হ্যাঁ, সূরা আন-নিসা ৪:৫৯-এ বিষয়টি খুব পরিষ্কারভাবে এসেছে:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنكُمْ ۖ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ...
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসুলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার কর্তৃত্বশীলদের। অতঃপর কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতবিরোধ হলে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখো...”
— কুরআন ৪:৫৯
এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো:
■ আল্লাহর আনুগত্য করো■ মতবিরোধ হলে “আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও”
অর্থাৎ রাসুল -কে অনুসরণ করা কুরআনেরই নির্দেশ। আর কোনো বিষয়ে সঠিক পথ নির্ধারণের ক্ষেত্রে আল্লাহর কিতাব ও রাসুলের নির্দেশনার কাছে ফিরে যেতে হবে।
চাইলে ৪:৫৯-এর “আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও”—এর অর্থ কুরআনের অন্যান্য আয়াত দিয়ে দেখাতে পারি।
বিস্তারিত আরও সহজভাবে জানতে-বুঝতে ভিডিওটি শুনুন (নিচের দিকে):
অবশ্যই। ৪:৫৯-এর “আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও” কথাটিকে কুরআনের ভেতরের অন্যান্য আয়াত দিয়ে দেখলে একটি সুন্দর ধারাবাহিকতা পাওয়া যায়।
১. “আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দাও” — অর্থ আল্লাহর নাযিল করা বিধানের দিকে:
৪:৫৯-এ বলা হয়েছে:
فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ
“তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও।”
কুরআন অন্য জায়গায় বলে:
“তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে, তোমরা তা অনুসরণ করো।”
— ৭:৩
অর্থাৎ আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার বাস্তব পথ হলো আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, সেটিকে মানদণ্ড করা।
২. মতবিরোধের সমাধানের জন্য কুরআন নিজেকেই “ফয়সালাকারী” হিসেবে উপস্থাপন করে:
আল্লাহ বলেন:
“আমি তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি সত্যসহ, যাতে তুমি মানুষের মধ্যে ফয়সালা করতে পারো সে বিষয়ে, যাতে তারা মতবিরোধ করেছে।”
— ৪:১০৫
আর বলেন:
“নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন পথের দিকে পরিচালিত করে, যা সর্বাধিক সঠিক।”
— ১৭:৯
তাই কোনো বিষয়ে মতবিরোধ হলে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়ার একটি সরাসরি অর্থ হলো তাঁর নাযিল করা কিতাবের কাছে ফিরে যাওয়া।
আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলের আদেশ-নিষেধসহ জীবনের যাবতীয় প্রয়োজনীয় মাসলা-মাসায়েল কোথায় পাবো?
আমি কি আল্লাহকে ছাড়া কোনো মীমাংসাকারী সন্ধান করব? অথচ তিনিই, যিনি তোমাদের প্রতি বিশদভাবে কিতাব নাযিল করেছেন। এবং যাদেরকে আমরা কিতাব দান করেছি তারা জানে যে, সেটা তোমার রবের পক্ষ থেকে সত্যসহকারে নাযিলকৃত। অতএব, তুমি কিছুতেই সংশয়বাদীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
আর তোমার রবের বাণী সত্যরূপে ও সুবিচারপ্রসূত পূর্ণ হয়েছে। তাঁর বাণীসমূহের জন্য কোনো পরিবর্তনকারী নেই আর তিনি সর্বস্পন্দনগ্রাহী, বিস্তৃত জ্ঞানসম্পন্ন। -আয়াত ৬:১১৪-১১৫
আল্লাহর আদেশ-নিষেধের মূল উৎস: আল্লাহর নাযিল করা আল-কুরআন।
“আমি তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি—সব বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা হিসেবে...” -আয়াত ১৬:৮৯
(জীবনের প্রয়োজনীয় মাসআলা-মাসায়েল কোথায় পাবো! -যেমন সালাত, সিয়াম, যাকাত, হজ্জ, বিবাহ, তালাক, উত্তরাধিকার, ব্যবসা, খাবার, পোশাক, পরিবার, মৃত্যু/জানাজা—প্রতিটির সংশ্লিষ্ট কুরআনের আয়াতই একমাত্র Source)
আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তার ভিত্তিতে দ্বীনের বিধান ও ফয়সালা গ্রহণ না করা কুরআনে কঠোরভাবে নিন্দিত-
হ্যাঁ, একেবারে স্পষ্টভাবে। ৫:৪৪, ৫:৪৫ ও ৫:৪৭ পরপর এই বিষয়টি বলছে।
৫:৪৪ — কাফির
“আর যারা আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তা অনুযায়ী ফয়সালা করে না—তারাই কাফির।” -৫:৪৪
৫:৪৫ — জালিম
একই প্রসঙ্গে বলা হয়েছে:
“আর যারা আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তা অনুযায়ী ফয়সালা করে না—তারাই জালিম।” -৫:৪৫
৫:৪৭ — ফাসিক
তারপর বলা হয়েছে:
“আর যারা আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তা অনুযায়ী ফয়সালা করে না—তারাই ফাসিক।” -৫:৪৭
সুতারং অন্য কোন কিছুর নয় শুধুই নাযিলকৃত কিতাবের বিধান: দ্র: আয়াত ৫:৪৮
আর আমরা তোমার কাছে সত্যসম্বলিত কিতাব নাযিল করেছি, কিতাবের মধ্য থেকে যা তাদের সামনে আছে সেটার সত্যায়নকারী হিসাবে ও সেটার সংরক্ষণকারীরূপে। সুতরাং আল্লাহ যা নাযিল করেছেন সে অনুসারে তাদের মাঝে বিচার করো। আর তোমার কাছে ‘সত্য’ হতে যা এসেছে তা বাদ দিয়ে তাদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করবে না। তোমাদের মধ্য থেকে প্রত্যেকের জন্যই আমরা নীতিমালা ও কর্মপন্থা প্রণয়ন করেছি... (আয়াত ৫:৪৮)
