বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
পার্থিব জীবনের শেষ সীমানা এবং পরকালীন অনন্ত যাত্রার প্রবেশদ্বার হলো ‘কবর’। আল কুরআন মাজীদ এই গন্তব্যকে কেন্দ্র করে মানুষের চিন্তাধারাকে এক সুনির্দিষ্ট কাঠামো প্রদান করেছে। প্রচলিত প্রথা বা ইতিহাসের ঊর্ধ্বে উঠে কেবলমাত্র আল কুরআনের আয়াতসমূহের অভ্যন্তরীণ যোগসূত্র ও শব্দগত বিশ্লেষণ করলে কবর দর্শন ও মৃতদের বিষয়ে এক গভীর ও যুক্তিনির্ভর সত্য উন্মোচিত হয়।
পার্থিব জীবনের মোহ আর পরকালীন গন্তব্যের মাঝে ‘কবর’ এক অনিবার্য সংযোগস্থল। আল কুরআন মাজীদ মানুষের এই যাত্রাপথকে অত্যন্ত সুনিপুণ শব্দশৈলী ও আধ্যাত্মিক গভীরতায় বর্ণনা করেছে। প্রচলিত প্রথা বা ইতিহাসের ঊর্ধ্বে উঠে কেবলমাত্র আল কুরআনের আয়াতসমূহের অভ্যন্তরীণ বিন্যাস (নজম) ও শব্দগত সাদৃশ্য বিশ্লেষণ করলে কবর যিয়ারত বা কবর দর্শন সম্পর্কে এক শাশ্বত ও যৌক্তিক রূপরেখা পাওয়া যায়।
কুরআনি দুআসমূহ নিচের দিকে দ্র:
১. ‘যিয়ারত’ ও ‘মাক্বাবির’: মোহ বনাম বাস্তবতা:
“প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা (ধন-সম্পদ, দুনিয়ার বাড়াবাড়ি) তোমাদেরকে গাফিল করে রেখেছে (মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছে)— যতক্ষণ না তোমরা
২. ‘কবরের পাশে দণ্ডায়মান হওয়া না হওয়া:’ একটি ইমপ্লাইড এভিডেন্স বা অন্তর্নিহিত ইঙ্গিত:
“এবং তাদের (মুনাফিকদের: যারা কুফর করে এবং তারা ফাসিক অবস্থায় মারা যায়) মধ্যে কারো মৃত্যু হলে তুমি কখনো তার ওপর সালাত আদায় করবে না এবং
৩. মাটি ও মানুষের আদি-অন্ত সম্পর্ক: অনুধাবনের ভিত্তি:
“মাটি থেকেই আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি, তাতেই তোমাদের ফিরিয়ে দেব এবং তা থেকেই পুনরায় তোমাদের বের করে আনব।” (২০:৫৫)
৪. শর্তসাপেক্ষে বিদেহী আত্মাদের জন্য প্রার্থনা: একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধন:
“এবং যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে: হে আমাদের রব! আমাদের ক্ষমা করুন এবং
৫.অবজ্ঞা বনাম সম্মান:
“তারা কবরের অধিবাসীদের সম্পর্কে আশাহত হয়েছে, যেমন কাফিররা আশাহত হয়েছে (পরকাল সম্পর্কে)।” (৬০:১৩)
6. শোনানো ও শোনার সীমা: একটি সংগত বিশ্লেষণ:
“এবং তুমি শোনানোর ক্ষমতা রাখো না তাদের, যারা
“নিশ্চয়ই তুমি
“তবে কি সে, যার ওপর
৪. দোয়ার শর্ত ও পরিসীমা: ঈমানি ভ্রাতৃত্বের বন্ধন:
رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِّلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ
রব্বানাগফির লানা অলি ইখওয়া-নিনাল্লাযীনা সাবাক্বূনা বিল ঈমা-নি অলা- তাঝ‘আল ফী ক্বুলূবিনা- গিল্লাল লিল্লাযীনা আ-মানূ রব্বানা- ইন্নাকা রাউফুর রহীম।
“নবী ও মুমিনদের জন্য সংগত নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে—যদিও তারা নিকটাত্মীয় হয়—যখন তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, তারা প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসী।” (৯:১১৩)
অহীর সংযোগহীনতাকে “জীবিত মৃত'' বা আধ্যাত্মিক মৃত্যু বলা হয়েছে:
আল কুরআন মাজীদ জীবন ও মৃত্যুকে কেবল জৈবিক প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি। কুরআনের পরিভাষায় ‘জীবন’ হলো সত্যকে গ্রহণ করার সক্ষমতা, আর ‘মৃত্যু’ হলো সেই সত্যের প্রতি অন্ধ ও বধির হয়ে থাকা। যারা আল্লাহর নাযিলকৃত অহীর কিতাব শুনতে চায় না বা বিমুখ হয়ে থাকে, আল কুরআন তাদেরকে কবরে শায়িত মৃতদের সাথে তুলনা করে এক শক্তিশালী রূপক (Metaphor) তুলে ধরেছে।
“নিশ্চয়ই তুমি
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া দাও, যখন তিনি তোমাদের ডাকেন
“জীবিত ও মৃত সমান হতে পারে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা শোনান; কিন্তু তুমি
আর অবশ্যই আমরা জাহান্নামের জন্য জ্বীন ও মানুষের মধ্য থেকে বহুজনকে সৃষ্টি করেছি। তাদের রয়েছে এমন হৃদয়সমূহ সেগুলো দিয়ে তারা উপলব্ধি করে না। আর তাদের রয়েছে এমন চোখসমূহ সেগুলো দিয়ে তারা দেখে না। আর তাদের রয়েছে এমন কানসমূহ সেগুলো দিয়ে তারা শুনে না। ওরাই পশুর মতো। বরং তারা অধিক পথভ্রষ্ট। ওরাই উদাসীন (৭:১৭৯)
মৃতদের স্মরণ ও পরকালীন মুক্তি কামনায় আল কুরআনের দুআ-তাসবিহসমূহ (নিজের জন্য ও অন্য মুমিন-মুসলিমের জন্য):
أَنتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ ۚ وَأَنتَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ ۚ إِن تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ ۖ وَإِن تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
আংতা রাক্বীবা ‘আলাইহিম; অআংতা ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন্ শাহীদ্। ইন্ তু‘আয্যিব্হুম্ ফাইন্নাহুম্ ‘ইবা-দুকা, অ ইন্ তার্গ্ফি লাহুম্ ফাইন্নাকা আনতাল্ ‘আযীযুল হাকীম্।
অর্থ: আপনি তদের ব্যাপারে পর্যবেক্ষক। আর আপনি সবকিছু সম্পর্কে প্রত্যক্ষদর্শী। যদি আপনি তাদেরকে শাস্তি দেন তাহলে তারা অবশ্যই আপনার বান্দা, আর যদি তাদেরকে ক্ষমা করেন, তাহলে নিশ্চয়ই আপনি, আপনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়- আল কুরআন ৫:১১৭, ৫:১১৮
┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-3〕❖ ─┓
┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-4〕❖ ─┓
رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِن ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُّسْلِمَةً لَّكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
রব্বানা- অজ্ব্‘আল্না- মুসলিমাইনি লাকা অমিন্ যুর্রিয়্যাতিনা- উম্মাতাম্ মুস্লিমাতাল্লাকা অআরিনা-মানা-সিকানা-অতুব্ ‘আলাইনা-ইন্নাকা আন্তাত্ তাওয়্যা-র্বু রাহীম্। রব্বানা-অব্‘আছ্ ফীহিম রাসূলাম্ মিন্হুম্ ইয়াত্লূ ‘আলাইহিম্ আ-ইয়া-তিকা অইয়ূ‘আল্লিমুহুমুল্ কিতা-বা অল্ হিক্মাতা অইয়ুযাক্কী হিম্; ইন্নাকা আংতাল্ ‘আযীযুল্ হাকীম্।
অর্থ: হে আমাদের রব! আর আমাদের উভয়কে আপনার জন্য মুসলিম এবং আমাদের বংশধারা থেকে আপনার জন্য একটি মুসলিম উম্মত বানান, আর আমাদেরকে আমাদের ইবাদতের নিয়মাবলী/ পদ্ধতি জানিয়ে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করে গ্রহন করে নিন। নিশ্চয়ই আপনি, আপনিই তওবা কবুলকারী, একমাত্র দয়ালু-2:128
┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-5〕❖ ─┓
رَبَّنَا اغۡفِرۡ لِیۡ وَلِوَالِدَیَّ وَلِلۡمُؤۡمِنِیۡنَ یَوۡمَ یَقُوۡمُ الۡحِسَابُ
┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-6〕❖ ─┓
প্রশান্ত চিত্তে মুসলিম (আত্তসমর্পনকারী) হিসাবে আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার আকুতি:
إِنَّا إِلَى رَبِّنَا مُنقَلِبُونَ
آمَنَّا بِآيَاتِ رَبِّنَا لَمَّا جَاءَتْنَا ۚ رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ
ইন্না- ইলা-রব্বিনা- মুন্ক্বালিবূন্।
আ-মান্না- বিআ-ইয়া-তি রব্বিনা-লাম্মা-জ্বা-য়াতনা-; রব্বানা- আফ্রিগ্ ‘আলাইনা- ছব্রাওঁ অতাওয়াফ্ফানা -মুস্লিমীন্।
অর্থ: নিশ্চয়ই আমারা আমাদের ররের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী- আল কুরআন ৭:১২৫
আমরা আমাদের রবের আয়াতগুলোর প্রতি ঈমান এনেছি। হে আমাদের রব! আপনি আমাদের ওপর ধৈর্য ঢেলে দিন এবং আমাদেরকে মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দান করুন- আল কুরআন ৭:১২৬
┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-7〕❖ ─┓
فَاطِرَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ أَنتَ وَلِىِّۦ فِى ٱلدُّنْيَا وَٱلْءَاخِرَةِ ۖ تَوَفَّنِى مُسْلِمًا وَأَلْحِقْنِى بِٱلصَّٰلِحِينَ
ফা-ত্বিরস্ সামা-ওয়া-তি অল্ আরদ্বি আংতা অলিয়্যী ফিদ্দুনইয়া-অল্ আ-খিরতি, তাঅফ্ফানী মুসলিমাওঁ অ আল্হিক্বুনী- বিচ্ছোয়া-লিহী-ন্।
অর্থ: হে মহাকাশ ও পৃথিবীর ¯্রষ্টা! দুনিয়ার মধ্যে ও আখেরাতে আপনিই আমার অভিভাবক। আপনি আমাকে মুসলিম অবস্থায় মৃত্যু দিন এবং আমাকে সলেহীনদের (সংশোধনকারীদের) সাথে মিলিত করুন! -আল কুরআন ১২:১০১
┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-8〕❖ ─┓
رَبِّ هَبْ لِي حُكْمًا وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ وَاجْعَل لِّي لِسَانَ صِدْقٍ فِي الْآخِرِينَ وَاجْعَلْنِي مِن وَرَثَةِ جَنَّةِ النَّعِيمِ
রব্বি হাব্লী হুক্মাঁও অআল্হিক্নী বিছ্ছা-লিহীন্। অজ্ব ‘আল্লী লিসা-না ছিদ্ক্বিন্ ফিল্ আ-খিরীন্। অজ‘আল্নী মিঁও অরছাতি জ্বান্নাতিন্ না‘ঈম্।
অর্থ: হে আমার রব! আপনি আমার জন্য প্রজ্ঞা দান করুন। এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের সাথে সম্পৃক্ত করুন। এবং আমাকে পরবর্তীদের মাঝে সত্যভাষী বানান। আর আপনি আমাকে জান্নাতুন নাঈমের উত্তরাধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন!- আল কুরআন ৮৩-৮৫ (৫৬:১০-১২)
┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-9〕❖ ─┓
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ: রব্বানা- আ-তনিা ফদ্দিুনইয়া হাসানাতাঁও অফলি আ-খরিাতি হাসানাতাঁও অক্বনিা ‘আযা-বান্না-র।
র্অথ: হে আমাদরে রব! আমাদরে দুনয়িাতে কল্যাণ দনি এবং আখরিাতওে কল্যাণ দনি এবং আমাদরে আগুনরে আজাব থকেে রক্ষা করুন (২:২০১)
┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-11〕❖ ─┓
┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-13〕❖ ─┓
হাশরের দিনের অপমান থেকে বাঁচার দুআ:
وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۗ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِّأُولِي الْأَلْبَابِ. الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ
رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَـذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ رَبَّنَا إِنَّكَ مَن تُدْخِلِ النَّارَ فَقَدْ أَخْزَيْتَهُ ۖ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنصَارٍ
رَّبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي لِلْإِيمَانِ أَنْ آمِنُوا بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا ۚ
رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ رَبَّنَا وَآتِنَا مَا وَعَدتَّنَا عَلَى رُسُلِكَ وَلَا تُخْزِنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۗ إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ
লিল্লাহি মুলকুস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদ। ওয়াল্লাহু আলা কুল্লি শাইইন ক্বাদীর।
ইন্না ফি খালকিস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ওয়াখতিলাফিল লাইলি ওয়ান্ নাহারি লা-আয়াতিল লি উলিল আলবাব।
আল্লাজীনা ইয়াজকুরুনাল্লাহা কিয়ামাঁও ওয়া কুউদাঁও ওয়া আলা জুনুবিহিম ওয়া ইয়াতাফাক্কারূনা ফি খালকিস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদ।
রব্বানা মা খালাক্তা হাযা বাতিলা। সুবহানাকা ফাকিনা আজাবান্নার।
রব্বানা ইন্নাকা মান তুদখিলিন্নারা ফাকদ আখজাইতাহু, ওয়া মা লিজ্জালিমীনা মিন আনসার।
রব্বানা ইন্নানা সামি’না মুনাদিয়ান ইউনাদি লিল ঈমানি আন আমিনূ বিরব্বিকুম ফা আমান্না।
রব্বানা ফাগফির লানা জুনুবানা ওয়া কাফফির আন্না সাইয়্যাতিনা ওয়া তাওয়াফফানা মা’আল আবরার।
রব্বানা ওয়া আতিনা মা ওয়া’আত্তানা আলা রুসুলিকা ওয়া লা তুখজিনা ইয়াওমাল কিয়ামাহ। ইন্নাকা লা তুখলিফুল মী’আদ।
অর্থ: আর আল্লাহরই জন্য মহাকাশ ও পৃথিবীর রাজত্ব এবং আল্লাহই সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। নিশ্চয়ই আকাশসমূহ ও পৃথিবীর সৃষ্টির মধ্যে এবং রাত ও দিনের আবর্তনে বোধসম্পন্নদের জন্য অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে; যারা দাড়িয়ে ও বসে এবং শোয়া অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে আর মহাকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি নিয়ে তারা চিন্তা করে;
হে আমাদের রব! আপনি এসব অনর্থক সৃষ্টি করেননি, আপনি অপবিত্রতামুক্ত! অতএব, আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আপনি যাকে আগুনে প্রবেশ করালেন, তাহলে অবশ্যই আপনি তাকে লাঞ্ছিত করলেন, আর জালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।
হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আমরা একজন আহ্বানকারীকে ঈমানের দিকে আহ্বান করতে শুনেছি যে, তোমরা তোমাদের রবের প্রতি ঈমান আন। এরপর আমরা ঈমান এনেছি।
হে আমাদের রব! সুতরাং আপনি আমাদের জন্য আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দিন এবং আমাদের থেকে আমাদের ত্রুটিবিচ্যুতি মোচন করে দিন এবং পূন্যবানদের সাথে আমাদের মৃত্যু দান করুন!
হে আমাদের রব! আর আপনার রসূলগণের নিকট যার প্রতিশ্রুতি আপনি আমাদের দিয়েছেন সেটা আমাদেরকে দিন এবং কিয়ামতের দিন আমাদের লাঞ্ছিত করবেন না। নিশ্চয়ই আপনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না- ৩:১৮৯-১৯৪
┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-14〕❖ ─┓
إِنِّي أَخَافُ إِنْ عَصَيْتُ رَبِّي عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ مَّن يُصْرَفْ عَنْهُ يَوْمَئِذٍ فَقَدْ رَحِمَهُ ۚ وَذَٰلِكَ الْفَوْزُ الْمُبِينُ
(বলো!) নিশ্চয়ই আমি মহাদিবসের শাস্তির ভয় করি, যদি আমি আমার রবের অবাধ্য হয়ে যাই! সেদিন যাকে সেটা থেকে মুক্তি দেয়া হলো, তাহলে নিশ্চয়ই তিনি তাকে অনুগ্রহ করলেন। আর সেটাই সুস্পষ্ট সাফল্য-আল কুরআন ৬:১৫-১৬
┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-19〕❖ ─┓
┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-21〕❖ ─┓
┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-22〕❖ ─┓
┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-23〕❖ ─┓
┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-24〕❖ ─┓
┏─ ❖〔দুআ-তাসবীহ-25〕❖ ─┓
আল্লাহর সকল রাসুলগণের প্রতি সালাম-দরুদ: ররের প্রশংসা/ কৃতজ্ঞতা জাপন:
سُبْحَانَ رَبِّكَ
رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ وَسَلَامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ وَالْحَمْدُ
لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
সুবহা-না রব্বিকা রব্বিল ‘ইযযাতি ‘আম্মা- ইয়াসিফূন। অসালা-মুন ‘আলাল মুরসালীন। অলহামদু লিল্লা-হি রব্বিল ‘আ-লামীন!
অর্থ: আপনার রব! যিনি সকল সম্মানের অধিকারী, তিনি তারা যা আরোপ করে তা থেকে পবিত্র। এবং রাসুলগণের প্রতি শান্তি (সালাম)। আর সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আয়াত ৩৭:১৮০-১৮২
