আল্লাহ তাঁর নিজ পরিচয় নিজেই এভাবে ঘোষণা করেন—
ইয়া মূসা, ইন্নাহু আনা আল্লাহুল 'আজীযুল হাকীম।
অর্থ: "হে মূসা! নিশ্চয় আমিই আল্লাহ, পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।"-সূরা আন-নামল ২৭:৯
যখন আমি জানতে পারি—আমার রব কে; তিনি রব্বুল 'আলামীন; তাঁর সৃষ্টি কত বিশাল, তাঁর কুদরত কত অসীম, তাঁর হিকমাহ কত গভীর এবং তাঁর কর্তৃত্ব কত পরিপূর্ণ—তখন আমার হৃদয় বিনত হয়, চিন্তা আলোকিত হয় এবং আমার জিহ্বা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কুরআনের শেখানো তাসবিহ, তাহমিদ, তাকবীর, তাওহীদ, আত্মসমর্পণ ও ঈমানের ঘোষণায় মুখর হয়ে ওঠে।
সালাতে—কিয়ামে, রুকুতে, সিজদায়; আবার সালাতের বাইরেও দাঁড়িয়ে, বসে কিংবা শুয়ে—আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে গভীর চিন্তা করতে করতে একজন ভদ্র বান্দা, ইবাদুর রহমান-এর (সূরা আল-ফুরকান ২৫:৬৩–৬৪) অন্তর থেকে ঠিক এই কুরআনিক অভিব্যক্তিগুলোই উৎসারিত হয়। কারণ এগুলো মানুষের রচিত বাক্য নয়; এগুলো আল্লাহর নাযিলকৃত ওহীর ভাষা।
■ সুবহানাল্লাহি রব্বিল 'আলামীন (سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ) -আয়াত ২৭:৮
■ আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল 'আলামীন (الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ) -আয়াত ১:২; ১০:১০; ৩৭:১৮২■ তাবারাকাল্লাহু রব্বুল 'আলামীন (فَتَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ) -আয়াত ৭:৫৪, 40:64
■ তাবারাকাল্লাহু আহসানুল খালিকীন (تَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ) -আয়াত ২৩:১৪
■ আসলামতু লিরব্বিল 'আলামীন ( أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ) -আয়াত ২:১৩১
■ আমান্না বিরব্বিল 'আলামীন (آمَنَّا بِرَبِّ الْعَالَمِينَ) -আয়াত ৭:১২১; ২৬:৪৭
■ রব্বানা মা খালাকতা হাযা বাতিলা, সুবহানাকা ফাক্বিনা আযাবান্নার। (رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَٰذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ) -আয়াত ৩:১৯১
─ ・ 。゚☆: *.☽ .* :☆゚. ─
ফিরআউন আসলেই এই প্রশ্ন করেছিল। কুরআনে এসেছে এভাবে:
قَالَ فِرْعَوْنُ وَمَا رَبُّ الْعَالَمِينَ
রব্বুল 'আলামীন আবার কে? - সূরা আশ-শু'আরা ২৬:২৩ (দ্র: ২৬:১৬)
এর উত্তরে সালামুন আলা মূসা কোনো দার্শনিক সংজ্ঞা দেননি। তিনি আল্লাহর সৃষ্টিজগত ও রুবুবিয়্যাত (প্রতিপালন) দিয়ে উত্তর দেন।
১. তিনি আসমান ও জমিনের রব!
তিনি আসমানসমূহ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব—যদি তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাসী হও। -২৬:২৪
২. তিনি তোমাদের ও পূর্বপুরুষদের রব!
৩. তিনি পূর্ব-পশ্চিমের রব!
তিনি পূর্ব, পশ্চিম এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব—যদি তোমরা বুঝ। -২৬:২৮
অর্থাৎ, "রব্বুল 'আলামীন" হওয়ার কারণ হলো—
➥ তিনিই সব জগতের স্রষ্টা,➥ তিনিই সবকিছুর মালিক,
➥ তিনিই সবকিছুর প্রতিপালক,
➥ তিনিই সবকিছুর পরিচালনাকারী,
➥ এবং সব সৃষ্টি শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছেই ফিরে যাবে।
এই কারণেই কুরআনের শুরুতেই ঘোষণা করা হয়েছে:الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি সকল জগতের রব-সূরা আল-ফাতিহা ১:২
এবং সালামুন আলা মূসা -কে আল্লাহ নিজেই পরিচয় দেন:
"হে মূসা! নিশ্চয় আমিই আল্লাহ, পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।"
— সূরা আন-নামল ২৭:৯
অর্থাৎ, ফিরআউনের প্রশ্ন "রব্বুল 'আলামীন কে?"—এর উত্তর কুরআনে এসেছে সৃষ্টি, প্রতিপালন ও সার্বভৌম কর্তৃত্বের মাধ্যমে। আল্লাহকে "রব্বুল 'আলামীন" বলা হয়েছে কারণ সমস্ত জগত তাঁর সৃষ্টি, তাঁর অধীন এবং তাঁর প্রতিপালনে পরিচালিত।