মানুষ শয়তান ও জ্বীন শয়তান কারা তারা? কেন তাদের থেকে বাঁচতে আশ্রয় চাইতে বলা হয়েছে? আশ্রয় প্রার্থনার সঠিক ফরম্যাট (devils-Iblis- Auzubillah-Mans & Jins)

আমাদের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আদি পিতা-মাতা—(সালামুন আলা আদম ও তাঁর স্ত্রী)। তাঁদেরকে জান্নাতের সেই চিরস্থায়ী শান্তির নিবাস থেকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বের করে দিতে যে প্রলুব্ধ করেছিল, সে কে? তার স্বরূপ ও পরিচয় কী? আমরা কি কখনো সেই চিরশত্রুর আসল রূপ জানার প্রয়োজন অনুভব করেছি?

যে সন্তান তার পিতামাতার আদি ইতিহাস ও তাঁদের সাথে হওয়া চরম বিশ্বাসঘাতকতার কথা জানে না, সে তো তার শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন। আর যারা আল্লাহর দেওয়া সত্য বাণী বা ‘অহীর আয়াত’ থেকে এই ইতিহাস জানতে অনাগ্রহী, তারা কি তবে সেই ‘মানুষ-শয়তানদের’ দলেই শামিল হওয়ার পথে? আমাদের আদি পিতা-মাতার চরম শত্রু এবং তাঁর সূক্ষ্ম চক্রান্ত সম্পর্কে আল্লাহ সু.তা. আমাদের চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন:

“হে বনী আদম! শয়তান যেন তোমাদের প্রলুব্ধ না করে, যেভাবে সে তোমাদের পিতা-মাতাকে জান্নাত থেকে বের করেছিল। সে তাদের উভয় থেকে তাদের পোশাক খুলে ফেলেছিল, যাতে সে তাদের লজ্জাস্থানগুলো তাদের সামনে প্রকাশ করতে পারে। নিশ্চয় সে ও তার দলবল তোমাদেরকে এমনভাবে দেখে যে, তোমরা তাদেরকে দেখ না। নিশ্চয় আমরা শয়তানগুলোকে তাদের জন্য বন্ধু বা অভিভাবক (কর্তৃত্বকারী) বানিয়েছি, যারা ঈমান আনে না।” — (সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত: ৭:২৭)

এই চিরশত্রুর আক্রমণ থেকে বাঁচতে হলে তার প্রতিটি ফাঁদ, তার চরিত্র এবং তার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে জানা আমাদের জন্য অপরিহার্য। নিচে কুরআনের আলোকে শয়তানের সেই বহুমুখী চক্রান্ত ও তার থেকে বাঁচার উপায়সমূহ বিস্তারিত তুলে ধরা হলো—

তাইতো ১০০% অথেনটিক ইতিহাস থেকে প্রয়োজনীয় তথ্যগুলি জেনে নেয়ার চেষ্টা করি-বিঈযনিল্লাহ!  

➥ ইবলিশের পরিচয় ও সৃষ্টিতত্ত্ব:

ইবলিশ ফেরেশতা নয়, বরং সে জ্বীন জাতির অন্তর্ভুক্ত-আল কুরআন, আয়াত ১৮:৫০

ইবলিশ আগুনের তৈরি: আগুনের শিখা (ধূম্রহীন অগ্নি) থেকে- আয়াত ৫৫:১৫৭:১২, প্রখর অগ্নিশিখা (লু-হাওয়া) থেকে -আয়াত ১৫:২৭

নোট:  কুরআন অনুযায়ী ইবলিশ ফেরেশতাদের সাথে থাকলেও সে ফেরেশতা ছিল না, সে ছিল জ্বীন (১৮:৫০)।

ফেরেশতারা নূরের তৈরি এবং তারা কখনোই আল্লাহর অবাধ্য হয় না (৬৬:৬), কিন্তু ইবলিশ আগুনের তৈরি ছিল এবং সে তার স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি ব্যবহার করে আল্লাহর অবাধ্য হয়েছিল।

➥ মানুষের মধ্য থেকেও শয়তান (মানুষ-শয়তান):

শয়তান কেবল জ্বীন জাতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, মানুষের মধ্যেও শয়তানি বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন একদল থাকে:

মানুষের মধ্য থেকে কুমন্ত্রণাদানকারী: যারা মানুষের মনে কু-ধারণা সৃষ্টি করে, তারা জ্বীন এবং মানুষ—উভয় জাতি থেকেই হয়— আয়াত: ১১৪:৬

মানুষ শয়তানদের গোপন বৈঠক: মুনাফিকরা যখন তাদের শয়তানদের (কুরআন অনুযায়ী সত্য ও ঈমান বিরোধীদের) সাথে একান্তে মিলিত হয়, তখন বলে— ‘আমরা তোমাদের সাথেই আছি’— আয়াত: ২:১৪।


নাযিলকৃত একমাত্র অহীর কিতাবের আয়াত অনুশীলনী ছেড়ে দিলেই সে হয়ে যায় শয়তানের সংগী, শয়তানদের একজনা:

দৃশ্যমান ‘মানুষ শয়তান’ হওয়ার কুরআনিক প্রমাণ:

কুরআনের শব্দ চয়ন ও আয়াতের যোগসূত্র (cross-reference) থেকে বোঝা যায় যে, যারা আল্লাহর নাযিলকৃত স্পষ্ট আয়াত ও ওহীর বিধান বর্জন করে, তারাই প্রকৃতপক্ষে ‘মানুষ শয়তান’।

বিচ্যুতির শুরু (আয়াত ২:৯৯):
আল্লাহ বলেন— "আমি আপনার প্রতি সুষ্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করেছি, যা পাপাচারী (ফাসিক) ছাড়া কেউ অস্বীকার করে না।" অর্থাৎ, যারা ওহীর এই অকাঠ্য জ্ঞান থেকে বিমুখ হয়, তারাই শয়তানের পথে প্রথম কদম রাখে।

ওহী ছেড়ে শয়তানি পথের অনুসরণ (আয়াত ২:১০২):
এই আয়াতে ‘শয়তানদের’ (الشَّيَاطِينُ - শয়তিন) কথা বলা হয়েছে, যারা সালামুন আলা সুলায়মান-এর রাজত্বকালে কুফরি ও বিভ্রান্তিকর বিষয়গুলো মানুষের মাঝে ছড়িয়েছিল। মানুষ যখন আল্লাহর কিতাবকে পিঠের পেছনে ফেলে দেয় (২:১০১), তখনই তারা এই ‘শয়তানদের’ প্রোপাগান্ডা ও বিধান অনুসরণ করতে শুরু করে। এরা মানুষ হিসেবে দৃশ্যমান হলেও কর্মকাণ্ডে শয়তান।

শব্দ চর্চায় ‘মানুষ শয়তান’ (আয়াত ২:১৪):
এখানে মুনাফিকদের সেই কুচক্রী নেতাদের সরাসরি ‘শয়তান’ বলা হয়েছে। আয়াতে ব্যবহৃত শব্দটি হলো— شَيَاطِينِهِمْ (শাইয়াতিনিহিম - তাদের শয়তানরা)। এই শয়তানরা কোনো অদৃশ্য জ্বীন ছিল না, বরং তারা ছিল রক্ত-মাংসের মানুষ যারা ঈমান ও সত্যের বিরোধিতা করত এবং গোপনে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতো।

অবিচ্ছেদ্য শয়তান সঙ্গী (আয়াত ৪৩:৩৬):
যে ব্যক্তি আল্লাহর জিকির বা ওহীর স্মরণ থেকে বিমুখ হয়, আল্লাহ তার জন্য এক শয়তানকে নির্দিষ্ট করে দেন। এই শয়তানটি তার ছায়ার মতো সাথী হয়ে যায়, যা তাকে দৃশ্যমান মানুষ হিসেবেই পরিচালিত করে-আয়াত ৪৩:৩৬

তাদেরকে সেই ব্যক্তির সংবাদ শুনিয়ে দাও, যাকে আমি আমার আয়াতসমূহ দিয়েছিলাম, অথচ সে তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল (অনুসরণ ছেড়ে দিল)। অতঃপর শয়তান তার পেছনে লাগল এবং সে বিপথগামীদের অন্তর্ভুক্ত হলো— আয়াত: ৭:১৭৫।

অহীর বিধান ত্যাগকারীদের শয়তানি কর্মকাণ্ড (মানুষ-শয়তান):

অহীর অনুসরণ ছেড়ে দিলে তারা শয়তানের দলে (হিযবুশ শয়তান) মিশে যায় এবং শয়তানি চক্রান্তে লিপ্ত হয়:

শয়তান তাদের ওপর জয়ী হয়েছে এবং তাদেরকে আল্লাহর স্মরণ (অহীর অনুসরণ) ভুলিয়ে দিয়েছে। তারাই শয়তানের দল। জেনে রেখো, শয়তানের দলই ক্ষতিগ্রস্ত। — আয়াত: ৫৮:১৯ (সূরা আল-মুজাদালা)।

৪. মানুষ শয়তানের পরিচয় ও তাদের কাজ:

যারা অহীর বিধানের বিরোধিতা করে এবং মিথ্যা রচনা করে, আল্লাহ তাদেরকেই ‘মানুষ শয়তান’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন:

“আর এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য মানুষ ও জ্বীন শয়তানদের শত্রু বানিয়েছি, যারা একে অপরকে প্রতারিত করার জন্য চমৎকার চমৎকার কথার প্ররোচনা দেয়...” — আয়াত: ৬:১১২।

৫. কুরআনকে ‘পরিত্যক্ত’ করার পরিণাম:

কিয়ামতের দিন আল্লাহর রাসূলুল্লাহ আল্লাহর কাছে অভিযোগ করবেন তাদের বিরুদ্ধে যারা কুরআনকে ছেড়ে দিয়েছিল:

“রাসূল বলবে— হে আমার রব! আমার কওম তো এই কুরআনকে পরিত্যক্ত (অবহেলিত/অনুসরণহীন) সাব্যস্ত করেছিল।” — আয়াত: ২৫:৩০।

কুরআনের ২:১৪, ২:১০২ এবং ৬:১১২ আয়াতসমূহ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ‘শয়তান’ শব্দটি কেবল অদৃশ্য জ্বীনদের জন্য নয়, বরং ওইসব দৃশ্যমান মানুষদের জন্যও ব্যবহৃত হয়েছে যারা:

১. আল্লাহর নাযিলকৃত আয়াত (২:৯৯) অনুসরণ বাদ দেয়।
২. ওহীর পরিবর্তে বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর শয়তানি মতবাদ (২:১০২) অনুসরণ করে।
৩. সত্য ও ঈমানের বিরুদ্ধে গোপনে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার (২:১৪) চালায়।

সুতরাং, যারা ওহীর অনুশীলন ছেড়ে দিয়ে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ও বিদ্বেষ ছড়ায়, তারাই হলো কুরআনের ভাষায় ‘দৃশ্যমান মানুষ শয়তান’।

চরম শত্রু ও মিথ্যা রচনাকারী: নবীদের বিরুদ্ধে মানুষ ও জ্বীন শয়তানের জোট:

আর ওভাবেই আমরা মানুষদের ও জ্বীনদের শয়তানগুলোকে প্রত্যেক নবীর জন্য শত্রু বানিয়েছি। তাদের একে অপরের প্রতি প্রতারণার উদ্দেশ্যে চমকপ্রদ কথার বার্তা পাঠায় এবং যদি তোমার রব চাইতেন তারা তা করত না। অতএব, তুমি তাদেরকে ছেড়ে দাও এবং সেটা, তারা যা মিথ্যা রচনা করে— আয়াত: ৬:১১২

মানুষ শয়তান ও জ্বীন শয়তান: আশ্রয় চাওয়ার পূর্বে এদের কর্মকান্ড সম্পর্কে একটা সম্যক ও পরিস্কার ধারনা থাকা জরুরী: 

1. ওয়াসওয়াসা (কুমন্ত্রণা) দেয়: দ্র: আয়াত ৫০:১৬ (মানুষের নফস), যেমন, লজ্জাস্থানগুলো থেকে গোপনীয়তা প্রকাশ্য করা- ৭:২০, ২০:১২০, ১১৪:৪-৫।

2. অশ্লীলতা/ফাহেশা ও মন্দ কাজের নির্দেশ দেয়: দ্র: আয়াত ২:২৬৮, ২৪:২১ (সংশোধিত), ৭:২৮।

3. লজ্জাস্থান উন্মুক্ত বা নগ্ন করতে চায়: দ্র: আয়াত ৭:২০, ৭:২২, ৭:২৭।

4. মানুষের চিরশত্রু: শয়তানকে শত্রু হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ—দ্র: আয়াত ৩৫:৬।

5. অদৃশ্য থেকে পর্যবেক্ষণ: শয়তান বা ইবলিশ ও তার দলবল আমাদের দেখতে পায় কিন্তু আমরা তাদের দেখি না—দ্র: আয়াত ৭:২৭।

6. মিথ্যা হিতাকাঙ্ক্ষী সাজা: শয়তান দরদী সেজে মিথ্যা পরামর্শ দেয়—দ্র: আয়াত ৭:২১।

7. অমরত্ব ও ক্ষমতার লোভ দেখায়: ‘অমরত্ব’ বা ‘চিরস্থায়ী রাজত্ব’-এর প্রলোভন দেখানো—দ্র: আয়াত ২০:১২০, ৭:২০।

8. কথার মারপ্যাঁচে বিভেদ: উস্কানি (নাজগা) দিয়ে ঝগড়া বা বিরোধ সৃষ্টি করা—দ্র: আয়াত ১৭:৫৩।

সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কে আঘাত:

9. শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করে: মানুষের মধ্যে শত্রুতা ও ঘৃণা জাগিয়ে তোলা—দ্র: আয়াত ৫:৯১।

10. ক্রোধ ও হত্যা: খুনের পরিস্থিতি ও বিবাদের পেছনে শয়তানের প্ররোচনা—২৮:১৫।

11. আত্মীয়তার সম্পর্কে ফাটল: ভাই ও আত্মীয়দের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো—১২:১০০ (অন্যান্য আয়াত: ১২:১৮, ১২:৮৩)।

12. স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ: যাদু বা অপকৌশলে দাম্পত্য কলহ তৈরি—দ্র: আয়াত ২:১০২।

13. গোপন কানাকানি: মুমিনদের কষ্ট দেওয়ার জন্য শয়তানি গোপন পরামর্শ—দ্র: আয়াত ৫৮:১০।

14. শয়তান ভুলিয়ে দেয়:
আল্লাহর জিকির (আল্লাহর স্মরন/ নাযিলকৃত অহীর কিতাব) ভুলিয়ে দেওয়া: এটি শয়তানের অন্যতম বড় বিজয়—দ্র: আয়াত ৫৮:১৯, ৬৩:৯।

জ্ঞান অন্বেষণ বা সফরের লক্ষ্য ভুলিয়ে দেওয়া: সালামুন আলা মুসা-এর সঙ্গীর মাছের কথা ভুলে যাওয়া—দ্র: আয়াত ১৮:৬৩।

পাপের পরিবেশ থেকে সরে আসার কথা ভুলিয়ে দেওয়া: দ্র: আয়াত ৬:৬৮।

উপকার বা মুক্তির মাধ্যম ভুলিয়ে দেওয়া: সালামুন আলা ইউসুফ -এর কারামুক্তির কথা ভুলিয়ে দিয়েছিল—১২:৪২ (সংশোধিত)।

15. সংযোগ স্থাপনে বাধা: আল্লাহর সাথে সংযোগ স্থাপনে (সালাতে) বাধা দেওয়া—দ্র: আয়াত ৫:৯১।
16. আল্লাহর সৃষ্টি বিকৃতি করা শয়তানের অন্যতম লক্ষ্য: দ্র: আয়াত ৪:১১৯ (বিপরীত বিধান: ৩০:৩০)।

17. ওহীর মধ্যে বিভ্রান্তি: নবীদের দাওয়াতের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা—২২:৫২   ৬:১১২

18. কুরআন গবেষণা ত্যাগ: কুরআন নিয়ে চিন্তাভাবনা না করলে শয়তানি বিভ্রম (সাওলাত) তৈরি হয়—দ্র: আয়াত ৪৭:২৪-২৫।
19. 
সম্পদ ও সন্তানে ভাগ বসানো: ইবলিশ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে ধন-সম্পদ ও সন্তানে অংশীদার হওয়ার ক্ষমতা চায়—১৭:৬৪, ৭:১৭।

20. শয়তানের চ্যালেঞ্জ (পৃথিবীকে সুশোভিত করা) /দুনিয়ার ভোগ-বিলাস ও শয়তানের সুশোভিতকরণ:  আয়াত: ১৫:৩৯

(মানুষের কাছে সুশোভিত করা হয়েছে নারী, সন্তান-সন্তুতি, সোনা-রুপার স্তূপ, বাছাই করা ঘোড়া (আধুনিক যুগে দামী গাড়ি/বাহন), গবাদি পশু এবং ক্ষেতখামার (বাগান/খামার/রিয়েল এস্টেট)। এসবই পার্থিব জীবনের ভোগ-সামগ্রী..." -আয়াত: ৩:১) (৫৭:২০, ১৮:৭, ১৮:৪৬,  ১০২:১-২)

শয়তানের বড় একটি কৌশল হলো মানুষের সামনে দুনিয়ার সম্পদ, নারী, ক্ষমতা এবং প্রাচুর্যকে এমনভাবে 'গ্ল্যামারাইজ' বা সুশোভিত করে তোলা (১৫:৩৯), যাতে মানুষ মনে করে এটাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য (৩:১৪)। অথচ এগুলো কেবল সাময়িক পরীক্ষার উপকরণ (১৮:৭)। মুমিন বান্দা এসব থাকা সত্ত্বেও যেন এগুলোর মোহে পড়ে আল্লাহকে ভুলে না যায়—এটাই হলো আসল সতর্কতা।

21. মন্দ কাজকে সুশোভিত (চমৎকার) করে দেখানো (তাজয়ীন):  শয়তান মানুষের মন্দ কাজগুলোকে তাদের কাছে যুক্তিযুক্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলে:

"...শয়তান তাদের কাজগুলোকে তাদের জন্য সুশোভিত করে দিয়েছিল।" — আয়াত: ৬:৪৩, ১৬:৬৩, ২৭:২৪, ২৯:৩৮।

22. দরিদ্রতার ভয় দেখানো: দান-সদকার সময় শয়তান মানুষকে অভাব ও দারিদ্র্যের ভয় দেখায়—আয়াত: ২:২৬৮।

23. মিথ্যা আশ্বাস ও প্রতারণা: শয়তান মানুষকে কেবল প্রতিশ্রুতি দেয় এবং প্রলোভিত করে, যা আসলে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়—আয়াত: ৪:১২০, ১৭:৬৪।

24. নিজের অনুসারীদের ভয় দেখানো: শয়তান তার অনুসারী বা বন্ধুদের মাধ্যমে মুমিনদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করে—আয়াত: ৩:১৭৫।

25. শয়তানের চরম স্বার্থপরতা ও বিশ্বাসঘাতকতা (শয়তান তো মানুষের জন্য মহাপ্রতারক (বিপদে সাহায্য না করে অনুসারীদের ত্যাগকারী)/ কিয়ামতের দিন শয়তানের আসল রূপ: আয়াত: ৫৯:১৬, ১৪:২২, ৮:৪৮, ২:১৬৬-১৬৭, ২৫:২৯

26. কুফরিতে উস্কানি দিয়ে সটকে পড়া: —আয়াত: ৫৯:১৬।

27. শয়তানের কোনো কর্তৃত্ব নেই  যেখানে বা যার উপরে- শয়তানের সীমাবদ্ধতা ও মুমিনের ঢাল: 

28. আল্লাহর একনিষ্ঠ (মোখলেস)  বান্দাদের ওপর শয়তানের কোনো কর্তৃত্ব নেই—দ্র: আয়াত ১৫:৩৯-৪০, ৩৮:৮২-৮৩।

গ্রেপ্তার থেকে মুক্তি: খাঁটি বান্দারা আল্লাহর কাছে পাকড়াও হবে না—৩৭:১৫৯-১৬০ (আরও আয়াত: ৩৭:৪০, ৩৭:৭৪, ৩৭:১৬৯)।

এখলাস বা বিশুদ্ধতা: যারা দ্বীনকে আল্লাহর জন্য খাঁটি করে—দ্র: আয়াত ৩৯:২-৩, ৪:১৪৬, ৩৯:১১-১২, ৯৮:৫, ৩৮:৪৫-৪৬।

বিপদে মোখলেস (একনিষ্ঠ) হওয়ার উদাহরণ ও পুনরায় শিরকের পরিণাম (সমুদ্রের উদাহরণ ও অন্যান্য):

মুমিন যখন কঠিন বিপদে পড়ে (যেমন উত্তাল সমুদ্রে), তখন সে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকে ডাকে:

■ সমুদ্রে চরম বিপদে একনিষ্ঠ ডাক (ইখলাস): 
দ্র: আয়াত ৩১:৩২, ৯৮:৫, ৪০:৬৫-৬৬, ২৯:৬৫-৬৬,  ৬:৬৩-৬৪, ১০:২২, ১৭:৬৭-৬৮, ৩৯:৮। উদ্ধারের পর অকৃতজ্ঞতা ও শিরকে ফিরে যাওয়া: আয়াত: ২৯:৬৫, ১০:২২-২৩, ১৭:৬৯। স্থলে ফিরে আসা মানেই কি নিরাপদ? (সতর্কবার্তা): আয়াত: ১৭:৬৮, ১৭:৬৯

■ মোখলেস বান্দার আদর্শ শিক্ষা: আয়াতসমূহ: ৭:২৯, ১০:১২, ৩৯:৮, ৩৯:৪৯
■ বিপদে মোখলেস হওয়ার বিভিন্ন অবস্থা: ১৫:৩৯-৪২, ৩৮:৮২-৮৩, ২২:১১, ৩৯:৪৯, ২৯:১০, ৩০:৩৬, ১২:৮৬, ১০:১২, ৭:২৯, ১০:২১।

তাকদীর ও সবরের আয়াতসমূহ: ২:১৫৬, ৯:৫০, ৪২:৩০, ৫৭:২২, ৬৪:১১, ৭:৩৪-৩৫, ৪৩:৪৯-৫০, ১৬:৫৩-৫৫, ৪২:৩৪, ৪১:৫০-৫১।

সমুদ্রে বা অন্য কোনো মহাবিপদে পড়ে, তখন সে ক্ষণিকের জন্য 'মোখলেস' হয়। তবে প্রকৃত সফল তারাই, যারা সর্বাবস্থায় (সুখে-দুঃখে) আল্লাহর জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ (খালেস) রাখে (৯৮:৫, ৪০:৬৫)।

■ শয়তানের কৌশল দুর্বল: "নিশ্চয়ই শয়তানের চক্রান্ত অত্যন্ত দুর্বল"—আয়াত: ৪:৭৬।

■ ভরসাকারীদের ওপর ক্ষমতা নেই: যারা ঈমান আনে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) করে, তাদের ওপর শয়তানের কোনো ক্ষমতা নেই—আয়াত: ১৬:৯৯।

■ শয়তানকে সাহায্যকারী না বানানো: আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানকে অভিভাবক বা বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করার পরিণাম ভয়াবহ—আয়াত: ৪:১১৯, ৭:২৭।

29. নবীগণের আশ্রয় প্রার্থনা (অনুরূপ উদাহরণ):

অজ্ঞতা থেকে আশ্রয়: সালামুন আলা নূহ আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছিলেন এমন বিষয়ে প্রশ্ন করা থেকে যা তিনি জানেন না—আয়াত: ১১:৪৭।

পাপ ও অপবাদ থেকে আশ্রয়: সালামুন আলা ইউসুফ পাপাচার থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর আশ্রয় নিয়েছিলেন—আয়াত: ১২:২৩।

অহংকারী থেকে আশ্রয়: সালামুন আলা মূসা প্রত্যেক অহংকারী (যে বিচার দিবসে বিশ্বাস করে না) থেকে আল্লাহর আশ্রয় চেয়েছিলেন—আয়াত: ৪০:২৭।

30. শয়তান (জ্বীন ও মানুষ) থেকে আশ্রয় চাওয়ার আয়াতসমূহ:

জ্বীন ও মানুষ শয়তান থেকে আশ্রয়: শয়তান শুধু জ্বীনদের মধ্যেই নয়, মানুষের মধ্যেও থাকে। উভয় প্রকার শয়তানের অনিষ্ট থেকে বাঁচার চূড়ান্ত দোয়া— সূরা আন-নাস (১১৪:১-৬)

বিশেষ করে আয়াত ১১৪:৬— (এই কুমন্ত্রণাদানকারী হয়) জ্বীনদের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকে।

উভয় প্রকার শত্রুর অস্তিত্ব: আল্লাহ জানিয়েছেন যে, তিনি প্রত্যেক নবীর জন্য মানুষ ও জ্বীন শয়তানদের শত্রু হিসেবে নিযুক্ত করেছেন— আয়াত: ৬:১১২

31. আল্লাহর কাছে আশ্রয় (ইস্তিআজা) চাওয়ার নির্দেশ ও দোয়া:

কুরআন পাঠের শুরুতে আশ্রয় চাওয়া: যখন তুমি কুরআন পাঠ করবে, তখন অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো — আয়াত: ১৬:৯৮

শয়তানের কুমন্ত্রণা বা রাগের সময় আশ্রয় চাওয়া: যদি শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো উস্কানি (কুমন্ত্রণা) তোমাকে প্ররোচিত করে, তবে আল্লাহর আশ্রয় চাও; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।" — আয়াত: ৭:২০০, ৪১:৩৬ (একই নির্দেশ দুই জায়গায় আছে)।

মানুষ ও জ্বীন শয়তান থেকে আশ্রয় (সূরা আন-নাস): "বলুন, আমি আশ্রয় চাই মানুষের রবের কাছে... যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের মনে, জ্বিনদের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকে।" — আয়াত: ১১৪:১-৬

অনিষ্টকর সব সৃষ্টি ও হিংসুক থেকে আশ্রয় (সূরা আল-ফালাক): "বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি ঊষার রবের... এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।" — আয়াত: ১১৩:১-৫

বিনা দলিলে বিতর্ককারীদের থেকে আশ্রয়: যারা আল্লাহর আয়াত নিয়ে বিনা দলিলে বিতর্ক করে, তাদের অন্তর বড়ত্বে ভরা। তাই তাদের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে— আয়াত: ৪০:৫৬

সন্তান ও বংশধরদের জন্য শয়তান থেকে আশ্রয়: সালামুন আলা মারইয়াম-এর মা তার নবজাতক সন্তান ও তার বংশধরদের জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছিলেন— আয়াত: ৩:৩৬

অজ্ঞতা থেকে আশ্রয় চাওয়া: সালামুন আলা মূসা  বলেছিলেন, "আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই যেন আমি মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত না হই।" — আয়াত: ২:৬৭

 সাধারণ বিস্মৃতি: ভুলে গেলে আল্লাহকে স্মরণ করতে বলা হয়েছে -বিস্মৃতির পর আল্লাহকে স্মরণ করার নির্দেশ—১৮:২৪।

32. তাৎক্ষণিক সুরক্ষা ও প্রতিকার (ইস্তিআজা):

আল্লাহর কাছে শয়তানের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় (ইস্তিআজা) বা পানাহ চাওয়ার জন্য কুরআনে সরাসরি যে আয়াতগুলোতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:

■ কুরআন পাঠের সময় আশ্রয়: অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় নেওয়া— আয়াত: ১৬:৯৮

■ তীব্র ক্রোধ বা উত্তেজনার সময় আশ্রয়: শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো কুমন্ত্রণা অনুভূত হলে তৎক্ষণাৎ আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া— আয়াত: ৭:২০০, ৪১:৩৬

■ অনিষ্টকর সব সৃষ্টি থেকে আশ্রয়: হিংসুক এবং অনিষ্টকর শক্তির (যার মধ্যে শয়তানও অন্তর্ভুক্ত) ক্ষতি থেকে বাঁচতে— সূরা আল-ফালাক (১১৩:১-৫)

ভুলে গেলে: আল্লাহকে স্মরণ করা—১৮:২৪।

33. আত্মিক সুরক্ষার উপায়:

শয়তানের স্পর্শ অনুভব করলেই সতর্কতা: মুত্তাকী লোকদের যখন শয়তান স্পর্শ করে (কুমন্ত্রণা দেয়), তখনই তারা আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তাদের চোখ খুলে যায়—আয়াত: ৭:২০১।

ক্ষমা প্রার্থনা (ইস্তিগফার): শয়তানি বিভ্রান্তি থেকে বাঁচতে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া একটি বড় হাতিয়ার—আয়াত: ৭:২৩ (আদম আ.-এর দোয়া)।

নোট: শয়তান যখন কুমন্ত্রণা দেয়, তখন সে 'জ্বীন' বা 'মানুষ'—যেকোনো রূপেই প্রভাব ফেলতে পারে। এজন্য কুরআন আমাদের শিখিয়েছে যেন আমরা একনিষ্ঠভাবে কেবল আল্লাহর কাছেই আশ্রয় (ইস্তিআজা) প্রার্থনা করি।

শয়তানের কাজ শুধু অদৃশ্য থেকে নয়, বরং মানুষ রূপী শয়তানদের মাধ্যমেও (২:১৪, ১১৪:৬) সে সমাজে বিশৃঙ্খলা, শত্রুতা এবং পাপাচার ছড়িয়ে দেয়। তাই উভয় প্রকার শয়তান থেকেই আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া আবশ্যক।

ইস্তিয়া’জাহ! তাআয়্যুজ: আঊযুবিল্লাহ! আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা: 

আশ্রয় চেয়ে ঐশি ফোন সবার আগে: শয়তানের উস্কানি-প্ররোচনা  ও উপস্থিতি থেকে আশ্রয় : (Defensive measures)

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-1 〕❖ ──┓

رَّبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ  وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَن يَحْضُرُونِ 

রব্বী- আঊ’যুবিকা মিন হামাঝা-তিশ্ শাইয়া-তীন, অ-আঊ’-যুবিকা রব্বী- আইঁ-ইয়াহ্দ্বুরূন। 

অর্থ: হে আমার রব-সর্বমহাব্যবস্থাপক! আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি-করব 

إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِير

ইন্নাহূ হুওয়াস্ সামী‘উল্ বাছীর।

অর্থ: নিশ্চয়ই তিনি, তিনিই সর্বস্পন্দনগ্রাহী, অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন-আল কুরআন ৪০:৫৬ 

 ┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-2 〕❖ ──┓

أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ◌ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ◌ وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ◌وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ◌ وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ 

আ‘ঊযু বিরব্বিল্ ফালাক্ব। মিন্ শাররি মা-খলাক্ব। অমিন্ শাররি গ-সিক্বিন্ ইযা-অক্বাব্। অমিন্ শাররি ন্নাফ্ফা-ছা-তি ফিল্ ‘উক্বদ্। অমিন্ শাররি হা-সিদিন্ ইযা-হাসাদ্।   

অর্থ: আমি আশ্রয় চাচ্ছি প্রভাতের ররের কাছে। যা তিনি সৃষ্টি করেছেন সেসবের অনিষ্ট থেকে। এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন রাতের অনিষ্ট থেকে, যখন তা গভীর হয়। এবং গিরার মধ্যে ফুঁৎকারকারিণীদের অনিষ্ট থেকে এবং হিংসুকের (ঈর্ষাপরায়ণতার) অনিষ্ঠ থেকে এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে- আল কুরআন ১১৩:১-৫ (১৭:৬৪, ৬:৯৫-৯৬)। 

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-3 〕❖ ──┓

أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ◌ مَلِكِ النَّاسِ◌ إِلَـٰهِ النَّاسِ◌مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ◌  مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ 

আ‘ঊযু বিরব্বিন্না-স্।  মালিকিন্না-স্। ইলা-হি ন্না-স্। মিন্ শাররিল ওয়াস্ ওয়া-সিল্ খান্না-সি। আল্লাযী ইউওয়াস্ওয়িসু ফী ছুদূরিন্না-স্। মিনাল্ জ্বিন্নাতি অন্না-স্। 

অর্থ: আমি আশ্রয় চাচ্ছি মানুষের ররের কাছে। মানুষের মালিক। মানুষের ইলাহ। প্ররোচনাদানকারী খন্নাসের অনিষ্ট থেকে।  যে মানুষের অন্তরসমূহের মধ্যে প্ররোচনা দেয়। জ্বীন ও মানুষের মধ্য থেকে।- আল কুরআন ১১৪:১-৬ 

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-4 〕❖ ──┓

 أَنِّي مَسَّنِيَ الشَّيْطَانُ بِنُصْبٍ وَعَذَابٍ 

আন্নী মাস্ সানিয়াশ্ শাইত্বোয়া-নু বিনুছ্বিঁও অ‘আযা-ব্। 

অর্থ: (স্মরণ করো আমার বান্দা আইয়ুবের কথা! যখন সে তার রবকে ডেকেছিল-) যে আমি, আমাকে কষ্ট ও যন্ত্রণা দিয়ে শয়তান স্পর্শ করেছে! -আল কুরআন ৩৮:৪১  

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-5 〕❖ ──┓

আল্লাহর আয়াত তথা হুকুম নিয়ে ঠাট্রা-বিদ্রæপ করলে যা পাঠ করতে হবে- জাহিলিয়াত থেকে মুক্তি চেয়ে: তুমি কখনও মুর্খ /অজ্ঞ/ জাহেল লোকদের দলে শামিল হয়োনা- AvqvZ ৬:৩৫ (১১:৪৬, ১০:৮৯):

أَعُوذُ بِٱللَّهِ أَنْ أَكُونَ مِنَ ٱلْجَـهِلِينَ

আ‘ঊযুবিল্লা-হি আন্ আকূনা মিনাল্ জ্বা-হিলীন্ ।  

অর্থ: আল্লাহর নিকট আশ্রয় নিচ্ছি যাতে আমি অজ্ঞ/ অপরিনামদর্শী/ নির্বোধদের  অর্ন্তভুক্ত না হই- আল কুরআন ২:৬৭ 

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-6 〕❖ ──┓

رَبِّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أَسْأَلَكَ مَا لَيْسَ لِي بِهِ عِلْمٌ ۖ وَإِلَّا تَغْفِرْ لِي وَتَرْحَمْنِي أَكُن مِّنَ الْخَاسِرِينَ 

রব্বি ইন্নী- আ‘ঊযুবিকা আন্ আস্য়ালাকা মা-লাইসা লী বিহী ‘ইল্ম্; অ ইল্লা-তাগফিরলী অতামহামনী- আকুম্মিনাল্ খা-সিরীন্।  

অর্থ: হে আমার রব! আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি আপনার কাছে এমন বিষয় চাওয়া থেকে, যে বিষয়ে আমার কোন জ্ঞান নেই। আর যদি না আপনি আমাকে ক্ষমা করেন এবং দয়া করেন, আমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব- আল কুরআন ১১:৪৭  

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-7 〕❖ ──┓ 

ফাহেশা কর্মকান্ড: জ¦ীন শয়তান ও মানুষ শয়তানের এহেন ফাঁদ থেকে নিজকে রক্ষায় আবেদন

رَبِّ السِّجْنُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِمَّا يَدْعُونَنِي إِلَيْهِ ۖ وَإِلَّا تَصْرِفْ عَنِّي كَيْدَهُنَّ أَصْبُ إِلَيْهِنَّ وَأَكُن مِّنَ الْجَاهِلِينَ  فَاسْتَجَابَ لَهُ رَبُّهُ فَصَرَفَ عَنْهُ كَيْدَهُنَّ ۚ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

রব্বিস্ সিজ্বনু আহাব্বু ইলাইয়্যা মিম্মা- ইয়াদ্‘ঊনানী- ইলাইহি অইল্লা-তাছ্রিফ্ ‘আন্নী কাইদাহুন্না আছ্বু ইলাইহিন্না অআকুম্মিনাল্ জ্বা-হিলীন্। 

অর্থ: হে আমার রব! তারা আমাকে যার দিকে আহবান করছে সেটার চেয়ে কারাগারই আমার কাছে অধিক প্রিয়। আর যদি আপনি আমার ক্ষেত্রে তাদের চক্রান্ত  প্রতিহত না করেন, আমি তাদের দিকে ঝুঁকে পড়ব এবং আমি হয়ে যাব অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত। নিশ্চয়ই তিনিই সর্বস্পন্দনগ্রাহী, বিস্তৃত জ্ঞানসম্পন্ন- আল কুরআন ১২:৩৩-৩৪ 

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-8 〕❖ ──┓

খারাপ ও অশ্লীল কাজ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া:

مَعَاذَ اللَّهِ

মা‘আ-যাল্লাহ!

অর্থ: আল্লাহর আশ্রয় চাই- আল কুরআন ১২:২৩ 

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-9 〕❖ ──┓

নফসের ওপর বিশ্বাস না করে আল্লাহর রহমতের স্বীকৃতি: মূলত বিনয় এবং নফসের কুপ্রবৃত্তি থেকে আল্লাহর রহমত কামনার স্বীকারোক্তি:

وَمَاۤ اُبَرِّیُٔ نَفۡسِیۡ ۚ اِنَّ النَّفۡسَ لَاَمَّارَۃٌۢ بِالسُّوۡٓءِ اِلَّا مَا رَحِمَ رَبِّیۡ ۚ اِنَّ رَبِّیۡ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ  

ওয়া মা উবাররিউ নাফসী, ইন্না নাফসা লা-আম্মারাতুম বিস-সায়ি ইল্লা মা রহিমা রাব্বী; ইন্না রাব্বী গাফুরুর রাহীম।

অর্থ: আমি নিজেকে নির্দোষ মনে করি না (বা নিজেকে সম্পূর্ণ পবিত্র দাবি করি না)। নিশ্চয়ই মানুষের মন (নফস) মন্দ কর্মপ্রবণ, কিন্তু আমার রব যার প্রতি দয়া করেন (সে ব্যতীত)। নিশ্চয়ই আমার রব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু-আয়াত: ১২:৫৩  

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-10 〕❖ ──┓

لَّا مَلۡجَأَ مِنَ ٱللَّهِ إِلَّآ إِلَيۡهِ ثُمَّ تَابَ عَلَيۡهِمۡ لِيَتُوبُوٓاْۚ إِنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلتَّوَّابُ ٱلرَّحِيمُ

লা-মাল্জ্বায়া মিনাল্লা-হ্ ইল্লা- ইলাইহ্; ইন্নাল্লা-হা হুঅত তাওয়্যা-র্বু রহীম   

অর্থ: আল্লাহর থেকে কোনো আশ্রয়স্থল নেই তাঁর কাছে ছাড়া। নিশ্চয়ই আল্লাহ, তিনিই তওবা কবুলকারী, দয়ালু- আল কুরআন ৯:১১৮। 

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-11 〕❖ ──┓

অপ্রত্যাশিত খারাপ কোন কিছু হওয়া রোধে আশ্রয় লাভ: 

(বলুন!) ’রহমান’  থেকে কে তোমাদেরকে হেফাজত করবে রাতে ও দিনে-২১:৪২।

إِنِّىٓ أَعُوذُ بِٱلرَّحْمَٰنِ مِنكَ إِن كُنتَ تَقِيًّا

ইন্নী- আ‘ঊযু বিররহমা-নি মিন্কা ইন্ কুন্তা তাক্বিয়্যা।

অর্থ: নিশ্চয়ই আমি তোমার থেকে দয়াময়ের কাছে আশ্রয় চাই যদি তুমি সাবধান হও- আল কুরআন ১৯:১৮  

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-12 〕❖ ──┓

মুশরিক ও অহংকারীদের ও সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের থেকে আশ্রয়ের দুআ:

إِنِّى عُذْتُ بِرَبِّى وَرَبِّكُم مِّن كُلِّ مُتَكَبِّرٍ لَّا يُؤْمِنُ بِيَوْمِ ٱلْحِسَابِ 

ইন্নি উ’যতু বিরব্বী- ওয়ারব্বিাকুম মিন্ কুল্লী মুতাকাব্বিরিল্লা- ইয়ু’মিনু বিইয়াওমিল্ হিছা-ব। 

অর্থ: নিশ্চয়ই আমি আমার রবের ও তোমাদের রবের কাছে প্রত্যেক অহংকারী থেকে আশ্রয় চাচ্ছি, যে হিসাবের দিনের প্রতি বিশ^াস রাখে না- আল কুরআন ৪০:২৭ (২৬:১১৩)। 

মূশরিকদের থেকে আশ্রয় লাভের বিশেষ দরখাস্ত-13 

رَبَّنَا آتِنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً وَهَيِّئْ لَنَا مِنْ أَمْرِنَا رَشَدًا

রাব্বানা- আতিনা- মিল্লাদুনকা রাহমাতাওঁ ওয়া হাইয়্যি’লানা- মিন আমরিনা- রাশাদা-। 

অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদেরকে আপনার পক্ষ থেকে রহমত দান করুন এবং আমাদের জন্য আমাদের কাজর্কম সঠিকভাবে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করে দিন!-আয়াত ১৮:১০। 

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-14 〕❖ ──┓

আল্লাহর নাযিলকৃত আয়াত অপছন্দকারী, কাফিরদের আক্রমনের বিরুদ্ধে আশ্রয়ে যা বলতে হবে:

(তারা বলল, অবশ্যই যদি তুমি বিরত না হও, হে নূহ! তুমি নিশ্চয়ই পাথরের আঘাতে নিহতদের অর্ন্তভুক্ত হবে-২৬:১১৬)  

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-15 〕❖ ──┓

وَإِنِّي عُذْتُ بِرَبِّي وَرَبِّكُمْ أَن تَرْجُمُونِ

ইন্নী ‘উয্তু বিরব্বী অরব্বিকুম্ আন্ তার্জুমূন্।

অর্থ: নিশ্চয়ই আমি আমার রবের এবং তোমাদের রবের কাছে আশ্রয় গ্রহন করেছি, পাছে তোমরা আমাকে রজম করো-৪৪:২০ (২৬:১১৬)।  

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-16 〕❖ ──┓

নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা ও মুসলিম (সমর্পিত) একজন হিসাবে মৃত্যুর দোয়া :

فَاطِرَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ اَنۡتَ وَلِیّٖ فِی الدُّنۡیَا وَالۡاٰخِرَۃِ ۖ تَوَفَّنِیۡ مُسۡلِمًا وَّ اَلۡحِقۡنِیۡ بِالصّٰلِحِیۡنَ

ফাতিরাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি আনতা ওলিয়্যী ফিদ্দুনিয়া   ওয়াল আখিরাতি, তাওয়াফ্ফানী মুসলিমীওঁ ওয়া আলহিকনী বিস-সালিহীন। 

অর্থ: হে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা! আপনিই ইহকাল ও পরকালে আমার অভিভাবক। আপনি আমাকে মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দান করুন এবং নেককারদের সাথে আমাকে মিলিত করুন। (আয়াত: 12:101) 

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-17 〕❖ ──┓

অন্তর (সাদর) -এর সংকীর্ণতা দূরীকরণে তাসবিহ:

رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي - وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي 

উচ্চারণ: রাব্বিশ রাহলী সাদরী; অ-ইয়াসসির লী আমরী।

অর্থ: হে আমার রব! আমার বক্ষ (সদর) আমার জন্য প্রশস্ত করে দিন এবং আমার কাজ আমার জন্য সহজ করে দিন। (সূরা ত্বহা ২০:২৫-২৬) 

(সংকীর্ণতা দূরীকরণে তাসবিহ: যখন বিদ্রূপকারীরা আজেবাজে কথা বা কটাক্ষ করে, তখন মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই কষ্টের সৃষ্টি হয়। আল্লাহ রব্বুল আলামিন এর আধ্যাত্মিক (Metaphysical) সমাধান দিয়েছেন সূরা আল-হিজরে: আমি তো জানি যে, তারা যা বলে তাতে আপনার অন্তর (সাদর)  সংকুচিত হয়। সুতরাং আপনি আপনার রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা (তাসবিহ) করুন এবং সাজদাহকারীদের অন্তর্ভুক্ত হোন-(১৫:৯৭-৯৮)।

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-18 〕❖ ──┓

জালিম ও সত্য বিমুখদের অনিষ্ট থেকে আশ্রয়ের দুআ:

رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِّلْقَوْمِ الظَّالِمِينَ - وَنَجِّنَا بِرَحْمَتِكَ مِنَ الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ 

উচ্চারণ: রাব্বানা লা তাজআলনা ফিতনাতাল লিলক্বাউমিয যালে মীন; অ-নাজ্জিনা বিরাহমাতিকা মিনাল ক্বাউমিল কাফিরীন। 

অর্থ: হে আমাদের রব! আপনি আমাদের এই জালিম কওমের পরীক্ষার পাত্র বানাবেন না। এবং আপনার অনুগ্রহে আমাদের এই কাফির কওম হতে নাজাত (মুক্তি) দিন।  (সূরা ইউনুস ১০:৮৫-৮৬) 

নোট: সবচেয়ে বড় জালিমের পরিচয়: আর কে তার চেয়ে বড় জালিম, যাকে তার রবের আয়াতসমূহ দিয়ে উপদেশ দেয়া হয়, এরপরও সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়-আয়াত ১৮:৫৭ (৬:২১, ৬:৯৩) 

┏── ❖〔 আশ্রয় লাভের দরখাস্ত-19 〕❖ ──┓

আল্লাহর আয়াত থেকে বিমুখ ও দ্বীন নিয়ে বিদ্রূপকারীদের বিষয়ে আল্লাহর ঘোষণা (তাকওয়া ও ধৈর্যের তাসবিহ):

حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ ۖ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ ۖ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ 

উচ্চারণ: হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া; আলাইহি তাওয়াক্কালতু অ-হুয়া রাব্বুল আরশিল আযীম। 

অর্থ: আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি এবং তিনি মহান আরশের রব। (সূরা আত-তাওবাহ ৯:১২৯) 

┏── ❖〔যখন তুমি ভুলে যাবে-20 〕❖ ──┓

আল্লাহর ইচ্ছা করা ব্যতীত আর যখন তুমি ভুলে যাবে, তোমার রবকে স্মরণ করো এবং বলো-

عَسٰۤی اَنۡ یَّہۡدِیَنِ رَبِّیۡ لِاَقۡرَبَ مِنۡ ہٰذَا رَشَدًا 

আশা করা যায় যে, আমরা রব আমাকে হিদায়েত দিবেন, যেন আমি এর চেয়েও আলোকিত পথের নৈকট্য লাভ করতে পারি-18:24 

┏─ ❖〔ভুল দ্রুটির জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা-19 〕❖ ─┓

رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا

رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا

رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ ۖ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا ۚ أَنتَ مَوْلَانَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ

উচ্চারণ: রব্বানা লা তুআখিযনা ইন নাসীনা আও আখতানা

রব্বানা ওয়া লা তাহমিলআলাইনা ইসরান কামা হামালতাহুআলাল্লাযীনা মিন ক্বাবলিনা

রব্বানা ওয়া লা তুহাম্মিলনা মা লা তাক্বাতা লানা বিহওয়াফুআন্না, ওয়াগফির লানা, ওয়ারহামনাআনতা মাওলানা ফানসুরনাআলাল ক্বাওমিল কাফিরীন 

অর্থ: হে আমাদের রব! আমরা যদি ভুলে যাই বা ভুল করি, আপনি আমাদের ধরবেন না

হে আমাদের রব! আর আপনি আমাদের ওপর তেমন ভার অর্পণ করবেন না, যেমন আমাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের ওপর তা অর্পণ করেছিলেন

হে আমাদের রব! আর আপনি আমাদেরকে এমনকিছু অর্পণ করবেন না, যেটার সামর্থ্য আমাদের নেইআর আপনি আমাদের মাফ করুন এবং আপনি আমাদের ক্ষমা করুন আর আপনি আমাদের অনুগ্রহ করুনআপনিই আমাদের অভিভাবকসুতরাং আপনি আমাদেরকে কাফির জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সাহায্য করুন- আল কুরআন :২৮৬ 

মুখলিস বান্দার সারাক্ষণের দুআ-তাসবিহ-20 

لَّآ اِلٰهَ اِلَّآ اَنْتَ سُبْحٰنَكَ اِنِّيْ كُنْتُ مِنَ الظّٰلِمِيْنَ

লা-হা ইল্লা-আংতা সুবহা-নাকা ইন্নী কুন্তু মিনাজ জোয়া-লিমীন্। 

অর্থ: আপনি ছাড়া ইলাহ নেই, আপনি অপবিত্রতামুক্ত! নিশ্চয়ই আমি, আমিই হলাম জালিমদের অর্ন্তভুক্ত- আল কুরআন ২১:৮৭ 

❖〔মুখলিস বান্দার সারাক্ষণের দুআ-তাসবিহ-21 〕❖

هُوَ الْحَيُّ لَا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ

الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

হুওয়াল হাইয়্যু লা-ইলাহা ইল্লা হওয়া

আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন! 

তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ব্যতীত কোন  উপাস্য নেই।

অতএব, তাঁকে ডাক তাঁর খাঁটি (মুখলিছিন) এবাদতের মাধ্যমে।

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহর-40:65

নোট: কারন, কেবলমাত্র মুখলিস বান্দাদেরকে ইবলিশ শয়তান পদচ্যুত করতে পারে না। (দ্র: আয়াত ১৫:৩৯-৪০)

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post