্মগতভাবে মানুষ ‘আহসানি তাকউইম’ বা সুন্দর কাঠামোর অধিকারী হলেও, আল্লাহ রব্বুল আলামিন একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীকে ‘খাইরুল বারিয়্যাহ’ বা ‘সৃষ্টির সেরা’ বলে ঘোষণা করেছেন।  

“নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং আমলে সালেহ (সলিহাত) করেছে, তারাই হলো সৃষ্টির সেরা (খাইরুল বারিয়্যাহ )।” (৯৮:৭)

অনুধাবন: ‘বাশার’ বা ‘নাস’ হিসেবে সবাই সমান হতে পারে, কিন্তু ‘সেরা’ হওয়ার মুকুট কেবল তাদের জন্যই যারা ঈমান ও আমলের মাধ্যমে নিজেদের সংশোধন করেছে। অর্থাৎ, কেবল মানুষের আকৃতি থাকলেই সেরা হওয়া যায় না, সেরা হওয়ার জন্য ‘আমলে সালেহ’ অনিবার্য শর্ত।

৩. সম্মানের মাপকাঠি: মুত্তাকীন (৪৯:১৩)

মর্যাদা বা আভিজাত্যের প্রশ্নে আল কুরআন কোনো গোষ্ঠী বা চেহারাকে প্রাধান্য দেয়নি, বরং ‘তাকওয়া’-কে মানদণ্ড করেছে। 

“নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মর্যাদাবান (আকরামাকুম) সেই ব্যক্তি, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুত্তাকী (সাবধানী/তাকওয়াবান)।” (৪৯:১৩)

এখানে ‘আকরাম’ (সর্বাধিক সম্মানিত/নোবেল) শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। আল কুরআনের নজম অনুযায়ী:

■ ইনসান: কাঠামোতে সেরা (৯৫:৪)।

■ আমলে সালেহকারী: সৃষ্টিজগতের মধ্যে সেরা (৯৮:৭)।

■ মুত্তাকী: আল্লাহর কাছে মর্যাদায় সেরা (৪৯:১৩)।

৪. ‘সলিহীন’ নবীগণের উদাহরণ (সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্বের মডেল):

নবীগণের (সালামুন আলাল মুরসালিন)  (২:১৩০, ৬:৮৫, ২১:৭২ ইত্যাদি), তাঁদের সবাইকে আল্লাহ ‘সালেহীন’ বা ‘সলিহীন’ বলে পরিচয় দিয়েছেন। তাঁরাই হলেন ‘খাইরুল বারিয়্যাহ’ এবং ‘আহসানি তাকউইম’-এর বাস্তব উদাহরণ। কারণ তাঁদের মধ্যে ঈমান, আমলে সালেহ এবং তাকওয়ার পূর্ণ সমন্বয় ঘটেছিল।

উপসংহার: আল কুরআনের মতে, হ্যান্ডসাম বা সুন্দর কেবল সেই কাঠামো যা আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে নিজেকে রক্ষা করে (তাকওয়া)। সৃষ্টির সেরা (খাইরুল বারিয়্যাহ) হওয়ার জন্য কেবল মানুষের বংশে জন্ম নেওয়া যথেষ্ট নয়, বরং ঈমান ও আমলে সালেহ বা সংশোধনমূলক কর্মের মাধ্যমে সেই মর্যাদার যোগ্যতা অর্জন করতে হয়।


সংশ্লিষ্ট কুরআনী দুআ-তাসবিহ:

সৃষ্টির সেরা হিসেবে নিজের মর্যাদা রক্ষা করতে এবং মুত্তাকীনদের অন্তর্ভুক্ত হতে আল কুরআনের প্রার্থনা:

সুন্দরতম মানুষের (মুত্তাকীন) নেতা হওয়ার দুআ:

“রাব্বানা হাব লানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা কুররাতা আইয়ুনিন ওয়াজআলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা।”

(হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের আমাদের জন্য নয়নপ্রীতিকর করুন এবং আমাদের মুত্তাকীনদের নেতা বানিয়ে দিন।) (২৫:৭৪)

সৎকর্ম ও ঈমানের ওপর অবিচল থাকার দুআ:

“রাব্বানা আমান্না ফাগফির লানা ওয়ারহামনা ওয়া আনতা খাইরুর রাহিমিন।”

(হে আমাদের রব! আমরা ঈমান এনেছি, অতএব আমাদের ক্ষমা করুন এবং দয়া করুন; আপনিই শ্রেষ্ঠ দয়ালু।) (২৩:১০৯)

নেককারদের (সালেহীন) সাথে মৃত্যু কামনায় তাসবিহ:

“...ওয়া তাওয়াফফানা মাআল আবরার।”

(এবং আমাদের মৃত্যু দান করুন নেককারদের সাথে।) (৩:১৯৩)

মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধির প্রার্থনা:

“রাব্বি আদখিলনি মুদখালা সিদকিঁও ওয়া আখরিজনি মুখরাজা সিদকিঁও ওয়াজআল লি মিল্লাদুনকা সুলতানান নাসিরা।”

(হে আমার রব! আমাকে সত্যের সাথে প্রবেশ করান এবং সত্যের সাথে বের করুন এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাকে সাহায্যকারী শক্তি দান করুন।) (১৭:৮০)


মানুষ হিসেবে নিজের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন লাভের জন্য আল কুরআনের প্রার্থনা:

ইলম বা জ্ঞান বৃদ্ধির দুআ (ইনসান-এর পূর্ণতা):

“রাব্বি যিদনি ইলমা।” (হে আমার রব! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।) (২০:১১৪)

 মানুষের অনিষ্ট (নাস) থেকে আশ্রয়ের তাসবিহ:

“কুল আউযু বিরাব্বিন নাস, মালিকিন নাস, ইলাহিন নাস...”

(বলুন, আমি আশ্রয় চাই মানুষের রবের কাছে, মানুষের অধিপতির কাছে, মানুষের ইলাহের কাছে...) (১১৪:১-৩)

নিজের নফসের ওপর যুলুম থেকে রক্ষার আর্তি:

“রাব্বানা যলামনা আনফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফির লানা ওয়ারহামনা লানাকুনান্না মিনাল খাসিরিন।”

(হে আমাদের রব! আমরা আমাদের নিজেদের ওপর যুলুম করেছি; আপনি যদি ক্ষমা না করেন ও দয়া না করেন তবে আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবো।) (৭:২৩)

পবিত্র ও উত্তম জীবন (হায়াতান তায়্যিবাহ)-এর তৌফিক:

(হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দিন।) (২:২০১)

“রাব্বানা আতিনা ফিদ দুনিয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়া কিনা আযাবান নার।”
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post