মুত্তাক্বী কাকে বলা হয়? কে মুত্তাক্বী এবং কীভাবে মুত্তাক্বী হওয়া যায়?-কুরআনের দৃষ্টিতে একজন মুত্তাকীর পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য: আল কুরআনে মুত্তাকীদের তালিকা: (Muttaqi & characteristics)
অনুধাবনের আয়োজনে: মতিউর রহমান খান
0
■ নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত, যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকী-৪৯:১৩
মুত্তাক্বী-এর সংজ্ঞা:দ্র: আয়াত ৩৯:৩৩, ২:১৭৭।
➢ সকল ইবাদতের সাধারণ লক্ষ্য ওউদ্দেশ্য- তাকওয়া অর্জন তথা মুত্তাকী হওয়া: দ্র: আয়াত ২:২১
যেমন:
➥সালাত বা নামাজের উদ্দেশ্য: তাকওয়া অর্জন তথা মুত্তাকী হওয়া-দ্র: আয়াত ২০:১৩২ (২৯:৪৫, ২০:১৪)
➥সিয়াম বা রোজার উদ্দেশ্য: তাকওয়া অর্জন তথা মুত্তাকী হওয়া-দ্র: আয়াত -২:১৮৩ (২:১৮৭)
➥হজ্জের উদ্দেশ্য: তাকওয়া অর্জন তথা মুত্তাকী হওয়া-দ্র: আয়াত: ২:১৯৭ (২২:৩২)
➥কুরবানীর উদ্দেশ্য: তাকওয়া অর্জন তথা মুত্তাকী হওয়া-দ্র: আয়াত ২২:৩৭ (৫:২৭)
➥যাকাত (পরিশুদ্ধি লাভ) ও সদকার উদ্দেশ্য: তাকওয়া অর্জন তথা মুত্তাকী হওয়া-দ্র: আয়াত ৯২:১৭-১৮ (৯১:৮-১০)
➥কুরআনের শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু (উদ্দেশ্য): তাকওয়া অর্জন তথা মুত্তাকী হওয়া-২:২ (২:১৮৫)।
ঈমান (বিশ্বাস Belief) →ইবাদত (আল্লাহর সাথে সম্পর্ক Worship) → আখলাক (মানুষের সাথে আচরণ-চরিত্র: Character)
এগুলো বাস্তবে ধারণ করাই কুরআনের ভাষায় “মুত্তাকী” হওয়া এবং এটিই প্রকৃত সফলতার পথ ও জান্নাত তাঁদের কাছে আনা হবে।
📘 🔰 📘 🔰 📘 🔰📘
একজন মুত্তাক্বীর পূর্ণ প্রোফাইল (Exam Note):
মুত্তাক্বী = যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তাঁর আদেশ মানে এবং নিষেধ থেকে বেঁচে থাকে।
১) ঈমান (Belief):
গায়েবে বিশ্বাস → সুরা আল-বাকারা ২:২–৩
আখিরাতে দৃঢ় বিশ্বাস → সুরা আল-বাকারা ২:৪
কুরআন ও পূর্ব কিতাবে ঈমান → সুরা আল-বাকারা ২:৪
কীওয়ার্ড: ঈমান, ইয়াকীন
২) ইবাদত (Worship):
সালাত কায়েম → সুরা আল-বাকারা ২:৩
খুশু-খুজু সহ সালাত → সুরা আল-মুমিনুন ২৩:১–২
রাতের ইবাদত ও তাহাজ্জুদ: (গভীরভাবে কুরআন স্টাডি) → 73:1-5, ৫১:১৭–১৮
কীওয়ার্ড: সালাত, ইখলাস
৩) অর্থনৈতিক আচরণ (Spending):
আল্লাহর পথে ব্যয় → সুরা আল-বাকারা ২:৩
স্বচ্ছলতা ও দুঃসময়ে দান → সুরা আলে ইমরান ৩:১৩৪
কীওয়ার্ড: ইনফাক, সাদাকা
৪) ব্যক্তিগত চরিত্র (Personal Character)
রাগ সংবরণ → সুরা আলে ইমরান ৩:১৩৪
মানুষকে ক্ষমা করা → সুরা আলে ইমরান ৩:১৩৪
বিনয় ও নম্রতা → সুরা আল-ফুরকান ২৫:৬৩
কীওয়ার্ড: আখলাক, হিলম
৫) সামাজিক আচরণ (Social Ethics):
সত্যবাদিতা → সুরা আল-বাকারা ২:১৭৭
অঙ্গীকার পূরণ → সুরা আল-বাকারা ২:১৭৭
ন্যায়বিচার বজায় রাখা → সুরা আল-মায়িদা ৫:৮
কীওয়ার্ড: আদল, আমানত
৬) গুনাহ থেকে বিরত থাকা:
বড় গুনাহ ও অশ্লীলতা বর্জন → সুরা আশ-শূরা ৪২:৩৭
অন্যায় হলে ক্ষমা করে দেওয়া → সুরা আশ-শূরা ৪২:৩৭
কীওয়ার্ড: তাকওয়া, পরহেজগারিতা
৭) তাওবা ও আত্মশুদ্ধি (Repentance)
গুনাহ হলে আল্লাহকে স্মরণ → সুরা আলে ইমরান ৩:১৩৫
ক্ষমা প্রার্থনা → সুরা আলে ইমরান ৩:১৩৫
জেনে শুনে গুনাহে অটল না থাকা → সুরা আলে ইমরান ৩:১৩৫
কীওয়ার্ড: তাওবা, ইস্তিগফার
৮) সংগ্রাম ও ধৈর্য (Struggle & Patience):
ধৈর্যধারণ → সুরা আল-বাকারা ২:১৭৭
দৃঢ়তা ও আল্লাহভীতি → সুরা আলে ইমরান ৩:২০০
কীওয়ার্ড: সবর, সাবিত
দ্রুত রিভিশন (One-line Summary):
মুত্তাক্বী = সঠিক ঈমান + নিয়মিত ইবাদত + উত্তম চরিত্র + গুনাহ থেকে বিরত + ভুল হলে দ্রুত তাওবা + ধৈর্যশীল জীবন
🔰 📘 🔰 📘 🔰
আল-কুরআনে নবী-রাসুল ও আল্লাহর মনোনীত বান্দাদের মধ্যে কারা মুত্তাকী বা তাকওয়াবান হিসেবে উল্লেখিত?
আল-কুরআনে শুধু সাধারণ মুমিনদের নয়, বরং নবী-রাসুল এবং আল্লাহর মনোনীত বান্দাদেরও তাকওয়া (التقوى)-এর অধিকারী, তাকওয়া অবলম্বনকারী অথবা মুত্তাকীদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ:
"ফুলান ব্যক্তি মুত্তাকী"—এভাবে প্রত্যেক নবীর জন্য সরাসরি বলা হয়নি।
বরং তাঁদেরকে মুখলাস (নির্বাচিত), মুহসিন (সৎকর্মশীল), সালিহ (সৎ), সিদ্দীক, আউওয়াব, খাশী (আল্লাহভীরু) ইত্যাদি বিশেষণে বর্ণনা করা হয়েছে, যা তাকওয়ারই বিভিন্ন প্রকাশ।
আবার অনেক নবী নিজ জাতিকে বলেছেন: "اتَّقُوا اللَّهَ" (আল্লাহকে ভয় করো/তাকওয়া অবলম্বন করো)। এতে বোঝা যায়, তাঁরা নিজেরাও তাকওয়ার সর্বোচ্চ আদর্শ ছিলেন।
নিচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ দেওয়া হলো।
আল-কুরআনে বহু নবী-রাসুলকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে তাকওয়ার আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যেমন, সালামুন আলা আদম সম্পর্কে সূরা আল-বাকারা (২:৩৫–৩৭)-এ বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ভুল করার পর আন্তরিক তাওবা করেন এবং আল্লাহ তাঁর তাওবা কবুল করেন। এটি তাকওয়ার পথে ফিরে আসার এক অনন্য শিক্ষা।
নূহ (সালামুন আলাইহে) তাঁর জাতিকে আহ্বান করে বলেন, "তোমরা কি তাকওয়া অবলম্বন করবে না?" (সূরা আশ-শু'আরা, ২৬:১০৬–১১০)।
একইভাবে হূদ (সালামুন আলাইহে) বলেন, "আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।" (সূরা আশ-শু'আরা, ২৬:১২৪–১২৬)।
শু'আইব (সালামুন আলাইহে) তাঁর সম্প্রদায়কে আল্লাহভীতি ও আনুগত্যের শিক্ষা দেন (সূরা আশ-শু'আরা, ২৬:১৭৭–১৭৯)।
সালামুন আলা ইবরাহীম কঠিন পরীক্ষায় সফল হওয়ার পর আল্লাহ তাঁকে মুহসিনীন (সৎকর্মশীলদের) অন্তর্ভুক্ত বলে ঘোষণা করেন (সূরা আস-সাফফাত, ৩৭:১০৪–১১০), যা তাঁর তাকওয়ার সর্বোচ্চ নিদর্শন।
সালামুন আলা ইউসুফ-এর বক্তব্য তাকওয়া সম্পর্কে নবীদের অন্যতম সুস্পষ্ট ঘোষণা। তিনি বলেন, "নিশ্চয়ই যে তাকওয়া অবলম্বন করে এবং ধৈর্য ধারণ করে, আল্লাহ কখনো সৎকর্মশীলদের প্রতিদান নষ্ট করেন না।" (সূরা ইউসুফ, ১২:৯০)।
সালামুন আলা আইয়ুব-কে আল্লাহ ধৈর্যশীল ও উত্তম বান্দা হিসেবে প্রশংসা করেছেন (সূরা সাদ, ৩৮:৪৪), যা তাঁর গভীর তাকওয়া ও আল্লাহভীতির পরিচয় বহন করে।
সালামুন আলা যাকারিয়া-এর পরিবারকে সূরা মারইয়াম (১৯:২–১৫)-এ আল্লাহভীরু ও ইবাদতগুজার পরিবার হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে।
ইয়াহইয়া (সালামুন আলাইহে) সম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনি ছিলেন পবিত্র, সংযমী এবং অবাধ্য ছিলেন না (সূরা মারইয়াম, ১৯:১৩–১৪), যা তাকওয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
ঈসা (সালামুন আলাইহে) তাঁর সম্প্রদায়কে উদ্দেশ করে বলেন, "আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।" (সূরা আয-যুখরুফ, ৪৩:৬৩)। এ আহ্বানও নবীদের তাকওয়াভিত্তিক দাওয়াতের ধারাবাহিকতারই অংশ।
সবচেয়ে স্পষ্ট ব্যক্তিগত ঘোষণা: সালামুন আলা ইউসুফ:
সূরা ইউসুফ ১২:৯০: অর্থ: "নিশ্চয়ই যে তাকওয়া অবলম্বন করে এবং ধৈর্য ধারণ করে, আল্লাহ সৎকর্মশীলদের প্রতিদান নষ্ট করেন না।"
এটি ইউসুফ (সালামুন আলাইহে)-এর নিজের জীবনের সারসংক্ষেপ বলেও উল্লেখ করা যায়।
তাকওয়ার মর্যাদা সম্পর্কে মূলনীতি:
সূরা আল-হুজুরাত ৪৯:১৩: আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত সেই ব্যক্তি, যে সর্বাধিক মুত্তাকী।
অতএব নবী-রাসুলগণ, যাঁরা আল্লাহর সর্বোত্তম বান্দা, অবশ্যই এই গুণের সর্বোচ্চ উদাহরণ।
আল্লাহ যাঁদের তাকওয়ার আদর্শ হিসেবে প্রশংসা করেছেন:
কিছু আয়াতে নাম উল্লেখ করে তাঁদের চরিত্রের এমন বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে যা তাকওয়ার পরিচায়ক:
যদিও সর্বত্র "মুত্তাকী" শব্দটি সরাসরি ব্যবহৃত হয়নি, তবে নবী-রাসুল ও আল্লাহর মনোনীত বান্দাদের এমন গুণাবলি বর্ণনা করা হয়েছে, যা তাকওয়ার সর্বোচ্চ প্রকাশ।
ইবরাহীম (সা.আ.) সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, "নিশ্চয়ই ইবরাহীম ছিলেন এককভাবে একটি আদর্শ জাতি, আল্লাহর একনিষ্ঠ অনুগত, সত্যের প্রতি অবিচল; তিনি কখনো মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। তিনি আল্লাহর নিয়ামতের কৃতজ্ঞ ছিলেন।" (সূরা আন-নাহল, ১৬:১২০–১২১)। একনিষ্ঠ আনুগত্য, কৃতজ্ঞতা ও শিরকমুক্ত ঈমান তাকওয়ার মূল ভিত্তি।
ইসমাঈল (সা.আ.) সম্পর্কে বলা হয়েছে, "তিনি তাঁর পরিবারকে সালাত ও যাকাতের নির্দেশ দিতেন এবং তিনি তাঁর প্রতিপালকের নিকট সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত ছিলেন।" (সূরা মারইয়াম, ১৯:৫৪–৫৫)। নিজের পরিবারকে ইবাদতের নির্দেশ দেওয়া তাকওয়ার গুরুত্বপূর্ণ দিক।
ইদরীস (সা.আ.) সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, "তিনি ছিলেন সত্যবাদী ও নবী। আর আমি তাঁকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছি।" (সূরা মারইয়াম, ১৯:৫৬–৫৭)। সত্যবাদিতা ও আল্লাহপ্রদত্ত উচ্চ মর্যাদা তাঁর ঈমান ও তাকওয়ার সাক্ষ্য বহন করে।
দাউদ (সা.আ.) সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, "তিনি ছিলেন আমার দিকে বারবার প্রত্যাবর্তনকারী (আউওয়াব)।" (সূরা সাদ, ৩৮:১৭)। একইভাবে সুলাইমান (আ.) সম্পর্কেও বলা হয়েছে, "তিনি কতই না উত্তম বান্দা; নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন বারবার আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।" (সূরা সাদ, ৩৮:৩০)। আল্লাহর দিকে সর্বদা ফিরে আসা তাকওয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
মূসা (সা.আ.) সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, "আমি তোমাকে আমার নিজের জন্য মনোনীত করেছি।" (সূরা ত্বা-হা, ২০:৪১)। আবার তিনি বলেন, "আমি তোমাকে আমার বার্তা ও আমার কথোপকথনের জন্য মানুষের ওপর নির্বাচিত করেছি।" (সূরা আল-আ'রাফ, ৭:১৪৪)। আল্লাহর বিশেষ মনোনয়ন তাঁর উচ্চ আধ্যাত্মিক মর্যাদা ও তাকওয়ার প্রমাণ বহন করে।
মারইয়াম (সা.আ.)—যদিও তিনি নবী নন, তবে আল্লাহর মনোনীত বান্দীদের অন্যতম। আল্লাহ বলেন, "হে মারইয়াম! নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে মনোনীত করেছেন, পবিত্র করেছেন এবং বিশ্বের নারীদের ওপর তোমাকে নির্বাচিত করেছেন।" (সূরা আলে ইমরান, ৩:৪২)। আরও বলেন, তিনি ছিলেন আল্লাহর বাণীতে বিশ্বাসী এবং অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত (সূরা আত-তাহরীম, ৬৬:১২)। এটি তাকওয়ার এক অনন্য উদাহরণ।
আসহাবে কাহফ-এর যুবকদের সম্পর্কেও বলা হয়েছে, "তারা ছিল কয়েকজন যুবক, যারা তাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান এনেছিল; আর আমি তাদের হিদায়াত আরও বৃদ্ধি করে দিয়েছিলাম।" (সূরা আল-কাহফ, ১৮:১৩)। ঈমানের জন্য সবকিছু ত্যাগ করার এই দৃষ্টান্ত তাকওয়ার বাস্তব রূপ।
একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগত পর্যবেক্ষণ:
আল-কুরআনে কোনো নবীর নামের সঙ্গে সরাসরি "মিনাল মুত্তাকীন (من المتقين)" উপাধি খুব কমই ব্যবহৃত হয়েছে। বরং তাঁদেরকে সালিহ (সৎ), মুহসিন (সৎকর্মশীল), মুখলাস (একনিষ্ঠ), সিদ্দীক (সত্যনিষ্ঠ), আউওয়াব (আল্লাহমুখী), সাবির (ধৈর্যশীল) ইত্যাদি গুণে ভূষিত করা হয়েছে। কুরআনের ভাষায় এগুলো তাকওয়ারই বিভিন্ন স্তর ও বহিঃপ্রকাশ। তাই নবী-রাসুলদের তাকওয়া কেবল একটি উপাধি নয়; বরং তাঁদের চরিত্র, ইবাদত, ধৈর্য, আনুগত্য ও আল্লাহভীতির সমন্বিত জীবনাচরণের মধ্যেই তা প্রতিফলিত হয়েছে।
🔰 📘 🔰 📘 🔰
সৃজনশীল প্রশ্ন (Creative Questions):
এম আর খান একজন ছাত্র। সে নিয়মিত সালাত সংযোগ অনুশীলনীতে থাকে, ফকির-মিসকীন-নিকটাআত্ত্বীয়কে সাহায্য করে এবং সবসময় সত্য কথা বলার চেষ্টা করে। কিন্তু মাঝে মাঝে সে রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না (যদিও সে সেটা অন্যদের কল্যাণ হবে ভেবেই করে থাকেন)। একদিন সে বন্ধুর সাথে খারাপ আচরণ করে ফেলে। পরে সে অনুতপ্ত হয়, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় এবং আর এমন না করার সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রশ্নসমূহ❓
(ক) জ্ঞানমূলক
মুত্তাক্বী কাকে বলে?
(খ) অনুধাবনমূলক:
এম আর খানের আচরণে “তাওবা” বৈশিষ্ট্যটি কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে—ব্যাখ্যা করুন।
(গ) প্রয়োগমূলক:
এম আর খানের জীবনে “ইবাদত ও আখলাক” এর সমন্বয় কীভাবে ঘটেছে—বিশ্লেষণ করুন।
(ঘ) উচ্চতর দক্ষতা (মূল্যায়নমূলক):
এম আর খান কি একজন পূর্ণাঙ্গ মুত্তাক্বী বলা যায়? তোমার মতামত যুক্তিসহ উপস্থাপন কর।
আরেকটি ভিন্ন সেট (Practice): উদ্দীপক
মিসেস শাহানা খান সবসময় সত্য কথা বলে, মানুষের সাথে নম্র আচরণ করে এবং গোপনে দান করে থাকেন। তিনি ধৈর্যশীল এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও আল্লাহর উপর ভরসা রাখেন।
(ক) মুত্তাক্বীর দুটি বৈশিষ্ট্য লিখুন।
(খ) মিসেস শাহানার মধ্যে “সবর” কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে?
(গ) তার জীবনে “ঈমান ও আখলাক” এর সম্পর্ক ব্যাখ্যা কর।
(ঘ) মিসেস শাহানা খানকে মুত্তাক্বী প্রমাণ করতে যুক্তি দিন।
সেট–১: মডেল উত্তর:
(ক) জ্ঞানমূলক
মুত্তাক্বী কাকে বলে?
মুত্তাক্বী হলো সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহকে ভয় করে, তাঁর আদেশ মেনে চলে এবং নিষিদ্ধ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখে। সে ঈমানদার, ন্যায়পরায়ণ এবং পরহেজগার জীবনযাপন করে।
(খ) অনুধাবনমূলক
এম আর খানের আচরণে “তাওবা” বৈশিষ্ট্যটি কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে—ব্যাখ্যা কর।
এম আর খান বন্ধুর সাথে খারাপ আচরণ করার পর অনুতপ্ত হয়েছে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়েছে। এরপর সে আর এমন কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই অনুতাপ, ক্ষমা প্রার্থনা এবং ভবিষ্যতে ভুল না করার দৃঢ় সংকল্পই তাওবার মূল বৈশিষ্ট্য। তাই এম আর খানদের আচরণে “তাওবা” স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
(গ) প্রয়োগমূলক
এম আর খানের জীবনে “ইবাদত ও আখলাক” এর সমন্বয় কীভাবে ঘটেছে—বিশ্লেষণ কর।
এম আর খান নিয়মিত সালাত সংযোগ অনুশীলনীতে থাকে, যা তার ইবাদতের অংশ। একই সাথে সে গরিবদের সাহায্য করে এবং সত্য কথা বলে, যা তার উত্তম আখলাকের পরিচয়। তবে রাগ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় তার আখলাকে সামান্য দুর্বলতা দেখা যায়। পরে সে অনুতপ্ত হয়ে নিজেকে সংশোধন করে। ফলে তার জীবনে ইবাদত ও আখলাক একসাথে বিদ্যমান, যদিও পরিপূর্ণতা অর্জনের চেষ্টা চলছে।
(ঘ) উচ্চতর দক্ষতা (মূল্যায়নমূলক):
এম আর খানে কি একজন পূর্ণাঙ্গ মুত্তাক্বী বলা যায়? আপনার মতামত যুক্তিসহ উপস্থাপন করুন।
আমার মতে, এম আর খানকে এখনই পূর্ণাঙ্গ মুত্তাক্বী বলা যায় না, তবে সে মুত্তাক্বীর পথে রয়েছে। কারণ সে সালাত সংযোগ অনুশীলনীতে থাকে, দান করে এবং সত্য কথা বলে—যা মুত্তাক্বীর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। কিন্তু সে রাগ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে, যা একটি দুর্বলতা। তবে ভালো দিক হলো, সে ভুল বুঝে তাওবা করেছে এবং সংশোধনের চেষ্টা করছে। তাই বলা যায়, রাশেদ একজন উন্নয়নশীল মুত্তাক্বী, যে ধীরে ধীরে পূর্ণ মুত্তাক্বী হওয়ার পথে অগ্রসর হচ্ছে।
সেট–২: মডেল উত্তর:
(ক) মুত্তাক্বীর দুটি বৈশিষ্ট্য হলো:
সত্য কথা বলা
মানুষের সাথে নম্র আচরণ করা
(খ) মিসেস শাহানা খান কঠিন পরিস্থিতিতেও ধৈর্য ধরে এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখে। কোনো বিপদ বা কষ্টে সে হতাশ হয় না। এই ধৈর্য ও স্থিরতাই তার জীবনে “সবর” বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ।
(গ) মিসেস শাহানার জীবনে ঈমান ও আখলাকের সুন্দর সম্পর্ক রয়েছে। সে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখে (ঈমান) এবং সেই বিশ্বাস অনুযায়ী সত্য কথা বলে, দান করে ও নম্র আচরণ করে (আখলাক)। অর্থাৎ তার ঈমান তার আচার-আচরণকে সুন্দরভাবে প্রভাবিত করেছে।
(ঘ) শাহানাকে মুত্তাক্বী বলা যুক্তিসঙ্গত, কারণ সে সত্যবাদী, দানশীল, নম্র ও ধৈর্যশীল। সে গোপনে ভালো কাজ করে এবং আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখে। এসব বৈশিষ্ট্য মুত্তাক্বীর মূল গুণাবলীর অন্তর্ভুক্ত। তাই বলা যায়, সুমাইয়া একজন আদর্শ মুত্তাক্বীর গুণাবলী ধারণ করে।
▓▒░ দোয়া ░▒▓
মুত্তাক্বীদের জন্য প্রস্তুত জান্নাত চাওয়ার দোয়া: ( 3:133)
১. মুত্তাকীদের অন্তর্ভুক্ত করার দোয়া (সবচেয়ে মূল দোয়া)
অর্থ: আর তারা বলে: হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রীদের ও সন্তানদেরকে আমাদের চোখের শীতলতা (আনন্দের কারণ) বানিয়ে দাও এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা/অগ্রণী করো।”
মুত্তাকীদের গুণ অর্জনের দোয়া (তাকওয়ার মূল ভিত্তি):