কুৎসিত শব্দে সুন্দরকেও অসুন্দর করে ফেলা যায়! How Beautiful can be made Ugly!

তেমনি সুন্দর মন দিয়ে অসুন্দরকেও সুন্দর  করে ফেলা যায় বৈকি! -বিঈযনিল্লাহ! -দেখুন আল্লাহর রাসুলের অহীর অনুশীলনীতে-

লক্ষ্য করছি, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি কিছু কুরআন-ফলোয়ার ভাই কেবল আল-কুরআনকেই মুসলিমদের অনুসরণের একমাত্র অহীভিত্তিক কিতাব হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানাচ্ছেন। এ বিষয়ে আমার কোনো বিতর্ক নেই। বরং আল-কুরআন আয়াত ৭:৩-এর আলোকে এটি একটি প্রশংসনীয় ও কুরআনসম্মত উদ্দেশ্য। আমিও তা-ই চাই! ১০০% সহমত পোষন করছি। কিন্তু...

নিচের দিকে ভিডিও-

তবে দুঃখজনকভাবে তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ ভিন্নমতাবলম্বীদের সমালোচনা করতে গিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর, কটূ ও কুৎসিত ভাষা ব্যবহার করছেন।

এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করে তাঁরা হয়তো অজান্তেই কুরআনের বহু সুস্পষ্ট নির্দেশনার পরিপন্থী অবস্থান গ্রহণ করছেন। কুরআন বারবার উত্তম কথা বলতে, শালীন ভাষা ব্যবহার করতে, বিদ্রূপ, অপবাদ, কটূক্তি, অবমাননাকর সম্বোধন এবং বিভেদ সৃষ্টিকারী ভাষা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। তাই কুরআনের দাওয়াত যদি কুরআনেরই ভাষা, আদব ও নৈতিকতার পরিপন্থী উপায়ে উপস্থাপিত হয়, তবে সেই উপস্থাপনা কুরআনের শিক্ষার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে পড়ে।

আমাদের মনে রাখা উচিত, কুরআনের প্রতি আহ্বান শুধু কী বলা হচ্ছে, তার ওপর নয়; কীভাবে বলা হচ্ছে, তার ওপরও সমানভাবে নির্ভরশীল। কুরআন যেমন সত্যের আহ্বান জানায়, তেমনি সেই আহ্বানকে সুন্দর, প্রজ্ঞাপূর্ণ ও উত্তম ভাষায় উপস্থাপনেরও শিক্ষা দেয়।

আমাদের অবগতির জন্য নিচে কয়েকটি প্রাসঙ্গিক আয়াত:

ভালো কথা ও মন্দ কথার উপমা:

"তুমি কি দেখনি, আল্লাহ কীভাবে উত্তম কথার উপমা দিয়েছেন? তা একটি উত্তম বৃক্ষের মতো... আর মন্দ কথার উপমা হলো একটি নিকৃষ্ট বৃক্ষের মতো, যা ভূপৃষ্ঠ থেকে উপড়ে ফেলা হয়েছে..." -আল-কুরআন ১৪:২৪–২৬

এখানে উত্তম কথা (কালিমাতুন তাইয়্যিবাহ)মন্দ কথা (কালিমাতুন খাবীসাহ)-এর সুস্পষ্ট তুলনা করা হয়েছে।


বিদ্রূপ ও কুৎসিত উপাধি নিষিদ্ধ:

"...তোমরা একে অপরকে বিদ্রূপ করো না... এবং একে অপরকে মন্দ উপাধিতে ডেকো না..." -আল-কুরআন ৪৯:১১

অর্থাৎ, শব্দের অপব্যবহার করে কাউকে হেয় বা অসুন্দর করে তোলা নিষিদ্ধ।


 কুৎসিত কথা আল্লাহ পছন্দ করেন না:

"আল্লাহ প্রকাশ্যে মন্দ কথা বলা পছন্দ করেন না..."— আল-কুরআন ৪:১৪৮


4. "রা'ইনা" না বলে "উনযুরনা" বলো:

"হে ঈমানদারগণ! তোমরা 'রা'ইনা' বলো না; বরং 'উনযুরনা' বলো..." -আল-কুরআন ২:১০৪

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। একই উদ্দেশ্য প্রকাশের জন্য এমন শব্দ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে, যা বিকৃত অর্থে ব্যবহার বা অপব্যাখ্যার সুযোগ না দেয়।

এই নীতিটি আল-কুরআন ১৭:৫৩-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ:

"আমার বান্দাদের বলে দিন, তারা যেন সর্বোত্তম কথাই বলে..."

ভিডিও মিউজিক: তাই তো তাঁর সৃষ্টির সৌন্দর্য দেখে স্রষ্টার কথা মনে পড়ে!

🎬 Video Credit: মূল নির্মাতা (Original Creator)।

ℹ️ শ্রোতাদের অবগতির জন্য:
এই চ্যানেলে প্রকাশিত অডিও ও ভিডিওসমূহ মূলত ইউটিউব কিংবা অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহকৃত বা ধার করা উপকরণ। এগুলো সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই কন্টেন্টের মাধ্যমে সংযুক্ত করা হয়েছে মাত্র।
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post