নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত রাসূলের বাণী-আয়াত ৬৯:৪০ ও ৮১:১৯। ....এটি রব্বিল আলামিন-এর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত-৬৯:৪৩
* * * * * * * * *
আল কুরআন সরাসরি নিজেকে "الحديث" আল হাদীস এবং "أحسن الحديث" (সর্বোত্তম হাদীস) বলে অভিহিত করেছে (’আল’ মানে নির্দিষ্ট করে একবচনে):
নিচের দিকে ভিডিও শুনতে পারেন
আল্লাহ নাযিল করেছেন সর্বোত্তম হাদীস (আহসানাল হাদিস)—এক কিতাব, যার বিষয়বস্তু পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং পুনঃপুনঃ উপদেশপূর্ণ। যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, তাদের দেহে এর প্রভাবে শিহরণ জাগে; অতঃপর তাদের দেহ ও হৃদয় আল্লাহর স্মরণের দিকে কোমল হয়ে আসে। এটাই আল্লাহর হিদায়াত (হুদাল্লাহ); তিনি এর মাধ্যমে যাকে ইচ্ছা পথ দেখান। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই।
তোমরা কি এই হাদীস (কুরআন) সম্পর্কে উদাসীনতা ও অবজ্ঞা প্রদর্শন করছ?
সূরা আল-কলম ৬৮:৪৪
অতএব আমাকে এবং যে এই হাদীসকে (কুরআনকে) মিথ্যা বলে তাকে ছেড়ে দাও; আমি তাদেরকে এমনভাবে ধীরে ধীরে পাকড়াও করব যে তারা বুঝতেও পারবে না।
২. কুরআনের পরে আর কোন “হাদীস”-এ বিশ্বাস করবে—এই প্রশ্ন করা হয়েছে:
এই আয়াতগুলোতে হাদীস "حديث" শব্দটি সাধারণ অর্থে বাণী, বক্তব্য, সংবাদ, বিবৃতি বোঝালেও প্রসঙ্গ অনুযায়ী কুরআনের পর অন্য কোনো বক্তব্যে বিশ্বাস করার প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে।
তারা কি আসমানসমূহ ও পৃথিবীর রাজত্ব এবং আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন সেদিকে লক্ষ্য করে না? আর এ বিষয়েও না যে, হয়তো তাদের নির্ধারিত সময় নিকটবর্তী হয়ে এসেছে? অতএব এর (কুরআনের) পরে তারা আর কোন হাদীসে বিশ্বাস করবে?
এগুলো আল্লাহর আয়াত, যা আমি তোমার কাছে সত্যসহকারে তিলাওয়াত করছি। অতঃপর আল্লাহ ও তাঁর আয়াতসমূহের পরে তারা আর কোন হাদীসে বিশ্বাস করবে?
فَبِأَيِّ حَدِيثٍ بَعْدَهُ يُؤْمِنُونَ
অতএব এর (কুরআনের) পরে তারা আর কোন হাদীসে বিশ্বাস করবে? -সূরা আল-মুরসালাত ৭৭:৫০
তারা যদি সত্যবাদী হয়, তবে এর অনুরূপ একটি হাদীস নিয়ে আসুক!
বিশেষভাবে লক্ষণীয়:
সূরা আয-যুমার ৩৯:২৩
“আল্লাহ নাযিল করেছেন সর্বোত্তম হাদীস।”اللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ
এবং
আল্লাহ ও তাঁর আয়াতসমূহের পরে তারা আর কোন হাদীসে বিশ্বাস করবে? -সূরা আল-জাসিয়াহ ৪৫:৬فَبِأَيِّ حَدِيثٍ بَعْدَ اللَّهِ وَآيَاتِهِ يُؤْمِنُونَ
এই দুই আয়াত "হাদীস" শব্দের কুরআনিক ব্যবহারের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত আয়াতগুলোর অন্তর্ভুক্ত।
বিপরীতে-(কনট্রাস্ট):
আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ এমন আছে, যারা অজ্ঞতাবশত আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বিচ্যুত করার জন্য লাহওয়াল-হাদীস (অর্থহীন/ বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা) ক্রয় করে এবং তা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি-আয়াত ৩১:৬
আর যখন তার কাছে আমাদের আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, সে অহংকারবশত মুখ ফিরিয়ে নেয়, কেমন যেন সে তা শুনতে পায়নি, যেন তার দুই কানের মধ্যে রয়েছে বধিরতা। অতএব, তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দাও। -আয়াত ৩১:৭
যদি প্রশ্নটি হয়—“কুরআনে কি কোথাও নবী -এর ব্যক্তিগত/অনানুষ্ঠানিক কথাবার্তা-হাদীস (private conversation) সংগ্রহ করা বা শুনতে আগ্রহ দেখানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে?”—তাহলে সবচেয়ে নিকটবর্তী প্রমাণিক আয়াত হলো: ৩৩:৫৩ ও ৬৬:৩–৫ ।
কুরআনের দৃষ্টিতে দুই ধরনের “কথা”
১. ওহী/রিসালাত/আল্লাহর বার্তা — যা প্রচার করার জন্য।- আয়াত 5:67, 53:3–4, 69:43
২. ব্যক্তিগত আলাপ (حديث) — যা সবসময় জনসমক্ষে প্রচারের জন্য নয়- আয়াত 33:53, 66:3
তাইতো বলা হয়েছে-
“অতঃপর যখন তোমরা আহার শেষ করবে, তখন চলে যাবে; এবং আলাপচারিতায় (লিহাদীসিন) হাদিসে মশগুল হয়ে বসে থেকো না ...” সূরা আল-আহযাব ৩৩:৫৩
গভীর অনুধাবনের বিষয়:
লিহাদীসিন (لِحَدِيثٍ) অর্থ আলাপ, কথোপকথন, গল্পগুজব বা দীর্ঘ সময় ধরে কথায় মশগুল থাকা। সূরা আল-আহযাব (৩৩:৫৩)-এর প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, কিছু লোক আহার শেষে নবীর গৃহে অবস্থান করে কথোপকথনে (হাদীসে) মগ্ন থাকত, যা নবীকে অস্বস্তিতে ফেলত। নবী তাদের সরাসরি কিছু বলতে সংকোচবোধ করলেও আল্লাহ বিষয়টি স্পষ্ট করে দেন এবং নির্দেশ দেন যে আহার শেষে চলে যেতে হবে; কথোপকথনের জন্য বসে থাকা যাবে না।
এই আয়াত থেকে বোঝা যায় যে নবীর ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক পরিসর এবং একান্ত ব্যক্তিগত কথাবার্তার গোপনীয়তা রক্ষা করা আবশ্যক। অপ্রয়োজনীয়ভাবে বসে থেকে তাঁর ব্যক্তিগত আলাপ—যা রিসালাত বা ওহীপ্রদত্ত দায়িত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়—শোনার বা ব্যক্তিগত কথোপকথনের সুযোগ অনুসন্ধান করার অনুমতি নেই। অতিথিদের জন্য এমন শিষ্টাচার নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা নবীর ব্যক্তিগত সময় ও পারিবারিক গোপনীয়তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে।
এই অনুধাবন অনুযায়ী, এখানে "হাদীস" শব্দটি নবীর ব্যক্তিগত ও অনানুষ্ঠানিক কথোপকথনকে নির্দেশ করে; অর্থাৎ তাঁর গৃহজীবনের একান্ত আলাপচারিতা। ফলে এ ধরনের ব্যক্তিগত কথাবার্তা অনুসন্ধান, শোনা বা সংগ্রহ করার পরিবর্তে তার গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা করাই ছিল নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য।
এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলা হয় যে, নবীর ব্যক্তিগত জীবনের এসব আলাপচারিতা বিশ্বাসীদের জন্য অনুসরণের বিষয় হিসেবে উপস্থাপিত হয়নি; বরং অনুসরণের জন্য আল্লাহর নাযিলকৃত নির্দেশনার দিকে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সূরা আল-আ‘রাফ ৭:৩ উল্লেখ করা হয়:
তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে, তোমরা তারই অনুসরণ করো। -আয়াত ৭:৩
আরও একটি সম্পর্কিত আয়াত:
এরপর আয়াতে সেই গোপন কথার (হাদীসের) প্রকাশ এবং তা নিয়ে পারিবারিক ঘটনার আলোচনা হয়েছে। ৬৬:৪–৫-এ নবীর স্ত্রীদের উদ্দেশে তাওবা ও সতর্কবাণী এসেছে।
এবং সেখান থেকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে:
আল্লাহর নাযিলকৃত "হাদীস" হলো কুরআন; আর নবীর ব্যক্তিগত "হাদীস" ছিল ব্যক্তিগত কথোপকথন (unofficial), যা দ্বীনের উৎস হিসেবে উপস্থাপিত হয়নি।
কুরআন নিজেকে "আহসানুল-হাদীস" (সর্বোত্তম হাদীস) এবং আল্লাহর নাযিলকৃত হাদীস হিসেবে পরিচয় দিয়েছে (39:23)। একইসঙ্গে কুরআনে নবীর কিছু ব্যক্তিগত ও গোপন "হাদীস" (কথোপকথন)-এরও উল্লেখ রয়েছে (33:53, 66:3)। কুরআন এসব ব্যক্তিগত কথোপকথনের গোপনীয়তা ও শিষ্টাচার রক্ষার নির্দেশ দেয়।
অনুধ্যানে সিদ্ধান্ত:
"অতএব দ্বীনের অনুসরণীয় হাদীস কেবল কুরআন"—
আল কুরআনে হাদিস (ح د ث) মূলধাতুর শব্দগুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রধান ব্যবহারগুলো হলো:
১. অর্থ: কথা, বক্তব্য, আলাপ: আয়াত 4:42, 4:78, 33:53, 66:3
ℹ️ শ্রোতাদের অবগতির জন্য:
এই চ্যানেলে প্রকাশিত অডিও ও ভিডিওসমূহ মূলত ইউটিউব কিংবা অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহকৃত বা ধার করা উপকরণ। এগুলো সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই কন্টেন্টের মাধ্যমে আপনাদের মাঝে শেয়ার করা হচ্ছে।