নিজেকে ‘মুসলিম’ দাবি করলেই কি আল্লাহর খাতায় নাম নথিভুক্ত হয়? #Claim vs. Reality: Muslim identity

কেবল মুখে নিজেকে ‘মুসলিম’ দাবি করলেই কি আল্লাহর খাতায় নাম নথিভুক্ত হয়

নাকি এই পরিচয়ের পেছনে রয়েছে ওহীর বাণীর প্রতি একনিষ্ঠ আত্মসমর্পণ ও কার্যকর সম্পর্ক? আল-কুরআন মাজীদের অকাট্য দালিলিক পরম্পরা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ‘মুসলিম’ হওয়া কোনো বংশগত বা মৌখিক লেবেল নয়, বরং এটি নাযিলকৃত ওহীর ওপর টিকে থাকার এক সক্রিয় প্রক্রিয়া। আমরা যদি ইতিহাসের অবাধ্য ব্যক্তিত্ব ‘ফেরআউন’-এর দিকে তাকাই, তবে দেখব সে-ও নিজেকে ‘মুসলিম’ দাবি করেছিল। কিন্তু সেই দাবি রবের দরবারে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল।

ফেরআউনের ‘মুসলিম’ হওয়ার দাবি ও রবের প্রত্যাখ্যান:

“...সে বলল: আমি ঈমান আনলাম যে, তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই যাঁর প্রতি বনী ইসরাঈল ঈমান এনেছে এবং আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত (مِنَ الْمُسْلِمِينَ)।” (১০:৯০)

গভীর অনুধ্যান: ফেরআউন নিজেকে ‘মুসলিম’ বলে দাবি করা সত্ত্বেও আল্লাহ কেন তাকে কবুল করলেন না? কারণ, ‘মুসলিম’ হওয়া মানে কেবল বিপদে পড়ে নয়, বরং এটি হলো রবের নাযিলকৃত প্রতিটি আয়াতকে গ্রহণ করা। ফেরআউন তার সারাজীবন আল্লাহর নাযিলকৃত সত্যকে (আয়াতকে) প্রত্যাখ্যান করেছিল, তাই শেষ মূহূর্তের এই মৌখিক পরিচয় তাকে ‘খুসরান’ বা চরম ক্ষতি থেকে বাঁচাতে পারেনি। এটি আমাদের জন্য এক ভয়াবহ সতর্কবার্তা যে—আল্লাহর দেওয়া একমাত্র সিলেবাস/পাঠ্য গ্রহন ও অনুশীলন ছাড়া কেবল দাবির ভিত্তিতে মুসলিম হওয়া অসম্ভব।

ওহীহীন জীবন: ‘কোনো কিছুর ওপর না থাকা’র ঘোষণা (৫:৬৮) আজকের তথাকথিত মুসলিম সমাজ যখন আল্লাহর একমাত্র নাযিলকৃত আল-কুরআনকে গুরুত্বহীন করে অন্য অনেক অনাযিলকৃত তথ্যের (লাহওয়াল হাদীস) পেছনে ছোটে, তখন তাদের অবস্থা সম্পর্কে আল-কুরআন মাজীদের সেই অমোঘ আয়াতটি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে:

বলুন! হে আহলে কিতাব! তোমরা কোনো কিছুর ওপরই নও (لَسْتُمْ عَلَىٰ شَيْءٍ - লাস্তুম আলা শাই), যতক্ষণ না তোমরা প্রতিষ্ঠা করবে তাওরাত ও ইনজীল এবং যা তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে নাযিল করা হয়েছে (আল-কুরআন)। (৫:৬৮)

হীর প্রতি অবজ্ঞার ফল কুফরের বৃদ্ধি: আল-কুরআন মানুষের কাছে ‘হক’ বা সত্য হিসেবে এসেছে, কিন্তু মানুষের হঠকারিতা একে ভিন্নভাবে গ্রহণ করে। আল্লাহ সু.তা. বলেন:

“...আর আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে, তা তাদের অনেকের অবাধ্যতা ও কুফরই বাড়িয়ে দেয়।” (৫:৬৮)

ওহীর সাথে মুসলিমের সম্পর্ক যদি ‘অনুধ্যান’ ও ‘অনুসরণ’-এর না হয়, তবে সেই ওহীই তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যদাতা হয়ে দাঁড়ায়। আজকের প্রেক্ষাপটে যারা আল-কুরআন মাজীদকে পরিত্যক্ত (২৫:৩০) করে রেখেছে (অথচ তারা ধর্ম পালনের নামে অন্য অনাযিলকৃত কিতাব নিয়ে ব্যস্ত), তারা মূলত ফেরআউনের সেই অসার দাবির পথেই হাঁটছে। প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার রূহ ওহীর রূহের সাথে সংযুক্ত (৭০:৪) এবং যে ওহীর দর্পণে নিজের জীবনকে মেপে নিয়েছে।

মুসলিমের সংজ্ঞা: আয়াতে বিশ্বাসীরাই মুসলিম -দেখুন ৪৩:৬৯, ২৭:৮১, ৩০:৫৩।

মুসলিম-মুমিন পরিচয়ের ভিত্তি একটাই—আল-কুরআন; অন্য কোনো কিতাব নয়:

আল-কুরআন মাজীদের পরিভাষায় ‘মুসলিম’ কেবল একটি জাতির নাম নয়, বরং এটি একটি গুণগত পরিচয়। আর এই পরিচয়ের পূর্ণতা পায় রবের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত একমাত্র সত্য বিধান আল-কুরআনের সাথে নিবিড় সম্পর্কের মাধ্যমে। আল্লাহ রব্বুল আলামিন তাঁর কিতাবে সরাসরি ‘মুসলিম’ শব্দটিকে ওহীর নির্দেশনার সাথে গেঁথে দিয়েছেন। আল-কুরআনের আয়াতসমূহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, একজন মুসলিমের জন্য এই কিতাবই হলো যাবতীয় সমস্যার সমাধান, হৃদয়ের স্থিরতা এবং রবের পক্ষ থেকে আসা চিরন্তন সুসংবাদ।

1. মুসলিম নামটি আল্লাহর দেওয়া এক মহিমান্বিত উপহার যার সাথে শুধুমাত্র নাযিলকৃত কিতাবের সম্পর্ক: 

আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদের যে নামে ভূষিত করেছেন, তার ভিত্তিও এই কিতাব:

“...তিনিই তোমাদের নাম রেখেছেন ‘মুসলিম’ (الْمُسْلِمِينَ)—পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে এবং এই কিতাবেও (আল-কুরআনে); যেন রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষী হন এবং তোমরা মানবজাতির জন্য সাক্ষী হও।” (২২:৭৮)

আর সেদিন আমরা প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে একজন সাক্ষীকে পুনরুত্থিত করব, তাদের বিরুদ্ধে তাদের নিজেদেরই মধ্য থেকে। আর তোমাকে আমরা সাক্ষী হিসাবে নিয়ে আসব এদের বিরুদ্ধে। আর আমরা তোমার ওপর কিতাব নাযিল করেছি, সকল কিছুর জন্য সুস্পষ্ট বর্ণনা হিসাবে এবং মুসলিমদের জন্য পথনির্দেশ ও রহমত ও সুসংবাদ হিসাবে। (আয়াত ১৬:৮৯)

অনুধাবন: এখানে ‘মুসলিম’ নামটিকে কিতাবের (ওহী) সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, মুসলিমের পরিচয় কোনো আঞ্চলিক বা বংশীয় নয়, বরং এটি একটি ‘কিতাব-ভিত্তিক’ পরিচয়। এই কিতাবই আমাদের বিশ্ববাসীর সামনে সাক্ষ্যদাতার মর্যাদায় আসীন করে।

2. মুসলিমের জন্য একক কিতাব আল-কুরআন: 

আল্লাহ রব্বুল আলামিন আল-কুরআন মাজীদের নাযিল হওয়ার উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে একে সরাসরি মুসলিমদের জন্য নিবেদিত করেছেন:

“আর আমি আপনার প্রতি কিতাবটি নাযিল করেছি সবকিছুর স্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ (তিব্ইয়ানান লি-কুল্লি শাই), এবং হিদায়াত, রহমত ও মুসলিমদের জন্য সুসংবাদ হিসেবে (وَبُشْرَىٰ لِلْمُسْلِمِينَ - ওয়া বুশরা লিল মুসলিমিন)।” (১৬:৮৯)

গভীর অনুধাবন: 

এখানে ‘তিব্ইয়ানান লি-কুল্লি শাই’ (সবকিছুর ব্যাখ্যা) এবং ‘বুশরা লিল মুসলিমিন’ (মুসলিমদের জন্য সুসংবাদ) শব্দদ্বয় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এর অর্থ হলো—একজন মুসলিমের জীবনের প্রতিটি জটিলতায় আল-কুরআনই হলো একমাত্র সমাধানকারী এবং এই সমাধানের ওপর ভিত্তি করেই মুসলিমরা তাদের ইহকালীন ও পরকালীন সুসংবাদ লাভ করে।

3. ঈমান ও আমলের ওপর অবিচল থাকা মানেই হলো একমাত্র আল কুরআনই অবিচলতার একমাত্র মাধ্যম: (১৬:৯৮-১০২):

মুসলিম জীবনে ঈমান ও আমলের ওপর অবিচল থাকা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আল-কুরআন সেই স্থিরতা দান করে:

“বলুন! একে (কুরআনকে) আপনার রবের পক্ষ থেকে রূহুল কুদুস (জিবরাঈল) সত্যসহ অবতীর্ণ করেছেন—যেন তা ঈমানদের সুদৃঢ় করে এবং এটি হিদায়াত ও মুসলিমদের জন্য সুসংবাদ (وَبُشْرَىٰ لِلْمُسْلِمِينَ)।” (১৬:১০২)

অনুধাবন: এখানে ‘ইউসাব্বিত’ (সুদৃঢ় করা) শব্দটি নির্দেশ করে যে, আল-কুরআনের সাথে সংযোগ ছাড়া একজন মুসলিমের ঈমানি দৃঢ়তা অসম্ভব। ‘মুসলিম’ সেই ব্যক্তি যে একমাত্র ওহীর এই সত্যের কাছে নিজেকে সমর্পণ করার মাধ্যমে নিজের আত্মাকে শান্ত রাখে।

4. মুসলিম মানেই আল কুরআনের সাথে থাকা: অন্য কোনো কিতাব নয়, মাজহাব নয়, ত্বরিকা নয়।

একজন মানুষের ‘মুসলিম’ হওয়ার ঘোষণা কেবল তখনই সার্থক হয় যখন সে আল-কুরআনের সাথে যুক্ত থাকে। আল্লাহ তাঁর রাসূল (সালামুন আলাইহে)-কে যে নির্দেশ দিয়েছেন, তা প্রতিটি মুসলিমের জন্য আদর্শ:

“আমি তো আদিষ্ট হয়েছি এই নগরের রবের ইবাদত করতে... আর আমি আদিষ্ট হয়েছি যেন আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হই (أَنْ أَكُونَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ) (৯১); এবং যেন আমি কুরআন তিলাওয়াত করি (وَأَنْ أَتْلُوَ الْقُرْآنَ) (৯২)।” (২৭:৯১-৯২)

অনুধাবন: এই আয়াতে ‘মুসলিম হওয়া’ এবং ‘কুরআন তিলাওয়াত করা’ (অর্থাৎ ওহীর চর্চা করা) পাশাপাশি এসেছে। এটি প্রমাণ করে যে, কুরআন তিলাওয়াত ও এর অনুসরণ ছাড়া মুসলিম’ হওয়ার দাবি অসম্পূর্ণ। একজন মুসলিমের প্রধান বৈশিষ্ট্যই হলো সে সার্বক্ষণিক ওহীর বাণীর সাথে নিজের জীবনকে গেঁথে রাখবে।

একখানি কিতাব, যেটা তোমার প্রতি নাযিল করা হয়েছে। অতএব, তোমার হৃদয়ের মধ্যে তা নিয়ে যেন কোনো সঙ্কোচ না থাকে। যেন তুমি সেটা দিয়ে সতর্ক করতে পারো। এবং মুমিনদের জন্য উপদেশ। তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে, তোমরা সেটার অনুসরণ করো এবং তাঁর পরিবর্তে বহু অভিভাবকের অনুসরণ কোরো না। তোমরা যা উপদেশ গ্রহণ করো তা খুবই অল্প। -আয়াত ৭:২-৩

৫. একজন মুসলিমের জন্য আল-কুরআনের ওপর ঈমান আনাই হলো সকল পাপাচার (সায়্যিআত মোচন) থেকে মুক্তির উপায়: (৪৭:২-৩)

“আর যারা ঈমান আনে, সৎকর্ম করে এবং সালামুন আলা মুহাম্মদ-এর প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে—আর সেটিই তাদের রবের পক্ষ থেকে প্রেরিত সত্য (হক); তিনি তাদের মন্দ কাজগুলো (সায়্যিআত) ঢেকে দেন এবং তাদের অবস্থা সংশোধন করে দেন।” (৪৭:২)

অন্য সব ভূয়া/বাতিল: সেটা এ কারণে যে, যারা কুফর করে তারা বাতিলের অনুসরণ করে। আর এটাও যে, যারা ঈমান আনে তারা তাদের রবের পক্ষ থেকে হকের অনুসরণ করে। ওভাবেই আল্লাহ মানুষের জন্য তাদের দৃষ্টান্তসমূহ উপস্থাপন করেন। (৪৭:৩) আর বলো! হক এসেছে এবং বাতিল বিলীন হয়েছে। নিশ্চয় বাতিল হলো বিলীন। (১৭:৮১)

6. একখানি কিতাব কেবলমাত্র আল কুরআন  কেবলই মুমিনের জন্য: 

আর আমরা কুরআন থেকে যা নাযিল করি, তা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত। আর তা জালিমদের ক্ষতি ছাড়া বৃদ্ধি করে না। (১৭:৮২)

7. সালামুন আলা মুহাম্ম্দ যেহেতু মুসলিমদের অর্ন্তভ্ক্তু ছিলেন তাই কেবলই কুরআনের সাথেই তাঁর দিবানিশি: 

বলো! সাক্ষ্য হিসাবে কোন বিষয় সবচেয়ে বড়? বলো, আল্লাহ! তিনি সাক্ষী আমার মাঝে ও তোমাদের মাঝে। এবং আমার কাছে এই কুরআন ওহী করা হয়েছে, যেন এর দ্বারা আমি তোমাদেরকে সতর্ক করি এবং তাকেও যার কাছে তা পৌঁছবে। (6:19)

আমরা সে বিষয়ে জানি যা তারা বলে, আর তুমি তাদের ওপর শক্তি প্রয়োগকারী নও। সুতরাং তুমি কুরআনের মাধ্যমে তাকে উপদেশ দাও, যে আমার সতর্কবার্তাকে ভয় করে। (50:45)

ওহীর পর্যাপ্ততা: “এটি কি তাদের জন্য যথেষ্ট নয়? 

অনেক সময় মানুষ মনে করে ওহীর বাইরেও অন্য তথ্যের প্রয়োজন আছে। আল্লাহ সু.তা. এই মানসিকতাকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন:

“এটি কি তাদের জন্য যথেষ্ট নয় (أَوَلَمْ يَكْفِهِمْ - আওয়ালাম ইয়াকফিহিম) যে, আমি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি যা তাদের নিকট পাঠ করা হয়? নিশ্চয়ই এতে মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য রহমত ও উপদেশ রয়েছে।” (২৯:৫১)

প্রাসঙ্গিক কুরআনি দুআ-তাসবিহ:

✦ ওহীর সত্যতার ওপর ঈমানের সাক্ষ্য (৩:৫৩): 

رَبَّنَا آمَنَّا بِمَا أَنزَلْتَوَاتَّبَعْنَا الرَّسُولَ فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ 

(রাব্বানা আমান্না বিমা আনযালতা ওয়াত্তাবায়নাল রাসূল ফাকতুবনা মা’আশ শাহীদিন) 

অর্থ: হে আমাদের রব! আপনি যা নাযিল করেছেন তার ওপর আমরা ঈমান এনেছি এবং আমরা রাসূলের অনুসরণ করেছি; অতএব আমাদের সাক্ষ্যদাতাদের তালিকাভুক্ত করুন। (৩:৫৩)

✦ মুসলিম হিসেবে মৃত্যু কামনায় (সালামুন আলা ইউসুফ):

 فَاطِرَ السَّمَاوَاتِوَالْأَرْضِ أَنتَ وَلِيِّي فِي الدُّنْا وَالْآخِرَةِ ۖ تَوَفَّنِي مُسْلِمًاوَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ 

(ফাতিরাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি আনতা ওয়ালিয়্যি ফিদ দুনইয়া ওয়াল আখিরাহ; তাওয়াফফানি মুসলিমাও ওয়া আলহিক্বনি বিস সালিহীন) 

অর্থ: হে আসমান ও জমিনের স্রষ্টা! আপনিই দুনিয়া ও আখিরাতে আমার অভিভাবক। আপনি আমাকে মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দিন এবং আমাকে নেককারদের অন্তর্ভুক্ত করুন। (১২:১০১)

✦ হৃদয়কে ওহীর আলোতে স্থির রাখার প্রার্থনা (৩:৮): 

رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَابَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً ۚ إِنَّكَ أَنتَالْوَهَّابُ 

অর্থ: হে আমাদের রব! হিদায়াত দান করার পর আমাদের অন্তরকে সত্যলঙ্ঘনকারী করবেন না এবং আপনার নিকট থেকে আমাদের রহমত দান করুন; নিশ্চয়ই আপনি পরম দাতা। (৩:৮)

রাব্বানা-তাক্বাব্বাল্ মিন্না; ইন্নাকা আনতাস্ সামী‘উল্ ‘আলীম্ অতুব্ ‘আলাইনা-ইন্নাকা আন্তাত্ তাওয়্যা-বুর রাহীম্।

অর্থ: হে আমাদের রব! আপনি আমাদের পক্ষ থেকে ক্ববূল করুন। নিশ্চয়ই আপনি, আপনিই সর্বস্পন্দনগ্রাহী, বিস্তৃত জ্ঞানসম্পন্ন। এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি, আপনিইতো ক্ষমাশীল, দয়ালু। (আল কুরআন ২:১২৭, ২:১২৮)

سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ עَمَّا يَصِفُونَ ۝ وَسَلَامٌ عَلَىالْمُرْسَلِينَ ۝ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

সুবহা-না রব্বিকা রব্বিল ‘ইযযাতি ‘আম্মা- ইয়াসিফূন। অসালা-মুন ‘আলাল মুরসালীন।অলহামদু লিল্লা-হি রব্বিল ‘আ-লামীন!

অর্থ: আপনার রব, যিনি সকল সম্মানের অধিকারী, তিনি তারা যা আরোপ করে তা থেকে পবিত্র।এবং রাসুলগণের প্রতি শান্তি (সালাম)। আর সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরজন্য। (আয়াত ৩৭:১৮০-১৮২)

মুসলিম হিসেবে রবের নিকট আত্মসমর্পণের দুআ:

 رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِلَكَ وَمِن ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُّسْلِمَةً لَّكَ 

(রাব্বানা ওয়াজআলনা মুসলিমাইনি লাকা ওয়া মিন যুররিয়্যাতিনা উম্মাতাম মুসলিমাতাল লাকা)

অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদের আপনার অনুগত (মুসলিম) করুন এবং আমাদের বংশধরদের মধ্য থেকে আপনার এক অনুগত (মুসলিম) জাতি সৃষ্টি করুন। (২:১২৮)

আলহামদলিল্লাহি রব্বিল আলামিন!

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post