আমাদের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আদি পিতা-মাতা—(সালামুন আলা আদম ও তাঁর স্ত্রী)। তাঁদেরকে জান্নাতের সেই চিরস্থায়ী শান্তির নিবাস থেকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বের করে দিতে যে প্রলুব্ধ করেছিল, সে কে? তার স্বরূপ ও পরিচয় কী? আমরা কি কখনো সেই চিরশত্রুর আসল রূপ জানার প্রয়োজন অনুভব করেছি?
যে সন্তান তার পিতামাতার আদি ইতিহাস ও তাঁদের সাথে হওয়া চরম বিশ্বাসঘাতকতার কথা জানে না, সে তো তার শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন। আর যারা আল্লাহর দেওয়া সত্য বাণী বা ‘অহীর আয়াত’ থেকে এই ইতিহাস জানতে অনাগ্রহী, তারা কি তবে সেই ‘মানুষ-শয়তানদের’ দলেই শামিল হওয়ার পথে? আমাদের আদি পিতা-মাতার চরম শত্রু এবং তাঁর সূক্ষ্ম চক্রান্ত সম্পর্কে আল্লাহ সু.তা. আমাদের চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন:
তাইতো ১০০% অথেনটিক ইতিহাস থেকে প্রয়োজনীয় তথ্যগুলি জেনে নেয়ার চেষ্টা করি-বিঈযনিল্লাহ!
➥ ইবলিশের পরিচয় ও সৃষ্টিতত্ত্ব:
ইবলিশ ফেরেশতা নয়, বরং সে জ্বীন জাতির অন্তর্ভুক্ত-আল কুরআন, আয়াত ১৮:৫০
ইবলিশ আগুনের তৈরি: আগুনের শিখা (ধূম্রহীন অগ্নি) থেকে- আয়াত ৫৫:১৫৭:১২, প্রখর অগ্নিশিখা (লু-হাওয়া) থেকে -আয়াত ১৫:২৭
নোট: কুরআন অনুযায়ী ইবলিশ ফেরেশতাদের সাথে থাকলেও সে ফেরেশতা ছিল না, সে ছিল জ্বীন (১৮:৫০)।
ফেরেশতারা নূরের তৈরি এবং তারা কখনোই আল্লাহর অবাধ্য হয় না (৬৬:৬), কিন্তু ইবলিশ আগুনের তৈরি ছিল এবং সে তার স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি ব্যবহার করে আল্লাহর অবাধ্য হয়েছিল।
➥ মানুষের মধ্য থেকেও শয়তান (মানুষ-শয়তান):
দৃশ্যমান ‘মানুষ শয়তান’ হওয়ার কুরআনিক প্রমাণ:
অহীর বিধান ত্যাগকারীদের শয়তানি কর্মকাণ্ড (মানুষ-শয়তান):
অহীর অনুসরণ ছেড়ে দিলে তারা শয়তানের দলে (হিযবুশ শয়তান) মিশে যায় এবং শয়তানি চক্রান্তে লিপ্ত হয়:
শয়তান তাদের ওপর জয়ী হয়েছে এবং তাদেরকে আল্লাহর স্মরণ (অহীর অনুসরণ) ভুলিয়ে দিয়েছে। তারাই শয়তানের দল। জেনে রেখো, শয়তানের দলই ক্ষতিগ্রস্ত। — আয়াত: ৫৮:১৯ (সূরা আল-মুজাদালা)।
৪. মানুষ শয়তানের পরিচয় ও তাদের কাজ:
যারা অহীর বিধানের বিরোধিতা করে এবং মিথ্যা রচনা করে, আল্লাহ তাদেরকেই ‘মানুষ শয়তান’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন:
“আর এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য মানুষ ও জ্বীন শয়তানদের শত্রু বানিয়েছি, যারা একে অপরকে প্রতারিত করার জন্য চমৎকার চমৎকার কথার প্ররোচনা দেয়...” — আয়াত: ৬:১১২।
৫. কুরআনকে ‘পরিত্যক্ত’ করার পরিণাম:
কিয়ামতের দিন আল্লাহর রাসূলুল্লাহ আল্লাহর কাছে অভিযোগ করবেন তাদের বিরুদ্ধে যারা কুরআনকে ছেড়ে দিয়েছিল:
“রাসূল বলবে— হে আমার রব! আমার কওম তো এই কুরআনকে পরিত্যক্ত (অবহেলিত/অনুসরণহীন) সাব্যস্ত করেছিল।” — আয়াত: ২৫:৩০।
কুরআনের ২:১৪, ২:১০২ এবং ৬:১১২ আয়াতসমূহ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ‘শয়তান’ শব্দটি কেবল অদৃশ্য জ্বীনদের জন্য নয়, বরং ওইসব
মানুষ শয়তান ও জ্বীন শয়তান: আশ্রয় চাওয়ার পূর্বে এদের কর্মকান্ড সম্পর্কে একটা সম্যক ও পরিস্কার ধারনা থাকা জরুরী:
সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কে আঘাত:
বিপদে মোখলেস (একনিষ্ঠ) হওয়ার উদাহরণ ও পুনরায় শিরকের পরিণাম (সমুদ্রের উদাহরণ ও অন্যান্য):
সমুদ্রে বা অন্য কোনো মহাবিপদে পড়ে, তখন সে ক্ষণিকের জন্য 'মোখলেস' হয়। তবে প্রকৃত সফল তারাই, যারা সর্বাবস্থায় (সুখে-দুঃখে) আল্লাহর জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ (খালেস) রাখে (৯৮:৫, ৪০:৬৫)।
29. নবীগণের আশ্রয় প্রার্থনা (অনুরূপ উদাহরণ):
30. শয়তান (জ্বীন ও মানুষ) থেকে আশ্রয় চাওয়ার আয়াতসমূহ:
বিশেষ করে আয়াত ১১৪:৬—
31. আল্লাহর কাছে আশ্রয় (ইস্তিআজা) চাওয়ার নির্দেশ ও দোয়া:
32. তাৎক্ষণিক সুরক্ষা ও প্রতিকার (ইস্তিআজা):
33. আত্মিক সুরক্ষার উপায়:
ইস্তিয়া’জাহ! তাআয়্যুজ:
আঊযুবিল্লাহ! আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা:
আশ্রয় চেয়ে ঐশি ফোন
সবার আগে: শয়তানের উস্কানি-
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-1 〕❖ ──┓
رَّبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَن يَحْضُرُونِ
রব্বী-
আঊ’যুবিকা মিন হামাঝা-তিশ্ শাইয়া-তীন, অ-আঊ’-যুবিকা রব্বী- আইঁ-ইয়াহ্দ্বুরূন।
অর্থ: হে আমার রব-সর্বমহাব্যবস্থাপক! আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি-করব
إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِير
ইন্নাহূ হুওয়াস্ সামী‘উল্ বাছীর।
অর্থ: নিশ্চয়ই তিনি, তিনিই সর্বস্পন্দনগ্রাহী, অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন-আল কুরআন ৪০:৫৬
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-2 〕❖ ──┓
أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ◌ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ◌ وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ
◌وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ◌ وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ
আ‘ঊযু বিরব্বিল্ ফালাক্ব। মিন্ শাররি মা-খলাক্ব। অমিন্ শাররি গ-সিক্বিন্ ইযা-অক্বাব্। অমিন্ শাররি ন্নাফ্ফা-ছা-তি ফিল্ ‘উক্বদ্। অমিন্ শাররি হা-সিদিন্ ইযা-হাসাদ্।
অর্থ: আমি আশ্রয় চাচ্ছি প্রভাতের ররের কাছে। যা তিনি সৃষ্টি করেছেন সেসবের অনিষ্ট থেকে। এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন রাতের অনিষ্ট থেকে, যখন তা গভীর হয়। এবং গিরার মধ্যে ফুঁৎকারকারিণীদের অনিষ্ট থেকে এবং হিংসুকের (ঈর্ষাপরায়ণতার) অনিষ্ঠ থেকে এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে- আল কুরআন ১১৩:১-৫ (১৭:৬৪, ৬:৯৫-৯৬)।
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-3 〕❖ ──┓
أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ◌ مَلِكِ النَّاسِ◌ إِلَـٰهِ النَّاسِ◌مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ◌ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ
আ‘ঊযু বিরব্বিন্না-স্। মালিকিন্না-স্। ইলা-হি ন্না-স্। মিন্ শাররিল ওয়াস্ ওয়া-সিল্ খান্না-সি। আল্লাযী ইউওয়াস্ওয়িসু ফী ছুদূরিন্না-স্। মিনাল্ জ্বিন্নাতি অন্না-স্।
অর্থ: আমি আশ্রয় চাচ্ছি মানুষের ররের কাছে। মানুষের মালিক। মানুষের ইলাহ। প্ররোচনাদানকারী খন্নাসের অনিষ্ট থেকে। যে মানুষের অন্তরসমূহের মধ্যে প্ররোচনা দেয়। জ্বীন ও মানুষের মধ্য থেকে।- আল কুরআন ১১৪:১-৬
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-4 〕❖ ──┓
আন্নী মাস্ সানিয়াশ্ শাইত্বোয়া-নু বিনুছ্বিঁও অ‘আযা-ব্।
অর্থ: (স্মরণ করো আমার বান্দা আইয়ুবের কথা! যখন সে তার রবকে ডেকেছিল-) যে আমি, আমাকে কষ্ট ও যন্ত্রণা দিয়ে শয়তান স্পর্শ করেছে! -আল কুরআন ৩৮:৪১
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-5 〕❖ ──┓
আল্লাহর আয়াত তথা হুকুম
নিয়ে ঠাট্রা-বিদ্রæপ করলে যা পাঠ করতে হবে- জাহিলিয়াত থেকে মুক্তি চেয়ে: তুমি কখনও
মুর্খ /অজ্ঞ/ জাহেল লোকদের দলে শামিল হয়োনা- AvqvZ ৬:৩৫ (১১:৪৬, ১০:৮৯):
أَعُوذُ بِٱللَّهِ أَنْ أَكُونَ مِنَ ٱلْجَـهِلِينَ
আ‘ঊযুবিল্লা-হি আন্ আকূনা মিনাল্ জ্বা-হিলীন্ ।
অর্থ: আল্লাহর নিকট আশ্রয় নিচ্ছি যাতে আমি অজ্ঞ/ অপরিনামদর্শী/ নির্বোধদের অর্ন্তভুক্ত না হই- আল কুরআন ২:৬৭
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-6 〕❖ ──┓
رَبِّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أَسْأَلَكَ مَا لَيْسَ لِي بِهِ عِلْمٌ ۖ وَإِلَّا تَغْفِرْ لِي وَتَرْحَمْنِي أَكُن مِّنَ الْخَاسِرِينَ
রব্বি ইন্নী- আ‘ঊযুবিকা আন্ আস্য়ালাকা মা-লাইসা লী বিহী ‘ইল্ম্; অ ইল্লা-তাগফিরলী অতামহামনী- আকুম্মিনাল্ খা-সিরীন্।
অর্থ: হে আমার রব! আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি আপনার কাছে এমন বিষয় চাওয়া থেকে, যে বিষয়ে আমার কোন জ্ঞান নেই। আর যদি না আপনি আমাকে ক্ষমা করেন এবং দয়া করেন, আমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব- আল কুরআন ১১:৪৭
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-7 〕❖ ──┓
ফাহেশা কর্মকান্ড: জ¦ীন শয়তান ও মানুষ শয়তানের এহেন ফাঁদ থেকে নিজকে রক্ষায় আবেদন
رَبِّ السِّجْنُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِمَّا يَدْعُونَنِي
إِلَيْهِ ۖ وَإِلَّا تَصْرِفْ عَنِّي كَيْدَهُنَّ أَصْبُ إِلَيْهِنَّ وَأَكُن مِّنَ
الْجَاهِلِينَ فَاسْتَجَابَ لَهُ رَبُّهُ فَصَرَفَ عَنْهُ كَيْدَهُنَّ ۚ
إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
রব্বিস্ সিজ্বনু আহাব্বু ইলাইয়্যা মিম্মা- ইয়াদ্‘ঊনানী- ইলাইহি অইল্লা-তাছ্রিফ্ ‘আন্নী কাইদাহুন্না আছ্বু ইলাইহিন্না অআকুম্মিনাল্ জ্বা-হিলীন্।
অর্থ: হে আমার রব! তারা আমাকে যার দিকে আহবান করছে সেটার চেয়ে কারাগারই আমার কাছে অধিক প্রিয়। আর যদি আপনি আমার ক্ষেত্রে তাদের চক্রান্ত প্রতিহত না করেন, আমি তাদের দিকে ঝুঁকে পড়ব এবং আমি হয়ে যাব অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত। নিশ্চয়ই তিনিই সর্বস্পন্দনগ্রাহী, বিস্তৃত জ্ঞানসম্পন্ন- আল কুরআন ১২:৩৩-৩৪
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-8 〕❖ ──┓
খারাপ ও অশ্লীল কাজ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া:
مَعَاذَ
اللَّهِ
মা‘আ-যাল্লাহ!
অর্থ: আল্লাহর আশ্রয় চাই- আল কুরআন ১২:২৩
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-9 〕❖ ──┓
নফসের ওপর বিশ্বাস না করে আল্লাহর রহমতের স্বীকৃতি: মূলত বিনয় এবং নফসের কুপ্রবৃত্তি থেকে আল্লাহর রহমত কামনার স্বীকারোক্তি:
وَمَاۤ اُبَرِّیُٔ نَفۡسِیۡ ۚ اِنَّ النَّفۡسَ لَاَمَّارَۃٌۢ بِالسُّوۡٓءِ اِلَّا مَا رَحِمَ رَبِّیۡ ۚ اِنَّ رَبِّیۡ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ
ওয়া মা উবাররিউ নাফসী, ইন্না নাফসা লা-আম্মারাতুম বিস-সায়ি ইল্লা মা রহিমা রাব্বী; ইন্না রাব্বী গাফুরুর রাহীম।
অর্থ: আমি নিজেকে নির্দোষ মনে করি না (বা নিজেকে সম্পূর্ণ পবিত্র দাবি করি না)। নিশ্চয়ই মানুষের মন (নফস) মন্দ কর্মপ্রবণ, কিন্তু আমার রব যার প্রতি দয়া করেন (সে ব্যতীত)। নিশ্চয়ই আমার রব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু-আয়াত: ১২:৫৩
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-10 〕❖ ──┓
لَّا مَلۡجَأَ مِنَ ٱللَّهِ إِلَّآ
إِلَيۡهِ ثُمَّ تَابَ عَلَيۡهِمۡ لِيَتُوبُوٓاْۚ إِنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلتَّوَّابُ ٱلرَّحِيمُ
লা-মাল্জ্বায়া মিনাল্লা-হ্ ইল্লা- ইলাইহ্; ইন্নাল্লা-হা হুঅত তাওয়্যা-র্বু রহীম
অর্থ: আল্লাহর থেকে কোনো আশ্রয়স্থল নেই তাঁর কাছে ছাড়া। নিশ্চয়ই আল্লাহ, তিনিই তওবা কবুলকারী, দয়ালু- আল কুরআন ৯:১১৮।
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-11 〕❖ ──┓
অপ্রত্যাশিত খারাপ কোন কিছু হওয়া রোধে আশ্রয় লাভ:
(বলুন!) ’রহমান’ থেকে কে তোমাদেরকে হেফাজত করবে রাতে ও দিনে-২১:৪২।
إِنِّىٓ أَعُوذُ بِٱلرَّحْمَٰنِ مِنكَ
إِن كُنتَ تَقِيًّا
ইন্নী- আ‘ঊযু বিররহমা-নি মিন্কা ইন্ কুন্তা তাক্বিয়্যা।
অর্থ: নিশ্চয়ই আমি তোমার থেকে দয়াময়ের কাছে আশ্রয় চাই যদি তুমি সাবধান হও- আল কুরআন ১৯:১৮
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-12 〕❖ ──┓
মুশরিক ও অহংকারীদের ও সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের থেকে আশ্রয়ের দুআ:
إِنِّى عُذْتُ بِرَبِّى وَرَبِّكُم مِّن كُلِّ مُتَكَبِّرٍ لَّا يُؤْمِنُ بِيَوْمِ ٱلْحِسَابِ
ইন্নি উ’যতু বিরব্বী- ওয়ারব্বিাকুম মিন্ কুল্লী মুতাকাব্বিরিল্লা- ইয়ু’মিনু বিইয়াওমিল্ হিছা-ব।
অর্থ: নিশ্চয়ই আমি আমার রবের ও তোমাদের রবের কাছে প্রত্যেক অহংকারী থেকে আশ্রয় চাচ্ছি, যে হিসাবের দিনের প্রতি বিশ^াস রাখে না- আল কুরআন ৪০:২৭ (২৬:১১৩)।
মূশরিকদের থেকে আশ্রয় লাভের বিশেষ দরখাস্ত-13
رَبَّنَا آتِنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً
وَهَيِّئْ لَنَا مِنْ أَمْرِنَا رَشَدًا
রাব্বানা- আতিনা- মিল্লাদুনকা রাহমাতাওঁ ওয়া হাইয়্যি’লানা- মিন আমরিনা- রাশাদা-।
অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদেরকে আপনার পক্ষ থেকে রহমত দান করুন এবং আমাদের জন্য আমাদের কাজর্কম সঠিকভাবে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করে দিন!-আয়াত ১৮:১০।
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-14 〕❖ ──┓
আল্লাহর নাযিলকৃত আয়াত
অপছন্দকারী, কাফিরদের আক্রমনের বিরুদ্ধে আশ্রয়ে যা বলতে হবে:
(তারা বলল, অবশ্যই যদি তুমি বিরত না হও, হে নূহ! তুমি নিশ্চয়ই পাথরের আঘাতে নিহতদের অর্ন্তভুক্ত হবে-২৬:১১৬)
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-15 〕❖ ──┓
وَإِنِّي عُذْتُ بِرَبِّي وَرَبِّكُمْ
أَن تَرْجُمُونِ
ইন্নী ‘উয্তু বিরব্বী অরব্বিকুম্ আন্ তার্জুমূন্।
অর্থ: নিশ্চয়ই আমি আমার রবের এবং তোমাদের রবের কাছে আশ্রয় গ্রহন করেছি, পাছে তোমরা আমাকে রজম করো-৪৪:২০ (২৬:১১৬)।
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-16 〕❖ ──┓
নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা ও মুসলিম
(সমর্পিত) একজন হিসাবে মৃত্যুর দোয়া :
فَاطِرَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ اَنۡتَ وَلِیّٖ فِی الدُّنۡیَا وَالۡاٰخِرَۃِ ۖ تَوَفَّنِیۡ مُسۡلِمًا وَّ اَلۡحِقۡنِیۡ بِالصّٰلِحِیۡنَ
ফাতিরাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি আনতা ওলিয়্যী ফিদ্দুনিয়া ওয়াল আখিরাতি, তাওয়াফ্ফানী মুসলিমীওঁ ওয়া আলহিকনী বিস-সালিহীন।
অর্থ: হে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা! আপনিই ইহকাল ও পরকালে আমার অভিভাবক। আপনি আমাকে মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দান করুন এবং নেককারদের সাথে আমাকে মিলিত করুন। (আয়াত: 12:101)
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-17 〕❖ ──┓
অন্তর (সাদর) -এর সংকীর্ণতা
দূরীকরণে তাসবিহ:
رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي - وَيَسِّرْ
لِي أَمْرِي
উচ্চারণ: রাব্বিশ রাহলী সাদরী; অ-ইয়াসসির লী আমরী।
অর্থ: হে আমার রব! আমার বক্ষ (সদর) আমার জন্য প্রশস্ত করে দিন এবং আমার কাজ আমার জন্য সহজ করে দিন। (সূরা ত্বহা ২০:২৫-২৬)
(সংকীর্ণতা দূরীকরণে তাসবিহ: যখন বিদ্রূপকারীরা আজেবাজে কথা বা কটাক্ষ করে, তখন মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই কষ্টের সৃষ্টি হয়। আল্লাহ রব্বুল আলামিন এর আধ্যাত্মিক (Metaphysical) সমাধান দিয়েছেন সূরা আল-হিজরে: আমি তো জানি যে, তারা যা বলে তাতে আপনার অন্তর (সাদর) সংকুচিত হয়। সুতরাং আপনি আপনার রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা (তাসবিহ) করুন এবং সাজদাহকারীদের অন্তর্ভুক্ত হোন-(১৫:৯৭-৯৮)।
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-18 〕❖ ──┓
জালিম ও সত্য বিমুখদের অনিষ্ট থেকে আশ্রয়ের
দুআ:
رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِّلْقَوْمِ الظَّالِمِينَ - وَنَجِّنَا بِرَحْمَتِكَ مِنَ الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
উচ্চারণ: রাব্বানা লা তাজআলনা ফিতনাতাল লিলক্বাউমিয যালে মীন; অ-নাজ্জিনা বিরাহমাতিকা মিনাল ক্বাউমিল কাফিরীন।
অর্থ: হে আমাদের রব! আপনি আমাদের এই জালিম কওমের পরীক্ষার পাত্র বানাবেন না। এবং আপনার অনুগ্রহে আমাদের এই কাফির কওম হতে নাজাত (মুক্তি) দিন। (সূরা ইউনুস ১০:৮৫-৮৬)
নোট: সবচেয়ে বড় জালিমের পরিচয়: আর কে তার চেয়ে বড় জালিম, যাকে তার রবের আয়াতসমূহ দিয়ে উপদেশ দেয়া হয়, এরপরও সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়-আয়াত ১৮:৫৭ (৬:২১, ৬:৯৩)
┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-19 〕❖ ──┓
আল্লাহর আয়াত থেকে বিমুখ ও দ্বীন নিয়ে বিদ্রূপকারীদের
বিষয়ে আল্লাহর ঘোষণা (তাকওয়া ও ধৈর্যের তাসবিহ):
حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ ۖ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ ۖ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ
উচ্চারণ: হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া; আলাইহি তাওয়াক্কালতু অ-হুয়া রাব্বুল আরশিল আযীম।
অর্থ: আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি এবং তিনি মহান আরশের রব। (সূরা আত-তাওবাহ ৯:১২৯)
┏── ❖〔যখন তুমি ভুলে যাবে-20 〕❖ ──┓
আল্লাহর ইচ্ছা করা ব্যতীত। আর যখন তুমি ভুলে যাবে, তোমার রবকে স্মরণ করো এবং বলো-
عَسٰۤی اَنۡ یَّہۡدِیَنِ رَبِّیۡ لِاَقۡرَبَ مِنۡ ہٰذَا رَشَدًا
আশা করা যায় যে, আমরা রব আমাকে হিদায়েত দিবেন, যেন আমি এর চেয়েও আলোকিত পথের নৈকট্য লাভ করতে পারি-18:24
┏─ ❖〔ভুল দ্রুটির
জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা-19 〕❖ ─┓
رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا
أَوْ أَخْطَأْنَا
رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا
كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا
رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا
طَاقَةَ لَنَا بِهِ ۖ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا ۚ أَنتَ مَوْلَانَا
فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
উচ্চারণ:
রব্বানা লা তু’আখিযনা ইন নাসীনা
আও আখতা’না।
রব্বানা
ওয়া লা তাহমিল
‘আলাইনা ইসরান কামা
হামালতাহু ‘আলাল্লাযীনা মিন ক্বাবলিনা।
রব্বানা ওয়া লা তুহাম্মিলনা মা লা তাক্বাতা লানা বিহ। ওয়া‘ফু ‘আন্না, ওয়া’গফির লানা, ওয়ারহামনা। আনতা মাওলানা ফানসুরনা ‘আলাল ক্বাওমিল কাফিরীন।
অর্থ:
হে আমাদের রব!
আমরা যদি ভুলে
যাই বা ভুল
করি, আপনি আমাদের ধরবেন
না।
হে আমাদের রব! আর আপনি আমাদের ওপর
তেমন ভার অর্পণ
করবেন না, যেমন
আমাদের পূর্বে যারা
ছিল তাদের ওপর
তা অর্পণ করেছিলেন।
হে আমাদের রব! আর আপনি আমাদেরকে এমনকিছু অর্পণ করবেন না, যেটার সামর্থ্য আমাদের নেই। আর আপনি আমাদের মাফ করুন এবং আপনি আমাদের ক্ষমা করুন আর আপনি আমাদের অনুগ্রহ করুন। আপনিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং আপনি আমাদেরকে কাফির জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সাহায্য করুন- আল কুরআন ২:২৮৬
মুখলিস বান্দার সারাক্ষণের দুআ-তাসবিহ-20
لَّآ اِلٰهَ اِلَّآ اَنْتَ سُبْحٰنَكَ
اِنِّيْ كُنْتُ مِنَ الظّٰلِمِيْنَ
লা-হা ইল্লা-আংতা সুবহা-নাকা ইন্নী কুন্তু মিনাজ জোয়া-লিমীন্।
অর্থ: আপনি ছাড়া ইলাহ নেই, আপনি অপবিত্রতামুক্ত! নিশ্চয়ই আমি, আমিই হলাম জালিমদের অর্ন্তভুক্ত- আল কুরআন ২১:৮৭
❖〔মুখলিস বান্দার সারাক্ষণের দুআ-তাসবিহ-21 〕❖
هُوَ الْحَيُّ لَا إِلَـٰهَ إِلَّا
هُوَ
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
হুওয়াল হাইয়্যু লা-ইলাহা ইল্লা হওয়া
আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন!
তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই।
অতএব, তাঁকে ডাক তাঁর খাঁটি (মুখলিছিন) এবাদতের মাধ্যমে।
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহর-40:65
নোট: কারন, কেবলমাত্র মুখলিস বান্দাদেরকে ইবলিশ শয়তান পদচ্যুত করতে পারে না। (দ্র: আয়াত ১৫:৩৯-৪০)
