কবর যিয়ারত, জানাযার সালাত ও মৃতদের সাথে সংযোগ: দোয়ার শর্ত—আল-কুরআনের আলোকে একটি অনুধ্যানমূলক বিশ্লেষণ (Grave, Funeral-Janaza-salat)

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

পার্থিব জীবনের শেষ সীমানা এবং পরকালীন অনন্ত যাত্রার প্রবেশদ্বার হলো ‘কবর’। আল কুরআন মাজীদ এই গন্তব্যকে কেন্দ্র করে মানুষের চিন্তাধারাকে এক সুনির্দিষ্ট কাঠামো প্রদান করেছে। প্রচলিত প্রথা বা ইতিহাসের ঊর্ধ্বে উঠে কেবলমাত্র আল কুরআনের আয়াতসমূহের অভ্যন্তরীণ যোগসূত্র ও শব্দগত বিশ্লেষণ করলে কবর দর্শন ও মৃতদের বিষয়ে এক গভীর ও যুক্তিনির্ভর সত্য উন্মোচিত হয়।

পার্থিব জীবনের মোহ আর পরকালীন গন্তব্যের মাঝে ‘কবর’ এক অনিবার্য সংযোগস্থল। আল কুরআন মাজীদ মানুষের এই যাত্রাপথকে অত্যন্ত সুনিপুণ শব্দশৈলী ও আধ্যাত্মিক গভীরতায় বর্ণনা করেছে। প্রচলিত প্রথা বা ইতিহাসের ঊর্ধ্বে উঠে কেবলমাত্র আল কুরআনের আয়াতসমূহের অভ্যন্তরীণ বিন্যাস (নজম) ও শব্দগত সাদৃশ্য বিশ্লেষণ করলে কবর যিয়ারত বা কবর দর্শন সম্পর্কে এক শাশ্বত ও যৌক্তিক রূপরেখা পাওয়া যায়।

কুরআনি দুআসমূহ নিচের দিকে দ্র:

১. ‘যিয়ারত’ ও ‘মাক্বাবির’: মোহ বনাম বাস্তবতা:

আল কুরআন মাজীদে ‘যিয়ারত’ বা দর্শন করার বিষয়টি সরাসরি কবরের সাথে সম্পৃক্ত করে উল্লেখ করা হয়েছে। সূরা আত-তাকাসুরে আল্লাহ রব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন:

“প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা (ধন-সম্পদ, দুনিয়ার বাড়াবাড়ি) তোমাদেরকে গাফিল করে রেখেছে (মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছে) যতক্ষণ না তোমরা কবরসমূহ দর্শন করো (হাত্তা যুরতুমুল মাকাবির)” (১০২:১-২)

এখানে ‘ঝুরতুম’ (যিয়ারত বা দর্শন করা) একটি সচেতন অবস্থা এবং ‘মাক্বাবির’ (কবরসমূহ) শব্দ দুটির বিন্যাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আল কুরআন এখানে মানুষের পার্থিব প্রতিযোগিতার বিপরীতে কবরের উপস্থিতিকে একটি ‘চরম বাস্তবতা’ হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। এটি কেবল শারীরিকভাবে কবরে প্রবেশ করা নয়, বরং কবরের উপস্থিতিকে উপলব্ধি করে নিজের মোহগ্রস্ততাকে দূর করা। ‘মাক্বাবির’ (কবরসমূহ) এখানে মানুষের শেষ গন্তব্যের এক অমোঘ নির্দশন।

২. ‘কবরের পাশে দণ্ডায়মান হওয়া না হওয়া:’ একটি ইমপ্লাইড এভিডেন্স বা অন্তর্নিহিত ইঙ্গিত:

আল কুরআন মাজীদ কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিষেধের মাধ্যমে বৈধতার সীমা নির্ধারণ করে। কবর যিয়ারত বা কবরের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি বোঝার জন্য সূরা আত-তাওবাহর একটি আয়াত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

“এবং তাদের (মুনাফিকদের:  যারা কুফর করে এবং তারা ফাসিক অবস্থায় মারা যায়) মধ্যে কারো মৃত্যু হলে তুমি কখনো তার ওপর সালাত আদায় করবে না এবং তার কবরের পাশে দাঁড়াবে না (লা তাক্বুম ‘আলা ক্বাবরিহি)।” (৯:৮৪)

এই আয়াতে ‘লা তাক্বুম’ (দাঁড়াবে না) শব্দটির প্রয়োগ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর (মুনাফিক: যারা কুফর করে এবং তারা ফাসিক অবস্থায় মারা যায়) জন্য নিষেধাজ্ঞা। কুরআনের এই বিশেষ বিন্যাস পদ্ধতি (negative implication) ইঙ্গিত দেয় যে, যারা ঈমানদার তাদের কবরের পাশে দাঁড়ানো বা অবস্থান করা একটি স্বীকৃত ও অনুসৃত বিষয় ছিল বলে অনুধাবনে আসে। 

এটিও ভাবনার বিষয় যে, যদি মুমিনদের কবরের পাশে দাঁড়ানো বা যিয়ারত করার বিধান না থাকত, তবে বিশেষ করে মুনাফিকদের কবরের পাশে দাঁড়াতে নিষেধ করার কোনো প্রাসঙ্গিকতা থাকত না। এটি ‘তাফসিরুল কুরআন বিল কুরআন’ পদ্ধতির একটি সূক্ষ্ম দিক। কারন, আবার বলা হযেছে-

তাদের ধনসম্পদ থেকে সাদাকা গ্রহণ করো। সেটার মাধ্যমে তুমি তাদেরকে পবিত্র করবে এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবে। আর তাদের জন্য দুআ করো (সল্লি করো  বা তাদের সাথে কানেকটেড হও)। নিশ্চয় তোমার দুআ তাদের জন্য প্রশান্তি। আর আল্লাহ সর্বস্পন্দনগ্রাহী, বিস্তৃত জ্ঞানসম্পন্ন। (সূরা আত-তাওবাহ ৯:১০৩)

৩. মাটি ও মানুষের আদি-অন্ত সম্পর্ক: অনুধাবনের ভিত্তি:

গভীর অনুধাবনে কবর যিয়ারতের মূল উদ্দেশ্য যদি এই হয়- নিজের উৎস ও গন্তব্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া। আল কুরআন এই সংযোগকে এভাবে তুলে ধরেছে:

“মাটি থেকেই আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি, তাতেই তোমাদের ফিরিয়ে দেব এবং তা থেকেই পুনরায় তোমাদের বের করে আনব।” (২০:৫৫)

অনুধাবনে কবর দর্শন করার সময় একজন মানুষ যখন এই আয়াতের প্রতিফলন নিজের চোখের সামনে দেখে, তখন তার মধ্যে পার্থিব অহমিকার পরিবর্তে বিনয় (খুশু) তৈরি হয়। কবরের এই ‘ফিরিয়ে নেওয়া’ (রুজু) এবং ‘বের করা’ (বা’আস)-এর দৃশ্যপট মানুষের আধ্যাত্মিক চেতনাকে জাগ্রত করে।

৪. শর্তসাপেক্ষে বিদেহী আত্মাদের জন্য প্রার্থনা: একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধন:

কবর যিয়ারত কেবল একটি শারীরিক উপস্থিতি নয়, বরং এটি পূর্বসূরিদের সাথে উত্তরসূরিদের একটি আধ্যাত্মিক ও দোয়াভিত্তিক সংযোগ। আল কুরআন এই সুন্দর শিক্ষা প্রদান করেছে:

“এবং যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে: হে আমাদের রব! আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের সেই ভাইদেরও যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে।” (৫৯:১০)

এখানে ‘আল্লাযিনা সাবাকুনা বিল ঈমান’ (যারা ঈমানে আমাদের অগ্রগামী) শব্দগুচ্ছটি কবরস্থ মুমিনদের প্রতি জীবিতদের মমত্ববোধ ও সংযোগের প্রমাণ। এই দোয়াটি স্থান ও কালের সীমানা পেরিয়ে মৃত ও জীবিতের মাঝে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করে।

৫.অবজ্ঞা বনাম সম্মান:

আল কুরআন মাজীদে একদিকে যেমন মুমিনদের কবরের প্রতি সম্মান ও দোয়ার ইঙ্গিত রয়েছে, অন্যদিকে কাফিরদের সম্পর্কে বলা হয়েছে:

“তারা কবরের অধিবাসীদের সম্পর্কে আশাহত হয়েছে, যেমন কাফিররা আশাহত হয়েছে (পরকাল সম্পর্কে)।” (৬০:১৩)

এই আয়াতটি মুমিন ও কাফিরদের দৃষ্টিভঙ্গির এক বিশাল পার্থক্য তুলে ধরে। মুমিন যখন কবর যিয়ারত করে, সে আশাবাদী থাকে আল্লাহর রহমতের প্রতি এবং সে ‘বারযাখ’-এর জীবনের প্রতি বিশ্বাস রেখে দোয়া করে। পক্ষান্তরে, যাদের বিশ্বাস নেই, তাদের কাছে কবর এক অন্ধকার গহ্বর ও আশাহীনতার প্রতীক।

6. শোনানো ও শোনার সীমা: একটি সংগত বিশ্লেষণ:

কবর যিয়ারতের ক্ষেত্রে একটি মৌলিক প্রশ্ন হলো—মৃত ব্যক্তি কি জীবিতদের কথা শুনতে পায়? আল কুরআন এই বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন শব্দ প্রয়োগ করেছে:

“এবং তুমি শোনানোর ক্ষমতা রাখো না তাদের, যারা কবরসমূহে রয়েছে (ফিল ক্বুবূর)।” (৩৫:২২)

এই আয়াতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অন্য একটি আয়াত হলো:

“নিশ্চয়ই তুমি মৃতদের শোনাতে পারবে না (লা তুসমি‘উল মাউতা) এবং তুমি বধিরকেও আহ্বান শোনাতে পারবে না যখন তারা মুখ ফিরিয়ে চলে যায়।” (২৭:৮০)

এখানে ‘শোনানো’ (ইসমা’) শব্দটি দ্বারা হেদায়াত বা সংস্কারের আহ্বানকে বোঝানো হয়েছে। আল কুরআন এখানে একটি আধ্যাত্মিক সংযোগ (reciprocal connection) তৈরি করেছে—যে ব্যক্তি আধ্যাত্মিকভাবে মৃত, তাকে যেমন জীবন্ত অবস্থায় শোনানো সম্ভব নয়, তেমনি শারীরিকভাবে যারা মৃত (কবরস্থ), তাদেরও কোনো নসিহত বা সংশোধন শোনানোর সুযোগ নেই। এটি মানুষের কর্মকাল বা ‘আমল’-এর সমাপ্তি নির্দেশ করে।

6. মৃত ব্যক্তিকে রক্ষা করার সীমাবদ্ধতা ও  ফয়সালা:

কবর যিয়ারত কি কোনো মৃত ব্যক্তির ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে? আল কুরআন এই ক্ষেত্রে মানুষের সীমাবদ্ধতা ও আল্লাহর সার্বভৌমত্বের এক কঠোর চিত্র (contrasting image) তুলে ধরেছে:

“তবে কি সে, যার ওপর শাস্তির আদেশ অবধারিত হয়ে গিয়েছে! তবে কি তুমি আগুনের মধ্যে যে আছে তাকে বাঁচাতে পারবে?” (৩৯:১৯)

এই আয়াতটি একটি ইমপ্লাইড এভিডেন্স বা অন্তর্নিহিত ইঙ্গিত প্রদান করে যে, মৃত্যুর পর মানুষের ফয়সালা তার নিজের আমলের ওপর ভিত্তি করেই হবে। যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে কারো আজাব অবধারিত হয়ে থাকে, তবে কোনো মানুষের উপস্থিতি বা যিয়ারত তাকে সেই আগুন থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম নয়। এখানে ‘বাঁচাতে পারা’ (তানকুযু) শব্দের ব্যবহার প্রমাণ করে যে, মানুষের ইচ্ছা বা চেষ্টা পরকালীন ফয়সালার ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না।

৪. দোয়ার শর্ত ও পরিসীমা: ঈমানি ভ্রাতৃত্বের বন্ধন:

আল কুরআন মৃতদের জন্য দোয়ার বিষয়টি একটি বিশেষ শর্তের সাথে যুক্ত করেছে। এই দোয়া কেবল তাদের জন্য, যারা ‘ঈমান’ নিয়ে বিদায় নিয়েছেন। আল্লাহ রব্বুল আলামিন শেখাচ্ছেন:

رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِّلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ

রব্বানাগফির লানা অলি ইখওয়া-নিনাল্লাযীনা সাবাক্বূনা বিল ঈমা-নি অলা- তাঝ‘আল ফী ক্বুলূবিনা- গিল্লাল লিল্লাযীনা আ-মানূ রব্বানা- ইন্নাকা রাউফুর রহীম।

অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের সেই ভাইদেরও যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে। আর ঈমানদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আপনি অতি দয়ালু, পরম করুণাময়। (৫৯:১০)

এখানে ‘সাবাক্বুনা বিল ঈমান’ শব্দগুচ্ছটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি ‘ফিল্টার’ বা মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে। যারা কুফর বা অবাধ্যতায় লিপ্ত থেকে মৃত্যুবরণ করেছে, তাদের জন্য প্রার্থনা করার কোনো অবকাশ কুরআন রাখেনি। এর বিপরীতে একটি বিপরীতমুখী বিধান (contrast) পাওয়া যায় সূরা আত-তাওবায়:

“নবী ও মুমিনদের জন্য সংগত নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে—যদিও তারা নিকটাত্মীয় হয়—যখন তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, তারা প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসী।” (৯:১১৩)

এই আয়াতদ্বয়ের পারস্পরিক বিন্যাস (নজম) প্রমাণ করে যে, কবর যিয়ারত বা মৃতদের জন্য দোয়া মূলত একটি ঈমানি সংহতি। এটি কেবল মুমিনদের পরস্পরের প্রতি মমত্ববোধের বহিঃপ্রকাশ, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত লাভের একটি মাধ্যম হতে পারে, কিন্তু তা কোনোভাবেই আল্লাহর অবধারিত ফয়সালাকে পাল্টে দেওয়ার হাতিয়ার নয়।

5. অনুধাবন: আল কুরআনের সামগ্রিক শব্দবিন্যাস ও আলোচনার প্রেক্ষিতে কবর যিয়ারত সম্পর্কে নিম্নোক্ত যৌক্তিক পূর্ণতা পাওয়া যায়:

আত্মিক চিকিৎসা: কবর যিয়ারতের প্রধান উদ্দেশ্য জীবিত মানুষের নিজের মোহমুক্তি এবং পরকাল ভাবনা জাগ্রত করা (১০২:২)।

কর্মের পরিসমাপ্তি: মৃত ব্যক্তিকে পার্থিব কোনো আহ্বান শোনানো বা হেদায়াত দেওয়া অসম্ভব (৩৫:২২), কারণ তার আমলের খাতা বন্ধ হয়ে গেছে।

দোয়ার পরিসীমা: যিয়ারত বা দোয়ার সুফল কেবল তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা ‘ঈমানের’ শর্ত পূরণ করে বিদায় নিয়েছে (৫৯:১০)।

ঐশ্বরিক সার্বভৌমত্ব: কারো আজাব অবধারিত হয়ে থাকলে তাকে বাঁচানোর সাধ্য কোনো মানুষের নেই (৩৯:১৯)।

সুতরাং, আল কুরআন মাজীদের দৃষ্টিতে কবর যিয়ারত হলো—নিজেদের জন্য এক আধ্যাত্মিক শিক্ষা এবং পূর্বসূরি ঈমানদার ভাইদের প্রতি আল্লাহর রহমত কামনার একটি বিনম্র প্রয়াস।


অহীর সংযোগহীনতাকে “জীবিত মৃত'' বা  আধ্যাত্মিক মৃত্যু বলা হয়েছে:

আল কুরআন মাজীদ কেবল শারীরিকভাবে প্রাণহীনদেরই ‘মৃত’ বলে না, বরং যারা জীবিত থেকেও সত্যের ডাক (অহী) প্রত্যাখ্যান করে, তাদেরকেও আধ্যাত্মিকভাবে ‘মৃত’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে।

আল কুরআন মাজীদ জীবন ও মৃত্যুকে কেবল জৈবিক প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি। কুরআনের পরিভাষায় ‘জীবন’ হলো সত্যকে গ্রহণ করার সক্ষমতা, আর ‘মৃত্যু’ হলো সেই সত্যের প্রতি অন্ধ ও বধির হয়ে থাকা। যারা আল্লাহর নাযিলকৃত অহীর কিতাব শুনতে চায় না বা বিমুখ হয়ে থাকে, আল কুরআন তাদেরকে কবরে শায়িত মৃতদের সাথে তুলনা করে এক শক্তিশালী রূপক (Metaphor) তুলে ধরেছে।

১. আধ্যাত্মিক মৃত্যু ও শারীরিক মৃত্যুর অভিন্নতা:

আল কুরআন মাজীদে ‘শোনা’ বা ‘ইসমা’ (إسماع) শব্দটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হয়েছে। যারা অহীর জ্ঞান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাদের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ রব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন:

“নিশ্চয়ই তুমি মৃতদের শোনাতে পারবে না (লা তুসমি‘উল মাউতা), আর তুমি বধিরকেও আহ্বান শোনাতে পারবে না যখন তারা মুখ ফিরিয়ে চলে যায়।” (২৭:৮০)

এখানে লক্ষ্যণীয় যে, এই আয়াতটি সম্বোধন করা হয়েছে জীবিত মানুষদের উদ্দেশ্য করে যারা অহী প্রত্যাখ্যান করছিল। আল্লাহ তাদেরকে ‘মাউতা’ বা মৃত বলে অভিহিত করেছেন। অর্থাৎ, যার ভেতরে সত্য উপলব্ধির ক্ষমতা নেই, সে শারীরিকভাবে জীবিত থাকলেও কুরআনের দৃষ্টিতে সে মৃত। এই মৃতদের আর কবরের মৃতদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই এই অর্থে যে—উভয় পক্ষই আল্লাহর হেদায়াতের বাণী গ্রহণ বা তা দ্বারা নিজেদের সংশোধন করতে অক্ষম।

২. অহী: যা মৃতকে জীবন দান করে:

আল কুরআন মাজীদ অহী বা আল্লাহর বাণীকে ‘রূহ’ (জীবনসঞ্চারকারী শক্তি) এবং ‘হায়াত’ (জীবন) হিসেবে বর্ণনা করেছে। যারা এই অহীকে গ্রহণ করে না, তারা মূলত প্রাণহীন সত্তা। আল্লাহ রব্বুল আলামিন মুমিনদের আহ্বান করে বলেন:

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া দাও, যখন তিনি তোমাদের ডাকেন এমন কিছুর দিকে যা তোমাদের জীবন দান করে (লিমা ইয়ুহ্য়ীকুম)।” (৮:২৪)

এই আয়াতটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, আল্লাহর ডাক বা অহীর বিধানের পূর্বে মানুষ এক প্রকার ‘মৃত’ অবস্থায় থাকে। এই ‘জীবন’ জৈবিক নয়, বরং এটি হলো আধ্যাত্মিক ও বৌদ্ধিক জীবন। সুতরাং, যারা এই জীবনদায়ী বাণী শুনতে অস্বীকার করে, তারা স্বেচ্ছায় নিজেদের ‘মৃত’ হিসেবে কবুল করে নিয়েছে।

৩. হৃদয়ের বধিরতা ও কবরের স্তব্ধতা: একটি তুলনা:

আল কুরআন অহী প্রত্যাখ্যানকারীদের অবস্থাকে আরও নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করেছে সূরা ফাতিরে:

“জীবিত ও মৃত সমান হতে পারে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা শোনান; কিন্তু তুমি তাদের শোনাতে পারবে না যারা কবরে রয়েছে (ফিল ক্বুবূর)।” (৩৫:২২)

এখানে ‘জীবিত’ (আহ্ইয়া) এবং ‘মৃত’ (আমওয়াত)-এর একটি বৈপরীত্য (contrast) তুলে ধরা হয়েছে। আল কুরআন এখানে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যারা অহীর আলোয় আলোকিত তারা ‘জীবিত’, আর যারা অন্ধকারে নিমজ্জিত তারা ‘মৃত’। আয়াতের শেষাংশে ‘যারা কবরে রয়েছে’ বলে মূলত সেই সব জেদী কাফির ও অহংকারীদের বোঝানো হয়েছে, যাদের হৃদয় অহংকারের কবরে দাফন হয়ে গেছে। তারা শারীরিকভাবে পৃথিবীতে বিচরণ করলেও তাদের হৃদয় কবরের মৃতদের মতোই নিস্পন্দ।

৪. সমজাতীয় শব্দের বিন্যাস (নজম) ও গভীরতা:

আল কুরআন মাজীদে অহী প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য ‘বধির’ (সুম্মুন), ‘বোবা’ (বুকমুন) এবং ‘অন্ধ’ (উমইয়ুন) শব্দগুলো বারবার ব্যবহৃত হয়েছে (২:১৮)। এই শব্দগুলো মূলত শারীরিক অক্ষমতা নয়, বরং আধ্যাত্মিক জড়তা বোঝাতে ব্যবহৃত।

যারা অহী শুনেও না শোনার ভান করে, তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে:

আর অবশ্যই আমরা জাহান্নামের জন্য জ্বীন ও মানুষের মধ্য থেকে বহুজনকে সৃষ্টি করেছি। তাদের রয়েছে এমন হৃদয়সমূহ সেগুলো দিয়ে তারা উপলব্ধি করে না। আর তাদের রয়েছে এমন চোখসমূহ সেগুলো দিয়ে তারা দেখে না। আর তাদের রয়েছে এমন কানসমূহ সেগুলো দিয়ে তারা শুনে না। ওরাই পশুর মতো। বরং তারা অধিক পথভ্রষ্ট। ওরাই উদাসীন (৭:১৭৯)

পশু যেমন রাখালের ডাকের শব্দ শুনে কিন্তু তার অর্থ অনুধাবন করতে পারে না, তেমনি যারা অহীর কিতাব শুনতে চায় না, তারা কেবল ধ্বনি শোনে, কিন্তু তার ‘হাক্বীক্বাত’ বা সত্য অনুধাবন করতে পারে না। এই উপলব্ধির অনুপস্থিতিই হলো প্রকৃত মৃত্যু।

৫. সিদ্ধান্ত ও যৌক্তিক সারসংক্ষেপ:

আল কুরআনের এই বিশ্লেষণাত্মক আলোচনা থেকে এটি সুস্পষ্ট হয় যে:

অহীই জীবনের মাপকাঠি: যে হৃদয়ে আল্লাহর বাণী কার্যকর নয়, আল কুরআনের ভাষায় সেই হৃদয় ‘মৃত’ (৬:১২২)।

কবরস্থদের সাথে সাদৃশ্য: কবরের মৃতরা যেমন পার্থিব সংশোধনের সুযোগ হারিয়েছে, অহী প্রত্যাখ্যানকারী জীবিতরাও তেমনি নিজেদের ‘কান’ ও ‘হৃদয়’ বন্ধ করে দিয়ে একই পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

ফলাফলের অনিবার্যত: যারা জীবিত অবস্থায় সত্য শুনতে চায় না, পরকালে তাদের শাস্তির আদেশ অবধারিত হয়ে যায়, এবং সেই অবস্থায় কোনো যিয়ারত বা দোয়া তাদের রক্ষা করতে পারে না (৩৯:১৯)।

অতএব, আল কুরআন অনুসারে প্রকৃত জীবন হলো আল্লাহর নাযিলকৃত অহীর কিতাবের সাথে সংযোগ স্থাপন করা, অন্যথায় মানুষ কেবল ‘চলমান মৃতদেহ’ ছাড়া আর কিছুই নয়।

অনুধাবনের পূর্ণতা:

আল কুরআনের সামগ্রিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কবর যিয়ারত বা দর্শন কোনো আনুষ্ঠানিক প্রথা নয়, বরং এটি একটি আত্মিক পরিশুদ্ধির মাধ্যম। এটি মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে ‘আল-হায়াতুদ দুনিয়া’ (পার্থিব জীবন) ক্ষণস্থায়ী এবং ‘আল-আখিরাত’ (পরকাল) চিরস্থায়ী। কবরের পাশে দাঁড়ানো (৯:৮৪) এবং পূর্বসূরিদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা (৫৯:১০) মানুষের ভেতরে পরকালীন দায়বদ্ধতা তৈরি করে। সুতরাং, কুরআনিক দৃষ্টিকোণ থেকে কবর যিয়ারত হলো মোহগ্রস্ততা থেকে মুক্তির একটি আধ্যাত্মিক চিকিৎসা।


মৃতদের স্মরণ ও পরকালীন মুক্তি কামনায় আল কুরআনের দুআ-তাসবিহসমূহ (নিজের জন্য ও অন্য মুমিন-মুসলিমের জন্য):

মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের নিরাপত্তা ও মুমিনদের সাথে শামিল হওয়ার জন্য আল কুরআন মাজীদ আমাদের নিম্নোক্ত দুআগুলো শিক্ষা দেয়:

┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-১〕❖ ─┓

পূর্বসূরি ঈমানদারদের জন্য দোয়া (যিয়ারতের মূল ভিত্তি):

رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِّلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ

উচ্চারণ: রব্বানাগফির লানা অলি ইখওয়া-নিনাল্লাযীনা সাবাক্বূনা বিল ঈমা-নি অলা- তাঝ‘আল ফী ক্বুলূবিনা- গিল্লাল লিল্লাযীনা আ-মানূ রব্বানা- ইন্নাকা রাউফুর রহীম।

অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের সেই ভাইদেরও যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে। আর ঈমানদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আপনি অতি দয়ালু, পরম করুণাময়। (৫৯:১০)

┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-2〕❖ ─┓

أَنتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ ۚ وَأَنتَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ ۚ إِن تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ ۖ وَإِن تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ

আংতা রাক্বীবা ‘আলাইহিম; অআংতা ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন্ শাহীদ্।  ইন্ তু‘আয্যিব্হুম্ ফাইন্নাহুম্ ‘ইবা-দুকা, অ ইন্ তার্গ্ফি লাহুম্ ফাইন্নাকা আনতাল্ ‘আযীযুল হাকীম্।   

অর্থ: আপনি তদের ব্যাপারে পর্যবেক্ষক। আর আপনি সবকিছু সম্পর্কে প্রত্যক্ষদর্শী। যদি আপনি তাদেরকে শাস্তি দেন তাহলে তারা অবশ্যই আপনার বান্দা, আর যদি তাদেরকে ক্ষমা করেন, তাহলে নিশ্চয়ই আপনি, আপনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়- আল কুরআন ৫:১১৭, ৫:১১৮ 

┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-3〕❖ ─┓

নিজের ও বংশধরদের জন্য ‘সালাত’ ও কবুলিয়াতের দুআ:

رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِن ذُرِّيَّتِي ۚ رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ

রব্বিঝ‘আলনী মুক্বীমাস্ সলা-তি অমিন জুররিইয়্যাতী রব্বানা- অতাক্বাব্বাল দু‘আ-।

অর্থ: হে আমার রব! আমাকে সালাত কায়েমকারী বানান এবং আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও। হে আমাদের রব! আমাদের দোয়া কবুল করুন! (১৪:৪০)

┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-4〕❖ ─┓

رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِن ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُّسْلِمَةً لَّكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ 

রব্বানা- অজ্ব্‘আল্না- মুসলিমাইনি লাকা অমিন্ যুর্রিয়্যাতিনা- উম্মাতাম্ মুস্লি­মাতাল্লাকা অআরিনা-মানা-সিকানা-অতুব্ ‘আলাইনা-ইন্নাকা আন্তাত্ তাওয়্যা-র্বু রাহীম্। রব্বানা-অব্‘আছ্ ফীহিম রাসূলাম্ মিন্হুম্ ইয়াত্লূ ‘আলাইহিম্ আ-ইয়া-তিকা অইয়ূ‘আল্লিমুহুমুল্ কিতা-বা অল্ হিক্মাতা অইয়ুযাক্কী হিম্; ইন্নাকা আংতাল্ ‘আযীযুল্ হাকীম্। 

অর্থ: হে আমাদের রব! আর আমাদের উভয়কে আপনার জন্য মুসলিম এবং আমাদের বংশধারা থেকে আপনার জন্য একটি মুসলিম উম্মত বানান, আর আমাদেরকে আমাদের ইবাদতের নিয়মাবলী/ পদ্ধতি জানিয়ে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করে গ্রহন করে নিন। নিশ্চয়ই আপনি, আপনিই  তওবা কবুলকারী, একমাত্র দয়ালু-2:128

┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-5〕❖ ─┓

হিসাব দিবসের ক্ষমা প্রার্থনা:

رَبَّنَا اغۡفِرۡ لِیۡ وَلِوَالِدَیَّ وَلِلۡمُؤۡمِنِیۡنَ یَوۡمَ یَقُوۡمُ الۡحِسَابُ

উচ্চারণ: রব্বানাগফির লী অলিওয়া-লিদাইয়্যা অলিল মু’মিনীনা ইয়াওমা ইয়াক্বূমুল হিসা-ব।

অর্থ: হে আমাদের রব! আমাকে, আমার পিতামাতাকে এবং সকল মুমিনকে ক্ষমা করুন সেদিন, যেদিন হিসাব প্রতিষ্ঠিত হবে। (১৪:৪১)

┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-6〕❖ ─┓

প্রশান্ত চিত্তে  মুসলিম (আত্তসমর্পনকারী) হিসাবে আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার আকুতি:

إِنَّا إِلَى رَبِّنَا مُنقَلِبُونَ

آمَنَّا بِآيَاتِ رَبِّنَا لَمَّا جَاءَتْنَا ۚ رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ

ইন্না- ইলা-রব্বিনা- মুন্ক্বালিবূন্।   

আ-মান্না- বিআ-ইয়া-তি রব্বিনা-লাম্মা-জ্বা-য়াতনা-; রব্বানা- আফ্রিগ্ ‘আলাইনা- ছব্রাওঁ অতাওয়াফ্ফানা -মুস্লিমীন্।   

অর্থ: নিশ্চয়ই আমারা আমাদের ররের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী- আল কুরআন ৭:১২৫

আমরা আমাদের রবের আয়াতগুলোর প্রতি ঈমান এনেছি। হে আমাদের রব! আপনি আমাদের ওপর ধৈর্য ঢেলে দিন এবং আমাদেরকে মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দান করুন- আল কুরআন ৭:১২৬

┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-7〕❖ ─┓

فَاطِرَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ أَنتَ وَلِىِّۦ فِى ٱلدُّنْيَا وَٱلْءَاخِرَةِ ۖ تَوَفَّنِى مُسْلِمًا وَأَلْحِقْنِى بِٱلصَّٰلِحِينَ 

ফা-ত্বিরস্ সামা-ওয়া-তি অল্ আরদ্বি আংতা অলিয়্যী ফিদ্দুনইয়া-অল্ আ-খিরতি, তাঅফ্ফানী মুসলিমাওঁ অ আল্হিক্বুনী- বিচ্ছোয়া-লিহী-ন্।  

অর্থ: হে মহাকাশ ও পৃথিবীর ¯্রষ্টা!  দুনিয়ার মধ্যে ও আখেরাতে আপনিই আমার অভিভাবক। আপনি আমাকে মুসলিম অবস্থায় মৃত্যু দিন এবং আমাকে সলেহীনদের (সংশোধনকারীদের) সাথে মিলিত করুন! -আল কুরআন ১২:১০১

┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-8〕❖ ─┓

رَبِّ هَبْ لِي حُكْمًا وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ  وَاجْعَل لِّي لِسَانَ صِدْقٍ فِي الْآخِرِينَ  وَاجْعَلْنِي مِن وَرَثَةِ جَنَّةِ النَّعِيمِ

রব্বি হাব্লী হুক্মাঁও অআল্হিক্নী বিছ্ছা-লিহীন্। অজ্ব ‘আল্লী লিসা-না ছিদ্ক্বিন্ ফিল্ আ-খিরীন্। অজ‘আল্নী মিঁও অরছাতি জ্বান্নাতিন্ না‘ঈম্। 

অর্থ: হে আমার রব! আপনি আমার জন্য প্রজ্ঞা দান করুন। এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের সাথে সম্পৃক্ত করুন। এবং আমাকে পরবর্তীদের মাঝে সত্যভাষী বানান। আর আপনি আমাকে জান্নাতুন নাঈমের উত্তরাধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন!- আল কুরআন ৮৩-৮৫  (৫৬:১০-১২)

┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-9〕❖ ─┓

নূর বা আলোর জন্য প্রার্থনা:

رَبَّنَا أَتْمِمْ لَنَا نُورَنَا وَاغْفِرْ لَنَا ۖ إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণ: রব্বানা- আতমিম লানা নূরানা- অগফির লানা; ইন্নাকা ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর।

অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদের জন্য আমাদের নূরকে পূর্ণ করে দিন এবং আমাদের ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাশীল। (৬৬:৮)

┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-10〕❖ ─┓

পরকালের কল্যাণের জন্য ব্যাপক অর্থবোধক দুআ:

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ: রব্বানা- আ-তনিা ফদ্দিুনইয়া হাসানাতাঁও অফলি আ-খরিাতি হাসানাতাঁও অক্বনিা ‘আযা-বান্না-র।

র্অথ: হে আমাদরে রব! আমাদরে দুনয়িাতে কল্যাণ দনি এবং আখরিাতওে কল্যাণ দনি এবং আমাদরে আগুনরে আজাব থকেে রক্ষা করুন (২:২০১)

┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-11〕❖ ─┓

বিপথগামীদের সাথে মৃত্যু না হওয়ার দুআ:

رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
উচ্চারণ: রব্বানা- লা- তাঝ‘আলনা- মা‘আল ক্বওমিজ জ-লিমীন।
অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদের জালেম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করবেন না। (৭:৪৭)

┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-13〕❖ ─┓

হাশরের দিনের অপমান থেকে বাঁচার দুআ:

وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۗ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ  إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِّأُولِي الْأَلْبَابِ. الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ 

رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَـذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ  رَبَّنَا إِنَّكَ مَن تُدْخِلِ النَّارَ فَقَدْ أَخْزَيْتَهُ ۖ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنصَارٍ  

رَّبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي لِلْإِيمَانِ أَنْ آمِنُوا بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا ۚ 

رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ  رَبَّنَا وَآتِنَا مَا وَعَدتَّنَا عَلَى رُسُلِكَ وَلَا تُخْزِنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۗ إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ

লিল্লাহি মুলকুস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদ। ওয়াল্লাহু আলা কুল্লি শাইইন ক্বাদীর।

ইন্না ফি খালকিস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ওয়াখতিলাফিল লাইলি ওয়ান্ নাহারি লা-আয়াতিল লি উলিল আলবাব।

আল্লাজীনা ইয়াজকুরুনাল্লাহা কিয়ামাঁও ওয়া কুউদাঁও ওয়া আলা জুনুবিহিম ওয়া ইয়াতাফাক্কারূনা ফি খালকিস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদ।

রব্বানা মা খালাক্তা হাযা বাতিলা। সুবহানাকা ফাকিনা আজাবান্নার।

রব্বানা ইন্নাকা মান তুদখিলিন্নারা ফাকদ আখজাইতাহু, ওয়া মা লিজ্জালিমীনা মিন আনসার।

রব্বানা ইন্নানা সামি’না মুনাদিয়ান ইউনাদি লিল ঈমানি আন আমিনূ বিরব্বিকুম ফা আমান্না।

রব্বানা ফাগফির লানা জুনুবানা ওয়া কাফফির আন্না সাইয়্যাতিনা ওয়া তাওয়াফফানা মা’আল আবরার।

রব্বানা ওয়া আতিনা মা ওয়া’আত্তানা আলা রুসুলিকা ওয়া লা তুখজিনা ইয়াওমাল কিয়ামাহ। ইন্নাকা লা তুখলিফুল মী’আদ।

অর্থ: আর আল্লাহরই জন্য মহাকাশ ও পৃথিবীর রাজত্ব এবং আল্লাহই সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। নিশ্চয়ই আকাশসমূহ ও পৃথিবীর সৃষ্টির মধ্যে এবং রাত ও দিনের আবর্তনে বোধসম্পন্নদের জন্য অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে; যারা দাড়িয়ে ও বসে এবং শোয়া অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে আর মহাকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি নিয়ে তারা চিন্তা করে; 

হে আমাদের রব! আপনি এসব অনর্থক সৃষ্টি করেননি, আপনি অপবিত্রতামুক্ত! অতএব, আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।  হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আপনি যাকে আগুনে প্রবেশ করালেন, তাহলে অবশ্যই আপনি তাকে লাঞ্ছিত করলেন, আর জালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই। 

হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আমরা একজন আহ্বানকারীকে ঈমানের দিকে আহ্বান করতে শুনেছি যে, তোমরা তোমাদের রবের প্রতি ঈমান আন। এরপর আমরা ঈমান এনেছি। 

হে আমাদের রব! সুতরাং আপনি আমাদের জন্য আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দিন এবং আমাদের থেকে আমাদের ত্রুটিবিচ্যুতি মোচন করে দিন এবং পূন্যবানদের সাথে আমাদের মৃত্যু দান করুন!  

হে আমাদের রব! আর আপনার রসূলগণের নিকট যার প্রতিশ্রুতি আপনি আমাদের দিয়েছেন সেটা আমাদেরকে দিন এবং কিয়ামতের দিন আমাদের লাঞ্ছিত করবেন না। নিশ্চয়ই আপনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না- ৩:১৮৯-১৯৪

┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-14〕❖ ─┓

إِنِّي أَخَافُ إِنْ عَصَيْتُ رَبِّي عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ  مَّن يُصْرَفْ عَنْهُ يَوْمَئِذٍ فَقَدْ رَحِمَهُ ۚ وَذَ‌ٰلِكَ الْفَوْزُ الْمُبِينُ

(বলো!) নিশ্চয়ই আমি মহাদিবসের শাস্তির ভয় করি, যদি আমি আমার রবের অবাধ্য হয়ে যাই! সেদিন যাকে সেটা থেকে মুক্তি দেয়া হলো, তাহলে নিশ্চয়ই তিনি তাকে অনুগ্রহ করলেন। আর সেটাই সুস্পষ্ট সাফল্য-আল কুরআন ৬:১৫-১৬ 

┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-15〕❖ ─┓
যারা ঈমান এনেছে, তাওবাহ করে ও সৎকর্ম (সলেহ) করে তাদের জন্য মালাইকাদের  (ফেরেশতাদের) দু’আ: 

رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَّحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ   رَبَّنَا وَأَدْخِلْهُمْ جَنَّاتِ عَدْنٍ الَّتِي وَعَدتَّهُمْ وَمَن صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ ۚ إِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ    وَقِهِمُ السَّيِّئَاتِ ۚ وَمَن تَقِ السَّيِّئَاتِ يَوْمَئِذٍ فَقَدْ رَحِمْتَهُ ۚ وَذَ‌ٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ

রব্বানা-অসিতা কুল্লা শাইয়িন্ রহ্মাতাঁও অ‘ইল্মান্ ফার্গ্ফি লিল্লাযীনা তা-বূ অত্তাবা‘ঊ সাবীলাকা অক্বিহিম্ ‘আযা-বাল্ জ্বাহীম্। রব্বানা-অ‘আদ্খিল্হুম্ জ্বান্না-তি ‘আদ্নি নিল্লাতী অ‘আত্তাহুম্ অমান্ ছলাহা মিন্ আ-বা-য়িহিম্ অআয্ওয়া জ্বিহিম্ অর্যুরিয়্যা-তিহিম্; ইন্নাকা আন্তাল্ ‘আযীযুল্ হাকীম্। অ ক্বিহিমুস্ সাইয়িয়া-ত্; অমান্ তাক্বিস্ সাইয়িয়া-তি ইয়াওমায়িযিন্ ফাক্বদ্ রহিম্তাহ্ ; অ যা-লিকা হুওয়াল্ ফাওযুল্ ‘আজীম্। 
  
অর্র্থ: (যারা আরশ বহন করে ও যারা তার চারপাশে, তারা তাদের রবের প্রশংসায় তাসবীহ করে এবং তারা তাঁর প্রতি বিশ^াস রাখে আর যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে-) 

হে আমাদের রব! আপনি অনুগ্রহে ও জ্ঞানে সবকিছুকে ব্যাপ্ত করেছেন। অতএব, যারা তাওবা করে ও আপনার পথ অনুসরণ করে আপনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিন। আর আপনি তাদেরকে রক্ষা করুন, জাহিমের শাস্তির।  
হে আমাদের রব! আপনি তাদেরকে জান্নাতু আদনে প্রবেশ করান, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাদেরকে দিয়েছেন, আর তাকেও যে তাদের পিতামাতা ও তাদের দাম্পত্যসাথী এবং তাদের বংশধর এর মধ্যে সৎকর্ম (সলেহ) করে।  নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। এবং আপনি তাদেরকে ক্ষতি হতে রক্ষা করুন। আর সেদিন আপনি যাকে ক্ষতি হতে রক্ষা করবেন, তাহলে তো তাকে আপনি অনুগ্রহ করলেন। আর সেটাই মহাসাফল্য-আল কুরআন ৪০:৭-৯। 

┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-16〕❖ ─┓

মৃতকে মুসিবাতুল মাউতি বা মৃত্যুর যন্ত্রনা/ বিপদ বলা হয়েছে: দ্র আয়াত ৫:১০৬: যারা, যখন বিপদ (মুসিবত) তাদের আক্রান্ত করে, তারা বলে:
إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ
ইন্না-লিল্লা-হি অইন্না- ইলাইহি রা-জ্বি‘ঊন্।  
অর্থ: তাদের, যখন বিপদ তাদের আক্রান্ত করে, তারা বলে- 
নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহরই জন্য আর নিশ্চয়ই আমরা তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী- আল কুরআন ২:১৫৬ 

┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-17〕❖ ─┓
رَبَّنَا ظَلَمْنَآ أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ ٱلْخَـٰسِرِينَ
রব্বানা-জোয়ালাম্না- আন্ফুসানা- অইল্লাম্ তার্গ্ফিলানা-অর্তাহাম্না-লানাকূনান্না মিনাল্ খা-সিরীন্।  ইন্নাহূ হুঅত তাওঅ-বুর রাহীম্।

অর্থ: হে আমাদের রব! আমরা আমাদের নিজেদের উপর জুলুম করেছি। আর যদি না আপনি আমাদের জন্য ক্ষমা করেন এবং আমাদের অনুগ্রহ করেন, নিশ্চয়ই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব-আল কুরআন ৭:২৩
 
إِنَّهُ هُوَ ٱلتَّوَّابُ ٱلرَّحِيمُ
ইন্নাহূ হুঅত তাওঅ-বুর রাহীম্।  
অর্থ: নিশ্চয়ই তিনি, তিনিই তওবা কবুলকারী, দয়ালু- আল কুরআন ২:৩৭

┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-18〕❖ ─┓
رَّبِّ اغْفِرْ وَارحَمْ وَأَنتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ

রব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়অ আংতা খইরুর-রহিমীন্।
অর্র্থ: হে আমার রব! ক্ষমা করুন এবং দয়া করুন, আপনিইতো দয়ালুদের শ্রেষ্ঠ- আল কুরআন ২৩:১১৮ 

┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-19〕❖ ─┓

আল্লাহর রহমত কামনার দুআ:

رَّبَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ
উচ্চারণ: রব্বানা- আ-মান্না- ফাগফির লানা- অরহামনা- অআন্তা খইরুর রা-হিমীন।
অর্থ: হে আমাদের রব! আমরা ঈমান এনেছি, সুতরাং আপনি আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন; আর আপনিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। (২৩:১০৯)

┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-20〕❖ ─┓

لَئِن لَّمْ يَرْحَمْنَا رَبُّنَا وَيَغْفِرْ لَنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ 
লায়ল্লিাম ইয়ারহামনা রব্বুনা ওয়া ইয়াগফরি লানা লানাকূনান্না মনিাল খাসরিীন।
অর্থ: অবশ্য যদি না আমাদের রব আমাদের ওপর রহমত করেন ও আমাদের জন্য ক্ষমা করেন, অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব- আল কুরআন ৭:১৪৯

┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-21〕❖ ─┓

হেদায়াত ও সত্য উপলব্ধির জন্য আল কুরআনের বিশেষ দুআ ও তাসবিহসমূহ:

অহীর আলোয় অন্তরকে জীবিত রাখতে এবং পরকালীন কঠিন আজাব থেকে মুক্তি পেতে আল কুরআন মাজীদের এই দুআগুলো পাঠ করা আবশ্যক:

┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-22〕❖ ─┓

হেদায়াত প্রাপ্তদের জন্য আল্লাহর কৃতজ্ঞতা:

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَٰذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلَا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ

উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী হাদা-না- লিহা-যা- অমা- কুন্না- লিনাহ্তাদিয়া লাওলা- আন হাদা-নাল্লাহ।

অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের এ পথের হেদায়াত দিয়েছেন। আল্লাহ আমাদের হেদায়াত না দিলে আমরা কখনো হেদায়াত পেতাম না। (৭:৪৩)

┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-23〕❖ ─┓

 অন্তরকে সত্যের ওপর অটল রাখার দুআ:

رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً ۚ إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ
উচ্চারণ: রব্বানা- লা- তুঝিগ ক্বুলূবানা- বা‘দা ইজ হাদাইতানা- অহাব লানা- মিল্লাদুনকা রহমাতান; ইন্নাকা আন্তাল অহ্হা-ব।

অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদের হেদায়াত দেওয়ার পর আমাদের অন্তরকে সত্যলঙ্ঘনে প্রবৃত্ত করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দান করুন। নিশ্চয়ই আপনিই মহাদাতা। (৩:৮)

┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-24〕❖ ─┓

رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا ۖ إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ وَتُبْ عَلَيْنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ

উচ্চারণ: রব্বানা-তাক্বাব্বাল্ মিন্না; ইন্নাকা আনতাস্ সামী‘উল্ ‘আলীম্ অতুব্ ‘আলাইনা-ইন্নাকা আন্তাত্ তাওয়্যা-বুর রাহীম্।

অর্থ: হে আমাদের রব! আপনি আমাদের পক্ষ থেকে ক্ববূল করুন। নিশ্চয়ই আপনি, আপনিই সর্বস্পন্দনগ্রাহী, বিস্তৃত জ্ঞানসম্পন্ন। এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি, আপনিইতো ক্ষমাশীল, দয়ালু। (আল কুরআন ২:১২৭, ২:১২৮)

┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-25〕❖ ─┓

আল্লাহর সকল রাসুলগণের প্রতি সালাম-দরুদ: ররের প্রশংসা/ কৃতজ্ঞতা জাপন: 

سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ ۝ وَسَلَامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ ۝ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

সুবহা-না রব্বিকা রব্বিলইযযাতিআম্মা- ইয়াসিফূন অসালা-মুনআলাল মুরসালীন অলহামদু লিল্লা-হি রব্বিল-লামীন! 

অর্থ: আপনার রব! যিনি সকল সম্মানের অধিকারী, তিনি তারা যা আরোপ করে তা থেকে পবিত্র এবং রাসুলগণের প্রতি শান্তি (সালাম) আর সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য আয়াত  ৩৭:১৮০-১৮২

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post