“আল্লাহু আকবার”—এই শব্দটি আমাদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত ও বহুল প্রচলিত হওয়া সত্ত্বেও, এটি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বিতর্ক ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
কিছু কুরআন গবেষকের মতে, যেহেতু “আল্লাহু আকবার” শব্দবন্ধটি কুরআনের ভেতরে সরাসরি এই গঠন (construct) আকারে ব্যবহৃত হয়নি, তাই এটি সালাতের ভিতরে পাঠ করা উচিত নয়—এমন একটি অবস্থান তারা গ্রহণ করেন। এই মতের পেছনে তাদের কিছু ভাষাগত ও পাঠ-ভিত্তিক যুক্তিও উপস্থাপিত হয়।
তবে আমরা কুরআনুল কারীমের গভীরে গিয়ে এই বিষয়টি আরও বিস্তৃতভাবে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করব, যাতে বিষয়টির ভাষাগত, প্রসঙ্গগত ও অর্থগত দিকগুলো পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়।
সাধারণভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, কুরআনে “আল্লাহ” এবং “أَكْبَر” এই দুইটি শব্দ বিভিন্ন আয়াতে পাশাপাশি বা একই বাক্য কাঠামোর মধ্যে উপস্থিত হয়েছে। মোটামুটিভাবে এমন তিনটি আয়াত বিশেষভাবে আলোচনায় আসে।
এখন আমরা আরও দুটি আয়াতের দিকে লক্ষ্য করি—একটি সূরা তাওবার এবং অন্যটি সূরা গাফিরের। আপনারা স্ক্রিনে আয়াত দুটি দেখতে পাচ্ছেন।
সূরা তাওবার আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন:
"وَرِضْوَانٌ مِّنَ اللّٰهِ أَكْبَرُ"
অর্থাৎ, “আল্লাহর পক্ষ থেকে যে সন্তুষ্টি (রিদওয়ান) লাভ হবে, সেটিই আরও মহান, সেটিই সর্বাপেক্ষা বড়।”
এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, “আকবার” শব্দটি সরাসরি “আল্লাহ” শব্দের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; বরং “রিদওয়ান” বা আল্লাহর সন্তুষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ আয়াতের অর্থ “আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ” নয়, বরং “আল্লাহর সন্তুষ্টিই সর্বশ্রেষ্ঠ”।
একইভাবে সূরা গাফিরে বলা হয়েছে:
"لَمَقْتُ اللّٰهِ أَكْبَرُ"
অর্থাৎ, “নিশ্চয়ই আল্লাহর ক্রোধ আরও বড়” বা “অত্যন্ত ভয়াবহ।”
এখানেও “আকবার” শব্দটি “আল্লাহ” শব্দের সঙ্গে নয়, বরং “মাকত” (ক্রোধ বা অসন্তোষ)-এর সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ আয়াতটি আল্লাহর ক্রোধের ব্যাপকতা ও গুরুত্ব বর্ণনা করছে।
সুতরাং, এই দুই আয়াতে যদিও “আল্লাহ” এবং “আকবার” শব্দ পাশাপাশি এসেছে, ব্যাকরণগত ও অর্থগত বিশ্লেষণে দেখা যায় যে “আকবার” এখানে “আল্লাহ”-এর খবর (predicate) হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি। বরং তা অন্য একটি বিশেষ্যের গুণবাচক বর্ণনা হিসেবে এসেছে।
তাই, যদি কেউ কুরআনের ভেতরে সরাসরি “আল্লাহু আকবার” শব্দবন্ধের সন্ধান করতে চান, তাহলে সূরা তাওবার ৯:৭২ এবং সূরা গাফিরের এই আয়াতগুলোকে সেই দাবির প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা কঠিন। কারণ এখানে “আকবার” শব্দটি আল্লাহর সঙ্গে নয়, বরং যথাক্রমে “রিদওয়ান” ও “মাকত”-এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। সে অর্থে, এই দুটি আয়াত থেকে সরাসরি “আল্লাহু আকবার” শব্দবন্ধ প্রতিষ্ঠিত হয় না।
তবে সূরা আনকাবূতের ২৯:৪৫ নম্বর আয়াতটি কিছুটা ভিন্ন প্রসঙ্গ বহন করে। এটিও সালাতের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়াত। এখানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন:
“اتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنَ الْكِتَابِ وَأَقِمِ الصَّلَاةَ”
অর্থাৎ, “তোমার প্রতি কিতাব থেকে যা ওহী করা হয়েছে তা তিলাওয়াত করো এবং সালাত প্রতিষ্ঠা করো।”
এরপর বলা হয়েছে:
“إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ”
অর্থাৎ, “নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীলতা ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে।”
এরপরের অংশটি আমাদের আলোচনার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ:
“وَلَذِكْرُ اللّٰهِ أَكْبَرُ”
অর্থাৎ, “আর নিশ্চয়ই আল্লাহর যিকরই সর্বাধিক মহান/সর্বোচ্চ।”
অর্থাৎ, সালাতের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে এখানে আল্লাহর স্মরণকে সর্বোচ্চ মর্যাদায় স্থাপন করা হয়েছে—সালাতের আসল লক্ষ্য হলো আল্লাহর যিকর।
এখানে “আল্লাহ” এবং “আকবার” শব্দ দুটি পাশাপাশি এলেও তাদের মধ্যে সরাসরি কোনো ব্যাকরণিক সম্পর্ক নেই; কারণ “أَكْبَرُ” এখানে “ذِكْرُ اللّٰهِ”-এর মর্যাদা ও অবস্থান বর্ণনা করছে। তাই প্রচলিত ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে এটি “আল্লাহ + আকবার” ধরনের কোনো গঠন নয়, বরং “যিকর”-এর সাথে সম্পর্কিত একটি তুলনামূলক বর্ণনা।
ফলে এই আয়াতে জোর দেওয়া হয়েছে সালাতের উদ্দেশ্য ও কেন্দ্রবিন্দুর উপর—অর্থাৎ আল্লাহর স্মরণই সর্বোচ্চ ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।
তাহলে আমরা কেন এই আয়াতটিকে ওই আগের গাফির এবং তাওবার আয়াত থেকে সেপারেট করলাম। এই আয়াত নিয়ে কিছু বলার আছে।
আপনারা স্ক্রিনে যে আয়াতটি দেখছেন, সেটি সূরা আনকাবূতের ২৯:৪৫ নম্বর আয়াতেরই একটি অংশ। তবে আমি এখানে আয়াতটিকে বর্তমানের তাশকীল বা হারাকাত চিহ্ন—যেমন যবর, যের, পেশ—ছাড়া উপস্থাপন করেছি।
আপনারা সবাই জানেন, যখন কুরআনুল কারীম আল্লাহর রাসুল-এর ওপর নাযিল হয় এবং তা লিখিত আকারে সংরক্ষণ করা হয়, তখন আরবি লিপিতে আজকের মতো হারাকাত বা নুকতা ব্যবহৃত হতো না। অর্থাৎ ن, ت, ي, ب-এর পার্থক্য নির্দেশক ডটগুলো যেমন ছিল না, তেমনি ফাতহা, কাসরা, দাম্মার মতো স্বরচিহ্নও ছিল না। এর প্রয়োজনও তখন ছিল না, কারণ আরবরা নিজেদের ভাষা স্বাভাবিকভাবেই পড়তে ও বুঝতে পারত।
আজও এর কিছু নমুনা আমরা দেখতে পাই। যারা মধ্যপ্রাচ্যে থেকেছেন, তারা জানেন যে অধিকাংশ আরবি সংবাদপত্র, সাময়িকী বা সাধারণ প্রকাশনায় নিয়মিতভাবে হারাকাত ব্যবহার করা হয় না। তবুও ভাষাভাষীরা কোনো অসুবিধা ছাড়াই সেগুলো পড়তে পারেন।
একইভাবে, আপনি যদি ইন্টারনেটে কুরআনের প্রাচীন পান্ডুলিপিগুলো পর্যবেক্ষণ করেন, তাহলে দেখবেন যে সেগুলোর অধিকাংশই নুকতা ও হারাকাতবিহীন রসমে উসমানী লিপিতে লেখা। অর্থাৎ পরবর্তীকালে পাঠকে আরও সহজ ও নির্ভুল করার জন্য যে চিহ্নগুলো সংযোজিত হয়েছে, সেগুলো মূল লিখিত পাঠের অংশ ছিল না।
এখন, যদি আমরা আয়াতের সংশ্লিষ্ট অংশটিকে তার প্রাথমিক লিখিত রূপে—অর্থাৎ হারাকাতবিহীন অবস্থায়—পড়ার চেষ্টা করি, তাহলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে। বর্তমান মুদ্রিত মুসহাফে লামের ওপর যে ফাতহা (যবর) দেওয়া হয়েছে, সেটিই পাঠকে একটি নির্দিষ্ট ব্যাকরণিক রূপে নিয়ে যায় এবং সেই ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট অর্থ প্রতিষ্ঠিত হয়।
কিন্তু যখন আমরা মূল ব্যঞ্জনধর্মী (consonantal) পাঠ বা রসমের দিকে ফিরে তাকাই, তখন প্রশ্ন ওঠে—এই পাঠ কি অন্য কোনো ব্যাকরণিক সম্ভাবনাও ধারণ করতে পারে? অর্থাৎ, যে হারাকাত আজ একটি নির্দিষ্ট অর্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে, তা না থাকলে পাঠের সম্ভাব্য ব্যাখ্যাগুলো কী হতে পারত? এই আলোচনায় মূলত সেই ভাষাগত সম্ভাবনার দিকটিই আমরা বিবেচনা করতে চাই
এখন আমি এই লামের উপরে জবর না দিয়ে আমি লামের নিচে জের দিয়ে পড়বো। তবে কেন পড়বো এইটি পড়ার আগে আমি একটু ব্যাকগ্রাউন্ড দিই। আমরা জানি যে কোরআনুল কারীমের কিরাতের বিভিন্ন ধরনের রসম আছে। আমরা জানি যে মোটামুটি 10 টা কিরাত আমাদের ভিতরে সবচেয়ে বেশি প্রসিদ্ধ। কিরাত মানে তেলাওয়াত করার রীতি এবং এটি তাওয়াতুর সূত্রে আমাদের কাছে হাজার বছর থেকে আমাদের কাছে আসছে।
তার ভিতরে সবচেয়ে বিখ্যাত হচ্ছে হাফসের হাফ আনআসিমের রেওয়াত যেটি মেইনলি আসছে কুফা থেকে তারপরের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ রেওয়াইত বা কেরাত হচ্ছে ওয়ারিস আন নাফি যেটি মূলত আসছে মদিনা থেকে এবং মাগরিব নর্থ আফ্রিকার দিকে এটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধভাবে পড়া হয়।
কুরআন মাজীদ তিলাওয়াতের বিভিন্ন রীতি ও কিরাআত আমাদের কাছে সুপরিচিত একটি বিষয়। এরকম 10টি বিভিন্ন কেরাত রীতি আছে। এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত জ্ঞান খুবই সীমিত, কারণ এটি একটি বিশেষায়িত (specialized) শাস্ত্র, এবং এর বিশদ আলোচনা বিশেষজ্ঞদের জন্যই অধিক উপযোগী। তাই এ বিষয়ে আমি দীর্ঘ আলোচনা করতে চাই না।
তবে এতটুকু বলা যায় যে, আরবের বিভিন্ন অঞ্চলের উপভাষাগত (dialectal) বৈচিত্র্যের কারণে কুরআন তিলাওয়াতের পদ্ধতি, উচ্চারণ এবং কিছু ক্ষেত্রে তাশকীলের ভিন্নতা আমাদের কাছে সুপ্রামাণ্যভাবে সংরক্ষিত রয়েছে। মদিনার ভাষারীতি একরকম, মক্কার আরেক রকম, কুফার এক রকম, বসরার আরেক রকম—এই ধরনের আঞ্চলিক ভাষাগত পার্থক্যের প্রতিফলন কিরাআতের বিভিন্ন রূপে দেখা যায়।
তবে এই ভিন্নতাগুলোকে অতিরঞ্জিত করারও কোনো কারণ নেই। এগুলো মূল কুরআনিক পাঠের সঙ্গে কোনো সংঘর্ষ সৃষ্টি করেনি, কুরআনের মৌলিক বক্তব্যকে পরিবর্তন করেনি এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অর্থের মধ্যে এমন কোনো মৌলিক পার্থক্য তৈরি করেনি যা আকীদা, বিধান বা কুরআনের কেন্দ্রীয় বার্তাকে প্রভাবিত করে। বরং এগুলো কুরআনের সংরক্ষিত তিলাওয়াত-ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেই মুসলিম উম্মাহর কাছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নথিবদ্ধ ও সংরক্ষিত হয়ে এসেছে।
যেমন একটি ফেমাস উদাহরণ দিই আমাদের ভিতরে যে সূরা মায়েদার 5:6 আয়াত- ওযু এবং তায়াম্মুমের আয়াত সেখানে এই হাফসের কেরাতে আমরা পড়ি ওয়া আর জুলাকুম পা যখন ধৌত করা হয় তখন এটা হাফসের কেরাতে আমরা পড়ি আওয়া আর জুলাকুম এখানে জবর দিয়ে জুলা কুম পড়া হচ্ছে।
কিন্তু যখন আমরা ওয়ারেস আমরা যখন ওয়ারস আন নাফির কেরাত দিয়ে পড়ি তখন এটি পড়া হয় ওয়া আর জুলিকুম জুলাকুম না পড়া হয় জুলিকুম এখানে আমরা জের বা কাসরা দিয়ে পড়ছি যেটার দ্বারা পা-কে মাসেহ করা বুঝাবে। এটা একটা এক্সাম্পল দিলাম যে ফাতা বা জবর এবং কাশরা বা জেরের হেরফের বিভিন্নভাবে আমাদের কেরাতের সিলসিলাতে আসছে। সেই হিসেবে যদি আমি এই আয়াতটিকে ওয়ালা দিকরুল্লাহি আকবার না পড়ে আমি যদি পড়ি ওয়ালি ওয়ালি দিকরুল্লাহি আকবার।
এই লাটা না করে আমি পড়ছি লি। লি হয়ে গেল একটি হারফে জার বা অব্যয় পদ। তাহলে এটির অর্থটা কি হবে? এটির অর্থটি হবে যে তোমার প্রতি যে কিতাব ওহী করা হয়েছে তা থেকে তেলাওয়াত করো এবং সালাত কায়েম করো।
নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। আর সালাত আল্লাহু আকবার স্মরণের জন্য। এই লি লা থেকে লি এর ছোট্ট একটি কেরাতের ডিফারেন্সের জন্য আল্লাহু আকবার শব্দ দুটিকে একত্রে নিয়ে এসে এই অর্থ করা হবে যে আল্লাহু আকবার স্মরণটাই হচ্ছে সালাতের একটি উদ্দেশ্য। দেখুন, লা দিয়ে যেটা পড়া হলো লিয়ে যেটা পড়া হলো এর ভিতরে মূল টেক্সট এর কোন ডিফারেন্স হলো না।
হারাকাতের থোড়া অল্প কিছু ডিফারেন্স তাসকিলের কিছু ডিফারেন্স হলো এবং মানে এটা যে ভাবার্থ আল্লাহর জিকির করা কোরআনে বলা হয়েছে যেভাবে দুই তাসকিলেই ভাবার্থ একই থেকে যাচ্ছে।
এখন আপনারা বলতে পারেন যে না কেন আমরা এই জিনিসটি করব? এটি আমি একটি হাইপোথেটিক্যাল পসিবিলিটি নিয়ে আলোচনা করেছি। You can take my argument with a pinch of salt। এটা necessary না যে আমার এই এই প্রস্তাবনাটা এমন কোন গুরুত্বপূর্ণ গুরুত্বের সাথে নিতে হবে। কিন্তু এটা একটা Possibility। এবার আমরা এই পসিবিলিটিটাকে জাস্ট একটা Sideline করে একটি স্পষ্ট আয়াতের দিকে নজর দিই।
এটি সূরা বনী ইসরাঈলের ১৭:১১১ নম্বর আয়াত। যারা সালাত-সংক্রান্ত আলোচনা নিয়ে কাজ করেন, তাদের কাছে এই আয়াতটি অত্যন্ত পরিচিত। কারণ ১৭:১১০ ও ১৭:১১১—এই দুই আয়াতকে একত্রে পড়লে দেখা যায়, এটি মূলত সালাতের সামগ্রিক প্রসঙ্গেই অবতীর্ণ নির্দেশনার অংশ।
এখানে প্রশ্ন আসে—সালাতের কিরাআত বা উচ্চারণের ধরন কেমন হবে? তা কি উচ্চস্বরে, নিচু স্বরে, নাকি মধ্যম স্বরে হবে? এবং সালাতের মধ্যে কী পাঠ করা হবে? আল্লাহর যিকর ও নাম স্মরণ করার বিষয়টি এখানে কেন্দ্রীয়ভাবে আলোচিত হয়েছে।
এরপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সালাত প্রসঙ্গে শেষ নির্দেশনা হিসেবে বলেন:
“وَكَبِّرْهُ تَكْبِيرًا”
অর্থাৎ, “তাঁর মহত্ত্ব ঘোষণা করো—পূর্ণভাবে, যথাযথভাবে, জোরালোভাবে তাঁর মহিমা প্রকাশ করো।”
এখানে লক্ষ্যণীয় যে, আল্লাহ যদি শুধু “وَكَبِّرْهُ” বলে শেষ করে দিতেন, তবে সাধারণভাবে “মহানত্ব বর্ণনা করো”—এমন একটি সাধারণ নির্দেশ দাঁড়াত। কিন্তু “تَكْبِيرًا” সংযোজনের মাধ্যমে নির্দেশটিকে জোরদার ও emphatic করা হয়েছে।
অর্থাৎ এটি একটি তাওকীদ (emphasis), যা নির্দেশ করছে যে মহত্ত্ব প্রকাশ কেবল সাধারণভাবে নয়, বরং পূর্ণমাত্রায় ও সর্বোচ্চভাবে করতে হবে।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে “কাব্বির” ক্রিয়াটি যখন বাস্তবে প্রয়োগ করা হয়, তখন তা কেবল “কবীর” (মহান) ধারণায় সীমাবদ্ধ না থেকে আরও জোরালো ও সর্বোচ্চ স্তরের প্রকাশে পৌঁছে যায়—যা ইসমে তাফদীলের ধারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে “আকবার” অর্থের দিকে নির্দেশ করে, অর্থাৎ সর্বাধিক মহানত্বের প্রকাশ।
কবীর অর্থ মহান বা শ্রেষ্ঠ, আর আকবার হলো তার ইসমে তাফদীল, যার অর্থ আরও মহান, সর্বাধিক মহান বা সর্বশ্রেষ্ঠ। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায় যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যখন “وَكَبِّرْهُ تَكْبِيرًا” বলে তাঁর মহত্ত্ব ঘোষণার নির্দেশ দিচ্ছেন, তখন তা কেবল সাধারণভাবে মহত্ত্ব বর্ণনার নির্দেশ নয়; বরং সেই মহত্ত্বকে যথাযথভাবে, পূর্ণতা ও জোরের সঙ্গে প্রকাশ করার নির্দেশ।
অর্থাৎ, আল্লাহর মহানত্বকে শুধু একটি সাধারণ বর্ণনায় সীমাবদ্ধ না রেখে তাকে সর্বোচ্চ মাত্রায় প্রকাশ করা—এটাই তাকবীরের প্রকৃত তাৎপর্য। সেই অর্থে “কবীর” থেকে “আকবার”-এর দিকে অগ্রসর হওয়াকে আল্লাহর মহত্ত্বের আরও শক্তিশালী ও পূর্ণাঙ্গ ঘোষণা হিসেবে বোঝা যায়।
এইমর্মে, সালাতে আল্লাহর মহত্ত্ব ঘোষণার সবচেয়ে পরিপূর্ণ ও জোরালো প্রকাশ হলো “الله أكبر”। অর্থাৎ “আল্লাহ মহান” বলার চেয়ে “আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ” বলা তাকবীরের উদ্দেশ্যকে আরও পূর্ণভাবে প্রতিফলিত করে।
তদুপরি, “আকবার” এমন কোনো শব্দ নয় যা কুরআনের বাইরে থেকে এসেছে বা যার কুরআনিক ভিত্তি নেই। বরং এটি কুরআনুল কারীমে বারবার ব্যবহৃত একটি খাঁটি আরবি ও কুরআনিক শব্দ, যা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্ব প্রকাশের জন্য নিজ কুরআনেই প্রতিষ্ঠিত।
আপনারা স্ক্রিনে দেখতে পাচ্ছেন, কুরআনুল কারীমে “আকবার” শব্দটি বহুবার ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ এটি এমন কোনো শব্দ নয় যা বাইবেল থেকে ধার করা হয়েছে, কিংবা সংস্কৃত, আরামাইক বা হিব্রু ভাষা থেকে গৃহীত হয়েছে। বরং এটি একটি খাঁটি আরবি শব্দ, এবং কুরআনের ভাষারই অবিচ্ছেদ্য অংশ। কুরআনের বিভিন্ন স্থানে এই শব্দের পুনঃপুনঃ ব্যবহার তার কুরআনিক ভিত্তিকে আরও সুস্পষ্ট করে।
সুতরাং, এটি আমাদের আলোচনার দ্বিতীয় প্রস্তাবনা।
এবার আমরা তৃতীয় প্রস্তাবনার দিকে অগ্রসর হব। আমি এর নাম দিয়েছি “সালামুন ‘আলা ইবরাহীম-এর যুক্তি” (Logic of Salamun Ala Ibrahim)। এটি এমন একটি যুক্তি, যার ভিত্তি আমরা নবী সালামুন ‘আলা ইবরাহীম-কে কেন্দ্র করে কুরআনের উপস্থাপনা থেকে গ্রহণ করতে পারি।
আসুন, বিষয়টি একটু মনোযোগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করি।
সূরা আল আনামের এই আয়াতগুলোতে আমরা জানি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ আয়াত, যে সালামুন আলা ইব্রাহিম তাওহীদ শিখছেন- আল্লাহ সুবহানাতায়ালাকে রব হিসেবে চিনার উনার যে একটা যাত্রা সেগুলো এই আয়াত কয়েকটির ভিতরে আসছে। 6:78 এর আগে যদি 6:77 পড়েন 6:76 পড়েন প্রথমে উনি একটি তারকা দেখলেন। তারকাটা নিভে গেল। এবং তারকা দেখে উনি মনে করলেন এটাই বোধহয় আমার রব।
যখন চাঁদ ঝলমল করে উঠলো। তখন চাঁদকে সালামুন আলা ইব্রাহিম মনে করলেন যে না এটি হচ্ছে আমার রব। চাঁদ যখন অস্তমিত হয়ে গেল উনি বললেন যে না আমি পছন্দ করি না যা ডুবে যায়। তারপরে উঠলো সূর্য। এইখান থেকে আমাদের স্ক্রিনে আয়াতটা শুরু লাম্মা অতঃপর যখন রাস সামসা তিনি সূর্যকে দেখলেন বা জিগাতান উদয়মান হলো উজ্জ্বলতার সাথে এবং তিনি তখন বললেন হাদা রাব্বি হাদা আকবার এইটি হল আমার রব এবং এইটি হল আকবার -এই অংশ অংশ টুকু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবংদা অর্ডার অফ দা ওয়ার্ডস।
এই যে ওয়ার্ডগুলা আসছে এই যে হরফগুলা এই জুমলাতে যে এইগুলো আসছে এটি একটি দেখার বিষয় কারণ আল্লাহ সুবহানাতালা তার প্রত্যেকটি শব্দচয়ন প্রত্যেক প্রত্যেকটি শব্দের অর্ডার এত বেশি গুরুত্ব বহন করে যে একেকটি এই বিষয়গুলোর ভিতরে অনেক বড় হেদায়েত থাকে। সালামুন আলা ইব্রাহিম প্রথমে বলছেন যে হাযা রাব্বি উনি আগে বলেননি যে হাযা আকবার হাযা রাব্বি। আগে বলেছেন হাযা রাব্বি আমার রব হাযা আকবার। মানে রাব্বি উনি এই সেন্সটা প্রথমে উনিকে স্ট্রাইক করেছেন তারপরে যে জিনিস স্ট্রাইক স্ট্রাইক করেছে যে উনার কাছে মনে হয়েছে যে না যেহেতু রব সেহেতু সে আকবার হতে বাধ্য।
কিন্তু যখন তিনি এই সূর্য যে ডুবে গেল আফালতা তার তখন তিনি বললেন যে না এটিও আমার রব না আমি শিরক থেকে মুক্তি চাই। এরপরে 6:80 নাম্বার আয়াতে এসে সালামুন আলা ইব্রাহিম আল্লাহ সুবহানাতায়ালাকে তার রব হিসেবে চিহ্নিত করতে পারলেন এবং তার কওমের সাথে উনি একটি বিতর্কে গেলেন যে আল্লাহকে রব হিসেবে চিহ্নিত করার। এখন আমরা এই আয়াতটিকে কাজে লাগিয়ে একটি লজিক্যাল ফ্লোচার্ট দিয়ে জিনিসটি বোঝার চেষ্টা করব।
সালামু আলা ইব্রাহিম আল্লাহকে রব হিসেবে চিনার আগে সূর্যকে রব মনে করেছিলেন। অতএব আল্লাহ এবং সূর্য এই দুইটি ছিল তার কাছে ক্যান্ডিডেট। টু বি এ রব।
এখন এই দুইটির ভিতরে আল্লাহই হচ্ছে একমাত্র রব এবং সূর্য রব না। অতএব যখন আমরা ওই আয়াতে দেখেছিলাম যে সালামু আলা ইব্রাহিম বলছেন যেহাযা রাব্বি হাযা আকবার। তাই রব হওয়ার কারণে আকবার। রব যদি না হয় তাহলে সে আকবার না। এই একটা লজিক আমাদেরকে সালামুন আলা ইব্রাহিম দেখিয়ে দিয়েছেন।
অতএব যেহেতু রব আল্লাহ yes অতএব আল্লাহই আকবার। যেহেতু সূর্য রব নো অতএব সূর্য আকবার নয়। এই সিম্পল লজিক্যাল একটি ইন্টারপ্রিটেশন থেকে আমরা বুঝতে পারি যে সালামুন আলা ইব্রাহিম হাজার হাজার বছর আগে আমাদেরকে একটি দিক নির্দেশনা দিয়ে গেছেন যে আল্লাহ যে রব হবে সেই হবে আকবার। যে রব হবে না সে আকবর হবে না।
এখন সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নের সম্মুখীন আমরা হব বা হই। যে আকবর হচ্ছে একটি সুপারলেটিভ ডিগ্রী। আকবর মানে হচ্ছে সর্ববড়। সবার চেয়ে বড়। সবচেয়ে বড় বা সর্বশ্রেষ্ঠ। তার মানে কি?
আমরা বলতে চাচ্ছি যে আরো ছোট ছোট কাবির স্রষ্টা আছে। আমরা তুলনা করবো আল্লাহকে আরো ছোট ছোট মানে তুলনা না করলে তো আর আকবর শব্দটার তো কোন গ্রামাটিক্যাল ইমপ্লিকেশন আসে না। এর উত্তরও কোরআনুল কারীমের ভিতরে দেওয়া হয়েছে।
এখন আমরা স্ক্রিনে যে আয়াতটি দেখছি সূরা সাফফাতের ভিতরে সূরা মুমিনের ভিতরে এখানে আল্লাহ সুবহাতালা নিজেকে বলতেছেন যে আহসানিল খালিকিন খালেক হচ্ছে সৃষ্টিকর্তা। আল্লাহর একটি গুণবাচক নাম। কিন্তু এখানে আসছে যে আল্লাহ তালা বলছেন যে, আমি খালেকিন, খালেকিন হচ্ছে জামা বা বহুবচন। যে আমি স্রষ্টা সমূহের ভিতরে সর্বশ্রেষ্ঠ।
আবার আমরা দেখি, সূরা মুমিনূনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মানুষের মাতৃগর্ভে সৃষ্টির বিভিন্ন ধাপ বর্ণনা করার পর বলেন, "فَتَبَارَكَ اللّٰهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ" — “অতএব, বরকতময় আল্লাহ, যিনি সকল ‘খালিক’-এর মধ্যে সর্বোত্তম।”
এখানে প্রশ্ন আসতে পারে, “সকল স্রষ্টার মধ্যে সর্বোত্তম” বলা হলে কি এর অর্থ এই যে আল্লাহ ছাড়াও আরও স্রষ্টা আছে?
এর সহজ উত্তর হলো, কুরআন অনেক স্থানে মানুষের তৈরি বা মানুষের প্রতি মিথ্যাভাবে আরোপিত ক্ষমতাকেও তাদের দাবির ভাষায় উল্লেখ করে। অর্থাৎ, মানুষ যাদেরকে স্রষ্টা বা উপাস্য বলে দাবি করে, বাস্তবে তারা স্রষ্টা না হলেও কুরআন তাদের সেই দাবিকেই আলোচনার প্রসঙ্গে তুলে ধরে।
উদাহরণস্বরূপ, সূরা সাফ্ফাতে ‘বা‘ল’ নামক একটি মূর্তির কথা এসেছে। সেই সম্প্রদায় নবী সালামুন আলা ইলিয়াস-এর দাওয়াত উপেক্ষা করে বা‘লকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছিল এবং তার জন্য এমন ক্ষমতা ও মর্যাদা আরোপ করত, যা একমাত্র আল্লাহরই প্রাপ্য। তাই “أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ” বলার অর্থ বহু প্রকৃত স্রষ্টার অস্তিত্ব স্বীকার করা নয়; বরং সকল কথিত, দাবিকৃত বা রূপক ‘স্রষ্টা’র ঊর্ধ্বে আল্লাহই প্রকৃত ও সর্বোত্তম স্রষ্টা—এই সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা।
তো আল্লাহ সুবহাতা বলতেছেন তোমরা ডাকছো তাকে কিন্তু সে যদিও মিথ্যা কিন্তু আমি তার চেয়ে বড় খালিক। তাই এখানে বলতেছেন আহসান খালিকিন।
আবার আমরা মানুষ হিসেবেও অনেক কিছু বানাই। আমরা গাড়ি বানাই, আমরা বড় বড় অটালিকা বানাই, আমরা কম্পিউটার বানাচ্ছি, আমরা অনেক কিছু বানাচ্ছি। আমরাও এক সেন্সে খালেক। এবং এটি আমার কথা না। সূরা মায়েদা আপনার স্ক্রিনে দেখতে পাচ্ছেন 5:110 আয়াত। সেখানে মরিয়ম তনায় ঈসা সালামুন আলার বিষয়ে বলা হচ্ছে যে তিনি পাখির অবয়ব বা আকৃতি বা মূর্তি তৈরি করতেন। আল্লাহ সুবহানাতাালার হুকুমে যখন ফুৎকার করতেন তখন সে পাখি জীবন্ত হয়ে যেত।
এই আয়াতটি আরবিতে যদি আমরা দেখি এখানে বলা হচ্ছে ওয়াদ এবং যখন তাখলুকু মিনাল তিন কাহাইয়াতি। যখন তুমি তৈরি করতে মাটি থেকে একটি মূর্তি কিসের মূর্তি আততাইিত বিইনি আমার অনুমতি নিয়ে পাখির মূর্তি তৈরি করতে পাখির মূর্তি তৈরি করা ইজ নট এ ভেরি বিগ ডিল।
কিন্তু আল্লাহ সুবহানাতালা এখানে এই পাখির আকৃতি তৈরি করা জন্য যে শব্দটি ব্যবহার করেছেন সেটি হল খালক যেটা খালেক বা খালিকিন ইত্যাদির সাথে সম্পর্কিত। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন যে ওয়াইদ তাখলুকু অতএব এই সেন্সে সালামুন আলা ঈসা একজন খালেক, কারণে মাটি দিয়ে তৈরি করেছেন একটি পাখির মূর্তি। তাই আল্লাহ সুবহানাতালা এটা বলতে চাচ্ছেন যে যে ফলস অট্রিবিউশনই হোক মিথ্যাচার করেই হোক তাদের ভন্ড খোদাকেই হোক আর মূর্তিকে হোক মানুষ বিভিন্ন ধরনের যেগুলা যারা সৃষ্টি করেছে তার ভিতরে আল্লাহ সুবহাতালা হচ্ছে সবচেয়ে উত্তম খালিকিন ।
তাই আমরা মনে হয় না যে এটা আমাদের জন্য আর বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে যে, আকবারু ওই একই সেন্সেই ইউজ হবে এরকম। অনেক উদাহরণ আমরা কোরআনুল কারীমের ভিতরে পাই যেমন আমরা পাই যে আল্লাহ সুবহাতালা বলতেছেন খাইরুল রাজিকিন আপনি হচ্ছেন সবচেয়ে উত্তম বা উত্তম রিজিকদাতা।
রাজিকিন শব্দটা বহুবচন। অনেক রিজিকদাতার ভিতর থেকে তিনি উত্তম। আবার আমরা দেখতে পাচ্ছি- যে ওয়াহুয়া খাইরুল হাকিমিন। তিনি হচ্ছেন উত্তম হুকুমদাতা। আবার আসছে ওয়া আনতা খাইরুল ফাতিহিন। তিনি উত্তম মীমাংসাকারী। আবারআমরা দেখতে পাচ্ছি যে এখানে সূরা ইমরানের ভিতরে আসছে ওয়াল্লাহু খাইরুল মাকিরিন। এ মাকিরিন শব্দটাও আবার বহুবচন।
সূরা আনআম ৬:১৯-এর আলোচ্য অংশ:
“قُلْ أَيُّ شَيْءٍ أَكْبَرُ شَهَادَةً ۖ قُلِ اللّٰهُ”
এখানে “أَكْبَرُ” শব্দটি ব্যাকরণগতভাবে একটি তুলনামূলক বিশেষণ (ism tafdil), যা “شَهَادَةً” (সাক্ষ্য/গুয়াহি)-এর সাথে সম্পর্কিত। অর্থাৎ এখানে বলা হচ্ছে—“সাক্ষ্যের দিক থেকে সবচেয়ে বড় কে?”
এর উত্তরে বলা হয়েছে—“আল্লাহ!”
এই আয়াতে লক্ষণীয় যে, “আল্লাহ” এবং “আকবার” একই বাক্য কাঠামোর ভেতরে অর্থগতভাবে যুক্ত হলেও “أَكْبَرُ” শব্দটি সরাসরি “আল্লাহ”-এর predicate হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি; বরং এটি পূর্ববর্তী শব্দ “شَهَادَةً”-এর সাথে সম্পর্কিত তুলনামূলক গুণ নির্দেশ করছে।
তাই শুধুমাত্র কুরআনের পাঠ বিশ্লেষণের দৃষ্টিতে দেখা যায় যে, “أَكْبَر” শব্দের ব্যবহার কুরআনে একাধিক ভিন্ন ব্যাকরণিক কাঠামোতে এসেছে, এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে এর অর্থ নির্ধারিত হয়েছে তার নিজস্ব সিবাক (context) ও ইরাব কাঠামোর মাধ্যমে।
এই ভিত্তিতে বলা যায় যে, কুরআনিক ব্যবহারের দৃষ্টিকোণ থেকে “أَكْبَر” শব্দের উপস্থিতি কোনো একক স্থির বাক্যগঠনে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিভিন্ন সিনট্যাকটিক সম্পর্কের মধ্যে এটি ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট কোনো আয়াতের কাঠামোর সাথে মিল না থাকার কারণে সালাতে ব্যবহৃত কোনো প্রচলিত জিকিরের ব্যাকরণগত অসামঞ্জস্যতা দাবি করা কেবল কুরআনের অভ্যন্তরীণ ভাষাগত বৈচিত্র্যকে উপেক্ষা করে একটি সংকীর্ণ পাঠ হবে।
সুতরাং, এসব আলোচনা ও প্রমাণ একত্রে বিবেচনা করলে আমরা এই উপসংহারে পৌঁছাতে পারি যে, “আল্লাহু আকবার” শব্দবন্ধের কুরআনের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই, অথবা সালাতে “আল্লাহু আকবার” বলা হলে তা কুরআনসম্মত নয়—এ ধরনের ধারণা সঠিক বলে মনে হয় না।
বরং কুরআনের বিভিন্ন আয়াত, বিশেষ করে “وَكَبِّرْهُ تَكْبِيرًا”-এর নির্দেশনা, আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্বকে সর্বোচ্চভাবে ঘোষণার যে শিক্ষা দেয়, “আল্লাহু আকবার” তারই একটি স্বাভাবিক, সুপ্রতিষ্ঠিত ও আয়াতসম্মত প্রকাশ।
তাই কেউ সালাতে বা সাধারণভাবে “আল্লাহু আকবার” উচ্চারণ করলে সেটিকে কুরআনবিচ্ছিন্ন বা কুরআনের পরিপন্থী বলা যুক্তিসঙ্গত বলে মনে হয় না।
তবে এগুলো আমার উপলব্ধি ও গবেষণার ভিত্তিতে উপস্থাপিত আলোচনা। চূড়ান্ত জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছেই রয়েছে।
وَاللّٰهُ أَعْلَمُ — আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।
অবলম্বনে- Quranic Sherlock Holmes
