কল্যাণকর কাজে অগ্রগামী হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে— যার জন্য রয়েছে জান্নাতের সুসংবাদ।
কিন্তু কোন সেই “খাইরাত” (কল্যাণকর কাজ)?
কারা সেই “সাবেকুন” — যারা কল্যাণে দ্রুত অগ্রসর হয় এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে?
কুরআন নিজেই জানিয়েছে তাদের বৈশিষ্ট্য, তাদের দুআ, তাদের অন্তর, এবং তাদের পথচলা।
আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের আহ্বান এভাবেই-
“তোমরা কল্যাণকর কাজে (খাইরাত) অগ্রগামী হও।” -২:১৪৮
আল্লাহ সু.ত. এসব অগ্রগামীদের পরিচয় দিয়েছেন এভাবে-
➥ তারা আল্লাহর ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে এবং ন্যায়ের (বিল মারুফ) আদেশ করে ও অন্যায় (মুনকার) থেকে নিষেধ করে এবং কল্যাণকর কাজের মধ্যে (ফিল খাইরাত) ঝাঁপিয়ে পড়ে। আর ওরাই সালিহীনদের (সংশোধনকারী বা সৎকর্মশীলদের) অন্তর্ভুক্ত।’ -সূরা আলে ইমরান ৩:১১৪
➥ আর আমরা তাদেরকে নেতা (আইম্মাতা-ঈমাম) বানিয়েছিলাম, তারা আমাদের নির্দেশ অনুসারে পথ প্রদর্শন করত। এবং আমরা তাদের প্রতি কল্যাণকর-ভালো কাজ করার (ফিল আল খাইরাত) ও সলাত প্রতিষ্ঠা করার এবং পরিশুদ্ধতার (যাকাত) ব্যাপারে ওহী করেছিলাম। আর তারা ছিল আমাদের উদ্দেশ্যে ইবাদতকারী (আবেদীন)। -সূরা আল আম্বিয়া ২১:৭৩
(সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আরও দ্র: আয়াত ৩:১১০, ৩:১০৪)
তাহলে কী সেই কল্যাণকর কাজ কী?
সূরা আল-মুমিনূন (২৩:৫৭–৬২)-এ আল্লাহ সু. তা. এর তথ্য তুলে ধরেছেন এভাবে-
১. নিশ্চয় যারা তাদের রবের ভয়ে ভীত (সজাগ থাকে) -(দ্র: আয়াত ২৩:৫৭)
২. যারা তাদের রবের আয়াতসমূহে বিশ্বাস রাখে (আস্থা রাখে)” -(দ্র: আয়াত ২৩:৫৮)
৩. যারা তাদের রবের সাথে কাউকে শরিক করে না (অংশ বা যুক্ত করে না) -(দ্র: আয়াত ২৩:৫৯)
(রবের সাথে শিরক বা যুক্তকরন কি বুঝতে দ্র: আয়াত ১৮:৩২-৪২, ১৮:১১০)
৪. দান করে বিনয় ও ভয় নিয়ে -(দ্র: আয়াত ২৩:৬০)
(তারা দান করে, কিন্তু অহংকারে নয়—ভীত হৃদয়ে। তারা দান বা আমল করে আত্মতুষ্ট হয় না। বরং ভয় করে—আল্লাহ কবুল করবেন তো?
এরপর আল্লাহ বলেন-
(উলাইকা ইউসারিঊনা ফিল খাইরাতি ওয়া হুম লাহা সাবিকূন)
“তারাই কল্যাণকর কাজে দ্রুত অগ্রসর হয় এবং তারাই তাতে অগ্রগামী (সাবিকূন)।” -২৩:৬১
এখানে “সাবিকুন” শব্দটি দেখাচ্ছে—তাদের জীবনের কেন্দ্র হলো খাইরাত বা কল্যাণকর কাজ।
আল্লাহ বলেন- আর এরা জান্নাতী:
ওয়াস্-সাবিকূনাস্-সাবিকূন। উলাইকা আল-মুকাররাবূন। “আর অগ্রবর্তীরাই অগ্রগামী (সাবেকুন)। তারাই নৈকট্যপ্রাপ্ত। তারা থাকবে নিয়ামতপূর্ণ জান্নাতে।”
-সূরা আল-ওয়াকিয়াহ ৫৬:১০–১২
দুআ: সূরা আল-হাশর ৫৯:১০-এ পরবর্তী মুমিনদের একটি হৃদয়স্পর্শী দুআ শেখানো হয়েছে—
رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِّلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ
রাব্বানাগফির লানা ওয়া লি-ইখওয়ানিনাল্লাযীনা সাবাকূনা বিল-ঈমানি, ওয়া লা তাজআল ফি কুলুবিনা গিল্লাল্লিল্লাযীনা আমানূ। রাব্বানা ইন্নাকা রাউফুর রাহীম।
হে আমাদের রব! আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের সেই ভাইদেরও, যারা ঈমানে আমাদের আগে অগ্রগামী হয়েছে (সাবেকুনা বিল ইমান)। আর মুমিনদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! নিশ্চয় আপনি অতি স্নেহশীল, পরম দয়ালু। -সূরা আল-হাশর ৫৯:১০
এ দুআ শুধু অতীতের মুমিনদের জন্য নয়; বরং ঈমানে অগ্রবর্তী, খাইরাতে অগ্রগামী, আল্লাহভীরু সকল “সাবেকুন” ধারার মানুষের জন্য হৃদয়ের ভালোবাসা, সম্মান ও সংযুক্তির প্রকাশ।
এভাবে দ্রুত এগিয়ে কে বা কার যায় এরং এর শুভ পরিনাম:
আর তোমরা দ্রুত এগিয়ে যাও তোমাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমার এবং এমন জান্নাতের দিকে, যার প্রশস্ততা হলো আকাশসমূহ ও পৃথিবী; যা মুত্তাকীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে; যারা ব্যয় করে, সচ্ছলতার ও অসচ্ছলতার মধ্যে এবং ক্রোধ সংবরণকারীরা আর মানুষের প্রতি ক্ষমাশীলরা। আর আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের ভালবাসেন। আর তারা যখন কোনো অশ্লীল কাজ করে অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম করে, তারা আল্লাহকে স্মরণ করে, এরপর তারা তাদের পাপের জন্য ক্ষমা চায় আর আল্লাহ ব্যতীত কে পাপসমূহ ক্ষমা করবে? আর তারা যা করেছে, তার ওপর অটল থাকে না অথচ তারা জানে। ওরাই, যাদের প্রতিদান হলো তাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা ও জান্নাতসমূহ, সেগুলোর নিচ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত হয়; তারা সেখানে স্থায়ীভাবে থাকবে। আর আমলকারীদের পুরস্কার কতই না উত্তম! সূরা আল ইমরান ৩:১৩৩ (৫৭:২১)
সাবেকুন: আরও জানতে এখানে ক্লিক করতে পারেন:
সাবেকুন -হতে পারি আমরাও সাবেকুন-জান্নাতী! সালেহীনদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সহজ কুরআনিক পথ!
আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন!
