কেন শুধু আল-কুরআন অনুসরণ করব? Why Return to the Qur'an Alone? #only Quran

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

কেন শুধু কুরআন মানবো?

কারণ এটি—

➥ কুরআন নিজেকে পূর্ণাঙ্গ, বিস্তারিত, হিদায়াত, ফুরকান, আহসানুল-হাদীস হিসেবে পরিচয় দিয়েছে (৬:১১৪–১১৫, ১৬:৮৯, ৩৯:২৩)।

➥ কুরআন বারবার বলে, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা অনুসরণ করতে (৭:৩)।

➥ ৪৫:৬, ৭৭:৫০, ৭:১৮৫-এর মতো আয়াতে প্রশ্ন করা হয়েছে: “এর পরে আর কোন হাদীসে বিশ্বাস করবে?”

➥ তাই দ্বীনের চূড়ান্ত ও বাধ্যতামূলক কর্তৃত্ব কেবল কুরআন। (৬:৫৭, ১২:৬৭, ১২:৮০)

✔️ রবের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত (৬৯:৪৩)
✔️ পূর্ণাঙ্গ হিদায়াত (১৬:৮৯)

✔️ সত্য-মিথ্যার মানদণ্ড (২৫:১)

✔️ অনুসরণের জন্য নাযিলকৃত নির্দেশনা (৭:৩)

✔️ সন্দেহমুক্ত (২:২)

✔️ সত্যসহ অবতীর্ণ (১৭:১০৫)

✔️ সত্য ও ন্যায়ে পূর্ণ (৬:১১৫)

✔️ সর্বোত্তম হাদীস (৩৯:২৩)

✔️ আল্লাহর চেয়ে অধিক সত্য বাণী আর নেই (৪:৮৭)

এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, আল্লাহর রাসূলের (সালামুন আলা মুরসালিন) দায়িত্ব ছিল কুরআন পৌঁছে দেওয়া; অতএব দ্বীনি বিধানের একমাত্র নিশ্চিত উৎস কুরআন।

প্রথমে আমরা একটি আয়াতের দিকে লক্ষ্য করি যে আয়াতটি স্পষ্টভাবে ভাবে প্রমাণ করে যে আল্লাহর রাসূল নবী সালামুন আলা মুহাম্মদ শুধু কোরআন দিয়েই মানুষকে উপদেশ দিতেন। অন্য কোন কিতাব বা গ্রন্থ থেকে নয়। আল্লাহ বলেন-

➥ আল্লাহর রাসুল একমাত্র কুরআন দিয়ে তাবলীগ করতেন-আয়াত৫:৯২, ৫:৯৯, ৫:৬৭, ৪২:৪৮,৫৩:৩-৪ (১০:১৫)

সরাসরি নির্দেশ: আল কুরআনের মাধ্যমে সতর্ক করা:

আল্লাহ রব্বুল আলামিন তাঁর রাসূল (সালামুন আলাইহে)-কে দাওয়াতের মাধ্যম হিসেবে আল-কুরআনকে নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। আল্লাহ সু.তা. বলেন-

আমি জানি তারা যা বলে; তুমি তাদের ওপর কোনো জবরদস্তিকারী নও। অতএব, কুরআনের মাধ্যমে (বিল কুরআন) তাকে সতর্ক করো যে আমার শাস্তিকে ভয় করে। (৫০:৪৫)

এই আয়াতের ফাযাক্কির বিল কুরআন (فَذَكِّرْ بِالْقُرْآنِ) অংশটি একটি প্রত্যক্ষ দলিল। এখানে সতর্ক করার (তাজকীর) কাজের জন্য একমাত্র ইনস্ট্রুমেন্ট বা মাধ্যম হিসেবে আল-কুরআনকে নির্ধারণ করা হয়েছে।

হে রাসূল! তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তা তুমি প্রচার করো (বাল্লিগ)। আর যদি তুমি তা না করো, তবে তুমি তাঁর বার্তা পৌঁছালে না।” (৫:৬৭)

এই আয়াতটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে মানুষকে উপদেশ ও সতর্ক করার জন্য আমাদের জন্য যথেষ্ট হলো আল্লাহর কিতাব আল কোরআন। আমাদের দায়িত্ব কেবল কোরআনের মাধ্যমেই সত্য পৌঁছে দেওয়া। অন্য কোন কিতাব গ্রন্থ বা মানব রচিত কথার উপর নির্ভর করে নয়। 

এগুলো আল্লাহর আয়াত, যা আমি তোমার কাছে সত্যসহকারে তিলাওয়াত করছি। অতঃপর আল্লাহ ও তাঁর আয়াতসমূহের পরে তারা আর কোন হাদীসে বিশ্বাস করবে? সূরা আল-জাসিয়াহ ৪৫:৬

এই আয়াতে আল্লাহ আমাদেরকে একটি প্রশ্ন করছেন আল্লাহর হাদিস অর্থাৎ আল্লাহর কথার পর আমরা আর কার কথা বিশ্বাস করব? 

আল্লাহর কথা কোথায় আছে? উত্তর হলো আল্লাহর বাণী সংরক্ষিত আছে কোরআনে। এটাই সেই কিতাব যা আল্লাহ নিজে অবতীর্ণ করেছেন। এটাই সেই বাণী যার ব্যাপারে তিনি বলেছেন এতে কোন সন্দেহ নেই। অন্য কোন কিতাব, অন্য কোন গ্রন্থ সেগুলো মানুষের লেখা। মানুষের সংকলন, মানুষের বর্ণনা। সেখানে মানুষ আছে, ভুলের সম্ভাবনা আছে, মতভেদ আছে। অর্থাৎ এই প্রশ্নের মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের সতর্ক করছেন যে তার কথার পর আর কারো কথা বিশ্বাস করা যাবে না। আল্লাহ বলেন-

অতএব এর (কুরআনের) পরে তারা আর কোন হাদীসে বিশ্বাস করবে? -সূরা আল-মুরসালাত ৭৭:৫০


সূরা আল-আ‘রাফ ৭:১৮৫

তারা কি আসমানসমূহ ও পৃথিবীর রাজত্ব এবং আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন সেদিকে লক্ষ্য করে না? আর এ বিষয়েও না যে, হয়তো তাদের নির্ধারিত সময় নিকটবর্তী হয়ে এসেছে? অতএব এর (কুরআনের) পরে তারা আর কোন হাদীসে বিশ্বাস করবে?

এই আয়াতে আল্লাহ আবারো আমাদের একটি প্রশ্ন করছেন, আল্লাহর কোরআনের পর আমরা কি অন্য কোন হাদিস অর্থাৎ অন্য কোন মানুষের কথা বা হাদিসে বিশ্বাস করব? কোরআনের বাইরে যা আছে মানুষের বক্তব্য, মানুষের বর্ণনা, মানুষের সংকলন, সেগুলো কি আল্লাহ কিতাবের পর গ্রহণযোগ্য হতে পারে? না। হতে পারে না। 

কেন গ্রহণযোগ্য হতে পারবে না? এর উত্তরও কোরআনেই দেওয়া আছে। আল্লাহ বলেন-

আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি অবশ্যই তোমাদেরকে কিয়ামতের দিনে একত্র করবেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর হাদীসে (কথায়) আল্লাহর চেয়ে অধিক সত্যবাদী কে? -সূরা আন-নিসা ৪:৮৭

এখন প্রশ্ন আসে, আল্লাহর কথা কোথায় আছে। স্পষ্ট উত্তর হলো, কোরআনে আল্লাহর কথা আছে। অন্য কোন কিতাব বা গ্রন্থে আল্লাহর কথা নেই, সেগুলো মানুষের নিজের কথা। এই আয়াতে আল্লাহ নিজেই ঘোষণা করছেন, তার চেয়ে অধিক সত্য হাদিস বর্ণনাকারী আর কেউ নেই। তাহলে আল্লাহর কথার পর আমরা আর কার কথা বিশ্বাস করব ? আল্লাহ বলেন- 

➥ নিশ্চয় আমরা, আমরাই তোমার প্রতি কুরআন নাযিল করেছি, যথাযথ নাযিলকরণ-76:23, 27:6, 2:185, 6:19, 15:87, 20:2, 42:7, 20:114, 14:1)

➥ তাদের জন্য কি যথেষ্ট হয় না যে আমরা, আমরাই তোমার ওপর কিতাব নাযিল করেছি, যা তাদের সামনে পাঠ করা হয়? নিশ্চয় সেটার মধ্যে এমন জনগোষ্ঠীর জন্য অবশ্যই অনুগ্রহ ও উপদেশ রয়েছে, যারা ঈমান রাখে। বলো! আমার মাঝে ও তোমাদের মাঝে সাক্ষী হিসাবে আল্লাহ যথেষ্ট হয়েছেন। আকাশসমূহের মধ্যে ও পৃথিবীতে যা আছে তিনি তা জানেন। আর যারা বাতিলে বিশ্বাস রাখে এবং আল্লাহর সাথে কুফর করে ওরাই ক্ষতিগ্রস্থ-সূরা আল আনকাবূত 29:51-52

এই আয়াত থেকে বোঝা যায় আল্লাহ আমাদেরকে প্রশ্ন করছেন এটি কি তাদের জন্য যথেষ্ট নয় যে আমি তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি? অর্থাৎ কোরআনে যতটুকু আছে তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। কারণ আল্লাহ আমাদের জন্য যতটুকু প্রয়োজন মনে করেছেন ততটুকুই কোরআনে দিয়েছেন। কেউ যদি বলে কোরআনে যতটুকু আছে তা যথেষ্ট নয়, তাহলে সে আল্লাহর সিদ্ধান্তকে অস্বীকার করবে। এখানে আল্লাহ স্পষ্টভাবে কিতাবের কথা বলছেন? 

আল্লাহ সু.তা. নবী সালামুন আলা মুহাম্মদ এর উপর কোন কিতাব নাযিল করেছেন? স্পষ্ট উত্তর হলো আল্লাহ তার রাসূল সালামুন আলা মুহাম্মদের উপর কোরআনই নাযিল করেছেন এই আয়াতে আল্লাহ কেন বলেছেন কোরআনকেই যথেষ্ট মনে করতে হবে কারণ কোরআন সরাসরি আল্লাহর নাযিলকৃত বাণী এর মাধ্যমে মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে সঠিক পথ দেখানো হয়েছে অতএব আল্লাহর নির্দেশের চেয়ে আর কোন সাক্ষ্য বা উপদেশের প্রয়োজন নেই

এই আয়াত থেকে আমরা শিখতে পারি কেবল কোরআনই চূড়ান্ত সত্য ও নির্দেশ অন্য কারো কথা বা হাদিসকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গ্রহণ করা যায় না অর্থাৎ আল্লাহর নাযিল করা কিতাবই আমাদের জন্য যথেষ্ট মনে করতে হবে। 

আল্লাহর নাযিল করা কিতাবই মানুষের জন্য পথপ্রদর্শন। এতেই রয়েছে রহমত। এতেই রয়েছে উপদেশ।

আল কোরআন হলো মুমিনের, ঈমানদার কওমদের, মুসলিমদের, মুহসিনিনদের, ইউকিনিন (দৃঢ় বিশ^াসী)-দের জন্য   হিদায়েত-রহমত-মুতাক্কিদের জন্য শিফা (চিকিৎসা/আরোগ্য/প্রতিষেধক-পথনির্দেশ ও উপদেশ-সমাধান-): আয়াত ১০:৫৭, ১৭:৮২, ৪১:৪৪ (২৬:৮০, ১৩:২৮), ৬৯:৪৮, ২০:১১৩, ৬:১৫৩, ৪৭:১৭ (৪৯:১৩), ৬:১৫৫, ৩৯:৩৩-৩৪ (৩৮:২৮), ৭:৫২, ১৬:৬৪, ২৯:৫১, ৭:২০৩, ১৬:৮৯, ১৬:১০২, ৩১:২-৩, ১০:৫৭, ২:৯৭ 

আল্লাহ অন্য কোন মানুষের কথা বা কোন গ্রন্থকে আমাদের জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেননি। তাই আমরা কেবল কোরআনের কথাই অনুসরণ করব। কারণ আল্লাহ নিজেই যথেষ্ট সাক্ষী। তার নির্দেশই যথেষ্ট। তার বাণীর চেয়ে সত্য নিরাপদ আর কেউ নেই। আল্লাহ বলেন 

আল্লাহ নাযিল করেছেন সর্বোত্তম হাদীস (আহসানাল হাদিস)—এক কিতাব, যার বিষয়বস্তু পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং পুনঃপুনঃ উপদেশপূর্ণ। যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, তাদের দেহে এর প্রভাবে শিহরণ জাগে; অতঃপর তাদের দেহ ও হৃদয় আল্লাহর স্মরণের দিকে কোমল হয়ে আসে। এটাই আল্লাহর হিদায়াত (হুদাল্লাহ); তিনি এর মাধ্যমে যাকে ইচ্ছা পথ দেখান। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই। সূরা আয-যুমার ৩৯:২৩

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় আল্লাহ বলেছেন আল্লাহই সর্বোত্তম হাদিস অর্থাৎ বাণী নাযিল করেছেন অর্থাৎ আল্লাহর হাদিস আল্লাহর কথা সত্যের বাণী সবচেয়ে নিখুত সর্বোত্তম আল্লাহ যখন নিজেই বলছেন তিনি সর্বোত্তম হাদিস নাযিল করেছেন 

তাহলে প্রশ্ন আসে আল্লাহর এই হাদিস কোথায় আছে উত্তর একটাই এটি কোরআনে আছে।

এই বাণী কোরআনের আকারে নাযিল হয়েছে এটি সুসামঞ্জস্যপূর্ণ এর মধ্যে কোন দ্বিধা নে কোন ভ্রান্তি নেই, কোন বিরোধ নেই। অতএব আল্লাহর কথার পর আর কোন মানুষের কথা বা অন্য কোন গ্রন্থকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। কেবল কোরআনই আমাদের জন্য পূর্ণাঙ্গ নির্দেশ। আর যদি কেউ বলে কোরআনে আল্লাহ যা বলেছেন তা যথেষ্ট নয় তাহলে সে মূলত কোরআনের আয়াতকেই অস্বীকার করছে। কারণ আল্লাহ নিজেই বলছেন যে কোরআনকেই যথেষ্ট মানতে হবে। আল্লাহ বলেন- 

আল্লাহর রাসূলের কাছে -এর কাছে ওহী নাযিলের মূল উদ্দেশ্যই ছিল এর দ্বারা মানুষকে সতর্ক করা। আল-কুরআনে বর্ণিত হয়েছে:

বলো! সাক্ষ্য হিসাবে কোন বিষয় সবচেয়ে বড়? বলো, আল্লাহ! তিনি সাক্ষী আমার মাঝে ও তোমাদের মাঝে। এবং আমার কাছে এই কুরআন ওহী করা হয়েছে, যেন এর দ্বারা আমি তোমাদেরকে সতর্ক করি এবং তাকেও যার কাছে তা পৌঁছবে। নিশ্চয় তোমরা কি নিশ্চিত সাক্ষ্য দিচ্ছ যে, আল্লাহর সাথে অন্যান্য উপাস্যও আছে? বলো! আমি সাক্ষ্য দিই না। বলো! প্রকৃতপক্ষে তিনি একমাত্র ইলাহ। আর নিশ্চয় আমি তা থেকে মুক্ত যা তোমরা শিরক করো।” (৬:১৯)

এখানে ‘বিহি’ (بِهِ) বা ‘এর দ্বারা’ সর্বনামটি সরাসরি আল-কুরআন মাজীদকে নির্দেশ করছে। অর্থাৎ সতর্ক করার জন্য ওহীর এই কিতাবই হলো রাসূল (সালামুন আলাইহে)-এর একমাত্র পাথেয়।

এই আয়াতে আল্লাহর রাসূল সালামুন আলা মুহাম্মদ বলছেন তার উপর এই কোরআন ওহী করা হয়েছে। এবং এই কুরআনই তার ও তার উম্মতের অর্থাৎ আমাদের সবার জন্য একটি জীবন্ত সাক্ষ্য। কোরআনের মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের সতর্ক করেছেন। যাদের কাছে এটি পৌঁছেছে তাদের জন্য এটাই যথেষ্ট পথপ্রদর্শন। তাই আমরা কেবল কোরআনকেই বিশ্বাস ও অনুসরণ করব। অন্য কারো কথা নয়।

একটু আগে আমরা আলোচনা করেছি আল্লাহ আমাদের কোরআনে যতটুকু দিয়েছেন তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে বলেছেন। এবং নবী সালামুন আলা মুহাম্মদও বলেছেন যে কোরআনই তার এবং আমাদের জন্য যথেষ্ট সাক্ষী। এখন কেউ যদি কোরআন নিয়ে সন্তুষ্ট না হয় এবং কোরআনকে যথেষ্ট মনে না করে তাহলে আল্লাহর রাসূল নবী সালামুন আলা মুহাম্মদ হাশরের দিন তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবেন-। এখন অনেকে বলতে পারেন এটি আমি বানিয়ে বলছি যে কুরআন নিয়ে সন্তুষ্ট না থাকলে এবং কুরআনকে যথেষ্ট মনে না করলে আল্লাহর রাসূল নবী সালামুন আলা মুহাম্মদ আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দেবেন। না আমি এটি বানিয়ে বলছি না। এটি কোরআনেই উল্লেখ আছে। আল্লাহ বলেন-

সেদিন প্রকৃত রাজত্ব হবে দয়াময় আল্লাহর এবং কাফিরদের জন্য দিনটি হবে কঠিন। আর সেদিন জালিম নিজের হাত দুটো কামড়িয়ে বলবে হায় আমি যদি রাসূলের সাথে পথ অবলম্বন করতাম। হায় আমার দুর্ভাগ্য আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম। আমাকে তো সে বিভ্রান্ত করেছিল আমার কাছে উপদেশ পৌঁছার পর আর শয়তান তো মানুষের জন্য মহা প্রতারক আর রাসূল বলবেন হে আমার রব নিশ্চয়ই আমার সম্প্রদায় এই কুরআনকে পরিত্যক্ত করে রেখেছিল- সূরা আল ফুরকান 25:26-30

এই আয়াতগুলি থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে আল্লাহর রাসূলও জানতেন অর্থাৎ আল্লাহর রাসূল নবী সালামুন আলা মুহাম্মদ জানতেন যে তার সম্প্রদায় কুরআনকে অবহেলা বা পরিত্যক্ত করবে এবং উনি এটাও জানতেন যে আমরা কুরআনের বাইরে গিয়ে অন্য মানুষের কথা শুনে নিজেদের বিভ্রান্ত করব এবং আমরা রাসূলের দেখানো পথে অর্থাৎ কুরআনের পথে চলবো না। অন্য কিতাব বা গ্রন্থের কথা মানার কারণে আমাদেরকে শয়তান বিভ্রান্ত করবে। সেদিন আমরা শুধু আফসোসই করব। অর্থাৎ কুরআন হলো আল্লাহর প্রেরিত সঠিক নির্দেশিকা এবং এটিকে অবহেলা করা বা অন্য কারোর কথা বিশ্বাস করা উচিত নয়। 

আল্লাহর কিতাবই মানুষকে সঠিক পথ দেখায়। আর তার বাইরে কেউ সত্যের পূর্ণ গাইড নয়। এই আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে আল্লাহর রাসূল অর্থাৎ আল্লাহর রাসূল নবী সালামুন আলা মুহাম্মদ আল্লাহর কাছে অভিযোগ করবেন যে তার সম্প্রদায় কুরআনকে পরিত্যক্ত বা অবহেলা করে রেখেছিল। অর্থাৎ তারা কুরআনের প্রতি যথাযথ মনোযোগ বা গুরুত্ব দেয়নি। এই আয়াতের মাধ্যমে আমাদের জন্য কি শিক্ষা রয়েছে? প্রথমত কুরআনকে অবহেলা বা পরিত্যক্ত করা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের উচিত কুরআনকে হৃদয়ে ধারণ করা তার শিক্ষাগুলি অনুসরণ করা এবং সর্বদা তা আমাদের জীবনের পথপ্রদর্শক হিসেবে গ্রহণ করা। 

দ্বিতীয়ত কুরআনকে পরিত্যক্ত করে রাখা কেন ক্ষতিকর? কারণ কুরআন আল্লাহর একমাত্র সত্যবাণী এবং এটি আমাদের জীবনের সঠিক পথ প্রদর্শন দেয়। এর অবহেলা করা মানে আল্লাহর নির্দেশ অগ্রাহ্য করা যা মানবজাতির জন্য ক্ষতিকর। আল্লাহ বলেন-

অতএব নিশ্চয়ই আমি তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করব, যাদের কাছে রাসূলগণ পাঠানো হয়েছিল এবং অবশ্যই আমি রাসূলদেরকেও জিজ্ঞাসা করব। অতঃপর পরিপূর্ণ জ্ঞানের ভিত্তিতে তাদের নিকট তাদের সমস্ত কাহিনী অবশ্যই জানিয়ে দেব। কারণ আমি তো মোটেই অনুপস্থিত ছিলাম না। সূরা আল আরাফ 7:6-7 

একটু খেয়াল করলে আমরা বুঝতে পারবো আল্লাহ এখানে কি বলছেন। আল্লাহ বলছেন- তিনি রাসূলদেরকে এবং যাদের কাছে রাসূলগণ প্রেরিত হয়েছিল তাদেরকে জিজ্ঞাসা করবেন। অর্থাৎ সকলের কাছ থেকে তাদের বিশ্বাস কাজ এবং আল্লাহর দেয়া বাণীর প্রতি আস্থা নিয়ে হিসাব নেয়া হবে। 

এই আয়াত থেকে আমাদের জন্য কি শিক্ষা পাওয়া যায়? উত্তর হলো আমাদের জীবন ও বিশ্বাসের জন্য কুরআনই একমাত্র চূড়ান্ত নির্দেশ। যদি আমরা কুরআনের নির্দেশে না চলি তবে আল্লাহ আমাদের সকল কাজের জন্য প্রশ্ন করবেন। আল্লাহ কেন রাসূলদেরকেও প্রশ্ন করবেন?

উত্তর হলো রাসূলদের প্রতি আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাব এবং তাদের প্রচারিত শিক্ষা তাদের নিজস্ব সম্প্রদায়ের জন্য ছিল। আল্লাহ তাদের কাছ থেকে জানতে চান তারা তাদের সম্প্রদায়কে যথাযথভাবে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিয়েছিল কিনা। 

এখন আমরা একটি আয়াত নিয়ে আলোচনা করব যেই আয়াতে আল্লাহ সরাসরি বলেছেন যে আমাদেরকে কুরআনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে। আল্লাহ বলেন-

তোমার প্রতি যা ওহী করা হয়েছে তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করো। নিশ্চয়ই তুমি সরল পথে আছো এবং নিশ্চয়ই সেটা (এ কুরআন) তোমার এবং তোমার কওমের জন্য উপদেশ এবং শীঘ্রই এ সম্পর্কে তোমাদেরকে জবাবদিহী করতে হবে। সূরা আযুখরফ আয়াত 43:43-44 

এই আয়াত থেকে বোঝা যায় আল্লাহ তার রাসূল অর্থাৎ সালামুন আলা মুহাম্মদকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে কিতাব ও নির্দেশ তার প্রতি নাযিল হয়েছে তা দৃহভাবে ধারণ করতে হবে এখানে আল্লাহ স্পষ্টভাবে কিতাবের কথা বলছেন। আল্লাহ আমাদের নবীজি সালামুন আলা মুহাম্মদের উপর কোন কিতাব নাযিল করেছেন? স্পষ্ট উত্তর হলো আল্লাহর রাসূল নবী সালামুন আলা সালামুন আলা মুহাম্মদের উপর কুরআনই নাযিল করেছেন? এটি শুধুই একটি গ্রন্থ নয়। এটি সরল এবং নিখুত পথপ্রদর্শক। 

আল্লাহ জানিয়েছেন যে কুরআন শুধু সালামুন আলা মুহাম্মদের জন্য একা নয় তার পুরো সম্প্রদায়ের জন্য উপদেশ। এখানেই আরো স্পষ্ট হয় যে মানুষের কাজ ও বিশ্বাসের জন্য আল্লাহ কুরআনকেই ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করবেন। প্রত্যেকটি মানুষকে এই কিতাবের আলোকে অর্থাৎ কুরআনের আলোকে বিচার করা হবে যে তারা কি আল্লাহর নির্দেশ অনুসরণ করেছে নাকি উপেক্ষা করেছে? অর্থাৎ আল্লাহ নিজেই মানুষকে জিজ্ঞাসা করবেন কুরআনের বিষয়ে। তাদের আচরণ, বিশ্বাস এবং সিদ্ধান্তগুলোর জন্য। অন্য কোন কিতাব বা মানুষের কথা এখানে বিবেচ্য হবে না। কারণ আল্লাহর কিতাবই চূড়ান্ত সত্য ও ন্যায়ের মানদন্ড। 

এই আয়াত থেকে আমাদের শিক্ষা নেয়া উচিত কেবল কুরআনকে বিশ্বাস ও অনুসরণ করতে হবে। আল্লাহর নির্দেশে জীবন পরিচালনা করতে হবে। অন্য কোন মানুষ বা গ্রন্থকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে মানা যাবে না। 

আল্লাহ বলেন- 

এটি একটি কিতাব, যেটা তোমার প্রতি নাযিল করা হয়েছে। অতএব, তোমার হৃদয়ের মধ্যে তা নিয়ে যেন কোনো সঙ্কোচ না থাকে। যেন তুমি সেটা দিয়ে সতর্ক করতে পারো। এবং মুমিনদের জন্য উপদেশ। তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে, তোমরা সেটার অনুসরণ করো এবং তাঁর পরিবর্তে বহু অভিভাবকের অনুসরণ কোরো না। তোমরা যা উপদেশ গ্রহণ করো তা খুবই অল্প-৭:২-৩

সেদিন অর্থাৎ হাশরের দিন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে তাদের নিজেদেরই মধ্য থেকে একজন সাক্ষী দাঁড় করাবো আর তোমার এই লোকদের ব্যাপারে সাক্ষীদাতা হিসেবে হে মোহাম্মদ আমি তোমাকে আনবো আমি তোমার প্রতি এই কিতাব নাযিল করেছি যা প্রত্যেকটি বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা সত্য পথের নির্দেশ রহমত এবং মুসলিমদের জন্য সুসংবাদ স্বরূপ আল্লাহ বলেন- এগুলো হলো আল্লাহর আয়াত যা সত্যতা সহকারে তোমার কাছে তিলাওয়াত করা হচ্ছে। কাজেই তারা আল্লাহ এবং তার আয়াতের উপর বিশ্বাস না করলে এরপর আর কোন হাদিসে বিশ্বাস করবে? 

ধ্বংস প্রত্যেক মিথ্যাবাদী পাপাচারীর জন্য যে আল্লাহর আয়াত শোনে যা তার সামনে পাঠ করা হয় অতঃপর অহংকারের সাথে কুফুরির উপর থাকে যেন সে তা শোনেইনি। কাজেই তাকে ভয়াবহ শাস্তির সংবাদ দাও। আর যখন সে আমার আয়াত সমূহের কিছু জানতে পারে তখন সে এটাকে ঠাট্টা বিদ্রুপের বিষয় বানিয়ে নেয়। তাদের জন্য আছে অপমানজনক শাস্তি। তাদের সামনে রয়েছে জাহান্নাম। তাদের কৃতকর্ম তাদের কোন কাজে আসবে না। তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করেছে তারাও নয়। আর তাদের জন্য রয়েছে ভয়ানক শাস্তি। এই কুরআন সৎপথের দিশারী। আর যারা তাদের রবের আয়াত সমূহের সাথে কুফরি করে| তাদের জন্য রয়েছে খুবই যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি -সূরা আল জাসিয়া আয়াত 45:6-11

■ ত্ব সিন, কুরআনের ও সুস্পষ্ট কিতাবের সেই আয়াতসমূহ। মুমিনদের জন্য পথনির্দেশ ও সুসংবাদ। (২৭:১-২)

■ আর নিশ্চয় তুমি, প্রজ্ঞাময়, বিস্তৃত জ্ঞানসম্পন্ন—এর কাছ থেকে অবশ্যই তোমাকে দেয়া হয়েছে কুরআন। (২৭:৬)

■ নিশ্চয় এই কুরআন পথ দেখায় সেদিকে যা দৃঢ়তম এবং সেটা মুমিনদেরকে সুসংবাদ দেয় যে, যারা সংশোধনের কাজ করে, তাদের জন্য রয়েছে বিরাট পুরষ্কার-১৭:৯

এর পরও অন্যকোন অনাযিলকৃত কিতাবের আর দরকার আছে কি? -আমার দরকার নাই, আপনার? 

Choice is yours!

ভিডিও শুনতে পারেন-

🎬 Video Credit: মূল নির্মাতা (Original Creator)।

ℹ️ শ্রোতাদের অবগতির জন্য:
এই চ্যানেলে প্রকাশিত অডিও ও ভিডিওসমূহ মূলত ইউটিউব কিংবা অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহকৃত বা ধার করা উপকরণ। এগুলো সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই কন্টেন্টের মাধ্যমে আপনাদের মাঝে শেয়ার করা হচ্ছে।—বিঈযনিল্লাহ! 
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post